আওয়ামী লীগ আমলে দেশের বৃহৎ সব অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারি

0
1245

স্বাধীনতার ৪৭বছরে দেশের আর্থিক খাত অনেক দূর এগিয়ে গেলেও এ খাতে দেশে-বিদেশে আলোচিত অনেক কেলেঙ্কারির ঘটনাও ঘটেছে এ সময়ের মধ্যে। স্বাধীনতার পর প্রায় দেড় দশক পর্যন্ত ব্যাংক খাতের কেলেঙ্কারির ঘটনাগুলো ছিল মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককেন্দ্রিক। ব্যাংক খাতের বাইরে দেশের অর্থনীতির আরেকটি বড় ক্ষেত্র শেয়ারবাজার। সেই শেয়ারবাজারেও ১৫ বছরের ব্যবধানে বড় দুটি কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। আর এই দুটি কেলেঙ্কারির ঘটনার সময়ই দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার।

১৯৯৬ (হাসিনা সরকার) ১ম দফা শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি:
১৯৯৬ সালে যখন শেখ হাসিনা প্রথমবারের মত ক্ষমতায় আসে তখন ঐ বছরের শেয়ার বাজারে ঘটে মহা র্দূনীতি। যেখানে ৪০ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়। নভেম্বর-ডিসেম্বরে এই ঘটনা ঘটে। এই কেলেঙ্কারিতে যাদের নাম আলোচনায় আসে এবং যাদের নামে মামলা করা হয় তাদের মধ্য অন্যতম বেক্সিমকো গ্রুপের সালমান এফ রহমান ও আসিফ এফ রহমান। এছাড়াও রয়েছে, অলিম্পিক গ্রুপের মোহাম্মদ ভাই ও আজিজ মোহাম্মদ ভাই, টি কে গ্রুপের আবু তৈয়ব, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পরিচালক রকিবুর রহমান, ডিএসইর সাবেক পরিচালক মুসতাক আহমেদ সাদেক প্রমুখ। এ ছাড়া ’৯৬ সালের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মারা গেছেন। স্থায়ীভাবে দেশের বাইরে চলে গেছেন বেশ কয়েকজন।

১৯৯৭ সালের ২ এপ্রিল ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে এ নিয়ে মামলা করা হয়। মামলার পর পরই অভিযুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। নিম্ন আদালতে মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর দিনই শাইনপুকুর হোল্ডিংসের মালিক শেখ হাসিনার বর্তমান উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, এবি সিদ্দিকুর রহমান, বেঙ্মিকো ফার্মাসিউটিক্যালসের সালমান এফ রহমান, সোহেল এফ রহমান ও ডিএইচ খান উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। শুধু জামিনই নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই গঠন করা যাবে না বলে উচ্চ আদালত থেকে জানানো হয়। উচ্চ আদালতের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে এসইসি, অজানা কারণে সেই আপিলের নিষ্পত্তি আজ পর্যন্ত হয়নি।

২০১০ (হাসিনা সরকার) ২য় দফা শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি:
৮ ডিসেম্বর ২০১০, বুধবার সকাল ১১টা থেকে ১২টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত সোয়া ঘণ্টায় শেয়ারবাজার থেকে কত টাকা হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছিল তার পরিসংখ্যানে কেউ বলেছে ১৮ হাজার কোটি টাকা, কেউ বলেছে ২২ হাজার কোটি টাকা। আবার কারো কারো মতে ৮৬ হাজার কোটি টাকা। ডিসেম্বর মাসের ৮ তারিখের হিসাবের সঙ্গে এর আগের অন্তত ১৫ দিনের হিসাব মিলালে ৮৬ হাজার কোটি টাকা হাওয়া হয়ে যাওয়া বাস্তব ভিত্তি পায়। তবে সে ৮৬ হাজার কোটি টাকা, পরবর্তী সময়ে যাঁরা অভিযুক্ত হয়েছেন তাঁরা একা নিতে পারেননি। সে টাকা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কাছেও গিয়েছে। ফর্মুলাটি ছিল নেই-দেই, নেই-দেই, নেই-দেই, নেই আর-দেই না। ৮ ডিসেম্বর এসে দেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে। একবারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা।

৩০ লাখ বিনিয়োগকারী সে টাকা নেয়নি, নিয়েছে পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তি। যাদের ছবি প্রকাশিত হয়েছে পত্রিকায়। তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের নাম উঠে এসেছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে ডিএসই, সিএসই, এসইসি, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা সবাই নিশ্চিত হয়েছে পাঁচ-ছয়জন দুরাচারের বিষয়ে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, অর্থমন্ত্রী তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরও বলেছিলেন, তাদের নাম প্রকাশ করা যাবে না; করলে অসুবিধা আছে। কী সেই অসুবিধা তা অর্থমন্ত্রী আজও বলেননি।

এদিকে ২০১০ সালে শেয়ারাবাজারে কেলেঙ্কারিতে ক্ষত তৈরি হয়েছিল দেশের অর্থনীতিতে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ২০১২ সালের অক্টোবর সময়ের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসেবে বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ কোটি টাকার বেশি।

হলমার্ক গ্রুপ ঋণ কেলেংকারি:
আওয়ামী সরকারের পৌনে চার বছরের শাসনামলে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক শুধু হলমার্ক গ্রুপকে নয়, আওয়ামী প্রভাবে আরো অনেক অখ্যাত প্রতিষ্ঠানকে কমিশন, ঘুষ ও জালিয়াতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের সুযোগ করে দিয়েছে। এ ধরনের অপরাধকর্মে কেবল ব্যাংকটির রূপসী বাংলা শাখাই নয়, অন্যান্য শাখাও নিয়োজিত থাকার খবর সংবাদপত্রসমূহে প্রকাশিত হচ্ছে। প্রকাশিত খবরে জানা যায়, রূপসী বাংলা শাখার পর সবচেয়ে বেশি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে এই ব্যাংকটির গুলশান শাখায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে সোনালী ব্যাংকের ঐ শাখায় এক বিশেষ নিরীক্ষা চালানো হয়। ঐ নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী গুলশান শাখায় ৫১টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২৮১ কোটি ৪১ লাখ টাকা দেয়া হয়। শুধু সোনালী ব্যাংকই নয়, অন্যান্য ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করেও এ ধরনের টাকা ডাকাতির ঘটনা এখন ফাঁস হচ্ছে। আওয়ামী সরকারের পৌনে চার বছরে ক্ষমতাসীন লুটেরা চক্র রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকের মাধ্যমে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পত্র-পত্রিকায়ও লুটপাটের ফিরিস্তি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। এসব অর্থের একটি বড় অংশ গেছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালীদের পকেটে। বাকি টাকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে বলে আশংকা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে এসব অর্থের বেশিরভাগই আর ফেরত পাওয়া যাবে না বলে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।

বিসমিল্লাহ গ্রুপ ঋণ কেলেংকারি:
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বিদেশে প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে বাংলাদেশ থেকে আমদানি ও রপ্তানিকে উত্সাহিত করে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের খোলা এলসি দিয়ে আরেক প্রতিষ্ঠানের বিবৃতি নিয়ে বিল তৈরি করে ব্যাংক থেকে ১১শ’ কোটি টাকা ঋণ তুলেছে বিসমিল্লাহ গ্রুপ। দুদক প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে বিসমিল্লাহ গ্রুপের বিসমিল্লাহ টাওয়েলস ও আলফা কম্পোজিট টাওয়েলস ২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত প্রাইম ব্যাংকের মতিঝিল শাখা থেকে ৯৩ কোটি টাকার ৮২টি রপ্তানি বিলের বিপরীতে ২৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ঋণ নেয়। একইভাবে ওই ব্যাংক থেকে বিসমিল্লাহ টাওয়েলস ৮৬ কোটি টাকার বিপরীতে ২৭ কোটি টাকা ঋণ নেয়। দীর্ঘ আট মাস অনুসন্ধান শেষে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে বিসমিল্ল¬াহ গ্রুপের হাজার কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় ১২টি মামলায় ৫৩ জনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পদ্মা সেতু পরামর্শক নিয়োগ কেলেঙ্কারি:
বাংলাদেশে বৃহত্তম অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতুর তদারকির কাজ পেতে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমানসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী, রাজনীতিক ও প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত কয়েক কর্মকর্তাকে ঘুষ দেয়ার প্রস্তাব দেয় কানাডীয় কোম্পানি এসএনসি-লাভালিন। এই অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার পর ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় সাপেক্ষ পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলার ঋণ দিতে অস্বীকৃতি জানায় বিশ্বব্যাংক। এরপর অন্যান্য দাতা সংস্থা পদ্মা সেতুর ঋণচুক্তি বাতিল করে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরামর্শকের কাজ পাওয়ার জন্য দশ শতাংশ ঘুষের প্রস্তাব দেয় এসএনসি। এর মধ্যে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনের জন্য ৪ শতাংশ, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর জন্য ২ শতাংশ, চিফ হুইপ নূরে আলম চৌধুরীর ভাই মুজিবুর রহমান নিক্সনের জন্য ২ শতাংশ, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা মসিউর রহমানের জন্য ১ শতাংশ এবং সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার জন্য ১ শতাংশ ঘুষ বরাদ্দ করা হয়েছিল। এসএনসি-লাভালিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ সাহার ডায়রিতে এ হিসাব লেখা ছিল। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতিতে জড়িত থাকায় এসএনসি-লাভালিনের দুই কর্মকর্তা রমেশ সাহা ও মোহাম্মদ ইসমাইলের বিচার চলছে কানাডায়। আওয়ামী লীগ সরকার প্রথমে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে আবুল হোসেনসহ কয়েক মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে এবং দুদক এদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়ের করে।

বেসিক ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি:
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেসিক ব্যাংকে রাজনৈতিক বিবেচনায় চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয় শেখ আবদুল হাই বাচ্চুকে। এরপরই ব্যাংকটিতে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটে। যার পরিমান প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। এ কারণে একসময়কার লাভজনক ব্যাংকটি লোকসানে পড়ে। দেখা দেয় বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি। গোটা বেসিক ব্যাংকে এ রকম একটি আবহ অবস্থা তৈরি করেছেন আবদুল হাই।’ব্যাংক সূত্রগুলো বলছে, কার্যত ব্যাংকটির অধিকাংশ ঋণ বিতরণই হয় এই চেয়ারম্যানের ইচ্ছা অনুসারে। ব্যবস্থাপনায়ও রয়েছেন চেয়ারম্যানের নিজস্ব লোক। ব্যাংকের সূত্রগুলো বলছে, এভাবে পর্ষদের ঋণ বিতরণের পেছনে দুর্নীতিও রয়েছে। ঋণের একটি অংশ গোপন লেনদেনের মাধ্যমেই এভাবে দেওয়া হয়েছে।

তবে এই কেলেঙ্কারির বিষয়ে তদন্ত এখনো শেষ করতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি এ বিষয়ে আদালতের দেওয়া সময়সীমা পরিপালনে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও জরিপকারী প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে সৈয়দ ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান বেসিক ব্যাংক থেকে ৪০ কোটি টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করে। ব্যাংকের ঋণ (ক্রেডিট) কমিটি সৈয়দ ট্রেডার্সকে ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করেনি, তারপরও পরিচালনা পর্ষদ তড়িঘড়ি করে ওই গ্রাহকের পক্ষে ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

দুদক ২০১৫ সালে সৈয়দ ট্রেডার্সের জরিপকারী রূপসা সার্ভেয়ারসের ব্যবস্থাপনা অংশীদার শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে মামলা করে। দুদক শাহজাহান আলীকে গ্রেপ্তার করে ২০১৬ সালের আগস্টে এবং সেপ্টেম্বরে তিনি জামিন পান। এ ব্যাপরে এখনো কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি সরকার। কয়েক বছর ধরে তদন্ত চললেও এখন শেষ করতে পারেনি দুদক।

ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারি:
নতুন প্রজন্মের ফারমার্স ব্যাংক ঋণ বিতরণে অনিয়ম, জালিয়াতি ও লুটপাটে অতীতের যে কোনো ব্যাংক কেলেঙ্কারি-অনিয়মকে ছাড়িয়ে গেছে। ঋণ জালিয়াতি, দুর্নীতি-অনিয়ম ও লুটপাট করেই কেবল ক্ষান্ত হননি ব্যাংকটির পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও পদত্যাগ করা অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী, গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে পে-অর্ডারের মাধ্যমে নিজেদের অ্যাকাউন্টে অর্থ সরিয়ে নেয়ার মতো গুরুতর অপরাধ করতেও পিছপা হননি তারা।

পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের যোগসাজশে আমানতকারীদের অর্থ লোপাটে অস্তিত্বের সংকটে পড়া ব্যাংকটির বড় লেনদেনে অনিয়মের তদন্ত করতে গিয়ে জঘন্য অপরাধটি খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এভাবে অনিয়ম করে একটি ব্যাংককে পঙ্গু ও আমানতকারীদের পথে বসানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন এখনও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, সেটাই বড় প্রশ্ন।

সোনালী ব্যাংকে সুরঙ্গপথে চুরি ও অর্থ কেলেঙ্কারি:
সোনালী ব্যাংকে সুড়ঙ্গ কেটে একই পদ্ধতিতে দুইবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রথম চুরির পরিমান ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পরবর্তীতে চুরি হয় ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৮৮৪ টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছে, ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, শৃঙ্খলা না থাকা, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতি, কর্মচারী কর্মকর্তাদের অদক্ষতা এবং সরাসরি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়া, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, নিরাপত্তায় ঘাটতি, সর্বোপরি ব্যাংক পরিচালনায় কোনো মনিটরিং না থাকায় বার বার অর্থ কেলেঙ্কারিতে পড়তে হচ্ছে রাষ্ট্রীয় এই ব্যাংকটিকে। এ ছাড়া ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। প্রতিটি লুটের ঘটনায় ব্যাংকের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়া যায়। সোনালী ব্যাংকের দুর্নীতি আর অনিয়ম এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বেশ কয়েকটি ঘটনা দুর্নীতি দমন কমিশন এখনও তদন্ত করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি:
২০১৬ সালে অজ্ঞাতপরিচয় হ্যাকাররা ভুয়া ট্রান্সফার ব্যবহার করে নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ থেকে সুইফটের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লক্ষ ডলার অর্থ হাতিয়ে নেয়।। এর মধ্যে দুই কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলঙ্কা এবং ৮ কোটি ১০ লক্ষ ডলার চলে যায় ফিলিপিনের জুয়ার আসরে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঐ ঘটনাকে এই মূহুর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাংক তহবিল চুরির একটি বলে ধরা হয়। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা অবহেলা অথবা ইচ্ছাকৃত যোগসাজশেই এই ভয়াবহ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটে বলেও পর্যবেক্ষণে প্রমানিত হয়।

এদিকে চুরির কয়েক বছর পার হলেও এখনো এই ঘটনায় ব্যাংকের ভেতরে কারা জড়িত তা বের করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। চুরি হওয়ার সেই ঘটনা সেসময় প্রায় একমাস তা গোপন রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক। শেষ পর্যন্ত এর দায় নিয়ে পদত্যাগ করতে হয় তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে। অর্থ চুরি নিয়ে সেসময় সরকারিভাবে একটি তদন্তও হয়। তবে সেই তদন্ত প্রতিবেদনটি পরে আর আলোর মুখ দেখেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সোনা কেলেঙ্কারি:
বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের সোনার চাকতি ও আংটি, তা হয়ে আছে মিশ্র বা সংকর ধাতু। ছিল ২২ ক্যারেট সোনা, হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এ ভয়ংকর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। দৈবচয়ন ভিত্তিতে নির্বাচন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত ৯৬৩ কেজি সোনা পরীক্ষা করে বেশির ভাগের ক্ষেত্রে এ অনিয়ম ধরা পড়ে। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সোনার হেরফের হয়নি। সোনা ঠিকই আছে। তবে তদন্ত করে যদি প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

জনতা ব্যাংক ঋণকেলেঙ্কারি:
দুই প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে গিয়ে ডুবতে বসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো—ক্রিসেন্ট গ্রুপ ও অ্যানন টেক্স গ্রুপ। ক্রিসেন্ট গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে ইতোমধ্যে ব্যাংকটির পুরান ঢাকার ইমামগঞ্জ ও মোহাম্মদপুর করপোরেট শাখার বৈদেশিক ব্যবসার লাইসেন্স (এডি লাইসেন্স) বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই দুই শাখায় এলসি খোলাসহ বৈদেশিক বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার কারণে সংকটে পড়েছে পুরো ব্যাংকটি। এরফলে টাকা ধার করে ও মূলধন ভেঙেই এখন দৈনন্দিন কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে ব্যাংকটির।

এদিকে, ক্রিসেন্ট গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ব্যাংকটির দুই পরিচালককে অপসারণ করেছে সরকার। তারা হলেন—আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মানিক চন্দ্র দে ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক আবদুল হক। ব্যাংকটির কর্মকর্তারা বলছেন, ক্রিসেন্ট গ্রুপ ও অ্যানন টেক্স গ্রুপ জনতা ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ সুবিধা পেয়েছে। অথচ তারা ঋণের টাকা ফেরত দিচ্ছে না। উপরন্তু, অ্যাননটেক্স গ্রুপ ব্যাংকটি থেকে আরও টাকা চেয়ে আবেদন করেছে। টাকার জন্য প্রতিষ্ঠানটির মালিক ইউনূস বাদল সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠকও করেছেন।

অ্যাননটেক্স গ্রুপের কাছে ব্যাংকটির ঋণ দাঁড়িয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ঋণকে খেলাপি তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া ক্রিসেন্ট গ্রুপের সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপি তালিকাভুক্ত হয়ে গেছে। একই সময়ে ব্যাংকটির লোকসান হয়েছে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এছাড়া ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি দাড়িয়েছে দুই হাজার ১৯৫ কোটি টাকা।

সুত্রঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ বিএনপিকে হুঁশিয়ার করলেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ

অহেতুক চাপ সৃষ্টির জন্য মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকতে বিএনপির প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

শনিবার সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

বিএনপিকে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘বিএনপি আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এ ধরনের মিথ্যা প্রপাগান্ডা করা থেকে তাদের সতর্ক থাকতে বলছি।’

তিনি দাবি করেন, ‘নির্বাচনকে বিতর্কিত করা এবং অহেতুক আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য, হেয় করতেই বিএনপি এসব করছে।’

বিএনপিকে সতর্ক করতে কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমি আগামীকাল রোববার কমিশন বৈঠকে এ বিষয়টি তুলব, সেখানে সিদ্ধান্ত হবে।’

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ নির্বাচনী আইন ভঙ্গ করছেন দাবি করে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার কাছে বেশ কয়েকবার লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগ, হেলালুদ্দীন আহমদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারদের ডেকে গত ১৬ নভেম্বর বৈঠক করেছেন। পরে ২০ নভেম্বর চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার, তার এলাকার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ডেকে কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব ঘটনা নির্বাচন আইনের লঙ্ঘন হয়েছে।

এসব ঘটনায় ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদকেও ‘অতি দলবাজ’ দাবি করে সিইসির কাছে তার শাস্তি ও প্রত্যাহার চেয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট।

আর শনিবার সকালে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসিচব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, ‘গত ২০ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের চারতলার পেছনের কনফারেন্স রুমে এক গোপন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুউদ্দীন আহমদ।’

এরপর ইসি সচিবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে কমিশনের কাছে অভিযোগ দিয়েছে বিএনপি।

সন্ধ্যায় এসব বিষয়ে হেলালুদ্দীন আহমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট। আমরা সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম-সচিব (জনসংযোগ) এসএম আসাদুজ্জামান ছিলেন। আমরা চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হোটেল গিয়েছি। সেখান থেকে পরদিন সকালে প্রোগ্রামে গেছি।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে ইসি সচিব বলেন, ‘আপনারা জানেন, আপনারা এখানেই থাকেন। আমি এখানে (ইসি ভবন) আটটা নয়টা পর্যন্ত থাকি। বিএনপি সংবাদ সম্মেলনে আমাকে নিয়ে যা বলেছে, সম্পূর্ণ মিথ্যা। নির্বাচন কমিশন সচিব প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা। কমিশন একটি ইন্ডিপেনডেন্ট বডি। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বাইরে ইসি সচিবের আলাদা কোনো সত্তা নেই।’

সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর পোস্টারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি ব্যবহার করা যাবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা দলের সিদ্ধান্ত। আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের ছবি পোস্টারে ব্যবহার করা নিয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।’

উৎসঃ পরিবর্তন

আরও পড়ুনঃ ‘অফিসার্স ক্লাবে ‘গোপন বৈঠক’৩৩ টি-তে নৌকার বিজয় নিশ্চিত, ৬০ টিতে লড়াই বাকি আসনে সম্ভাবনা নেই’

৭০ বছরে পদর্পণ করলো আওয়ামী লীগ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছন, ‘পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী ৩৩টি সিট নৌকার কনফার্ম আছে এবং ৬০-৬৫ টিতে কনটেস্ট হবে, বাকি আর কোনো সম্ভাবনা নেই। কাজেই সাংঘাতিক কিছু করা ছাড়া এটি উৎরানো যাবে না।’

শনিবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এমন তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের প্রতিনিয়ত গোপন বৈঠক চলছে। প্রশাসন এবং পুলিশের বির্তর্কিত ও দলবাজ কর্মকর্তারা জনসমর্থনহীন আওয়ামী লীগকে ফের ক্ষমতায় বসানোর জন্য নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন।

রিজভী বলেন, গত ২০ নভেম্বর রাতে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের চার তলার পেছনের কনফারেন্স রুমে এক গোপন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সচিব সাজ্জাদুল হাসান, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমদ, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, পানিসম্পদ সচিব (শেখ হাসিনার অফিসের প্রাক্তন ডিজি) কবির বিন আনোয়ার, বেসামরিক বিমান পরিবহন সচিব মহিবুল হক, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও মহানগরী রিটার্নিং অফিসার) সদস্য সচিব আলী আজম, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ (বিচারক কাজী গোলাম রসুলের মেয়ে) কাজী নিশাত রসুল।

এছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে র্যা ব, ডিএমপি ও কাউন্টার টেররিজমের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।

‘রাত সাড়ে ৭টা থেকে আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা এ মিটিংয়ে সারা দেশের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেট-আপ ও প্ল্যান রিভিউ করা হয়। ডিআইজি হাবিব জানান, পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী ৩৩টি সিট নৌকার কনফার্ম আছে এবং ৬০-৬৫ টিতে কনটেস্ট হবে, বাকি আর কোনো সম্ভাবনা নেই। কাজেই সাংঘাতিক কিছু করা ছাড়া এটি উৎরানো যাবে না।’

রিজভী বলেন, বিস্তারিত আলোচনা শেষে ওই বৈঠকে মূল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়- নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপি-ফ্রন্টকে চরম অসহযোগিতা করা হবে, যতই চাপ দেয়া হোক প্রশাসনে হাত দেয়া যাবে না, ধরপাকড় বাড়ানো হবে, প্রার্থী গুম খুন করে এমন অবস্থা তৈরি করা হবে যাতে তারা নির্বাচন থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

তিনি বলেন, সেই আলামত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে যশোর জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু বকর আবুকে তুলে নিয়ে হত্যা করে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, গোপন বৈঠকে আরও বলা হয়- জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যদি শেষ পর্যন্ত ভোটে থেকে যায় তাহলে ভোটের দিন পর্যন্ত ধরপাকড় তাণ্ডব চালানো হবে নির্দয়ভাবে, যেন ভোট কেন্দ্রে কেউ হাজির হতে সাহস না করে। আর যদি ধানের শীষের অনুকূলে ভোটের হাওয়া ঠেকানো না যায়, তবে মিডিয়া ক্যু করে নৌকাকে জিতানো হবে, বিটিভির মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করে সব মিডিয়াতে তা রিলে করার ব্যবস্থা করা হবে। একবার ফল ঘোষণা করতে পারলে তারপরে নির্মমভাবে সব ঠান্ডা করা হবে।

রিজভী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প তদারকির নামে আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষে আটজন আওয়ামী দলীয় কর্মকর্তা দিয়ে মনিটরিং সেল গঠন করেছে পুলিশ সদর দফতর।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান ৪৫ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ৬৪ জেলার উপদেষ্টা (মেনটর) নিয়োগ করে একটি নজিরবিহীন সরকারি আদেশ জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ নিয়ে বিএনপির লিখিত আপত্তির প্রেক্ষিতে তা বাতিল করতে বাধ্য হয়।

‘কিন্তু গোপনে ঐসব কর্মকর্তারা জেলায় জেলায় মনিটরিংয়ের কাজ এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন। এর বাইরে সারা দেশের ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা প্রথম তালিকার ছয়জন সচিবকে নিয়ে একটি গুপ্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে।’

ক্ষমতাসীনরা আসন্ন ভোট নিয়ে ভয়ঙ্কর পরিকল্পনায় মেতে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠকের অভিযোগ রিজভীর

আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক করার অভিযোগ এনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, ক্ষমতাসীনরা আসন্ন ভোট নিয়ে কী ভয়ংকর পরিকল্পনায় মেতে উঠেছে। দলবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও কর্মকাণ্ড সুনির্দিষ্টভাবে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) লিখিত আকারে জানানো হয়েছে। বিতর্কিতদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড থেকে সরাতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে তাদেরকে প্রত্যাহার করতে হবে।

শনিবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত গোপন বৈঠক করছেন। প্রশাসন এবং পুলিশের বিতর্কিত ও দলবাজ কর্মকর্তারা জনসমর্থনহীন আওয়ামী লীগকে ফের ক্ষমতায় বসাতে নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।

তিনি বলেন, গত ২০ নভেম্বর রাতে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের চার তলার পিছনের কনফারেন্স রুমে এক গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সচিব সাজ্জাদুল হাসান, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমদ, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালউদ্দীন আহমদ, পানিসম্পদ সচিব (শেখ হাসিনার অফিসের প্রাক্তন ডিজি) কবির বিন আনোয়ার, বেসামরিক বিমান পরিবহন সচিব মহিবুল হক, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও মহানগরী রিটার্নিং অফিসার) সদস্য সচিব আলী আজম, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ (বিচারক কাজী গোলাম রসুলের মেয়ে) কাজী নিশাত রসুল। এছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব, ডিএমপি ও পুলিশের কাউন্টার টেররিজমের কর্মকর্তারা।

তিনি আরও বলেন, রাত সাড়ে ৭টা থেকে আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা এ বৈঠকে সারাদেশের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেট-আপ ও প্ল্যান রিভিউ করা হয়। বৈঠকে ডিআইজি হাবিব জানান, পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী ৩৩টি আসনে নৌকার জয় নিশ্চিত আছে, ৬০-৬৫ আসনে কনটেস্ট হবে, বাকি আসনে কোনো সম্ভাবনা নেই। কাজেই সাংঘাতিক কিছু করা ছাড়া এটি উৎরানো যাবে না।

রিজভী বলেন, বিস্তারিত আলোচনা শেষে মূল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, ইসি বিএনপি-ফ্রন্টকে চরম অসহযোগিতা করবে। যতই চাপ দেয়া হোক প্রশাসনে হাত দেয়া যাবে না। ধরপাকড় বাড়ানো হবে, প্রার্থীদের গুম-খুন করে এমন অবস্থা তৈরি করা হবে যাতে তারা নির্বাচন থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

তিনি বলেন, সেটির আলামত ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু বকর আবুকে তুলে নিয়ে হত্যা করে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে।

রিজভী বলেন, বৈঠকে আরও বলা হয়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থেকে যায় তাহলে ভোটের দিন পর্যন্ত নির্দয়ভাবে ধরপাকড়ের তাণ্ডব চালানো হবে, যেনো ভোট কেন্দ্রে কেউ হাজির হতে সাহস না করে। আর যদি ধানের শীষের অনুকূলে ভোটের হাওয়া ঠেকানো না যায়, তবে মিডিয়া ক্যু করে নৌকাকে জিতানো হবে। বিটিভির মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করে সব মিডিয়াতে তা সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে। একবার ফল ঘোষণা করতে পারলে তারপরে নির্মমভাবে সব ঠাণ্ডা করা হবে।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, এরপর থেকে এ ধরণের সভা খুব বেশি করা যাবে না, তবে কনসালটেশন করে কাজ করা হবে। এছাড়াও উন্নয়ন প্রকল্প তদারকির নামে আসন্ন সয়সদ নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষে আওয়ামী দলীয় ৮ কর্মকর্তাকে দিয়ে মনিটরিং সেল গঠন করে পুলিশ সদর দফতর। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান ৪৫ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ৬৪ জেলার উপদেষ্টা (মেনটর) নিয়োগ করে একটি নজিরবিহীন সরকারি আদেশ জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

রিজভী বলেন, এ নিয়ে বিএনপির লিখিত আপত্তির প্রেক্ষিতে তা বাতিল করতে বাধ্য হয়। কিন্তু গোপনে ঐ কর্মকর্তারা জেলায় জেলায় মনিটরিংয়ের কাজ এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন। এর বাইরে সারাদেশের ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের লক্ষ্যে শেখ হাসিনা প্রথম তালিকার ৬ জন সচিবকে নিয়ে একটি গুপ্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে। মূলতঃ এখানে সব ধরনের কর্মকর্তা আসা-যাওয়া করেন, তাই বিরোধীদের চোখ এড়ানো সহজ হবে মনে করে ওই স্থানে গুরুত্বপূর্ণ এই সভাটি বসে।

উৎসঃ jagonews24

আরও পড়ুনঃ বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা-গ্রেফতারে কিছু করার নেই, সিদ্ধান্ত ইসি’র

তফসিলের পর বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যে নালিশ দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে কিছু করার নেই বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।

ইসি সূত্র জানায়, নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেফতার করেছে বলে অভিযোগ বিএনপির। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত একটি মামলার তালিকাও দেওয়া হয় ইসিতে। কিন্তু মামলার তালিকা কমিশনে উঠানো হলে, কমিশন মামলার তালিকা দুটি ভাগে ভাগ করে। এর মধ্যে কিছু মামলায় দেখা যায়, তফসিলের আগে ২০১৪ ও ২০১৫ সালের। এসব মামলার বিষয়ে কমিশনের কিছু করার নেই বলে সিদ্ধান্ত হয়। আর বাকি মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীর বাবা-মায়ের নাম-ঠিকানা নেই। এ কারণে এসব মামলার বিষয়ে ইসির কিছু করার নেই বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, বিএনপির মামলার বিষয়ে ইসির কিছু করার নেই বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্তের ফাইলটি কমিশনারদের স্বাক্ষর শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের দফতরে রয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত দুই-একদিনের মধ্যে চিঠি দিয়ে অথবা মৌখিকভাবে বিএনপিকে জানানো হবে।

এর আগে বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়ন প্রত্যাশী ৫ জন নিখোঁজসহ গ্রেফতার হওয়া ৫২৯ জন নেতাকর্মীর একটি তালিকা জমা দেয় বিএনপি।

বিএনপির অভিযোগ অনুযায়ী নিখোঁজ হওয়া মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপি নেতা ইব্রাহিম হোসেন, গাইবান্ধা-২ আসনে দলের গ্রাম সরকারবিষয়ক সম্পাদক আনিসুজ্জামান খান বাবু, নেত্রকোনা সদর-২ আসনের ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ারুল হক রয়েল, ঢাকা মহানগর-১০ আসনের ঢাকা দক্ষিণ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি ও যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু বক্কর আবু। গেল বৃহস্পতিবার পল্টন থেকে নিখোঁজ যশোরের বিএনপি নেতা আবু বক্কর আবুর লাশ মিলেছে বুড়িগঙ্গায়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে অভিযোগ করে বলা হয়, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা ও গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের তালিকা এর আগে দুইবার দলের পক্ষ থেকে ইসিকে দেওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট মামলার তালিকা দেওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেপরোয়া। কয়েক দিন ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে দিনের পর দিন আটক রেখে আদালতে হাজির করা হচ্ছে। আবার কাউকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে আটকের পর গুম করে রাখা হচ্ছে। দলের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশিও চলছে।

এর আগে ১৬ নভেম্বর সিইসির কাছের ৪৭২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের তালিকা জমা দেয় বিএনপি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত সে চিঠিতে বলা হয়, তফসিল-পরবর্তী সময়ে বিএনপির এ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর লাশ উদ্ধারে বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেবেন।

বিএনপি যে মামলার তালিকা দিয়েছিল, সেখান থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীর লাশ বুড়িগঙ্গাতে পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী, জানতে চাইলে সিইসি নূরুল হুদা বলেন, ‘পুলিশ ফৌজদারি মামলা করবে। আমরা তো কিছু করতে পারব না। কী ঘটনা ঘটেছে সেটা তো জানি না। ক্রিমিনাল কেস হবে, ইনভেস্টিগেশন করবে পুলিশ। দেখবে, কীভাবে তাকে মারা হয়েছে। এ ব্যাপারে তো আমার বলার কিছু নাই।’

নূরুল হুদা বলেন, ‘আইনগতভাবে তারা দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে নেবে। এটা নির্দেশ থাকবে পুলিশের ওপরে।’

সুত্রঃ ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here