জামায়াতে ইসলামীর এ টি এম আজহারুল ইসলামের আপিলের রায় যে কোনো দিন

0
366

কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চে এ টি এম আজহারের খালাস চেয়ে আপিলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তাঁর যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে বলেন, ১৯৭০ সালে রংপুর শহরে এ টি এম আজহারুল ইসলাম ছাত্র সংঘের সভাপতি ছিলেন। এমনকি ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জামায়াতের হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। এতে করে ১৯৭১ সালে এ টি এম আজহারের অবস্থান সবার কাছে কাছে সুস্পষ্ট হয়ে যায। এ ছাড়া যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ওই সময় ছাত্র সংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে যেহেতু মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে; সে কারণে এ টি এম আজহারও একই দলের সদস্য হয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন, এটা প্রমাণিত।

এ ছাড়া ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার সময় এ টি এম আজহারকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি সরাসরি দেখেছেন।

এসব যুক্তি তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতের কাছে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন। তিনি গতকাল ও আজ দুই দিন রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন করেন।

আগামীকাল বুধবার এ টি এম আজহারুল ইসলামের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তির জবাব দেবেন। যুক্তি উপস্থাপন শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য রাখবেন।

এর আগে গত ২ জুলাই এ টি এম আজহারুল ইসলামের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুরু করেন।

এ টি এম আজহারের পক্ষে যেসব যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে তা উল্লেখ করে আইনজীবীরা সাংবাদিকদের বলেন, অত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁর জেরায় স্বীকার করেছেন যে, একাত্তর সালের ধর্ষণ, লুটপাট ও নির্যাতনের ঘটনায় এ টি এম আজহার জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। আর যে তিনটি অভিযোগে তাঁকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে, সেখানে দুই নম্বর অভিযোগের দুজন সাক্ষীর মধ্যে একজন বলেছেন, ৬ কিলোমিটার দূরে থেকে দেখেছেন আর অন্যজন বলেছেন, ৩ কিলোমিটার দূরে থেকে ঘটনা দেখেছেন।

যুক্তি উপস্থাপনে আরো বলা হয়, মামলার ৪ নম্বর অভিযোগে একজন সাক্ষী বলেছেন, আজহারুল ইসলাম ও তিনি একই ক্লাসে কারমাইকেল কলেজে পড়তেন। অথচ ডকুমেন্টে দেখা যাচ্ছে, তাদের দুজনের সেশন ভিন্ন এবং দুজন দুই বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ৫ নম্বর অভিযোগে একজন সাক্ষী বলেছেন, একাত্তর সালে তাঁর কোনো সন্তান ছিল না, কিন্তু ডকুমেন্টে দেখা যায়, তিনি ছয় সন্তানের জননী ছিলেন।

৬ নম্বর অভিযোগের যুক্তিতে বলা হয়েছে, এ অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে একাত্তর সালের ১ ডিসেম্বর। কিন্তু স্বাক্ষী বলেছেন, একাত্তর সালের সেপ্টেম্বরে ঘটেছে। দুই নম্বর অভিযোগের ঘটনা হলো মোকসেদপুর গ্রামের। আর দুজন সাক্ষী বলেছেন, ঘটনা ঘটেছে রামনাথপুর গ্রামে। আর এ দুই গ্রামের দূরত্ব এক কিলোমিটারেরও বেশি।

যুক্তি উপস্থাপনকালে এ টি এম আজহারুল ইসলামের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ঘটনার প্রধান নায়ক ১৯৫ জন চিহ্নিত পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীকে বাদ দিয়ে সহযোগী হিসেবে বানোয়াট সাক্ষ্য দিয়ে এ টি এম আজহারুল ইসলামকে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য আসামি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে যেসব সাক্ষী দেওয়া হয়েছে, তা বানোয়াট। সেফ হোমে রেখে এসব সাক্ষী তৈরি করা হয়েছে।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এই ঘটনার প্রধান নায়ক বর্বর পাকিস্তান আর্মি। তাদের মধ্য থেকে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছিল। তাদের ক্ষমা করে দিয়ে দীর্ঘদিন পর সহযোগী আসামি হিসেবে এই আসামির বিচার ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

১৮ জুন এ টি এম আজহারুল ইসলামের আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এ শুনানি শুরু হয়েছিল।

এর আগে গত ১০ এপ্রিল শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন আদালত। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আজহারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি ১১৩ যুক্তিতে আজহারকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়ে আপিল করেন তাঁর আইনজীবীরা। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৯০ পৃষ্ঠার মূল আপিলসহ ২৩৪০ পৃষ্ঠার আপিল দাখিল করেন।

উৎসঃ এনটিভি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here