দেশপ্রেমিক ড. আসিফ নজরুল আমার কিছু আত্নীয়ের দৃষ্টিতে ‘স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি’ হয়ে গেল!: শীলা আহমেদ

0
302
হুমায়ূন আহমেদদের ছোট কন্যা শিলা আহমেদ ও তার স্বামী ড. আসিফ নজরুল

স্বনামধন্য কথাসাহিত্যিক, জনপ্রিয় নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদদের ছোট কন্যা শিলা আহমেদ তার স্বামী ড. আসিফ নজরুলের জন্মদিন উপলক্ষ্যে একটি লেখা লিখেছেন। পাঠকদের জন্য লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলঃ

‘‘এইতো, কয়েকদিন পরেই আমার স্বামীর জন্মদিন।

আমার ১১ বছর বয়সে ওর সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয়। ও তখন বিচিত্রায় কাজ করতো। আমার বাবার একটা ইন্টার্ভিউ নিতে এসেছিলো। আমাদের বাসায় আসলেই অনেক গল্প শোনাত। সেই সময় ও প্রচণ্ড ভাবে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাথে জড়িত। কিভাবে এই দেশ কে সোনার বাংলাদেশ বানানো হবে, সেটা নিয়ে অনেক স্বপ্ন। জাহানারা ইমামের সাথে আন্দোলন করছে, মিটিং করছে, মিছিল করছে! আমি ওর বিরাট ভক্ত হয়ে গেলাম! আমার কাছে মনে হতো, কি সাংঘাতিক দেশপ্রেমিক একজন মানুষ! সেই ১১ বছর বয়সে, ও আমার কাছে একটা হিরো হয়ে গেল!

আমাদের পরিচয়ের ২১ বছর পর আমাদের বিয়ে হয়। আমাদের বিয়ের পর নানা কারনেই আমার আত্মীয় স্বজন কেউই খুশি হয়নি। আমার এক আত্মীয় একদিন আমাকে ফোন করলো, খুবই মন খারাপ করে বলল ‘শীলা, তুমি এমন কাজ করতে পারলে? স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তির লোককে বিয়ে করলে?’

স্বামী ড. আসিফ নজরুলের সাথে হুমায়ূন আহমেদদের ছোট কন্যা শিলা আহমেদ

কেন ‘স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি’-র লোক হবে? ওর মতো দেশ প্রেমিক আমি কখনো দেখিনি! তুমি কি ওকে ২০-২১ বছর আগে থেকে চিনোনা! কিভাবে এমন কথা ওকে নিয়ে বলতে পারলে?

-তখন দেশ প্রেমিক ছিল, এখন আর নেই। তুমি একদিন দুঃখ করবে।

দুঃখ অবশ্য আমি করি। ভেবেছিলাম আমি হাসিখুশি, আড্ডাবাজ, একজন মানুষকে বিয়ে করেছি! কিন্তু দেখি, বেশিরভাগ সময়ই ও খুব চুপচাপ থাকে। কথা বলেনা, বাচ্চাদের সাথে খেলে না। খুবই মনমরা হয়ে যায়। আমি যদি জানতে চাই, কেন মন খারাপ তোমার? হতাশ হয়ে আমার দিকে তাকায়। বলে, পেপার পড় নাই আজকে?

-প্রতিদিনই তো পেপার পড়ি ।

-বলতো কেন সাগর-রুনির হত্যার বিচার হয়না?

-এইজন্য মন খারাপ তোমার?

আবার আরেকদিন মন খারাপ করে, গুম নিয়ে। আরেকদিন ব্যাংকের টাকা পাচার নিয়ে। আরেকদিন তনুর জন্য। আরেকদিন বিশ্বজিতের জন্য। এই লিস্ট আর শেষ হয়না।

ড. আসিফ নজরুল ও ত্রা স্ত্রী শিলা আহমেদ (হুমায়ূন আহমেদদের ছোট কন্যা)

৩-৪ দিন আগে আমি বললাম, চল দুইজন বের হই, তোমার ঘড়ির বেল্ট ছিঁড়ে গিয়েছে, জন্মদিনে একটা ঘড়ি কিনে দেই। ও অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালো। বললো- এই রকম একটা নির্বাচনের পর তোমার জন্মদিন-ঘড়ি এইসবের কথা মনে হয়?

হ্যাঁ আমার তো মনে হয়ই। অনেক আনন্দ করতে ইচ্ছা করে! তোমার অনেক ভুলভ্রান্তি, অনেক দোষ, সবই তো দেখলাম। ঝগড়াঝাঁটি তো কম করলাম না! কিন্তু ১১ বছর বয়সে যে আমার মনে হয়েছিল, ‘কি সাংঘাতিক দেশপ্রেমিক’ সেই মনে হওয়ার কোন পরিবর্তন হয়নি। তাই চল celebrate করি জন্মদিন, প্রেমেরদিন, ঝগড়ারদিন,মন ভালোরদিন, মন খারাপের দিন আর আমাদের একসাথে থাকার সব দিনগুলো।

বলাতো যায়না, হয়তো খুব তাড়াতাড়িই তোমার লেখালেখি বন্ধ করে দেয়া হবে, তোমার নামে কোন মামলা হবে, তোমাকে ‘স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি’র লোক বানানো হবে, অথবা তুমি গুম হয়ে যাবে! আমাদের এই সোনার বাংলাদেশে তো সবই সম্ভব!’’

[ফেসবুক থেকে সংগ্রহীত]

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here