আর্টিক্যাল ৬৬ অনুযায়ী নির্বাচনে সুযোগ পাবেন খালেদা জিয়া

0
95

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়ন পত্র আইনবহির্ভূতভাবে বাতিল হয়েছে দাবি করে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার তিন মনোনয়নপত্রের বৈধতা চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন তার পক্ষের তিন আইনজীবী।

গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে বারটার দিকে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নেতৃত্বে তিনজন আইনজীবী আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রার্থীতা বৈধতার জন্য এই আপিল করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে খালেদা জিয়া বগুড়া-৬ ও ৭ এবং ফেনী-১ আসন থেকে নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু সাজাপ্রাপ্ত দেখিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তার তিনটি মনোনয়নপত্রই বাতিল করেন গত ২ ডিসেম্বর।

আপিল আবেদন জমা দিয়ে আইনজীবি কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, রিটার্নিং অফিসার আইন বহির্ভূতভাবে, অন্যায়ভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের তিনটি মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। এটা সরকারের ষড়যন্ত্রেরই অংশ। আমাদের কাছে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে তিনটি আসনে প্রার্থীর পক্ষে আপিল দায়ের করলাম। ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিল করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বগুড়া-৬ আসনে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ও বগুড়া-৭ আসনের মনোনয়নপত্র বৈধতা চেয়ে আপিল করেন দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও দলের আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধনের আর্টিকেল ৬৬ অনুযায়ী খালেদা জিয়া নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন। আপিল দায়েরের পর ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা আছে। আপিলের বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। যেহেতু অতীতে এই অবস্থাতেও অনেককে নির্বাচন করার সুযোগ দেয়ার রেকর্ড রয়েছে। তাই তার মনোনয়নপত্র বৈধ করে তাকে নির্বাচন করার সুযোগ দেয়া উচিত। তাছাড়া একই আইনে হাজী সেলিমকে নির্বাচনের সুযোগ দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কায়সার কামাল।

আইন নিজস্ব গতিতে চললে খালেদা জিয়া প্রার্থিতা ফিরে পাবেন বলে দাবি করেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ফেয়ারলি ডিসিশন নিলে ইসি থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে রায় পাব আশা করি। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য জাতি অপেক্ষা করছে। খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন হলে তা প্রহসনের নির্বাচন হবে। দেশ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্যে খালেদা জিয়ার সুবিচার চাই আমরা।

রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র বাতিল করলেও আপিলে তা ফিরে পাবে বলে আশা করেন খালেদার আইনজীবি কায়সার কামাল। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে। খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র যে গ্রাউন্ডে বাতিল হয়েছে তা এখানে প্রযোজ্য নয়। ইসি সংবিধান ও আইন অনুসরণ করলে এবং বিতর্কের উর্ধ্বে উঠে বিশ্বাসযোগ্য সিদ্ধান্ত নিলে খালেদা জিয়া প্রার্থিতা ফিরে পাবেন।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট হবে। নির্ধারিত সময়ে ৩০০ আসনে ৩০৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। বাছাইয়ে ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন জমা দেয়া গতকাল শেষ হয়েছে। ৬-৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুনানি করে তা নিষ্পত্তি করবে ইসি। ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় রয়েছে।

উৎসঃ ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন পক্ষপাতিত্বের এক কালো অধ্যায়!

ঢাকার হাইকোর্ট অঙ্গন থেকে শুরু করে পুরান ঢাকার জজ কোর্ট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টসহ সারাদেশের জেলা পর্যায়ের আদালতগুলোর আঙ্গিনায় ‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই’ অবস্থা। কোথাও ধানের শীষের প্রার্থীরা জামিনের আবেদন নিয়ে হাজির হচ্ছেন; কোথাও কর্মীরা জামিন চেয়ে আবেদন করছেন; কোথাও গ্রেফতার ঠেকাতে আগাম জামিনের আবেদন, কোথাও স্বামী-স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে পুলিশি গ্রেফতার ঠেকাতে আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। কোর্ট-কাচারীগুলোয় হাজার হাজার বিচারপ্রার্থীর উপস্থিতির নজিরবিহীন এমন দৃশ্য অতীতে কোনো ভোটের সময় দেখা যায়নি।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ এখন জাতীয় দাবি। জনগণের ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের গন্ডি পেরিয়ে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মহল থেকেও এই দাবি উঠেছে। প্রভাবশালী দেশ, সংস্থা এবং ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকরাও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দাবিতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। বিশ্বরাজনীতি-অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করেন এমন প্রভাবশালী কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক-অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং আগামীতে বন্ধুত্ব থাকবে কি না তা নির্ভর করছে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ওপর। অথচ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি দূরের কথা কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন নিজেরাই পক্ষপাতিত্বের দোষে অভিযুক্ত। নির্বাচনকালীন সময়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব ক্ষমতা ব্যবহারের বদলে ক্রমান্বয়ে তারা ইসিকে ক্ষমতাসীন দলের আজ্ঞাবহ করে তুলছেন।

সারাদেশে যারা ভোট গ্রহণ করবেন সেই ডিসি, এসপি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গঠনের নির্দেশনা তো দেনইনি; উল্টো তাদের পক্ষপাতিত্বের দিকেই উস্কে দিয়েছে ইসি। নির্বাচন কমিশনে দফায় দফায় ডেকে এনে সেমিনার, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, সংলাপের নামে এটা করা হয়। এতে জেলায় জেলায় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে নজিরবিহীন তুঘলঘি কান্ড করেছে রিটার্নিং অফিসাররা।

সামান্য ত্রুটির জন্য কারো কারো প্রার্থিতা বাতিল করা হলেও গুরুতর অভিযোগের পরও অনেকের মনোনয়ন বৈঠক করা হয়। একই অপরাধ তথা ঋণখেলাপি হওয়ায় কিছু মনোনয়ন বাতিল করা হয়; আবার একই অপরাধে অভিযুক্ত অনেকের মনোনয়ন বৈধ করা হয়। সামান্য বিদ্যুৎ বিল খেলাপি বাতিল আর ঋণখেলাপি বৈধ! এমনকি একই ব্যক্তি ঢাকায় এবং ফেনীতে মনোনয়নপত্র দাখিল করলে ঢাকার মনোনয়ন বাতিল করা হয়; কিন্তু ফেনীতে গ্রহণ করা হয়। নির্বাচন কমিশনের এই দ্বিমুখী নীতিতে কি আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সম্ভব? নির্বাচনী পরিবেশ এমন পর্যায়ে গেছে যে, নির্বাচন কমিশন ভোটের রেফারিংয়ের নামে নিজেই একটি পক্ষে হেলে পড়েছে। রেফারি পক্ষ নিলে কি মাঠের খেলা নিরপেক্ষ হয়?

‘সিইসি’ শব্দটি উচ্চারণ করলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সাবেক সিইসি কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদের নাম। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে তার ভূমিকা দেশ-বিদেশে নিন্দিত। ক্ষমতাসীনদের ‘নাচের পুতুল’ ওই কাজী রকিব এখন ইতিহাসের পাতায় ১৭৫৭ সালের বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর আলী খাঁর সঙ্গে তালিকাভুক্ত। জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে কাজী রকিব যে পথে হেঁটেছেন বর্তমান সিইসি কে এম নূরুল হুদাও যেন সে পথেই চলতে শুরু করেছেন। শুধু তাই নয়, সেটাকে এক ডিগ্রি বৃদ্ধি করে নৈতিকতার মাথা খেয়ে নিজের ভাগিনাকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী করেছেন।

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রশাসনের সচিব-বিভাগীয় কমিশনার-ডিসি-এসপি এমন ৯২ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাদের বদলি ও প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচিতি, কর্মকান্ডের তথ্যও দেয়া হয় নির্বাচন কমিশনে। এদের মধ্যে মাত্র একজন এসপি (নারায়ণগঞ্জ) বদলি করে সেখানে আরো কট্টর আওয়ামীপন্থী ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে পদায়ন করা হয়। গত কয়েক দিন থেকে সারাদেশে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্ট অঙ্গন থেকে শুরু করে রাজধানীর ঢাকা জজ কোর্ট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, সারাদেশের জেলা পর্যায়ের আদালতগুলোর আঙ্গিনায় ‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই’ অবস্থা।

কোথাও ধানের শীষের প্রার্থীরা জামিনের আবেদন নিয়ে হাজির হচ্ছেন; কোথাও বিএনপি কর্মীরা জামিন চেয়ে আবেদন করছেন; কোথাও গ্রেফতার ঠেকাতে আগাম আবেদন করছেন, কোথাও স্বামী-স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে পুলিশি গ্রেফতার থেকে রক্ষা করতে আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। দেশের কোর্ট-কাচারীগুলোতে এমন হাজার হাজার বিচারপ্রার্থীর উপস্থিতির নজিরবিহীন দৃশ্য অতীতে কোনো ভোটের সময় দেখা যায়নি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আদালতপাড়া বিচারপ্রার্থীর পদচারণায় গম গম করে। অসহায় বিচারপ্রার্থীদের বেদনা-যন্ত্রণার ছাপ দেখে অনেক পেশাদার আইনজীবীকে চোখের পানি ফেলার দৃশ্যও দেখা গেছে। অথচ তফসিল ঘোষণার পর নতুন করে গ্রেফতার, গায়েবি মামলায় গ্রেফতারসহ প্রার্থীসহ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের হয়রানি না করা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অন্যতম।

রাজধানী ঢাকা থেকে তৃণমূল গ্রাম পর্যন্ত এখনো আতঙ্ক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ভোটার ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে। ভোট হবে কি না সেটা নিয়েই সংশয়ে মানুষ। অন্যদিকে তফসিল ঘোষণার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সারাদেশে ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যারা দলীয় কর্মীদের হত্যা করেছেন তাদের কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে শোনা যায়নি। মনোনয়ন দাখিলের আগে ঢাকার মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও নৌকা প্রার্থী সাদেক খানের গ্রুপের সংঘর্ষে ২ জন প্রাণ হারায়। এ ঘটনা মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হওয়ায় খুনিকে গ্রেফতার করা হয় বটে; তবে ৪ ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

মাঠপর্যায়ে ভোটের লাগাম যাদের হাতে সেই রিটার্নিং অফিসারদের (ডিসি) নৌকার প্রার্থীর অনুক‚লে নজিরবিহীন পক্ষপাতিত্ব নির্বাচনের আগেই ভোট প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। অধিকাংশ রিটার্নিং অফিসার মূলত আইনের অধীনে থেকে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের বদলে দলবাজি ও খেয়ালখুশি মতো প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ-বাতিল করেন। দেখা যায় সারাদেশে ১৪১ জন ধানের শীষ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। আর নৌকা প্রতীকের মাত্র ৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তাছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হন তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় ব্যাপকভাবে।

জাসদের শহীদ উদ্দিন মাহমুদ ঢাকা-১৮ ও ফেনী-১ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। একই কাগজ ও তথ্যে দাখিল করা মনোনয়নপত্র ফেনী-১ এ রিটার্নিং অফিসার গ্রহণ করেন; অথচ ঢাকায় রিটার্নিং অফিসার ঢাকা-১৮ মনোনয়ন বাতিল করে দেন। ঋণখেলাপির অভিযোগে পটুয়াখালী-১ থেকে জাতীয় পার্টির বরখাস্ত মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলদারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। অথচ দলটির নতুন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন করলেও রংপুর-১ এ তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। ৫ হাজার টাকা ক্রেডিট কার্ডে বাকি থাকায় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী হবিগঞ্জের ড. রেজা কিবরিয়ার মনোনয়ন বাতিল হয়। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় চট্টগ্রামে মোর্শেদ খানের মনোনয়ন বাতিল হয়। অথচ বিকল্পধারার মেজর (অব:) আবদুল মান্নান, মাহী বি চৌধুরী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয় কোটি কোটি টাকা ঋণখেলাপি হওয়ার পরও।

আদালতে সাজা এবং ঋণখেলাপি হওয়ায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, মির্জা আব্বাস, রুহুল কবির তালুদকার দুলু, আমান উল্লাহ আমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুল করিম আব্বাসী, বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, শাহ মজিবুল হক, আসলাম চৌধুরী, গিয়াস কাদের চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, সামির কাদের চৌধুরী, ওয়াদুদ ভূইয়া, আফরোজা আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। হলফনামায় সই না দেয়ায় মনোনয়ন বাতিল হয় গোলাম মাওলা রনির।

অথচ সাজাপ্রাপ্ত ঢাকার হাজী মোহাম্মদ সেলিম, চাঁদপুরের ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। ১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বরিশাল-৪ আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়। খুলনায় নৌকা মার্কার একাধিক প্রার্থীর হলফনামা অসম্পূর্ণ থাকায় ডিসি অফিসে ডেকে এনে তা পূরণ করা হয়।

উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের পরও ধানের শীষের প্রার্থী সরকার বাদল, মোর্শেদ মিলটন, আশফাক হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। মানিকগঞ্জে ঘটেছে নজিরবিহীন ঘটনা। জেলার তিনটি আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের জমা দেয়া মনোনয়নে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘সই ভুয়া’ অভিযোগ তুলে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

ওই মনোনয়ন বাতিলের আগে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিসি একবারও মির্জা ফখরুলকে ফোন করে তার সই আসল-নকল জানার প্রয়োজন মনে করেনি। এ নিয়ে মির্জা ফখরুল নির্বাচন কমিশনে তীব্র প্রতিবাদ করে সেগুলো গ্রহণের দাবি জানান। অবশ্য বাতিল হওয়া প্রার্থিতা ফেরত পেতে আবেদনকারীদের আবেদনের শুনানি আজ থেকে ইসিতে শুরু হচ্ছে।

ভোটের আগেই বিতর্কিত ইসি সেখানে কতটুকু নিরপেক্ষ থাকবে তা দেখার জন্য দেশবাসী অপেক্ষা করছে। নির্বাচনে প্রতিদ্ব›দ্বী এক পক্ষ নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছে। অপর পক্ষ ধানের শীষের প্রার্থীরা পুলিশের হয়রানি থেকে বাঁচতে আদালত পাড়ায় জামিনের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। প্রার্থীদের কেউ কেউ এখনো কারাগারে রয়েছেন। ভোটযুদ্ধে নামা প্রার্থীদের এই বিপরীতমুখী দৃশ্যে কি ইসির নিরপেক্ষতার প্রমাণ দেয়?

তবে দেশের বিশিষ্টজন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন মিডিয়ায় লেখালেখি, সাক্ষাৎকার ও টিভির টকশোতে ইসির বিতর্কিত ভ‚মিকাকে নজিরবিহীন এবং পক্ষপাতমূলক হিসেবে অবিহিত করছেন। তাদের বক্তব্য এখন পর্যন্ত ইসির যে দুর্বল ভূমিকা তা কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদের মতোই। তবে ইসি ক্ষমতাসীনদের তল্পিবাহকের অবস্থান থেকে সরে এসে নিজেদের ক্ষমতা কঠোরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ভ‚মিকায় অবতীর্ণ হবেন সবাই সে প্রত্যাশা করছে।

উৎসঃ ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‘এইবার নৌকা ক্ষমতায় না গেলে আমাদের খবর আছেঃ রফিকুর রহমান

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক রফিকুর রহমান বলেছেন, এইবার যদি নৌকা ক্ষমতায় না যায় তাহলে আমাদের খবর আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, দেশে গৃহযুদ্ধ হবে। দেশে মারামারি হানাহানি হবে। ঘর থেকে মানুষের বেরুনোর কোনো নিরাপত্তা থাকবে না। সেই কারণেই আমি বলছি, আসুন আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে নিজেদের সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মিলেমিশে নৌকা প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য কাজ করি।বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ বাজারস্থ আওয়ামী লীগ নেতা আছলম ইকবাল মিলনের বাসভবনে কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক রফিকুর রহমান মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল) আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে আবারও মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুস শহীদ। এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন পাঁচবারের নির্বাচিত এই সংসদ সদস্যসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাধ্যক্ষ উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুস শহীদ বলেন, আজকে অত্যন্ত আনন্দ লাগছে। আমরা সকলে ভেদাভেদ-মতপার্থক্য ভুলে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ ঐকবদ্ধ।তিনি বলেন, নৌকায় অতীতে যদি আমরা এক সেন্টারে বারো আনা ভোট পেয়ে থাকি, এইবার চৌদ্দ আনা বা পনের আনা ভোট পাবো। তাহলেই আমাদের উন্নয়নের মহাসড়কের যাত্রা আরো শক্তিশালী হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম. মোসাদ্দেক মানিকের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম, এএসএম আজাদুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সিদ্দেক আলী, আছলম ইকবাল মিলন, অধ্যাপক হারুনুর রশীদ ভূঞা, আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক বাদশা, রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল, কমলগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হান্নান, মুন্সীবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব তরফদার, পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার তওফিক আহমেদ বাবু, শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমেদ, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ jagonews24

আরও পড়ুনঃ নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা নেই বলেই প্রতিদিন আসতে হচ্ছেঃ আলাল

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি যদি আস্থাশীল থাকতাম, তাহলে তো সরকারে এখন যারা আছেন, সরকারের প্রতিনিধিদের মতো একমাস পরে একদিন আসতাম। যেহেতু আমাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই, তাই প্রতিদিনই আসতে হচ্ছে।’

বুধবার বিকেলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসি সচিবের কাছে তিনটি চিঠি হস্তান্তরের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সরকার ক্ষমতায় থেকে এই প্রথম বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে। ২০১৪ সালের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ছিল না। যেহেতু পরিস্থিতি ভিন্ন, নির্বাচন কমিশন ছাড়া আমাদের অন্য কোনো জায়গা নেই। সুতরাং আস্থা থাকা না থাকার চেয়েও বড় প্রশ্ন হচ্ছে যে, আমরা যাবো কোথায়? আমাদের তো এখানেই আসতে হবে।

আলাল বলেন, গ্রেপ্তার-হয়রানি বাণিজ্য এখনো চলছে। বাম্পার ফলন যেভাবে হয়, সেভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও গ্রেপ্তারের বাম্পার ফলন শুরু করা হয়েছে। গতকালও একজন মহিলা কমিশনারসহ কয়েকজন প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মওদুদ আহমদের গাড়িতে সশস্ত্র হামলা করা হয়েছে। এগুলো বন্ধ করতে ইসিকে দ্রুত এবং জরুরি পদক্ষেপ নিতে বলেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা বলেন, জোটের পক্ষ থেকে একটি প্রতীকই দেয়া হবে। আমরা কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছি- একজনকে প্রতীক দিলে অবশিষ্ট জোটভুক্ত বৈধ প্রার্থীরা বাতিল হবেন। অন্যদের বিষয়ে কি চিঠি দিয়ে জানাতে হবে নাকি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে? তারা বলেছেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে যাবে। আর নিবন্ধিত দলের কেউ না হলে তাকে ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হবে। আমরা ১১টি দল জোটগতভাবে ভোট করার সিদ্ধান্ত আগেও জানিয়েছিলাম। আজ আবার মনে করিয়ে দিলাম।

তিনি বলেন, প্রার্থিতার জটিলতা নিষ্পত্তি করতে আমাদের কোনো অসুবিধা হবে না। মহাসচিব বারবার বলার পরেও কোনো একটি জেলার রিটার্নিং অফিসার তার স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে আমরা বৈষম্যের শিকার হতে পারি। আশঙ্কাটা আমাদের মধ্যে রয়েছে।

খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আলাল বলেন, আমরা শেষ সময় পর্যন্ত আশাবাদী। মুক্ত খালেদা জিয়াকে নিয়েই আমরা নির্বাচনে অংশ নেবো।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‘জামিন না দিতে জজদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ে গোপন বৈঠক’

বিএনপি নেতাকর্মীদের জামিন না দিতে আইন মন্ত্রণালয়ে জেলা দায়রা জজদের নিয়ে একটি গোপন বৈঠক হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়েছি, জেলা দায়রা জজদের নিয়ে একটি সভা হয়েছে, আইন মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে ‘অত্যন্ত স্বনামধন্য’ সচিব নির্দেশ দিয়েছেন যে নির্বাচনের পূর্বে তারা যেনো জামিন না দেন। এই কথাগুলো অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।’

বুধবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন ক্রমেই প্রহসনে পরিণত হতে চলছে। নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণে রেখে আবার ক্ষমতায় যেতে চায়। সেজন্য বিরোধী দলের ওপর অত্যাচার নির্যাতন-নিপীড়ন এবং যতো রকম কৌশল আছে সরকার প্রয়োগ করছে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর থেকে গ্রেফতারের পরিমাণ বেড়ে গেছে। গতকাল পর্যন্ত ১ হাজার ৯৭২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছি যে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে, লেবেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করার। কিন্তু লেবেল প্লেইং ফিল্ড দূরে থাকুক, এখন চেষ্টা করা হচ্ছে কিভাবে আরও খারাপ করা যায়। খান-খন্দ খোড়া চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতি মুহূর্তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে নির্বাচন কমিশন। পরিপত্র জারি করছে। যেগুলো নির্বাচনের সহায়ক নয়।

সরকারি দল প্রতিদিন সভা সমাবেশ করছে কিন্তু ইসি কিছুই করছে না দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আপনারা যদি দায়িত্ব পালন না করতে পারেন তাহলে দেশবাসীকে বলুন যে স্বাধীন ভাবে আমরা দায়িত্ব পালন করতে পারছি না। দায়িত্ব পালন না করতে পারলে পদত্যাগ করা উচিত। অন্যথায় সংবিধান আপনাদের যে দায়িত্ব দিয়েছে সেই দায়িত্ব নিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। আপনারা দায়িত্ব পালন করলে আমরা সাহায্য করবো। দেশের মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন চায়।’

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ জজদের নিয়ে গঠিত ‘নির্বাচনী তদন্ত কমিটি’ অকেজোঃ সিইসির ক্ষোভ

আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত ‘ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি’র (নির্বাচনী তদন্ত কমিটি) কার্যক্রমে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির ব্রিফিংয়ে এ অভিযোগ তোলেন সিইসি। যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং সহকারী জজের ২৪৪ জন ওই ব্রিফিংয়ে অংশ নেন।

জজদের উদ্দেশে কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘আপনাদের ভিজিবল (দৃশ্যমান) হতে হবে। তার মানে, আপনারা এখন পর্যন্ত কিন্তু ভিজিবল হননি। বাস্তবতা হলো সেটা। ভিজিবল যখন হবেন, আপনাদের কাজের মাধ্যমে (মানুষ) যখন আস্থা রাখবে, আপনাদের যখন চিনবে, তখন থেকে আপনাদের ওপরে দায়িত্ব আসবে। তখন আর আমাদের ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে শত শত অভিযোগ আসবে না।’

‘আমরা প্রত্যেক দিন শত শত অভিযোগ পাই। কিন্তু অভিযোগগুলো আমাদের কাছে আসার কথা না। কারণ, আপনারা সেখানে (মাঠ পর্যায়ে) রয়েছেন। আমরা কী করব? অভিযোগগুলো আপনাদের কাছে পাঠিয়ে দেব। প্রয়োজন ছিল অভিযোগগুলো সরাসরি আপনাদের কাছে যাবে। তা যায় না। ২০০৮ সাল থেকে যে নতুন একটা দায়িত্ব আপনাদের ওপর অর্পিত হয়েছে। প্রজাতন্ত্রের যারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, তাদের প্রত্যেকের ওপরে কোনো না কোনোভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। আপনাদের ওপরে আগে হয়নি। ২০০৮ সাল থেকে শুরু হয়েছে,’ বলেন সিইসি।

সিইসি আরো বলেন, ‘যিনি আপনাদের কথা শুনবেন না, প্যানেল কোর্টের ১৯৩ ধারামতে তাদের সাত বছরের জেল হবে। যদি মিথ্যা তথ্য দেয় এবং আপনাদের আদেশ না মানে, প্যানেল কোর্টের ২২৮ ধারা অনুসারে তাদের বিচার হবে। তার মানে হলো কোড অব সিভিল প্রসিডিউরের ১৯০৮-এর সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে আপনারা মাঠে অবস্থান করবেন। এটা আপনাদের প্রকৃত শক্তি, যেটা আপনাদের চেম্বারে নয়, মাঠে। সমস্যার মুখোমুখি, প্রার্থীদের মুখোমুখি, আচরণবিধি যারা ভঙ্গ করবে তাদের মুখোমুখি, আপনাদের ওপরে অন্য রকম অভিজ্ঞতা। এটা অন্য রকম পরিবেশ বা অন্য রকম দায়িত্ব আপনাদের ওপরে অর্পিত হয়েছে। এটাকে আপনাদের ভালোভাবে দেখভাল করা দরকার।’

মানুষের কাছে সহজেই সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার জন্যই বিচারকদের এ কাজে সংযুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘তারা যেন তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে এখানে ওখানে ছোটাছুটি করার প্রয়োজন মনে না করেন। আপনাদের সামনে পেয়ে তাঁরা যেন অভিযোগ পেশ করতে পারেন। আপনাদের প্রো-অ্যাকটিভ হতে হবে, ভাইব্রান্ট হতে হবে এবং আপনাদের জানতে হবে যে, তাঁদের সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য আপনারা আছেন। ৩০০টি আসনের মধ্যে ১২২টি জায়গায় আপনারা তাদের কাছাকাছি আছেন। তারা যেন সমস্যার সমাধান পায়, এটা আপনাদের দেখতে হবে।’

নির্বাচনী তদন্ত কমিটির প্রতি আশাহত হয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, ২৫ নভেম্বর যখন এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল, আমরা আশা করেছিলাম যে, প্রত্যেকটি কমিটি অন্তত ১২২টি অভিযোগ তদন্ত করার কথা ছিল। এটা আমাদের প্রত্যাশা ছিল। ১০০টা তদন্ত করার প্রত্যাশা ছিল। ১০০টা বাদ দিলাম, ২২টি তদন্ত করার প্রত্যাশা ছিল। তা হয়নি। কারণ সেটাই, এখন পর্যন্ত আপনারা প্রস্তুতি নিয়ে গুছিয়ে উঠতে পারেননি।’

‘আজকে থেকে, এখান থেকে, আপনাদের কী করণীয়, দায়িত্ব এবং কীভাবে এই কমিটি পরিচালিত হবে জেনেশুনে, ফিরে গিয়ে তদন্ত করবেন। মানুষের অভিযোগগুলো শুনবেন, আমলে নেবেন এবং তাদের রিলিফ দেবেন। যাতে তারা তাদের জায়গায় বসে, এলাকায় থেকে, ঢাকা পর্যন্ত না এসে আপনাদের কাছ থেকে, পাশে থেকে সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারেন,’ নির্দেশ দেন সিইসি।

ইসি সচিবসহ চার নির্বাচন কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ২৭ নভেম্বর আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দেশের ৬৪ জেলায় নির্বাচনকালীন অনিয়ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ১২২টি ‘নির্বাচনী তদন্ত কমিটি’ গঠন করেছিলো নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এসব কমিটিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের একজন জজ এবং একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ বা সহকারী জজকে নিয়ে মোট দুজন বিচারক এই কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা।

সারা দেশে তিনশ নির্বাচনী এলাকায় অনিয়ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে এসব কমিটি করা হয়েছে। আয়তন ও ভোটার বিবেচনায় নিয়ে একই জেলায় একাধিক কমিটিও করা হয়েছে। যেমন পঞ্চগড় জেলায় একটি, আবার দিনাজপুর জেলায় কাজ করবে পৃথক তিনটি কমিটি।

কিন্তু সপ্তাহখানেক পার হয়ে গেলেও এই কমিটির কার্যক্রমে কোন অগ্রগতি নেই বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হতাশা প্রকাশ করেন।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here