আর করবো না ধান চাষ, দেখবো তোরা কি খাস!

0
115

ধান কাটতে একজন শ্রমিককে মজুরি দিতে হচ্ছে ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা। সঙ্গে তিন বেলা খাবার। অথচ প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। এত কম দামে ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠছে না কৃষকের।

তাই নিজের পাকা ধানে আগুন লাগিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের কৃষক আবদুল মালেক সিকদার। বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে ধানের দাম বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

এরই জের ধরে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এক বৃদ্ধকে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। বৃদ্ধের পরিহিত জামাতে লেখা ‘আর করবো না ধান চাষ, দেখবো তোরা কি খাস’।

এমন ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে কৃষকদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে মত দিচ্ছেন নেটিজেনরা।

উৎসঃ ‌‌‌বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ‌মিথ্যার বিরুদ্ধে লড়াই করা মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব: হাসান সরকার


গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার বলেছেন, বদরের চেতনাকে বুকে ধারণ করে অন্যায়, অনাচার, জুলুম, নির্যাতন মিথ্যার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব। পবিত্র রমজানের রজনীতে অস্ত্র নয়, অশ্রু দিয়ে আল্লাহর কাছে সব জুলুম অত্যাচারের বিচার চাইতে হবে।

তিনি বিজাতীয় পোশাক পরিচ্ছেদ ও কৃষ্টি কালচার পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে দেশে ৯৩ ভাগ মুসলমান সে দেশে মুসলিমপোশাক পরিধান করতে মুসলমানদের লজ্জা কোথায়।

বৃহস্পতিবার বিকালে ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষে টঙ্গীর আহসান উল্লাহ সরকার ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসান উদ্দিন সরকার এসব কথা বলেন।

বিল্লাল সরকারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, দফতর সম্পাদক আবদুর রহিম খান কালা, গাছা থানা বিএনপির সদস্য সচিব ফারুক হোসেন খান, প্রকাশনা সম্পাদক আজিজুল হক রাজু মাস্টার, মাওলানা আবদুস সামাদ চৌধুরী, মো. বাবর আলী, আতাউর রহমান আতিক, ওমর ফারুক, মো. হেমায়েত উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, মো. সাদেক মিয়া, মো. মোশারফ হোসেন ভুইয়া, হাজী কাশেম, হাজী নূরুল হক, মুজিবুর রহমান, সাহান সারোয়ার রাফি, শহীদ উল্লাহ সরকার, হাজী মো. হাবীব সরকার, নাজিম উদ্দিন সরকার, মাসুদ সরকার, মোক্তার সরকার, ইমন সরকার, নকিব উদ্দিন সরকার অপু, পলাশ সরকার, দেলোয়ার হোসেন সরকার প্রমুখ।

মাহফিলে টঙ্গীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম মকদম আলী সরকারের ২৭তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে তার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা সাইদুর রহমান।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌প্রস্তুত থাকুন, সময়ের ডাকে নামতে হবে রাজপথেঃ শামসুজ্জামান দুদু


যেকোনও সময় যেকোনও পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘যে যেখানে যেভাবে আছেন প্রস্তুত থাকুন। সময়ের ডাক আসবেই। যখন সময় ডাক দেবে সেই ডাকে সাড়া দিয়ে সবাইকে রাজপথে নেমে আসতে হবে। সময়ের ডাকে সাড়া দিলে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আস‌বেই।’

বৃহস্প‌তিবার (২৩ মে) জাতীয় প্রেসক্লা‌বের আব্দুস সালাম হ‌লে জাতীয়তাবাদী কৃষক দ‌লের উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমা‌নের ৩৮তম শাহাদত বা‌র্ষিকী উপল‌ক্ষে আলোচনা সভা, ‌দোয়া ও ইফতার মাহ‌ফি‌লে তি‌নি এ আহ্বান জানান।

শামসুজ্জামান দুদু ব‌লেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া জেলখানায়, গণতন্ত্র জেলখানায়, স্বাধীনতার ঘোষকের সন্তান সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র বিএনপির এক্টিং চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে আজ বিদেশে থাকতে হচ্ছে। সেজন্য বলবো- লড়াই ছাড়া কোনও পথ নাই। সংগ্রাম ছাড়া কোনও পথ নাই। লড়াই-সংগ্রামই এখন দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার একমাত্র পথ।’

শহীদ প্রে‌সি‌ডেন্ট জিয়াউর রহমা‌নের প্র‌তি শ্রদ্ধা জা‌নি‌য়ে ছাত্রদ‌লের সা‌বেক এই সভাপ‌তি ব‌লেন, ‘শতাব্দির মহানায়ক, রণাঙ্গনের যোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এই মহান বীর যদি বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ না করতেন বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেতো কিনা সন্দেহ আছে। বাংলাদেশ স্বাধীনতার ঘোষক পেতো কিনা সন্দেহ আছে।’

‌বিএন‌পির এই নেতা আরও ব‌লেন, ‘৭২ থেকে ৭৫, এই অন্ধকার সময়ে সকল দল, সকল সংবাদপত্র বাতিল করা হ‌য়ে‌ছি‌লো। গণতন্ত্র কবরস্থ করা হ‌য়ে‌ছি‌লো। সেই অন্ধকার থেকে দেশ ও জাতিকে আলোর পথে এনে আলোকিত বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান। জাতি তাঁর কাছে চিরঋণী। সেই শহীদ জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি যখন মাঠে নামবে আবার কৃষক তার অধিকার ফিরে পাবে। ফসলের ন্যায্যমূল্য ফিরে পাবে। শ্রমিক তার সঠিক মজুরি ফিরে পাবে।’

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন- চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক তকদির হোসেন মোহাম্মাদ জসিম, আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন মাস্টার, জামাল উদ্দিন খান মিলন, সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নাসির হায়দার, কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম হোসেন, আলীম হোসেন, মাইনুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক মিন্টু, মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, খলিলুর রহমান ইব্রাহিম, আলমগীর হোসেন, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন ও এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌‌ব্রে‌কিং‌নিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আমরা ক্রমেই সঙ্কুচিত করে ফেলছি : সাখাওয়াত হোসেন


সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, উদার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আমরা ক্রমেই সঙ্কুচিত করে ফেলছি। এর ফলে সংক্রামকের মতো উগ্রবাদের উত্থান ঘটতে পারে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে করায়ত্ত করে ফেলা হচ্ছে।

রাজধানী ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

‘কোন দলের কেমন ইশহেতার’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

সাবেক এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, আগের রাতে কেউ ভোট না দিতে পারে সেজন্য ভোট সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত হওয়া দরকার এবং ভোটের দিন সকালেই ব্যালট বক্স কেন্দ্রে পাঠানো দরকার।

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমরা মনে করি, আইন-কানুন সঠিকভাবে কাজ করলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। আমাদের পর্যালোচনা করে দেখা দরকার, আইন-কানুন সঠিকভাবে প্রণয়ন হচ্ছে কি-না, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর কি-না এবং মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে কি-না।

তিনি বলেন, আমাদের শাসন-ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। তাই শাসন-ব্যবস্থা ঠিক করা তথা রাষ্ট্রকে মেরামতের জন্য আমাদের রাজনীতিবিদরা রাজনৈতিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে সদিচ্ছা প্রদর্শন করবেন, যাতে বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ ঘটানো যায়।

ড. হামিদা হোসেন বলেন, আইয়ুব খানের সময়েও আমরা অনেকটা স্বাধীনভাবে লিখেছি, এরশাদের সময়ে আমরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেছি। অথচ আজকে আমরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথাও স্পষ্ট করে বলতে পারি না, নানান ধরনের চাপের মধ্যে থাকতে হয়। আজকে নির্বাচনের ওপর আমরা অনেক জোর দিচ্ছি। অথচ আমাদের দলগুলোর মধ্যেই গণতন্ত্র নেই। আর দলের মধ্যে গণতন্ত্র না থাকলে সংসদে কীভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে?

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য হারিয়ে যাচ্ছে। সুদক্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। জনগণকে ক্ষমতাহীন করে ফেলা হয়েছে। বলা হচ্ছে, মানুষ রাস্তায় নামছে না। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো কি জনগণের দাবিগুলোকে সামনে নিয়ে মানুষকে সংগঠিত করে তুলতে পারছে? এই অবস্থার উত্তরণে আমি মনে করি, জনগণকে ক্ষমতায়িত করে তুলতে হবে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে, বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

অনু্ষ্ঠানে জনকল্যাণমূখী রাজনীতি ফিরিয়ে আনার জন্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন বলে দাবি জানান সংগঠনের নেতারা।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার বলেন, গত বছর নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময়ে আমাদের তরুণরা ‘রাষ্ট্র মেরামতের’ দাবি তুলেছিল। সাম্প্রতিক নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, রাষ্ট্র মেরামতের বিষয়টি এখন সময়ের দাবি।

অনুষ্ঠানে সংস্কার প্রস্তাবে ১৯টি বিষয় তুলে ধরেন তিনি।

সুজনের সভাপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- প্রকৌশলী মুসবাহ আলীম, সুজনের জাতীয় কমিটির সদস্য ড. সিআর আবরার, ব্যারিস্টার রুহিন ফারহানা, আব্দুল্লাহ আল ক্বাফি রতন প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌পরিবর্তন

আরও পড়ুনঃ ‌বাংলাদেশে ধানক্ষেতে কোন কৃষক আগুন দেয় নাই; ঐটা ভারতের ঘটনাঃ মাহবুব-উল আলম হানিফ


আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র এখনও থামেনি। সুযোগ পেলেই তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। সর্বশেষ তারা ধানক্ষেতে আগুন দেয়া নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ‘শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও নারীর অগ্রযাত্রায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : শেখ হাসিনার অবদান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘বাংলাদেশে ধানক্ষেতে কোন কৃষক আগুন দেয় নাই। বাংলাদেশ কৃষকের ধানক্ষেতে আগুন দেয়ার যে ঘটনা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে সেটা বাংলাদেশের কোনো ঘটনা নয়। ভারতের পাঞ্জাবের একটি গমক্ষেতে অনেক আগে আগুন দেয়া হয়েছিল। সেই আগুনের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য যে, টাঙ্গাইলে ধানের দাম কম ও দিনমজুর না পাওয়ায় ধানক্ষেতে আগুন লাগিয়ে অভিনব প্রতিবাদ করেছিলেন টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক সিকদার। তিনি তার রোপণকৃত ধানে আগুন ধরিয়ে এমন প্রতিবাদ করেছিলেন।

টাঙ্গাইলে ধানের দাম কম ও দিনমজুর না পাওয়ায় ধানক্ষেতে আগুন লাগিয়ে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামের আব্দুল মালেক সিকদার।

ঘটনাটি সত্য এবং সারাদেশে আলোচিত হয়েছিল। এরপর সারা দেশে এইরকম প্রতিবাদের একাধিক ঘটনা ঘটে। কিন্তু আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ঘটনাটি অস্বীকার করে।

হানিফ আরো বলেন, আর জুটমিল শ্রমিকদের কীভাবে খুলনার একজন বিএনপি নেতা উসকিয়ে দিয়েছেন তা সবার জানা রয়েছে।

ধানক্ষেতে আগুন লাগার অপপ্রচার যারা চালাচ্ছে এবং পাটকল শ্রমিকদের যারা উসকিয়ে দিচ্ছে তাদের গ্রেফতার করে অবিলম্বে শাস্তির ব্যবস্থা করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের এই নেতা।

হানিফ বলেন, ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশে আজ নারীরা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। গ্রামে-গঞ্জে নারীরা আজ নানা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সফল হচ্ছেন। স্থানীয় সরকারের নেতৃত্বে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তারা অংশ নিচ্ছেন এবং নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে তারা নেতৃত্বে আসছেন।’ এসবই শেখ হাসিনার অবদান। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শ ধারণ করে সব নেতাকর্মীকে রাজনীতি করার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপিকা সুলতানা সফির সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, সাবেক নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, আওয়ামী লীগের নেত্রী জাকিয়া হাসান, ফজিলাতুনন্নেসা ইন্দিরা ও যুব মহিলা লীগের সভাপাতি নাজমা আক্তার প্রমুখ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

উৎসঃ ‌‌বাসস

আরও পড়ুনঃ ‌সরকারি ধান সংগ্রহে বাধা দেওয়ায় যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ইউএনওর মামলা


সরকারি ধান সংগ্রহে বাধা দেওয়া ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এক যুবলীগ নেতাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

বেলকুচি থানার ওসি আনোয়ারুল হক জানান, ইউএনও এসএম সাইফুর রহমান বাদী হয়ে বুধবার রাতে তাদের থানায় মামলাটি করেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। মামলার প্রধান আসামি সাজ্জাদুল হক রেজা বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম সাজেদুলের ছোট ভাই তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ধান ক্রয় সংক্রান্ত মনিটরিং কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বেলকুচির ইউএনও এসএম সাইফুর রহমান বলেন, “বুধবার বেলা ১১টার দিকে সাজ্জাদুল হকসহ ২০-২৫ জনের একটি দল উপজেলা অফিসে এসে আমার সঙ্গে আশালীন আচরণ করেন এবং ভয়ভীতি দেখান। সাজ্জাদুল তার নিজের করা তালিকা অনুযায়ী ধান সংগ্রহের হুমকি দেন।”

এ সময় সভায় উপস্থিত শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজাদ রহমান ঘটনার প্রতিবাদ করেন। তিনি এর নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন। সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “দলীয় লোকেরাই সিন্ডিকেট করছে। এর থেকে বেরিয়ে এসে প্রান্তিক চাষিদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করতে হবে।”

সভায় উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বলেন, “ধান ক্রয়ে যারা বাধা দেবে তারা দুষ্কৃতকারী। তাদের কোনো দল নেই। অভিযোগ পেলেই তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ বিষয়ে যুবলীগ নেতা সাজ্জাদুল হকের মোবাইলে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া গেছে।

উৎসঃ ‌‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ ‌জিয়াউর রহমান না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না : আবদুল্লাহ আল নোমান


বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ -আল নোমান বলেছেন, জিয়াউর রহমান না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা হতো না। তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন এদেশের কৃষক-মজুর সর্বশ্রেণির নেতা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ আয়োজিত বিএনপির প্রতিষ্ঠিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী ও মাহে রমজান উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।

সংগঠনের সভাপতি এম. গিয়াস উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু,সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ।

আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, এখন কৃষক ধানের উৎপাদন খরচ না পেয়ে ধানে আগুন দিচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষকের উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। কারণ তিনি উপলব্ধি করতেন, এদেশের কৃষক বাঁচলে এদেশ বাঁচবে, এদেশের মানুষ বাঁচবে।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌কৃষিকে সমৃদ্ধ করেছিল বিএনপি : আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, যে দেশের কৃষক তার ফসলের দাম পাবে না সে দেশের উন্নয়ন কখনো হবে না। তিনি বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন আমদানির চাইতে রফতানি বেশী হয়েছে; কিন্তু আজ কৃষক ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ফসলে আগুন দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় আব্দুস সালাম হলে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে এবং কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন এর পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

আমির খসরু বলেন, উৎপাদন খরচ না পাওয়ায় কৃষকের মাঝে এখন হাহাকার দেখা যাচ্ছে। আমাদের কৃষকদের পাশে দাড়াতে হবে।

চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের যে মনোভাব তাতে আন্দোলন সংগ্রাম ছাড়া বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব না। বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে। বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া বেগম জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজকে দেশের কৃষিতে যে উন্নয়ন হয়েছে তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে হয়েছে। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে কৃষকের কথা শুনেছেন, তাদের সাথে মাটি কেটেছেন। বাংলাদেশের বিপর্যস্ত অর্থনীতির পরিবর্তন ঘটিয়েছেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজনের) ১৮ সংস্কার প্রস্তাব


রাজনৈতিক সংস্কৃতি, নির্বাচনপদ্ধতি, সংবিধান সংশোধন, বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা, নির্বাচন কমিশন সংস্কারসহ ১৮টি প্রস্তাব দিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

এসব সংস্কার প্রস্তাবের আলোকে জাতীয় সনদ তৈরি করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। দেশের চলমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য এসব সংস্কার জরুরি বলে মনে করছে তারা।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও নাগরিক ভাবনা শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরে সুজন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংস্কার’ শিরোনামে প্রস্তাব পাঠ করেন সুজনের প্রধান সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। এতে বলা হয়, ১৯৯০ সালে তিন জোটের রূপরেখা স্বাক্ষর সফল হলেও ব্যর্থ হয়েছে তার বাস্তবায়ন। তিন জোটের রূপরেখার আদলেই নতুন জাতীয় সনদ স্বাক্ষর করতে উদ্যোগ নিতে হবে।

গোলটেবিলে অংশ নেওয়া সব বক্তাই সংস্কারের পক্ষে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। সবার শেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, রাষ্ট্রের মেরামত জরুরি হয়ে পড়েছে। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, এটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো কিছু একটা বের করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া সমস্যার সমাধান হবে না।

এম সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, উদার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে। সংক্রামক ব্যাধির মতো উগ্রপন্থীদের উত্থান ঘটছে বিশ্বজুড়ে। তাই এখানেও এমন শঙ্কা আছে।

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শাসনব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তাই আলোচনার মতামতের ভিত্তিতে সংস্কার প্রস্তাব সংশোধন করে সারা দেশে জনমত তৈরি করা হবে।

মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন বলেন, আইয়ুব খানের সময়ও অনেকটা স্বাধীনভাবে লেখা হয়েছে। এরশাদের সময়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ হয়েছে। অথচ আজ মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথাও স্পষ্ট করে বলা যায় না। নানান ধরনের চাপের মধ্যে থাকতে হয়।

বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, কোনো ধরনের বিরুদ্ধমত প্রকাশ করা যাচ্ছে না। দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জনগণের মূল্যায়ন কমে গেছে। কিন্তু জনগণের মধ্যে অসন্তোষ থাকলে কোনো উন্নয়ন টেকসই হবে না।

গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, সবার রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি করতেই সংস্কার করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক সি আর আবরার, সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রুমিন ফারহানা, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় সদস্য জাহেদ উর রহমান, সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল্লাহ আল ক্বাফি রতন প্রমুখ।

সুজনের সংস্কার প্রস্তাবে বলা হয়, মূল সংবিধানে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু সংবিধানের সেই অসাম্প্রদায়িক চরিত্র ধরে রাখা যায়নি। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ছিল একতরফা ও বিতর্কিত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ব্যাপক কারচুপি ও মানুষের ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ উঠেছে। আইন সংশোধন ও নির্বাচনপদ্ধতির পরিবর্তন করতে হবে। সংখ্যাগত দিক থেকে বিরোধীদের শক্তি যত সীমিতই হোক, তাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া আবশ্যক। বিচার বিভাগের সত্যিকারের পৃথককরণ ও আইনের শাসন কায়েম করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার জন্য প্রয়োজন কমিশন গঠন, আইন প্রণয়ন ও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টি, ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কার দাবিও তোলা হয়েছে প্রস্তাবে। এতে আরও বলা হয়, দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন বিলুপ্ত করা, জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে দলীয়করণের প্রভাবমুক্ত করা, ন্যায়পাল নিয়োগ করা, গণমাধ্যমের ওপর সব নিবর্তনমূলক বাধা-নিষেধের অবসান ঘটানো, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক সব ধারা সংশোধন করা এবং গুম, অপহরণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অবসানের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংস্কৃতির অবসান করা। ঋণখেলাপিসহ লুটপাটকারীদের পৃষ্ঠপোষকতার পরিবর্তে বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে সংস্কার প্রস্তাবে।

উৎসঃ ‌‌প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়ার মামলায় প্রভাব খাটানো হচ্ছে : রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা আশংকাজনক পর্যায়ে উপনীত হলেও সরকার তাকে মুক্তি দিচ্ছে না। অসত্য মামলাগুলোতে দেশনেত্রীর কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকার পরেও আইনী প্রক্রিয়ার ওপর নির্বাহী বিভাগের প্রভাব খাটিয়ে বেআইনীভাবে জামিন আটকিয়ে রাখছে। এই অবৈধ প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিহিংসা, দাম্ভিকতা ও জিদের জন্য বেগম জিয়াকে জোর করে কারারুদ্ধ করে রেখেছেন। নিজের সর্বময় কর্তৃত্ব নিরাপদ করার জন্যই ক্ষমতাতপস্বী শেখ হাসিনা কারাবন্দী করে রেখেছেন বেগম জিয়াকে।

সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর লন্ডনের বক্তৃতায় তিনি নিজেই সে কথা জানিয়েছেন। দেশনেত্রীর অসুস্থতার জন্য প্রধানমন্ত্রীই দায়ী। যেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু পরোয়ানা হাতে নিয়ে বসে আছেন শেখ হাসিনা। কারণ এক বছরের বেশী সময় ধরে নাজিমউদ্দিন রোডের স্যাঁতসেতে পরিত্যক্ত বসবাসের অযোগ্য ছায়ান্ধকার প্রকোষ্ঠে বেগম জিয়াকে রাখা হয়েছে শুধুমাত্র মানসিক ও শারীরিকভাবে কষ্ট দেয়ার জন্য। নির্জন কক্ষে একাকী তাঁকে থাকতে হয়। কারা নির্যাতনের কারণে তিনি চরম অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, এখন নতুন করে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে কেরানীগঞ্জের কারাগারে নিয়ে যাওয়ার যাবতীয় আয়োজন চালানো হচ্ছে চক্রান্তমূলকভাবে। কেরানীগঞ্জের মতো একটা উপজেলায় দেশনেত্রীর নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলাগুলো পরিচালনার জন্য আদালত স্থাপন করা হয়েছে-যা সম্পূর্ণ সংবিধান পরিপন্থি। সংবিধানে একজন নাগরিককে যে মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে বেগম জিয়ার সেই অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে, যেকোনো বিচার হতে হবে উন্মুক্তভাবে।

কারাগারের একটি কক্ষে বিচার হতে পারে না। কেরানীগঞ্জ উপজেলায় কারাগারের মধ্যে আদালত নিয়ে যাওয়া সংবিধানবিরোধী। পাশাপাশি ফৌজদারী কার্যবিধিতে (সিআরপিসি) স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, কোথায় কোথায় আদালত স্থানান্তরিত হতে পারে। তাতে উল্লেখ নাই কারাগারে কোর্ট স্থাপিত হতে পারে। সেজন্য সরকারকে বলবো দ্রুত এইসব হঠকারী ও হিংসাত্মক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এই মূহুর্তে মুক্তি দিন।

রিজভী বলেন, মিডনাইট সরকারের জুলুমে দেশের মানুষ চরম অশান্তিতে আছে। কৃষক-শ্রমিক, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী, দিনমজুর, প্রবাসী, কায়িক শ্রমজীবি কেউ ভালো নেই, চারদিকে ত্রাহি দশা। জালিমশাহীর বর্বর আঁচড়ে জর্জরিত জনগণ। পবিত্র রমজানেও ভাল নেই দেশের মানুষ, চারিদিকে হাহাকার চলছে। ১৭ কোটি মানুষের শুধু আর্তনাদ, কোথাও শান্তি নাই।

তিনি আরো বলেন, কৃষকরা মাঠের ধান ঘরে উঠাচ্ছেন না। মাঠেই ধান জ্বালিয়ে দিচ্ছেন, পাকা ধানে মই দিচ্ছেন। কি মর্মান্তিক এই দৃশ্য । বাংলাদেশের সবচেয়ে সৃজনশীল মানুষ কৃষকরা বিরতিহীনভাবে ধান-আলু-পেঁয়াজ-রসুন-টমেটো-উৎপাদন করছেন।

কিন্তু ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। ন্যায্য মূল্য দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই এই অবৈধ সরকারের নীতিতে নেই। কৃষক তার পাকা ধানের ক্ষেতে আগুন দেন, আর খাদ্যমন্ত্রী বলছেন, ‘এটা সরকারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’। হিরক রাজ্যের মতো কৃষকরাও মন্ত্রীর চোখে ষড়যন্ত্রকারী। কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘ধানের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলেও এই মুহূর্তে কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে দাম বাড়ানোর তেমন সুযোগ নেই।’ মন্ত্রীদের এধরণের কথাবার্তা বাংলাদেশের মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। অর্থাৎ দুর্ভিক্ষ শুরু হলেও তাদের কথায় মন্ত্রীদের কিছু করার থাকবে না।

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ধান কিনে ভর্তুকি দেওয়ার যে হিসাব সরকার করেছে, তা কৃষকের জন্যে নয়। ধান কেনার ভর্তুকির টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে মিল মালিকদের জন্যে। মিল মালিকরা ফড়িয়াদের দিয়ে কৃষকের কাছ থেকে ৪০০ বা ৫০০ টাকা মণ দরে ধান কিনে, সরকারি বিক্রয় কেন্দ্রে এনে তা ১,০৪০ টাকা মণ দরে বিক্রি করছে। ফড়িয়া এবং মিল মালিকরা সরকারি দলের লোক। সুতরাং রাষ্ট্রের ভর্তুকির টাকা কৃষকের নামে খরচ হলেও, পাচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

রিজভী বলেন, অর্থনীতিতে ধ্বস নেমেছে। রুপপুরে পারমানবিক প্রকল্পের মহাদুর্নীতি, এর আগে বড় পুকুরিয়া থেকে লাখ লাখ টন কয়লা উধাও, ‘বালিশ-কেটলী’ দুর্নীতিসহ নানা সেক্টরের দুর্নীতির সাগরচুরি এখন মহাসাগরচুরিতে পরিণত হয়েছে, এতে জনমনে আলোড়ন সৃষ্টি হলেও দুদক চোখ-কান বন্ধ করে বোবা-কালার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। র‌্যাব-পুলিশের মতো দুদকও বিরোধী দল দমনে সরকারের একটি মারণাস্ত্র হিসেবে কাজ করছে। ক্ষমতাসীনরা সাধারণ জনগণের গচ্ছিত টাকাগুলো নিয়ে কেউ মালয়েশিয়া, আমেরিকা, কেউ কানাডা, কেউ সিঙ্গাপুর পাচার করছে। বেগম পল্লী, সেকেন্ড হোম তৈরী করছে। এদিকে দেশে কোটি কোটি যুবক বেকার এবং প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ জীবিকাচ্যুত হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের দ্বারা।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকারের সাথে সাধারণ জনগণের কোন সম্পৃক্ততা নেই। গত নির্বাচনে আপনারা দেখেছেন কীভাবে ভোট হয়েছে। প্রার্থী ছিল আওয়ামী লীগ, ভোটার ছিল পুলিশ-বিজিবি। ভোট হয়েছে নিশুতি রাতে। ভোটের সাথে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা ছিলনা। এখন যারা জনপ্রতিনিধি তারা পুলিশ কর্তৃক সিলেক্টেড প্রতিনিধি, তারা জনগণের ম্যান্ডেটে নন। সুতরাং এই সরকার অন্ধকার রাতে পুলিশ-র‌্যাব কর্তৃক সিলেক্টেড সরকার। তাই দেশজুড়ে দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রুপ ধারণ করেছে। আওয়ামী স্বেচ্ছাচারী শাসনে উদ্ভুত মহাদুর্নীতির প্রবল চাপে গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদকে মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। অচিরেই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত না হলে এদেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানো যাবে না।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগের ধান কাটার ঘোষণায় আতঙ্কে কৃষকরা


খুন, ধর্ষণ, হত্যা, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, মাদক ব্যবসা, দখল-বাণিজ্য ও পদপদবী নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে ব্যাপকভাবে বিভিন্ন সময় সমালোচিত হয়েছে ছাত্রলীগ। তাই এসব সমালোচনা থেকে মুক্তি ও দুর্নাম গোছাতে কৃষকের ধান কেটে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে এই সংগঠনটি।

ছাত্রলীগের ভাষায়-ধান কাটার জন্য কৃষকরা মজুর পাচ্ছে না আর পেলেও বেশি মজুরী দিতে হচ্ছে। তাই কৃষকদের এই সংকটে সারাদেশে তাদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগের এই ঘোষণা নিশ্চয় প্রশংসার দাবি রাখে বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, আসলে এটাকেই বলে মানবসেবা। আর একটি ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণার গুরুত্বই আলাদা। কিন্তু সমস্যা হলো আস্থা-বিশ্বাস নিয়ে। ছাত্রীগের অতীত কর্মকাণ্ডে এমন কোনো রেকর্ড নেই যে তারা মানুষের সেবা করতে গিয়ে কোনো অপকর্ম করেনি। সহযোগিতার নামে ছাত্রলীগ মেয়েদের ধর্ষণ করেছে, জমি দখল করেছে, টাকা চুরি করেছে, ছিনতাই করেছে এমন ঘটনা অসংখ্য আছে।

দেখা গেছে, বিভিন্ন দুর্যোগ সময়ে ত্রাণ সহযোগিতার নামে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সরকারি কোষাগারের মালামাল নিজেরা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে গেছে। গরিবদের জন্য বরাদ্দ দুম্বার গোস্ত নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আছে।

তাই এসব কারণে, ছাত্রলীগের এই ধান কাটার ঘোষণায় শুধু শিক্ষাঙ্গন বা রাজনৈতিক অঙ্গন নয় কৃষকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ঘটানার পর কৃষকদের মধ্যে বড় একটি আতঙ্ক বিরাজ করছে। ধান কাটার পর আবার সেই ধান ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ব্যবসায়ীদের কাছে কম দামে বিক্রি করে টাকা নিয়ে যেতে পারে। অথবা পকেট খরচের কথা বলে ধানের একটি অংশও তারা নিয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্খা করছেন তারা।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌অগণতান্ত্রিক সরকার থাকলে কিছু আশা করতে পারি না : ড. কামাল


গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ধান উৎপাদনের জন্য কৃষককে এ ধরণের শাস্তি ভোগ করতে হবে তা কল্পনাই করা যায় না। এধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, কারণ সরকারের কৃষি নীতি নেই। তাছাড়া এ সরকার যা যা করবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল তা তারা মানেনি, মানছেও না। তারা ধান উৎপাদনের সময় বড় বড় কথা বলে, কিন্তু উৎপাদনের পরে সরকারের কি করণীয় তা করে না।

তিনি বলেন, এটা যে ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে তা নয়। সকল ক্ষেত্রেই সরকারের একটা দায়িত্বহীনতা লক্ষ্য করা গেছে। কোনো কিছুতেই এ সরকারের দায়িত্ববোধ নেই। কৃষকের ধান কেনাসহ নাগরিকের ব্যাপারেও সরকারে দায়িত্বহীনতা স্পষ্ট। এজন্য সরকার যেনতেনভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। দেশে যদি এধরণের একটি অগণতান্ত্রিক সরকার থাকে তার কাছ থেকে কিছু আশা করতে পারি না।

আজ গণফোরামের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। এতে লিখিত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ।

এদিকে কৃষকের ধানের ন্যায্য মূল্যের দাবি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, একটি অনির্বাচিত সরকারকে এভাবে গ্রহণ করায় সকল মানুষকে এভাবে মূল্য দিতে হচ্ছে। এজন্য দরকার দ্রুত নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি বলেন, এরা কি করে বলে তারা পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতা পেয়ে গেছে? এটা মানুষকে কিভাবে যে অবজ্ঞা করছে।

তিনি বলেন, আমাদেরর দুর্ভাগ্য এমন সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে হচ্ছে, সইতে হচ্ছে। তাই দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে জাতিকে এগিয়ে নেয়া। দেশের মানুষকে অবশ্যই ঐকবদ্ধ হতে হবে। সরকারে এসব ব্যর্থতাগুলোকে সামনে নিয়ে তারা ঐক্যবদ্ধ হবে। গণতন্ত্রের জন্য তারা শক্তি প্রয়োগ করে সে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। কারণ গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতা না থাকায় অসাধারণ মূল্য দিতে হচ্ছে আমাদেরকে। তাই আসুন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করি। এতে একটা জবাবদিহিতামূলক সরকার হবে। অবাধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করি।

এ দিকে লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ বলেন, সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। তাদের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস নেই। কেননা জনগণের অধিকার যারা হরণ করেছে, তারা জনগণের উপর আস্থা রাখবে কিভাবে।

সংবাদ সম্মেললনে দলের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, এ সরকার কৃষকের প্রতি সহানুভূতিশীল নয়। তারা ঋণখেলাপী বা শেয়ার মেনিপুলেটকারীদের সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে এলেও কৃষকের সাহায্যে একেবারেই নিরব।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ, মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ, মোশতাক আহমেদ, খান সিদ্দিকুর রহমান, ফরিদা ইয়াছমীন, মাহমুদ উল্লাহ মধু।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌কৃষকের পাকা ধানে আগুন জাতির জন্য লজ্জাজনক: ড. খন্দকার মোশাররফ


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, দেশে গণতান্ত্রিক সরকার নেই বলে কৃষকের কপাল পুড়েছে। কৃষক ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচও পাচ্ছে না। তাই বিক্ষুব্ধ কৃষক মনের দুঃখে পাঁকা ধান ক্ষেত আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছে। এটি জাতির জন্য চরম লজ্জা ও দুর্ভাগ্যজনক।

বুধবার রাজধানীর শনির আখড়ায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে ইফতারপূর্ব এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকাস্থ হোমনা উপজেলা জাতীয়তাবাদী ফোরাম এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

মোশাররফ বলেন, সরকার চাল রফতানির চিন্তা করছে, অন্যদিকে আমদানিও করছে। চাল মজুত যদি পর্যাপ্তই থাকে তাহলে আবার আমদানি কেন? অথচ কৃষককে ধানের ন্যায্য মূল্য দিতে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। এতে করে আগামীতে কৃষক ধান উৎপাদন করবে না। দেশ হবে চাল আমদানি নির্ভর। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। যা দেশের জন্য অশনিসংকেত।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, দেশের প্রতিটি স্তরে অস্থিরতা চলছে। সরকারের কোথাও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, জবাবদিহিতা নেই, স্বচ্ছতা নেই। সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই বলে রূপপুর প্রকল্পে কেনাকাটার নামে চলছে অবাধে লুটপাট। মন্ত্রী-এমপিরা পাশ কাটিয়ে যে যার মতো বলছে, যা ইচ্ছা তা করছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা সরকারের নির্দেশ মানছে না। প্রশাসনে এক জগাখিচুড়ী অবস্থা বিরাজমান। আওয়ামী লীগ অলিখিত বাকশাল ও স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ চালাচ্ছে। পৃথিবীতে কোনো স্বৈরাচার স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়েনি, আওয়ামী লীগও ছাড়বে না। আন্দোলন করে তাদের হটাতে হবে।

মোশাররফ হোসেন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছেন এটাই তার বড় অপরাধ। তিনি সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। সরকারের হস্তক্ষেপে খালেদা জিয়ার জামিন দেয়া হচ্ছে না। কারান্তরীণ রেখে তার জীবন বিপন্ন করছে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য আগে গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে এই সরকারকে বাধ্য করা হবে।

সংগঠনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- শ্রমিক দলের একেএম ফজলুল হক মোল্লা, কাউন্সিলর আলহাজ্ব মো. জুম্মন মিয়া, মো. মহিউদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, ব্যারিষ্টার সাইফুল ইসলাম উজ্জল, ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম সরকার প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌কামরুলই সরকারকে বেকায়দায় ফেলেছে: আ’লীগ নেতা রমেশ চন্দ্র সেন


আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন বলেছেন, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামই সরকারকে বেকায়দায় ফেলেছে। বিদেশ থেকে প্রচুর চাল আমদানি করায় সরকার বিপদে পড়েছে।

বুধবার বিকালে ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান ও গম সংগ্রহ অভিযান শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. বাবুল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুনাংশু দত্ত টিটো, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, দেশে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার পরও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী থাইল্যান্ড ও ভারত থেকে প্রচুর চাল আমদানি করেছে। এর ফলে সরকার বেকায়দায় পড়েছে।

তিনি বলেন, দেশে ২৪ লাখ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। তার পরেও চাল আমদানি করা হচ্ছে। জায়গার অভাবে চাহিদা মতো ধানচাল কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

এ সময় কৃষকদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের এই বর্ষীয়ান নেতা বলেন, কৃষকরা ধান ঘরে রেখে দেন। আগামী বছর ধানের ভালো দাম পাবেন।

তিনি জানান, এ বছর জেলা থেকে লটারি করে ভাগ্যবান কৃষকের কাছে চলতি মৌসুমে ১৮৫৭ মেট্রিকটন ধান ও ৩০ হাজার ৬১৯ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহ করা হবে। আর ভাগ্যবান কৃষকদের কাছ থেকে গম সংগ্রহ করা হচ্ছে ৬ হাজার ৬১৯ মেট্রিকটন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ধানক্ষেতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত? কাদেরকে শেখ হাসিনার তদন্তের নির্দেশ!


ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষেতে আগুন দেয়ার ঘটনা কেন ঘটেছে তা তদন্ত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। অথচ, কৃষকরা কেন ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না -সেটা নিয়ে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বা আওয়ামীলীগের কোন নেতাকর্মীদের মাঝে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই। উল্টো তারা এখন সেই কৃষককেই সন্দেহ করছে।

বুধবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের এই তদন্তের নির্দেশনার কথা জানান।

এর আগে তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাসের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ধানক্ষেতে আগুন দেয়ার ঘটনাগুলো স্যাবোটেজ কিনা, কোনোভাবে এটা সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য কেউ বিষয়টা… কৃষক সংকট উদ্ভব হয়! কিন্তু এভাবে আগুন জ্বালিয়ে ধানক্ষেতে, এসব ঘটনাগুলো বিশেষ বিশেষ জায়গায় ঘটছে কেন, এটা তদন্ত করে জানাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয়ভাবেও আমরা খোঁজ-খবর নেবো।

তিনি আরও বলেন, সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান করতে হবে। একটা সমস্যা হয়েছে, আগুন জ্বালিয়ে, ধান পুড়িয়ে এ সমস্যার সমাধান তো হবে না।

সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকার কখনও চাইবে না আমাদের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। কৃষকদের স্বার্থবিরোধী, কৃষকবান্ধব সরকার কখনও করবে না। শেখ হাসিনার সরকার এ ব্যাপারে আন্তরিক। এসব বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। এখানে যে সমস্যার উদ্ভব হয়েছে, এর বাস্তবসম্মত সমাধানে উদ্যোগী সরকার।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হওয়ায় বাংলাদেশে অর্থসাহায্য ছাড়ে কংগ্রেসে আপত্তি


২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপকভিত্তিক কারচুপির অভিযোগ ও মানবাধিকার পরিস্থিতিতে অসন্তোষ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে মঙ্গলবার বিল উত্থাপিত হয়েছে। বিলটি উত্থাপন করেন নিউ ইয়র্ক থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস ওমেন ও হাউজ অ্যাপ্রিসিয়েসন কমিটির চেয়ারপারসন নিতা সুই ম্যালনিকফ লাউয়ি।

স্টেইট, ফরেন অপারেশন এবং রিলিটেড পোগ্রামস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন বিল-২০২০ শিরোনামে উত্থাপিত বিলের ১১১ পৃষ্ঠায় বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিগত নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে বিলে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এ বিলটি পাশের ৪৫ দিনের মধ্যে ইউএসএইডের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে কমিটিতে বাংলাদেশের ২০১৮ সালের নির্বাচন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠাবেন।

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের মানবাধিকায় সুরক্ষায় সরকারের সমর্থন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশ, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সরকার কি কাজ করছে এ বিষয়ে বিল পাশের ৪৫ দিনের মধ্যে কমিটিতে প্রতিবেদন পাঠাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেয়া হয়।

বিলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউএসএআইডির শীর্ষকর্তাকে এ মর্মে নির্দেশ দেয়া হয় যে, মিয়ানমার থেকে ছুটে আসা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্যের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিক, চিংড়ি ও মৎস শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়নে অর্থছাড়ের বিষয়ে বিলে নির্দেশ দেয়া হয়। বিলটি এ মাসের মধ্যেই পাশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিলে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে যেভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কমিটিতে প্রতিবেদন পাঠানোর কথা বলা হয়েছে তাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউএসআইডির মাধ্যমে যে অর্থ সাহায্য বাংলাদেশে বরাদ্দ ছিল তা ব্যাপক হারে কমে আসবে বলে মনে করছেন ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকরা।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌রূপপুর প্রকল্পে মালির বেতন ৮০ হাজার, গাড়ি চালকের ৯৩ হাজার টাকা অকল্পনীয় লুট পাট!


দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মিত গ্রিনসিটিতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয়ে লাগামছাড়া দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হয়েছে।

একটি বালিশের পেছনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা। এর মধ্যে এর দাম বাবদ ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা আর সেই বালিশ নিচ থেকে ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ ৭৬০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি টাকায় আকাশ সমান দামে এসব আসবাবপত্র কেনার পর তা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে তুলতে অস্বাভাবিক হারে অর্থ ব্যয়ের এ ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদফতরের পাবনা গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

শুধুমাত্র আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে ওঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। এরই মধ্যে নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, এই প্রকল্পের সব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরও কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরে চূড়ান্ত করা হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ।

এই প্রকল্পের প্রকল্প-পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে চার লাখ ৯৬ হাজার টাকা। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন, এজন্য আরও দুই লাখ টাকা পাবেন। সব মিলিয়ে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা। অথচ প্রধানমন্ত্রীর সম্মানি এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর সম্মানির ছয়গুণেরও বেশি পাবেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক।

পাশাপাশি গাড়ি চালকের বেতন ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, যা একজন সচিবের কাছাকাছি। বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। রাঁধুনি আর মালির বেতন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গাড়ি চালক, রাঁধুনি আর মালির এই পরিমাণ বেতন ধরা হয়েছে।

একইভাবে উপ-প্রকল্প পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালকসহ অন্য সব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরও কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার এ-সংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ওঠার কথা রয়েছে। পাস হওয়ার পর ব্যয়ের দিক থেকে এটিই হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রকল্প, যা পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রায় চার গুণ।

প্রকল্পটির বিভিন্ন খাতের অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। ১২ খাতে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়ে সুস্পষ্ট জবাবও চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

ডিপিপি অনুযায়ী, ৩৬৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ও ভাতা হিসেবে ৬৯৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বেতন ৩৬ শতাংশ এবং ভাতা ধরা হয়েছে ৬৪ শতাংশ। সরকারি বেতন কাঠামোর গ্রেড অনুসরণ না করে ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প পরিচালকসহ ১৬টি পর্যায়ে বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা বেতন, যা সচিবের বেতনের প্রায় নয় গুণ।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক পাবেন তিন লাখ ৬৩ হাজার টাকা। তিনি প্রকল্পের স্টেশন ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এজন্য অতিরিক্ত এক লাখ ৮০ হাজার টাকা পাবেন তিনি। এতে তার মোট বেতন দাঁড়াবে পাঁচ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, যা প্রধানমন্ত্রীর বেতনের প্রায় ৪ দশমিক ৭২ গুণ।

প্রকল্পের রাশিয়া অফিসের পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে তিন লাখ ২১ হাজার টাকা করে। প্রকল্পের সাত বিভাগের সাতজন প্রধানের বেতনেও তিন লাখ ২১ হাজার টাকা। কারিগরি ও প্রশাসনিক অন্যান্য পদের বেতনও অনেক বেশি ধরা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পদেও এসব ব্যক্তি কাজ করবেন। এজন্য তারা অতিরিক্ত বেতন-ভাতা পাবেন।

বেতনের বাইরে বার্ষিক সর্বোচ্চ তিন মাসের মূল বেতনের সমান চিকিৎসা ভাতা, মাসিক তিন থেকে ছয় হাজার টাকা যাতায়াত ভাড়া, মাসিক ১০ থেকে ১৫ হাজার সন্তানদের শিক্ষাভাতা, মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে মাসিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেজস্ক্রিয় ভাতা এবং ২০ শতাংশ হারে শিফট ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির কর্মকর্তা পর্যায়ে সর্বনিম্নে বেতন ধরা হয়েছে এক লাখ তিন হাজার টাকা। বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা প্রতি মাসে এ হারে বেতন পাবেন। এর বাইরে তিনি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৪৫ হাজার টাকা বেতন পাবেন। অর্থাৎ তার মোট বেতনের পরিমাণ দাঁড়াবে এক লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এতে তার বেতন রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী এমনকি রাষ্ট্রপতির চেয়েও বেশি পড়বে।

প্রকল্পটির গাড়ি চালকের বেতন ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, যা একজন সচিবের কাছাকাছি। বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। তবে প্রকল্পটির গাড়িচালকরা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বও পালন করতে পারবেন। এতে আরও ১৮ হাজার টাকা পাবেন গাড়িচালকরা। এতে তাদের বেতন দাঁড়াবে ৯১ হাজার ৭০৮ টাকা। প্রকল্পটির সর্বনিম্ন বেতন রাঁধুনি বা মালির। প্রকল্প থেকে তিনি বেতন পাবেন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। আর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালন করলে অতিরিক্ত পাবেন ১৬ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তার বেতন পড়বে ৭৯ হাজার ৭০৮ টাকা, যা সচিবের বেতনের চেয়েও বেশি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন, প্রকল্পটির বেতন-ভাড়া সরকারি স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন ও অনিয়ন্ত্রিত। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অন্যান্য ব্যয় নিয়েও এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাবতা যাচাই স্পষ্ট নয়, ইআইএ নিয়ে লুকোচুরি, স্পেন্ট ফুয়েল (অবশিষ্ট তেজস্ক্রিয় জ্বালানি) ইস্যুর সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আগে প্রকল্পের ব্যয়সহ বিতর্কিত ইস্যুগুলো সমাধান করা দরকার। এর পর প্রকল্প অনুমোদন পর্যায়ে যাওয়া উচিত।

সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ (মূল পর্যায়) প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ৯ বছর মেয়াদি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। রাশিয়ান ফেডারেশনের স্টেট এক্সপোর্ট ক্রেডিট হিসেবে দেবে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। বাকি ২২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা দেয়া হবে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। এর মধ্যে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যয় নিয়ে আপত্তি তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (প্রাথমিক পর্যায়) প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর বলেন, পরিকল্পনা কমিশন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবে কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এতে সংস্থাটির নিজস্ব যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রকল্পের কোনো খাতেই অযৌক্তিক ব্যয় ধরা হয়নি। আর কর্মকর্তাদের বেতন নিয়ে যে কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। এখানে আকর্ষণীয় বেতন না দিলে কেউ চাকরি করতে আসবে না। সব দিক বিবেচনা করেই এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে সব প্রশ্নের জবাব কমিশনে তুলে ধরা হবে।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here