দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বাড়ছে, অ্যান্টিবায়োটিকের রঙ লাল করার পরামর্শ

0
178

দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বাড়ছে। আর অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে এটি মানবদেহের জন্য খুবই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। তাই অ্যান্টিবায়োটিকের রঙ লাল করার পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। তিনি মানবজমিরনকে বলেন, এটা করে সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে যে, এই লাল রঙ আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই খাবেন না। অ্যান্টিবায়োটিককে এক প্যাকেটে রাখতে হবে।

এর গায়ে নিয়ম লিখা থাকবে যে ৮ ঘণ্টা পর পর এটি খাবেন। অ্যান্টিবায়োটিকের গুরুত্ব, ভয়াবহতা ও করণীয় সম্পর্কে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিষয়ের পাঠ্যপুস্তুকে এক পাতায় শিক্ষার্থীদের জন্য লিখতে হবে। এসব শ্রেণীতে প্রতিটি চূড়ান্ত পরীক্ষায় এই সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন রাখার পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ। ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দেন দোকানদার।

যার মধ্যে ৯০ ভাগ অপ্রয়োজনীয়। প্রয়োজন হলেও তারা চিকিৎসক না হওয়ায় অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ডোজটা দিতে পারছেন না বা সম্পূর্ণ ডোজ দিচ্ছেন না। চিকিৎসক নন কিন্তু চিকিৎসা করেন এমন প্যারামেডিকস, পল্লী চিকিৎসকরাও ভুল ডোজে অ্যান্টিবায়োটিক দিচ্ছেন।

চিকিৎসক নন কিন্তু নিজেদের চিকিৎসক দাবি করেন এমন লোকের সংখ্যা দেশে লক্ষাধিক। যারা নামের আগে ডাক্তার লিখেন। লোকেও মনে করে তারা ডাক্তার। তাদের আমরা বলি কোয়াক। এরা পল্লী চিকিৎসক। এদের নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সারা দেশে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ লাখ অ্যান্টিবায়োটিক আড়াই লাখ দোকান থেকে দেয়া হয়। দিনে যদি তারা চার থেকে পাঁচজনকে অ্যান্টিবায়োটিক দেয় তাহলে আনুমানিক উল্লিখিত অ্যান্টিবায়োটিক একদিনে দেয়া হচ্ছে। যাদের এ সম্পর্কে ভাল ধারণা নেই। এটা বন্ধ করতে হবে। এছাড়া মুরগি ও মাছকে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ কোটি অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হয়। তাও বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে মুরগি, গরু এবং ছাগলের মাংস থেকেও মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করছে। এ অবস্থা অবশ্যই আতঙ্কজনক। এ চিকিৎসক বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের বিষয়ে প্রথম কথা হচ্ছে ‘সাধারণত রেজিস্ট্যান্সের ড্রাইভিং ফোর্স কত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয় তার উপর দেখা হয়। কারণ ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে দেখা হলে ব্যাকটেরিয়ার একটা স্থিতি তৈরি হয় এবং সেই স্থিতিটাই আসলে রেজিস্ট্যান্স। ব্যাকটেরিয়া বাঁচার পদ্ধতিটা শিখে ফেলে। যেহেতু প্রতিদিন এই রকম লাখ লাখ অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হচ্ছে তাই ব্যাকটেরিয়াগুলোর সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর দেখা হচ্ছে এবং ব্যাকটেরিয়াগুলো অ্যান্টিবায়োটিককে চিনে ফেলছে। তাদের মধ্যে কোনও কোনও ব্যাকটেরিয়া বাঁচার একটা নিয়ম শিখে ফেলছে এবং তারা যখন লাখ লাখ কোটি কোটি হয়ে যায় তখন আর অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। তখন আর ব্যাকটেরিয়াগুলো সেই অ্যান্টিবায়োটিকে মারা যায় না। যতবেশি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হবে তত বেশি সমস্যা বাড়ে। বাংলাদেশে যেহেতু কোনও প্রয়োজন ছাড়াই বেশি ব্যবহার হচ্ছে তাই আমাদের এই ড্রাইভিং ফোর্সটাকে প্রথমে কমাতে হবে। দ্বিতীয়ত বাংলাদেশে মুরগি পালনে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে। প্রায় ২৪টার মতো অ্যান্টিবায়োটিক আছে যা মুরগি পালনে ব্যবহার হচ্ছে।

এর মধ্যে তিন ধরনের কোলিস্টিন, সিপ্রোফক্সাসিন, এজিথ্রোমাইসিন মুরগিকে প্রতিদিন খাওয়ানো হচ্ছে। বড় প্রাণীর ক্ষেত্রেও মাঝে মাঝেই দেয়া হচ্ছে। মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক সকাল বেলায় পানির সঙ্গে দেয়া হয় যেন মুরগির ইনফেকশন না হয়। মানে মুরগির যেন মহামারি না লাগে। সুস্থ মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হচ্ছে যেন অসুস্থ না হয়। এর ফলে সেই মুরগি অসুস্থ হয় না, মুরগির মলমূত্রের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক পানিতে যায় এবং পানির সঙ্গে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলোর সঙ্গে দেখা হয় এবং তারাও রেজিস্ট্যান্স হয়ে যায়। ওরা এরপরে জিন পাঠিয়ে দেয় মানুষকে যে ব্যাকটেরিয়াগুলো আক্রমণ করবে সেই ব্যাকটেরিয়াকে। ফলে সেই ব্যাকটেরিয়াগুলো মানুষকে পরবর্তীতে আক্রমণ করে। কিন্তু মুরগিতে ব্যবহার করার কারণে সেই মানুষটি যখন আক্রান্ত হলো তখন সেই ব্যাকটেরিয়া দিয়ে আর সিপ্রোফক্সাসিন, কোলিস্টিন কাজ করবে না। দেশের কোটি কোটি মুরগিকে সকাল বেলা পানির সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হচ্ছে। এটাকে আমরা বলি সিলেক্টিভ প্রেসার। দুর্বল ব্যাকটেরিয়াগুলো মারা যায় এবং সবল ব্যাকটেরিয়াগুলো বেঁচে যায়। তাই অন্তত এই তিনটি অ্যান্টিবায়োটিক মুরগিকে দেয়া বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, কোনও ব্যাকটেরিয়ার সেনসিটিভিটি কেমন তার টেস্ট হয় দেশের মাত্র ১০ থেকে ১২টা জায়গায়। এর ফলে যেটা হচ্ছে প্রায় ৫০টা জেলায় কোনও ব্যাকটেরিয়ার সেনসিটিভিটি কেমন সেটা না জেনে ডাক্তারদের বই থেকে পড়া জ্ঞান দিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক রোগীকে দিতে হয়। এতে ব্যাকটেরিয়ার রেজিস্ট্যান্স প্রতিদিন বদল হয়। কিন্তু ডাক্তাররা এটার ব্যাপারে সচেতন নয়। তারা ধরে নেন মানুষ তো আগে অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে এসেছে। তারা অকারণে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি শক্তিশালী নতুন বা ঝুঁকিপূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন। তারা যে কারণটা বলেন যে, আগে অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েছে। এটা আসলে খুবই ভুল যুক্তি। এই যুক্তিতে কখনও অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া যায় না। দেখা উচিত ছিল সেনসিটিভিটি। তাই দেশের ন্যূনতম সব জেলা সদর হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। অন্তত অঞ্চলভিত্তিক মেডিকেল কলেজগুলোতে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হোক। কিংবা যেসব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা হচ্ছে সেই তথ্য প্রকাশ করতে হবে। তাহলে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কোনটা এখন রেজিস্ট্যান্স হয়ে গেছে, কোনটা এখন ব্যবহার করতে হবে।

ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, চিকিৎসকের পড়ার ক্ষেত্রে মাত্র দুই ভাগ অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে পড়ানো হয়। এটা বাড়িয়ে ২৫ ভাগ করলে চিকিৎসকরা সচেতন হবেন। মেডিক্যাল কারিকুলামে আন্ডারগ্রাজুয়েট এবং পোস্ট গ্রাজুয়েটে এটার গুরুত্ব বাড়ানো উচিত। একই সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের নীতিমালা সবখানে করতে হবে।

আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) রোগীর ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে শঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের বেসরকারি হাসপাতাল থেকে বিএসএমএমইউতে যেসব রোগী আসেন তাদের লিভার ও হার্ট ফেইলিয়র থাকে। রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা আগে থেকেই তৈরি হয়। তার কমেপ্রামাইজ ফাংশনের কারণে রোগী যখন ব্যাকটেরিয়া দিয়ে ইনফেকটেড হয় তখন সেই ব্যাকটেরিয়াগুলো তিনি অন্য হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসেন। আইসিইউতে ৩ থেকে ৭ দিন থেকে টাকার অভাবে এখানে আসেন রোগী। জটিলতম কেস। আইসিইউ সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ তবে বলা যাবে না যে এই ব্যাকটেরিয়ার কারণে রোগী মারা গেছেন। কিন্তু তাদের ব্যাকটেরিয়ার কালচার যদি আমরা দেখি, দেখা যাবে যে ওই সময় ড্রাগের বিরুদ্ধে ৮০ ভাগ রেজিন্ট্যান্স ছিল। যতজন মারা যায়, তার মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ রেজিস্ট্যান্ট পাওয়া যাবে সেটা হয়তো বেশিরভাগই এই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত। তবে এই ব্যাকটেরিয়ার কারণেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে এটা বলা যাবে না। কারণ আগে থেকেই রোগী ঝুঁকিতে ছিল। তিনি বলেন, আইসিইউতে মারা যাওয়া প্রতি ১০ জনের আটজনের ক্ষেত্রে দেখা যাবে, নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া রেজিস্ট্যান্স ছিল।

উৎসঃ ‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌গণপরিবহনে হত্যা-ধর্ষণ বাড়ছে আতঙ্ক


মাত্র শুরু হয়েছিল তানিয়ার জীবন। পরিবারের স্বপ্নগুলোও বড় হচ্ছিল তাকে ঘিরে। চাকরি করতেন ইবনে সিনা হাসপাতালে। বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদিতে। ঢাকা থেকে রওনা হয়েছিলেন বাড়িতে। বাসে বসে শাহিনুর আক্তার তানিয়া বাবাকে ফোনে বলেছিলেন, এই তো চলে আসছি। না তার আর যাওয়া হয়নি। বাসের ড্রাইভার-হেলপারসহ এক দল নরপিশাচ তাকে হত্যা করেছে ধর্ষণ শেষে।

কিন্তু এই ধরনের ঘটনা আর কত? এর শেষ কোথায়? গণপরিবহনে আর কত নারী ধর্ষণ-হত্যা-হয়রানির শিকার হবেন?

২০১৮ সালে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যান সমিতি প্রকাশিত রিপোর্টে ১৩ মাসে গণপরিবহনে ২১ নারী ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা বলা হয়। বাস, প্রাইভেট কার, অটোরিকশা ও ট্রাকে এসব ঘটনা ঘটে। গণপরিবহনের চালক-হেলপারসহ সহযোগীরা মিলে ৯টি গণধর্ষণ, ৮টি ধর্ষণ ও ৪টি শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটিয়েছে। এসব ঘটনায় ৫৫ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। যদিও সংস্থাটির মহাপরিচালক মোজাম্মেল হক চৌধুরী মনে করেন, বাস্তবে গণপরিবহনে ধর্ষণের ঘটনা আরো বেশি। তিনি বলেন, রুপা গণধর্ষণ-হত্যাসহ আগের ঘটনাগুলোর যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা হতো এবং গণপরিবহনের মালিকরা যদি শ্রমিকদের যথাযথভাবে সচেতন করতে পারতেন তাহলে এ ধরনের ঘটনা কমে আসতো।

গত বছর অ্যাকশন এইডের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশের শতকরা ৮৮ জন নারী রাস্তায় চলার পথে যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্যের মুখোমুখি হন। এদের মধ্যে ৮৬ ভাগ গণপরিবহণের চালক ও হেলপারদের দ্বারা হয়রানিমূলক মন্তব্যের শিকার হন।

বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে আইনের কঠোর প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন। সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন নারীদেরও। অপরাধ বিজ্ঞানি তৌহিদুল হক বলেন, গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই বিঘ্নিত হচ্ছে।

গত বছর বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যম চলন্ত বাসে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টার ২০টি ঘটনা পর্যালোচনা করে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ২০১৩ সালে দুটি, ২০১৫ সালে চারটি, ২০১৬ সালে তিনটি, ২০১৭ সালে ছয়টি এবং ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচটি ঘটনা প্রকাশিত হয়। অপরাধ সংঘটনের স্থান বিশ্নেষণে দেখা যায়, ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি এ ধরনের অপরাধ হয়েছে। পরে টাঙ্গাইলে চারটি, ময়মনসিংহে দুটি, চট্টগ্রামে দুটি; বরিশাল, হবিগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও নোয়াখালীতে একটি করে ঘটনা ঘটেছে। অর্ধেক ঘটনাই মহাসড়কে, ২৫ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে এবং ২৫ শতাংশ রাজধানী বা নগরীর অভ্যন্তরীণ সড়কে। অপরাধ সংঘটনস্থল সাধারণত স্টেশন থেকে দূরে ছিল, যেখানে পথচারী বা টহলরত পুলিশ কম থাকে। ঘটনা মাঝারি পাল্লার বাসে বেশি ঘটেছে। যার পরিমাণ ৩৫ শতাংশ। পরে যথাক্রমে আন্তঃশহরে ৩০ শতাংশ, স্বল্প দূরত্বের লোকাল বাসে ২০ শতাংশ ও দূরপাল্লার সিটিং বাসে ঘটেছে ১৫ শতাংশ। মোট ২১ জন ভিকটিমের মধ্যে ১৩ জনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, পাঁচজনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণচেষ্টা এবং তিনজনকে একক ধর্ষণ করা হয়েছিল।

এদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। প্রায় ৫০ শতাংশ ঘটনায় ভিকটিমকে চলন্ত অবস্থায় যানবাহন থেকে ফেলে দিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। অপরাধ সংঘটনে প্রায় ৫৫ শতাংশ ঘটনায় দুই-তিনজন, ৩৫ শতাংশ ঘটনায় চার-পাঁচজন এবং ১০ শতাংশ ঘটনায় ছয় বা ততোধিক ব্যক্তি অংশ নিয়েছে ।

অপরাধ সংঘটনকারীদের বয়স অধিকাংশেরই ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। কিছু সংখ্যক ৩৬ বা মধ্যবয়সী। অধিকাংশ ঘটনায় কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিবহন কর্মীরা যেমন ড্রাইভার, সুপারভাইজার ও সহযোগীরা জড়িত ছিল। কিছু ঘটনায় অন্য পরিবহনের শ্রমিক বা পেশাগত অপরাধীরা অংশগ্রহণ করেছিল।

রুপা গণধর্ষণ-হত্যার বিচার হয়নি আজো: ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা শেষে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে মেধাবী তরুণী রুপাকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা। পরে চলন্ত বাসেই তাকে হত্যার পর মধুপুর পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে ফেলে রেখে যায়। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় মহিলা হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে রূপার লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা করে। পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে নিহতের ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় তাকে শনাক্ত করেন। ২০১৮ সালের ২৮শে আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার আসামিরা প্রত্যেকেই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে আটক রয়েছে। দেশ কাঁপানো টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের আসানবাড়ী গ্রামের কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয় গত বছর। রূপাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে চার জনের ফাঁসি ও একজনের সাত বছরের কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় দেন।

গণপরিবহনে গণধর্ষণের আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের শুভেচ্ছা পরিবহনের চলন্ত বাসে নারী ধর্ষণ, ২০১৫ সালের ১২ মে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে বাসচালক ও চালকের সহকারী মিলে চলন্ত বাসে পোশাক কর্মী ধর্ষণ। ঢাকায় এক গারো তরুণীকে চলন্ত মাইক্রোবাসে ধর্ষণ। ২০১৬ সালের ২৩ জানুয়ারি বরিশালে সেবা পরিবহনের একটি বাসে পাঁচ পরিবহন কর্মী মিলে দুই বোনকে ধর্ষণ। ওই বছরের ১লা এপ্রিল টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী থেকে ঢাকাগামী বিনিময় পরিবহনের একটি বাসে ধর্ষণের শিকার এক পোশাক কর্মী। ও ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি ময়মনসিংহের নান্দাইলে বাসে এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

কী বলছেন বিশ্লেষকরা: অ্যাকশন এইডের ব্যবস্থাপক ও নারী অধিকারকর্মী কাশফিয়া ফিরোজ মানবজমিনকে বলেন, প্রথমত আমাদের নিদৃষ্ট কোনো ট্রান্সপোর্ট গাইডলাইন নেই। আমাদের সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে জেন্ডার রেসপনসিবলের ওপর ট্রান্সপোর্টেশন গাইডলাইন থাকতে হবে। ট্রান্সপোর্ট অথরিটি এই ইস্যুটিকে কিভাবে চিহিৃত করছে সেটাও দেখার বিষয়। এই ধরণের ঘটনায় প্রচলিত আইনে সাজা হয়ে থাকে। কিন্তু আমরা চাই ইস্যুটি সুনিদৃষ্ট করে চিহৃত করা হোক। যেটা আমরা এখন পর্যন্ত দেখিনি। এছাড়া বিভিন্ন পরিবহনকে লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে মনিটরিং এর ব্যবস্থা থাকতে হবে। কোনো একটা পরিবহনে এমন ঘটনা ঘটার পর হুট করে তার লাইসেন্স বাতিল করে দিলাম। এটা না করে বরং লাইসেন্স দেয়ার সময়ই এ বিষয়ে মালিক পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ। যে আমার কোম্পানি এই শর্তগুলো মেনে নিয়ে আমরা লাইসেন্সটা নিচ্ছি। পরিবহণ সেক্টরে যে ড্রাইভার এবং হেলপার আছে তাদের জন্য অবশ্যই একটা ওরিয়েন্টেশন ও ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। এটা হতে পারে জেন্ডার ইস্যুতে ট্রেনিং। কিংবা তাদের পরিবহনে যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে তাদের করনীয় কি। এক্ষেত্রে একটি হটলাইন নাম্বার প্রত্যেকটি পাবলিক বাসের মধ্যে দেয়া যেতে পারে। এধরনে ঘটনা মনিটর করতে পাবলিক বাসে সিসি টিভি লাগানো যেতে পারে।

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সাবেক লিগাল ম্যানেজার অ্যাডভোকেট সোহেল রানা বলেন, মানিকগঞ্জে সর্বপ্রথম যে গণপরিবহনে গার্মেন্ট কর্মী ধর্ষণের ঘটনা ঘটে সেই মামলার পরিচালনার কাজে আমি সরাসরি যুক্ত ছিলাম। উক্ত মামলায় আসামিদের সাজা দেয়া হয়েছে। এক বাক্যে বলতে গেলে এটাতো অন্যায়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অন্যায়টি হচ্ছে গাড়ির মালিকরা যাদেরকে গাড়ি চালাতে দেন তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে না জেনেই গাড়ি চালাতে দেয়া। তারা নারী এবং শিশুর প্রতি কতটা সহনশীল। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন। এগুলো সম্পর্কে যথাযথ ধারণা থাকা উচিৎ। একটি পাবলিক পরিবহন এমন একজন মানুষকে চালাতে দেয়া হলো যে কিনা একজন নারী ও শিশুর প্রতি সহনশীল নয়। অপরাধির সামনে দৃষ্টান্ত মূলক কোনো শাস্তি না থাকায় ঘটনাটি বারবার ঘটছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আসামিরা জামিন নিয়ে ঘুরে বেড়ায় এবং ভিক্টিমদের হুমকি দেয়। ভয়ভীতি দেখায়। ফলে অধিকাংশ মামলাই আলোর মুখ দেখেনা। এ ধরনের ঘটনায় দু-একটি বিচার হলে সেটা কিন্তু প্রকৃত দৃষ্টান্ত না। বিচার হতে হবে কঠিনভাবে ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।

অপরাধ বিজ্ঞানি তৌহিদুল হক বলেন, গণপরিহনে নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই বিঘ্নিত হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনাগুলো সাধারণত ভিন্ন ভিন্ন রকম। কিন্তু সামগ্রিকভাবে নারীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। নারী সম্মান হারাচ্ছে। মূলত তিনটি কারণে দেশে পরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উথাপিত হয়। প্রথম, যে সকল ঘটনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি বা নজর পাচ্ছেনা সেই ঘটনাগুলোই কিন্তু হারিয়ে যায়। অনেকগুলো ঘটনার মধ্যে সম্প্রতি নুসরাতের ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি ও সতর্কতার কারনে এই পর্যন্ত এসেছে। কাজেই আমরা দেখছি যে ঘটনা সরকার প্রধানের দৃষ্টি এরিয়ে যায় সেই ঘটনাগুলো একসময় হারিয়ে যায়। শুধুমাত্র চালক বা হেলপারের ব্যক্তিগত সাহসে এ ধরনের ঘটনা সাধারণত ঘটেনা। এই ঘটনার পেছনে বড় কোনো শক্তি কাজ করে। দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারনে তারা অনৈতিক অনেক বিষয় দেখে থাকে।

ফলে তার বিপরীত লিঙ্গ দেখলে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা। এই হীন ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতে তারা সংঘবদ্ধভাবে কাজ করে। তৃতীয়ত, আমাদের সামাজিক লিডার বলতে শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, পুরোহিত ও সমাজের সচেতন ব্যক্তিরা এক সময় এসব ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেন। কিন্তু এখন সবাই আত্মকেন্দ্রীক আচরণ করছে। ফলে সামাজিক আচরণের পরিবর্তে এক ধরনের ব্যক্তিস্বার্থের বিষয় কাজ করে। এ থেকে পরিত্রানের উপায় হচ্ছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা। এছাড়া জাতীয় বাজেটে সামাজিক ক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সর্বশেষ যেটা মনে রাখতে হবে, সব কিছুতে রাজনীতিকরণ না করে যদি আমরা সামাজিকভাবে দেখি তাহলে একটি ইতিবাচক ফল আশা করা যেতে পারে।

উৎসঃ ‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌সুপ্রিম কোর্টে ভুয়া আইনজীবীদের খপ্পরে সাধারণ মানুষ


মানুষের সবচেয়ে বড় আস্থার জায়গা সর্বোচ্চ বিচারালয় সুপ্রিম কোর্ট। ন্যায় বিচারের আশায় মানুষ সেখানে যায়। কিন্তু দুঃখজনক যে, এই জায়গাটিকেও প্রতারণার আখড়া বানিয়েছে ফেলেছে কতিপয় ভুয়া আইনজীবী, দালাল, মহুরি ও তাদের সহযোগীরা। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে এদের প্রতারণা অনেকগুণ বেড়ে গেছে।

এসব প্রতারকদের নির্মুলের দাবিতে গত বুধবার সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় এক মানববন্ধন করেছে টাউট দালাল নির্মুল আন্দোলন। এই কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভুঁইয়া। তিনি জানান, ভুয়া সনদ দেখিয়ে আইনজীবী পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এই প্রতারকরা। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রতারককে ধরে থানায় সোপর্দ করেছেন টাউট দালাল নির্মুল আন্দোলনের নেতারা। এদেরকে সুপ্রিম কোর্ট থেকে নির্মূল করার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এর মধ্যে গত ১ মে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণাকারী এক টাউটকে আটক করে থানায় দিয়েছে আইনজীবী সমিতি। আটক টাউটের নাম মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী সোহাগ।

গত ৫ মে ঢাকা আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে থেকে মোসাম্মৎ মৌ নামের এক ভুয়া নারী আইনজীবীকে আটক করে টাউট উচ্ছেদ আন্দোলন কমিটি। তিনি সাত বছর ধরে নিয়মিত আদালতে প্র্যাকটিস করছেন। অনেক বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষাধিক টাকা।

৮ মে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণাকারী এক নারীকে আটক করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। তার নাম তানজিমা তাসকিন আদুরি। বাড়ি রাজশাহী।

তিনি বলেন, ওই নারী নিজেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। বিচারপ্রার্থীদের বিভ্রান্ত করে আইন পেশার মানহানি করেছেন।

শুক্রবার (১০ মে) মির্জা সাইফুল ইসলাম সুমন নামে এই সাংবাদিক তার ফেসবুক পেজে প্রতারকদের অনেকগুলো ছবি তার ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন। দেখা গেছে, প্রত্যেকের বুকে সাদা কাগজে লেখা আছে ‘আমি ভুয়া আইনজীবী, কারও বুকে লেখা ‘আমি টাউট, কারো বুকে লেখা ‘আমি প্রতারক’। তিনি পোস্টে লিখেছেন, ‘জ্বি এটাই বাংলাদেশ! এই ছবিগুলোর মহান ব্যক্তিদের নিয়ে আমার আপনার প্রিয় বাংলাদেশ! দেশের সুপ্রিম কোর্টের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ভুয়া আইনজীবীর তকমা লাগিয়ে দিব্যি চালিয়ে গেছে অবৈধ কর্মকাণ্ড! সুপ্রিম কোর্টের মতো আর কোথায় নেই ভুয়া কর্মকাণ্ড? প্রতারিত হচ্ছে প্রতিটা ক্ষেত্রেই সাধারণ জনগোষ্ঠী! যেকোনো প্রতারণার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় শক্তিশালী স্বচ্ছ নীতি বাস্তবায়নের জন্য আর কতকাল অপেক্ষা করতে হবে ?

উৎসঃ ‌‌purboposhchim

আরও পড়ুনঃ ‌‘ বাংলাদেশে এর চেয়ে খারাপ অবস্থা অতীতে ছিল বলে জানা নেই’


বলা হচ্ছে দেশ উন্নতি হচ্ছে, কিন্তু এই উন্নতির অন্তরালে মানুষ আর্তনাদ করছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘রাষ্ট্রের কোনো মানুষ নিরাপদে নেই। এমন অনিরাপদ অবস্থা আমরা ৭১ সালেই দেখেছিলাম। এর বড় উদাহরণ হচ্ছে ধর্ষণ। এসব অন্যায় রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।’

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির আয়োজনে ‘শ্রমিক আন্দোলনের একাল সেকাল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

দৃশ্যমান দুর্ভিক্ষ না থাকলেও দেশে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে দাবি করে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আজকে দেশে যে রাজনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে, তার চেয়ে খারাপ অবস্থা অতীত ইতিহাসে ছিল কি না আমার জানা নেই। আমরা দুর্ভিক্ষ দেখেছি যে দুর্ভিক্ষে অনেক মানুষ মারা গেছে। কিন্তু আজকে বাংলাদেশে দৃশ্যমান কোনো দুর্ভিক্ষ না থাকলেও নীরব দুর্ভিক্ষ আছে।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই শিক্ষাবিদ। বলেন, ‘আমরা দেখেছি, নুসরাত জাহানের ঘটনার সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা জড়িত ছিল এবং সবাই মিলে প্রমাণ করতে চাইল যে নুসরাত আত্মহত্যা করতে চেয়েছে। ইতিমধ্যে একজন নার্সকে বাসের মধ্যে ধর্ষণ করে হত্যা করা হলো।’

তিনি কথা বলেন দেশের আাইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্নীতি নিয়েও। বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন মুক্তিযুদ্ধের ভুয়া সনদে পদোন্নতি নিতে গিয়ে ধরা খেয়েছেন। অথচ যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবে তারাই যদি দুর্নীতি করে তাহলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা কী তা সহজে অনুধাবন করা যাচ্ছে। আমরা পুঁজিবাদের অধীনে দাস হয়ে রয়েছি। এ ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে রাষ্ট্রের মালিক শ্রেণির সঙ্গে শ্রমিক শ্রেণির যে শোষণের সম্পর্ক তা ভেঙে দিতে হবে। বিপ্লবের মাধ্যমে পুরনো রাষ্ট্রকে ভেঙে এমন রাষ্ট্র করতে হবে, যে রাষ্ট্র মানবিক হবে, যেখানে নারী ধর্ষিত হবে না, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের নামে প্রতারণা করবে না কেউ।’

আলোচনা সভায় শ্রমিক নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী এবং শাহ আতিউল ইসলামকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ শ্রমিক নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ঢাকাটাইমস

আরও পড়ুনঃ ‌জটিল সমীকরণে বিএনপি


জটিল সমীকরণে এখন বিএনপির রাজনীতি। নেতাকর্মীদের আস্থা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সাংগঠনিক অবস্থান শক্ত করার কঠিন কাজও নেতাদের সামনে। অন্যদিকে সংসদে মুখর থেকে বিরোধীদল হিসেবে তৈরি করতে হবে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের স্পেস। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ না নেয়ায় শূন্য হওয়া বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হবে। ২০ দলীয় জোটের শরিকদের গুরুত্ব দিয়েই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অটুট রাখতে হবে। সর্বোপরি দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ বের করতে হবে। ইতিবাচক রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে হঠাৎ ইউটার্ন করে সংসদে যোগ দিয়েছে বিএনপি।

নানামুখী আলোচনার মধ্যেও বিএনপির সংসদে যোগ দেয়ার বিষয়টিকে দেখা হচ্ছে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে।

বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়মিত সংগঠন গোছানোর দিকেই মনোযোগ দিয়েছে বিএনপি। সরকারের কঠিন মনোভাব, প্রশাসনের গ্রেপ্তার-হয়রানী, মামলা-হামলাসহ সার্বিক বৈরি পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মী। চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর তারা আস্থা রেখেছেন। কিন্তু একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির ৫জন এমপিকে নিয়ে জটিলতার মুখে পড়ে বিএনপি। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে সংসদে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও একজন তা অমান্য করে শপথ নেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অন্য এমপিদের শপথ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তটি সবাই মেনে নিলেও এ নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ তৈরি হয়েছে দলের সর্বস্তরে। এর রেশ গিয়ে পড়ে ২০ দলীয় জোটে। এ নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ধরে রাখতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে দায়িত্ব দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দায়িত্ব পাওয়ার পর দুই নেতা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন রোববার।

দলের অন্য ৫ জন সংসদে গেলেও সংসদের বাইরে রয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা আলমগীর শপথ না নেয়ায় শূন্য ঘোষিত হয়েছে বগুড়া-৬ আসন। ইতিমধ্যে আগামী ১৬ই জুন সেখানে উপনির্বাচনের তপসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এ আসনে ভোটগ্রহণ ১৬ই জুন। বিএনপি উপনির্বাচনে অংশ নেবে কিনা এমন একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। বিএনপি সংসদে অংশ নেয়ায় এই উপনির্বাচনে অংশগ্রহণের যৌক্তিকতাও তৈরি হয়েছে। বিএনপি অংশগ্রহণ করলে সেখানে কে প্রার্থী হবেন? গুঞ্জন তৈরি হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় একজন নেতাকে সেখানে প্রার্থী করা হতে পারে। এছাড়া সংসদে যোগ দেয়ায় একটি সংরক্ষিত আসন পাবে বিএনপি। এতদিন নির্বাচিতরা শপথ না নেয়ায় বিএনপির জন্য নির্ধারিত একটি নারী আসন এতদিন স্থগিত ছিল। সেখানে কাকে মনোনয়ন দেবে দল এ নিয়েও চলছে নানা গুঞ্জন।

২০ দলীয় জোট অটুট রেখেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিল বিএনপি। এ নিয়ে প্রথম থেকেই অসন্তোষ ছিল ২০ দলে। জোটের শরিক দলগুলো নিজেদের গুরুত্বহীন ভাবতে শুরু করেছিল। শরিক দলের কিছু নেতা এ নিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেয়ার পর সমঝোতার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিল বিএনপি। ফ্রন্ট ও জোটের যৌথ সিদ্ধান্তে তারা অংশ নিয়েছিল একাদশ জাতীয় নির্বাচনে। নির্বাচনের পর ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংসদে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্তটিও ছিল যৌথ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে একক সিদ্ধান্ত সংসদে গিয়েছে বিএনপি। এ শপথ ঘিরে ২০দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে চলছে অস্থিরতা। এরই জেরে দুই দশকের সম্পর্ক ভেঙে ২০ দল ছেড়েছে ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থর দল বিজেপি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে না দিলে জোট ছাড়ার আলটিমেটাম দিয়েছে আরেক শরিক দল লেবার পার্টি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন জোটের শরিকদের ক্ষোভ সারিয়ে বিএনপিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অটুট রাখার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদে যোগ দেয়ার ক্ষেত্রে গুঞ্জন ছিল বিএনপি সংসদে যোগ দিলেই জামিনে মুক্তি পাবেন খালেদা জিয়া। সংসদে যোগ দেয়ার একটি অঘোষিত কারণ হিসেবেও প্রচার করা হচ্ছিল খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি। কিন্তু সংসদে যোগ দেয়ার দুই সপ্তাহ পরও তেমন কোন লক্ষণ দেখা যায়নি। তবে নতুন করে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে জামিন নয়, প্যারোলে মুক্তির পথেই হাঁটতে হবে। খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তির দাবিতে বিএনপি নেতারা অটুট থাকলেও সায় নেই সরকারের। উল্টো আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, ওয়ান ইলেভেন সরকারের আমলের মামলায় খালেদা জিয়ার জেল হলে দুদকের পাশাপাশি তার জামিন আবেদনের বিরোধীতা করেছে সরকার। হঠাৎ করে জামিন বিষয়ে সরকার অবস্থান পরিবর্তন করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বার্তা যাবে যে খালেদা জিয়াকে এতদিন জামিন না দেয়াটা সরকারের কারণেই হয়েছে।

ধীরে মানুষের মধ্যে এই ধারণা জন্মাবে যে বিএনপির চেয়ারপারসনের জেল হওয়াটাও সরকারের ইচ্ছায় হয়েছে। এটা সরকারের জন্য বিব্রতকর হবে। তাই জামিনে ছাড় দিতে রাজী নয় সরকার। জামিনের ব্যাপারে সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতার কথা বিএনপি নেতাদের জানানো হয়েছে। তবে প্যারোলের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান নমনীয়। প্যারোলের আবেদন করলে সরকার কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না, বরং ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে দেখবে। এদিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার যে কোন মূল্যে মুক্তি চায় দলটির নেতাকর্মীরা। দলটির কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলেছেন, আগামীদিনের পদক্ষেপ নিতে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সবদিক বিবেচনায় এক জটিল সমীকরণে রয়েছে বিএনপি।

উৎসঃ ‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌বুড়িচংয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি কাদের জিলানীর বাড়ি থেকে অস্ত্র-ইয়াবাসহ আটক ২


কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজনকে আটক করেছে র‌্যাব।

শুক্রবার ভোর রাতে উপজেলার মোকাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল কাদের জিলানীর বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব-১১ এর একটি দল।

এ সময় জিলানীর ঘর থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, পিস্তলের একটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি ও ৫৬ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

আবদুল কাদের জিলানী উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার গ্রামের হাজী সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কমিল্লার ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক প্রণব কুমারের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানা গেছে, জিলানীর বাড়িতে কতিপয় ব্যক্তি মাদকদ্রব্য ক্রয়বিক্রয় করছে এমন গোপন খবর পেয়ে ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক প্রণব কুমারের নেতৃত্বে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা ক্যাম্পের সদস্যরা সেখানে অভিযান চালায়। আনুমানিক ভোর ৩টায় জিলানীর কক্ষে অভিযান চালিয়ে ১টি বিদেশি পিস্তল, পিস্তলের ১টি ম্যাগাজিন, ৪ রাউন্ড গুলি ও ১টি মোবাইল ফোনসহ মো. ফরহাদ হোসেন (৩৪) ও মো. শাহীন ভূইয়াকে (৩৮) আটক করা হয়।

আটক মো. ফরহাদ হোসেন ব্রাহ্মনবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার চরলালপুর গ্রামের মোঃ মোতালেব হোসেনের ছেলে। শাহীন ভূইয়া বুড়িচং উপজেলার মোকাম গ্রামের মৃত মোহাম্মদ হোসেন ভূইয়ার ছেলে।

এ সময় বাড়ির মালিক মোকাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল কাদের জিলানীকে খুঁজে পায়নি র‌্যাব।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়া ত্যাগ স্বীকার করেছেন: ফখরুল


বিএনপির চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মতো ত্যাগী নেত্রী এশিয়া মহাদেশে খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে মনে করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগমীর।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী গণতন্ত্রের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা আর কোনো রাজনীতিবিদ করেননি। তিনি সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করার মাধ্যমে বেগম জিয়া তার সে কাজ শুরু করেছিলেন।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার কর্তৃক আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনী তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাবেক সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রতির স্ত্রী। তিনি রাজনীতি করে জেল খেটে এত কষ্ট না করে সারাজীবন আরাম-আয়েশের জীবন-যাপন করতে পারতেন। কিন্তু তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে রাজনীতিতে এসেছেন। বেগম জিয়া দেশকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে নারী শিক্ষাসহ প্রতিটি সেক্টরে কাজ করেছেন।

দেশের বিচার ব্যবস্থা ধংস হয়ে গেছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধংস করা হয়েছে। দেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে এই অবৈধ সরকার।

বিএনপিকে ভাঙার জন্য নানা প্রকার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা (নেতাকর্মীরা) কোনো ভুয়া খবরে কান দিবেন না। বিএনপি দেশনেতা তারেক রহমানের নির্দেশে ঐক্যবদ্ধ আছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশ থেকে আমাদের পরিচালনা করছেন। তিনি আমাদের যেই নির্দেশনা দিবেন আমরা সেই নির্দেশনায় ঐক্যবদ্ধ থাকব।

ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌bdrtnn

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়া ছাড়া পেলে জনস্রোতে ক্ষমতাসীনরা ভেসে যাবে: মির্জা ফখরুল


খালেদা জিয়া জেল থেকে ছাড়া পেলে যে উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি হবে, তাতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ভেসে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার তিন যুগ পূর্তি উপলক্ষে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে।

গভীর চক্রান্তের শিকার হয়ে খালেদা জিয়া আজ কারারুদ্ধ- এমন মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি কেন কারারুদ্ধ আছেন? কারণ দেশনেত্রী হচ্ছেন গণতন্ত্রের প্রতীক। তিনি যদি আজ বেরিয়ে আসেন, তা হলে এরা (সরকার) নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। জনগণের যে স্রোত, যে উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি হবে, সেই তরঙ্গে তারা ভেসে যাবে। এ জন্য তাকে আটক করে রাখা হয়েছে। কিন্তু তাকে আটক রাখা যাবে না। এ দেশের জনগণ তাকে মুক্ত করে আনবে।

খালেদা জিয়ার আশু মুক্তি কামনা করে তিনি বলেন, জনগণের যে আবেগ, সেটাকে কাজে লাগিয়ে অবশ্যই তাকে মুক্ত করে আনতে পারব বলে আমাদের বিশ্বাস।

নানাভাবে বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মী, সমর্থক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে অভিযোগ করে দলটির মহাসচিব বলেন, মিডিয়া প্রচারণা এবং অন্যান্য ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জনগণ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে আমাদের দলের মধ্যে বিভ্রাট সৃষ্টির কাজ শুরু হয়ে গেছে।

নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিভ্রান্ত হবেন না। মনে রাখবেন- আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া। তিনি যে নির্দেশ দিয়েছেন, সেটি আমাদের অবশ্য পালনীয়।আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশ থেকে আমাদের পরিচালনা করছেন। আমরা সবাই তার নির্দেশে, তার কথায় একত্রিত হয়ে এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে সঠিক রাজনীতির দিকে এগিয়ে যাব— এটিই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

বাংলাদেশ একটি দলের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটা দলের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থার মধ্যেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এটি সহজ কাজ নয়, কঠিন কাজ।

স্বাধীন দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে গেছে মন্তব্য করে এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, আজকে বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম থাকতে পারবে কী, পারবে না? বাংলাদেশ তার নিজস্ব মর্যাদায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে কী পারবে না? সেই প্রশ্ন ১৬ কোটি মানুষের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।

আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে তিন যুগ ধরে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে খালেদা জিয়ার ভূমিকা নিয়ে ছবি শোভা পেয়েছে। ছবিগুলো তুলেছেন বাবুল তালুকদার।

ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌৮ দিনে ধর্ষণের শিকার ৪১ শিশু, ৩ জনের মৃত্যু


এ মাসের প্রথম ৮ দিনে রাজধানীসহ সারাদেশে ৪১ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আর ধর্ষণের শিকার শিশুদের মধ্যে মারা গেছে তিন জন।এসব শিশুর মধ্যে মেয়ে শিশু ৩৭ জন এবং ছেলে শিশু চারজন।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার (৯ মে) এ তথ্য জানিয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। ছয়টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

শিশু ধর্ষণের এ সব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি জানায়, ধর্ষণের শিকার শিশুদের মধ্যে তিন শিশু মারা গেছেন। আহত হয়েছে ৪১ শিশু। এছাড়া ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছে আরও তিন শিশু।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক শাহানা হুদা রঞ্জনা বলেন, ‘ছয়টি পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে আমরা ধর্ষণের শিকার শিশুদের সংখ্যাটি নির্ণয় করেছি। আসল সংখ্যাটি হয়ত আরও বেশি। এ সংখ্যাটি অস্বাভাবিক।’

দেশে শিশু ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন । একইসঙ্গে, শিশুদের প্রতি চলমান সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

নারী ও শিশু র্ধষণ বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সভাপতি অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিমও। তিনি বলেন, ‘শিশুধর্ষণের ঘটনাগুলো খুবই অ্যালার্মিং। আমাদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত। বিশেষ করে যারা নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে রয়েছে তাদের আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা নিতে হবে। শাস্তির বিষয়টি পরে, সবার আগে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে, সবাইকেই এ নিয়ে আরও বেশি কথা বলতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুঃখজনক হলে সত্য দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠান ও এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নবিরোধী কমিটি হয়নি। এটি হতাশাজনক ব্যাপার।’

এছাড়াও কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার নার্স শাহীনূর আক্তার তানিয়ার মৃত্যুর ঘটনাতেও শোক ও নিন্দা জানিয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি।

বিচারহীনতার কারণে এ সব ঘটনা অসহনীয় মাত্রায় বেড়েছে বলে মনে করছে সংগঠন দুটির কর্ণধাররা।

উৎসঃ ‌‌সারাবাংলা

আরও পড়ুনঃ ‌২০ দলীয় জোট রক্ষায় কত জীবন ও রক্ত দিয়েছে জামায়াত?


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের হাত থেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে রক্ষার জন্যই ১৯৯৯ সালের ৩০ নভেম্বর গঠিত হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় ঐক্যজোট। এই জোট গঠনে মূলত মূল ভুমিকা পালন করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির অধ্যাপক গোলাম আযম। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আন্দোলন ত্বরান্বিত করতে তখন গঠিত হয়েছিল ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলসহ আরও কয়েকটি সংগঠন নিয়ে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য।

চারদলীয় জোট আর সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের আন্দোলনের মুখে ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। তখন থেকেই মূলত আওয়ামী লীগ ও ভারত আস্তে আস্তে জামায়াতের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ২০০১-৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতের বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে ব্যাপক অপপ্রচার চালায় আওয়ামী লীগ। এছাড়া, বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধার কারণে জামায়াতের ওপর একটা চরম প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগের অপেক্ষায় থাকে আওয়ামী লীগ।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরই বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ভাঙ্গার কাজে হাত দেয় আওয়ামী লীগ। এজন্য প্রথমেই তারা ২০১০ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে জামায়াতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। আর ভারতের যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এদেশে সবার আগে মাঠে নামে জামায়াত। সেজন্য ভারতের পক্ষ থেকেও জামায়াতকে দুর্বল করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।

এদিকে, জামায়াত যখন বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে না আসার সিদ্ধান্তে অটল থাকে তখনই সরকার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কথিত মামলায় জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে আটক করে।

ওই সময় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কথিত মামলায় গ্রেফতারের পর সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াত নেতাদেরকে বলা হয়েছে যে, বিএনপি থেকে আপনারা বেরিয়ে আসলে আপনাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে। অন্যথায় যুদ্ধাপরাধের মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখানো হবে। কিন্তু, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে জামায়াত নেতৃবৃন্দ তখন সরকারের সঙ্গে আপোস করেনি। দল এবং তাদের জীবন ঝুকির মুখে পড়তে পারে এমন আশঙ্কার পরও তারা তাদের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন।

এরপরই শুরু হয় একের পর এক শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাদের মামলা। সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করা হয় শীর্ষনেতাদেরকে। চরম মিথ্যাচার ও বানোয়াট সাক্ষীর মাধ্যমে তারা প্রথমেই অন্যায়ভাবে বিচারের নামে হত্যা করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আব্দুল কাদের মোল্লাকে। জানা গেছে, আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার আগেও সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপি জোট ছাড়ার জন্য জামায়াতকে বলা হয়েছে। কিন্তু জামায়াত নেতৃবৃন্দ তখনো কোনো আপোস করেননি।

এরপর একে একে হত্যা করা হয়েছে জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে। সকলকে ফাসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেও যখন বিএনপি থেকে জামায়াতকে আলাদা করতে পারেনি তখন সরকার জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি, নিবন্ধন বাতিলের আগেও সরকার জামায়াতকে বলেছিল বিএনপি ছাড়ার জন্য।

আর জোটে থাকার কারণেই যে সরকার জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধের মামলা দিয়েছে সেটা বিএনপিও বুঝতে পেরেছে। খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে বিএনপির একাধিক শীর্ষনেতা ওই সময় প্রায় প্রতিদিনই বলতেন যে, শুধু বিএনপির সঙ্গে থাকার কারণেই জামায়াত এখন যুদ্ধাপরাধী। বিএনপি জোট থেকে জামায়াত চলে গেলেই সরকার তাদের ওপর আর নির্যাতন করবে না। কাউকে ফাসিতেও ঝুলাবে না। বিএনপি নেতা হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খন্দকার মোশাররফ হোসেন একাধিক বার বলেছেন যে, ৯৬ সালের নির্বাচনের আগে যখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে জামায়াত বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল তখন তারা মুক্তিযোদ্ধা ছিল। আর এখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জোট বাঁধার কারণেই জামায়াত যুদ্ধাপরাধীর দল হয়ে গেছে।

অপরদিকে, বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার কারণে জামায়াত শুধু তাদের শীর্ষনেতা এবং নিবন্ধনই হারায়নি। বিগত ১১ বছর ধরে সরকারের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে দলটির সারাদেশের নেতাকর্মীরা। জামায়াত-শিবিরের সহ¯্রাধিক মেধাবী নেতাকর্মীকে গুমের পর হত্যা করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রিমান্ডের নামে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে। বলা যায়-শুধু বিএনপির সঙ্গে থাকার কারণে সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা এখন ঘর ছাড়া। কেউ বাসায় থাকতে পারেনি। বিগত ১১ বছরে জামায়াতের শত শত নেতাকর্মীর ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। চাকরিচ্যুত হয়েছেন কয়েকশ নেতাকর্মী। এত নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও নিজেদের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে আপোস করেনি জামায়াত।

এখনো জামায়াতের প্রত্যাশা, ২০ দলীয় জোট টিকে থাকবে এবং এই জোটের আন্দোলনের মাধ্যমে একদিন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হবে। মুক্ত হবে গণতন্ত্র, মানুষ ফিরে পাবে তাদের মৌলিক অধিকার। অবসান ঘটবে দুঃশাসনের।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌২০ দলীয় জোট ভাঙ্গার নেপথ্য নায়ক যারা


১৯৯৯ সালের ৩০ নভেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ইসলাম, কুরআন-সুন্নাহ, গণতন্ত্র ও দেশবিরোধী ভুমিকার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে গঠিত হয়েছিল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোটের সমন্বয়ে চারদলীয় ঐক্যজোট। চারদলীয় জোট আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী আচরণের বিরুদ্ধে রাজপথে সফল আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের অষ্টম সংসদ নির্বাচনের আগে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর ফাঁদে পড়ে জোট ছেড়ে চলে যায় এরশাদের জাতীয় পার্টি।

তবে, এরশাদ চলে গেলেও জোট থেকে যান জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী ও দলটির প্রবীন রাজনীতিবিদ নাজিউর রহমান মঞ্জুর। নাজিউর রহমান মঞ্জুর মৃত্যুর পর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি তথা বিজেপির হাল ধরেন তার পুত্র ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। সেই থেকে ২০১৯ সালের ৬ মে পর্যন্ত দলটি বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে ছিল। বিএনপির একটি হঠকারী সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গত ৬ মে জোট থেকে বেরিয়ে গেলেন আন্দালিব রহমান পার্থ।

দেখা গেছে, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেই বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ভাঙ্গার জন্য বিভিন্নভাবে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র শুরু করে। আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটটি ভাঙ্গার জন্য সক্রিয়ভাবে মাঠে নামে।

এক্ষেত্রে সরকার বিএনিপর কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে একাজে ব্যবহার করে। বিশেষ করে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আব্দুল মইন খান, সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল মাহবুবুর রহমানসহ আরও কয়েকজন নেতা। অন্যরা গোপনে তৎপরতা চালালেও জেনারেল মাহবুব এবং ড. মইন খান প্রকাশ্যে জামায়াত-শিবির বিরোধী বক্তব্য দিতে থাকনে। ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রথম যে জনসভা করেছিল সেখানে জেনারেল মাহবুব গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ্যে জামায়াত নিয়ে কটাক্ষ মন্তব্য করেছিলেন। এমনকি তার এ বক্তব্য নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে পরে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতিও পাঠিয়েছিল।

এছাড়া, সরকার বিরোধী আন্দোলনের কারণে বিএনিপর অনেক সিনিয়র নেতাকে জেল খাটতে হয়েছে। নির্যাতন-হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু জেনারেল মাহবুব ছিলেন সব কিছু ধরা ছোয়ার বাইরে। অভিযোগ রয়েছে-তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেও মূলত গোপনে সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করতেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেনারেল মাহবুবকে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে দেখা না গেলেও নেপথ্য থেকে তিনি জোট ভাঙ্গার কলকাঠি নেড়ে যাচ্ছেন। আর এক্ষেত্রে তিনি এখন কাজে লাগাচ্ছেন তারই শ্যালক ও বিএনিপ মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। জেনারেল মাহবুবের স্ত্রী নাগিনা মাহবুব মির্জা ফখরুলের বোন।

জানা গেছে, জেনারেল মাহবুবের লবিং ও বিভিন্ন চাপের কারণে খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুলকে বিএনপির মহাসচিব পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এখানেও সরকারের বড় একটা পরিকল্পনা সফল হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেনারেল মাহবুবের সেই জোট ভাঙ্গার এজেন্ডা এখন মাঠে থেকে বাস্তবায়ন করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর এর প্রথম পদক্ষেপ ছিল ড. কামালের নেতৃত্বাধীন কথিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে শেখ হাসিনার অধীনেই সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া। মির্জা ফখরুল এখন যা কিছু করছেন সবই ড. কামালের পরামর্শে। ২০ দলীয় জোটের চেয়ে কথিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল। বলা যায়-ফখরুল এখন কামালের মুরীদ।

২০ দলীয় জোটের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জোটের সিদ্ধান্ত ছিল বিএনপির এমপিরা শপথ নিয়ে সংসদে যাবেন না। কিন্তু মির্জা ফখরুল সেই সিদ্ধান্তকে অমান্য করে তারেক রহমানকে ভুল বুঝিয়ে ৫ এমপিকে সংসদে পাঠিয়েছেন। যার কারণে, ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল আন্দালিব রহমান পার্থের বিজেপি জোট থেকে বেরিয়ে গেছে। শুনা যাচ্ছে, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের লেবার পার্টি ও কর্নেল অলির এলডিপিও বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চিন্তা করছে।

এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করার মতো, বিএনপি-জামায়াত জোট ভাঙ্গার জন্য শুধু আওয়ামী লীগই চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করেনি। আন্তর্জাতিকভাবেও তারা চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক মহল থেকে জোট ভাঙ্গার জন্য অনেক চাপ দেয়া হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। কিন্তু, খালেদা জিয়া কারো কথাকেই পাত্তা দেননি। অবশেষে খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করেই সরকার বিএনপি-জামায়াত জোটটিকে ভাঙ্গার কাজে সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এ কাজে সরকারকে নেপথ্য থেকে জেনারেল মাহবুব ও মাঠ থেকে মির্জা ফখরুল সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, খালেদা জিয়া যদি খুব তাড়াতাড়ি মুক্তি না পান, তাহলে ২০ দলীয় জোট আর বেশি দিন থাকছে না। মির্জা ফখরুলরা যেভাবে কামালের দিকে ঝুঁকছেন তাতে ২০ দলীয় জোট এখন গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে। বিএনপির এই হঠকারীতার কারণে আরও কয়েকটি দল জোট থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। দেখা যাবে একদিন অন্যতম শরিক জামায়াতও বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিতে পারে।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্য ইতিবাচক: আ স ম আবদুর রব


বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তমের ঐক্যফ্রন্টের অসংগতি দূর করা বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যকে ইতিবাচক দেখছেন জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব।

আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের কাছে দেওয়া এক প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত একটি রাষ্ট্র যখন চূড়ান্ত বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত, জনগণের মালিকানা যখন রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে অপসারণ করা হয়েছে, শাসনতন্ত্র যখন সরকারের ইচ্ছাধীন তখন বিরোধী দলের কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার নৈতিক কর্তব্যবোধে জাগ্রত হয়েই বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী ঐক্যফ্রন্টের অসংগতি নিরসনের তাগিদ দিয়েছেন-যা খুবই ইতিবাচক এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলন-সংগ্রাম-গণজাগরণের ভিত্তি সৃষ্টি করবে।

আ স ম আবদুর রব বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বর ঘোষণা হলেও ২৯ তারিখ রাতেই যখন ভোট রাষ্ট্রীয়ভাবে ডাকাতি হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হাইজ্যাক করা হয়েছে তখন জনগণকে নিয়ে যে প্রতিরোধ-সংগ্রাম গড়ে তোলা প্রয়োজন ছিল তা পারেনি। কিন্তু সকল অসংগতি দূর করে বিদ্যমান অপব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের নতুন কৌশল-ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নতুন করে জনগণের বিজয় ছিনিয়ে আনার রাজনীতিকে আরো বেগবান করবে।

উৎসঃ ‌‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‌মদ খেয়ে মাতলামি: ক্ষমা চাইলেন আওয়ামীপন্থী চাটুকার সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান


ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির একটি অনুষ্ঠানে হুইস্কি খেয়ে নারীকে জড়িয়ে ধরার জন্য অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন টকশো ব্যক্তিত্ব,আওয়ামীপন্থী চাটুকার সাংবাদিক ও সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান। এক নারীকে জড়িয়ে ধরার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে এর ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের ফেসবুকে ক্ষমা চান তিনি। জানান, প্রায় ৫ বছর পর হুইস্কি খাওয়ায় তিনি অজান্তে এই মাতলামি করে ফেলেন। এজন্য তিনি ক্ষমা চান।

নাঈমুল ইসলামের ফেসবুক পোষ্টটি নতুন দিগন্তের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

“নাসিমা খান মন্টির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা

দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক নাসিমা খান মন্টির কাছে আমি নাঈমুল ইসলাম খান নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছি। গত ২ মে বৃহস্পতিবার ওয়েস্টিন হোটেলে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের নির্বাহী সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দিনের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমি অত্যন্ত অনভিপ্রেত, অন্যায় করেছি।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ উপর্যুপরি অনুরোধ করলে আমি ঈষৎ গরম পানি দিয়ে ২ পেগ হুইস্কি পান করি। ৫ বছরেরও বেশি সময় পর প্রায় অনভ্যস্ততার পর্যায়ে ২ পেগ হুইস্কি সম্ভবত আমাকে বেসামাল করে ফেলে। এমন ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘরের আলো আধারি মোহনীয় পরিবেশে আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক নাসিমা খান মন্টিকে কখন যে আমি জড়িয়ে ধরে আমার কাছে টেনে নিয়েছি তখন বুঝতে পারিনি।

কিন্তু উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পরদিন শুক্রবার দিন শেষে ঘূর্ণিঝড় ফণী যেভাবে বাংলাদেশে ঝড়বৃষ্টি নিয়ে এসেছে, প্রায় তেমনিই আমার এই অসদাচরণের ছবি ঝড়ো হাওয়া ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

অনেক ছবির মধ্যে একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে আমি নাসিমা খান মন্টিকে জড়িয়ে অনেকখানি আমার দিকে কাত করে ফেলেছি। কয়েকটি ছবি বিশ্লেষণে এটা পরিস্কার যে, নাসিমা খান মন্টিকে আমি সম্ভবত নিশানা করে বার বার জড়িয়ে ধরেছি, বিরক্ত করেছি। মন্টির বিনা অনুমোদন এবং বিনা আগ্রহে আমার এই আচরণ খুবই অনুচিত হয়েছে সেটা এখন আমি উপলব্ধি করি।

আত্মপক্ষ সমর্থনে আমার কিছুই বলার নেই। একটি সুন্দর অনুষ্ঠানকে এভাবে অনেকের জন্য অস্বস্তিকর করে তোলায় আমি যারপরনাই লজ্জিত। এমন ঘটনার পুনরাবৃতি যেন না হয় সে জন্য আমি সচেষ্ট থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

আপনাদের পক্ষে সদয় বিবেচনা করে আমাকে ক্ষমা করা যেন সহজ হয় তার সুবিধার্থে সেই রাতের, সেই ঘটনার কিছু দালিলিক ছবি এখানে যুক্ত করা হচ্ছে।”

উৎসঃ ‌‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌সাহসী কোনো বিচারপতি এখন বাংলাদেশে নেই!


রাষ্ট্রের চারটি অঙ্গের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হলো বিচার বিভাগ। আর বাংলাদেশে নির্বাহী বিভাগের পরই বিচার বিভাগের স্থান। বিচার বিভাগ একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। বিচার বিভাগের এই স্বাধীনতা নিয়ে এখন শুধু রাজনৈতিক অঙ্গন বা বিশিষ্টজনদের মধ্যেই প্রশ্ন সৃষ্টি হচ্ছে না, দেশের সাধারণ নাগরিকও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আর এই প্রশ্ন তোলার পেছনেও যৌক্তিক কারণ রয়েছে।

দেখা গেছে, বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিগত ১০ বছরের শাসনামলে দেশের নি¤œ আদালত থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত চলছে সরকারের নিয়ন্ত্রণে। একটি মামলা পরিচালনা থেকে শুরু করে রায় প্রদান, জামিন ও কারামুক্তি সবই হচ্ছে সরকারের ইশারায়। বিশেষ করে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রে কার মামলার রায় কি হবে? সাজা হবে কত বছরের? কারাগারে পাঠানোর পর জামিন পাবে কিনা? জামিন পাইলেও মুক্তি পাবে কিনা সবই হচ্ছে সরকারের নির্দেশে।

আর উচ্চ আদালতের কোনো রায় যদি সরকারের বিপক্ষে চলে যায় তাহলে বিচারপতিদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে ছাড়া হয়। যেমন, সংসদ কর্তৃক বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত ধারা বাতিলের রায়ের পর যা ঘটেছে তা ছিল নজিরবিহীন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে সরকারের এমন কোনো মন্ত্রী-এমপি বাদ ছিল না যারা সংসদে দাঁড়িয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে গালি দেয়নি। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এক পর্যায়ে তারা প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে দেশত্যাগে বাধ্য করে।

এরপর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে উচ্চ আদালতে যা ঘটছে তাও নজিরবিহীন। সরকারি দলের সন্ত্রাসী, খুনী, দুর্নীতিবাজরা জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসলেও কথিত দুর্নীতি মামলায় আটক খালেদা জিয়া মুক্তি পাচ্ছেন না। এই হলো বর্তমান স্বাধীন বিচার বিভাগের খন্ড চিত্র মাত্র।

কিন্তু অতীতে দেখা গেছে, এই আদালতের বিচারপতিরাই স্বাধীনভাবে মামলা পরিচালনা করেছেন। রায়ও প্রদান করেছেন স্বাধীনভাবে। এমনকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রায় দিতেও তারা কোনো প্রকার কোণ্ঠাবোধ করেন নি।

যেমন, ২০০০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সংবাদ সম্মেলনে আদালতের রায় নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। পরে অন্য একটি মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে সুপ্রিমকোর্টের ফুল বেঞ্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘রং হেডেড ওম্যান’ অর্থাৎ মাথা খারাপ মহিলা বলে মন্তব্য করেছিলেন।

সেই রায়গুলো আজ মানুষের কাছে স্বপ্ন। কারণ, এখন দেশের বিচার বিভাগ আর আগের মতো স্বাধীন নয়। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা প্রায় প্রতিদিনই বিচারপতিদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করছেন। কিন্তু তাদেরকে যে আদালতে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাস করবে সেই সাহস বর্তমানে হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের নেই।

গত সপ্তাহে খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ফোনে যা বলেছেন তা স্বাধীন বিচার বিভাগের জন্য অপমানজনক। খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে কি পাবে না সেটা দেখার দায়িত্ব বিচারপতিদের। কিন্তু শেখ হাসিনা রায় দিয়ে দিলেন খালেদা জিয়া আজীবন মুক্তি পাবেন না।

আইনজ্ঞরা বলছেন- শেখ হাসিনার এই বক্তব্য চরম আদালত অবমাননা। কিন্তু, আদালত অবমাননা হলেই বা আর কি। এখন আর সেই বিচারপতি নেই যারা প্রধানমন্ত্রীকে রং হেডেড বলে আখ্যা দেবেন।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌হাসিনাকে বিদেশে কোনো হোটেল বুকিং দিতে চায় না!


সম্প্রতি শেখ হাসিনার ফোনালাপ নিয়ে তোলপাড় চলছে সোশ্যাল মিডিয়াসহ সর্বত্র। তোলপাড় চলছে আওয়ামী লীগ- বিএনপি উভয় শিবিরেও। এনিয়ে ক্ষমতাসীনদের ভিতরে সন্দেহ অবিশ্বাস আর বিরোধ চরমে উঠছে। শেখ হাসিনার মুখ দিয়ে বিরোধী জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে এমন মন্তব্য জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। প্রশ্ন উঠেছে তাঁর এই মন্তব্য কোন রাজনৈতিক বক্তব্যে উঠে আসেনি কেন?

বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন অধিনস্থ রাজনৈতিক নেতার ফোনে এমন একটি মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ব্যাক্তিগত আলোচনায় এমন মন্তব্যের গুরুত্ব অনেক বেশি। এতে স্পষ্ট হয়ে গেছে, বেগম খালেদা জিয়া সরকারের ইচ্ছায় আটক আছেন। আদালত সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায় মাত্র। বিদেশে কোনো হোটেল তাদের বুকিং দিতে চায় না। স্বয়ং সরকার প্রধানের মুখ দিয়ে এমন মন্তব্য বের হয়ে আসা খুবই লজ্জার বিষয়!

কিভাবে কিভাবে ফাঁস হলো ফোনালাপ?

বাংলাদেশর বিভিন্ন মিডিয়ার অনুসন্ধানেও উঠে আসেনি এই প্রশ্নের উত্তর। তাহলে এটা কি বিদেশী কোন গোয়েন্দা সংস্থা করেছে? নাকি যুক্তরাজ্যের কোন গোয়েন্দা সংস্থা ফাঁস করেছে?অনুসন্ধানে দেখা যায়, আওয়ামী শিবিরের অতি কৌতুহল থেকে এমনটা হয়েছে।

শেখ হাসিনার জন্য বুকিং ছিল বেকার ষ্ট্রিটের কারিজাস হোটেল। সে অনুযায়ী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্ধারিত সময়ে অভ্যর্থনা জানাতে কারিজাস হোটেলের সামনে সমবেত হয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত হোটেলের বুকিং শেষ মুহূর্তে ক্যান্সেল করে দেয় কতৃপক্ষ। কারন শেখ হাসিনা যেই হোটেলেই উঠেন, সেখানে আশে পাশে যুক্তরাজ্য বিএনপি অবস্থান নিয়ে শ্লোগান দিতে থাকে। উপস্থিত হয় আওয়ামী লীগও। এতে হোটেলের চার পাশের পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। যা যুক্তরাজ্যের মানুষের কাছে খুবই দৃষ্টিকটু বটে। সব মিলিয়ে হোটেল কতৃপক্ষ এমন ঝামেলা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, কারিজাস হোটেল বুকিং ক্যান্সেলের পর শেখ হাসিনার জন্য তাজ হোটেলে ব্যবস্থা করা হয়। এখানে মূলত বুকিং নেয়া হয়েছে রাষ্ট্রপতির নামে। একই সময়ে রাষ্ট্রপতিও আসছেন চিকিৎসার জন্য। শেষ বেলায় কাজিরাস হোটেল কতৃপক্ষ বুকিং ক্যান্সেল করায় তাৎক্ষণিক রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর স্টাফদের জন্য বুকিং নেয়া হোটেলে উঠেছেন শেখ হাসিনা ও তাঁর সফর সঙ্গীরা। কিন্তু যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতারা এটা জানতে না পেরে অভ্যর্থনা জানাতে সমবেত হন পূর্ব নির্ধারিত কারিজাসের সামনে। তাজ হোটেলে উঠার পর শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি সৈয়দ ফারুকের সাথে কথা বলেন। ফোনে কথা বলার সময় সৈয়দ ফারুক মোবাইল লাউড স্পীকারে রাখেন, যাতে সমবেত সবাই শুনতে পারে। এসময় ফেইসবুক লাইভে ছিলেন দু/একজন। এ বক্তব্য ফেইসবুক লাইভেও তখন ভাসমান হয়। যদিও তাৎক্ষণিক মুছে ফেলার জন্য (ডিলিট) নির্দেশ দেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। তবে কোন একজনের ফেইসবুক থেকে ডিলিট করতে একটু বিলম্ব হয়েছিল। এর মাঝে এ বক্তব্য সেইভ করে নিয়েছেন কেউ একজন। পরবর্তীতে বক্তব্যের এ অংশটি আবার সোস্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা হয়। যা ভাইরাল হয়ে যায়।

সূত্রটি বলছে, এনিয়ে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। যুক্তরাজ্যর ৫ নেতা এখন তোপের মুখে। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ারও দাবী উঠেছে আওয়ামী লীগের ভেতরে থেকেই।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here