সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে আন্দোলনে অনড় শিক্ষার্থীরা

0
347

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ও ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে ২৮ মার্চ পর্যন্ত নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা না মেনে চার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।

বুধবার রাতে আন্দোলনরত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এ ঘোষণা দেন।

তারা জানান, দোষী চালকের শাস্তিসহ নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঘোষিত ৮ দফা দাবি আদায়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও তাদের সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী কাওসার হাবিব বলেন, আমাদের সবগুলো দাবি নিয়ে প্রতিনিধি দল কথা বলেনি। যারা গেছে তারা আমাদের দাবি নিয়ে কথা বলেতে পারেনি। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুপ্রভাত বাস চালকের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া ও পাল্লাপাল্লি বাস চলাচল বন্ধসহ অন্যান্য দাবির দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দেখতে চাই। না হলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

আন্দোলনে থাকা আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ফয়সাল কবির রাফি বলেন, ‌‘যে প্রতিনিধি দল মেয়রের সঙ্গে দেখা করেছেন, তারা কেন্দ্রীয় কোনও কমিটি না। তারা মেয়রের সঙ্গে দাবি নিয়ে সঠিকভাবে কথা বলতে পারেননি। তারা আন্দোলনরত অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও আন্দোলন স্থগিতের বিষয়ে কোনও কথা বলেননি। যে কারণে দাবি আদায়ে আমাদের আন্দোলন চলবে। বৃহস্পতিবার ১০টাতেও আমরা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’

এদিকে মেয়রের সঙ্গে কথা বলা ১০ জনের প্রতিনিধি দলের এক সদস্য বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রোফেশনালের শিক্ষার্থী তৌহিদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের আলোচনায় তিনটি দাবিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। এর মধ্যে ছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চালকের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির আদেশ দেওয়া। উত্তরে মেয়র বলেছেন, ‘চালকের সাত দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। সেহেতু সাত দিনের আগে ও আইনি প্র্রক্রিয়া ছাড়া সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া যায় না। সংবিধানে তা নেই।’ তবে মেয়র আমাদের কথা দিয়েছেন অষ্টম দিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে চার্জশিট গঠন করে বিচার কাজ শেষ করা ও আসামির সাজা নিশ্চিতে কাজ করা হবে।

আমাদের দ্বিতীয় দাবি ছিল জাবালে নূর ও সুপ্রভাত বাসের রুট পারমিট বাতিল করা। এ দাবির বিষয়ে আলোচনা সাপেক্ষে মেয়র তাৎক্ষণিকভাবে এই দুই কোম্পানির সব বাসের রুট পারমিট স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মেয়র আমাদের বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে এই দুই কোম্পানির বাসগুলোর কাগজপত্র, চালকের লাইসেন্স ও যন্ত্রপাতি দেখে সড়কে চলাচলের অবস্থা থাকলে চলতে দেওয়া হবে। নয়তো ডাম্পিং করা হবে।’

তৃতীয় দাবি ছিল- রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভারব্রিজ স্থাপন। এ দাবির বিষয়ে মেয়র বলেন, ‘আগামী সাত দিনের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা চিহ্নিত করে ফুটওভার ব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং করার জন্য একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হবে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এর কাজ শুরু করা হবে’।”

তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দলের দাবি ছিল মেয়রের আশ্বাসগুলো গণমাধ্যমের সামনে জানানোর। পরে মেয়র আমাদের কথা মেনে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলায় ২৮ মার্চ পর্যন্ত আমরা আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ২৮ মার্চ বেলা ১১টায় এই প্রতিনিধি দলের সঙ্গেই মেয়র ও ডিএমপি কমিশনার ফলোআপ বৈঠক করবেন। ওইদিন পর্যন্ত আশ্বাসের ফলশ্রুতি না পেলে ২৯ মার্চ থেকে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন শুরু হবে।’

এ ঘোষণার পর বিইউপির শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে চলে যান। তবে ওই চার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক ছাড়েননি। বৃহস্পতিবার সকালে তারা আবারো জমায়েত হবেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা গেট এলাকায় ‘সুপ্রভাত’ নামে একটি বাসের চাপায় বিইউপির শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহত হন। এ ঘটনার পর ঘাতক বাস সুপ্রভাত পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল, চালকের ফাঁসির দাবিসহ আট দফা দাবিতে নানা স্লোগান দিয়ে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। বুধবারও রাজধানীজুড়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ আন্দোলন হয়। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সড়ক ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা।

উৎসঃ justnewsbd

আরও পড়ুনঃ ফের নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন শিক্ষার্থীরা


আট মাসের মাথায় ফের নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। জাবালে নুর বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ওই আন্দোলন নাড়া দিয়েছিল দেশজুড়ে। এ আন্দোলন থামাতে দেয়া হয়েছিল নানা প্রতিশ্রুতি। নেয়া হয়েছিল নানা উদ্যোগও। কিন্তু এতে যে কাজের কাজ কিছুই হয়নি তা আট মাস পরের আরেক ঘটনা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো। দুই বাসের রেষারেষির মাঝে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল্‌স-এর শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীর। চোখের সামনে সহপাঠীর এমন করুণ মৃত্যু মেনে নিতে পারেন নি তার সতীর্থরা। প্রতিবাদে ঘটনার পর থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন তারা।

দিনভর চলা বিক্ষোভে রাজধানীর প্রায় অর্ধেক এলাকা অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ যানজটে পড়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে লাখো মানুষকে। আন্দোলনকারীরা আগের বারের আন্দোলনের মতোই স্লোগান দিয়েছেন নিরাপদ সড়কের দাবিতে। তাদের মুখে মুখে ছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান। দিনভর অবস্থান কর্মসূচির পর আজও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

গতকাল সকাল সোয়া ৭টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ফটকের সামনের জেব্রা ক্রসিংয়ের উপর দিয়ে রাস্তা পারাপারের সময় সুপ্রভাত কোম্পানির দুই বাস প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে পিষে ফেলে বিইউপি’র ওই শিক্ষার্থীকে। ঘটনাস্থলেই আবরার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সহপাঠীরা। সঙ্গে সঙ্গেই সড়কে অবস্থান নেন তারা। কুড়িল থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত কয়েক স্তরে অবরোধ করেন বিইউপি’র শিক্ষার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরো জোরালো হয় তাদের আন্দোলন। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। সকাল দশটার পর থেকে কুড়িল চৌরাস্তা থেকে নর্দ্দা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে তাদের অবস্থান।

এসময় শিক্ষার্থীরা আট দফা দাবি উত্থাপন করেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে- পরিবহন সেক্টরকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা এবং বাসচালকদের প্রতি মাসে লাইসেন্স চেক করা, আটককৃত চালক ও জড়িত সবাইকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা, ফিটনেসবিহীন বাস ও লাইসেন্সবিহীন চালককে দ্রুত অপসারণ, দায়িত্ব অবহেলাকারী প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশকে স্থায়ী অপসারণ করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া, চলমান আইনের পরিবর্তন করে সড়ক হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা, প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চলাচল বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থানে বাসস্টপ এবং যাত্রীছাউনি করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা ও ছাত্রদের হাফ পাস (অর্ধেক ভাড়া) অথবা আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা। এসব দাবি ছাড়াও শিক্ষার্থীরা মৌখিক কিছু দাবিও তুলে ধরেন আন্দোলনে। এগুলো হলো- আবরারকে চাপা দেয়া বাসের চালককে ১০ দিনের মধ্যে ফাঁসি দিতে হবে, সুপ্রভাত বাসের রুট পারমিট বাতিল, সিটিং সার্ভিস বন্ধ, স্টপেজের ব্যবস্থা করা, চালকদের ছবি ও লাইসেন্স গাড়িতে ঝোলানোর ব্যবস্থা করা, প্রতিটি জেব্রা ক্রসিংয়ে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক পুলিশের ‘দুর্নীতি’ বন্ধ করা।

তোপের মুখে মেয়র আতিক: আন্দোলন চলার একপর্যায়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম উপস্থিত হন ঘটনাস্থলে। তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন শান্ত হতে। একই সঙ্গে তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে আন্দোলন প্রত্যাহার করতে বলেন। আতিক বলেন- তোমরা আমার সঙ্গে থাকলে আমি সব সমস্যার সমাধান করে ফেলবো। বাসের মালিক ও সংশ্লিষ্টদের নিয়মের ভেতরে আনা হবে। ঢাকা সিটিতে ছয়টি কোম্পানির বাস চালানো হবে। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সমাধান করবো। এসময় তিনি আরো জানান, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ফটকে একটি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হবে। যা নিহত আবরারের নামে নামকরণ করা হবে। তবে মেয়রের এসব আশ্বাসে শান্ত হননি শিক্ষার্থীরা। এ সময় বরং শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন আতিক। বিইউপি’র শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে পড়লে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

শিক্ষার্থীদের ফাঁসাতে বাসে আগুন: দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে আন্দোলন চলার এক পর্যায়ে যমুনা ফিউচার পার্কের বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সুপ্রভাতের একটি বাসে আগুন লাগিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। সেটি দেখে চারদিক থেকে ছুটে আসেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসময় তারাই পানি ও বালি ছিটিয়ে বাসটির আগুন নেভান। পরে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তাদের ফাঁসাতে ও আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই ওই বাসের চালক ও সহকারী আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। এরপর তারা পালিয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা আরো জানান, বাসে আগুন লাগিয়ে তাদেরকে প্রশাসনের চোখে এই আন্দোলনকে সহিংস হিসেবে চিহ্নিত করতেই চেষ্টা করেছে বাসের চালক।

ঘটনার সময় শিক্ষার্থীরা হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। এ নিয়ে বিইউপি ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। তারা হাতাহাতিতেও জড়িয়ে পড়েন। পরে শ্রমিকদের আগুন লাগানোর বিষয়টি ধরা পড়লে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়।

অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমর্থন: দুপুর ১টার পর থেকে বিইউপির শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরো জোরালো হলে তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সড়কে অবস্থান নিয়ে তারাও ওই নিরাপদ সড়ক চাই’র আন্দোলনে অংশ নেন। এমনকি আজ থেকে আহ্বান করা আন্দোলনে তারা থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন।

এ সময় ঘটনাস্থলে নর্থ সাউথ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, ইউনাইটেডসহ বেশ কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হন। আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে, উই ওয়ান্ট জাস্টিজসহ বেশ কয়েকটি স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। সারা দিন আন্দোলন শেষে বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে গতকালের কর্মসূচির ইতি টানেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী মাইশা নুর। এ সময় তিনি সারা দেশের শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন ও সড়কে নেমে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের অনুরোধ করেন। এ ছাড়া মাইশা নুর বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলা এই আন্দোলনকে কেউ রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে দেখবেন না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই আজকের মতো আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। আগামী কাল সকাল থেকে আবারও আমরা রাস্তায় নামবো।

আন্দোলন চলবে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সকল স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনের অনুরোধ রইলো। সকল অভিভাবককে বলছি আমাদের সঙ্গে অংশ নিন। কারণ আজ যে ছেলেটি মারা গেছে সেও কোনো না কোনো বাবা-মায়ের সন্তান ছিল। আমাদের এই আন্দোলন চলবে। মাইশা নুর বলেন, আমরা চাই না গত বছরের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মতো শেষের দিকে খারাপ পরিস্থিতি হোক। যারা রাজনৈতিকভাবে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করবে আমরা তাদেরকে চাই না। আমরা নিজেদের সুরক্ষা চাই। পুলিশ আমাদের সুরক্ষা দেবে সেটা আশা করি। আমাদের ওপর কোনো লাঠিচার্জ বা রাজনৈতিক আক্রমণ যেন না হয়। আমাদেরকে যে আশ্বাস দেয়া হয়েছে সেটার প্রতিফলন চাই।

সুপ্রভাত বাসের নিবন্ধন বাতিল: বিইউপির শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় গতকালই তাকে চাপা দেয়া সুপ্রভাত বাসটির নিবন্ধন বাতিল করে দেয়া হয়। বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রে একথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, মোটরযান অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এর ৪৩ ধারা মোতাবেক ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫ নং বাসের রেজিস্ট্রেশন সাময়িকভাবে বাতিল করা হলো।

আন্দোলন নিয়ে যা বললেন শিক্ষার্থীরা: সুপ্রভাত বাসের চাপায় আবরারের নিহত হওয়ার পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। বার বার একই ঘটনা ঘটছে। তবুও প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। সরকারেরও কোনো টনক নড়ছে না। সারা দিন আন্দোলনের মাঝে এভাবেই বলছিলেন বিইউপি ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে সড়ক অবরোধ করা শিক্ষার্থীরা। আবরারের সহপাঠী রিমু বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের বন্ধুদের হারাচ্ছি। আমাদের দাবিগুলো কিছুতেই সরকার মানছে না। প্রশাসনের টনক নড়ছে না। সড়কে শিক্ষার্থী কেন কোনো মানুষই নিরাপদ না। ক’দিন আন্দোলন হলে এটা করবে ওটা করবে বলে জানায়। কিন্তু এরপর আবার একই হাল। আমরা সড়কে নিরাপত্তা চাই। প্রতিদিন মানুষ মরবে এটা চাই না। রাব্বী নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আজ আবরারকে হারিয়েছি। আমাদের মাঝ থেকে সবচেয়ে মেধাবী ছেলেটি চলে গেছে। সে চলে যায়নি। তাকে খুন করা হয়েছে। এভাবে প্রতিদিন আমাদের অনেক ভাইবোন বাবা মাকে খুন করা হচ্ছে। আমরা আর তা চাই না। যতক্ষণ না আমাদের দাবি বাস্তবায়ন হবে তৎক্ষণ সড়ক ছেড়ে দেবো না। ফয়েজ উল্লাহ নামের আরেক শিক্ষার্থী জানান, সরকার ভেবেছে হেলমেটলীগ দিয়ে পেটালেই সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। এবার আর থামছি না। মার খেয়ে মরে যাবো। তাও আন্দোলনে পিছপা হবো না।

দিনভর দুর্ভোগ: শিক্ষার্থীদের সারা দিন আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে সাধারণ কর্মজীবী মানুষের ওপর। একটি সড়কে যানচলাচল বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের কয়েকটি সড়কেই তীব্র যানজট শুরু হয়ে যায়। এ ছাড়া রামপুরা কিংবা বাড্ডা থেকে নদ্দা-কুড়িল হয়ে যাওয়া উত্তরা-গাজীপুরগামী অনেকে পায়ে হেঁটে খিলক্ষেত পর্যন্ত গিয়েছেন। দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে অনেককে। তবে কষ্ট ভোগ করলেও শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে কেউ কেউ সাধুবাদ জানিয়েছেন। আফরিন নাহার নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, আমার অফিস কুড়িলে। সকাল থেকেই কোনো যানবাহন নেই। বাড্ডা থেকে হেঁটেই যাচ্ছি। কষ্ট হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু আমি চাই এই আন্দোলন অব্যাহত থাকুক। শিক্ষার্থীরা এর আগেও হামলা মামলার শিকার হয়েছে। তারপরও যেন সড়কে বিশৃঙ্খলা থামছে না। সাইদুল নামের এক গার্মেন্ট কোম্পানির কর্মকর্তা বলেন, কিছুদিন পর পরই এমন শিক্ষার্থী মরছে। কোনো বিচার হচ্ছে না। আজও একজন মারা গেল। আমি গাজীপুর যাবো। কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত হেঁটে যেতে হবে। কষ্ট হলেও আমি এই আন্দোলনকে সমর্থন জানাই। শিক্ষার্থীরা যেন তাদের দাবি আদায় করতে পারে।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ এখনো চলছে সেই জাবালে নূর পরিবহন


ঢাকার রাস্তায় রুট পারমিট ও গাড়ির নিবন্ধন নিয়ে ফের চলছে জাবালে নূর পরিবহনের বাস। তাও আবার একই রুটে। চালক ও হেল্পারদের দাবি, তাদের বাসের কোনো সমস্যা না থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চলতে দিচ্ছে। তারাও চালাচ্ছে। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় দেখা যায়, জাবালে নূরের অনেক গাড়ি সারি সারি দিয়ে রাখা হয়েছে। উত্তর বাড্ডা, নতুনবাজার ও উত্তরা এলাকায়ও বাসগুলো চলাচল করতে দেখা যায়। যাত্রীরা বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই মিরপুর-উত্তর বাড্ডা রুটে জাবালে নূরের বাসগুলো চলাচল করছে। জাবালে নূর পরিবহন দুটি রুটে চলাচল করতো।

এর একটি মিরপুর ১ নম্বর থেকে উত্তর বাড্ডা পর্যন্ত, অন্যটি হলো মিরপুর ১ নম্বর থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত। বাসগুলো শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় সাময়িকভাবে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও আন্দোলন থেমে গেলে আস্তে আস্তে স্বনামে চলাচল করতে শুরু করে। জাবালে নূরের এক চালক মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাগোর বাসে কোনো সমস্যা নাই। তাই গত নভেম্বর মাস থেকে চলছে।’ ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের পর কিছুদিন বন্ধ ছিল। তার কিছুদিন পর আন্দোলন থামলে মালিকরা আবার নামিয়েছে গাড়ি।

গত বছরের ২৯শে জুলাই বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূরের বেপরোয়া দুই বাসের প্রতিযোগিতায় চাপা পড়ে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দিয়া খানম মীম ও আবদুল করিম রাজিক নামের দুই শিক্ষার্থী নিহত ও ৯ জন আহত হন। ওই ঘটনার পর ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে এসে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ ?শুরু করে। পরে সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পুরো রাজধানীতে। একপর্যায়ে ওই দুর্ঘটনার জন্য জাবালে নূরকে দায়ী করে এবং সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভে নামে স্কুলশিক্ষার্থীরা। এই বিক্ষোভের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা যানবাহন ও এর চালকের কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স তল্লাশি করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সর্বস্তরের জনগণ সমর্থন দেয়। সরকারও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা সংস্কারে ব্যাপক উদ্যোগ নেয়।

আন্দোলনের একপর্যায় রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ওই পরিবহনের কোনো গাড়ি চলবে না বলে জানায় মালিকপক্ষ।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, প্রতিবাদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন অবৈধ চালকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি-বিআরটিএ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপিকে নির্দেশ দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ ছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’র খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

ওই দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী মীমের বাবা মো. জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করেন। গুরুত্ব বিবেচনায় পরে মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা উত্তর বিভাগকে দেয়া হয়। পরে বাসটির মালিক মো. শাহাদাৎ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১। উল্লেখ্য, এর কিছুদিন পর গত বছরের ৭ই নভেম্বর জাবালে নূরের মালিক শাহাদাতকে তিন মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তার মামলার কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়।

বিআরটিএ’র তথ্য অনুযায়ী জাবালে নূর পরিবহনকে দুইটি রুটে মাত্র ৭৯টি বাস চলাচলের অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় বৈধ অবৈধ মিলিয়ে রাজধানীতে প্রায় দেড় শতাধিক গাড়ি চালাচল করতো। পরে ঘাতক জাবালে নূর পরিবহনের মালিক শাহাদাৎ হোসেনকে গ্রেপ্তার ও দুইটি রুটেরই রুট পারমিট ও নিবন্ধন বাতিল করে কর্তৃপক্ষ।

বিআরটিএ’র ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মাসুদ আলম বলেন, জাবালে নূরের রুট পারমিট বাতিল হয়নি। যে দুটি বাস দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেই দুটি বাসের রুট পারমিট ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়েছে। তাই জাবালে নূর সড়কে চলছে।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ সরকারের উপর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ফের নামছে রাস্তায়


গত বছর শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও প্রশাসনের লোকজন বলেছিল সড়ক পরিবহনের অরাজকতাগুলো শিশুরা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এখন থেকে এসব অরজকতার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসব কথা বলেই শিক্ষার্থীদেরকে রাস্তা থেকে স্কুলে পাঠিয়েছিল সরকার।

কিন্তু, এরপর সড়ক দুর্ঘটনা কি কমেছে? শৃঙ্খলা ফিরেছে সড়কে? শিক্ষার্থীদের দেয়া দাবিগুলো কি সরকার বাস্তবায়ন করেছে? বেপরোয়া চালকদেরকে কি সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে? এসব প্রশ্নের উত্তর একটাই – না। বরং আগের চেয়ে সড়ক দুর্ঘটনা আরও বেড়েছে। চালকরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একাধিকবার স্বীকারও করেছেন যে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরেনি। মূলত সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি সরকার রক্ষা করেনি। যার কারণে প্রতিদিনই সড়কে ঝরছে নারী-পুরুষ ও শিশুদের প্রাণ।

সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে বসুন্ধরা এলাকয় যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে বাড্ডা-রামপুরা রোডের দানব হিসেবে পরিচিত সু-প্রভাত পরিবহনের বাসের চাপায় প্রাণ গেল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেসনালস এর শিক্ষার্থী আবরার আহমদ চৌধুরীর। জানা গেছে, দুটি বাস যাত্রী নেয়ার জন্য ধাক্কাধাক্কি করে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আবরারকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ও ১২ দফা দাবিতে তার সহপাঠীরা ওই এলাকায় সারাদিন বিক্ষোভ করেছে। মেয়র আতিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের লোকজন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে গেলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সাড়া দেয়নি। শিক্ষার্থীরা মেয়রকে জানিয়ে দিয়েছে যে, গত বছরও আপনারা এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু একটি দাবিও বাস্তবায়ন করেননি। যার কারণে আজও আমাদের একজন সহপাঠীকে আমরা হারালাম। শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবারের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করেছে। বুধবার সকাল থেকে ১২ দফা দাবিতে তারা আবারো রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে বুধবার সকালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে অভিভাবকদেরকেও আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর আরও একাধিক এলাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামবে।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন কোটা আন্দোলনের নেতা ও ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর। মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি একাত্মতা ঘোষণা করে বলেছেন, ছাত্রদের আন্দোলনে যদি আগের মতো এবার আঘাত আসে তাহলে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে।

রাজনীতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মানুষ মনে করছেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য সরকার গত বছর শিক্ষার্থীদের কাছে প্রতিশ্রতি দিয়েছিল। এক বছর পার হলেও সড়কে কোনো শৃঙ্খলা ফিরেনি। সরকারের এই ভাওতাবাজির কারণেই মূলত শিক্ষার্থীরা আবার মাঠে নামছে। কারণ, শিক্ষার্থীরা এখন আর সরকারের কথা বিশ্বাস করতে পারছে না। এবার যদি রাস্তায় নামে তাহলে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাস্তা নাও ছাড়তে পারে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ বাসচাপায় বিইউপি ছাত্র নিহত, চালকের ফাঁসির দাবিতে সড়কে শিক্ষার্থীরা


রাজধানীর রামপুরা সড়কে বেপরোয়া বাসচাপায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।ঘাতক সুপ্রভাত পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল, ঘাতক চালকের ফাঁসির দাবিসহ ১২ দফা দাবিতে নানা স্লোগান দিচ্ছে তারা।

ছাত্র বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়েছে রাজধানীর ব্যস্ততম বাড্ডা-রামপুরা সড়ক। সড়কের দুপাশেই অবস্থান নিয়ে আছে তারা।দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সড়ক ছাড়বে না বলে জানিয়েছে তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা নানা স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করছে।তারা বাসচাপায় নিহত সহপাঠীর বিচার দাবিতে নানা স্লোগান দিচ্ছে।এই সড়কে যান চলাচল একেবারেই বন্ধ রয়েছে।

এদিকে বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় রাস্তা বন্ধ করে অবরোধকারী শিক্ষার্থীদের কাছে যান ঢাকা সিটি উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া যত দ্রুত সম্ভব মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন। সেইসঙ্গে লিখিতভাবে দাবিগুলো উত্থাপনের অনুরোধ জানান।শিক্ষার্থীরা মেয়রের কাছে দাবিগুলো জানালেও সড়ক ছাড়ছে না।

১২ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১) ১০ দিনের মধ্যে সুপ্রভাত বাসের চালক, হেলপার ও মালিকের ফাঁসি;

২) সু-প্রভাত ও জাবালে নূরসহ যেসব বাস আজ ও এর আগে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে সেসব বাসের রুট পারমিট বাতিল;

৩) চালক হেলপারের ডোপ টেস্ট;

৪) বাস-সহ গণপরিবহনের চালক-হেলপারের আইডি কার্ড ভিজিবল করা;

৫) বসুন্ধরা আবাসিক/যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে জেব্রা ক্রসিংসহ নিহত আবরারের নামে ফুটওভার ব্রিজ করতে হবে দুই মাসের মধ্যে।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর নর্দা-বসুন্ধরা এলাকায় দ্রুতগতিতে চালিয়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসের চাপায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে যাওয়া ওই বাসচালককে এবং জব্দ করা হয়েছে বাসটিকে।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম আবরার আহমেদ চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালে (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিইউপির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তার বাবা আরিফ আহমেদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ওই শিক্ষার্থী রাস্তা পারাপারের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আবরার বসুন্ধরা এলাকায় থাকতেন। আবরারের লাশ রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শিক্ষার্থীদের বহনকারী বিইউপির একটি বাস সকালে বসুন্ধরা এলাকায় সড়কে দাঁড়িয়েছিল। সকাল সোয়া ৭টার দিকে আবরার বাসে উঠতে যাচ্ছিলেন। এ সময় পাশে থাকা গাজীপুরগামী সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একই পরিবহনের অপর একটি বাসকে ওভারটেক করার জন্য বেপরোয়া গতিতে সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটি চালাচ্ছিলেন চালক। দুর্ঘটনার পর নিহত ছাত্রের সহপাঠীরা বাসটি আটক করেন। এ সময় চালক ও হেলপার পালানোর চেষ্টা করেন। পরে চালক সিরাজুল ইসলামকে ধরে ফেলেন শিক্ষার্থীরা।

রাজধানীতে ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ’ চলার মধ্যেই এ দুর্ঘটনা ঘটল। নিহত শিক্ষার্থী নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে জড়িত ছিলেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নিরাপদ সড়ক চাওয়া শিক্ষার্থীর প্রাণ গেল সড়কেই


রাজধানীর নর্দা-বসুন্ধরা এলাকায় বেপরোয়া বাসের চাপায় নিহত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী নিরাপদ সড়কের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন।নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে সমর্থন ছিল তার।সেই সমর্থনের কথা জানা যায় আবরারের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে।অথচ তার প্রাণ গেল সড়কেই।

আবরারের ফেসবুক প্রোফাইলে ঢুকে দেয়া গেছে, রাজধানীতে নিরাপদ সড়ক দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলন চলাকালে আববার সেই আন্দোলনে সমর্থন দেন। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক ওই আন্দোলনে প্রতি একাত্বতা প্রকাশ করে তিনি ফেসবুকে প্রোফাইলে ছবি দেন। ছবির নিচে লেখা ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ স্টিকার দেয়া। গত বছরের ২ আগস্ট ছবিটি পোস্ট করেন আবরার।ওই সময় নিরাপদ সড়ক দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলনে উত্তাল ছিল সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

গত বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা হাসপাতালের সামনের সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুলের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন।এর প্রতিবাদে গত বছরের ২৯ জুলাই থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর পাশাপাশির সারাদেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে।২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলে ওই আন্দোলন।

সেই আন্দোলনে সমর্থন ছিল আজকের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আববারের। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালে (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিইউপির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তার বাবা আরিফ আহমেদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ওই শিক্ষার্থী রাস্তা পারাপারের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আবরার বসুন্ধরা এলাকায় থাকতেন। আবরারের লাশ রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শিক্ষার্থীদের বহনকারী বিইউপির একটি বাস সকালে বসুন্ধরা এলাকায় সড়কে দাঁড়িয়েছিল। সকাল সোয়া ৭টার দিকে আবরার বাসে উঠতে যাচ্ছিলেন। এ সময় পাশে থাকা গাজীপুরগামী সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একই পরিবহনের অপর একটি বাসকে ওভারটেক করার জন্য বেপরোয়া গতিতে সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটি চালাচ্ছিলেন চালক। দুর্ঘটনার পর নিহত ছাত্রের সহপাঠীরা বাসটি আটক করেন। এ সময় চালক ও হেলপার পালানোর চেষ্টা করেন। পরে চালক সিরাজুল ইসলামকে ধরে ফেলেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে ছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা এ সময় সুপ্রভাত পরিবহনের সব বাস আটক করে রাস্তা বন্ধ করে মিছিল করতে থাকেন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী লোকজনসহ সব বাসযাত্রী। এ সময় তাদের পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করতে দেখা যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে ছাত্রদের শান্ত করার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থলে আসা গুলশান থানার এসআই মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে জানান, ঘাতক বাসটি আটক করে থানায় পাঠানো হয়েছে। চালককেও আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

রাজধানীতে ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ’ চলার মধ্যেই এ দুর্ঘটনা ঘটল। সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় রাজধানীতে গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে পঞ্চমবারের মতো ট্রাফিক সপ্তাহ।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ রাজধানীতে বেপরোয়া বাস পিষে মারল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে


রাজধানীর নর্দা-বসুন্ধরা এলাকায় দ্রুতগতিতে চালিয়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসের চাপায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে যাওয়া ওই বাসচালককে এবং জব্দ করা হয়েছে বাসটিকে।

এদিকে বাসচাপায় সহপাঠীর মৃত্যুর প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে রামপুরা সড়কের নর্দা-বসুন্ধরা এলাকায় সড়ক আটকিয়ে অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিশ্বরোড এলাকার পর থেকে গণপরিবহনগুলো আর সামনে এগোচ্ছে না। দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন অফিসগামী মানুষ।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম আবরার আহমেদ চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালে (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিইউপির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তার বাবা আরিফ আহমেদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ওই শিক্ষার্থী রাস্তা পারাপারের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আবরার বসুন্ধরা এলাকায় থাকতেন। আবরারের লাশ রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শিক্ষার্থীদের বহনকারী বিইউপির একটি বাস সকালে বসুন্ধরা এলাকায় সড়কে দাঁড়িয়েছিল। সকাল সোয়া ৭টার দিকে আবরার বাসে উঠতে যাচ্ছিলেন। এ সময় পাশে থাকা গাজীপুরগামী সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একই পরিবহনের অপর একটি বাসকে ওভারটেক করার জন্য বেপরোয়া গতিতে সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটি চালাচ্ছিলেন চালক। দুর্ঘটনার পর নিহত ছাত্রের সহপাঠীরা বাসটি আটক করেন। এ সময় চালক ও হেলপার পালানোর চেষ্টা করেন। পরে চালক সিরাজুল ইসলামকে ধরে ফেলেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে ছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা এ সময় সুপ্রভাত পরিবহনের সব বাস আটক করে রাস্তা বন্ধ করে মিছিল করতে থাকেন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী লোকজনসহ সব বাসযাত্রী। এ সময় তাদের পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করতে দেখা যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে ছাত্রদের শান্ত করার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থলে আসা গুলশান থানার এসআই মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে জানান, ঘাতক বাসটি আটক করে থানায় পাঠানো হয়েছে। চালককেও আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

রাজধানীতে ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ’ চলার মধ্যেই এ দুর্ঘটনা ঘটল। নিহত শিক্ষার্থী নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে জড়িত ছিলেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে গুম: ফিরে আসা ব্যক্তিদের থেকে কিছু জানা যায়না কেন?


প্রায় ১৫ মাস নিখোঁজ থাকার পর গতকাল নিজ বাড়িতে ফিরে এসেছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। তবে তিনি কোথায় কি অবস্থায় ছিলেন এবং ফিরলেন কিভাবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১টার দিকে মারুফ জামান একা একাই তার ধানমন্ডির বাসায় ফিরে আসেন। বাড়ির ম্যানেজার তাকে দেখতে পেয়ে ওপরে নিয়ে যান। এ সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গেছে।

মিস্টার জামানের মেয়ে গতকাল তার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বাবার ফিরে আসার খবরটি নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে আর কিছু জানতে না চাওয়ার অনুরোধ করেন। এমনকি পুলিশের সঙ্গেও এখন কথা বলছেন না তারা।

পুলিশ কি বলছে?

ধানমন্ডি থানার ওসি আব্দুল লতিফ বলেন,”মারুফ জামানের মেয়ে আমাদেরকে জানিয়েছেন যে তার বাবা ফিরে এসেছেন। তাদের ভবনের ম্যানেজার তাকে দেখতে পেয়ে বাসার ভেতরে নিয়ে আসেন।”

মিস্টার মারুফের মেয়ে তার বাবার সঙ্গে কাউকেই এখন পর্যন্ত দেখা করতে দেননি। তাই তিনি কিভাবে ফিরেছেন, কোথা থেকে এসেছেন, কে দিয়ে গেছেন- কোন কিছুই জানা সম্ভব হয়নি।

ওসি আব্দুল লতিফ বলেন,”মারুফ জামানের খোঁজ নিতে আমার দুইজন লোক ওনার বাসায় গেলে তার মেয়ে বলেছেন যে উনি অসুস্থ। কোন কথা বলবেন না। একটু সুস্থ হওয়ার পর কথা বলবেন।”

মিস্টার জামান কিছু জানালে যদি কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকে তাহলে পুলিশ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে জানান ওসি আব্দুল লতিফ।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনেক পরিবারের অভিযোগ তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সহযোগিতা পাননা।

আশার আলো দেখছেন নিখোঁজদের পরিবার:

২০১৭ সালের চৌঠা ডিসেম্বর মারুফ জামান নিজ বাড়ি থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন।

তারও চার বছর আগে জাতীয় নির্বাচনের সময় আরো কয়েকজনের সঙ্গে নিখোঁজ হয়েছিলেন সাজেদুল ইসলাম নামে বিএনপির এক সংগঠক।

গত ছয় বছর ধরে প্রিয়জনের খোঁজ না পেলেও মিস্টার জামানের ফিরে আসা নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে সাজেদুলের পরিবারে।

তবে হাইকোর্টের রুল জারি সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত ভাইয়ের সন্ধানে কোন অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ জানান নিখোঁজের বোন সানজিদা ইসলাম।

“এটা আমাদের জন্য আশা যে ১৫ মাস পরে যদি মারুফ জামান ফিরে আসেন, তাহলে নিখোঁজ অন্যরাও ফিরতে পারেন।”

“আমরাও ভাইয়ের সন্ধানের দাবিতে অনেক সংবাদ সম্মেলন করেছি। মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে তারা দেখবেন। কিন্তু তারা কোন তদন্ত করেনি।”

কেন তারা নীরব?

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে অন্তত ৩১০জন গুমের শিকার হয়েছেন৷ তাদের মধ্যে ৩৩ জন ফেরত এসেছেন৷

তবে যারা ফিরে এসেছেন তাদের সঙ্গে কি ঘটেছিলো সে ব্যাপারে প্রায় কেউই মুখ খোলেননি।

রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনি কাঠামোর ওপর আস্থাহীনতা এই নীরবতার বড় কারণ বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মী এবং গুম পরিস্থিতির গবেষক নূর খান।

“রাষ্ট্র বা আইনশৃঙ্খলা-বাহিনীর পক্ষ থেকে এমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায়না, যার কারণে তারা ছাড়া পাচ্ছেন এবং যারা তাদের আটক করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে।”

এছাড়া এতো দীর্ঘ সময় কাউকে আটক রাখা কোন দুষ্কৃতিকারী দলের পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটা কেবল তাদের পক্ষেই সম্ভব যারা অনেক শক্তিশালী এবং নির্দেশিত পন্থায় কাজ করে।”

এ পর্যন্ত যারা ফিরে এসেছেন তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন নূর খান।

তিনি জানান প্রত্যেকের বক্তব্যে এটাই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে তাদেরকে এমন জায়গায় রাখা হতো যেখানে সাধারণ মানুষের চলাচলের সুযোগ নেই এবং আটককারীরা প্রশিক্ষিত গ্রুপের সদস্য।

তবে তারা এই কথাগুলো প্রকাশ্যে আনতে চান না, আরেকটি বিপর্যয় ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায়।গুম ঠেকাতে কি প্রয়োজন?

তবে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ফিরে আসা প্রত্যেকের অভিজ্ঞতাগুলো সামনে আনা জরুরি বলে মনে করেন মানবাধিকার-কর্মী সুলতানা কামাল।

যেসব আশঙ্কা ও হুমকির কারণে এই মানুষগুলো মুখ খুলতে ভয় পান সেই ভয় দূর করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর আরও জোরালো ভূমিকা নেয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

সুলতানা কামাল বলেন, “এর আগে যারা হারিয়ে গিয়েছিলেন, পরে ফিরে এসেছেন, তাদের কাছে আমরা প্রশ্ন রেখেছিলাম, তার মধ্যে একটি উত্তর এমন ছিল যে, ছেলেমেয়ের ওপর যখন হুমকি আসে তখন মুখ খোলা কঠিন। তার মানে নিশ্চয়ই তাদেরকে এমনই কোন শর্ত দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। যার জন্য তারা মুখ খুলতে ভয় পান।”

“কিন্তু এটা আমি মনে করি তাদেরও একটা দায়িত্ব জানানো যে কি হয়েছিল না হয়েছিল। তাহলে আমরাও হয়তো এটা সুরাহা করার একটা পথ পেতাম। তাছাড়া আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তারাই বা এটার সুরাহা করেননা কেন?”

নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনের অভিযোগ, তারা প্রিয়জনের খোঁজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করলেও এখনও কোনটির তদন্ত শুরু করা হয়নি।

এমন অবস্থায় প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।

উৎসঃ বিবিসি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here