কাদিয়ানী সম্মেলন বন্ধ না হলে আন্দোলনে নামব: আল্লামা আহমদ শফী

0
304

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, পঞ্চগড়ে কাদিয়ানীদের তিন দিনব্যাপী সম্মেলন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তা না হলে আমি নিজে আন্দোলনে শরিক হব।

মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় হেফাজতের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ হুশিয়ারি দিয়ে কাদিয়ানীদের সম্মেলন বন্ধ করে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজত আমির।

বিবৃতিতে হেফাজত আমির বলেন, কাদিয়ানীদের এই সম্মেলন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে যারা আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি। কাদিয়ানীদের এ সম্মেলন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্যে সর্বস্তরের মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। যদি এ সম্মেলন বন্ধ করা না হয় প্রয়োজনে আমি পঞ্চগড়ে গিয়ে আন্দোলনে শরিক হব।

কাদিয়ানীরা পাঞ্জাবের মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে নতুন নবী মানে এমনটা দাবি করে বিবৃতিতে আল্লামা শফী বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-কে সর্বশেষ নবী মানে না। তাই তারা নিশ্চিতভাবে কাফের। অথচ তারা নিজেদেরকে আহমদিয়া মুসলিম পরিচয় দিয়ে সাধারণ মুসলমানদের সঙ্গে প্রতারণা করে। এরই অংশ হলো- পঞ্চগড়ে তিন দিনব্যাপী (২২, ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি) কাদিয়ানী সম্মেলন।

তিনি আরও বলেন, খতমে নবুওয়াতের বরকতময় আন্দোলন যারা করছেন, তারাসহ সব দ্বীনি আন্দোলনের নেতাকর্মীদের কালবিলম্ব না করে পঞ্চগড় গিয়ে প্রিয় নবীজির খতমে নবুওয়াতের চিরশত্রু কাফের কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।

এদিকে কাদিয়ানীদের তিন দিনব্যাপী সম্মেলন অবিলম্বে বন্ধের দাবিতে বুধবার সকাল ১১টায় হাটহাজারী মাদ্রাসায় সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেয়া হয়েছে বলে জানান হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কাদিয়ানীদের পক্ষাবলম্বনকারী রেলমন্ত্রী সুজনের পদত্যাগ দাবি আলেমদের


মানবতার মুক্তির দূত মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেষনবী হিসেবে অস্বীকারকারী কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের পক্ষাবলম্বন করায় রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের পদত্যাগ দাবী করেছেন দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম।

রবিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আর্ন্তজাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি করা হয়।

কাদিয়ানী সম্প্রদায় (আহমদিয়া জামাত)-এর পক্ষ থেকে আগামী ২২, ২৩ ও ২৪, ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড় জেলায় ’’জাতীয় ইজতেমা’’ নামক দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ঈমান আকীদা বিধ্বংসী অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রতিবাদ ও অনতিবিলম্বে তা বন্ধের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সহ-সভাপতি আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী, সেক্রেটারি মাওলানা নূরুল ইসলাম, মুধুপুরের পীর মাওলানা আব্দুল হামীদ, মাওলানা মহিউদ্দীন রাব্বানী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা নুরুল আমীন, ছারছীনার পীর সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী, মাওলানা জহুরুল ইসলাম, মাওলানা মাসউদুল করীম, মাওলানা হাসান জামীল, মাওলানা শরীফ উল্লাহ, মাওলানা ইউনুস ঢালী, মুফতী শিব্বির আহমদ কাসেমী, মুফতী ইমরানুল বারী সিরাজী, মাওলানা মাসউদ আহমদ, মাওলানা রাশেদ বিন নূর, মাওলানা আশিকউল্লাহ প্রমূখ।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমসহ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষাণা করা হয়। এবং পঞ্চগড়ে মুসলমানদের ২১-২৫ ফেব্রুয়ারীর ইসলামী মহাসম্মেলন যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়নের ঘোষাণা দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, শেষনবীকে অস্বীকারকারী কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের পক্ষ অবলম্বন করে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ওলামায়ে কেরামের মজলিসে বলেছেন, আমি নিজে তাদের (কাদিয়ানি) ওখানে গিয়েছি এবং খেয়েছি। কোনো খারাপ কিছু তো দেখলাম না। তারা তো ভালো।

উৎসঃ ‌ইসলাম টাইমস

আরও পড়ুনঃ কাদিয়ানিদের পক্ষ-নেওয়া মন্ত্রী মুসলমানের জন্য কল্যাণকামী হতে পারেন না : মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া


মুসলমানদের ঈমানশূণ্য করার জন্য সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তি যে সব গোষ্ঠি বা সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছে তার মধ্যে ভয়ঙ্কর একটি গোষ্ঠির নাম কাদিয়ানী৷ এরা মুসলমানদের ঈমানশূন্য করার পাশাপাশি কুফরি শক্তির সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের উপর যুলুম-নির্যাতন করে আসছে৷ ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তান আর্মির কাদিয়ানি সদস্যরা আমাদের মা বোনদের ধর্ষণ, লুটতরাজ, বাড়ি-ঘর অগ্নিসংযোগসহ ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ বেশি চালিয়েছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়৷ এ দেশীয় কাদিয়ানিরাও পাক আর্মিকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছিল৷ এ থেকে প্রমাণিত হয় কাদিয়ানি সম্প্রদায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী ছিল৷

কাদিয়ানিরা ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামেরও বিপক্ষে ছিল৷ তাদের মতে, দখলদার ইংরেজদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা হারাম৷ কুফরি শক্তির মদদপুষ্ট কাদিয়ানি সম্প্রদায় সর্বদা মুসলিম উম্মাহর স্বার্থবিরোধী ভূমিকায় অবস্থান নিয়ে থাকে৷ এরা সব সময় মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত৷ ইসলামের ছদ্মাবরণে সরলমনা মুসলমানদের মুরতাদ বানানোই এদের প্রাধান টার্গেট৷ মুসলিম রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের অপতৎপরতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এরা৷ ধর্মীয় সম্প্রীতি ধ্বংসে কাদিয়ানি সম্প্রদায় সদা তৎপর৷ ইসলামি তাহজিব-তামাদ্দুন, সংস্কৃতিকে অনৈসলামিক করণে ইয়াহুদ-নাসারাদের সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করে৷

কাদিয়ানিরা সরলপ্রাণ মুসলমানদের ধোঁকা দেয়ার জন্য নিজেদের আহমদী মুসলিম জামাত নামে পরিচয় দিয়ে থাকে৷ তাদের ইবাদতখানাকে মসজিদ বলে৷ ইবাদতখানা সামনে বিশাল আকারে কালিমা লেখা শোভা পায়৷ প্রতারণাই হলো এদের মূল হাতিয়ার৷ অজ্ঞ, দরিদ্র ও অনগ্রসর মুসলমানদের প্রতারণার জালে ফাঁসাতে এরা সদা তৎপর৷ ইসলামের সংরক্ষিত পরিভাষা ব্যবহার করে তারা অতি সহজেই সরলপ্রাণ মুসলমানকে প্রতারিত করে থাকে৷ যা সাধারণত অন্য ধর্মাবলম্বীরা করে না৷

প্রত্যেক ধর্মের কিছু সংরক্ষিত পরিভাষা রয়েছে৷ প্রত্যেক ধর্মেরই বেশ কিছু স্বতন্ত্র ইবাদত-বন্দেগী রয়েছে৷ মৌলিক বোধ বিশ্বাসেও রয়েছে ভিন্নতা৷ এক ধর্মের পরিভাষা সাধারণত অপর ধর্মাবলম্বীরা ব্যবহার করে না৷ যদি কেউ করে তা কেবল প্রতারণা, শঠতা, ধোঁকাবাজির উদ্দেশ্যেই করে থাকে৷ আমরা দেখি, কাদিয়ানিরা ব্যাপকভাবে এবং খ্রিস্টানরা স্বল্প পরিসরে ইসলামি পরিভাষা ব্যবহার করে থাকে৷

ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিশ্বাস হলো আল্লাহ এক, তাঁর কোন শরিক নেই এবং মুহাম্মদ সা. সর্বশেষ নবী৷ তাঁরপরে আর কোন নবীর আগমন হবে না৷ কাদিয়ানীরা হযরত মুহাম্মদ সা.-কে শেষ নবী বলে বিশ্বাস করে না৷ তাই তারা মির্জা গোলাম আহমদকে নবী বলে বিশ্বাস করে৷

কাদিয়ানীদের ধর্মীয় প্রতারণা থেকে সাধারণ মুসলমানদের রক্ষা করতে হলে, তাদের জন্য ইসলামী পরিভাষার ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হলে, ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট রোধ করতে হলে, অনতিবিলম্বে অপরাপর মুসলিম দেশের ন্যায় কাদিয়ানীদের অমুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বলে ঘোষণা করতে হবে৷ এ দেশের উলামায়ে কেরামসহ ধর্মপ্রাণ মুসলমান দীর্ঘ দিন ধরে এ দাবি জানিয়ে আসছেন৷ কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় হলো, কোন সরকারই এ দাবির প্রতি সামান্যতম কর্ণপাত করেনি৷

যার ফলে তারা সংখ্যাঘরিষ্ঠ মুসলিম দেশে ধর্মীয় শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের অপচেষ্টা অনবরত করে চলেছে৷ এরই অংশ হিসেবে পঞ্চগড়ে তাদের জাতীয় ইজতেমার আয়োজন করা৷ জানা গেছে, এজন্য প্রায় আশি বিঘা জমির উপর প্যান্ডেল করছে৷ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত কাদিয়ানীরা এ ইজতিমায় শরিক হবে৷ বিশ্বের নানা দেশ থেকে প্রায় সাত হাজার কাদিয়ানী ধর্মাবলম্বীরা এ ইজতিমায় অংশগ্রহণ করবে৷ সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য জাতীয় ইজতেমা নাম দিয়েছে৷

শোনা যাচ্ছে, এ এলাকার সংসদ সদস্য যিনি রেল মন্ত্রীও বটে, কাদিয়ানীদের এ ইজতেমার পক্ষাবলম্বন করেছেন৷ তার ভাষায় কাদিয়ানীরা ভাল মানুষ৷ তাকে নিমন্ত্রণও করেছে তারা৷

দুঃখের বিষয়, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের একজন মন্ত্রীর কাছে কাদিয়ানীরা কিভাবে ভাল মানুষ হিসেবে বিবেচিত হয়? একজন মুসলমান দাবিদার কিভাবে কাদিয়ানীদের পক্ষাবলম্বন করতে পারে? যারা আকিদায়ে খতমে নবুওয়াতের দুশমন

মন্ত্রী কিভাবে তাদের দাওয়াত গ্রহণ করতে পারেন? খতমে নবুওয়াতের রাজ-সিংহাসনে যারা কুঠারাঘাত করে তাদের হয়ে একজন মন্ত্রী মুসলমানদের কী করে শাসাতে পারেন?

যে মন্ত্রী কাদিয়ানীদের পক্ষাবলম্বন করেন সে কখনও মুসলমানদের কল্যাণকামী হতে পারে না৷ এমন লোক মন্ত্রীসভায় থাকার উপযুক্ত কী করে হন? এমন লোককে মন্ত্রীসভা থেকে অপসারনের দাবীতে জনতা ফুঁসে উঠবে যে কোন সময় ৷

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট মুসলিম জনতার দাবি, পঞ্চগড়ে আহুত কাদিয়ানীদের ইজতিমা অবিলম্বে নিষিদ্ধ করুন, কাদিয়ানীভক্ত মন্ত্রীকে মন্ত্রীসভা থেকে অপসারন করুন ৷ তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সংখ্যালঘু অমুসলিম সম্প্রদায় ঘোষণা করুন ৷ তাদের জন্য ইসলামী পরিভাষার ব্যবহার আইনত দন্ডনীয় বলে জাতীয় সংসদে আইন পাশ করুন৷

উৎসঃ ‌ইসলাম টাইমস

আরও পড়ুনঃ কাদিয়ানীদের কথিত ইজতেমা বন্ধের দাবীতে হাটহাজারীতে বিক্ষোভ


বিশ্ব শান্তির দূত হযরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেষ নবী ও রাসুল হিসেবে অস্বীকারকারী কাদিয়ানী সম্প্রদায় কর্তৃক পঞ্চগড়ের আহমদনগরে আয়োজিত জাতীয় ইজতেমার নামে ঈমানবিধ্বংসী কার্যক্রম বন্ধ ও কাদিয়ানীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবীতে হাটহাজারী ডাক বাংলো চত্বরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে ৷

সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারী) বাদ আসর হাটহাজারী মাদরাসার মুহাদ্দীস মাওলানা আহমদ দীদার কাসেমীর সভাপতিত্বে
আন্তর্জাতিক তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশ হাটহাজারী শাখার উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযেগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

সমাবেশ বক্তারা বলেন, বিশ্বশান্তির দূত হযরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেষ নবী ও রাসুল হিসেবে অস্বীকারকারী কাদিয়ানীরা কাফের। বাংলাদেশ সংখ্যাঘরিষ্ট মুসলমানের দেশ। ৯০ভাগ মুসলমানের দেশে খতমে নবুওয়াত অস্বীকারকারীদের ঈমানবিধ্বংসী কোন কার্যক্রম চলতে দেয়া হবে না। অনতিবিলম্বে কাদিয়ানীদের ঈমান বিধ্বংসী ইজতেমা বন্ধ সহ রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদেরকে অমুসলিম ঘোষণার দাবী জানান বক্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন,মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি ইংরেজদের দালাল ৷ ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে তার অনুসারী কাদিয়ানীদের কোন ইজতেমা হতে দেয়া হবে না।

আকিদায়ে খতমে নবুওয়াত ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আকিদার ব্যপারে কাদিয়ানিদের সাথে কোন আপোষ হতে পারে না। কাদিয়ানীরা কাফের, তাদের সাথে মুসলমানদের বিবাহবন্ধন সহ সর্বপ্রকারের আত্মীয়তা সম্পর্ক করা হারাম। কাদিয়ানীরা অমুসলিম; তাদের কোন মসজিদ হতে পারে না। নামায, রোজা হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি ইসলামী পরিভাষা কাদিয়ানীরা ব্যবহার করতে পারবে না। কোন কাদিয়ানী মারা গেলে তার জানাযা পড়া যাবে না এবং মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করা যাবে না।

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, যদি অনতিবিলম্বে পঞ্চগড়ে কাদিয়ানীদের ঈমান বিধ্বংসী ইজতেমা বন্ধ করা না হয় তাহলে প্রয়োজনে লক্ষ কোটি তৌহিদী জনতাকে সাথে নিয়ে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে হলেও কাদিয়ানীদের ঈমান বিধ্বংসী সকল কার্মক্রম বন্ধ করা হবে।

প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে মিছিলটি বাসস্টেশন হয়ে রাঙ্গামাটি রোড ও কাচারী রোড প্রদক্ষিণ করে পূণরায় ডাক বাংলোতে এসে দুআর মাধ্যমে সমাপ্ত হয় ৷

সমাবেশে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, হাটহাজারি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনির, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী, আহসান উল্লাহ মাস্টার,মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ নোমানী, মাওলানা এমরান সিকদার, মাওলানা কামরুল কাছেমী, মাওলানা আব্দুল মাবুদ, মাওলানা হাফেজ নজরুল ইসলাম প্রমূখ ৷

উৎসঃ ‌insaf24

আরও পড়ুনঃ কাদিয়ানি ও তাদের দোসরদের শেষ রক্ষা হবে না: মাওলানা মামুনুল হক


যুব মজলিস সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেছেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের আন্দোলনের কারণে কাদিয়ানীরা এদেশে কোণঠাসা হয়ে গিয়েছিল। তারা ইঁদুরের গর্তে ঢুকতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু আজকে রাজপথে আমাদের দুর্বলতার সুযোগে তারা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এমনকি তারা পঞ্চগড়ে ইজতেমার ঘোষণা দিয়ে ঐ অঞ্চলকে অভিশপ্ত অঞ্চলে পরিণত করার পাঁয়তারা করছে। তাদের এই অপতৎপরতা রুখে দিতে হবে।

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন কাদিয়ানীদের পক্ষাবলম্বন করায় তার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ইসলাম বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করে মুরতাদ লতিফ সিদ্দিকীর শেষ রক্ষা হয় নাই। নুরুল ইসলাম সুজনেরও শেষ রক্ষা হবে না।

বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগরীর কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস কেরানীগঞ্জ শাখার জোন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

গত ৮ই ফেব্রুয়ারী শুক্রবার আঁটিবাজার সুচনা কমিউনিটি সেন্টারে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে নয়টায় শুরু হয়ে বেলা সোয়া বারোটায় শেষ হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের বিভিন্ন শাখার দায়িত্বশীলগণ বক্তব্য রাখেন।

সভাপতির বক্তব্যে কেরানীগঞ্জ শাখার সভাপতি আমিনুদ্দীন বলেন, আমাদের সবাইকে ইসলামী আন্দোলনের যোগ্য কর্মী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। নিয়মিত কর্মসূচিগুলোতে অংশগ্রহণ করতে হবে। এছাড়া আগামীতে যেকোনো ইসলাম বিরোধী তৎপরতা রুখে দাঁড়ানোর জন্য রাজপথে যুব মজলিসের সাথে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

কেরানীগঞ্জ শাখার সহসভাপতি মাওলানা জাহিদুল আলম, বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা মামুনুর রশিদের সঞ্চালনায় উক্ত সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সহকারী বাইতুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, যুব মজলিস ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা রাকিবুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান, বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আশরাফ,ঢাকা মহানগরীর মজলিসে আমেলার সদস্য মাওলানা শহিদুল ইসলাম, মাওলানা হাশমাতুল্লাহ, মাওলানা মুরশিদ আলম, মাওলানা আব্দুল্লাহ হাসান।আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস খ শাখার কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ আল আবিদ শাকির প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ইসলাম টাইমস

আরও পড়ুনঃ কাদিয়ানীদের পক্ষাবলম্বনকারী রেলমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী শীর্ষ আলেমদের


মানবতার মুক্তির দূত মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেষ নবী হিসেবে অস্বীকারকারী কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের পক্ষাবলম্বন করায় রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের পদত্যাগ দাবী করেছেন দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম।

রবিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আর্ন্তজাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবী করা হয়।

কাদিয়ানী সম্প্রদায় (আহমদিয়া জামাত) এর পক্ষ হতে আগামী ২২,২৩,২৪, ফেব্রুয়ারী পঞ্চগড় জেলায় ’’জাতীয় ইজতেমা’’ নামক দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ঈমান আকীদা বিধ্বংসী অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রতিবাদ ও অনতিবিলম্বে তা বন্ধের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সহ-সভাপতি আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী, সেক্রেটারি মাওলানা নূরুল ইসলাম, মুধুপুরের পীর মাওলানা আব্দুল হামীদ, মাওলানা মহিউদ্দীন রাব্বানী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, ছারছীনার পীর সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী, চিন্তক আলেম মাওলানা হাসান জামীল প্রমূখ।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারী বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষাণা করা হয়। এবং পঞ্চগড়ে মুসলমানদের ২১-২৫ ফেব্রুয়ারীর ইসলামী মহাসম্মেলন যে কোন মূল্যে বাস্তবায়নের ঘোষাণা দেয়া হয়।

উৎসঃ ‌ইনসাফ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here