আন্দোলনকারী দুই ছাত্রীর ওপর গাড়ি উঠিয়ে দিলেন জবি শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন

0
256
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন ও আহত ছাত্রী (ইনসেটে)। ছবি:

পুরান ঢাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন চলাকালীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দুই ছাত্রীর ওপর গাড়ি উঠিয়ে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক।

বুধবার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত দুই ছাত্রী হলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের (১০ম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ইমা আক্তার ও একই বিভাগের (১৪তম ব্যাচ) আয়েশা মোমেনা। এদের মধ্যে আয়েশাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ও পরে অ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, রাজধানীর প্রগতি সরণিতে বাসচাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বুধবার সকাল ৯টা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন।

এ সময় তারা প্রগতি সরণির ঘটনায় জড়িত বাসচালকের শাস্তি, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে স্পিড ব্রেকার নির্মাণসহ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের ডাবল ট্রিপ চালু, প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভার ব্রিজ ও স্পিড ব্রেকার নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটক থেকে লেগুনা স্ট্যান্ড তুলে দেয়ার দাবি জানান।

দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শেষ করেন।

এদিকে দুপুর ২টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের গাড়ির ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী আহত হন।

আহত এক শিক্ষার্থীকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরে অ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক আন্দোলন কর্মসূচি শেষ করে ক্যাম্পাস ফিরতে থাকেন। এ সময় প্রধান ফটকের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেনের গাড়ি (ঢাকা মেট্রো গ-১৭-৯৫৬৩) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী ইমা আক্তার ও আয়েশা মোমেনাকে ধাক্কা দেয়।

গাড়ির ধাক্কায় ইমা আক্তার ছিটকে পড়েন। কিন্তু আয়েশা মোমেনা গাড়ির ধাক্কায় গাড়ির সামনে পড়লেও আবার তার পায়ের ওপর দিয়ে গাড়ির চাকা তুলে দেন। বিশ্ববিদ্যালয় ওই শিক্ষক নতুন গাড়ি কিনে নিজে চালাচ্ছিলেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য শিক্ষার্থীরা গাড়িটি আটক করে আহত আয়শাকে শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে নেয়ার অনুরোধ করেন। এ সময় ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গাড়িটি ভাঙচুর করে। পরে গাড়ি ভাঙচুর থামালে শিক্ষক গাড়িটি নিয়ে চলে যান। পরে আয়েশাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সযোগে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল ও পরে অ্যাপালো হাসপাতালে নেয়া হয়।

আহত শিক্ষার্থী ইমা আক্তার জানান,আমরা দুজন ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকার আমাদের ধাক্কা দেয়। আমি দূরে ছিটকে পড়লেও আয়েশার ওপর দিয়ে গাড়ি উঠিয়ে দেয়া হয়। পরে আহত আয়েশাকে ওই শিক্ষকের গাড়িতে নিতে চাইলে তিনি রাজি হননি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের তিনটি দাবির মধ্যে দ্বিতীয় ফটকের সামনের লেগুনা স্ট্যান্ড তুলে দেয়া হয়েছে। বাকি দুটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। আর আহত শিক্ষার্থী আয়েশাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। আয়েশার চিকিৎসাভার শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন নিজে নিয়েছেন।

আইন বিভাগের শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ব্রেক কাজ না করার জন্য দুর্ঘটনাটা ঘটে। আমি আহত শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছি। আর আমি তাকে গাড়িতে নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে কিছু শিক্ষার্থী আমার গাড়িতে হামলা চালায়।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ গোপন বৈঠক করা সেই ইউএনও প্রত্যাহার হচ্ছেন!


আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে ‘গোপন বৈঠক’ করার অভিযোগে লোহাগাড়া উপজেলা ‘বিতর্কিত’ নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু আসলামকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাতে নির্বাচন কমিশন থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুলের সঙ্গে গোপন বৈঠক করার অভিযোগে ১৮ মার্চ নির্বাচন কমিশন বরাবরে অভিযোগ দেন আওয়ামী লীগ মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ও লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী।

নির্বাচন কমিশনে পাঠানো চিঠিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খোরশেদ আলম উল্লেখ করেন- ‘গত ১৬ মার্চ সন্ধ্যায় লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু আসলাম তার সরকারি বাসভবনে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক বাবুলের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন। বৈঠকের পর জিয়াউল হক বাবুল এলাকায় হাকাবকা করে বলেন যে- ইউএনও সাহেবের সঙ্গে আমার সমঝোতা হয়ে গেছে। ভোট পাই আর না পাই আমাকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হবে।’

সূত্র জানায়, মূলত ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু আসলামকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার জেরে এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গেও বিরোধে জড়ান ইউএনও আবু আসলাম।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘লোহাগাড়ার ইউএনও আবু আসলামকে প্রত্যাহার করার আদেশ সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের চিঠি আমরা পেয়েছি। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এখনও কোনো নির্দেশনা আসেনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রাণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন এলেই সঙ্গে সঙ্গে তাকে প্রত্যাহার করে নেয়া হবে।’

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আবরারের আগে এক তরুণীকে চাপা দেয় সু-প্রভাতের সেই চালক সিরাজুল


রাজধানীর প্রগতি সরণিতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীকে চাপা দেয়ার আগে শাহজাদপুরের বাঁশতলায় এক তরুণীকে চাপা দিয়ে আহত করে এসেছিল সেই ঘাতক সু-প্রভাত বাস।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছে বাসটির চালক সিরাজুল ইসলাম (২৪)।

আহত সিনথিয়া সুলতানা নামে ওই তরুণী বর্তমানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক সু-প্রভাতের বাসটির চালক সিরাজুল ইসলাম জানায়, পথচারী ওই তরুণীকে চাপা দিয়ে সে পালিয়ে আসে। এরপর প্রগতি সরণি রোডে জেব্রা ক্রসিংয়ে আবরারকে চাপা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে এ দুর্ঘটনায় রাতে নিহত আবরারের বাবা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আরিফ আহমেদ চৌধুরী বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে বাসচালক ও তার সহকারী এবং মালিককে।

গুলশান থানার এসআই খোরশেদ আলম জানান, বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার নিহতের ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে রাতে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় চালক, হেলপারসহ মালিককে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য পরিদর্শক (অপারেশন) আমিনুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এদিকে আবরারের বাবার দায়েরকৃত মামলাতেও ওই তরুণীকে চাপা দেয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় সু-প্রভাতের ওই বাসচালক বেপরোয়া, তাচ্ছিল্যপূর্ণ ও দ্রুতগতিতে বাস চালিয়ে পথচারীকে জখমসহ মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়।

অন্যদিকে গ্রেফতার বাসচালক সিরাজুল ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

গুলশান থানার ওসি (অপারেশন) আমিনুল ইসলাম বুধবার বিকাল পৌনে ৩টার পর তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে চালকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর প্রগতি সরণি এলাকায় সু-প্রভাত (ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫) বাসের চাপায় বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহত হন।

পরে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর ধারাবাহিকতায় বুধবারও রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ভাগ হয়ে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ রাজশাহীর এক বাড়িতেই গড়ে উঠেছিল ‘টাকশাল’ তৈরি হতো জালটাকা

রাজশাহী জেলা

রাজশাহীর এক বাড়িতেই গড়ে উঠেছিল ‘টাকশাল’। তৈরি হতো হাজার হাজার জালটাকা। আসল ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হতো জাল ১ লাখ টাকা। আর এ জালটাকা মাদক কিনতে ব্যবহার করা হতো। এই চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রাজশাহী মহানগরের কাটাখালি থানার শ্যামপুর পশ্চিমপাড়া মহল্লার সামাউন আলীর ছেলে জনি হাসান (২৪), একই এলাকার মাসুদ রানার ছেলে জনি আলী (২২), জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে ইনসান মিয়া (২২) এবং পবা উপজেলার হরিয়ান পশ্চিমপাড়া গ্রামের রেজাউল করিম রেজুর ছেলে সুমন রানা (২৪)।

এই চার তরুণের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ৮ লাখ ১২ হাজার জালটাকা।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল মঙ্গলবার রাতে কাটাখালি থানার দেওয়ানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

বুধবার দুপুরে মহানগর ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে জালটাকাসহ তাদের গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে হাজির করা হয়।

সেখানে ডিবি পুলিশের উপকমিশনার আবু আহাম্মদ আল মামুন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই চারজনকে ৮১২টি ১ হাজার টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার করা হয়। অভিযানের সময় তারা নোটগুলো বিক্রির জন্য একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। তাদের সবার কাছেই জালনোট পাওয়া গেছে।

গ্রেফতারের পর তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমনের দোতলা বাড়ির নিচতলা থেকে জালনোট তৈরির প্রিন্টার ও কাগজসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয় বলে তিনি জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, সুমন রানা রাজশাহী কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। অন্য তিনজন স্বল্প শিক্ষিত। গ্রাফিক্সে পারদর্শী সুমন জালনোট তৈরি করতেন। জনি হাসান ও জনি আলী বিভিন্ন স্থানে জালনোট বিক্রি করতেন। আর ইনসান মিয়া একজন মাদক ব্যবসায়ী। তিনি জালনোট দিয়ে মাদক কিনে প্রতারিত করতেন।

ইতিপূর্বে ইনসান মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন। তবে পবা উপজেলার দামকুড়া বাজারে ইনসানের মোটরসাইকেল মেকানিকের দোকান আছে। মেকানিকের কাজের আড়ালে এসব অপকর্ম করেন তিনি।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, জনি হাসান শিবির ও জনি আলী ছাত্রদল করেন। তারা জানিয়েছেন, ইতিপূর্বে তারা প্রায় ৭ লাখ জালটাকা বিক্রি করেছেন। তারা যাদের কাছে এসব নোট বিক্রি করেছেন তাদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

গ্রেফতারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে রাতেই বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারেও পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুটি বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। সেদিন দুই বাড়ি থেকে ৬০ লাখ ভারতীয় জাল রুপি জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত হন দুজন। এদের মধ্যে রাজশাহীতে গ্রেফতার হওয়া দরদুজ্জামান বিশ্বাস ওরফে জামান (৫৭) দেশে টাকা জালচক্রের মূলহোতা।

১৯৮৮ সাল থেকে জালটাকা এবং ভারতীয় জাল রুপি তৈরির এই কারিগর বরাবরই থাকেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘মোস্ট ওয়ানটেড’ তালিকায়।

দরদুজ্জামানের সঙ্গে গ্রেফতারকৃত চারজনের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না জানতে চাইলে নগর ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা আবু আহাম্মদ আল মামুন বলেন, এটি এখনও নিশ্চিত নয়। তবে তারা কারও না কারও কাছে জালটাকা তৈরির কৌশল শিখেছেন। সে ব্যাপারে কিছু তথ্যও পাওয়া গেছে। সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জালটাকার কারিগরদের ধরতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘আমি কিছু করিনি’ আকুতি জানিয়েও রেহাই পায়নি শিশুটি (ভিডিও)


ব্যস্তবহুল বাজারের একটি সড়কে আবারও নির্যাতিত হল ৫ থেকে ৭ বছর বয়সী এক শিশু। কাঠ চুরির অপবাদ দিয়ে ওই শিশুকে নির্যাতন করা হয় বলে জানা গেছে।

এ ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার আমতলি বাজারের সড়কে।

ওই শিশুকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার ফেসবুকে আমরাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামের একটি গ্রুপ পেইজে ওই শিশুকে নির্যাতনের ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করে।

ভিডিওঃ ‘ ‘আমি কিছু করিনি’ আকুতি জানিয়েও রেহাই পায়নি শিশুটি (ভিডিও)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ভিডিওটিতে দেখা গেছে, মাঝ বয়সী এক ব্যক্তি ওই শিশুটির চড়-থাপ্পর দিতে দিতে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এসময় শিশুটি নির্যাতনকারীর পায়ে ধরে ‘আমি কিছু করিনি’ বলে কেঁদে কেঁদে বারবার আকুতি জানাচ্ছে। কিন্তু তাতে মন গলছে না নির্যাতনকারীর।

ভিডিওটি দেখে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অনেকেই ওই নির্যাতনকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তবে ওই শিশু ও নির্যাতনকারীর নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিজয়নগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আদিত্য বলেন, ভিডিওটি আমরা দেখেছি। শিশু ও নির্যাতনকারীর নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

তবে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

শিশু নির্যাতনের এ ভিডিওটি ধারণ করেন আল মাহমুদ ভূইয়া নামের এক স্থানীয়।

তিনি বলেন, দুপুরে তিনি ব্যক্তিগত কাজে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর থেকে বিজয়নগর উপজেলা সদরে যাচ্ছিলাম। এ সময় ‘চৌধুরী ট্রেডিং’ নামে একটি কাঠের দোকানের সামনে কাঠ চুরির অপবাদ দিয়ে ওই শিশুটিকে নির্যাতন করতে দেখি। নির্যাতনের সেই দৃশ্য মোবাইলফোনে ধারন করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেই।

এর চেয়ে বেশি কিছু করার ছিল না বলে জানান এই ব্যক্তি।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ এখনো চলছে সেই জাবালে নূর পরিবহন


ঢাকার রাস্তায় রুট পারমিট ও গাড়ির নিবন্ধন নিয়ে ফের চলছে জাবালে নূর পরিবহনের বাস। তাও আবার একই রুটে। চালক ও হেল্পারদের দাবি, তাদের বাসের কোনো সমস্যা না থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চলতে দিচ্ছে। তারাও চালাচ্ছে। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় দেখা যায়, জাবালে নূরের অনেক গাড়ি সারি সারি দিয়ে রাখা হয়েছে। উত্তর বাড্ডা, নতুনবাজার ও উত্তরা এলাকায়ও বাসগুলো চলাচল করতে দেখা যায়। যাত্রীরা বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই মিরপুর-উত্তর বাড্ডা রুটে জাবালে নূরের বাসগুলো চলাচল করছে। জাবালে নূর পরিবহন দুটি রুটে চলাচল করতো।

এর একটি মিরপুর ১ নম্বর থেকে উত্তর বাড্ডা পর্যন্ত, অন্যটি হলো মিরপুর ১ নম্বর থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত। বাসগুলো শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় সাময়িকভাবে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও আন্দোলন থেমে গেলে আস্তে আস্তে স্বনামে চলাচল করতে শুরু করে। জাবালে নূরের এক চালক মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাগোর বাসে কোনো সমস্যা নাই। তাই গত নভেম্বর মাস থেকে চলছে।’ ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের পর কিছুদিন বন্ধ ছিল। তার কিছুদিন পর আন্দোলন থামলে মালিকরা আবার নামিয়েছে গাড়ি।

গত বছরের ২৯শে জুলাই বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূরের বেপরোয়া দুই বাসের প্রতিযোগিতায় চাপা পড়ে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দিয়া খানম মীম ও আবদুল করিম রাজিক নামের দুই শিক্ষার্থী নিহত ও ৯ জন আহত হন। ওই ঘটনার পর ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে এসে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ ?শুরু করে। পরে সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পুরো রাজধানীতে। একপর্যায়ে ওই দুর্ঘটনার জন্য জাবালে নূরকে দায়ী করে এবং সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভে নামে স্কুলশিক্ষার্থীরা। এই বিক্ষোভের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা যানবাহন ও এর চালকের কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স তল্লাশি করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সর্বস্তরের জনগণ সমর্থন দেয়। সরকারও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা সংস্কারে ব্যাপক উদ্যোগ নেয়।

আন্দোলনের একপর্যায় রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ওই পরিবহনের কোনো গাড়ি চলবে না বলে জানায় মালিকপক্ষ।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, প্রতিবাদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন অবৈধ চালকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি-বিআরটিএ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপিকে নির্দেশ দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ ছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’র খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

ওই দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী মীমের বাবা মো. জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করেন। গুরুত্ব বিবেচনায় পরে মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা উত্তর বিভাগকে দেয়া হয়। পরে বাসটির মালিক মো. শাহাদাৎ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১। উল্লেখ্য, এর কিছুদিন পর গত বছরের ৭ই নভেম্বর জাবালে নূরের মালিক শাহাদাতকে তিন মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তার মামলার কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়।

বিআরটিএ’র তথ্য অনুযায়ী জাবালে নূর পরিবহনকে দুইটি রুটে মাত্র ৭৯টি বাস চলাচলের অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় বৈধ অবৈধ মিলিয়ে রাজধানীতে প্রায় দেড় শতাধিক গাড়ি চালাচল করতো। পরে ঘাতক জাবালে নূর পরিবহনের মালিক শাহাদাৎ হোসেনকে গ্রেপ্তার ও দুইটি রুটেরই রুট পারমিট ও নিবন্ধন বাতিল করে কর্তৃপক্ষ।

বিআরটিএ’র ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মাসুদ আলম বলেন, জাবালে নূরের রুট পারমিট বাতিল হয়নি। যে দুটি বাস দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেই দুটি বাসের রুট পারমিট ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়েছে। তাই জাবালে নূর সড়কে চলছে।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ সরকারের উপর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ফের নামছে রাস্তায়


গত বছর শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও প্রশাসনের লোকজন বলেছিল সড়ক পরিবহনের অরাজকতাগুলো শিশুরা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এখন থেকে এসব অরজকতার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসব কথা বলেই শিক্ষার্থীদেরকে রাস্তা থেকে স্কুলে পাঠিয়েছিল সরকার।

কিন্তু, এরপর সড়ক দুর্ঘটনা কি কমেছে? শৃঙ্খলা ফিরেছে সড়কে? শিক্ষার্থীদের দেয়া দাবিগুলো কি সরকার বাস্তবায়ন করেছে? বেপরোয়া চালকদেরকে কি সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে? এসব প্রশ্নের উত্তর একটাই – না। বরং আগের চেয়ে সড়ক দুর্ঘটনা আরও বেড়েছে। চালকরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একাধিকবার স্বীকারও করেছেন যে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরেনি। মূলত সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি সরকার রক্ষা করেনি। যার কারণে প্রতিদিনই সড়কে ঝরছে নারী-পুরুষ ও শিশুদের প্রাণ।

সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে বসুন্ধরা এলাকয় যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে বাড্ডা-রামপুরা রোডের দানব হিসেবে পরিচিত সু-প্রভাত পরিবহনের বাসের চাপায় প্রাণ গেল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেসনালস এর শিক্ষার্থী আবরার আহমদ চৌধুরীর। জানা গেছে, দুটি বাস যাত্রী নেয়ার জন্য ধাক্কাধাক্কি করে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আবরারকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ও ১২ দফা দাবিতে তার সহপাঠীরা ওই এলাকায় সারাদিন বিক্ষোভ করেছে। মেয়র আতিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের লোকজন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে গেলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সাড়া দেয়নি। শিক্ষার্থীরা মেয়রকে জানিয়ে দিয়েছে যে, গত বছরও আপনারা এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু একটি দাবিও বাস্তবায়ন করেননি। যার কারণে আজও আমাদের একজন সহপাঠীকে আমরা হারালাম। শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবারের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করেছে। বুধবার সকাল থেকে ১২ দফা দাবিতে তারা আবারো রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে বুধবার সকালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে অভিভাবকদেরকেও আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর আরও একাধিক এলাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামবে।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন কোটা আন্দোলনের নেতা ও ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর। মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি একাত্মতা ঘোষণা করে বলেছেন, ছাত্রদের আন্দোলনে যদি আগের মতো এবার আঘাত আসে তাহলে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে।

রাজনীতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মানুষ মনে করছেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য সরকার গত বছর শিক্ষার্থীদের কাছে প্রতিশ্রতি দিয়েছিল। এক বছর পার হলেও সড়কে কোনো শৃঙ্খলা ফিরেনি। সরকারের এই ভাওতাবাজির কারণেই মূলত শিক্ষার্থীরা আবার মাঠে নামছে। কারণ, শিক্ষার্থীরা এখন আর সরকারের কথা বিশ্বাস করতে পারছে না। এবার যদি রাস্তায় নামে তাহলে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাস্তা নাও ছাড়তে পারে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে গুম: ফিরে আসা ব্যক্তিদের থেকে কিছু জানা যায়না কেন?


প্রায় ১৫ মাস নিখোঁজ থাকার পর গতকাল নিজ বাড়িতে ফিরে এসেছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। তবে তিনি কোথায় কি অবস্থায় ছিলেন এবং ফিরলেন কিভাবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১টার দিকে মারুফ জামান একা একাই তার ধানমন্ডির বাসায় ফিরে আসেন। বাড়ির ম্যানেজার তাকে দেখতে পেয়ে ওপরে নিয়ে যান। এ সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গেছে।

মিস্টার জামানের মেয়ে গতকাল তার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বাবার ফিরে আসার খবরটি নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে আর কিছু জানতে না চাওয়ার অনুরোধ করেন। এমনকি পুলিশের সঙ্গেও এখন কথা বলছেন না তারা।

পুলিশ কি বলছে?

ধানমন্ডি থানার ওসি আব্দুল লতিফ বলেন,”মারুফ জামানের মেয়ে আমাদেরকে জানিয়েছেন যে তার বাবা ফিরে এসেছেন। তাদের ভবনের ম্যানেজার তাকে দেখতে পেয়ে বাসার ভেতরে নিয়ে আসেন।”

মিস্টার মারুফের মেয়ে তার বাবার সঙ্গে কাউকেই এখন পর্যন্ত দেখা করতে দেননি। তাই তিনি কিভাবে ফিরেছেন, কোথা থেকে এসেছেন, কে দিয়ে গেছেন- কোন কিছুই জানা সম্ভব হয়নি।

ওসি আব্দুল লতিফ বলেন,”মারুফ জামানের খোঁজ নিতে আমার দুইজন লোক ওনার বাসায় গেলে তার মেয়ে বলেছেন যে উনি অসুস্থ। কোন কথা বলবেন না। একটু সুস্থ হওয়ার পর কথা বলবেন।”

মিস্টার জামান কিছু জানালে যদি কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকে তাহলে পুলিশ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে জানান ওসি আব্দুল লতিফ।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনেক পরিবারের অভিযোগ তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সহযোগিতা পাননা।

আশার আলো দেখছেন নিখোঁজদের পরিবার:

২০১৭ সালের চৌঠা ডিসেম্বর মারুফ জামান নিজ বাড়ি থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন।

তারও চার বছর আগে জাতীয় নির্বাচনের সময় আরো কয়েকজনের সঙ্গে নিখোঁজ হয়েছিলেন সাজেদুল ইসলাম নামে বিএনপির এক সংগঠক।

গত ছয় বছর ধরে প্রিয়জনের খোঁজ না পেলেও মিস্টার জামানের ফিরে আসা নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে সাজেদুলের পরিবারে।

তবে হাইকোর্টের রুল জারি সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত ভাইয়ের সন্ধানে কোন অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ জানান নিখোঁজের বোন সানজিদা ইসলাম।

“এটা আমাদের জন্য আশা যে ১৫ মাস পরে যদি মারুফ জামান ফিরে আসেন, তাহলে নিখোঁজ অন্যরাও ফিরতে পারেন।”

“আমরাও ভাইয়ের সন্ধানের দাবিতে অনেক সংবাদ সম্মেলন করেছি। মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে তারা দেখবেন। কিন্তু তারা কোন তদন্ত করেনি।”

কেন তারা নীরব?

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে অন্তত ৩১০জন গুমের শিকার হয়েছেন৷ তাদের মধ্যে ৩৩ জন ফেরত এসেছেন৷

তবে যারা ফিরে এসেছেন তাদের সঙ্গে কি ঘটেছিলো সে ব্যাপারে প্রায় কেউই মুখ খোলেননি।

রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনি কাঠামোর ওপর আস্থাহীনতা এই নীরবতার বড় কারণ বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মী এবং গুম পরিস্থিতির গবেষক নূর খান।

“রাষ্ট্র বা আইনশৃঙ্খলা-বাহিনীর পক্ষ থেকে এমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায়না, যার কারণে তারা ছাড়া পাচ্ছেন এবং যারা তাদের আটক করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে।”

এছাড়া এতো দীর্ঘ সময় কাউকে আটক রাখা কোন দুষ্কৃতিকারী দলের পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটা কেবল তাদের পক্ষেই সম্ভব যারা অনেক শক্তিশালী এবং নির্দেশিত পন্থায় কাজ করে।”

এ পর্যন্ত যারা ফিরে এসেছেন তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন নূর খান।

তিনি জানান প্রত্যেকের বক্তব্যে এটাই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে তাদেরকে এমন জায়গায় রাখা হতো যেখানে সাধারণ মানুষের চলাচলের সুযোগ নেই এবং আটককারীরা প্রশিক্ষিত গ্রুপের সদস্য।

তবে তারা এই কথাগুলো প্রকাশ্যে আনতে চান না, আরেকটি বিপর্যয় ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায়।গুম ঠেকাতে কি প্রয়োজন?

তবে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ফিরে আসা প্রত্যেকের অভিজ্ঞতাগুলো সামনে আনা জরুরি বলে মনে করেন মানবাধিকার-কর্মী সুলতানা কামাল।

যেসব আশঙ্কা ও হুমকির কারণে এই মানুষগুলো মুখ খুলতে ভয় পান সেই ভয় দূর করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর আরও জোরালো ভূমিকা নেয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

সুলতানা কামাল বলেন, “এর আগে যারা হারিয়ে গিয়েছিলেন, পরে ফিরে এসেছেন, তাদের কাছে আমরা প্রশ্ন রেখেছিলাম, তার মধ্যে একটি উত্তর এমন ছিল যে, ছেলেমেয়ের ওপর যখন হুমকি আসে তখন মুখ খোলা কঠিন। তার মানে নিশ্চয়ই তাদেরকে এমনই কোন শর্ত দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। যার জন্য তারা মুখ খুলতে ভয় পান।”

“কিন্তু এটা আমি মনে করি তাদেরও একটা দায়িত্ব জানানো যে কি হয়েছিল না হয়েছিল। তাহলে আমরাও হয়তো এটা সুরাহা করার একটা পথ পেতাম। তাছাড়া আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তারাই বা এটার সুরাহা করেননা কেন?”

নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনের অভিযোগ, তারা প্রিয়জনের খোঁজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করলেও এখনও কোনটির তদন্ত শুরু করা হয়নি।

এমন অবস্থায় প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।

উৎসঃ বিবিসি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here