বাংলাদেশের সম্পাদকরা অনেক রিপোর্ট সরকারের ভয়ে প্রকাশ করেন না

0
83

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ক্যাম্পেইনার সাদ হাম্মাদি বলেছেন, সংবাদ ও সম্পাদকীয় প্রকাশের ক্ষেত্রে চরম মাত্রায় সতর্ক হয়েছেন বাংলাদেশে সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদকরা। এমনকি প্রতেশোধ নেয়ার আতঙ্কে তারা অনেক কলাম ও সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে বিরত থাকেন। প্রথমবারের মতো ঢাকায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ক্যাম্পেইন ইভেন্টে তিনি এ কথা বলেন।

ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন কমেডিয়ান, কার্টুনিস্ট, সাংবাদিক, বøগার, সঙ্গীতজ্ঞ, কবি, অধিকারকর্মী ও সরাসরি পারফরম্যান্স করা শিল্পীরা। তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অগ্রসরমান করার বিষয়কে ফুটিয়ে তোলেন। একই সঙ্গে এসব অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে সরকার ও জনগণ কী ভূমিকা পালন করতে পারে তার প্রতিফলন ঘটানো হয়।

গত শনিবার ঢাকায় ইএমকে সেন্টারে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এডওয়ার্ড এম কেনেডি সেন্টার। ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিড ডে উপলক্ষে এই ইভেন্ট আয়োজন করা হয়। এতে সাদ হাম্মাদি বলেন, যখন মানুষ জানতে পারেন না যে, তারা যা বলেন বা লেখেন তা অপরাধ (অফেন্স) হিসেবে গণ্য হবে; তখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে গিয়ে তারা ভীতশঙ্কিত হয়ে পড়েন। তার মতে, এমন অনুভূতি থেকে অসন্তোষের জন্ম হয়। একটি সামাজিক উন্নয়নশীল দেশের জন্য তা স্বাস্থ্যকর বা উপযোগীও নয়।

অ্যামনেস্টির ক্যামেইন ইভেন্টে স্বাক্ষর করেন কারামুক্ত ফটো সাংবাদিক শহিদুল আলম, কমেডিয়ান ইয়ামিন খান ও আহমদ আশিক, কার্টুনিস্ট সৈয়দ রাশাদ ইমাম তন্ময়, সাংবাদিক শুপ্রভা তাসনিম, আইরিন খান, সৈয়দ তাশফিন চৌধুরী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ইরেশ যাকের, বøগার ও অধিকারকর্মী ফাহমিদুল হক, আর্টিস্ট লিজা হাসান, ঋতু সাত্তার, সাইফ মাহমুদ ও আবীর খালিদ।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিশ্বজুড়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান সম্পর্কে সমর্থন করেন বিভিন্ন স্তরের বিশ্ববরেণ্য আর্টিস্টরা। এর মধ্যে রয়েছে কোল্ডপ্লে, রাসেল ব্রান্ড, জিমি কার, জন স্টিওয়ার্ট, জন অলিভার, স্টিফেন কোলবার্ট।

অনুষ্ঠানে সাদ হাম্মাদি বলেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এই ইভেন্ট হলো স্বাধীনতা বা ফ্রিডমের প্রতি অব্যাহত প্রচারণার অংশ। এর অংশ হলো ওইসব দেশের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যেখানে শান্তিপূর্ণভাবে মতামত শেয়ার করার কারণে মানুষকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুরক্ষা ছাড়া মানুষ অবাধে নিজেকে প্রকাশ ঘটাতে পারে না। তথ্যের ওপর সেন্সরশিপ ও প্রতিশোধের আশঙ্কা জীবনধারণের গুণগত মান হ্রাস পায়। হ্রাস পায় সততা ও জনগণের কাছে জবাবদিহিতার বিষয়।

উৎসঃ ‌‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‌আবারো চলতি মাসেই অসহ্য তাপদাহ ও ঘূর্ণিঝড় বয়ে যেতে পারে


দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আবারো একটি তীব্র ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে চলতি মে (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ) মাসে। এ সময় তাপমাত্রার পারদ অতিক্রম করে যেতে পারে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর। গেল এপ্রিল মাসের মতোই এমনকি আরও অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে খরার দহন। এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে এক থেকে ২টি মৃদু (৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সে.) থেকে মাঝারি (৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সে.) ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তাছাড়া মে মাসে বঙ্গোপসাগরে ২টি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এরমধ্যে ঘনীভূত ও শক্তি সঞ্চয় করে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আগামীতে যখন সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় তৈরি হবে এর নাম দেয়া হবে ‘বায়ু’।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ কমিটির সভায় দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে একথা জানা গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র ঢাকায় গতকাল (রোববার) অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন আহমেদ। এতে বাংলাদেশ, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক আবহাওয়া-জলবায়ু পরিস্থিতি, ‘এল নিনো’ অবস্থা, জলবায়ু মডিউলসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করা হয়। এদিকে তীব্র গরমের মধ্যদিয়েই এবার শুরু হতে যাচ্ছে সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজান। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের খরার দহনের সাথে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, লোডশেডিং এবং পানির কষ্ট রোজাদারদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ইতোমধ্যে নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর-দীঘি, কুয়া, নলকুপ, পাহাড়ি ঝরণাসহ পানির উৎসগুলো শুকিয়ে গেছে। সর্বত্র বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট প্রকট। অন্যদিকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন ও অস্থায়ীভাবে সিলেটের বর্ষণ ছাড়া দেশের আর কোথাও ছিটেফোঁটা বৃষ্টিপাত হয়নি। বরং তীর্যক সূর্যের কড়া রোদে ঝলসে গেছে শহর-নগর-গ্রাম জনপদ। সর্বশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানা গেছে, আজ (সোমবার) থেকে সারাদেশে তাপমাত্রার পারদ বেড়ে যেতে পারে। প্রথম রোজার দিনে (মঙ্গলবার) গরমের দাপট আরো বাড়বে। চলতি সপ্তাহজুড়ে অর্থাৎ রমজানের প্রথম দিকে তাপদাহে খরতপ্ত আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়া পূর্বাভাসে আরও জানা গেছে, চলতি মে (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ) মাসে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকাসহ মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত ২ থেকে ৩ দিন মাঝারি থেকে প্রবল আকারে কালবৈশাখী ঝড় তথা বজ্রঝড় আঘাত হানতে পারে। তাছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ৩ থেকে ৪ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কালবৈশাখী ঝড় বা বজ্রঝড় সংঘটিত হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, চলতি মে মাসব্যাপী নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান থাকবে। তবে এ মাসের প্রথমার্ধে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ সংশ্লিষ্ট ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদ-নদীর পানির সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এ কারণে কোথাও কোথাও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে তীব্র তাপপ্রবাহ, কালবৈশাখী ঝড়, সামুদ্রিক নিম্নচাপ-ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাত কিংবা বজ্রঝড়, হঠাৎ অকাল বন্যার মধ্য দিয়ে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে চলতি মে (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ) মাসজুড়ে। গত এপ্রিল মাসেও দেশের অনেক জেলায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করে। যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, ফল-ফসলের আবাদ ও উৎপাদন ব্যাহত করে।

এদিকে চলতি মে মাসের বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে বিশেষজ্ঞ কমিটি বলছে, এ মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গত এপ্রিল (চৈত্র-বৈশাখ) মাসের বৃষ্টিপাতের হিসাবে দেখা যায়, গত মাসে সারাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এরমধ্যে বিভাগওয়ারি হিসাবে ঢাকা বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৮ শতাংশ কম, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪২.৩ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এর আগে গত মার্চ মাসে দেশে সার্বিক বৃষ্টিপাত ছিল প্রায় স্বাভাবিক। গত ফেব্রæয়ারি মাসে সারাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে গড়ে ১৬২ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়। গত এপ্রিল মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ছিল উত্তরাঞ্চলের বরেন্দ্র জনপদ রাজশাহীতে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা দুই সপ্তাহেরও বেশিদিনের অসহনীয় তাপদাহে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়। দুর্বল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ গত শনিবার বাংলাদেশের ওপর দিয়ে কেটে যাওয়ার সময় বৃষ্টিপাতের ফলে তাপমাত্রা স্থানভেদে ৩ থেকে ৮ ডিগ্রি হ্রাস পায়। কিন্তু গতকাল ফের বেড়ে চলে তাপমাত্রার পারদ।

খরতাপের মধ্যদিয়ে শুরু হবে এবার মাহে রমজান। ঘূর্ণিঝড় ফণির দুর্বল আঘাতের পর বাংলাদেশের আবহাওয়ায় তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং গতকাল থেকে ফের ভ্যাপসা গরমের মধ্যদিয়ে তাপপ্রবাহের আলামত শুরু হয়েছে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মংলায় ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় ঢাকার তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৩.৯ এবং সর্বনি্ম ২৩ ডিগ্রি সে.। চট্টগ্রামে ৩২.৯ এবং ২৫ ডিগ্রি সে.। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিক্ষিপ্তভাবে সিলেটে ১১, কক্সবাজার ও নেত্রকোনায় ১ মিলিমিটার ছাড়া দেশের কোথাও বৃষ্টিপাত হয়নি।

আজ (সোমবার) সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানা গেছে, লঘুচাপের একটি বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। অস্থায়ীভাবে আকাশ আংশিক মেঘলাসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তবে সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। রাতের তাপমাত্রা স্থানভেদে ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সে. বৃদ্ধি পেতে পারে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় তাপমাত্রার পারদ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর পরের ৫ দিনেও তপ্ত আবহাওয়ায় তেমন পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

উৎসঃ ‌‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‌রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চলছে অস্থিরতা


রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চলছে অস্থিরতা। ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অপসারণ, কর্মকর্তাদের ওএসডি, বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ও লন্ডন রুটের টিকিট কেলেঙ্কারিসহ নানা কারণে এমন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিমানের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, বিমানের দুর্নীতি নামক ভূত তাড়াতে পারলে প্রতিষ্ঠানটি ভালো চলবে। লাভের মুখ দেখবে। মন্ত্রণালয়ের এবারের পদক্ষেপ কিছুটা হলেও ফল দেবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনিয়মের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিপণন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং লন্ডন থেকে আসা কান্ট্রি ম্যানেজারকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে। একই মাসের শেষ কর্মদিবসে হঠাৎ করেই মেয়াদ পূরণের আগেই ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) দায়িত্ব থেকে এএম মোসাদ্দিক আহমেদকে সরিয়ে দেয় পরিচালনা পর্ষদ।

গত বৃহস্পতিবার পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) চিঠি পাঠিয়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) ১০ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার আওতায় পরার আশঙ্কায় রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বড় একটি অংশ।

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই বিমানের ১৪৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর জবানবন্দি নিতে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। এরই মধ্যে জবানবন্দি নেয়া হয়েছে ৩ পরিচালকসহ ৫ কর্মকর্তার। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রয়াত্ব এয়ারলাইনস সংস্থাটিতে অস্থিরতা বাড়ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে অস্থিরতার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ ইনামুল বারী মানবজমিনকে বলেন, কর্মকর্তা- কর্মচারীদের মধ্যে অস্থিরতার বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। এটা ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যারা জড়িত তারাই ভাল বলতে পারবেন। বিমানের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৭ সালে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হওয়ার আগ পর্যন্ত বিমানের লোকসান ছিল ১ হাজার ১৮২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হওয়ার পর ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৫ কোটি ১৯ লাখ ও ২০০৮-০৯-এ ১৫ কোটি টাকা মুনাফা করে সংস্থাটি।

তবে ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে আবারো লোকসান শুরু হয়। ওই অর্থবছর ৮০ কোটি, ২০১০-১১ অর্থবছরে ১৯১ কোটি, ২০১১-১২ অর্থবছর ৬০০ কোটি ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২১৪ কোটি টাকা লোকসান দেয় বিমান। এছাড়া ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিমানের লোকসান হয় ১৯৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তবে গত দুই অর্থবছর লাভ করতে সমর্থ হয় বিমান। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩২৪ কোটি ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২৭৬ কোটি টাকা মুনাফা করে বিমান। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিমান থেকে আয় হয় ৪ হাজার ৫৫১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ব্যয় হয় ৪ হাজার ৫০৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। ওই অর্থবছরে ৪৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা লাভ হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট ২০১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিমানের আয় হয়েছিল ৪ হাজার ৯৩১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ১৩৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। এদিকে বিমানের লন্ডন স্টেশনের সাবেক কান্ট্রি ম্যানেজার শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আড়াই হাজার ফ্রি টিকিট বিক্রি করে ১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। শফিকুল ইসলামের চার বছরের মেয়াদে লোকাল স্টেশন থেকে দুই হাজার ৪৭২টি ফ্রি টিকিট ইস্যু করা হয়েছে। যাদের সবাই লন্ডন থেকে ঢাকা এসে আবার লন্ডনে ফেরত গেছেন। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাসের যাত্রী ছিলেন ১ হাজার ১৩৬ জন এবং ইকোনমি ক্লাসের যাত্রী ১ হাজার ৩৩৬ জন। গত ২৪শে মার্চ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের টিকিট বিক্রি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় কার্যবিবরণীতে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ওই সভায় বিমান সচিব বলেন, বিমানের রিজার্ভেশন বা টিকিট বিক্রি কার্যক্রম সম্পূর্ণ অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন।

বাস্তবে সামান্য কিছু টিকিট অনলাইনে সচল রেখে বাকি টিকিট ব্লক করে রাখা হয়। অথচ নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা দিলে টিকিট পাওয়া যায়। এভাবে টিকিট বিক্রি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। অনেক সময় অনেক সিট খালি রেখে বিমান যাত্রা করে। টিকিট নিয়ে এমন দুর্নীতির বিষয়ে জানার জন্য গেল মাসের প্রথম দিকে বিমানের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দিক আহম্মেদ ও পরিচালক (মার্কেটিং এন্ড সেলস) আশরাফুল আলমকে মন্ত্রণালয়ে ডেকে নেয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সামনে এমডি বলেন, সিট রিজার্ভেশন বা টিকিট বিক্রির মতো এত সূক্ষ্ম বিষয়ে তিনি অবহিত নন। এসব বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। পুরোটাই মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের ওপর তিনি ছেড়ে দিয়েছেন। এরপরই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) আশরাফুল আলম ও লন্ডন থেকে আসা কান্ট্রি ম্যানেজার শফিকুল ইসলামকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে বিমান কর্তৃপক্ষ। বিমান বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। বিমানের দুই কর্মকর্তাকে সরানোর কিছুদিনের মধ্যে গত ৩০ শে এপ্রিল নানা অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে সরানো হয় এ এম মোসাদ্দিক আহমেদকে। বিমানের পরিচালনা বোর্ডের সিদ্ধান্তে তাকে এ দায়িত্ব থেকে সরানো হয়।

এমডি অপসারনের আদেশে নতুন এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিমানের পরিচালক (ফ্লাইট অপারেশন্স) ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিলকে ভারপ্রাপ্ত এমডি’র দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এদিকে গত ২রা মে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মুনীম মোসাদ্দিক আহম্মেদসহ ১০ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিমানে পাইলট নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সাবেক এমডি ছাড়া নিষেধাজ্ঞা পাওয়া বিমানের অন্য কর্মকর্তারা হলেন- গ্রাউন্ড সার্ভিস সুপারভাইজার জি এম জাকির হোসেন, মো. মিজানুর রহমান ও এ কে এম মাসুম বিল্লাহ, জুনিয়র গ্রাউন্ড সার্ভিস অফিসার মো. মশিকুর রহমান, কমার্শিয়াল সুপারভাইজার মো. রফিকুল আলম ও গোলাম কায়সার আহমেদ, কমার্শিয়াল অফিসার মো. জাওয়েদ তারিক খান ও মাহফুজুল করিম সিদ্দিকী, জুনিয়র কমার্শিয়াল অফিসার মারুফ মেহেদী হাসান। বিমান সূত্রে জানা গেছে, বিমানের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির পর অস্থিরতা বেড়েছে। বিপনন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারিরা আছেন আতঙ্কে। তবে শুদ্ধি অভিযান চালানো শুরু করার পর বিমানের আয় দিন দিন বাড়ছে। গত দুই মাসে প্রায় ৭৩ কোটি টাকা আয় বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানের রন্ধে রন্ধে দুর্নীতি। তাই শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করলে প্রতিষ্ঠানটি আরও বেশি লাভের মুখ দেখবে।

উৎসঃ ‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, জয়দেবপুরে ৩ পুলিশ প্রত্যাহার


ডিবি পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে আটক করে থানায় নিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক দুই লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে জয়দেবপুর থানার তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এছাড়াও জয়দেবপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মনিরুজ্জামান এবং এসআই এনায়েত হোসেনকে (২) মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের নির্দেশে তাদের প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

প্রত্যাহার করা সদস্যরা হলেন জয়দেবপুর থানার এসআই মো.খোরশেদ আলম মজুমদার, শিক্ষানবিশ উপ-উপরিদর্শক (পিএসআই) সামসুদ্দোহা এবং পুলিশ কনস্টেবল নূর আলম।

জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল আশ্রাফুল আলম নামে এক ব্যবসায়ীকে ডিবি পরিচয়ে জোরপূর্বক আটক করে জয়দেবপুর থানায় নিয়ে আসে। বৃদ্ধ মাতা বানেছা খাতুনকে (৬৫) থানায় এনে ৫ লাখ টাকা দাবি করে অন্যথায় ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।

বৃদ্ধ মাতা উপায়ন্তর না দেখে ছেলের প্রাণ বাঁচাতে আটকের পর দিন ২ লাখ টাকা অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের দেন। পরে ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

আশ্রাফুল সিরির চালা এলাকার হাজী সামসুদ্দিনের ছেলে। তিনি ওই এলাকার আশ্রাফুল সুপার মার্কেটের মালিক। ছাড়া পেয়ে আশ্রাফুল জানতে পারেন তার মা তাকে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে জয়দেবপুর থানা থেকে ছাড়িয়ে এনেছেন।

এর পর আশ্রাফুল আলম গত ২৩ এপ্রিল জেলা পুলিশ সুপারের কাছে তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

জয়দেবপুর থানার ওসি আসাদুজ্জামান তিন পুলিশ প্রত্যাহার ও সতর্কীকরণের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌বরিশালে প্রথম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জিলাপি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে


জিলাপি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল গ্রামে প্রথম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে ওই ছাত্রীর মা গৌরনদী থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় একই গ্রামের মৃত আকফাত বেপারীর ছেলে গাছ ব্যবসায়ী আলী বেপারীকে (৪৫) আসমি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ওই স্কুলছাত্রীর বাবা কিছুদিন আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে তিনি প্রথম স্ত্রী ও তিন সন্তানকে ছেড়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে অন্যখানে বসবাস করছেন। তখনই থেকেই গৃহকর্মীর কাজ করে তিন সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন প্রথম স্ত্রী। কাজের জন্য দিনের বেশিরভাগ সময় তাকে বাইরে থাকতে হয়। এ সুযোগে প্রতিবেশী দুই সন্তানের জনক আলী বেপারীর নজর পড়ে তার ৯ বছর বয়সী মেয়ের ওপর। এরপর থেকে আলী বেপারী সুযোগ খুঁজতে থাকেন।

ঘটনার দিন গত ২৫ এপ্রিল মেয়েটিকে একা পেয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে জিলাপি খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। ঘটনাটি কাউকে না বলতে মেয়েটিকে হুমকি দিয়ে চলে যান তিনি। ভয়ে মেয়েটি এ ঘটনা কাউকে না জানিয়ে গোপন করে। পরদিন জামা-কাপড়ে রক্তের দাগ দেখে তার চাচি এর কারণ জানতে চান। এক পর্যায়ে সব কিছু বলে মেয়েটি। পরে তিনি বিষয়টি তার মাকে জানান। তবে লোকলজ্জার ভয়ে তার মা বেশ কিছুদিন ঘটনাটি গোপন করে রাখেন। এরই মধ্যে বিষয়টি প্রতিবেশীরা জেনে যান।

স্থানীয়রা আরও জানান, মঙ্গলবার ওই স্কুলছাত্রীর মা কয়েকজন স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে বিচার চাইতে আলী বেপারীর বাড়িতে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আলী বেপারী। ধর্ষণের ঘটনা সাজানো বলে উল্টো স্কুলছাত্রীর মাকে হুমকি দেন। বিষয়টি নিয়ে বুধবার সকালে এলাকার গণমান্য লোক নিয়ে বসবেন বলে আলী বেপারী স্কুলছাত্রীর মাকে জানান। তবে তিনি মঙ্গলবার রাতেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় গৌরনদী থানা পুলিশের ওসি গোলাম ছরোয়ার জানান, বুধবার বিকেলে ওই স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন। আসামি আলী বেপারীকে গ্রেফতারে জোর প্রচেষ্টা চলছে।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে খালেদা জিয়ার নাম থাকা একটি ফলক ভেঙে ফেলেছে প্রশাসন


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাম থাকা একটি ফলক ভেঙে ফেলেছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় সেই সময়ের প্রধামন্ত্রীর নাম ছিল ভিত্তিপ্রস্তর ফলকে।

মঙ্গলবার রাতে ভিত্তিপ্রস্তরটি প্রশাসনের নির্দেশে ফেঙে ফেলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাস্তা সম্প্রসারণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য তা ভাঙা হচ্ছে, যা পরবর্তী সময়ে প্রতিস্থাপন করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরের সাথে আমাদের অস্তিত্ব জড়িয়ে আছে। রাস্তার কাজে তা ভাঙার প্রয়োজন যদি হয় তবে তা আগে প্রতিস্থাপন করে তারপর ভাঙার প্রয়োজন ছিল।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক আবুল বাশার বলেন, ‘শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার করা ভিত্তিপ্রস্তরটি প্রতিস্থাপন ছাড়া ভেঙে ফেলেছে প্রশাসন। রাতের আঁধারে করা এই ধরনের কাজ নিন্দনীয়। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রশাসনের কাছে ভিত্তিপ্রস্তরটি প্রতিস্থাপনের দাবি জানাই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ৪০ ফিটের রাস্তা ও সম্মুখে দৃষ্টিনন্দন গেইট নির্মাণ করা হবে। এই সম্প্রসারণ এবং সৌন্দর্য্যবর্ধনের জন্য ভিত্তিপ্রস্তরের বেদিটি ভাঙা হচ্ছে, তবে ফলকটি উঠিয়ে রাস্তার কাজ শেষে ঠিকঠাক প্রতিস্থাপন করা হবে।’

ভাঙার আগেই কেন প্রতিস্থাপনের কাজটি করা হয়নি এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাস্তা নির্মাণের আগে থেকে অনুমানে প্রতিস্থাপন করা হলে সেটি অসুন্দর হতে পারে। তাই প্রতিস্থাপনের কাজটি পরে করা হবে। প্রয়োজনে নামফলকের লেখা যেগুলো উঠে গিয়েছে সেগুলো নতুন কালি করে দেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভিত্তিপ্রস্তরটি স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। পরবর্তী ২৮ মে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা পায়।

উৎসঃ ‌‌ঢাকাটাইমস

আরও পড়ুনঃ ‌বাংলাদেশের ইতিহাসে মির্জা ফখরুলই ‘প্রথম’


জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরও শপথ না নিয়ে ইতিহাসে ঠাঁই পেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এমন দাবি করেছেন রাজনীতি বিশ্লেষক ও যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

বুধবার নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এমনটা জানান তিনি।

আলী রীয়াজ ফেসবুকে লেখেন, ‘বাংলাদেশে যে ১১টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে তাতে এই প্রথম একজন প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার পরে সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন না।’

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ছয় প্রার্থী বিজয়ী হন। অনেক নাটকীয়তার পর এদের পাঁচজনই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

সংবিধানের ৬৭ (১) এর ‘ক’ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে শপথ নিতে না পারলে ওই সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে।

এই ৯০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে স্পিকার যথার্থ কারণে তা বাড়াতে পারবেন।

তবে শেষ দিনেও শপথ নেননি মির্জা ফখরুল। পরে মঙ্গলবার রাতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী মির্জা ফখরুলের আসন শূন্য ঘোষণা করেন।

এপর আলী রীয়াজ তার স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংসদের যে কোনো ইতিহাস লেখা হলে এই বিষয় উল্লেখিত হবে বলেই আমার বিশ্বাস’।

‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কারণেই বাংলাদেশের ইতিহাসে আলোচিত হবেন। এই সিদ্ধান্তের কারণ এবং সঠিকতা নিয়ে মতভিন্নতা থাকবে, এর ফল নিয়ে অনেক কথা এখনো বাকি রয়ে গেছে।’

‘কিন্তু নৈর্ব্যক্তিকভাবে বিবেচনা করলে এই বিষয়টি মোটেই এড়ানো যাবে না।’

উৎসঃ ‌‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌‘শেখ হাসিনার শাসনামল খুন-ধর্ষণ, ব্যাংক ডাকাতি-ভোট ডাকাতির স্বর্ণযুগ’


বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার এই শাসন আমল হলো ধর্ষণ, খুন, ভোট ডাকাতি, ব্যাংক ডাকাতির স্বর্ণযুগ। ইতিহাসবিদরা যদি কখনো এই শাসন আমলের পর্যালোচনা করেন তাহলে এই শাসনামলকে খুন-ধর্ষণের স্বর্ণযুগ বলে অভিহিত করবেন।’

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে প্রয়াত সুনীল গুপ্ত স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে সুনীল গুপ্তের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করতে না পারলে স্বৈরশাসকের পতন হবে না, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না, দেশের মানুষের অধিকার ফিরে পাবে না।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান ক্ষমতা দখলকারী সরকারের নেতারা বলেন- বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। তাদের এ কথা শুনলে হাসি পায়। যে দেশের রাজধানীতে জনগণ বিশুদ্ধ পানি পায় না। একটু বৃষ্টি হলে নৌকা চলাচলের ব্যবস্থা হয়। যে দেশের প্রতিটি ব্যাংক ডাকাতি হয়েছে। যে দেশের প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই শিশু, নারী ধর্ষণ, খুন এর খবর পাওয়া যায় সেই দেশ নাকি উন্নয়নের রোল মডেল?’

এ সময় তিনি যুবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘১৯৭১ সালে কোনও রাজনীতি দল বাংলাদেশ স্বাধীন করে নাই। দেশ স্বাধীন করেছিল ছাত্র, যুবকরা। আজ বাংলাদেশের স্বৈরাশাসকের হাত থেকে মুক্ত করতে হলে যুবকদের কে এগিয়ে আসতে হবে। ছাত্রদেরকে এগিয়ে আসতে হবে, তাহলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়ুয়া, কবি আব্দুল হাই শিকদার, মাওলানা ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কামরুল ইসলাম সজল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here