আমরা যা যা করার তাই করবো : ড. কামাল হোসেন

0
139

৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রতারণামূলক। এটি জনগণের সাথে প্রতারণা। জনগণ এই নির্বাচন গ্রহণ করেনি। ৩০শে ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে জনগণের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পুত্র পরলোকগত রাশেদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুতে আয়োজিত এক স্মরণসভায় এসব কথা বলেন গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক ড. কামাল হোসেন।

ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, নির্বাচনের পরের দিন ‘আমরা ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছি’ এটা বলা প্রতারণামূলক। দেশের ১৬ কোটি মানুষ এই ফলাফল মেনে নেয়নি। এখন আমাদের যা যা করার আমরা তাই করবো।

ভিডিওঃ ‘৩০শে ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে জনগণের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে ’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]
৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে জনগণ ভাওতাঁবাজি বলছে বলেও উল্লেখ করেন ড. কামাল হোসেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত স্মরণসভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ, ড. মইনুল হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, গণফোরাম নেতা মোস্তফা মহসীন মন্টু, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও মোকাব্বির খান প্রমুখ।

শোকসভায় জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন,‘যারা কারাগারে আছে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া তাদের মুক্ত করা যাবে না। আজকে যারা ক্ষমতায় আছে তাদের মধ্যে সেই মনুষত্ব নেই।’

তিনি বলেন,‘১৬ কোটি মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। কিন্তু কোথাও কেউ প্রতিবাদ করল না। এটা কি শুধু কোনও রাজনৈতিক নেতা করবে, কোনও রাজনৈতিক দল করবে? এটা হয় না।’

জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সারা দেশে বর্তমানে এক লক্ষ লোক কারাগারে আছে। এদেরকে মুক্ত করতে আসুন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করি।’

সদ্য কারামুক্ত ব্যারিস্টার মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ জনগণকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। আসলে তারা এটা করে নিজেরা নিজেদের বঞ্চিত করেছে। এটা স্বাধীন দেশের মানুষের জন্য লজ্জার।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, ‘রাজনীতি এখন ব্যবসা হয়ে গেছে। এটা রাজনীতি নয়। দেশের রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের রাজনীতিতে নেয়া হয় না। এখানে পুলিশও জড়িত হয়েছে। তারা দেশের মানুষ পেটায়। আজকে তারা মনে করে তাদের ছাড়া ড. কামালরা কি দেশ চালাতে পারবে? এখন দেশে যা চলছে তা আমলাতান্ত্রিকতা। শেখ হাসিনার কিছু করার নেই।’

রাশেদ সোহরাওয়ার্দীর লাশ দেশে না আনা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মঈনুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার এখন ক্ষমতায়। চাইলে রাশেদের লাশ দেশে আনতে পারতো। কেন যে আনা হলো না- খুব কষ্ট হচ্ছে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান বলেন, ‘দেশে উদার গণতন্ত্র অনুপস্থিত। রাজনীতির নামে এখন চারদিকে হিংসা আর বিদ্বেষ।’

সবার প্রতি আহব্বান জানিয়ে বিএনপির সাবেক এই মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের কল্যাণে আসুন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ভুলে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনি।’

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ কেবল রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইলেই খালেদা জিয়ার মুক্তিঃ তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ


কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কেবলমাত্র দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং আদালতে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে; এ দু’টি উপায়ে মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি চাইলেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী বলেন, কয়েক দিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য। প্রধানমন্ত্রীর খালেদা জিয়া কিংবা কোনো বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার এখতিয়ার নেই। খালেদা জিয়াসহ যেকোনো সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার এখতিয়ার হচ্ছে আদালতের।

‘রিজভী আহমেদ বারবার একই আহ্বান জানিয়ে প্রকৃতপক্ষে আদালতের প্রতি অশ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, আইন-আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন। যেটি সমীচীন নয়। তার কথায় মনে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

দুর্নীতির মামলায় গত এক বছর ধরে কারাগারে থাকা খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ বাতলে দেন হাছান মাহমুদ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির পক্ষে রিজভী আহমেদ সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তারা খালেদা জিয়ার যদি মুক্তি চান, তাহলে আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগোতে হবে। আর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে না এগিয়ে তারা যদি অন্য কোনো পথে খালেদা জিয়ার মুক্তি চান, সেটি সম্ভবপর নয়।

‘তাদের কাছে আরেকটি পথ খোলা আছে, সেটি হচ্ছে খালেদা জিয়া তার দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন। তাহলে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা প্রার্থনা করতেও পারেন। পরে তাকে মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।’

হাছান মাহমুদ বলেন, এর বাইরেতো অন্য কোনো সুযোগ নেই। বারবার তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রকৃতপক্ষে আইন-আদালতের প্রতি অশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন, বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন। যেটি সমীচীন নয়। যা দেশের আইনের শাসন, আইন-আদালতকে প্রকৃতপক্ষে আন্ডার মাইন্ড করছেন। এটি অনুচিত, সমীচীন নয়।

সংবিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন নিতে হয়, এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি কাউকে ক্ষমা করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন এবং সেটি হয়তো সরকারের অনুমোদন লাগবে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।

‘এখন তারা সেটা করবে, কি করবে না- এই প্রশ্ন এই মুহূর্তে অবান্তর। কারণ, বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার সব দোষ স্বীকার করে মার্জনা প্রার্থনা করবেন কি করবেন না- সেটি প্রথম প্রশ্ন।’

উৎসঃ ‌বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ জাদুঘরের সাইনবোর্ড থেকে জিয়ার নাম মুছে দিয়েছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ

বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত চট্টগ্রাম জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের সাইনবোর্ড থেকে তার নাম মুছে দিয়েছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তারা ‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ছাত্র ফোরাম, চট্টগ্রাম মহানগর শাখা’ ব্যানারে কাজীর দেউড়ির সার্কিট হাউজ এলাকায় মানববন্ধন শেষে জাদুঘরের গেটের সামনে লাগানো সাইনবোর্ড থেকে জিয়ার নাম মুছে দেন।

তারা গেটে শিক্ষা উপমন্ত্রী ও সাবেক সিটি মেয়র মরহুম এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেলের ছবিসহ একটি ব্যানার লাগিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ছাত্র ফোরামের সভাপতি ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুর রহিম শামীমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও নগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক রাহুল দাশের পরিচালনায় মানববন্ধন ছাত্রলীগ নেতারা বলেন, জিয়া একজন বিতর্কিত নেতা, তার নামে কখনও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাদুঘর হতে পারে না। স্বাধীনতা দিবসের আগে এ জাদুঘরের নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নামকরণ করতে হবে।

এর আগে সোমবার ঢাকায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর করার প্রস্তাব দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল।

এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর করা হচ্ছে। এটি চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধাসহ সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। আমি এ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে প্রস্তাবনা দিয়েছি। যেহেতু সবার সম্মতি আছে, তাই এখন লিখিত প্রস্তাবনা দিলে হয়ে যাবে।’’

ভিডিওঃ ‘জাদুঘরের সাইনবোর্ড থেকে জিয়ার নাম মুছে দিয়েছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে কিছু সংখ্যক সেনা কর্মকর্তাদের হাতে নিহত হন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১৯৯১ সালে তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ১৯৯৩ সালে সার্কিট হাউজটিকে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর করা হয়।

এদিকে জাদুঘরের নাম পরিবর্তন ও ছাত্রলীগ কর্তৃক সাইনবোর্ড মুছে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সুফিয়ান।

তিনি বলেন, ‘‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার নাম মুছে ফেলতে এবং তার দল বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে বর্তমান সরকার নানা অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সাইনবোর্ড মুছে কিংবা নাম পরিবর্তন করে এ দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয় থেকে শহীদ জিয়ার নাম মুছে ফেলা যাবে না।’’

উৎসঃ ‌dhakatribune

আরও পড়ুনঃ জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নামফলক মুছে দিল ছাত্রলীগ


জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নামকরণ করার দাবিতে ‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ছাত্র ফোরাম’ সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন করেছে ছাত্রলীগ। মানববন্ধন শেষে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নামফলক কালি দিয়ে মুছে দিয়েছে তারা।

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে নগরের কাজীরদেউড়ীতে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের সামনে এ মানববন্ধন আয়োজন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ছাত্র ফোরামের সভাপতি ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুর রহিম শামীমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও নগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক রাহুল দাশের পরিচালনায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ভিডিওঃ ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নামফলক মুছে দিল ছাত্রলীগ ’


জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নামফলক পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন। ছবি: বাংলানিউজমানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, সহকারী কমান্ডার সাধন চন্দ্র বিশ্বাস, মো. হেলাল উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা প্রশান্ত সিংহ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সরওয়ার আলম মনি, ছাত্রলীগ নেতা একরামুল হক রাসেল, কামরুল হুদা পাবেল, মোশরাফুল হক পাবদাশ, জাহিদুল ইসলাম প্রমি, মেজবাহ উদ্দিন শিকদার সুমন, শাহাদাত হোসেন মানিক, তোফায়েল আহম্মেদ তুহিন প্রমুখ।

মানববন্ধনে মোজাফফর আহমদ বলেন, ‘একজন বিতর্কিত মানুষের নামে কখনও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাদুঘর হতে পারে না। স্বাধীনতা দিবসের আগে এ জাদুঘরের নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নামকরণ করতে হবে।’

মানববন্ধন শেষে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নামফলক কালি দিয়ে মুছে দেন ছাত্রলীগ নেতা আবদুর রহিম শামীম।

আবদুর রহিম শামীম বাংলানিউজকে বলেন, ‘জিয়া একজন বিতর্কিত মানুষ। তার নামে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাদুঘর হতে পারে না। তাই তার নাম মুছে দিয়েছি।’

শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সোমবার মন্ত্রীসভার বৈঠকে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন বলে জানা গেছে।

উৎসঃ ‌বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়া অসুস্থ : ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসার আবেদন


অসুস্থতা বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করানোর সুযোগ চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে একটি আবেদন করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯ নং বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে এ আবেদন করা হয়।

নাইকো দুর্নীতি মামলায় আজ খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এই নিয়ে আটবার তাকে কারা আদালতে হাজির করা হলো।

আজ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হুইল চেয়ারে করে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করে কারা কর্তৃপক্ষ। আজ মামলাটির অভিযোগ গঠনের ব্যাপারে শুনানি হয়।

খালেদা জিয়া আজ আদালতে কোনো কথা বলেননি। এ সময় তার সিনিয়র আইনজীবীরা তার সাথে দেখা করেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতকে বলেন, খালেদা জিয়াকে শারীরিক জটিল সমস্যার মাঝেই চিকিৎসা শেষ না করে আবার জেলে ফেরত আনা হয়েছে।

এ সময় খালেদা জিয়াকে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় চেকআপের অনুমতি চাওয়া হয় আদালতে।

আদালত খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে হাইকোর্টের আদেশের কপি জমা দিতে বলেন এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে বলে জানান।

আজ এ মামলার অপর আসামি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে তার শুনানি শেষ করেন।

শুনানিকালে অপর আসামিরাও উপস্থিত ছিলেন।

দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া গত এক বছর ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এর আগে সাতবার তাকে কারা আদালতে হাজির করা হয়। এর মধ্যে ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, ৮ নভেম্বর ও ১৪ নভেম্বর এবং চলতি বছরের ৩, ১৩ ও ২১ জানুয়ারি এবং ৪ ফেব্রুয়ারি তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সাথে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় নাইকো দুর্নীতি মামলাটি করেন।

মামলার পরের বছরের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

এ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ আসামি হলেন ১১ জন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো: শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ নাটোরে জোড়া খুনের কথিত মামলায় বিএনপি নেতা দুলু কারাগারে


নাটোরের আলোচিত রাকিব ও রায়হান হত্যা মামলায় জামিন না মঞ্জুর করে সাবেক উপমন্ত্রী বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালকদার দুলুকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ এই রায় দেন।

ঙ্গলবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় রাকিব ও রায়হান হত্যা মামলায় দুলুর আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে জামিন না মঞ্জুর করে দুলুকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি শহরের তেবারিয়া এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা পাল্লাপাল্টি কর্মসুচি পালনের প্রস্তুতি কালে দূর্বৃত্তদের গুলিতে রাকিব ও রায়হান নামে দুই যুবক নিহত হন। সে সময় দুই দলই তাদের নিজেদের কর্মী বলে দাবি করে। এ ঘটনায় দুই পরিবারের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক হত্যা মামলা করা হয়।

উৎসঃ ‌পালাবদল

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনার নির্দেশ পেয়ে পুলিশ আরও বেপরোয়া: রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মিডনাইট ভোটের শেখ হাসিনা কয়েকদিন আগে পুলিশকে বলেছেন দ্রুত মামলার কাজ নিষ্পত্তি করতে। শেখ হাসিনার নির্দেশ পেয়ে আইনশঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, সারাদেশে থানায় থানায় পুলিশি নিপীড়ন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে যেসব গায়েবি মামলা দায়ের করেছিল সেসব মামলায় চার্জশিট দেয়ার নামে ব্যাপক বাণিজ্য চলছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা আদায় করছে। অন্যদিকে হাজার হাজার নেতাকর্মী যারা কারাগারে বন্দি আছেন, আদালত থেকে জামিন লাভের পর তাদেরকে আবার শ্যোন অ্যারেস্টের নামে হয়রানি ও অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

এছাড়া কারাগারের মধ্যে বন্দিদের কাছ থেকেও নানাভাবে প্রতিনিয়ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির এ নেতা।

বিএনপির রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পুলিশি মামলা দিয়ে হয়রানি করতে গিয়ে বিচার ব্যবস্থাকে নড়বড়ে করে ফেলা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদেশে আওয়ামী ক্ষমতাসীনরা চাইলেই মামলা দিতে পারে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অন্যান্য মিথ্যা মামলার সঙ্গে ড্রাগের মামলা দিয়ে হেয় করা হচ্ছে। আটক বিএনপির বহু নেতাকর্মীদেরকে তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয় ন।

তিনি বলেন, যে দেশে শেখ হাসিনা তার সমালোচকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে উস্কানি দেন, সে দেশে আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রতিকার পাওয়ার সম্ভাবনাও তিরোহিত হয়ে গেছে।

বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, মিডনাইট ভোটের পর হৃদয়হীন ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিরোধী দলসহ জনগণের সবকিছু লুটে নিতে যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে। আর এই প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে তারা নিজেরাই একে অপরের জীবন কেড়ে নিচ্ছেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে গেলে ন্যায় বিচার পাওয়ার কোন নিশ্চয়তা নেই তবুও যাব : হাবিুবর রহমান হাবিব


নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই অনিয়ম শুরু হয়েছে। এ যাবৎকালের সবচেয়ে বাজে, কারচুপি পূর্ণ নির্বাচন হয়েছে একাদশ সংসদ নির্বাচনে। এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করলে জনগণের সঙ্গে অন্যায় করা হবে। তাই আমরা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাব। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে গেলে ন্যায় বিচার পাব এর কোন নিশ্চয়তা নেই তবুও যাব, বলছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব। ডিবিসি রাজকাহন

তিনি বলেন, আমিও নির্বাচনে প্রার্থী ছিলাম, তফসিল ঘোষনার পর থেকেই শুরু হলো গ্রেফতার। আগের মামলা, নতুন মামলা দেয়া হলো, গণগ্রেফতার করা হলো বিএনপি কর্মীদের। আমার ওপর হামলা করা হলো, কুপিয়ে জখম করা হলো, নির্বাচন কমিশন কোন ব্যবস্থা নেয়নি এর বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, এই চিত্র শুধু এক জায়গায় নয়, সারাদেশের একই অবস্থা। এক কথায় বলা যায় এটি ছিলো কারচুপির মহোৎসব।

তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় কোন কেন্দ্রে আমি পেয়েছি ২৩০০ ভোট, আবার কোন কেন্দ্রে ৮ ভোট। আবার কোন কোন জায়গায় ৯৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। তার দাবি সেখানে কি কোন মানূুষ মারা যায়নি? কোন মানুষ কি চাকরি করে না? কেউ এলাকার বাইরে ছিলো না? আমাদের লোকেরা তো গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে ছিলো। তাহলে এতো ভোট দিলো কে?

তিনি বলেন, আমাদের আগে থেকেই সিদ্ধান্ত ছিলো ট্রাইব্যুনালে যাব। আমিও মামলা করবো। দল থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তার দাবি এই কারচুপির বিরুদ্ধে যদি মামলা না করি তাহলে এই নির্বাচনকে বৈধতা দেয়া হবে। যা হবে জনগণের সঙ্গে অন্যায়। কারণ সাধারন জনগণ ভোট দিতে পারেনি। তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। আমাদের মামলা করতে হবে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‘মানবিক দিক বিবেচনা করলেও খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া উচিৎ’


মানবিক দিক বিবেচনা করে হলেও কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া উচিৎ বলে মনে করেন সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইফ জয়নুল আবদিন ফারুক।

তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে আমি কোন দাবি দিতে চাই না। বর্তমান সরকার প্রধান একজন মহিলা এবং আরেকজন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, তিনিও মহিলা। মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে হলেও বেগম জিয়াকে আজকে মুক্তি দেওয়া উচিত। তার বিরুদ্ধে যত মামলা আছে সেগুলো চলতে পারে। কিন্তু তার জামিনের ব্যবস্থা করা হোক এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।’

মঙ্গলবার(১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া,দলটির সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমাসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে এক মানববন্ধনে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের এ উপদেষ্টা বলেন, ‘মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে এই সরকারের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত তা আমি জানি না। আমার মনে হয় না এসব করে কোনো লাভ হবে। বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে এটা আমার বিশ্বাস হয় না।’

তিনি বলেন, ‘কোন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে সেটা আমি বিশ্বাস করি না। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনেও এই ঘটনাই ঘটেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আমার দল অংশগ্রহণ করে নাই। সেই নির্বাচন ভোটারবিহীন হয়েছে এবং সেই কলঙ্কিত নির্বাচন দিয়ে সরকার পাঁচটি বছর অতিক্রম করেছে। ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। আর এই নির্বাচনের জন্য দায়ী নির্বাচন কমিশনার। এই নির্বাচন কমিশনারের অধীনে পুলিশ ও বিজিবি ছিলো। তাহলে কি করে দিনের বেলার ভোট, রাতের বেলায় করলো? এই বিষয়টা তদন্তে আনা উচিত।’

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন,‘ব্যর্থ এই নির্বাচন কমিশনারের অধীনে যে সরকার গঠিত হয়েছে সেই সরকারের কাছে আমি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি কামনা করি না। আমি আমাদের অনেক নেতার কাছে শুনেছি এই সরকারের আমলে নাকি আইনি প্রক্রিয়া খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। আসলে তার মুক্তির জন্য দলকে আরও সুসংগঠিত হতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে হবে।’

প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, ‘শেখ হাসিনার কাছে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে কি কোন লাভ আছে? তার কাছে মুক্তি চেয়ে কোন লাভ হবে না। কারণ বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে নেয়া হয়েছে এই কারণে যে, বিএনপি যাতে আবার ঘুরে দাঁড়াতে না পারে। নির্বাচনে জয় লাভ না করতে পারে এবং জনগণের সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারে। এখন আমাদের আন্দোলন ছাড়া কোন বিকল্প নাই। আন্দোলন গড়ে তুলতে হলে যে যেখানে আছেন সেখান থেকেই সংগঠিত হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের সুশীল নাগরিক বুদ্ধিজীবী এবং কিছু সাংবাদিক কখনো কখনো সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে বলেন বিএনপি পারলে আন্দোলন করুক। আমি বলতে চাই বিএনপি যদি আন্দোলন করে তাহলে বাধা আসবে। আর বাধা আসলে তার প্রতিরোধ করবে আর তখন যে আন্দোলন শুরু হবে তখন তো আবার বলবেন না যে বিএনপি জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন, ধ্বংসাত্মক আন্দোলন শুরু করেছে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জিয়া নাগরিক ফোরামের সভাপতি লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, সংগঠনের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম সরোয়ার সরকার,স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা নুরুজ্জামান সর্দার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ এসএসসি’র প্রশ্নপত্রে আবারও ত্রুটি


এসএসসি পরীক্ষায় আবারও প্রশ্নপত্র ভুলের অভিযোগ। এবার গণিত পরীক্ষায় ইংরেজি ভার্সনে প্রশ্নপত্র ছাপার ত্রুটির কারণে অনেক পরীক্ষার্থীই ৭০ নম্বরে পুরোপুরি প্রশ্নের উত্তর করতে পারেনি। শিক্ষাবোর্ড বলছে, মুদ্রণ ত্রুটি পরীক্ষা চলাকালীনই সংশোধন করা হয়েছে এতে পরীক্ষার উপর প্রভাব পড়েনি, তবে কোনো শিক্ষার্থী যদি এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে তাহলে তদন্ত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত শনিবার গণিত সৃজনশীল পরীক্ষা ইংরেজি ভার্সনে এসএসসি পরীক্ষা প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় দেখা যায় ৪ পৃষ্ঠা প্রশ্নের ২য় পৃষ্ঠায় ৩টি প্রশ্ন ছাপা হয়নি। যে কারণে কেন্দ্র সচিব সঠিক প্রশ্নপত্র এসে কপি করে তা বিতরণ করেন। এর মধ্যে প্রায় ৩০ মিনিট সময় পাড় হয়ে যায়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন এই ৩০ মিনিট তাদের হাতে কোনো প্রশ্নই ছিল না। হাতে প্রশ্ন না থাকায় প্রায় ৩০ মিনিট কিছু না লিখেই বসে থাকতে হয় নবাব হাবিবুল্লাহ্ কেন্দ্রের সিট পড়া মাইল স্টোনের ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরাও।

তারা বলেন, অনেক বাচ্চাই নার্ভাস হয়ে গেছে। অনেকেই জানা প্রশ্নেরও ভুল উত্তর দিয়েছে। তবে কেন্দ্র সচিব অভিযোগ স্বীকার করে দায়ভার চাপান শিক্ষা বোর্ডের কাঁধে।

নওয়াব হাবিবুল্লাহ্ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কেন্দ্র সচিব মো. হারুনুর রশিদ বলেন, আমাদের পাশের উত্তর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রেও একই সমস্যা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অনেক স্ট্রেস ছিল। আমরা চেষ্টা করেছি তাদের স্ট্রেস দূর করার। এই দোষ অবশ্যই শিক্ষা বোর্ডের।

এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলছেন , মুদ্রণ ত্রুটি কোনো বড় ব্যাপার নয়, তবে এর কারণে কোন শিক্ষার্থীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ পেলে সে বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন তিনি।

ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক বলেন, কিছু প্রশ্নে মুদ্রাজনিত সমস্যা ছিল। এজন্য তাদের সময় নষ্ট হয়েছে এটা নয়। কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলে তদন্ত করা হবে।

শুধু এ কেন্দ্রই নয় । রাজধানীর বাড্ডা আলাতুনন্নেছা, মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও গভঃ ল্যাবরেটরি স্কুলেও প্রশ্নপত্রে এমন ভুলের অভিযোগ পেয়েছে শিক্ষা বোর্ড। এর আগে বাংলা পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ভুলের অভিযোগ উঠে পরে এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয় যার প্রতিবেদন দেয়ার কথা আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি।

উৎসঃ ‌somoynews.tv

আরও পড়ুনঃতরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণ: ২ পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার


এক তরুণীকে আটকে রেখে দুই দিন ধরে ধর্ষণের ঘটনায় জেলার সাটুরিয়া থানার সাটুরিয়া থানায় উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) সেকেন্দার হোসেন ও সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) মাজহারুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার রাতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী সোমবার রাতে সাটুরিয়া থানায় অভিযুক্ত ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

সাটুরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণের জন্য ওই তরুণীর মেডিক্যাল পরীক্ষা সোমবার রাতেই সম্পন্ন হয়েছে। পরে মঙ্গলবার ভোরে অভিযুক্ত ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রবিবার পুলিশ সুপারের কাছে নির্যাতনের শিকার ওই তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান ও ডিএসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হামিদুর রহমান সিদ্দীকী সোমবার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেন।

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক লুৎফর রহমান জানান, সোমবার রাত সাড় ৮টার দিক ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়।

আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার আরও জানান, চার সদস্য বিশিষ্ট এই মেডিক্যাল বোর্ড দ্রুত সময়ের মধ্য একটি রির্পোট দিবেন বলে জানান।

উল্লেখ্য, সাটুরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেকেন্দার হোসেন তার খালার কাছ থেকে ৫ বছর আগে এক লাখ টাকা নেন। লাভসহ ফেরত দেওয়ার কথা বলে এই টাকা নেন তিনি। কিন্তু বারবার ফেরত চেয়েও টাকা পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই পাওনা টাকা আনতে বুধবার বিকাল ৫টার দিকে খালার সঙ্গে সাটুরিয়া থানায় যান তিনি। সেখানে সেকেন্দার হোসেনের সঙ্গে দেখা হলে তিনি দুইজনকে নিয়ে সাটুরিয়া ডাকবাংলোয় যান। কিছুক্ষণ পরে সেখানে উপস্থিত হন একই থানার আরেক এএসআই মাজহারুল ইসলাম। কিছুক্ষণ পর তাকে ও তার খালাকে আলাদা ঘরে নিয়ে আটকে রাখে পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তা। একপর্যায়ে ওই তরুণীকে অস্ত্রের মুখে ইয়াবা সেবনে বাধ্য করা হয়। পরে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আটকে রেখে তাদের দুইজনকে ডাকবাংলো থেকে বের করে দেয় তারা।

উৎসঃ ‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন শেখ হাসিনার হাতে!


সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের আজ ৭ বছর পূর্ণ হলো। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় নির্মমভাবে খুন হন এই সাংবাদিক দম্পতি। ঘটনার পরের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনীদের খোঁজে বের করা হবে। এই সময়ের মধ্যেই দেশবাসী জানতে পারবে কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু, ৪৮ ঘণ্টাতো দূরের কথা বিগত ৭ বছরেও নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়নি পুলিশ। এরমধ্যে ৬২ বার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ পেছানো হয়েছে। আর পরিবর্তন করা হয়েছে ৬ জন তদন্ত কর্মকর্তাকে।

জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, নিহতদের রক্তমাখা জামা পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। ৭ বছরের মধ্যে সেই পরীক্ষা শেষ হয়নি। এই পরীক্ষার রিপোর্ট কবে নাগাদ আসবে সেটাও বলতে পারছেন না পুলিশ কর্মকর্তারা।

বিশিষ্ট ব্যক্তি, সুশীল সমাজ, আইনজ্ঞ ও সাংবাদিকদের একটিই প্রশ্ন-সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে এমন কি রহস্য লুকায়িত আছে যা পুলিশ এখনো বের করতে পারছে না? বিগত ৭ বছরের মধ্যেতো অনেক হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে। এমনকি ৪০ বছর আগের ঘটনার বিচারও হয়েছে। তাহলে সাগর-রুনির হত্যাকারীদেরকে পুলিশ এখনো খুঁজে পাচ্ছে না কেন?

সাগর-রুনির হত্যাকারীদেরকে পুলিশ খুঁজে না পেলেও এনিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো ধোঁয়াশা নেই। বিষয়টা একেবারেই ওপেন সিক্রেট। সাগর-রুনিকে সরাসরি শেখ হাসিনা সরকারের নির্দেশেই হত্যা করা হয়েছে। আর এক্ষেত্রে মূল সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী। এই সাংবাদিক দম্পতিকে হত্যার মূল কারণ হলো-বিদ্যুত খাতের বড় একটা দুর্নীতির তথ্য ছিল তাদের কাছে। যে দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা জড়িত ছিল। এই দুর্নীতি প্রকাশ হলে শেখ হাসিনার সরকার বড় ধরণের বেকায়দায় পড়ে যাওয়ার সম্ভবানা ছিল। এটা বন্ধ করতেই তাদেরকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পুলিশের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ড তদন্ত করতে গিয়ে তারা যেসব তথ্য পেয়েছে তা খুবই ভয়ঙ্কর। এগুলো কখনো প্রকাশ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। সরকার এখানে একটি জজ মিয়া নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে। কারণ, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই সাংবাদিক দম্পতিকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে, রাজনীতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার পরিকল্পিতভাবেই নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না। তদন্ত প্রতিবেদনের এই ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েই ঘুরাফেরা করছে। এটা কখনো প্রকাশ পাবে না।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগের উন্নয়ন বনাম নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ

ধর্ষকলীগের প্রতীকী ছবি

২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট যখন ক্ষমতায় আসে, তার আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় ছিল। চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের তেমন উল্লেখযোগ্য কোন নেতাকর্মীর উপর নির্যাতন চালিয়েছিল মর্মে কোন তথ্য পাওয়া যায় না। তবে, সেসময় দেশের কয়েকটি স্থানে সংখ্যালঘু তথা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের উপর হামলা হয়েছিল। পরবর্তীতে অবশ্য জানা গিয়েছিল যে, এইসব ঘটনার অধিকাংশই ছিল বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং অনেকক্ষেত্রে ব্যক্তিগত রেষারেষির বিষয়কেও সংখ্যালঘু নির্যাতন হিসেবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হয়েছিল।

ঘটনা যাই ঘটুক না কেন, একথা স্বীকার করতেই হবে, সেসময়ে সেই সামান্য কয়েকটি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাকে আওয়ামী লীগ বেশ ফুলে ফাপিয়ে প্রচার করতে সক্ষম হয়েছিল। দেশতো বটেই এমনকি বিদেশী অনেক সংস্থাও বিশ্বাস করেছিল যে, চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসে হিন্দুদের উপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। বিএনপির সাথে ইসলামিক দল জামায়াতের জোট হওয়ায় এবং জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা সরকারের মন্ত্রী হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহল মোটামুটি বিশ্বাস করেছিল যে ক্ষমতার কেন্দ্রস্থল থেকেই হিন্দু নির্যাতনের মত ঘটনাগুলোকে মদদ দেয়া হয়েছে। শাহরিয়ার কবিরের মত আওয়ামী দালালেরা সেই সময় নানা ধরনের শর্ট ফিল্ম ও ডকুমেন্টারী নির্মাণ করে এসব ঘটনাকে বিশ্বের দরবারে নেতিবাচকভাবে হাইলাইটও করেছিল।

দুর্ভাগ্য বিএনপির, দুর্ভাগ্য জামায়াতের আর দুর্ভাগ্য দেশবাসীরও। আওয়ামী লীগ বিতর্কিত নির্বাচন করে টানা তৃতীয়বারের মত ক্ষমতায় এসে যখন বর্বরতা আর পৈশাচিকতার জঘন্য নজির স্থাপন করে যাচ্ছে তখনও সেই সব সত্য ঘটনাগুলোকে সর্বমহলে বিরোধী দল তুলে ধরতে পারছেনা।

আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীরা চোখে রঙ্গিন চশমা পড়ে ঘুরছেন। তারা দেশকে উন্নত দেশ বলে ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন। একজন মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ নাকি এখন লস এ্যাঞ্জেলেস হয়ে গেছে। অন্যদিকে আরেকমন্ত্রী এক ডিগ্রী এগিয়ে বলেছেন, কয়েক বছর পর নাকি আমেরিকা থেকেই লোকজন শ্রমিক হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করতে আসবে। আল্লাহ এই সব দালাল ও দলকানা লোকদেরকে হেদায়েত নসীব করুন। এর চেয়ে বেশী কিছু আর বলারও নাই।

কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে বাংলাদেশের অবস্থা এখন ভয়াবহ। অন্যসব সংকটের কথা বাদ দিয়ে গেলেও এবারের বিতর্কিত নির্বাচনে নোংরাভাবে বিজয় হাইজ্যাক করার পর সরকার ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষকলীগসহ আওয়ামী লীগের অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা যেভাবে নারী নির্যাতন ও ধর্ষনের উৎসব শুরু করেছে, তাতে আওয়ামী লীগের কি হবে জানিনা, তবে আমাদেরই মাথা লজ্জ্বায় হেট হয়ে যায়। নির্বাচনের পর থেকে আজ অবধি সারা দেশে নারী-শিশু ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতন আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে আজ নারী ও শিশুর ইজ্জত-আবরুর কোন নিরাপত্তা নেই।

নির্বাচনের পরের দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরে একটি গ্রামে একজন গৃহবধুকে তার স্বামীর সামনেই গন ধর্ষন করা হয়। তার অপরাধ ছিল তিনি বিরোধী দল তথা ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রদান করেছেন। এর ঠিক এক মাস পর গত ১লা ফেব্রুয়ারী রাতে সেই একই এলাকায় অর্থাৎ সুবর্ণচরের পূর্বচরবাটা ইউনিয়নে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত এক ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। দেশে নারী-শিশু-কিশোরী অবাধে ধর্ষিতা হচ্ছে। প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্বৃত্তরা নারী-শিশু-কিশোরীকে ধর্ষণ করছে।

তদন্তে দেখা যায় সরকারী দলের লম্পট দুর্বৃত্তরা প্রশাসনের ছত্র ছায়ায় অবাধে ধর্ষণ ও হত্যার মত নৃশংস ঘটনা একের পর এক ঘটিয়ে যাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ এসব দেখেও না দেখার ভান করছে। ফলে ধর্ষকরা আরো উৎসাহিত হচ্ছে। তারা ধর্ষিতাদের অভিভাবকদের মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে এবং নাজেহাল করছে। ফলে নারী-শিশু-কিশোরী ধর্ষণ ও নির্যাতন মহামারী আকার ধারণ করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা গিয়েছে যে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ সরকারী দলের ধর্ষণকারীদের সাহায্য-সহযোগিতা করছে এবং ধর্ষকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা আমলে না নিয়ে ধামা-চাপা দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, গত ২০১৮ সালে যৌন সহিংসতায় সারা দেশে ৪২ জন নারী ও শিশু নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ২৮৪ জন। গত জানুয়ারী মাসের ৩৩ দিনে ৪১টি ধর্ষণ ও ধর্ষণ অপচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। তাদের ২৯ জনই শিশু ও কিশোরী। বাস্তবে দেশে নারী-শিশু-কিশোরী ধর্ষণের যে সব ঘটনা ঘটছে তার সামান্য অংশই মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে। বেশীর ভাগ ঘটনাই অজানা থেকে যাচ্ছে।

নারী-শিশু-কিশোরী ধর্ষণকারী দুর্বৃত্তদের বিচার না হওয়ার কারণেই নারী, শিশু-কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই যাচ্ছে। এ সব বন্ধ করতে হলে ধর্ষণকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। আওয়ামী যেসব ক্যাডাররা এসব অপকর্মের সাথে যুক্ত হয়েছে তাদের প্রত্যেককে প্রকাশ্যে শাস্তি দিতে হবে। পুলিশ ও প্রশাসনের যে কর্মকর্তারা এসব অপরাধের ব্যপারে নির্বিকার ভুমিকা পালন করছে, মদদ দিচ্ছে তাদেরকেও চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ইসলামপন্থী দল ও ব্যক্তিবর্গদের হেয় করা বন্ধ করতে হবে। ইসলামী দলগুলোকে অবাধে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। ওয়াজ ও ধর্মীয় আলোচনাগুলোর প্রসার ঘটাতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে ধর্মীয় ও নৈতিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে এগুলো অধ্যায়ন বাধ্যতামুলক করতে হবে। কেননা এটাই দিবালোকের মত সত্য, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা ও মোটিভেশন ছাড়া এই ধরনের জঘন্য অপকর্মকে কোনভাবেই রোধ করা যাবেনা। আর যদি ধর্ষণ আর নারী নির্যাতন এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে আওয়ামী লীগের তথাকথিত উন্নয়নের চাঁপাবাজি করে জনগনকে নিয়ন্ত্রনে রাখাও সম্ভব হবেনা।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here