ভারত বাংলাদেশের যেমন বন্ধু, গওহর আমার তেমন বন্ধুঃ আলজাজিরাকে শহিদুল (ভিডিও)

0
262

ভারত আমাদের যেমন বন্ধু, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভীও আমার সেরকমই বন্ধু। তাই আমাকে ঐসব বন্ধুদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এমন মন্তব্য করেছেন আলোকচিত্রী ও সাংবাদিক শহীদুল আলম।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার দেয়া এক সাক্ষাতকারে এমন মন্তব্য করেন সরকারের রোষানলে পড়ে কারাবরণ করা খ্যাতিমান এই আলোকচিত্রী।

শহিদুল আলমকে উপস্থাপক মেহেদী হাসান প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা গওহর রিজভী। তিনি আলজাজিরার ‘হেড টু হেড’ প্রোগ্রামে বলেছিলেন, ‘শহীদ (শহিদুল) আমার খুবই কাছের বন্ধু’। আসলেই কি তাই?

এই প্রশ্নের উত্তরে শহীদুল আলম বলেন, আমি এই ব্যাক্তিকে চিনি। এবং আমরা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মিলিত হয়েছিলাম। আমার কাছে বন্ধুত্বের কিছুটা ভিন্ন সংজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু এছাড়াও, তারা বলে, আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত আমাদের বন্ধু এবং আমি জানি আমাদের দুই দেশের সম্পর্কটা কেমন। তাই, আমাকে ঐসব বন্ধুদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

ভিডিওঃ  ‘ভারত বাংলাদেশের যেমন বন্ধু গওহর রিজভী আমার তেমন বন্ধুঃ শহিদুল আলম’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

আলজাজিরার সাক্ষাতকারটি ভাষান্তর করেছে অ্যানালাইসিস বিডি। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো:

উপস্থাপক: এই বছরের শুরুতে হেড টু হেড অনুষ্ঠানে আমি গওহর রিজভীর ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। যিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা। আল-জাজিরায় ইন্টারভিউ দেয়া কিংবা মন্তব্যের জন্য শহীদুল আলম গ্রেফতার হননি। তিনি বিকৃত তথ্য ছড়ানোর দায়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন যেটা সহিংসতা উস্কে দিচ্ছিলো আপনি তার প্রতি কি বলবেন?

শহীদুল আলম: আমি বিষয়গুলো সেভাবেই লিপিবদ্ধ করছিলাম যেভাবে সেগুলো ঘটছিলো। আমি কোন টাইম মেশিনের মালিক নই। উস্কানি হচ্ছে এমনকিছু যা একটি ঘটনার পরে ঘটে। আমি ঘটনা লিপিবদ্ধ করছিলাম। এবং যা ঘটছিলো তার সুস্পষ্ট দলিল রয়েছে আমার রেকর্ডিং। এখানে সুস্পষ্টত এমন কিছু নেই, যা আমার দেয়া বিবৃতিকে আমার নিজের তৈরী হিসেবে সাব্যস্ত করতে পারে। আমি শুধুমাত্র যা ঘটছিলো তা-ই বিবৃত করছিলাম। এটা তা-ই যা একজন সাংবাদিক করে থাকেন, যেকোন সাংবাদিক।

উপস্থাপক: তাহলে এগুলো আপনার বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং বানানো অভিযোগ?

শহীদুল আলম: পুরোপুরি।

ভিডিওঃ  ‘আল জাজিরায় শহিদুল আলমের পূর্নাঙ্গ সাক্ষাৎকার’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উপস্থাপক: গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। যিনি আপনার গ্রেফতার এবং আটকাবস্থাকে সমর্থন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তিনি আপনার বন্ধু! শহীদ আমার খুব কাছের বন্ধু। তখন আমি পাল্টা তাকে প্রশ্ন করেছিলাম- শহীদুল আলম আগস্টে কোর্টের বাইরে সাংবাদিকদের বলেছেন তিনি পুলিশ কর্তৃক এতটাই মার খেয়েছেন যে তার জামা রক্তে ভিজে যাওয়ার কারণে ধুয়ে ফেলতে হয়েছিলো। তাকে ১০৭ দিন জেলে রাখা হয়েছে এবং তিনি বলেছেন তাকে অত্যাচার করা হয়েছে। এভাবেই কি আপনি আপনার বন্ধুদের মূল্যায়ন করেন? এর জবাবে গওহর রিজভী বলেছিলেন, ‘শুনুন, তার চিকিৎসা নিয়ে আমি একটি শব্দও বলিনি। আমি শুধুমাত্র এটাই বলেছি যে, শহীদ আমার কাছের বন্ধু।’ আসলেই কি তাই?

শহীদুল আলম: আচ্ছা, আমি এই ব্যাক্তিকে চিনি। এবং আমরা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মিলিত হয়েছিলাম। আমার কাছে বন্ধুত্বের কিছুটা ভিন্ন সংজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু এছাড়াও, তারা বলে, আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত আমাদের বন্ধু। এবং আমি দেখতে পারছি আমাদের দুই দেশের সম্পর্কটা কেমন। তাই আমাকে ঐসব বন্ধুদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ আলজাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শহিদুল আলম সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়েন গওহর রিজভী। শহিদুল আলম নিজের বন্ধু দাবী করলে উপস্থিত দর্শকদের হাস্যরসের শিকার হন তিনি।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসার আগ মুহূর্তে অস্ত্রসহ আ.লীগ নেতা আটক


শেখ হাসিনা রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসার আগ মুহূর্তে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম এম এ মান্নান। আটক ব্যক্তি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার কাছ থেকে ৮ রাউন্ড গুলিসহ একটি লাইসেন্সকৃত পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে তাকে আটক করে পল্টন থানা পুলিশে হস্তান্তর করেছে শেখ হাসিনার নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের এডিসি এস এম শিবলী নোমানি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শুক্রবার বিকেলে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভার জন্য শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন। তার আসার মুহূর্তে বিকেল চারটার দিকে জিরো পয়েন্টে শেখ হাসিনার নিরাপত্তায় নিয়োজিত গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মান্নান নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহবশত তল্লাশি করে।

তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে ৮ রাউন্ড গুলিভর্তি লাইসেন্সকৃত একটি বিদেশি পিস্তল পাওয়া যায়। পরে তাকে পল্টন থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ দেশে আইনের শাসন নেই বলেই খালেদা জিয়া জামিন পাচ্ছেন না : মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল


বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, দেশে আইনের শাসন নেই বলেই সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে খালেদা জিয়া জামিন পাচ্ছেন না। আইন যদি থাকতো বা আইনের বাস্তবায়ন যদি থাকতো তাহলে তিনি অবশ্যই জামিন পেতেন অনেক আগেই এবং রাস্ট্রের পক্ষ থেকে বারবার তাঁর জামিনের বাঁধার সৃষ্টি করা হতো না।

শুক্রবার বিকেলে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তির ব্যাপারে তার সাংবিধানিক অধিকার ও আইনি অধিকারের ব্যাপারে ‘জামিনে মুক্তি পাবে’ এই সম্মানিত শব্দটির সাথেই থাকতে চাই। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে, অসুস্থ্যতা নিয়ে তাঁর জীবনহানির আশঙ্কা নিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারে কিন্তু আমরা রাজনীতি করতে পারবো না।’

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, আজকে দেশে ক্ষমতায় থাকার পরও আ’লীগের কোনো নেতাকর্মীর দাম নেই। কোথাও কোনো গুরুত্ব নেই। পুলিশের কাছে তারা অসহায়। ডিসি/এসপি বা প্রশাসন ও হাইব্রিড নেতাদের কাছে অসহায়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগেরও চিন্তা করা উচিত সংগঠন হিসেবে তাদের অস্তিত্ব আর কত দিন টিকে থাকবে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী ও শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া যে আওয়ামী লীগ সেই আওয়ামী লীগ আজকে পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও বিচার বিভাগের একাংশের দয়ার ওপর টিকে আছে।

তাদের ভিক্ষা করা ভোটের ওপর তারা টিকে আছে। এই আওয়ামী লীগের সাথে শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগের মেলালে নিজেদের সঙ্গে প্রবঞ্চনা করা হবে। বাংলাদেশে গনতন্ত্র নেই বলেই প্রধানমন্ত্রী বারবার বাকশালের কথা বলছেন। তাঁর বাবা বাকশাল করে সফল হননি। এখন তিনি বাকশালের ভালো দিকটা বলার চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার প্যারোল প্রসঙ্গে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, একজন মন্ত্রী প্যারোল নামক একটি শব্দ প্রসব করলেন। আর অন্যমন্ত্রীরা ওই প্রসবকৃত প্যারোল শিশুকে লালন-পালন করে বড় করার চেষ্টা করছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে প্যারোল নামক সন্তানের জন্মও দেয়া হয়নি। লালন-পালনও করা হয় না। দেশে আইনের শাসন নেই বলেই ৬ বছরের শিশু থেকে ৬ সন্তানের জননী ধর্ষিত হচ্ছেন। আর এ সকল ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। কিন্তু তাদের বিচার করা হচ্ছে না।

সৈয়দ আলাল বলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই আজকের এই জুরুরি বৈঠক। বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিই এখন বিএনপির একমাত্র লক্ষ্য। আগামী দিনে কর্মসূচী ঘোষনা করবে অভিভাবক সংগঠন বিএনপি। রাজপথে তা বাস্তবায়নের জন্য থাকবে তারুণ্যে ভরপুর ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন।’

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। সভায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি নূরজাহান ইয়াসমীন, ইঞ্জিনিয়ার শামসুদ্দিন আহম্মেদ, ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন, ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চু, জাকির হোসেন বাবলু, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, আলমগীর মাহমুদ আলম, অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, কাজী রানা, শাহ শিব্বির আহম্মেদ বুলু, জয়নাল আবেদীন, জাকারিয়া হারুন, এ কে এম মাহবুবুল আলম মাহাবুব, এম এ হান্নান খান, আনোয়ারুল আজিজ টুটুল, লিটন আকন্দ, আজিজুল হক, আখতারুজ্জামান বাচ্চু, রতন আকন্দ, আখতারুল আলম ফারুক, ফারজানা রহমান হুসনা, হেলাল আহম্মেদ, শেখ আজিজ, শামীম আজাদ, উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরুল হক, যুবদলের রুকনুজ্জামান সরকার, ভিপি শামছুল হক শামছু, মোজাম্মেল হক টুৃটু, দিদারুল ইসলাম রাজু, জোবায়েদ হোসেন শাকিল, বিপ্লব, শ্রমিকদলের মফিদুল ইসলাম মোহন, স্বেচ্ছাসেবকদলের শহীদুল আমীন খসরু, ভিপি ফরিদ, আলী আকবর আনিস, ফয়সাল, ছাত্রদলের মাহাবুবুর রহমান রানা, নাইমুল করিম লুইন, তানভীর আহমেদ রবিন, আবু দাঈদ রায়হান, রায়হান শরীফ হলুদ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রিজভীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল


কারাবন্দি ও অসুস্থ দলের চেয়ারপারন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিকট এসে শেষ হয়।

মিছিলে স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগরের শতাধিক নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এসময় নেতাকর্মীরা কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিছিলে স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইয়াসিন আলী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদরেজ জামান, উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাধারণ সম্পাদক কাজী রেজওয়ান হোসেন রিয়াজ, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিক হাওলাদার, উত্তরের সিনিয়র সহ-সভাপতি হারুন অর রশীদ, সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনু মো. শামীম, ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল, ধর্ম সম্পাদক জাকির হোসেন মিজান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শফিউদ্দিন সেন্টু, উত্তরের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সাইদুল প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার মাত্রাকে তীব্রতর করে জীবন বিপন্ন করার মাধ্যমে রাজনীতি থেকে দুরে সরিয়ে দিতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটি নিঃসন্দেহে শেখ হাসিনার গভীর মাস্টারপ্ল্যান। শেখ হাসিনার একটাই চিন্তা বেগম জিয়াকে রাজনীতি থেকে দুরে সরাতে না পারলে, বেগম জিয়াকে তিলে তিলে নিঃশেষ করতে না পারলে গদি রক্ষা করা যাবে না।’

বিএনপি স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না বলেই মুজিব নগর দিবস পালন করে না- আওয়ামী লীগের এক নেতা এমন বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, ‘৭২ থেকে ‘৭৫ আওয়ামী লীগের কোন নেতাই মুজিবনগরে যায়নি, কারণ সেদিন মেহেরপুরে যে সরকার গঠিত হয়েছিল তার প্রধান ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ, সেই দিবসে বিশ্বাস করলে তো আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকে না। আর এজন্যই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মেহেরপুরের মুজিবনগরে কোনদিনও যাননি।’

মিছিল শেষে উত্তরের সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ান হোসেন রিয়াজের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ উবারের গাড়ি ভাড়া নিয়ে মাদকব্যবসায়ীর ফেনসিডিল পাচার


অ্যাপভিত্তিক পরিবহনসেবা উবারের গাড়ি ভাড়ায় নিয়ে ফেনসিডিলের চালান দিতে গিয়ে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েছে তিন মাদকব্যবসায়ী।

আজ (শুক্রবার) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন তালতলার মুক্তি হাউজিং এলাকায় ফেনসিডিলভর্তি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।

এ সময় র‌্যাবের সঙ্গে ওই তিন ব্যক্তির গোলাগুলি হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব -২ সূত্র।

র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ গণমাধ্যমে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি যে, ফেনসিডিলের বড় একটি চালান ঢাকায় ঢুকবে। ওই খবরের পর রাজধানীর পৃথক তিনটি স্থানে চেকপোস্ট বসায় র‌্যাব। সকাল ৯টার দিকে একটি প্রাইভেটকার সাভারের হেমায়েতপুরের চেকপোস্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশে সাড়া না দিয়ে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে বেরিয়ে যায়। এ সময় এ বি সিদ্দিক নামে এক র‌্যাব সদস্য আহত হন।

তিনি জানান, সকাল পৌনে ১০টার দিকে শেরেবাংলা নগর তালতলা মুক্তি হাউজিং এলাকায় র‌্যাব সদস্যরা গাড়িটি আটকে দেয়। এ সময় দুই মাদকব্যবসায়ী গাড়ি থেকে নেমে র‌্যাব সদস্যদের ওপর গুলি ছুঁড়ে। র‌্যাব সদস্যদের পাল্টা গুলিতে মো. আলম মিয়া নামের এক মাদকব্যবসায়ী আহত হন। অন্যজন পালিয়ে যায়।

অস্ত্র ও গুলিসহ আলম মিয়াকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-২ সদস্য লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ।

র‌্যাব-২ সূত্রে আরও জানা গেছে, আলম মিয়ার বাকি দুই সহযোগীকে খুঁজছে র‌্যাব। ধরা পড়ার আগে গাবতলীর কাছে মো. রহমান নামে আরেক মাদকব্যবসায়ী নেমে যান বলে জানিয়েছে আলম মিয়া।

ফেনসিডিল বহনকারী গাড়িটি মিরপুরের জনৈক উবার চালক রুমির কাছ থেকে ভাড়া নেন বলে র‌্যাবকে জানিয়েছেন আটক আলম মিয়া।

র‌্যাব-২ বলছে, আলম মিয়া পেশাদার মাদকব্যবসায়ী। উবারের গাড়ি ভাড়ায় নিয়ে ইয়াবা ও ফেনসিডিলের চালান কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে নিয়ে যেতে তিনি।

আলম মিয়াসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা থানায়, মাদক, র‌্যাব সদস্যদের ওপর হামলা ও অস্ত্র আইনে তিনটি পৃথক মামলার প্রস্তুতি চলছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি আবারও ঘুরে দাঁড়াবে: মির্জা ফখরুল ইসলাম


বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য সরকার খালেদা জিয়াকে আটক রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি নেতাকর্মীদের হতাশ না হয়ে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন ও কর্ম নিয়ে লেখা বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

‘খালেদা জিয়া: তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ শিরোনামে বইটি লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ ও কবি আবদুল হাই শিকদার। বইটির প্রকাশনা উৎসবের আয়োজক শত নাগরিক কমিটি।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার বারবার চেষ্টা করেছে বিএনপিকে ভেঙে ফেলার। বারবার চেষ্টা হয়েছে নিশ্চিহ্ন করার। আজকে খালেদা জিয়া একটি মাত্র কারণে কারাগারে যে, বিএনপিকে নিঃশেষ করে দেয়া। রাজনীতিকে ধ্বংস করে দেয়া এবং খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া।

দলের নেতাকর্মীদের দৃঢ় মনোবলে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘হতাশ হবেন না। হতাশার কথা শুনতে চাই না। বিএনপি নিঃশেষ হয়ে যায়নি। বিএনপি অতীতেও প্রতিটি সংকটে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, এবারও ঘুরে দাঁড়াবে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।’

খালেদা জিয়ার রাজনীতি মানুষের জন্য মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি এবং খালেদা জিয়া এ দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করে। সে জন্য সরকার চাইলেও বিএনপিকে শেষ করতে পারবে না।

দলের নেতাকর্মীদের হতাশার কথা না বলার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা কখনও হতাশ হবেন না, হতাশার কথা শুনবেন না এবং হতাশার কথা বলবেনও না। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের নেত্রী জেলে থাকুন আর বাইরে থাকুন, তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা, তিনিই নেতৃত্ব দিয়ে এ দেশের গণতন্ত্রকে মুক্ত করবেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে আমরা নববর্ষের দিন দেখতে গিয়েছিলাম। তিনি এতটাই অসুস্থ যে, বিছানা থেকে উঠতে সাহায্য নিতে হয়। তার পরও তিনি এতটুকু মনোবল হারাননি। সে মনোবল নিয়েই আমাদের মাতাকে মুক্ত করতে হবে এবং গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

এ সময় প্রকাশনা উৎসবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, বইয়ের লেখক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ও কবি আবদুল হাই শিকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরউল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ দলীয় সিদ্ধান্তেই বিএনপি সংসদে যাবে নাঃ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ


বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদে যাবে না। দলীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ৬ জনপ্রতিনিধির শপথ নেয়ার প্রশ্নই আসে না। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মতিক্রমে আমরা স্থায়ী কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন ও কর্ম নিয়ে লেখা বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

‘খালেদা জিয়া: তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ শিরোনামে বইটি লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ ও কবি আবদুল হাই শিকদার। বইটির প্রকাশনা উৎসবের আয়োজক শত নাগরিক কমিটি।

অনুষ্ঠানে মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির নির্বাচিতদের সংসদে যাওয়া নিয়ে কোনো আলোচনা নয়। আর নির্বাচিতদের শপথ নেয়ার তো প্রশ্নই আসে না। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মতিক্রমে আমরা স্থায়ী কমিটি বসে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সুতরাং এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা যাবে না। বিষয়টি এখানেই নিষ্পত্তি হওয়ার প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সীমাহীন নির্যাতন বিএনপিকে আরও বেশি শক্তিশালী করেছে মন্তব্য করে দলটির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, আজকে আওয়ামী লীগের নির্যাতনের কারণে বিএনপি আগামী ১০০ বছর রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকবে। আওয়ামী লীগের এ সীমাহীন অত্যাচার আর নির্যাতন বিএনপিকে আরও বেশি শক্তিশালী করেছে।

সরকারের বাধায় কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি হচ্ছে না অভিযোগ করে সাবেক এ আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক কারণে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় বিএনপি নেত্রী আজ কারারুদ্ধ। সরকারের ইচ্ছা থাকলে তিনি আরও আগেই মুক্তি পেতেন। তার সব মামলা জামিনযোগ্য হলেও আমরা তাকে মুক্ত করতে পারছি না।

খালেদা জিয়ার মুক্তি মানে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসা মন্তব্য করে তিনি বলেন, দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই- তিনি যত দ্রুত ফিরে আসবেন, ততই আমাদের মঙ্গল। তার ফিরে আসা মানেই হলো- বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরে আসা।

প্রকাশনা উৎসবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বইয়ের লেখক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ও কবি আবদুল হাই শিকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার‌্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরউল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মন্দিরে পুরোহিতের শিশু ধর্ষণচেষ্টা, বিব্রত এলাকাবাসী


যশোর সদর উপজেলার বিরামপুরে মন্দিরের ভেতর পুরোহিতের শিশু ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় বিব্রত সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ স্থানীয়রা। ধর্মীয় নেতার এমন আচরণে হতবাক সবাই। পুরোহিতের প্রতি মানুষের দীর্ঘদিনের আস্থা ও বিশ্বাস ধূলিসাৎ হয়েছে এ ঘটনায়। যা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসীও।

প্রায় সাড়ে তিনশ সনাতন ধর্মাবলম্বীর বাস বিরামপুর গ্রামে। এই গ্রামে পাঁচটি মন্দির রয়েছে। এর একটি ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎ সঙ্গ আশ্রম মন্দির। সেখানে মন্দিরভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমও আছে। এই মন্দিরের পুরোহিত প্রকাশ ব্যানার্জি। তার দ্বারা প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রী নিগৃহীতের ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা অনুপ রায় চৌধুরী বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মান-সম্মান ডুবিয়েছেন পুরোহিত। তার কর্মকাণ্ডে আমরা বিব্রত। তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হলেও তাকে আর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ধর্মীয় কাজে ডাকবে না। আমাদের আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট করেছেন তিনি। তার কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বিরামপুর-নওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাপসী রায় বলেন, মেয়েটি আমাদের স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। দুদিন সে স্কুলে আসছে না। শুনেছি পুরোহিত তার সঙ্গে জঘন্য আচরণ করেছে। যা মুখে আনাও পাপ। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। আর কেউ যেন এমন ঘটনার শিকার না হয়।

শীলা রায় চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম দাস বলেন, মঙ্গলবার সকালে স্কুলে এসে শুনলাম পুরোহিত শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন। পুরোহিতের এমন কাণ্ডে পুরো সমাজ বিব্রত। সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক তিনি দোষী হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।

তিনি আরও বলেন, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ও বিশ্বাসের প্রতীক পুরোহিত। তার দ্বারা এমন জঘন্য ঘটনা মেনে নেয়া যায় না।

কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) সমীর কুমার সরকার বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন পুরোহিত। শিশুটি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। আসামিকে আটক করা হয়েছে। বতর্মানে তিনি কারাগারে আছেন। বৃহস্পতিবার সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালে শিশুটির মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

দুই দশক আগে যশোরের বিরামপুরে অবস্থিত ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎ সংঘ মন্দিরে পুরোহিত হিসেবে নিয়োগ পান প্রকাশ ব্যানার্জি। তিনি যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের কালীপদ ব্যানার্জির ছেলে। সেই সময় বিশিষ্ট সমাজসেবক বিমল রায় চৌধুরী মন্দিরের পাশে দুই শতক জমি পুরোহিত প্রকাশ ব্যানার্জিকে বসবাসের জন্য লিখে দেন। তিনি সেখানেই বসবাস করতেন আর মন্দিরের পুরোহিতের কাজ করতেন। তার দুই সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে তিন মাস আগে। আর ছেলেটি নবম শ্রেণির ছাত্র। স্ত্রী-সন্তান নিয়েই সেখানে বসবাস করতেন প্রকাশ ব্যানার্জি।

প্রকাশ ব্যানার্জি আটকের পর তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রকাশ ব্যানার্জির শ্বশুর জানান, জামাইকে পুলিশ আটক করেছে। সে ঘটনায় জড়িত নাকি ফাঁসানো হয়েছে জানি না।

পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে পুরোহিত প্রকাশ ব্যানার্জি মন্দিরে পূজা অর্চনা করছিলেন। এ সময় শিশুরাও সেখানে উপস্থিত ছিল। একপর্যায়ে সাড়ে ছয় বছর বসয়ী ওই শিশুকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ভেতরের একটি কক্ষে ডেকে নেন তিনি। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটি চিৎকার করলে ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে প্রকাশ ব্যানার্জিকে মন্দির থেকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় বুধবার শিশুটির মা থানায় মামলা করেন।

উৎসঃ ‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণ করেছে আ’লীগ নেতা মিন্টু রায়


রংপুর নগরীর পান্ডারদিঘি এলাকায় এক দিনমজুরের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে মিন্টু রায় (৩২) নামে দুই সন্তানের জনক ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ধর্ষক মিন্টু, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা হারাধন রায়সহ চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন নির্যাতিতার মা।

ধর্ষণের ঘটনা সালিশ বৈঠকের নামে ধামাচাপা দিয়ে সহযোগিতার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, নগরীর এক দিনমজুরকে একই এলাকার দুই সন্তানের জনক মিন্টু রায় গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে জমিতে ঘাস কাটার জন্য শ্রমিক হিসেবে নেয়।

জমিতে ঘাস কাটার সুযোগে মিন্টু রায় ওই শ্রমিকরে বাড়িতে গিয়ে টিভি দেখারত অবস্থায় তার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে ধর্ষক মিন্টু রায় দ্রুত পালিয়ে যায়। শিশুটির মা অন্যের বাড়িতে কাজ করতে গিয়েছিলেন।

ওসি বলেন, কাজ শেষে বাড়িতে এসে মেয়ে এবং প্রতিবেশীর মুখে ধর্ষণের ঘটনা শুনে পুলিশের কাছে যেতে চাইলে রংপুর সিটি করপোরেশনের ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারাধন রায় হারা মীমাংসার দায়িত্ব নিয়ে কালক্ষেপণ করেন।

বুধবার রাতে মেয়েটির মা বাদী হয়ে ধর্ষক মিন্টু রায়, ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারাধন রায় হারা, ধর্ষকের শ্যালক সম্ভু রায়, টেংকু রায় ও প্রতিবেশী মেহেদুল ইসলামকে আসামি করে মামলা করেছেন।

ওসি আরও জানান, ধর্ষণের ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে ধর্ষককে সহযোগিতার অভিযোগে ধর্ষকের শ্যালক সম্ভু রায়, টেংকু রায় ও মেহেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ধর্ষক ও কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, মেয়েটিকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে তার ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্ষণের শিকার শিশুর বাবা বলেন, মিন্টু তার জমিতে আমাকে ঘাস কাটার কাজে লাগিয়ে দিয়ে আমারই বাড়িতে ঢুকে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। এখন আবার আমাকেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য কাউন্সিলর হারাধন, ধর্ষক মিন্টুর শ্যালক সম্ভু ও টেংকু রায় হুমকি দিচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এ ব্যাপারে কাউন্সিলর হারাধন রায় বলেন, ধর্ষণের ঘটনাটি ১৫ এপ্রিল ঘটেছে। দুই পক্ষই ১৬ এপ্রিল আমার কাছে এসেছিল। তখন আমি ছেলে পক্ষকে বলেছিলাম ছেলেকে হাজির করান, তারপর মীমাংসা। কিন্তু তারা আমাকে মামলাতে জড়িয়েছে। এটা ঠিক নয়।

উৎসঃ ‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় যারা ভালো চেয়েছিল তারাই ভোগান্তিতে: শাহদীন মালিক


১৮ এপ্রিল ২০১৯–এ প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ছিল, ‘দোষ পাচ্ছে না পুলিশ, তবু হয়রান ছাত্ররা’।

গত জুলাই মাসে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময়, প্রথম আলো বলছে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ৬০টি মামলা হয়। কিছু মামলা ভয়ংকর—মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দাঙ্গাহাঙ্গামা করা, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর আক্রমণ, পুলিশের সরকারি যানবাহনে ভাঙচুর, বাড্ডা পুলিশ ফাঁড়িতে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা ইত্যদি।

গুরুতর সব অপরাধের অভিযোগ। আন্দোলনকারী ২২ ছাত্রকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের কিছুদিনের মধ্যে তাঁরা জামিন পেয়ে যান। এখন মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। তদন্ত করার কাজটা পুলিশের। কোন ছাত্র মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দাঙ্গাহাঙ্গামা করেছিল, কে থানায় আগুন লাগাবার চেষ্টা করেছিল, এবং একইভাবে অন্য অপরাধগুলোর সঙ্গে কে বা কারা কীভাবে জড়িত ছিল, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব পুলিশের। এখন প্রতি মাসে মামলাগুলো তদন্ত রিপোর্ট প্রাপ্তির জন্য আদালতে আসে; পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় যে তদন্ত এখনো চলছে এবং পরবর্তী মাসে আরেকটা ‘তারিখ’ পড়ে। অভিযুক্ত ছাত্রদের প্রতি তারিখে আদালতে হাজির হতে হয়; অন্যথায় জামিন বাতিলের আশঙ্কা থাকে। পুলিশ বলছে, ছাত্রদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ তারা খুঁজে পাচ্ছে না কিন্তু তদন্ত চলছে। যত দিন তদন্ত চলবে, মাসে মাসে মামলার তারিখ পড়বে, তত দিন ছাত্রদের আদালতে হাজির থাকতে হবে। তাঁদের জীবন থমকে গেছে এবং আরও কত মাস বা বছর যে থমকে থাকে, তা বলা অসম্ভব।

২. বহুদিন ধরেই বলছি, আমাদের বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থায় ভিন্নমত দমনে ও সমালোচকদের টুঁটি চেপে ধরার প্রধান অস্ত্র এখন ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা। প্রায় সব সময় সব দেশেই ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাটা রাষ্ট্রের একটা মারাত্মক অস্ত্র। এই অস্ত্রটা রাষ্ট্র প্রায়শই ভালো কাজে ব্যবহার করে। অর্থাৎ, অপরাধীদের নিবৃত্ত রাখতে, কেউ অপরাধ করলে তাকে খুঁজে বের করতে, এবং তদন্ত করে অপরাধীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতে হাজির করে শাস্তি নির্ধারণে সহায়তা করতে অস্ত্রটি ব্যবহৃত হয়। মাঝে ২-৪ বার এই ক্ষমতার অপব্যবহার বা অপপ্রয়োগ হয়ে যায়। নিরপরাধ ব্যক্তিও আটক হয়। সরকারের সমালোচকেরাই নিগ্রহের শিকার হয় কিন্তু এইসব থেকে যায় ব্যতিক্রম হিসেবে। কিন্তু আমাদের রাষ্ট্রে এই ব্যতিক্রমটাই প্রধান রীতি হয়ে গেছে বহু বছর ধরে, যার শুরুর সময়টা, অধমের হিসাবে অক্টোবর ২০০২ থেকে।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকারীরা অন্যের অনিষ্ট করতে চায়নি। তারা চেয়েছিল সমাজের অন্তত একটা দিন যাতে ভালো হয় সেই চেষ্টা করতে। সড়কে যাতে বেঘোরে প্রাণনাশ না হয়, সড়ক যাতে নিরাপদ থাকে, সকালে ঘর থেকে বেরিয়ে অক্ষত অবস্থায় সন্ধ্যায় বা রাতে ঘরে ফেরা যায়, সেটা নিশ্চিত করতে চেয়েছিল নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ছাত্রছাত্রীরা। তাদের এই দাবিদাওয়া ও আন্দোলনে কেউ কোনো অপরাধ খুঁজে পায়নি। কিন্তু যা কিছু ভালো, সেটাকে নষ্ট করাই আজকাল আমাদের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার কাজ। তাই যারা সমাজের ভালো চেয়েছিল, এখন তদন্তের নামে তাদের ভোগান্তি চরমে।

৩. রাষ্ট্রের ন্যূনতম কিছু ভালো গুণ থাকলে তদন্ত কর্মকর্তা—বলা বাহুল্য, সাক্ষ্য প্রমাণ সাপেক্ষে—এই উপসংহারে উপনীত হতেন যে যাঁদের অভিযুক্ত করে মামলার তদন্ত শুরু হয়েছিল, ৮-১০ মাস খোঁজাখুঁজি করে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, এই ২২ জন ছাত্রের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়নি। অতএব, তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করতে পারেন, যাতে এই ২২ জন ছাত্রকে মামলাগুলো থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু সে আশাটি হবে আকাশকুসুম। কারণ, সভ্য রাষ্ট্রে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে, ন্যায়বিচারের রাষ্ট্রে নাগরিকদের হেনস্তা করা, ভোগান্তি নিশ্চিত করা, হয়রানি করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান উদ্দেশ্য ও কাজ না। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা এখন আর সভ্য, গণতান্ত্রিক, বিচার আর ন্যায়বিচারের দেশ না। অতএব, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের এই ২২ জন অভিযুক্ত তরুণ ছাত্র আরও বহুদিন রাষ্ট্রীয় অত্যাচারের শিকার হয়ে থাকবেন। কারণ, অত্যাচার করাই রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান কাজ।

লেখক: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী

উৎসঃ ‌প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় দক্ষিণ এশিয়ায় তলানিতে বাংলাদেশ


গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশ চার ধাপ পিছিয়েছে। গণমাধ্যম পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তৈরি সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম। এর আগে ২০১৮ সালে ছিল ১৪৬তম।

ফ্রান্সের প্যারিসভিত্তিক সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের (আরএসএফ) ওয়েবসাইটে বুধবার এ সূচক প্রকাশ করা হয়।

২০১৯ সালের ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স’ বলছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকারের প্রশ্নে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই সবচেয়ে তলানিতে রয়েছে।

সাতটি মাপকাঠিতে বিচার করে একটি দেশের সংবাদমাধ্যম কতটা স্বাধীনতা ভোগ করছে তা বোঝার চেষ্টা করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স।

এই সাতটি মাপকাঠি হলো- সংবাদমাধ্যমে বহুমতের প্রকাশ, সংবাদমাধ্যমে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ, স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ, আইনি কাঠামো, সংবাদমাধ্যমের কাজে স্বচ্ছতা, অবকাঠামো, সংবাদকর্মীদের ওপর নিপীড়ন।

সব মাপকাঠির স্কোরের গড় করে তৈরি করা হয়েছে একটি দেশের গ্লোবাল স্কোর। ১০০ পয়েন্টের এই সূচকে যে দেশের স্কোর যত কম, সে দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা তত বেশি।

এ বছরের সূচকে ১৫০তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের স্কোর দেখানো হয়েছে ১০০-এর মধ্যে ৫০.৭৪। গত বছর বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৪৮.৬২, আর বিশ্বে অবস্থান ছিল ১৪৬ নম্বরে।

গত ছয় বছরের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৪ থেকে ১৪৬-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। এবার তা এক ধাক্কায় চার ধাপ নেমে এলো।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের বিচারে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সবচেয়ে কম, এমনকি মিয়ানমারও এই সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে।

বিশ্বে গণমাধ্যমের পরিস্থিতি সম্পর্কে এবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবাদকর্মীরা সম্পূর্ণ নিরাপদে কাজ করতে পারেন- এমন দেশের সংখ্যা গত এক বছরে কমে গেছে। পাশাপাশি কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো গণমাধ্যমের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের সেক্রেটারি জেনারেল ক্রিস্টোফ ডেলোয়ের বলেন, গোপন অথবা প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিরোধ যদি এভাবে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে থাকে, যেখানে সাংবাদিকরা পরিণত হন বলির পাঁঠায়, তা হলে বুঝতে হবে, গণতন্ত্র মহাঝুঁকির মধ্যে আছে।

সূচকের সঙ্গে প্রতিটি দেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতির ওপর একটি সারসংক্ষেপ দেয়া হয়েছে। ‘কঠিনতর রাজনীতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার আরও বেশি লঙ্ঘন’ শিরোনামে বাংলাদেশ অংশে বলা হয়েছে- ২০১৮ সালের শেষে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়ে যায়।

এ সময় মাঠপর্যায়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কর্মীদের সহিংসতার শিকার হন সাংবাদিকরা। অযৌক্তিকভাবে বেশ কিছু অনলাইন সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয় এবং কয়েকজন সাংবাদিককেও গ্রেফতার করা হয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত চিত্রসাংবাদিক শহিদুল আলমের ১০০ দিন জেল খাটার ঘটনা উল্লেখ করে বাংলাদেশ অংশে আরও বলা হয়েছে, কেউ সরকারের বিরক্তির কারণ হলে তাকে থামাতে কীভাবে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করা হয়, এটি তার দৃষ্টান্ত।

এ ছাড়া গত বছরের অক্টোবরে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ১৪ বছর শাস্তির বিধান রাখা হয়। অন্যদিকে অসাম্প্রদায়িক সমাজের জন্য কথা বলা বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও ব্লগার ইসলামপন্থী জঙ্গিদের হাতে খুন ও হামলার শিকার হন।

সূচকে ১৮০ দেশকে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে গণমাধ্যমের জন্য ভালো পরিবেশ থাকা ক্যাটাগরিতে রয়েছে মাত্র ১৫ দেশের নাম। সন্তোষজনক পরিস্থিতি রয়েছে ২৮ দেশে। সাংবাদিকতার জন্য সমস্যাপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে ৬৬ দেশে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি।

মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশের দিক দিয়ে এবারের প্রতিবেদনের শীর্ষ ১০ দেশ হলো- নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, জ্যামাইকা, বেলজিয়াম ও কোস্টারিকা।

এ তালিকায় তলানিতে অর্থাৎ ১৮০ নম্বরে থাকা দেশটি তুর্কমেনিস্তান। উত্তর কোরিয়া ও চীনের অবস্থান যথাক্রমে ১৭৯ ও ১৭৭ নম্বরে।

শিল্পোন্নত পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য সাত ধাপ এগিয়ে ৩৩তম অবস্থানে উঠে এলেও যুক্তরাষ্ট্র তিন ধাপ পিছিয়ে নেমে গেছে তালিকার ৫৮তম অবস্থানে।

উৎসঃ ‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ কিশোরগঞ্জের আ’লীগ নেতার ছেলে ফখরুল আলম ৪৭০ পিস ইয়াবাসহ আটক


কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থেকে মো. ফখরুল আলম মুক্তার (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে ৪৭০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেছে র‌্যাব-১৪। তিনি উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আজিজুল হক ভূঞার ছোট ছেলে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার তালজাঙ্গা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব-১৪ সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ কোম্পানি অধিনায়ক লে. কমান্ডার (বিএন) এম শোভন খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মাদককে নির্মূলে কিশোরগঞ্জ র‌্যাব নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাড়াইল উপজেলার তালজাঙ্গা এলাকায় কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে ৪৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ফখরুল আলম মুক্তারকে হাতেনাতে আটক করে।

শোভন খান আরও জানান, মুক্তার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত মুক্তার মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল থানায় মামলা দায়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে নাম না প্রকাশ শর্তে এলাকার বেশ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, ফখরুল আলম মুক্তার দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জসহ তাড়াইল উপজেলাজুড়ে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে বলে এলাকার কেউ এনিয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

উৎসঃ ‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বেড়েই চলেছে ধর্ষণ, গত ৩৬ ঘণ্টায় ঘটেছে ১০টি ধর্ষণের ঘটনা


আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দেশে ধর্ষণ বাড়ছে, বাড়ছে ধর্ষণের পর হত্যা। প্রায় প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ধর্ষণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্কুলছাত্রী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী, গৃহবধূ থেকে প্রতিবন্ধী নারী, এমনকি শিশু- কেউই রেহাই পাচ্ছে না ধর্ষণের কবল থেকে। এক এলাকায় ধর্ষণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গণমাধ্যম কেঁপে ওঠছে নতুন আরেক ধর্ষণের খবরে।

গত ৩৬ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশু ধর্ষণের ১০টি ঘটনা ঘটেছে। আর এসব ঘটনায় ১০টি মামলা দায়ের হওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

নোয়াখালীর সেনবাগে ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি। এ ছাড়া নরসিংদীর বেলাবতে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করেছেন মধ্য বয়সী এক ব্যক্তি। রংপুরেও এক শিশু ধর্ষিত হয়েছে। রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় ৫ম শ্রেণির এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ করা হয়। ফেনীর সোনাগাজীর চর দরবেশ ইউনিয়নের আর্দশ গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ করেছে স্থানীয় বখাটেরা। বান্দরবানের লামা উপজেলায় মদ খাইয়ে এক নারীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। সিলেটের বিমানবন্দর থানাধীন বনকলাপাড়ার নূরানী আবাসিক এলাকার একটি কলোনিতে এক তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে লালমনিরহাটের আদিতমারী বড়াবাড়ি এমএইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান বরখাস্ত হয়েছেন। যশোরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে প্রকাশ ব্যানার্জি (৫৪) নামে পুরোহিতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাবনার চাটমোহর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের বোলিয়া গ্রামে এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে মুখোশপরা ধর্ষকরা ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ১৫ দিনে দেশে ৩৯ জন বালিকা ধর্ষিত হয়েছে। ধর্ষণ সহ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৪৭ জন। এসব ঘটনা ঘটেছে ২ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৩ হাজার ৫৮৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৭৮ জনকে। এর মধ্যে ৮৬ শতাংশই শিশু ও কিশোরী। ধর্ষণের সংখ্যা ও ব্যাপ্তি বাড়ছে দিন দিন্। ২০১৪ সালে ৭০৭, ২০১৫ সালে ৮৪৬, ২০১৬ সালে ৭২৪, ২০১৭ সালে ৯২২ ও সর্বশেষ ২০১৮ সালে ৮৩৫টি আর চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ধর্ষণের ঘটনা ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে।

নারীর ক্ষমতায়নসহ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়নে বাংলাদেশের নারীসমাজ বিশ্বে ঈর্ষণীয় পর্যায়ে এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে আছে এদিক থেকে। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ইত্যাদি প্রতিরোধে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্নসহ দেশে যথেষ্ট ভালো আইন রয়েছে। ধর্ষকদের ক্রসফায়ারে দেয়ার দাবিও উঠেছে। তবে দুঃখের সঙ্গে স্বীকার করতে হয়, বিস্তৃত পরিসরে এর প্রয়োগ প্রায় নেই বললেই চলে।

বেসরকারি সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা দেশের আদালতগুলোতে বিচারাধীন রয়েছে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দেড় লক্ষাধিক মামলা। প্রত্যেক বছরে গড়ে নিষ্পত্তি হচ্ছে ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ মামলা আর সাজা পাচ্ছে হাজারে সাড়ে ৪ জন আসামি। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ১০ বছরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫ হাজার ১১৭টি। এর মধ্যে রায় ঘোষণা হয়েছে ৮২১টির, শাস্তি হয়েছে ১০১ জনের। মামলার অনুপাতে রায় ঘোষণার হার ৩.৬৬ শতাংশ ও সাজার হার দশমিক ৪৫ শতাংশ।

সারা দেশে বিচারের জন্য ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দেড় লক্ষাধিক মামলা ঝুলে আছে। এসব মামলার বিচার চলছে ঢিলেঢালাভাবে। বছরে নিষ্পত্তি হচ্ছে মাত্র ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ মামলা। আর সাজা পাচ্ছে হাজারে মাত্র চারজন আসামি।

ধর্ষণের বিচার করার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের দুর্বলতা ও দীর্ঘসূত্রতার ফলে সমস্যাটি অত্যন্ত জটিল হয়েছে। আইন প্রয়োগকারীদের একটি অংশ ধর্ষণের শিকার নারীর প্রতি বিরূপ ধারণা প্রকাশ করেন, তাঁরা নারীটির ব্যক্তিগত ‘চরিত্র’ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেন। ফলে ধর্ষণের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে—এটা আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করার জন্য যতটা আন্তরিক তাগিদের সঙ্গে আইন প্রয়োগ করা প্রয়োজন, বাস্তবে তার অভাব রয়েছে। শুধু আইন প্রয়োগকারীদের মধ্যে নয়, আমাদের সাধারণ মানুষেরও একটি অংশের ভেতরে ধর্ষণের শিকার নারীর প্রতি নেতিবাচক ধারণা পোষণ করা হয়। ফলে অত্যন্ত কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও ধর্ষণের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে।

উৎসঃ ‌পূর্বপশ্চিম

আরও পড়ুনঃ যুবলীগ নেতা আলী হোসেন ৪ বছর আমার দেহকে নিয়ে খেলেছে, এখন আমার মেয়েকে চায়


স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর থেকেই মোবাইল ফোনে সব সময় বিরক্ত করতো যুবলীগ নেতা আলী হোসেন উজ্জল। এভাবে আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে একদিন ওর বাড়িতে ডেকে নেয়। তখন বাড়িতে উজ্জল ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। ওর ঘরে নিয়ে আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে সে ধর্ষণ করে। ঘরের ভেতর আগে থেকেই মোবাইল ফোনের ভিডিও সেট করা ছিল তা আমি জানতাম না। এরপর থেকে সেই ভিডিও আমার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ায়। তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক না করলে আমার স্বামীর কাছে ভিডিও ফুটেজ পাঠিয়ে দেবে এবং ইন্টারনেটে তা ছড়িয়ে দেবে বলে ভয়ভীতি দেখায়। যার কারণে চারটি বছর ধরে আমাকে যখন যেভাবে খুশি সে ব্যবহার করে যাচ্ছিল। সে শুধু একাই আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেনি, তার বন্ধুদের দিয়েও প্রতি নিয়ত আমার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে।

আমার ইজ্জত, মান সম্মান সব কিছু কেড়ে নেয়ার পর ওই পিচাশের কু দৃষ্টি পড়ে আমার স্কুল পড়ুয়া মেয়ের দিকে। তাই মেয়ের ইজ্জত বাঁচাতে বাধ্য হয়ে থানায় মামলা করতে হয়েছে।

এমন লোমহর্ষক ঘটনাটি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়নের হেলাচিয়া গ্রামে। ওই ইউনিয়নের প্রভাবশালী ইউপি সদস্য দরবেশ বেপারীর পুত্র ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হোসেন উজ্জল।

লোমহর্ষক এই ঘটনার কাহিনী বলতে গিয়ে বার বারই কেঁদে ফেলেন ওই নারী। তার মুখ থেকে বেড়িয়ে আসে তার ওপর নির্যাতনের আরো ভয়াবহ কথা। বলেন, চার বছর ধরে আলী হোসেন উজ্জল আমার জীবনটা তছনছ করে দিয়েছে। আমার দেহ ভোগ করেই সে ক্ষান্ত হয়নি। আমাকে দিয়ে বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকা ঋণ উঠিয়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, ভয়ভীতি, প্রতারণা আর আমার সাথে যৌন সম্পর্কের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে টানা চার বছর ওর ডাকে আমি সাড়া দিয়ে আসছিলাম। যখন খুশি আমাকে ওর বাড়িতে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করতো। এই ঘটনা আমার স্বামীকে বলে দেবে কিংবা ইন্টারনেটে সব ছেড়ে দেবে এই বলে সব সময় আমাকে ব্লাকমেইল করতো এবং ওর কাছে যেতে বাধ্য করতো।

এভাবে দিনের পর দিন মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও ওর রোষানল থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারিনি। সব কিছুই ওকে উজার করে দিয়েছি। এছাড়া ওর ব্যবসার জন্য গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, আশা অফিস, জাগরনিসহ বিভিন্ন এনজিও থেকে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা আমাকে দিয়ে সে তুলে নেয়। প্রথম প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধ করলেও পরে আর করতো না। গেল এক বছর ধরে সে আর তার বাড়িতে আমাকে ডাকতো না। নিয়ে যেতো মানিকগঞ্জের উত্তর সেওতা এলাকার মনিরা বেগম মনোয়ারার ৪ তলা বিশিষ্ট বাসার চিলাকোঠার একটি কক্ষে।

এখানে সপ্তাহে ২-৩ দিন আমাকে নিয়ে আসতো। যৌন উত্তেজক ঔষুধ সেবন করে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক চালানোর পর আবার বাড়ি দিয়ে আসতো। বাড়ির মালিক মনোয়ারা বিনিময়ে ১ হাজার করে টাকা নিতো উজ্জলের কাছ থেকে। শুধু উজ্জলই নয় তার বন্ধুদেরও নিয়ে আসতো সেখানে। একেক দিন একেক বন্ধুদের সাথে আমাকে শারীরিক সম্পর্ক করাতে বাধ্য করতো উজ্জল। এমনকি ওর স-মিলের কর্মচারীদের দিয়েও আমাকে শারীরিক সম্পর্ক করাতো। সেই সম্পর্কের ভিডিও করতো সে। এভাবে এক বছর ধরে মানিকগঞ্জের ওই বাসায় ওর কথা মতো আসতাম।

তিনি আরো বলেন, উজ্জল শুধু আমার সাথে সম্পর্ক করে ক্ষুধা মিটতো না। ওর কু-নজর পড়ে আমার স্কুল পড়ুয়া মেয়ের দিকে । মেয়েকে না এনে দিলে কিস্তির টাকা না দেয়ার হুমকি, ইন্টারনেটে ভিডিও ছেড়ে দেয়া এবং স্বামীর কাছে সব কিছু বলে দেবে এমন ভয় দেখাতে থাকে।

আমি ওকে বলতাম আমি নিজে মরে যাবো তার পরও আমার মেয়েকে তুলে দিতো পারবো না। তারপরও সে পিছু ছাড়ছিল না। একদিকে কিস্তির টাকার জন্য পাওনাদাররা বাড়ি এসে যা না তাই বলে যাচ্ছে, অন্য দিকে ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে আর সব কিছু তার স্বামীকে জানিয়ে দেবে এমন নানা জটিলতার জালে আটকে পড়ে যাই।

কোন উপায়ন্ত না পেয়ে বাধ্য হয়ে গত মঙ্গলবার মনোয়ারার বাসায় মেয়েকে নিয়ে যাই। প্রথমে মেয়েকে নিচে রেখে আমি ৪তলা বাসার চিলাকোঠার একটি কক্ষে যাই । যৌন উত্তেজক ঔষুধ সেবন করে প্রথমে উজ্জল আমার সাথে বেশ কিছুক্ষণ শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এরপর মেয়েকে চিলকোঠায় নিয়ে আসতে বলে। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেলে উজ্জল তার মোবাইল ফোনটি ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। মেয়ের সম্মান বাঁচাতে বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার রাতে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করি।

বুধবার মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্য সরকারি হাসপাতালের আমার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। ওই পশুর উপযুক্ত শাস্তি না হলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ওই নারী।

মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার-ইন-চার্জ রকিবুজ্জামান বলেন, এ ব্যাপারে মো. আলী হোসেন উজ্জল এবং তার এই অপকর্মে সহায়তা করার জন্য ওই বাড়ির মালিক মনিরা বেগম মনোয়ারার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া আসামিদের ধরার চেষ্টাও চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন পরীক্ষা করা হচ্ছে।

উৎসঃ ‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ অবস্থান সুস্পষ্ট করলেন খালেদা জিয়া , কণ্ঠ-মনোবলে ৯০ দশকের দৃঢ়তা

১৯৯১ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় বেগম খালেদা জিয়া

বেগম খালেদা জিয়া এদেশের অবিসংবাদিত নেত্রী। তিন যুগ আগে গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে হাল ধরেছিলেন বিএনপির; পেয়েছেন দেশনেত্রী খেতাব। ‘স্বৈরশাসক এরশাদ হটাও’ আন্দোলনে রাজপথে আপোষহীন নেতৃত্ব তাকে নিয়ে গেছে রাজনীতির সুউচ্চ শিখরে। নেতৃত্বের গুণেই বাংলাদেশের শহর-বন্দর, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। তাঁর রোগমুক্তি কামনায় এখনো মসজিদে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হয়। গৃহবধূরা মানত করেন। তাঁর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনসহ নানান কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। রাজনৈতিক জীবনে দৃঢ় মনোবলের খালেদা জিয়া প্রায় ১৫ মাস ধরে কারাগারে। ডাক্তারদের মতে নানান রোগে আক্রান্ত বেগম জিয়ার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। মুক্তির দাবির পাশাপাশি বিএনপিসহ সর্বমহল থেকে দাবি উঠেছে বিদেশে নিয়ে গিয়ে তার চিকিৎসা করার। এরই মধ্যে খবর বাতাসেও ভাসছে খালেদা জিয়ার প্যারোলের খবর। এমনকি সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরাও বলেছেন, বেগম জিয়া প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু দেশনেত্রীর আপোষহীন মনোভাব। প্যারোলে মুক্তি নিয়ে তিনি বিদেশ যেতে রাজী নন। এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপির কয়েকজন নেতা। বিএনপির নেতারা জানান, নিজে কারাগারে অসুস্থ; তারপরও কেউ দেখা করতে গেলে দেশের মানুষের খোঁজ খবর নেন। দুঃখ করে বলেন, আমার দেশের মানুষ ভাল নেই।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা করাতে যাবেন এমন গুঞ্জন বেশ কয়েকদিন ধরে বাতাসে ভাসছে। সরকারি দলের এমপি-মন্ত্রী-নেতারাও এবিষয়ে কথা বলেছেন। দলীয় প্রধানের সাক্ষাৎ না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সুষ্পষ্টভাবে কিছুই বলতে পারছিলেন না বিএনপি নেতারা। অন্যদিকে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির ৬ এমপির শপথ নিয়েও দল এবং দলের বাইরে চলছে নানা গুঞ্জন। দলীয় প্রধানের নির্দেশনা না পাওয়ায় এ বিষয়েও আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি দলটি। তবে বেগম জিয়ার সাথে নেতাদের এক সাক্ষাতে সব কিছু সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। প্যারোল ও এমপিদের শপথ গ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। দলের সিনিয়র নেতাদের জানিয়েছেন প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যের অবনতি স্বত্তে¡ও প্যারোলে মুক্তির আবেদন তিনি করবেন না। মুক্তি নিতে হলে আইনি প্রক্রিয়াতেই তিনি মুক্ত হবেন। আর যে সংসদ নির্বাচন দল প্রত্যাখ্যান করেছে সেই সংসদে শপথ না নেয়ার পক্ষেও মত দিয়েছেন তিনি।

কারাগারে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) খালেদা জিয়াকে ভর্তি করা হয়। সেখানে কেবিন বøকের ৬২১ নম্বর কক্ষে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে বিএসএমএমইউতে আনার পর থেকেই প্যারোলে মুক্তি নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। সরকারের মন্ত্রী-এমপি-নেতারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলে খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি চাইলে বিবেচনা করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও আইন মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর নড়েচড়ে বসে সবাই। তবে বিএনপি প্রধান প্যারোলে মুক্তি নিবেন কিনা সেবিষয়টি তার সাথে কথা না বলে কিছুই জানাতে পারেনি দলটির সিনিয়র নেতারা। অবশেষে গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিনে বিএসএমএমইউতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেন। সেখানে তারা এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনায় তার স্বাস্থ্যের সার্বিক বিষয়ে জানতে চান। তবে আলোচনার সময় সরাসরি প্যারোলের বিষয়টি কেউ তোলার সাহস না পেলেও আকারে-ইঙ্গিতে বোঝানো হয়। তবে খালেদা জিয়া দৃঢ়তার সঙ্গে প্যারোলের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি নেতাদের বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে তার প্রত্যেকটিই মিথ্যা। আদালতে সুবিচার পেলে তিনি এতদিনে সব মামলা থেকে রেহাই পেতেন। সরকার সেটা করতে দিচ্ছে না। এখন তাকে প্যারোলে মুক্তির নামে আরেক দফা নির্যাতন করতে চাইছে। বিএনপির এক নেতা জানান, খালেদা জিয়া প্যারোলের বিষয়ে ইঙ্গিত করা হচ্ছে বুঝতে পেরে নেতাদের জানিয়ে দেন তিনি কোন আবেদন করবেন না। যদি মুক্তি পেতে হয়ে তাহলে আইনি প্রক্রিয়াতেই তিনি মুক্ত হবেন। অন্য কোনভাবে নয়। শারীরিক অবস্থা প্রতিনিয়ত অবনতি হলেও তিনি সরকারের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। তিনি তার যে কোনো অবস্থার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্যারোলে মুক্তি নেয়ার বিষয়ে খালেদা জিয়া কোন সিদ্ধান্ত নেননি। এ বিষয়ে যেসব আলোচনা হচ্ছে বা গণমাধ্যমে ছাপানো হচ্ছে তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। আমরা দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি বেশ অসুস্থ, এখনও খেতে পারছেন না। পা বাকা করতে পারেন না। তার বাম হাত ঠিকমতো কাজ করছে না। এ অবস্থার মধ্যে তিনি আছেন। এক কথায় ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) যথেষ্ট অসুস্থ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে মুক্তি চাই। তবে তিনি এখন খুবই অসুস্থ। ওনার বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন। আমরা সেই দাবিই জানাচ্ছি।

অন্য একটি সূত্রে জানা যায়, বিএনপি প্রধানের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ার কারণে সরকারের একটি পক্ষ বিএসএমএমইউতে তার কাছে প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিয়ে প্রস্তাব দেয়। তাদেরকেও খালেদা জিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি প্যারোলে মুক্তি নিবেন না। এধরণের কোন আবেদনও করবেন না। হয় আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত হবেন, নাহলে যে কোন অবস্থার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। সূত্রটি আরও জানায়, খালেদা জিয়া প্যারোলে রাজি না হওয়ায় একই প্রস্তাব তার পরিবারের কাছে দেয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা খালেদা জিয়ার বক্তব্যকেই তাদের বক্তব্য বলে উল্লেখ করে।

এদিকে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন ৬জন এমপি। এদের কেউ কেউ এবারই প্রথম এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আবার কেউ কেউ এর আগে এমপি-মন্ত্রী ছিলেন। যদিও দলটি নির্বাচনের দিনই আগের রাতে ভোট ডাকাতি হয়েছে অভিযোগ করে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। পুনঃনির্বাচনের দাবিতে একাধিক কর্মসূচিও পালন করা হয় দলটির পক্ষ থেকে। ফলাফল প্রত্যাখ্যান করায় এখন পর্যন্ত শপথ নেয়নি বিএনপির প্রার্থীরা। তবে শপথ গ্রহণের সময়সীমা শেষ দিকে এসে গত কয়েকদিন ধরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, বিএনপির নির্বাচিত এমপিরা শপথ গ্রহণ করবেন। এমপিদের দু’একজন এলাকার মানুষের চাপের কথা উল্লেখ করে শপথের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবও ব্যক্ত করেছেন গণমাধ্যমে। এতে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই বিষয়েও খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত করার পর দলের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দলটির নেতারা খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের সময় শপথের বিষয়টি তোলা হয়। তখন খালেদা জিয়া এই বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। তিনি নেতাদের বলেন, এ সংসদে গিয়ে লাভটা কি হবে। সংসদের বাইরেও অনেক ভূমিকা পালন করা যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন নেতা জানান, শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ হলেও মানসিকভাবে এখনো তিনি অনেক দৃঢ় রয়েছেন।

খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতে তার অবস্থান জানার পর গত সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ৫ এমপিকে ডেকে বৈঠক করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে তাদেরকে সতর্ক করে দেয়া হয় এবং বেগম জিয়া ও বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে নির্বাচিত এমপি হারুনুর রশীদ ইনকিলাবকে বলেন, আমাদের ডেকেছিলেন মহাসচিব। কিছুদিন ধরে পত্রপত্রিকায় আমাদের শপথ গ্রহণ নিয়ে নানা খবর প্রকাশ ও প্রচার করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সবাইকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। যাতে আমাদের কেউ বিভ্রান্ত না হন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে না যান। তিনি বলেন, আমাদের কয়েকজন আগে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন আবার কয়েকজন এবারই প্রথম নির্বাচিত হয়েছেন। যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের ওপর এলাকার মানুষের চাপ আছে এটা সত্য। কেউ কেউ তাদের বক্তব্যে সেটা তুলে ধরেছেন। কিন্তু আমরা নির্বাচিত হয়েছি দলীয় প্রতীকে, দলের সমর্থনে। এখানে দলের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রধান। আমরা এখন পর্যন্ত একমত যে, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোন সিদ্ধান্ত নেব না।

শপথ নেয়ার পক্ষে নিজের ওপর চাপ আছে বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে প্রথমবার নির্বাচিত প্রার্থী জাহিদুর রহমান। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি ইনকিলাববে বলেন, আমার এলাকার ৯৯ভাগ মানুষ শপথ নেয়ার পক্ষে। আমরাও জানি সংসদে গিয়ে কিছু হবে না। কিন্তু প্রেসক্লাবের সামনে কথা বলা আর জাতীয় সংসদে কথা বলা দুটির মধ্যে পার্থক্য আছে। সংসদে কথা বললে ১৬ কোটি মানুষ শুনবে। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে এখন পর্যন্ত তিনি সেটি মেনে নেয়ার পক্ষে আছেন জানিয়ে বলেন, ইতোমধ্যে বিএনপির অনেক ক্ষতি হয়েছে। গতবার নির্বাচনে যায়নি। এবার যদি শপথ না নেয়, তাহলে নির্বাচনে গিয়ে ভুল করেছে? তবে তার এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে এ ধরণের কোন চাপ নেই। এমনকি দলের নেতাকর্মীরাও এ বিষয়ে তেমন উৎসাহ বোধ করেন না। কিন্তু জাহিদুল ইসলাম প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হওয়ায় সংসদে যেতে তার নিজেরই আগ্রহ বেশি। এলাকার মানুষের চাপের কথা বলে তিনি তার এই আগ্রহকে বৈধতা দিতে চান। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ গ্রহণ করলে এলাকায় তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলেও অনেকে জানান।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা তো এ সংসদকেই নির্বাচিত বলছি না, আমরা ওই কথিত নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। তাই শপথ গ্রহণের বিষয়টি আসে না। #

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ আপনার ‘নিজের ও দলের স্বার্থে’ ইলিয়াস আলীকে ফেরত দেন: শেখ হাসিনাকে দুদু


দীর্ঘ ৭ বছর ধরে নিখোঁজ বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলীর সন্ধ্যান চেয়ে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দ‌লের আহবায়ক শামসুজ্জাম‌ান দুদু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেছেন, ‘ইলিয়াস আলীকে পাঠিয়ে দেন আমরা কিছু মনে করব না। কারণ তার পরিবার তো তাকে পাবে। আমরা সহকর্মী পাবো। আর যদি না দেন, আপনাকে হুমকি দিচ্ছি না। পরিস্থিতি সবসময় এরকম থাকবে না। ইসলাম য‌দি পৃথিবীর শান্তি প্রিয় ধর্ম হয়ে থাকে, পৃথিবীর মুক্তির সনদ হয়ে থাকে, তাহলে অন্যায়কারী হিসেবে, নির্যাতনকারী হিসাবে, গুমকারী হিসেবে পতন আপনার হবেই। তখন ইলিয়াস আলী জীবিত না মৃত অবস্থায় আমাদের কাছে আসবে সেটা বড় কথা না। আমাদের কাছে বড় কথা হলো আপনার কৈফিয়ত দিতে হবে। সেজন্য বলি আমাদের বা ইলিয়াস আলীর সন্তানদের জন্য না, আপনার নিজের স্বার্থে আপনার দলের স্বার্থে আপনার সহকর্মীদের স্বার্থে ইলিয়াস আলীকে ফেরত দেন। তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।’

বুধবার (১৭ এ‌প্রিল) ঢাকা রি‌পোর্টার্স ইউ‌নি‌টির সাগর-রুনি মিলনায়ত‌নে এম. ই‌লিয়াস আলী মু‌ক্তি ছাত্র সংগ্রাম প‌রিষ‌দের উ‌দ্যোগে বেগম খা‌লেদা জিয়ার নিঃশর্ত মু‌ক্তি ও দলটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নি‌খোঁজ এম. ই‌লিয়াস আলীর সন্ধা‌নের দা‌বি‌তে এক প্র‌তিবাদ সভায় তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি সব সময় দাবিও করি, তাঁর সমালোচনাও করি। আজ কোনো দাবিও করব না আর তার কোনো সমালোচনা করবো না। শুধু একটি অনুরোধ করবো। আপনিতো ভয়ংকর ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারের সদস্য। আপনিতো হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারেন যে, পরিবারে একটি সদস্য না থাকলে বা মৃত্যু হলে পরিবারের অন্য সদস্যদের কত কষ্ট এবং বেদনা হয়।’

‘এটা আর কেউ না জানুক আপনি জানেন। ইলিয়াসকে ফিরে পাবার আশায় তার স্ত্রী-সন্তানরা আপনার কাছে ছুটে গিয়েছিল। তাদের এই যাওয়াটা দেশবাসীর অনেকেই ভালো মনে করেনি। কারণ দেশবাসীর সবাই জানে কোথা থেকে কি হয়েছিল। তারপরেও তারা আপনার কাছে গিয়েছিল এবং আপনি মমতাময়ী মায়ের মতো বলেছিলেন ইলিয়াস আলী শিগগিরই বাসায় ফিরে যাবে। কিন্তু ৭ বছর হয়ে গেল ইলিয়াস আলী ফিরে আসলো না। আপনি কথা দিয়ে কথা রাখলেন না।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। ছাত্ররা ছাত্রদের জায়গা থেকে কাজ করছে। যুবকরা যুবকদের জায়গা থেকে কাজ করছে। কৃষক দল, জাতীয়তাবাদী দল যে যার জায়গা থেকে কাজ করছে। কখন যে কোন জায়গা থেকে গণজাগরণ উঠবে তা বলা মুশকিল। গণজাগরণ উঠ‌লেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে এবং তারেক রহমান দেশে ফিরবেন।’

‌প্র‌তিবাদ সভায় আরও উপস্থিত ছি‌লেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনে আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবুল খায়ের ভূইয়া, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here