মহাবিপর্যয় আর অবক্ষয় থেকে সমাজ বাঁচাতে কী বার্তা দিলেন ডা. আকাশ ও মিতু?

0
156

ক্যালেন্ডারের পাতায় দিন যতই গড়াচ্ছে ততই আমরা অন্ধকার থেকে গভীর অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছি। আজ যেন কোনো পথ প্রদর্শকই অবশিষ্ট নেই যে পথ হারিয়ে অন্ধকার গন্তব্যে পাড়ি দেওয়া পথিককে সচেতনভাবে পথ দেখাবে। নিজেরাও ধর্ম-কর্র্ম থেকে দূরে সরে নীতি-নৈতিকতার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে অন্ধত্ব বরণ করেছি। হাজারো পথের মোড়ে সরলপথ হারিয়ে বাঁকাপথ ধরে চলে গেছি অনেক দূরে। তাই আমরা ধর্মপ্রাণ মুসলমান হওয়া সত্তে¡ও যেন দৃশ্যপট থেকে সরলসোজা, শান্তি-শৃঙ্খলার পথের ধারণা হারিয়ে গেছে।

পত্রিকা খুললে প্রতিনিয়তই চোখে পড়ে খুন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ইভটিজিং, পরকীয়া, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসীসহ নানা অপরাধের ঘটনা। ধর্ষণ-গণধর্ষণ, স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে সামনেই ধর্ষণ, উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবা-মা-ভাই-বোন-শিক্ষককে পিটিয়ে হতাহত, পরকীয়ার জেরে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন, স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন, তিন সন্তানের জননীর প্রেমিকের হাত ধরে উধাও, প্রেমিকের হাতে প্রেমিকা খুন-ধর্ষণের শিকার, বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, চলন্ত বাসে গণধর্ষণ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষক-ছাত্রীর অনৈতিক ঘটনার সংবাদ এখন প্রতিদিনের চিত্র। এটাই যেন আমাদের সমাজের বর্তমান প্রতিচ্ছবি।

সর্বশেষ স্ত্রীর বেপরোয়া পরকীয়ায় মনোমালিন্যের জেরে চট্টগ্রামের চিকিৎসক মোস্তাফা মোরশেদ আকাশের আত্মহত্যার ঘটনা যেন আমাদের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশের সামাজিক বিপর্যয়ের উপস্থিতিকে সরবে জানান দিচ্ছে। এখন শুধু আশঙ্কা কখন যেন ঘটে মহা বিপর্যয়ের ঘনঘটা। দুঃখজনক বিষয় হলো, গণমাধ্যমের এসব সামাজিক বিপর্যয় রোধে গঠনমূলক, দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারতো কিন্তু তারা তা রাখছে না। বরং এগুলোকে রগবগে ঢঙে উপস্থাপন করে নিজেদের পাঠক বাড়ানোর নোংরা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। যা কার্যত ওইসব অপরাধকেই কোনো না কোনো ভাবে উস্কে দিচ্ছে। ফলে আমরা এক দিশেহারা জাতিতে পরিণত হয়েছি।

এখন প্রশ্ন হলো ডা. আকাশের আত্মহত্যা কি আর পাঁচটা ঘটনার মতো নিছকই একটা আত্মহত্যা? তার স্ত্রী তানজিলা চৌধুরী হক মিতুর বেপরোয়া জীবন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, অশ্লীলতা কি নিছকই একজন নারীর চরিত্রহীনতার ঘটনা? নাকি এ থেকে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের কিছু শিক্ষা নেওয়ার ও সতর্কতা হওয়ার বিষয় রয়েছে। বিশেষত এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মপ্রাণ মুসলমান সমাজের জন্য কী ভয়াবহ বার্তা দিল এই ঘটনা!

গত ৩১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ডা. আকাশ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে ডাক্তারি বিদ্যাকে কাজে লাগিয়ে নিজের শরীরে বিষ প্রয়োগে আত্মহত্যা করেন। তার স্ট্যাটাসের প্রতিটি বর্ণে ছিল স্ত্রীর বেহায়পনার প্রতি ঘৃণা ও ধিক্কার। স্ট্যাটাসটির ভাইরাল অংশ ছিল এ রকম- ‘ভালো থেকো আমার ভালোবাসা, তোমার প্রেমিকদের নিয়ে’।

মিতু কিভাবে একজন খাঁটি ভালোবাসার মানুষের সাথে বেঈমানি করতে পারলেন সে প্রশ্ন তুলেছেন। তার বেপরোয়া জীবন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, একাধিক পুরুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার কড়া সমালোচনা করেছেন। দাবি তুলছেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির। আবার অনেকে চিকিৎসকের মতো একটি মূল্যবান পেশার মানুষ হয়েও নিছক স্ত্রীর পরকীয়ার ঘটনায় আকাশের আত্মহুতিকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। যে বাবা, মা এত কষ্ট করে ছেলে মানুষ করল, খেয়ে না খেয়ে বড় করল, যাকে নিয়ে আশায় বুক বেঁধে রেখেছিল সেই মা-বাবার ভালোমন্দের কথা বিবেচনা না করে আত্মহত্যা করার কঠোর সমালোচনা করছেন। সমাজে এমন সব গর্হিত কর্মকান্ডের পেছনে ইসলামি অনুশাসন মেনে না চলাকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে।

মিতুর কুকীর্তি নিয়ে সমালোচনা করলে হয়তো পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লেখা যাবে। কিন্তু তাতে কি কোনো সমাধান আসবে? এক কথায় আসবে না। তাই ভেবে দেখার বিষয় হলো, এধরনের সামাজিক অবক্ষয়ের পেছনে আসল কারণটা কী। সবার মন্তব্য বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, আমরা সবাই যেন গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তারের মতো চিকিৎসাকেই পছন্দ করছি। কেউ শরীরে জ¦র নিয়ে আসল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই জ¦র ভালো হওয়ার ওষুধ (নিরাময় নয় দমনমূলক) দিয়ে দিলাম। কিন্তু আসল রোগ অধরাই রয়ে গেল। ফলে বড় ধরনের রোগ যে কোনো মুহূর্তেই শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। আমাদের সমাজের প্রগতিশীলরা আধুনিকতার দাবিদার হলেও তারা যেন সেই সেকেলে চিকিৎসাকেই বেছে নিচ্ছেন। আসল কারণকে অস্বীকার করে প্রতিরোধের নানা পথ বাতলালেও তাতে আসলে শান্তি-শৃঙ্খলা ফেলা অসম্ভব। আসল কারণ হচ্ছে সমাজের উচ্চস্তরের ইসলাম বিমুখীতা। তাই সামাজিক অবক্ষয় থেকে বাঁচতে হলে ইসলামের ছায়াতলেই ফিরে আসতে হবে।

একটি মূল্যবান পেশায় থেকে, ভালো পোশাক-আশাক, গাড়ি-বাড়ি, ব্যাংক-ব্যালেন্স, সমাজে ভালো অবস্থান থেকেও যে অন্তত সুখ-শান্তি মেলে না তাই প্রমাণ করল এই ঘটনা। এধরনের ঘটনা বারবার সেটাই প্রমাণ করছে যে, মহান আল্লাহ’র সাথে সম্পর্কহীন জীবনে মূল্যবান সবকিছু থাকলেও সুখ-শান্তি মেলে না। বিশ্ব জগতের প্রতিপালক যে মহান আল্লাহ মানব সৃষ্টি করেছেন তিনিই কেবল জানেন কিভাবে এই মানুষ তার সামগ্রিক জীবনে সুখ-শান্তি লাভ করতে পারে। এজন্যই তিনি নবী-রাসুল, আসমানি কিতাব দিয়ে পথ বাতলিয়ে দিয়েছেন। যারা সেই পথে চলবে তারা ইহকাল পরকাল পাবে অনাবিল সুখ-শান্তি। যারা চলবে না তাদের জন্য উভয়কালেই রয়েছে লাঞ্চনা আর লাঞ্চনা। আজকে ডা. আকাশ ও মিতু ব্যক্তিগত জীবনে যদি ইসলামি অনুশাসন মেনে চলতেন তাহলে কখনই তারা বিয়ের পূর্বে অবৈধ প্রেমে জড়াতেন না। ফলে একজনের আত্মহত্যা আরেকজনের পরকীয়ার ঘটনাও ঘটতো না।

ডা. আকাশ হয়তো ধর্মহীন জীবনে পার্থিব জগতের চাকচিক্যকে (গাড়ি-বাড়ি-নারী) প্রাধান্য দিয়েছেন। ফলে ভালোবাসার মানুষকে মনের মতো না পেয়ে আত্মহত্যার মতো মহাপাপের পথ বেঁচে নিয়েছেন। পরকালীন সফলতাই যদি জীবনের উদ্দেশ্য হতো তাহলে নিছক একজন চরিত্রহীনা স্ত্রীর প্রতারণায় মূল্যবান জীবন দিতেন না। বরং দ্বীনের পথে ফিরে আসতেন, সহজ সমাধান ও সত্যিকারের শান্তির পথ খুঁজে নিতেন। ডাক্তারি পেশার মতো মহান পেশাকে কাজে লাগিয়ে বাবা-মাকে নিয়ে পুনরায় সুখ-সমৃদ্ধ জীবন গড়ে তুলতেন যা আরও সমৃদ্ধময় হতে পারত।

অন্যদিকে স্ত্রী মিতুও একজন চিকিৎসক। সমাজের মূল্যবান পেশাতে থেকেও কেন তাকে বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক জীবন বেছে নিতে হবে। কিসের অভাব ছিল তার? পরকীয়ায় জড়িয়ে কি তিনি আদো সুখ-শান্তি পেয়েছেন?

আমাদের এসব সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ খুঁজতে হবে। আপনি সুখ-শান্তি, তৃপ্তি-অতৃপ্তিকে যদি পার্থিব মানদন্ডে মেপে থাকেন তাহলে হয়তো এসব বিবেকবর্জিত কর্মকান্ডে বারবার জড়িয়ে পড়বেন। পৃথিবীর সবকিছুতে সর্বোচ্চ অর্জনের পরেও সুখ-শান্তি সোনার হরিণের মতো অধরায় থেকে যাবে। আর যদি আপনার মানদন্ড হয় ইসলামী মূল্যবোধ তাহলে পৃথিবীর সর্বনিম্ন প্রাপ্তিতেও সুখ শান্তি শতভাগ ভোগ করতে পারবেন। এটাইতো সৃষ্টিকর্তার চূড়ান্ত বিচার।

নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক বিপর্যয় থেকে আসলে মুক্তির উপায় কী? লেখার শুরুতে নিত্যদিনের যেসব অপরাধ কর্মকান্ড তুলে ধরা হয়েছে মূলত তার মূলে রয়েছে তথাকথিত প্রগতিশীলতা, পর্দাহীনতা, অশ্লীলতা, ব্যাভিচার, অবৈধ উপার্জন, সামাজিক প্রতিপত্তি, খ্যাতি, ধন-সম্পদ, ক্ষমতা অর্জনের অন্যায় প্রতিযোগিতা, অশ্লীল গান-বাজনা, কূরুচি পরিপূর্ণ সিনেমা নাটক চলচিত্র, পর্ণো আসক্তি ইত্যাদি। এসব ইসলামে মহা পাপ হিসেবে পরিগণিত।

এগুলো কেবল তখনই পাপ মনে হবে যখন জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি আমরা ইসলামি অনুশাসনের মধ্য দিয়ে পার করব। আমাদের সমাজে ইসলামি অনুশাসন ও নীতি নৈতিকতা চর্চার যথেষ্ঠ অভাব রয়েছে।ফলে এখন অনেক গুরুতর অন্যায়, পর্দাহীনতা, ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশার বিষয়কে আমাদের কাছে পাপ মনে হয় না। যা অত্যন্ত উদ্বেগের। ইসলাম হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। যার মূলে রয়েছে আকিদা-বিশ্বাস। অর্থাৎ একজন মুসলমানের সকল কর্মকান্ড আল্লাহভীতি থাকতে হবে। তখন চাইলেও আপনি অন্যায় পথে পা বাড়াতে পারবেন না।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ক আমাদের মুসলিম সমাজকে নানা কৌশলে ধর্মহীন করা হচ্ছে। শিশুর ভূমিষ্ট থেকে বৃদ্ধকাল পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায় নীতি নৈতিকতাহীন অনৈসলামিক ব্যবস্থা দ্বারা পরিবেষ্টিত করা হচ্ছে। যে শিশুকালে ইসলামি বিশ্বাসের ভীত গড়ে ওঠে সেই শিশুকাল ধর্মহীন পরিবেশে অতিবাহিত করার যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিশুর নৈতিকভিত গড়ার মক্তব শিক্ষা তো আগেই তুলে দেয়া হয়েছে।

সামাজিকীকরণের সকল মাধ্যম তথা পরিবার, বাবা-মা, খেলাধূলার সঙ্গী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যমকে ধর্ম থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথায় ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা লাভের সুযোগ রাখা হয়নি। পাঠ্যপুস্তক, উপন্যাসে নৈতিক শিক্ষার লেশমাত্র রাখা হয়নি। স্যাটেলাইটের কল্যাণে গ্রামগঞ্জে ঘরে ঘরে টিভি সিনেমা চলছে।

সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে পুরো জাতি বিপর্যস্ত, ইসলামি সংস্কৃতি বিলীনের পথে। সুড়সুড়িমূলক অশ্লীল নাটক সিনেমা কার্টুন প্রদর্শন করা হচ্ছে। এতে পরকীয়া, কূটনামি, পারিবারিক অশান্তির যত কূটচাল শেখানো হচ্ছে। ইন্টারনেট হাতে হাতে থাকায় শিশুরা পর্র্ণোসোক্তি হয়ে পড়ছে। এ থেকে ঘটছে প্রেমঘটিত যত অপরাধ। আবার প্রেমে বা লালসা পূরণে ব্যর্থ হয়েও নারীদের প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে নারী স্বাধীনতার নামে নারীর সম্ভ্রম রক্ষার প্রতীক পর্দা প্রথাকে তুলে দেয়া হয়েছে।

যেসব পোশাক-আসাক, চলাফেরায় ছেলেরা আকৃষ্ট হয়ে অন্যায় কিছু করার জন্য উদ্যত হয়, মেয়েদের সেই ধরনের পোশাক-আসাক ও চলাফেরায় উৎসাহিত করা হচ্ছে। তাতে ঘিঁ ঢালছে নারী-পুরুষ সহশিক্ষা ব্যবস্থা। তাই আগে থেকেই নানা উপায়ে ছেলে-মেয়েরা অবাধ মেলামেশার সুযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যা ঘটার তাই ঘটছে। সব মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মহীনতা, নীতি নৈতিকতাহীনতা, অশ্লীলতা, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, পর্দাহীনতা, যুবকদের বিবাহ জটিলতা, মাদকের সহজলভ্যতা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা- সবমিলিয়ে এমন এক ইসলামবিমুখ পরিবেশ তৈরি করেছে যা উল্লিখিত অপরাধ সংঘটন অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছে।

এই পরিবেশে বেড়ে ওঠা একজন ডাক্তার মা-বাবার ভালোমন্দকে তুচ্ছ জ্ঞান করে আত্মহত্যা করবেন এটাই স্বাভাবিক। আবার একজন স্ত্রী স্বামী রেখেও পরকীয়ায় আসক্তি হয়ে একাধিক সম্পর্কে জড়াবেন, বেপরোয়া অশ্লীল, ভোগ বিলাসের জীবন বেছে নেবেন এটাই তো স্বাভাবিক।

তাই আমরা যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী নৈতিক অবক্ষয় থেকে মুক্তি পেতে হলে ইসলামের বিধি-বিধান মেনে চলতেই হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্ম, নীতি-নৈতিকতা প্রাধান্য দিতে হবে। বিদেশী সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে হবে। বেকারত্ব মোচনের পাশাপাশি বিবাহ ব্যবস্থাকে সহজ করতে হবে। অনৈতিক প্রেম ভালোবাসা অনুৎসাহিত করে বৈবাহিক জীবনে উৎসাহিত করতে হবে।

সর্বোপরি শৈশব থেকে বৃদ্ধকাল পর্যন্ত ইসলামি অনুশাসনে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সম্ভবত ডা. আকাশ মহাবিপর্যয়ের হাত থেকে সমাজ বাঁচাতে আমাদের সেই সতর্ক বার্তায় দিয়ে গেছেন। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক সুখ-শান্তিতে ইসলামি মূল্যবোধের কোনো বিকল্প নেই সেটিই বুঝিয়ে গেলেন।

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ হ্যাশট্যাগ মিটু’তে ইটিভি’র রিপোর্টার মিনালা দিবাঃ একুশে টিভি’র (ইটিভি) চিফ রিপোর্টারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ!


একুশে টেলিভেশনের নারী সহকর্মী মিনালা দিবাকে যৌন হয়রানির অভিযোগের মামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টিভি’র (ইটিভি) চিফ রিপোর্টার (প্রধান প্রতিবেদক) এম এম সেকান্দারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত সিকদারের আদালতে এ মামলার শুনানি হয়। তার বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ওই নারী।

সোমবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে ফেসবুকে হ্যাশট্যাগ মিটু-তে একুশে টেলিভেশনের (ইটিভি) প্রতিবেদক মিনালা দিবা লিখেছেন, ‘#Metoo অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমি মিডিয়ায় এসেছিলাম বড় একজন সাংবাদিক হব বলে। ভেবেছিলাম আকাশের তারা হবো। যুক্ত হয়েছিলাম দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান একুশে টেলিভিশনের সাথে। শুরুতে বেশ ভালই কাটছিল। সহকর্মী বড় ভাই ও আপুরা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। কিন্তু এই স্বপ্নের প্লাটফর্মে পা দিয়ে কিছুদিনের মধ্যে পরিচিত হলাম মুখোশের অন্তরালে থাকা সমাজের এক নরপশুর সাথে। দুঃখজনক হলেও সত্য যাকে আমি বড় ভাই হিসেবে শ্রদ্ধা করতাম সে আমার কাছে উন্মুক্ত করলেন তার নোংরা রুচির নানা আবদারের ঝুলি। সেই নরপশুর নাম এম এম সেকান্দার। একুশে টেলিভিশনের বর্তমান চীফ রিপোর্টার ও প্ল্যানিং এডিটর।’

এর আগে দুপুরে তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানা পুলিশ ফাঁড়ির (উপ-পরিদর্শক) মবিন আহমেদ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত এম এম সেকান্দারকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত কর্মকার ও তুহিন হাওলাদার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন।

শুনানিতে অভিযুক্তের আইনজীবীরা বলেন, ‘মামলার এজহারের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনার কোনও মিল নেই। এ আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ নেই। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার কোনও যুক্তি নেই। অভিযুক্ত জামিন পেলে পলাতক হবেন না।’ অপরদিকে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) জাহিদুর রহমান জামিন নামঞ্জুর করে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দুইদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

ভিডিওঃ ‘একুশে টিভির মনজুরুল আহসান বুলবুল ও এম এম সেকান্দার কর্তৃক নারী সহকর্মীদের যৌন হয়রানির ভিডিও ফাঁস’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

প্রসঙ্গত, রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে র‍্যাব-২ এর একটি দল এম এম সেকান্দারকে তার বনশ্রীর বাসা থেকে গ্রেফতার করে। এরপর সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাকে হাতিরঝিল থানায় সোপর্দ করা হয়। হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মোহাম্মদ ফজলুল করীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় ভুক্তভোগী নারী মামলাটি করেছেন। মামলায় এম এম সেকান্দারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তের অভিযোগ এনেছেন ওই তরুণী।’

মামলা করার আগে এই নারী সাংবাদিক ইটিভি কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ২৮ জানুয়ারি চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর এম এম সেকান্দারের বিরুদ্ধে তিন পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তিনি। তাতে হয়রানির পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ওই নারীর অভিযোগ, তাকে দীর্ঘদিন ধরে সেকান্দার যৌন হয়রানি করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার টেলিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কথা বলতে গেলেও তিনি তাদের কাছে পাত্তা পাননি।

ভুক্তভোগী নারীর আরও অভিযোগ, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রিপোর্টিং কোর্স করার সময় এম এম সেকান্দারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখানে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। তার মাধ্যমেই ইটিভিতে চাকরি পান ওই নারী। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই সেকান্দার তাকে বিভিন্ন সময় যৌন হয়রানি করেছেন। কোনও কারণ ছাড়াই তাকে অনেক রাত পর্যন্ত অফিসে বসিয়ে রাখতেন। এরপর সেকান্দার তার নিজের গাড়িতে করে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গাড়িতেও যৌন হয়রানি করতেন। এই কাজে চ্যানেলটির আরও কয়েকজন সেকান্দারকে সহায়তা করতেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

উৎসঃ ‌বাংলা ট্রিবিউন, সময় টিভি, বাংলা নিউজ২৪

আরও পড়ুনঃ ধর্ষণ-নির্যাতনের দায়ে গ্রেফতার এড়াতে গণভবনে ধরণা দিচ্ছেন মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল!


একুশে টেলিভিশনে নারীকর্মীদেরকে জোরপূর্বক ধর্ষণ-নির্যাতনের দায়ে চ্যানেলটির প্রধান নির্বাহী কথিত সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের সহযোগী ও চিফ রিপোর্টার এম এম সেকান্দরকে সোমবার রাতে আটক করেছে পুলিশ। আটকের পর তাকে রিমান্ডেও নিয়েছে পুলিশ। পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে সেকান্দর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। বুলবুলের প্ররোচনাতেই তারা কয়েকজন নারীকর্মীদেরকে উত্যক্ত করতো বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এমনকি সেকান্দরের বাসায় নারীকর্মীদেরকে নিয়ে বুলবুল রাত যাপন করেছে বলে রিমান্ডে পুলিশকে জানিয়েছে সেকান্দর।

একটি সূত্রে জানা গেছে, সেকান্দরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী যেকোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন বুলবুল। এখন শুধু সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন প্রশাসন। কারণ, বুলবুলের সম্পর্কটা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে। বিশেষ করে গোলাম সরওয়ার মারা যাওয়ার পর বুলবুলই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চাটুকারিতার দায়িত্বটা পালন করছেন। তাই, সরকারের সবুজ সংকেত ছাড়া বুলবুলকে গ্রেফতার করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন। তবে সূত্রটি বলেছে, পুলিশ বুলবুলকে গ্রেফতার না করলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে পারে।

ভিডিওঃ ‘ধর্ষণ-নির্যাতনের দায়ে বুলবুল ও সেকান্দারের শাস্তির দাবীতে একুশে টিভির সাংবাদিকদের মানববন্ধন’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

একুশে টিভির একটি সূত্রে জানা গেছে, বুলবুল এখন গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন। গ্রেফতার থেকে রক্ষা পেতে তিনি একুশে টিভির পরিচালক আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সুবহান গোলাপের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ধরণা দেয়ার চেষ্টা করছেন। তবে, বুলবুলের এই অপকর্মে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও। কারণ, বুলবুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছেও অনুরোধ জানিয়েছেন নারীরা। এখন বুলবুলের বিষয়টা নিয়ে সরকারও চরম বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে আছেন।

এদিকে, একুশে টিভিতে কর্মরত নারীকর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতনের মূল হোতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের গ্রেফতার দাবিতে মাঠে নেমেছেন সাংবাদিক সমাজ। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সেকান্দরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বুলবুলের গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা। মানববন্ধনে নির্যাতন-হয়রানির শিকার একুশে টিভির এমন কয়েকজন নারী সাংবাদিকও বক্তব্য রাখেন। নারীদের সম্মান রক্ষায় বুলবুলকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করেছেন।

মানববন্ধনে একজন সাংবাদিক বলেছেন, এটিএন বাংলায় থাকাকালীনও বুলবুল নারীকর্মীদের সঙ্গে এমন অপকর্ম করেছেন। তার অপকর্মের ভিডিও এমন জায়গায় পৌছেছে যা খুবই লজ্জাকর।

অপরদিকে, একুশে টিভির আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে চ্যানেলটিতে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা। ঘটনাগুলো ফাঁস হওয়ায় বুলবুলের পক্ষের লোকজন এখন কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। বুলবুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা মালিক পক্ষকে চাপ দিচ্ছেন বলেও জানা গেছে। এখন যেকোনো মুহূর্তে বুলবুলকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার ঘোষণাও আসতে পারে।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ বুলবুলের নারী কেলেঙ্কারিতে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সাংবাদিকরা


নারীকর্মীদেরকে ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর চরম বিব্রতক অবস্থায় পড়েছেন আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক নেতা ও দখল করে নেয়া একুশে টিভির প্রধান নির্বাহী মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। একুশে টিভির কয়েকজন সাংবাদিক ও বুলবুলের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশের পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। ইলিয়াস হোসাইনের ভিডিওটি সামাজিক যোগগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বুলবুল বাইরে বের হচ্ছেন না। কোনো প্রোগ্রামাদিতেও যাচ্ছেন না। সূত্রটি বলেছে, বুলবুলের এসব অপকর্ম ফাঁস হওয়ার পর তার স্ত্রীও এনিয়ে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তার সংসারে এখন ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। দুই দিন ধরে বুলবুলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখছে না তার আত্মীয় স্বজনও।

এদিকে, বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতন ঘটনা প্রকাশের পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সাংসাদিক মহলেও। গত দুই দিন ধরে প্রেসক্লাব ও ডিআরইউতে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বুলবুলের যৌণ হয়রানির ঘটনা। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন আওয়ামীপন্থী অংশের নেতারাও বুলবুলের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। বুলবুলকে এড়িয়ে চলতে কয়েকজন সাংবাদিক নেতা তাদের সহকর্মীদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এরপর, বুলবুলের এই নারী কেলেংকারির ভিডিওর খবর পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনেও। জানা গেছে, শনিবার গণভবনে অনুষ্ঠিত চা-চক্র অনুষ্ঠানেও বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে অনেকেই কানাঘুষা করেছেন। এক কান দুই কান করে এটা শেখ হাসিনার কান পর্যন্ত পৌঁছেছে।

বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতনের হাত থেকে নারী সাংবাদিকদেরকে রক্ষা করার জন্য একুশে টিভির কয়েকজন নারীকর্মী যে অনুরোধ করেছেন সেটাও জেনেছেন প্রধানমন্ত্রী। এনিয়ে বুলবুলের ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে, বুলবুলের এই ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশের পর একুশে টিভির স্ক্রলে প্রচার করা হচ্ছে- বুলবুলের নামে সাংবাদিক ইলিয়াস অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর জামায়াত-শিবিরের কিছু সাইট এগুলো প্রচার করছে।

এনিয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন সাংবাদিকরা। তারা বলছেন, বুলবুল তার নারী কেলেংকারির ঘটনা চাপা দিতে এখন জামায়াত-শিবিরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। বাংলাদেশে যখনই যা ঘটেছে বুলবুলরা সব সময় জামায়াত-শিবিরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন। এবার বুলবুল তার প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীদেরকে ধর্ষণ-নির্যাতন করে এটার দায়ও চাপানোর চেষ্টা করছেন জামায়াত-শিবিরের ওপর।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here