আইনি এবার লড়াইয়ে নামছেন জাহালম

0
66

ক্ষতিপূরণ দাবিতে আইনি লড়াইয়ে নামছেন জাহালম। তাকে যারা ফাঁসিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে যারা সাক্ষী দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন তিনি। আর এই আইনি লড়াইয়ে জাহালমকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সহায়তা করবে বলে জানা গেছে। মিথ্যা মামলায় জেল থেকে জামিনে মুক্ত করার ব্যাপারেও জাহালমকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সহায়তা করেছে। কমিশন জাহালমকে একটি চাকরি দেয়ার কথাও চিন্তা করছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১০ সালে। ওই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সোনালী ব্যাংক মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট শাখা থেকে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা লোন নেন আবু সালেক নামের এক ব্যক্তি। ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ওই লোন নেয়া হয়। লোনে ঠিকানা দেয়া হয় জাহালমের পাশের গ্রামের। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা দায়ের করে। মোট ৩৩টি মামলায় ব্যাংকের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ঋণ গ্রহীতা আবু সালেককে আসামি করা হয়। এসব মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে পুলিশ আবু সালেককে গ্রেফতার না করে গ্রেফতার করে জাহালমকে। জাহালম তখন ঘোড়াশালের একটি পাটকলে চাকরি করতেন। দুদক তখন ৩৩টি মামলাতেই জাহালমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। জাহালম জানান, ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তাকে ঘোড়াশালের কারখানা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তখন তিনি ওই কারখানায় সপ্তাহে আড়াই হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। তিনি বারবার দুদক কর্মকর্তা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বোঝাতে চেয়েছেন তার নাম জাহালম, আবু সালেক নয়। কিন্তু কেউই তার কথা শোনেনি। তার চেহারার সাথে নাকি আবু সালেকের চেহারার মিল ছিল। এমনকি, যারা সাক্ষী দিয়েছেন তারা প্রত্যেকেই বলেছেন সে-ই আবু সালেক।

গ্রেফতারের পর আবু সালেকের স্থানে জাহালম জেল খাটতে শুরু করেন। অথচ তিনি জানেনওনা কিভাবে লোন নিতে হয়। তিনি কোনো লেখাপড়াই জানেন না। চেহারা বিভ্রাটে এভাবে মিথ্যা মামলায় জেল খাটা অবস্থায় বিষয়টি মিডিয়ার নজরে পড়ে। তাকে নিয়ে একটি বেসরকারি চ্যানেল অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করে। তখন বিষয়টি নজরে আসে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের। এরপর মানবাধিকার কমিশনও জাহালমকে নিয়ে অনুসন্ধান করে। তাতেও বেরিয়ে আসে জাহালম নির্দোষ। তাকে অন্যায়ভাবে ওই মামলাগুলোতে ফাঁসানো হয়েছে। মানবাধিকার কমিশন থেকে বিষয়টি নিষ্পত্তি ও জাহালমকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানানো হয়।

সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে গত রোববার মধ্যরাতে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে মুক্তি পান জাহালম। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি সোজা চলে যান টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার ধুবরিয়ার নিজ গ্রামে। সেখানে তার মা-স্ত্রী-সন্তান থাকেন। স্বজনদের সাথে একদিন কাটিয়ে গতকাল মঙ্গলবার তিনি ঢাকায় আসেন। বিকেলে কথা হয় এই প্রতিবেদকের সাথে। জাহালম দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, মানুষকে যেন এমন বিপদে আর পড়তে না হয়। তিনি বলেন, তিনি বারবার সবাইকে বোঝাতে চেয়েছেন; তিনি কোনো ঋণ নেননি। ব্যাংক থেকে ঋণ কিভাবে নিতে হয় তা-ও জানেন না। তিনি খেটে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষ। তার মা মানুষের বাড়িতে কাজ করে তাদের বড় করেছেন। এমনকি, তিনি দুদকেও গিয়েছিলেন। বলেছিলেন তিনি আবু সালেক নন, জাহালম। কিন্তু সেদিন কেউ তার কথা শোনেননি। তাকে দেখিয়ে অনেকে আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন। সাক্ষীরা আদালতে বলেছিলেন, তিনিই ঋণ নিয়েছেন।

জাহালম ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামবেন। তিনি জানান, যাদের কারণে তার তিনটি বছর জেলে কাটাতে হয়েছে, মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, পরিবার-পরিজন না খেয়ে থেকেছে, বৃদ্ধা মায়ের আবারো মানুষের বাসায় কাজ করতে হয়েছে, সামাজিকভাবে তিনি হেয় হয়েছেনÑ তাদের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করবেন। তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন। যারা তার ক্ষতি করেছে তিনি তাদের শাস্তি চাইবেন আইনিভাবে।

গতকাল ঢাকায় এস জাহালম ছুটে যান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে। সেখানে কমিশনের চেয়ারম্যানসহ অন্য কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করেন তিনি। এ সময় তার সাথে ছিলেন চ্যানেল ২৪-এর রিপোর্টার শাহরিয়ার আরিফ। শাহরিয়ার আরিফ জানান, জাহালমকে আইনি সহায়তা দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। জাহালমের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও কমিশন বিবেচনায় রেখেছে। কিন্তু সমস্যা হলো জাহালম লেখাপড়া জানেন না। তার যোগ্যতা অনুযায়ী পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে পড়ে থাকতে পারে সেরূপ একটি চাকরির আপাতত ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তিঃ মহাজোটের শরীক জাসদের স্বীকারোক্তি!


ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তিসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার কথা কবুল করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরীক বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। এজন্য প্রশাসনে অতি উৎসাহী একটি অংশ দায়ী বলে মনে করছে দলটি।

গত ১লা ও ২রা ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ জাসদ-এর জাতীয় কমিটির সাধারণ সভায় একাদশ সংসদ নির্বাচনকে এভাবে মূল্যায়ন করা হয়। পরে এ বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জাসদ তাদের সভার মূল্যায়ন তুলে বলে, দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণ উদ্দীপনা ও আশা নিয়ে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনের পরে বিষন্নতায় আক্রান্ত হয়েছে গোটা জাতি। এর মূল কারণ হচ্ছে, প্রশাসনের এক শ্রেণির অতি উৎসাহী অংশ ভোটের পূর্ব রাত্রেই ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখাসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত করেছে।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের জয় এই নির্বাচনে ‘নিশ্চিত’ ছিল উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাসদ বলেছে, জনগণের ভোটের মাধ্যমে ১৪ দল তথা মহাজোটের নিশ্চিত বিজয় জেনেও যে মহল বিশেষ এ অপকর্ম সংঘটিত করেছে, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থেই তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। কেননা এ কলঙ্কিত ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। এ কলঙ্কের দাগ মুছতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে দলটি।

ঢাকার তোপখানা রোডে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন দলের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, মোহাম্মদ খালেদ, আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, নাসিরুল হক নওয়াব, মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, সহ-সভাপতি আবু মো. হাশেম, কলন্দর আলী, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম সিকদার, আবুল কালাম আজাদ বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল হক খোকন, বীণা শিকদার, হোসাইন আহমদ তফসির প্রমুখ।

সভায় দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদসহ সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানানো হয়। এ দাবিতে বাংলাদেশ জাসদ আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারী দেশব্যাপী মানববন্ধন, সভা, শোভাযাত্রা, মত বিনিময় প্রভৃতির মাধ্যমে দলীয় মার্কামুক্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিবস পালন করবে।

এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারী দলের প্রয়াত নেতা কাজী আরেফ স্মরণে ‘কাজী আরেফ দিবস’ পালনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে বাংলাদেশ জাসদ। সভা থেকে আগামী অক্টোবরের আগে জেলা সম্মেলন এবং নভেম্বররে কেন্দ্রীয় সম্মেলন করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে দলটি।

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ দৃষ্টিহীন কেরামত আলী গাড়ি পোড়ানোর আসামিঃ জামিন নিতে গেলেন হাইকোর্টে


৭০ বছরের কেরামত আলী সুপ্রিম কোর্টের বর্ধিত ভবনের সামনের লনের গাছতলায় বসে হাঁপাচ্ছিলেন। বসেছিলেন কুঁজো হয়ে, লাঠিতে ভর করে। একটু পর পর কাঁপছিলেন। গাঢ় কালো রঙের চশমা পরা শ্মশ্রুমণ্ডিত কেরামত চোখে দেখেন না। অন্যের সাহায্য ছাড়া চলতেও পারেন না। বয়সের ভারে শরীরও ভেঙেছে। কণ্ঠার হাড় বেরিয়ে গেছে। কুঁচকে গেছে শরীরের চামড়া।

জানা গেল, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার ১০ নম্বর খেরুয়াজানি ইউনিয়নের বন্ধ গোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা কেরামতের বিরুদ্ধে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে। আগাম জামিন নিতে গতকাল গতকাল সোমবার তিনিসহ হাইকোর্টে এসেছিলেন এ মামলায় নাম থাকা স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা।

কেরামত জানান, তিনি বিএনপির সমর্থক হলেও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। ঘর থেকে বের হওয়ার মতো সামর্থ্যও তার নেই। মামলায় তার নাম আসায় বিস্মিত অন্যরাও।

জানা গেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর মুক্তাগাছা থানায় বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর নামে একটি মামলা (নম্বর- ২৪) হয়। এ মামলায় কেরামতকে ৩৮ নম্বর আসামি করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ ডিসেম্বর রাতে মুক্তাগাছা পৌরসভার আলাউদ্দিন কেন্দ্রীয় পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে নৌকা সমর্থক একজনের মোটসাইকেলে আগুন দিয়েছেন কেরামত ও অন্য আসামিরা। এছাড়া তারা মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলাকায় আতঙ্ক ও ত্রাস সৃষ্টি করেছেন। তারা বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (৩) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮ ও ৪২৭ ধারায় অপরাধ করেছেন।

গতকাল সুপ্রিম কোর্টে একজন গণমাধ্যমকর্মী স্বজনদের কথা জানতে চাইলেই হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন কেরামত আলী। পরে জানান, দুই ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে সুখের সংসার ছিল তার। দুই দশকের বেশি সময় আগে ১৮ বছরের শরীফুল ইসলাম কিডনিজনিত জটিলতায় মারা যায়। কয়েক বছর পর শারীরিক প্রতিবন্ধী ছোট ছেলে ফরিদুলও মারা যায়। চার বছর আগে তাকে ছেড়ে পরপারে চলে গেছেন স্ত্রী আসিয়া খাতুনও।

সেই থেকেই তিনি একেবারেই নিঃসঙ্গ। পুত্র-স্ত্রী শোকে কাতর কেরামতকে এখন দেখার কেউ নেই। দরিদ্র দুই ভাই গিয়াসউদ্দিন ও আবদুল মজিদ অন্যের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দুই ভাইকে নিজের শেষ সম্বল গ্রামের বাড়ির পাঁচ শতক জমি দান করে দিয়েছেন কেরামত। বিনিময়ে তাকে তিনবেলা খাবার ও পরনের কাপড় দেওয়া হয়।

চোখে ছানি পড়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই একপ্রকার অন্ধের জীবনযাপন করছেন কেরামত। সম্প্রতি অস্ত্রোপচার হলেও সেই চোখের আলো পুরোপুরি ফেরেনি। দুই হাত দূরের জিনিসও দেখতে পান না। এখন লাঠি ও অন্যের সাহায্যই ভরসা কেরামতের। তিনি জানান, মামলার কারণে গ্রেপ্তার ও হয়রানির ভয়ে নির্বাচনের আগে একমাস তাকে আত্মীয়ের বাড়িসহ এখানে-সেখানে পালিয়ে থাকতে হয়েছে।

কেরামত আলী বলেন, ‘বাবারে দুনিয়াতে আমার কেউ নাই। আমারে দেখার কেউ নাই। আমি রাজনীতি বুঝি না, রাজনীতি করিও না। কিন্তু আমারে ক্যান এই মামলায় জড়াইলো জানি না। আমি ন্যায়বিচার চাই।’

তার সঙ্গে আসা দূর সম্পর্কের ভাতিজা সাইফুল আজিজ (তিনিও একই মামলার আসামি) বলেন, ‘নির্বাচনের আগে করা গায়েবি মামলায় এই বৃদ্ধ লোকটাকেও আসামি করা হয়েছে। এই বয়সে অসমর্থ শরীর নিয়ে তিনি নাকি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছেন, মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘উনার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। এই বয়সে একজন বৃদ্ধ লোককে এভাবে হয়রানি করতে দেখে আমাদের নিজেদের খারাপ লাগছে। আজ (গতকাল) আগাম জামিন পেলেও এই মামলার হয়রানি থেকে সহসাই তিনি রেহাই পাবেন এমন মনে হচ্ছে না। কেননা জামিনের মেয়াদ শেষে আবারও তাকে আদালতে আসতে হবে।’

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মুক্তাগাছা থানার এসআই (উপপরিদর্শক) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ‘কেরামত আলী অসুস্থ চোখে দেখেন না এ বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। তদন্তে যাচাই-বাছাই হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

উৎসঃ ‌বাংলাদেশ টুডে

আরও পড়ুনঃ বুলবুলের নারী কেলেঙ্কারিতে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সাংবাদিকরা


নারীকর্মীদেরকে ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর চরম বিব্রতক অবস্থায় পড়েছেন আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক নেতা ও দখল করে নেয়া একুশে টিভির প্রধান নির্বাহী মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। একুশে টিভির কয়েকজন সাংবাদিক ও বুলবুলের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশের পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। ইলিয়াস হোসাইনের ভিডিওটি সামাজিক যোগগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বুলবুল বাইরে বের হচ্ছেন না। কোনো প্রোগ্রামাদিতেও যাচ্ছেন না। সূত্রটি বলেছে, বুলবুলের এসব অপকর্ম ফাঁস হওয়ার পর তার স্ত্রীও এনিয়ে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তার সংসারে এখন ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। দুই দিন ধরে বুলবুলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখছে না তার আত্মীয় স্বজনও।

এদিকে, বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতন ঘটনা প্রকাশের পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সাংসাদিক মহলেও। গত দুই দিন ধরে প্রেসক্লাব ও ডিআরইউতে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বুলবুলের যৌণ হয়রানির ঘটনা। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন আওয়ামীপন্থী অংশের নেতারাও বুলবুলের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। বুলবুলকে এড়িয়ে চলতে কয়েকজন সাংবাদিক নেতা তাদের সহকর্মীদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এরপর, বুলবুলের এই নারী কেলেংকারির ভিডিওর খবর পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনেও। জানা গেছে, শনিবার গণভবনে অনুষ্ঠিত চা-চক্র অনুষ্ঠানেও বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে অনেকেই কানাঘুষা করেছেন। এক কান দুই কান করে এটা শেখ হাসিনার কান পর্যন্ত পৌঁছেছে।

বুলবুলের ধর্ষণ-নির্যাতনের হাত থেকে নারী সাংবাদিকদেরকে রক্ষা করার জন্য একুশে টিভির কয়েকজন নারীকর্মী যে অনুরোধ করেছেন সেটাও জেনেছেন প্রধানমন্ত্রী। এনিয়ে বুলবুলের ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে, বুলবুলের এই ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশের পর একুশে টিভির স্ক্রলে প্রচার করা হচ্ছে- বুলবুলের নামে সাংবাদিক ইলিয়াস অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর জামায়াত-শিবিরের কিছু সাইট এগুলো প্রচার করছে।

এনিয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন সাংবাদিকরা। তারা বলছেন, বুলবুল তার নারী কেলেংকারির ঘটনা চাপা দিতে এখন জামায়াত-শিবিরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। বাংলাদেশে যখনই যা ঘটেছে বুলবুলরা সব সময় জামায়াত-শিবিরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন। এবার বুলবুল তার প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীদেরকে ধর্ষণ-নির্যাতন করে এটার দায়ও চাপানোর চেষ্টা করছেন জামায়াত-শিবিরের ওপর।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ গায়েবি মামলার জামিনের জন্য স্ট্রেচারে করে এলেন হাইকোর্টে


উৎসুক জনতার ভিড় ঠেলে দেখা গেল এক ব্যক্তি শুয়ে আছেন। দুই হাত ও দুই পায়ে ব্যান্ডেজ। বাম পায়ের তিনটি আঙুল কাটা। কিছুদিন আগে জোড়া লেগেছে দেখলে বোঝা যায়। এমনই এক দৃশ্য দেখা গেল হাইকোর্টের এ্যানেক্স ভবনের সামনের খোলা জায়গায়। নাশকতার মামলায় আগাম জামিনের জন্য এসেছিলেন কৃষক তছিরউদ্দিন মণ্ডল। বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার ওমেদপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি।

আর্থিক সংকটের কারণে একটি বাসের পাশাপাশি দুটি সিট ভাড়া নিয়ে শুয়ে ঢাকায় আসেন। একইভাবে ফিরেও গেছেন। হাইকোর্টে উচ্চ আদালতে তছিরউদ্দিন মণ্ডলসহ শৈলকূপার ২৩৬ জনের চার সপ্তাহের আগাম জামিন হয়েছে গতকাল। বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ ১৩টি পৃথক জামিন আবেদনে তাদের এ আগাম জামিন দেন। এ সময়ের পরে তাদের ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় তছিরকে গাবতলী টার্মিনাল থেকে এম্বুলেন্সে করে নিয়ে আসা হয় উচ্চ আদালতে। স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হয় এ্যানেক্স ভবনের দো’তলায়। গত বছরের ১৫ই ডিসেম্বর ঝিনাইদহের শৈলকূপা থানায় ৭০ জনকে আসামি করে একটি গায়েবি মামলা দেয়া হয়। এই মামলার আসামি তছিরউদ্দিন মণ্ডলও।

তছিরউদ্দিনসহ অন্য জামিন আবেদনকারীদের আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, মামলাগুলো গায়েবি। সরকারদলীয় লোকজনই এদের মেরেছে, নির্যাতন করেছে ও কুপিয়েছে। আবার তারাই মামলা করেছে। হাইকোর্ট ১৩টি পৃথক আবেদনে ২৩৬ জনকে আগাম জামিন দিয়েছে।

তছিরউদ্দিন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মামলার পর থেকে রয়েছেন বাড়ির বাইরে। থাকছেন এক আত্মীয়ের বাসায়। তার দুই সন্তান। বড় ছেলে কলেজে পড়ে। ছোট ছেলের বয়স দুই বছর। অভাবের সংসার। টাকার অভাবে নিজের সামান্য জমিটুকুও বন্ধক দিয়েছেন। এগুলো দিয়ে টেনে টুনে চলছে সংসার। অর্থের অভাবে ছেলের পড়ালেখাও বন্ধের উপক্রম। স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছেন না তছিরউদ্দিন।

গতকাল এ্যানেক্স ভবনের দো’তলায় তছির মানবজমিনকে বলেন, আমি দিন আনি দিন খাই। আমি কোনো রাজনীতিও করি না। নির্বাচনের পরে উমেদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান সাব্দার হোসেন মোল্লা গ্রুপের লোকজন আমাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরে নাশকতার মামলায় আমাকে আসামিও করেছে। তিনি জানান, কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় তিনি ১৩ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করলেও গত দেড় মাসে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তিনি বলেন, আমি চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে পারছি না। খুব অসহায় জীবন যাপন করছি।

জানা যায়, নির্বাচনের দুইদিন পর তছিরউদ্দিনের নিজ গ্রাম কৃষ্ণপুরে মারামারি হয়। এ সময় গুরুতর আহত হন তিনি। তার এক পা ও এক হাতের হাড় অনেকটাই ভেঙে গেছে। গত একমাস ধরে বিছানায় শুয়ে দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনার পর স্থানীয় হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তছিরউদ্দিন।

একাদশ জাতীয় নির্বাচন চলাকালীন সময় শৈলকূপা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলায় ৩১১ জনকে আসামি করা হয়। রোববার রাত ১০টায় ঝিনাইদহ থেকে উচ্চ আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। সকাল ৭টায় নামেন গাবতলী বাস স্ট্যান্ডে। সকালের নাস্তা শেষে বাসে করে উচ্চ আদালতে আসেন সবাই। তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে অনেকেই রাজি হন নি। আবার কেউ কথা বললেও নিজের নাম জানান নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাদের মধ্যে একজন বলেন, মামলার কারণে দেড় মাস বাড়ির বাইরে। নাম বললে তো আর বাড়ি যাইতে পারুম না। এমনেই বাড়ি ছাড়া, পরিবার ছাড়া। আমার নামে কেন মামলা দিছে সেটাই জানি না। জীবনে কোনোদিন কোর্টের বারান্দায় আসা লাগেনি। ৫৫ বছরের তোফাজ্জল পেশায় কৃষক। তাকেও একই নাশকতার মামলায় আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় বিএলকে বাজারে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন দেয়ার কথিত ঘটনা ঘটে রাত আড়াইটায়। তখন তোফাজ্জল ছিলেন ঘটনাস্থল থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে তার কদমতলা গ্রামের বাড়িতে।

নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক একজন বলেন, নির্বাচনের সময় তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। সবাই যখন মামলার বিষয়ে আমাকে বললো। আমি কারো কথা বিশ্বাস করি নাই। কারণ আমি একজন কৃষক। সারাদিন আমি থাকি মাঠে ঘাটে। আমি তো আর রাজনীতি করি না। তাই ভাবছি আমার নামে মামলা হবে কেন। পরে পুরো বিষয় জানার পর দেড় মাস ধরে বাড়ির বাইরে রয়েছি। কিভাবে যে দিন কাটাচ্ছি একমাত্র আল্লাহই জানে। আমার দুটি সন্তান। তারা স্কুলে পড়ে। পরিবারের অভাব অনটনের কারণে তাদের লেখাপড়া এখন বন্ধ হওয়ার পথে। আমার বউ অন্যের বাড়িতে কাজ করে এখন সংসার চালাচ্ছে।

মামলার বিষয়ে শৈলকূপা থানার পরিদর্শক আইয়ুবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে-পড়ে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। সবগুলোরই তদন্ত চলছে। ঘটনার সময় না থেকেও এই মামলায় অনেকে আসামি হয়েছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তথ্য প্রমাণের উপরে সবার নামে মামলা হয়েছে। আর মামলার তো তদন্ত চলছে। যদি এর মধ্যে কেউ নির্দোষ হয় তাকে তাকে অবশ্যই বাদ দেয়া হবে।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি : বরকতুল্লাহ বুলু


বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতুল্লাহ বুলু বলেছেন, গত নির্বাচনে বিএনপি হারেনি, হেরেছে গণতন্ত্র এবং দেশের জনগণ। দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। দেশের মানুষ ভোট দিতে পারলে বিএনপি আজ ক্ষমতায় থাকতো।

তিনি বলেন, বিএনপি বর্তমান অবস্থা কাটিয়ে আবারো ঘুরে দাঁড়াবে। আ’লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন কখনো সুষ্ঠু হবে না। তাই আগামী দিনে এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। সেই সাথে ধানের শীষ নিয়ে বিজয়ীরা সংসদে যাবে না। তিনি দলের ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের প্রার্থী ও নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান। সেইসাথে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলনে অংশ নেয়ার আহবান জানান তিনি। মঙ্গলবার বগুড়া জেলা বিএনপি কার্যালয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে নির্বাচন পরবর্তী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বগুড়া জেলা সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী সিটির সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। মিনু তার বক্তব্যে বলেন, আইনী প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন না। তাই জেলের তালা ভেঙ্গে মুক্ত করা হবে। এ জন্য ৮ ফেব্রয়ারী ঢাকায় কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ভিপি সাইফুল বলেন, সীমাহীন জুলুম নির্যাতনের পরেও বগুড়ার নেতাকর্মীরা যেকোনো কর্মসূচী সফল করতে প্রস্তুত রয়েছে। সে লক্ষ্যে তারা দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

সভায় আরো বক্তব্য দেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং রাজশাহী সিটির সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, কেন্দ্রীয় সদস্য আলী আজগর হেনা, লাভলী রহমান, শফিকুল হক মিলন, ওবায়দুর রহমান চন্দন, সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, ফজলুল বারী বেলাল, বগুড়া-৪ আসনের নবনির্বাচিত এমপি মোশারফ হোসেন, মাহবুবর রহমান বকুল, মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, শাহ মেহেদী হাসান হিমু, সিপার আল বখতিয়ার, শাহাবুল আলম পিপলু, খায়রুল বাশার, আবু হাসান, তাজুল ইসলাম, ফারুকুল ইসলাম, মাসুদ রানা, নাজমা আক্তার প্রমুখ।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here