দেশের লাখ লাখ টাকা শেখ হাসিনা কাদের অনুদান দেন?

0
275

দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের অভিনেতা অভিনেত্রীরা সারাজীবন অভিনয়ের মাধ্যমে কাড়ি কাড়ি টাকা রোজগার করেন। কিন্তু শেষ বয়সে এসে তারা অনেকেই চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনার কাছে হাত পাতেন। এটা এখন চলচ্চিত্র অঙ্গনে একটি প্রচলন হয়ে গেছে। তারা আবেদন করার সাথে সাথেই শেখ হাসিনা লাখ লাখ টাকা তাদেরকে অনুদান দিয়ে দিচ্ছেন।

এজন্য দেখা গেছে অন্যদের দেখাদেখি অনেকেই টাকার সংকট না থাকলেও শেখ হাসিনার তহবিল থেকে টাকা আদায় করে নিচ্ছেন। অথচ এসব দেশের টাকা পাওয়ার কথা উপযুক্ত অসহায় ও যার প্রয়োজন তার কাছেই। যারা প্রাপ্য তারা এই টাকা পাচ্ছেন না, পাচ্ছেন যারা যৌবনকালে কাড়ি কাড়ি টাকা কামাই করেছেন তারা। এতে দেশের মানুষ যারপরনাই ক্ষুব্ধ।

গতকালও বাংলা চলচ্চিত্রের খলনায়ক আহমদ শরীফকে শেখ হাসিনা তার তহবিল থেকে ৩৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। কিছুদিন পর পরই চলচ্চিত্র অঙ্গনের লোকদের এমন অনুদান দিতে দেখা যায়। এর বাইরে অন্য কাউকে দিতে তেমন দেখা যায় না।

কয়েক মাস আগেই শেখ হাসিনার অনুদান পেয়েছেন চলচ্চিত্র অভিনেতা প্রবীর মিত্র, চিত্রনায়িকা নূতন ও রেহানা জলি এবং শিল্পী কুদ্দুস বয়াতি। এছাড়া অনুদান পেয়েছেন অভিনেতা আফজাল শরীফ, পরিচালক ও অভিনেতা কাজী হায়াৎ, অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনা, চিত্রনায়িকা দিতি, অভিনেত্রী আনোয়ারাসহ অনেকেই।

এসব অভিনেতা অভিনেত্রীদের শেখ হাসিনা হাতভরে দান করলেও, চকবাজারের চুড়িহাট্টায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরন এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তাদেরকে ক্ষতিপূরণের জন্য খুবই সামান্য পরিমান টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও এখনও দেয়নি সরকার। সব হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া মানুষগুলো ক্ষতিপূরণের জন্য রাস্তায় মানববন্ধন পর্যন্ত করেছে কয়েকবার। আদালতে রীট হয়েছে। এরপরও সরকার তাদের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না। অথচ যৌবনে কাড়ি কাড়ি টাকা কামানো খল নায়কদের লাখ লাখ টাকা দিয়ে দিচ্ছেন খুব সহজেই।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিনয় শিল্পী ও তারকাদের অনুদান প্রদানের খবর

সরকারের এহেন কাণ্ডে ক্ষুব্ধ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে গতকাল লিখেছেন-

‘অভিনেতা-অভিনেত্রীরা যদি অগ্রাধিকার পায় তাহলে শেখ হাসিনার তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার জন্য দেশের জনগণকে অভিনেতা-অভিনেত্রী হওয়া ছাড়া উপায় আছে কি?’

সেখানে অনেকে ক্ষোভ ঝেড়ে মন্তব্য করেছেন। কুতুবুল আলম নামে একজন লিখেছেন, ‘মিডিয়ার ব্যক্তিরা সারা জীবন আয়ের টাকা দিয়ে কি করে? শেষ দিকে এসে চিকিৎসার জন্য সকলকে শেখ হাসিনার কাছে হাত পাততে হয়, অভাব কি শুধু এদেরই দেখা দেয়? এর বাইরে আরো কতো মানুষ টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যায়,তাদের খোঁজ কে রাখে?

সোহেল রানা লিখেছেন, ‘কোটিপতিদের দেয় কোটি টাকা.. আর আগুনে পুড়ে মরলে তাদের পরিবারকে দেয় ২০ হাজার!’

এম আর ইসলাম লিখেছেন, ‘যাকাতের টাকা গায়ক-গায়িকা, নায়ক-নায়িকারা পাচ্ছে! আর যারা এর উপযুক্ত হকদার তারা বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। বাহ! কি চমৎকার!’

শেখ হাসিনার অনুদান তহবিলে অনেক বৃত্তশালী টাকা দিয়ে থাকেন, যাতে শেখ হাসিনা বিশেষ প্রয়োজনে দেশের অসহায় মানুষগুলোকে অনুদান দিতে পারেন। আশিকুর রহমান সাগর নামে একজন এ সম্পর্কে লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে কোটি কোটি টাকা দান করার চেয়ে নিজ হাতে অসহায় ও দুঃস্থ মানুষদের সাহায্য করা অনেক ভালো।’

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ১০ বছরে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে দুর্বল করে ফেলেছে!


২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত টানা ১০ বছর ধরে দেশ শাসন করতেছে আওয়ামী লীগ। দেশ শাসনে আওয়ামী লীগের সফলতা-ব্যর্থতা এখন দেশবাসীর সামনে পরিষ্কার। শেখ হাসিনার দাবি হলো-বাংলাদেশ এখন সব দিক দিয়ে বিশ্বের কাছে রোল মডেল। দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে তার সরকার অত্যাধুনিক করে গড়ে তুলেছে। সীমান্ত নিরাপত্তায় বিজিবিকে শক্তিশালী করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে তার সরকার মধুর সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষা দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক শক্তিশালী।

আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবীরা টকশোতে গিয়ে প্রতিদিন গলাবাজি করে বেড়াচ্ছে যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন পরাশক্তিতে পরিণত হয়ে গেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সঙ্গে নাকি এখন কারো নেতৃত্বের তুলনা হয় না। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মাথাকে এমনভাবে উঁচু করে দাড় করিয়েছে যে, ব্রিটেনের আইফেল টাওয়ারও ছুঁতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবতা কি তাই বলে?

বিএনপি-জামায়াতের বিগত শাসনামল ও আওয়ামী লীগের বর্তমান শাসনামলে মধ্যে তুলনা করলে ফলাফলটা এমন আসে যে, বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা হলো এমন একজন মেদভুড়ি ওয়ালা লোকের মতো যার মেরুদণ্ডের হাড়গুলো ক্ষয় হয়ে গেছে। লোকটা দেখতে বেশ মোটা সোটা মনে হলেও আসলে তার ভেতরের অবস্থা খুবই খারাপ। যেকোনো সময় সে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। শেখ হাসিনাও বিগত ১০ উন্নয়নের বেলুনগুলো শুধু ফুলিয়েই যাচ্ছেন, ভেতর অবস্থা আসলে খুবই খারাপ। একটি রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী, নিরাপত্তাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে যে নৈতিক শক্তি থাকে বর্তমানে বাংলাদেশের সেই নৈতিক শক্তি নেই। রাষ্ট্রের যে মেরুদণ্ড- থাকে সেই মেরুদণ্ডের হাড়গুলো ক্ষয় হয়ে গেছে। মেরুদণ্ডের হাড়গুলো ক্ষয় হয়ে বাংলাদেশ এখন এমনই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, পুচকা মিয়ানমার বাংলাদেশের নাগরিকদেরকে অস্ত্রের মুখে ধরে নিয়ে গেলেও সরকার উচ্চস্বরে কোনো শব্দ করতে পারে না।

সরকারের ১০ বছরের শাসনামল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের মেরুদণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ ৩টি হাড় ক্ষয় হয়ে গেছে।

জাতির মধ্যে বিভেদ-অনৈক্য সৃষ্টি

যেসব রাষ্ট্র বিশ্বে উন্নত ও সব দিক থেকে শক্তিশালী হিসেবে পরিচিত তাদের দেশের নাগরিকদের মধ্যে রয়েছে ঐকমত্য। রাজনৈতিক মত পার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে ক্ষমতাসীনরা বিরোধীদেরকে প্রাধান্য দেয়। দেশের স্বার্থে সবাই এককাতারে। কিন্তু, বাংলাদেশের বর্তমান চিত্র একেবারেই ভিন্ন। সোজা কথায় বলা যায়-অনৈক্য আর বিভেদে জর্জড়িত দেশের নাম হচ্ছে বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দেশের মানুষকে বিভক্ত করে ফেলেছে। শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাদের ভাষায়-যারা আওয়ামী লীগ করে না তারা সবাই স্বাধীনতা বিরোধী। স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের ধোয়া তুলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দেশে এখন গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় বিদেশি কোনো শক্তি যদি বাংলাদেশের দিকে রক্তচক্ষু উচু করে তাকায় তাহলে মোকাবেলা করার জন্য সরকার জনগণকে পাশে পাবে না। কারণ, সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনে জনগণ এখন দিশেহারা অবস্থায় আছে। মোট কথা-বহিঃশক্তির মোকাবেলায় একটি দেশের নাগরিকদের মধ্যে যে ঐক্য থাকা দরকার বাংলাদেশে বর্তমানে সেটা নেই। এই সুযোগটাও বিদেশি শক্তি গ্রহণ করে।

দলীয় অনুগত সামরিক ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনী

একটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে তারা হলেন সামরিক ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। বলায় তারাই আসলে রাষ্ট্রের প্রধান শক্তি। যুদ্ধটা মূলত তারাই করে। আর জনগণ পেছন থেকে তাদেরকে সমর্থন দিয়ে উৎসাহীত করে। প্রেরণা যোগায়। কিন্তু, বাংলাদেশের বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। দেশের সামরিক, সীমান্ত রক্ষী, র‌্যাব ও পুলিশকে সরকার একেবারে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করেছে। যারা রাষ্ট্রের নাগরিকদের জান-মালের নিরাপত্তার চেয়ে একটি স্বৈরাচারী সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ব্যস্ত। গত ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনেও সারাবিশ্ব এটা প্রত্যক্ষ করেছে।

দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সরকারের দলীয় বাহিনীতে পরিণত হওয়ার কারণেই সীমান্তে প্রতিদিন বাংলাদেশি নাগরিকদেরকে বিএসএফ পাখির মতো গুলি করে হত্যা করলেও বাংলাদেশ কোনো শক্ত প্রতিবাদ করতে পারছে না। ছোট রাষ্ট্র মিয়ানমারের সৈন্যরা যুদ্ধ বিমান নিয়ে সীমান্তে ঢুকে গেলেও বাংলাদেশ কোনো জবাব দিতে পারছে না।

অথচ, একটু অতীতের দিকে তাকালেই ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। মিয়ানমারের নাসাকা বাহিনী বাংলাদেশের বীর জোয়ানদের কাছে পরাজয় বরণ করেছে। এমনকি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর ভারতীয় বাহিনীকে পরাজিত করেও বাংলাদেশের বীর জোয়ানরা সিলেটের পাদুয়া ও রৌমারিতে ভূখণ্ড রক্ষা করেছে।

১৯৯১ ও ২০০০ সালে মিয়ানমারের সাথে সীমান্তে বিডিয়ারদের সংঘর্ষে মিয়ানমার বাহিনী পরাজিত হয়েছে। ২০০০ সালে তো মিয়ানমারের ৬ শতাধিক সৈন্য নিহত হয়েছিল।

এরপর ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর পাদুয়া ক্যাম্পটি ছিল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। দীর্ঘদিন যাবত তারা বাংলাদেশের পাদুয়া গ্রামটি দখল করে রাখছিল। ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পাদুয়া গ্রামটি ছেড়ে দেয়ার জন্য বিএসএফকে চিঠি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা কোন সাড়া দেয়নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের বিডিয়ার জোয়ানরা ২০০১ সালের ১৫ এপ্রিল রাতে পাদুয়া গ্রাম পুনরুদ্ধার করে এবং সেখানে ৩টি ক্যাম্প স্থাপন করে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করে। ভারতীয় বাহিনী সেদিন একটি টু-শব্দ করার সাহস পায়নি। ভারতীয় বাহিনী পাদুয়ার প্রতিশোধ নিতে ঘটনার তিনদিন পর ১৮ এপ্রিল বেআইনিভাবে বড়াইবাড়ী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের ভূখন্ডে প্রবেশ করে বড়াইগ্রামে নগ্ন হামলা চালিয়েছিল। তাদের এই হামলার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছিল বিডিয়ার জোয়ান আর বীর জনতা। দেশের স্বাধীনতা ও ভূখ- অক্ষুন্ন রাখতে সেদিন আমাদের ৩ জন বিডিয়ার জোয়ান শাহাদাত বরণ করলেও ভারতীয় বাহিনীর দাম্ভিকতা চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছিল। বিএসএফের ১৬ জন সদস্য নিহত হয়েছিল। সেদিন ভারতীয় বিএসএফ আমাদের বিডিয়ারদের কাছে শুধু পরাজয়ই বরণ করেনি, নিহত বিএসএফ সদস্যদের লাশ ফেলে রেখে তারা পালিয়ে গিয়েছিল।

সেদিনের ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার রীতিমত হতচকিত হয়ে যায়। প্রথমে ভারত সরকার বিষয়টি হজম করার চেষ্টা করলেও প্রচার মাধ্যম ও বিরোধীদলের চাপে পড়ে এ নিয়ে পরে সোচ্চার হয়। ঘটনাটি ভারত ও তার বিশাল সামরিক বাহিনীর ইজ্জতের উপর একটা বড় ধরনের আঘাত ছিল।

কিন্তু সেই বাংলাদেশ আজ এতই দুর্বল যে, ভারত এবং মিয়ানমার যা খুশী তাই করছে। বাংলাদেশ এখন তাদের কাছে গরিবের বউয়ের মতো। এর মূল কারণ হচ্ছে, সশস্ত্র বাহিনী ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে সরকার দলীয় বাহিনীতে পরিণত করেছে। এদের মধ্যে যারা দেশপ্রেমিক আছেন তাদেরও চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার নেই। কারণ, তারা এখন সরকারের রোষানলের শিকার। বর্তমানে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি জনগণের কোনো আস্থা বিশ্বাস নেই। জনগণ তাদেরকে এখন আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মী হিসেবেই মনে করে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিপর্যয়

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের এখন চরম বিপর্যয় ঘটেছে। এমনকি যে দেশের জন্য শেখ হাসিনা সব কিছু করছেন সেই ভারতের সঙ্গেও এখন বাংলাদেশের সম্পর্ক ভাল নেই। এগুলোর বাস্তব প্রমাণ হলো রোহিঙ্গা সংকট। রোহিঙ্গাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের লোকজন মায়া কান্না করলেও বাস্তবে এনিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে কোনো দেশ নেই। আজ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর কোনো র্ষ্ট্রাই চাপ সৃষ্টি করেনি। যার কারণে, মিয়ানমার এখন বাংলাদেশের ভুখন্ড সেন্টমার্টিনকে বারবার নিজেদের ভুখন্ড হিসেবে মানচিত্রে দেখানোর সাহস পাচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠানোর পর মিয়ানমার বাহিনী একাধিকবার সীমান্তে যুদ্ধবিমান নিয়ে ঢুকে গেছে। সাগরেও তারা বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করে জেলেদেরকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এমন সাহস তারা কোথায় পাচ্ছে?

বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমার আসলে সংঘাত চাচ্ছে। আর পর্দার আড়াল থেকে কয়েকটি দেশ মিয়ানমারকে উস্কে দিচ্ছে। ভারত, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল সবাই মিয়ানমারের পক্ষে কাজ করছে। মিয়ানমার যদি বাংলাদেশের ওপর হামলাও করে তাহলে কোনো রাষ্ট্র কেই পাশে পাবে না বাংলাদেশ। হয়তো রোহিঙ্গাদের মতোই তারা সহানুভূতি প্রকাশ করবে এবং মিয়ানমানরকে নরম সুরে বলবে সংযত আচরণ করার জন্য। এমন কি মিয়ানমার বাংলাদেশ যুদ্ধ হলে দেখা যাবে, চীন-ভারতের দেয়া অস্ত্রই ব্যবহার করবে মিয়ানমার। মোট কথা-বিশ্বের কোনো পরাশক্তি যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে এসে দাড়াবে না।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ভারত বাংলাদেশের যেমন বন্ধু, গওহর আমার তেমন বন্ধুঃ আলজাজিরাকে শহিদুল (ভিডিও)


ভারত আমাদের যেমন বন্ধু, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভীও আমার সেরকমই বন্ধু। তাই আমাকে ঐসব বন্ধুদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এমন মন্তব্য করেছেন আলোকচিত্রী ও সাংবাদিক শহীদুল আলম।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার দেয়া এক সাক্ষাতকারে এমন মন্তব্য করেন সরকারের রোষানলে পড়ে কারাবরণ করা খ্যাতিমান এই আলোকচিত্রী।

শহিদুল আলমকে উপস্থাপক মেহেদী হাসান প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা গওহর রিজভী। তিনি আলজাজিরার ‘হেড টু হেড’ প্রোগ্রামে বলেছিলেন, ‘শহীদ (শহিদুল) আমার খুবই কাছের বন্ধু’। আসলেই কি তাই?

এই প্রশ্নের উত্তরে শহীদুল আলম বলেন, আমি এই ব্যাক্তিকে চিনি। এবং আমরা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মিলিত হয়েছিলাম। আমার কাছে বন্ধুত্বের কিছুটা ভিন্ন সংজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু এছাড়াও, তারা বলে, আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত আমাদের বন্ধু এবং আমি জানি আমাদের দুই দেশের সম্পর্কটা কেমন। তাই, আমাকে ঐসব বন্ধুদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

ভিডিওঃ  ‘ভারত বাংলাদেশের যেমন বন্ধু গওহর রিজভী আমার তেমন বন্ধুঃ শহিদুল আলম’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

আলজাজিরার সাক্ষাতকারটি ভাষান্তর করেছে অ্যানালাইসিস বিডি। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো:

উপস্থাপক: এই বছরের শুরুতে হেড টু হেড অনুষ্ঠানে আমি গওহর রিজভীর ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। যিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা। আল-জাজিরায় ইন্টারভিউ দেয়া কিংবা মন্তব্যের জন্য শহীদুল আলম গ্রেফতার হননি। তিনি বিকৃত তথ্য ছড়ানোর দায়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন যেটা সহিংসতা উস্কে দিচ্ছিলো আপনি তার প্রতি কি বলবেন?

শহীদুল আলম: আমি বিষয়গুলো সেভাবেই লিপিবদ্ধ করছিলাম যেভাবে সেগুলো ঘটছিলো। আমি কোন টাইম মেশিনের মালিক নই। উস্কানি হচ্ছে এমনকিছু যা একটি ঘটনার পরে ঘটে। আমি ঘটনা লিপিবদ্ধ করছিলাম। এবং যা ঘটছিলো তার সুস্পষ্ট দলিল রয়েছে আমার রেকর্ডিং। এখানে সুস্পষ্টত এমন কিছু নেই, যা আমার দেয়া বিবৃতিকে আমার নিজের তৈরী হিসেবে সাব্যস্ত করতে পারে। আমি শুধুমাত্র যা ঘটছিলো তা-ই বিবৃত করছিলাম। এটা তা-ই যা একজন সাংবাদিক করে থাকেন, যেকোন সাংবাদিক।

উপস্থাপক: তাহলে এগুলো আপনার বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং বানানো অভিযোগ?

শহীদুল আলম: পুরোপুরি।

ভিডিওঃ  ‘আল জাজিরায় শহিদুল আলমের পূর্নাঙ্গ সাক্ষাৎকার’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উপস্থাপক: গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। যিনি আপনার গ্রেফতার এবং আটকাবস্থাকে সমর্থন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তিনি আপনার বন্ধু! শহীদ আমার খুব কাছের বন্ধু। তখন আমি পাল্টা তাকে প্রশ্ন করেছিলাম- শহীদুল আলম আগস্টে কোর্টের বাইরে সাংবাদিকদের বলেছেন তিনি পুলিশ কর্তৃক এতটাই মার খেয়েছেন যে তার জামা রক্তে ভিজে যাওয়ার কারণে ধুয়ে ফেলতে হয়েছিলো। তাকে ১০৭ দিন জেলে রাখা হয়েছে এবং তিনি বলেছেন তাকে অত্যাচার করা হয়েছে। এভাবেই কি আপনি আপনার বন্ধুদের মূল্যায়ন করেন? এর জবাবে গওহর রিজভী বলেছিলেন, ‘শুনুন, তার চিকিৎসা নিয়ে আমি একটি শব্দও বলিনি। আমি শুধুমাত্র এটাই বলেছি যে, শহীদ আমার কাছের বন্ধু।’ আসলেই কি তাই?

শহীদুল আলম: আচ্ছা, আমি এই ব্যাক্তিকে চিনি। এবং আমরা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মিলিত হয়েছিলাম। আমার কাছে বন্ধুত্বের কিছুটা ভিন্ন সংজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু এছাড়াও, তারা বলে, আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত আমাদের বন্ধু। এবং আমি দেখতে পারছি আমাদের দুই দেশের সম্পর্কটা কেমন। তাই আমাকে ঐসব বন্ধুদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ আলজাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শহিদুল আলম সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়েন গওহর রিজভী। শহিদুল আলম নিজের বন্ধু দাবী করলে উপস্থিত দর্শকদের হাস্যরসের শিকার হন তিনি।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দেশে ধর্ষণের মহামারি আকার ধারণ করেছে


আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে ধর্ষণ। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে শতাধিক। যা শুধু আলোচনায় এসেছে। এর বাইরে তো রয়েছে অনেক। লোক-লজ্জা বা সম্মানের ভয়ে প্রকাশ করেনি ভুক্তভোগীরা। আইনবিদরা বলছেন, এ পরিস্থিতির উন্নতির জন্য মামলার সঠিক তদন্ত ও আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন। সমাজবিজ্ঞানীরা বর্তমান সময়ে এ ধর্ষণকে ব্যাধি হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। আর এ ব্যাধির জন্য দায়ী করেছেন পরিবার, সমাজ ও পারিপার্শ্বিক অবক্ষয়কে।

সাম্প্রতিক সময়ে ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির নির্মম ঘটনা দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছে। সব মহল থেকে জানানো হচ্ছে ধিক্কার ও প্রতিবাদ।

এর আগে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের একটি গ্রামে স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে এক নারীকে গণধর্ষণ করা হয়। নির্যাতনের শিকার নারী জাতীয় নির্বাচনের দিন সকালে একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যান। এ সময় কেন্দ্রে থাকা আওয়ামী লীগের কয়েকজন যুবক তাঁকে তাঁদের পছন্দের প্রতীকে ভোট দিতে বলেন। তিনি তাতে রাজি না হলে যুবকেরা তাঁকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। ওই দিন রাত ১২টার দিকে সালাউদ্দিন, সোহেল, বেচু, মোশারফসহ ১০ থেকে ১২ জনের একদল যুবক ঘরে ঢুকে প্রথমে স্বামী-স্ত্রী দুজনকে মারধর করে। পরে স্বামী ও সন্তানদের বেঁধে রেখে ওই নারীকে ঘরের বাইরে পুকুরপাড়ে এনে গণধর্ষণ করেন।

ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় ১৩ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ঘটনার দিন বিকেলে শিশুটির মা পাংশা থানায় মামলা করেন। এর আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মারধর করে পুলিশে দেন স্থানীয় লোকজন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি তার আরও এক বোনসহ দাদা-দাদির সঙ্গে থাকে। একমাত্র ভাই তার মা-বাবার সঙ্গে কুষ্টিয়ায় থাকে। বাবা একটি হোটেলে ও মা গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। শিশুটির বাবা তাঁর দুই মেয়েকে দেখভালের জন্য প্রায়ই পাংশায় আসেন। মেয়েদের দেখভালের জন্য ওইদিন বিকেলে বাবা গ্রামের বাড়িতে আসেন। পরদিন সকালে বাড়িতে শিশুটি ঘর গোছানোর কাজ করছিল। এ সময় বাবা শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। শিশুটির চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে। এ সময় শিশুটির বাবা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে আটক করে শিশুটির মাকে খবর দেয়া হয়। স্থানীয় লোকজন শিশুটির বাবাকে মারধরের পর পুলিশে খবর দেন।

সম্প্রতি রাজধানীতে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলসহ দুজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ধর্ষণের ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ১৯শে জানুয়ারি একটি সংবাদপত্র অপরাধের একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। সেই চিত্র রীতিমতো ভয়াবহ। পত্রিকাটি বলছে, গত পাঁচ বছর সারা দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৯ হাজার। গড়ে প্রতিদিন ১১টি। এ ক্ষেত্রে শিশুরাই ধর্ষণ ও হত্যার শিকার বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ১৫০ জন নারী ও শিশু।

চলতি বছরের প্রথম ১৮ দিনে একটি সংবাদ মাধ্যমে ২৩টি ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনই শিশু-কিশোরী। এর মধ্যে দুই বছরের শিশুও আছে। চারজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। আরেকজন ধর্ষণের পর অসুস্থ হয়ে মারা গেছে।

চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে সারা দেশে ৪৭ শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। ১৭ এপ্রিল বুধবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে বেসরকারি সংগঠন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। শিশু ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ২ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ছয়টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। তারা জানায়, এই ১৫ দিনে সারা দেশে ৪৭ শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার মেয়ে শিশুর সংখ্যা ৩৯ জন। বিভিন্ন কারণে হত্যা করা হয়েছে ৫ শিশুকে, যার মধ্যে ৪ জন ছেলে ও ১ জন মেয়েশিশু।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন বলেছে, বিচারহীনতার কারণে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। শিশু ধর্ষণের ঘটনায় শিশুর শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ ছাড়া অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের দাবিও করেছে সংস্থাটি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সারা দেশে প্রায় ১২৩ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জানিয়েছে চলতি বছর শুধু জানুয়ারি মাসে দেশে ৫২টি ধর্ষণ, ২২টি গণধর্ষণ এবং ৫টি ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি আরও জানায় ২০১৮ সালে ৯৪২টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে সারা দেশে।

এ বিষয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ও আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, এই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হোক এটাতো কেউ চায়না। আগে এই ধরনের ঘটনা খুব বেশি প্রকাশ পায়নি যেটা এখন অনেক বেশি প্রকাশ পাচ্ছে। কাজেই এটা আমাদের দেশের এবং সাধারণ মানুষের জন্য খুবই একটি দুঃখজনক এবং ভীতিকর বিষয়। এই ধরনের সমস্যা সমাধানে মামলার সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিচার কার্য যেন অতি দ্রুত সম্পন্ন হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রথমত, আদালত কর্তৃক খুব দ্রুত অপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যদি অপরাধীদেরকে দ্রুত ধরা হয় এবং তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হয় তাহলে হয়তো আমরা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি। বিচার শুরু হলে কোনো অবস্থাতেই যেন বিচারকার্য মুলতবি না হয়। অনেক সময় বিচার কার্য মুলতবি হয়ে যায়। ফলে বিচার বিলম্বিত হয়।

সাবেক আইজিপি সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ বলেন, সম্প্রতি সময়ে যৌন হয়রানির অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে এবং প্রকাশ পাচ্ছে। যেগুলো খুবই দুঃখজনক ও ভয়ংকর। এই ধরনের অপরাধ দমনে জনসচেতনতামূলক কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে। এলাকার জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে সচেতনতামূলক বৈঠক করা যেতে পারে। আইনশৃঙ্খলার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের নজর দিতে হবে আইনের প্রয়োগটা যেন কঠিন এবং কঠোর হয়। অপরাধীরা যেন এই বার্তাটি পায় যে আমরা (প্রশাসন) আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করছি। এবং এ বিষয়ে আমরা সবাই যত্নবান। এটা হলে অপরাধীরা অপরাধ করার আগে অন্তত দশবার চিন্তা করবে। গতকালও দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

পটুয়াখালীতে শিশু ধর্ষিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালীতে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধ ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করেছে। উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে গতকাল সকালে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটি চর কুড়িপাইকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী। ভিকটিমের মা জানান, গত বুধবার স্কুল বাড়ির কাছে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলা করছিল তার মেয়ে। এ সময় প্রতিবেশী দুই সন্তানের জনক আব্দুল হক ঘরামী (৬৫) চকলেট দেয়ার প্রলোভন দিয়ে শিশুটিকে লোহালিয়া নদীর কিনারে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় কাদতে কাঁদতে বাড়িতে ফিরে দাদির কাছে বিস্তারিত জানায়। পরে তাকে পটুয়াখালী মা ও শিশু স্বাস্থ্য পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্রে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। কিন্তু এতে শিশুটি সুস্থ হয়ে না উঠলে পুলিশের শরণাপন্ন হয়। পটুয়াখালী সদর থানা অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভিকটিম শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে মেডিকেল টেস্টের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি মামলা রজুর প্রস্তুতি চলছে।

আড়াইহাজারে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, আড়াইহাজারে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। গতকাল সকালে ধর্ষিতার ভাই ফুল মিয়া বাদী হয়ে ওই এলাকার সাজন মিয়ার ছেলে জুয়েল ও তার সহযোগী নায়েব আলীর ছেলে জালালকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা করেন। ১৬ই এপ্রিল রাতে কিশোরীকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। স্থানীয় কালাপাহাড়িয়ার বিবিকান্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ধর্ষিতা মামলায় বাধা দেয়।

এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জুয়েলের সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। এরই জের ধরে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার দৈহিক সম্পর্ক হয়। ১৬ই এপ্রিল রাতে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বন্ধুর সহযোগিতায় তাকে ফের ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় সে। পরে বিয়ের চাপ দেওয়া হলে তাতে সে অস্বীকৃতি জানান। আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, দুই ব্যাক্তিকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।

শিবচরে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, শিবচরে এক স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে পারভেজ (২১) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার কামরাঙ্গীর চর থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত যুবকের সহযোগী দুই যুবক পলাতক রয়েছে।

পুলিশ জানায়, দত্তপাড়ার স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ব্রাহ্মণপাড়া এলাকার তারা মুন্সীর ছেলে পারভেজ মুন্সির প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। গত ৫ই মার্চ মেয়েটিকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে উপজেলার মগড়া পুকুর পাড় এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে আরো দুই সহযোগী মিলে মেয়েটিকে গণধর্ষণ করে। এবং ধর্ষণের চিত্র মোবাইলে ধারণ করে। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ভিডিওচিত্র প্রকাশ করে তারা। এ ব্যাপারে মেয়েটির বাবা আদালতের মাধ্যমে মামলা দায়ের করলে পারভেজ ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পুলিশ দীর্ঘদিন মোবাইল ট্র্যাকিংসহ প্রযুক্তি ব্যবহার করে পারভেজের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. শওকত হোসেন ও এসআই মাজেদ মন্ডলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের মূলহোতা পারভেজকে গ্রেপ্তার করে।

হালুয়াঘাটে শিশু ধর্ষণের শিকার! ধর্ষক আটক

হলুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, হালুয়াঘাটে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গতকাল থানায় মামলা করেছে ধর্ষিতার ফুফু ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মরাগাংকান্দায়। শিশুটির ফুফু জানান, শিশুর মা জন্মের চার মাস পর তাকে রেখে পালিয়ে যায়। তার বাবা ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করে। শিশুকাল থেকে তিনি লালন পালনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ঘটনার দিন কেউ বাড়িতে না থাকায় প্রতিবেশী আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে নুরজামাল (১৮) তাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বাড়িতে গিয়ে ধর্ষিতা তার ফুফুর কাছে ঘটনা জানায়। এরপর তাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হালুয়াঘাট থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় ধর্ষককে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ সেই পাকিস্তানী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকের মা গ্রেপ্তার


টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বেড়াতে আসা পাকিস্তানী এক কিশোরী ছাত্রীকে (১৭) অপহরণের পর ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ ধর্ষকের মা আনোয়ারা বেগমকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে।

এর আগে বুধবার রাতে ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে বৃহস্পতিবার ভোরে জামালপুরের সরিষাবাড়ী থেকে অপহরণের শিকার ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে বিকেলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী ভ্রমণ ভিসা নিয়ে মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশে বেড়াতে আসে। সে পাকিস্তানের নিউ করাচির পুপার হাই ওয়েজ রোডের বাসিন্দা এবং সেখানকার একটি স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী।

গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আল মামুন বলেন, নির্যাতিতার বাবা উপজেলার উত্তর গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা আনুমানিক ২০ বছর আগে পাকিস্তানের নিউ করাচীতে গিয়ে বসবাস শুরু করেন।

সেখানে পাকিস্তানী এক নারীকে বিয়ে করে গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করেন। পাঁচ মাস আগে গত বছরের ২২ নভেম্বর তার স্ত্রী পাকিস্তানী নাগরিক ছয় মাসের ভ্রমণ ভিসায় মেয়েকে নিয়ে স্বামীর বাড়ি বেড়াতে আসেন।

গত ১৬ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে একদল সন্ত্রাসীর সহযোগিতায় আল আমিন তার চাচা আবদুল ওয়াদুদের বাড়ি থেকে মেয়েটিকে কৌশলে অপহরণ করে। পরে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

গোপালপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করলে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার মহিষাকান্দি মোড়ের এক বাসা থেকে বন্দী অবস্থায় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ধর্ষক আল আমিনের মা আনোয়ারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান ওসি।

উৎসঃ ‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ যে কোন সময় আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হতে পারে খালেদা জিয়াকে, প্রস্তুত কেরাণীগঞ্জ কারাগার


কেরাণীগঞ্জের নতুন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এর পাশে নবনির্মিত মহিলা কারাগারের সার্বিক কার্যক্রম প্রস্তুত করা হয়েছে। আপাতত এ কারাগারে বন্দী হিসাবে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাখার পরিকল্পনা কারা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে চুড়ান্ত করা হয়েছে।

সেই লক্ষ্য কারা অভ্যন্তরে দক্ষিণ পাশের একটি একতলা ভবনের ৪টি রুমের ভেতর ও বাইরের ডেকোরেশন সম্পন্ন হয়েছে। আর কারাগারের দেয়াল সংলগ্ন ৩টি রুমের একটিতে খালেদা জিয়ার বিচারকাজ পরিচালনায় আদালত বসানোর পরিকল্পনা অনেকটা চুড়ান্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রগুলো থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কারা অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ খালেদা জিয়াকে কারা কর্তৃপক্ষকে সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিআইপি কেবিনে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। এখনো সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডাক্তারের পরামর্শে তাকে যে কোন সময় আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হতে পারে।

যদি কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয় তাহলে তাকে পুরনো ঢাকার জরাজীর্ণ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নয়, নেয়া হবে কেরাণীগঞ্জের নতুন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে নির্মিত নয়নাভিরাম দেশের দ্বিতীয় মহিলা কারাগারে। এই কারাগারের নির্মাণ কাজের প্রস্তুতি শতভাগ সম্পূর্ণ হয়েছে।

শিডিউল অনুযায়ী আগামীকাল শনিবার সকাল ৯টায় কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা মহিলা কারাগারের কাজের সার্বিক অগ্রগতি সরেজমিন দেখতে যাওয়ার কথা রয়েছে। এরআগে গত মাসেও তিনি এ কারাগার পরিদর্শন করেছেন। তখন মহিলা কারাগারে বিদ্যুত, পানির লাইনসহ অন্যান্য মোট ১০ শতাংশ কাজ বাকী ছিলো।

কারা অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, শনিবার সকাল ৯টায় আইজি প্রিজন্স ও গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীর কেরানীগঞ্জের মহিলা কারাগার পরিদর্শনে আসবেন। এরআগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দুপুরে এবং বিকেলে কারাগারের ভেতর ও বাইরের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করেন বলে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, নবনির্মিত কারাগারটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার পর এখানে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে আসার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সেই লক্ষ্য কারাগারের প্রধান গেট দিয়ে ঢুকে ডান পাশের (পশ্চিম) ৩টি ভবনের পরের একটি একতলা ভবনের ৪টি রুমের ডেকোরেশন করা হয়েছে। এরমধ্যে প্রতিটি রুমে লাগানো হয়েছে এয়ারকন্ডিশন। বাথরুমে হাই কমোড বসানো হয়েছে। বিদ্যুত লাইন, পানির লাইন লাগানো ছাড়াও লাগানো হয় ঝরণা।

তার রুমের চারপাশে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজও সম্পন্ন হয়েছে। আইজি প্রিজন্স ও গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী শনিবার কারাগার পরিদর্শন এর বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, নবনির্মিত কারাগার নির্মাণের কাজ সন্তোষজনক কি-না সেটি দেখাই মূলত পরিদর্শনের উদ্দেশ্য।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কারাগারের বাইরের দেয়াল সংলগ্ন ৩টি ঘরের (গুদাম) মধ্যে মাঝখানের একটি ঘরকে আদালত এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

কবে নাগাদ খালেদা জিয়াকে এই মহিলা কারাগারে আনা হবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যে কোন সময় আনা হবে। যদি তাকে (খালেদা) এ কারাগারে আনা হয়, তাহলে আপাতত অন্য কোন মহিলা বন্দীকে আর এখানে রাখা হবে না।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর কারা মহাপরিদর্শক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টেলিফোন ধরেননি। পরে ঢাকা বিভাগের ডিআইজি প্রিজন্স টিপু সুলতান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি এই মুহুর্তে ঢাকার বাইরে রয়েছি। তাই পরিদর্শনের বিষয়টি বলতে পারছি না।

উল্লেখ্য সারাদেশে মোট ৬৮ কারাগারের মধ্যে একমাত্র কাশিমপুরে রয়েছে মহিলা কারাগার। এরপর কেরাণীগঞ্জের এ কারাগারটি হচ্ছে দ্বিতীয় মহিলা কারাগার।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি আবারও নাকোচ করে দিয়েছেন সিনিয়র নেতারা


কারাবন্দি ও অসুস্থ দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি আবারও নাকোচ করে দিয়েছেন বিএনপি সিনিয়র নেতারা। এছাড়াও প্যারোলে মুক্তির জন্য সমঝোতা হিসেবে দলের বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ না নেয়ার বিষয়টিও স্পষ্ট ভাষায় নাকোচ করে দিয়েছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। তারা এসব বিষয়কে সরকারের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার বলেও দাবি করেন।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ‘খালেদা জিয়া তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে এমন আভাস পাওয়া গেছে।

খালেদা জিয়া ‘কারাগার থেকেই’ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিবেন এমন ইঙ্গিত দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের নেত্রী যেখানেই থাকুন, জেলে বা বাইরে থাকুন তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা। তিনি আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে গণতন্ত্রকে মুক্ত করবেন।’

খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘তিনি এত অসুস্থ যে, বলে বোঝানো যাবে না। নববর্ষের দিন আমরা তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। তিনি এখন হুইল চেয়ার ছাড়া হাটঁতেও পারেন না। বিছানা থেকে ওঠার জন্য তাকে সাহায্য নিতে হয়। তারপরও তিনি এতটুকুও মনোবল হারাননি। এই মনোবল আমাদের মধ্যে সঞ্চারিত করতে হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দেশে অস্বাভাবিক অবস্থা চলছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। আর গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’

বিএনপির এমপিদের শপথ নেয়ার গুঞ্জনের বিষয়টি স্পষ্ট করেন দলের স্থায়ী কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাওয়া নিয়ে কোনও আলোচনা নয়। নির্বাচিতদের শপথ নেয়ার প্রশ্নই আসে না। এই সিদ্ধান্ত আমরা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা নিয়েছি। সুতরাং এই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসার প্রশ্নই আসে না। বিষয়টা এখানেই নিষ্পত্তি হওয়ার প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।’

‘প্যারোলে মুক্তি’ নিয়ে সরকার বিএনপিকে উসকানি দিচ্ছে মন্তব্য করেন স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চারপাশে সৎ, নির্ভীক ও সাহসী লোক নেই। তাঁকে সৎ পরামর্শ দেওয়ার মতো লোক তৈরি হয়নি। যার জন্য নেতারা সংকট মোকাবিলা করতে ভয় পাচ্ছেন। আর সেই সুযোগ নিয়ে সরকার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে উসকানি দিচ্ছে এবং উসকানি দেয়ার সাহস পাচ্ছে।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি ঠাট্টা ও মসকরা ছাড়া আর কিছু নয়। আর এধরনের অসঙ্গতি প্রস্তাব সরকারের কাছ থেকে আসতে পারে না এবং আসবে না।’

প্রকাশনা উৎসবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বইটির দুই লেখক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ ও কবি আব্দুল হাই শিকদারও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ দেশে আইনের শাসন নেই বলেই খালেদা জিয়া জামিন পাচ্ছেন না : মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল


বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, দেশে আইনের শাসন নেই বলেই সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে খালেদা জিয়া জামিন পাচ্ছেন না। আইন যদি থাকতো বা আইনের বাস্তবায়ন যদি থাকতো তাহলে তিনি অবশ্যই জামিন পেতেন অনেক আগেই এবং রাস্ট্রের পক্ষ থেকে বারবার তাঁর জামিনের বাঁধার সৃষ্টি করা হতো না।

শুক্রবার বিকেলে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তির ব্যাপারে তার সাংবিধানিক অধিকার ও আইনি অধিকারের ব্যাপারে ‘জামিনে মুক্তি পাবে’ এই সম্মানিত শব্দটির সাথেই থাকতে চাই। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে, অসুস্থ্যতা নিয়ে তাঁর জীবনহানির আশঙ্কা নিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারে কিন্তু আমরা রাজনীতি করতে পারবো না।’

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, আজকে দেশে ক্ষমতায় থাকার পরও আ’লীগের কোনো নেতাকর্মীর দাম নেই। কোথাও কোনো গুরুত্ব নেই। পুলিশের কাছে তারা অসহায়। ডিসি/এসপি বা প্রশাসন ও হাইব্রিড নেতাদের কাছে অসহায়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগেরও চিন্তা করা উচিত সংগঠন হিসেবে তাদের অস্তিত্ব আর কত দিন টিকে থাকবে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী ও শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া যে আওয়ামী লীগ সেই আওয়ামী লীগ আজকে পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও বিচার বিভাগের একাংশের দয়ার ওপর টিকে আছে।

তাদের ভিক্ষা করা ভোটের ওপর তারা টিকে আছে। এই আওয়ামী লীগের সাথে শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগের মেলালে নিজেদের সঙ্গে প্রবঞ্চনা করা হবে। বাংলাদেশে গনতন্ত্র নেই বলেই প্রধানমন্ত্রী বারবার বাকশালের কথা বলছেন। তাঁর বাবা বাকশাল করে সফল হননি। এখন তিনি বাকশালের ভালো দিকটা বলার চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার প্যারোল প্রসঙ্গে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, একজন মন্ত্রী প্যারোল নামক একটি শব্দ প্রসব করলেন। আর অন্যমন্ত্রীরা ওই প্রসবকৃত প্যারোল শিশুকে লালন-পালন করে বড় করার চেষ্টা করছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে প্যারোল নামক সন্তানের জন্মও দেয়া হয়নি। লালন-পালনও করা হয় না। দেশে আইনের শাসন নেই বলেই ৬ বছরের শিশু থেকে ৬ সন্তানের জননী ধর্ষিত হচ্ছেন। আর এ সকল ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। কিন্তু তাদের বিচার করা হচ্ছে না।

সৈয়দ আলাল বলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই আজকের এই জুরুরি বৈঠক। বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিই এখন বিএনপির একমাত্র লক্ষ্য। আগামী দিনে কর্মসূচী ঘোষনা করবে অভিভাবক সংগঠন বিএনপি। রাজপথে তা বাস্তবায়নের জন্য থাকবে তারুণ্যে ভরপুর ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন।’

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। সভায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি নূরজাহান ইয়াসমীন, ইঞ্জিনিয়ার শামসুদ্দিন আহম্মেদ, ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন, ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চু, জাকির হোসেন বাবলু, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, আলমগীর মাহমুদ আলম, অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, কাজী রানা, শাহ শিব্বির আহম্মেদ বুলু, জয়নাল আবেদীন, জাকারিয়া হারুন, এ কে এম মাহবুবুল আলম মাহাবুব, এম এ হান্নান খান, আনোয়ারুল আজিজ টুটুল, লিটন আকন্দ, আজিজুল হক, আখতারুজ্জামান বাচ্চু, রতন আকন্দ, আখতারুল আলম ফারুক, ফারজানা রহমান হুসনা, হেলাল আহম্মেদ, শেখ আজিজ, শামীম আজাদ, উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরুল হক, যুবদলের রুকনুজ্জামান সরকার, ভিপি শামছুল হক শামছু, মোজাম্মেল হক টুৃটু, দিদারুল ইসলাম রাজু, জোবায়েদ হোসেন শাকিল, বিপ্লব, শ্রমিকদলের মফিদুল ইসলাম মোহন, স্বেচ্ছাসেবকদলের শহীদুল আমীন খসরু, ভিপি ফরিদ, আলী আকবর আনিস, ফয়সাল, ছাত্রদলের মাহাবুবুর রহমান রানা, নাইমুল করিম লুইন, তানভীর আহমেদ রবিন, আবু দাঈদ রায়হান, রায়হান শরীফ হলুদ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণ করেছে আ’লীগ নেতা মিন্টু রায়


রংপুর নগরীর পান্ডারদিঘি এলাকায় এক দিনমজুরের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে মিন্টু রায় (৩২) নামে দুই সন্তানের জনক ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ধর্ষক মিন্টু, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা হারাধন রায়সহ চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন নির্যাতিতার মা।

ধর্ষণের ঘটনা সালিশ বৈঠকের নামে ধামাচাপা দিয়ে সহযোগিতার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, নগরীর এক দিনমজুরকে একই এলাকার দুই সন্তানের জনক মিন্টু রায় গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে জমিতে ঘাস কাটার জন্য শ্রমিক হিসেবে নেয়।

জমিতে ঘাস কাটার সুযোগে মিন্টু রায় ওই শ্রমিকরে বাড়িতে গিয়ে টিভি দেখারত অবস্থায় তার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে ধর্ষক মিন্টু রায় দ্রুত পালিয়ে যায়। শিশুটির মা অন্যের বাড়িতে কাজ করতে গিয়েছিলেন।

ওসি বলেন, কাজ শেষে বাড়িতে এসে মেয়ে এবং প্রতিবেশীর মুখে ধর্ষণের ঘটনা শুনে পুলিশের কাছে যেতে চাইলে রংপুর সিটি করপোরেশনের ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারাধন রায় হারা মীমাংসার দায়িত্ব নিয়ে কালক্ষেপণ করেন।

বুধবার রাতে মেয়েটির মা বাদী হয়ে ধর্ষক মিন্টু রায়, ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারাধন রায় হারা, ধর্ষকের শ্যালক সম্ভু রায়, টেংকু রায় ও প্রতিবেশী মেহেদুল ইসলামকে আসামি করে মামলা করেছেন।

ওসি আরও জানান, ধর্ষণের ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে ধর্ষককে সহযোগিতার অভিযোগে ধর্ষকের শ্যালক সম্ভু রায়, টেংকু রায় ও মেহেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ধর্ষক ও কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, মেয়েটিকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে তার ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্ষণের শিকার শিশুর বাবা বলেন, মিন্টু তার জমিতে আমাকে ঘাস কাটার কাজে লাগিয়ে দিয়ে আমারই বাড়িতে ঢুকে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। এখন আবার আমাকেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য কাউন্সিলর হারাধন, ধর্ষক মিন্টুর শ্যালক সম্ভু ও টেংকু রায় হুমকি দিচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এ ব্যাপারে কাউন্সিলর হারাধন রায় বলেন, ধর্ষণের ঘটনাটি ১৫ এপ্রিল ঘটেছে। দুই পক্ষই ১৬ এপ্রিল আমার কাছে এসেছিল। তখন আমি ছেলে পক্ষকে বলেছিলাম ছেলেকে হাজির করান, তারপর মীমাংসা। কিন্তু তারা আমাকে মামলাতে জড়িয়েছে। এটা ঠিক নয়।

উৎসঃ ‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় দক্ষিণ এশিয়ায় তলানিতে বাংলাদেশ


গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশ চার ধাপ পিছিয়েছে। গণমাধ্যম পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তৈরি সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম। এর আগে ২০১৮ সালে ছিল ১৪৬তম।

ফ্রান্সের প্যারিসভিত্তিক সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের (আরএসএফ) ওয়েবসাইটে বুধবার এ সূচক প্রকাশ করা হয়।

২০১৯ সালের ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স’ বলছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকারের প্রশ্নে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই সবচেয়ে তলানিতে রয়েছে।

সাতটি মাপকাঠিতে বিচার করে একটি দেশের সংবাদমাধ্যম কতটা স্বাধীনতা ভোগ করছে তা বোঝার চেষ্টা করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স।

এই সাতটি মাপকাঠি হলো- সংবাদমাধ্যমে বহুমতের প্রকাশ, সংবাদমাধ্যমে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ, স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ, আইনি কাঠামো, সংবাদমাধ্যমের কাজে স্বচ্ছতা, অবকাঠামো, সংবাদকর্মীদের ওপর নিপীড়ন।

সব মাপকাঠির স্কোরের গড় করে তৈরি করা হয়েছে একটি দেশের গ্লোবাল স্কোর। ১০০ পয়েন্টের এই সূচকে যে দেশের স্কোর যত কম, সে দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা তত বেশি।

এ বছরের সূচকে ১৫০তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের স্কোর দেখানো হয়েছে ১০০-এর মধ্যে ৫০.৭৪। গত বছর বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৪৮.৬২, আর বিশ্বে অবস্থান ছিল ১৪৬ নম্বরে।

গত ছয় বছরের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৪ থেকে ১৪৬-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। এবার তা এক ধাক্কায় চার ধাপ নেমে এলো।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের বিচারে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সবচেয়ে কম, এমনকি মিয়ানমারও এই সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে।

বিশ্বে গণমাধ্যমের পরিস্থিতি সম্পর্কে এবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবাদকর্মীরা সম্পূর্ণ নিরাপদে কাজ করতে পারেন- এমন দেশের সংখ্যা গত এক বছরে কমে গেছে। পাশাপাশি কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো গণমাধ্যমের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের সেক্রেটারি জেনারেল ক্রিস্টোফ ডেলোয়ের বলেন, গোপন অথবা প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিরোধ যদি এভাবে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে থাকে, যেখানে সাংবাদিকরা পরিণত হন বলির পাঁঠায়, তা হলে বুঝতে হবে, গণতন্ত্র মহাঝুঁকির মধ্যে আছে।

সূচকের সঙ্গে প্রতিটি দেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতির ওপর একটি সারসংক্ষেপ দেয়া হয়েছে। ‘কঠিনতর রাজনীতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার আরও বেশি লঙ্ঘন’ শিরোনামে বাংলাদেশ অংশে বলা হয়েছে- ২০১৮ সালের শেষে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়ে যায়।

এ সময় মাঠপর্যায়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কর্মীদের সহিংসতার শিকার হন সাংবাদিকরা। অযৌক্তিকভাবে বেশ কিছু অনলাইন সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয় এবং কয়েকজন সাংবাদিককেও গ্রেফতার করা হয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত চিত্রসাংবাদিক শহিদুল আলমের ১০০ দিন জেল খাটার ঘটনা উল্লেখ করে বাংলাদেশ অংশে আরও বলা হয়েছে, কেউ সরকারের বিরক্তির কারণ হলে তাকে থামাতে কীভাবে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করা হয়, এটি তার দৃষ্টান্ত।

এ ছাড়া গত বছরের অক্টোবরে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ১৪ বছর শাস্তির বিধান রাখা হয়। অন্যদিকে অসাম্প্রদায়িক সমাজের জন্য কথা বলা বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও ব্লগার ইসলামপন্থী জঙ্গিদের হাতে খুন ও হামলার শিকার হন।

সূচকে ১৮০ দেশকে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে গণমাধ্যমের জন্য ভালো পরিবেশ থাকা ক্যাটাগরিতে রয়েছে মাত্র ১৫ দেশের নাম। সন্তোষজনক পরিস্থিতি রয়েছে ২৮ দেশে। সাংবাদিকতার জন্য সমস্যাপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে ৬৬ দেশে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি।

মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশের দিক দিয়ে এবারের প্রতিবেদনের শীর্ষ ১০ দেশ হলো- নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, জ্যামাইকা, বেলজিয়াম ও কোস্টারিকা।

এ তালিকায় তলানিতে অর্থাৎ ১৮০ নম্বরে থাকা দেশটি তুর্কমেনিস্তান। উত্তর কোরিয়া ও চীনের অবস্থান যথাক্রমে ১৭৯ ও ১৭৭ নম্বরে।

শিল্পোন্নত পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য সাত ধাপ এগিয়ে ৩৩তম অবস্থানে উঠে এলেও যুক্তরাষ্ট্র তিন ধাপ পিছিয়ে নেমে গেছে তালিকার ৫৮তম অবস্থানে।

উৎসঃ ‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ কিশোরগঞ্জের আ’লীগ নেতার ছেলে ফখরুল আলম ৪৭০ পিস ইয়াবাসহ আটক


কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থেকে মো. ফখরুল আলম মুক্তার (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে ৪৭০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেছে র‌্যাব-১৪। তিনি উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আজিজুল হক ভূঞার ছোট ছেলে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার তালজাঙ্গা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব-১৪ সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ কোম্পানি অধিনায়ক লে. কমান্ডার (বিএন) এম শোভন খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মাদককে নির্মূলে কিশোরগঞ্জ র‌্যাব নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাড়াইল উপজেলার তালজাঙ্গা এলাকায় কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে ৪৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ফখরুল আলম মুক্তারকে হাতেনাতে আটক করে।

শোভন খান আরও জানান, মুক্তার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত মুক্তার মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল থানায় মামলা দায়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে নাম না প্রকাশ শর্তে এলাকার বেশ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, ফখরুল আলম মুক্তার দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জসহ তাড়াইল উপজেলাজুড়ে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে বলে এলাকার কেউ এনিয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

উৎসঃ ‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বেড়েই চলেছে ধর্ষণ, গত ৩৬ ঘণ্টায় ঘটেছে ১০টি ধর্ষণের ঘটনা


আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দেশে ধর্ষণ বাড়ছে, বাড়ছে ধর্ষণের পর হত্যা। প্রায় প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ধর্ষণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্কুলছাত্রী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী, গৃহবধূ থেকে প্রতিবন্ধী নারী, এমনকি শিশু- কেউই রেহাই পাচ্ছে না ধর্ষণের কবল থেকে। এক এলাকায় ধর্ষণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গণমাধ্যম কেঁপে ওঠছে নতুন আরেক ধর্ষণের খবরে।

গত ৩৬ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশু ধর্ষণের ১০টি ঘটনা ঘটেছে। আর এসব ঘটনায় ১০টি মামলা দায়ের হওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

নোয়াখালীর সেনবাগে ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি। এ ছাড়া নরসিংদীর বেলাবতে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করেছেন মধ্য বয়সী এক ব্যক্তি। রংপুরেও এক শিশু ধর্ষিত হয়েছে। রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় ৫ম শ্রেণির এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ করা হয়। ফেনীর সোনাগাজীর চর দরবেশ ইউনিয়নের আর্দশ গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ করেছে স্থানীয় বখাটেরা। বান্দরবানের লামা উপজেলায় মদ খাইয়ে এক নারীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। সিলেটের বিমানবন্দর থানাধীন বনকলাপাড়ার নূরানী আবাসিক এলাকার একটি কলোনিতে এক তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে লালমনিরহাটের আদিতমারী বড়াবাড়ি এমএইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান বরখাস্ত হয়েছেন। যশোরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে প্রকাশ ব্যানার্জি (৫৪) নামে পুরোহিতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাবনার চাটমোহর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের বোলিয়া গ্রামে এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে মুখোশপরা ধর্ষকরা ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ১৫ দিনে দেশে ৩৯ জন বালিকা ধর্ষিত হয়েছে। ধর্ষণ সহ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৪৭ জন। এসব ঘটনা ঘটেছে ২ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৩ হাজার ৫৮৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৭৮ জনকে। এর মধ্যে ৮৬ শতাংশই শিশু ও কিশোরী। ধর্ষণের সংখ্যা ও ব্যাপ্তি বাড়ছে দিন দিন্। ২০১৪ সালে ৭০৭, ২০১৫ সালে ৮৪৬, ২০১৬ সালে ৭২৪, ২০১৭ সালে ৯২২ ও সর্বশেষ ২০১৮ সালে ৮৩৫টি আর চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ধর্ষণের ঘটনা ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে।

নারীর ক্ষমতায়নসহ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়নে বাংলাদেশের নারীসমাজ বিশ্বে ঈর্ষণীয় পর্যায়ে এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে আছে এদিক থেকে। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ইত্যাদি প্রতিরোধে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্নসহ দেশে যথেষ্ট ভালো আইন রয়েছে। ধর্ষকদের ক্রসফায়ারে দেয়ার দাবিও উঠেছে। তবে দুঃখের সঙ্গে স্বীকার করতে হয়, বিস্তৃত পরিসরে এর প্রয়োগ প্রায় নেই বললেই চলে।

বেসরকারি সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা দেশের আদালতগুলোতে বিচারাধীন রয়েছে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দেড় লক্ষাধিক মামলা। প্রত্যেক বছরে গড়ে নিষ্পত্তি হচ্ছে ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ মামলা আর সাজা পাচ্ছে হাজারে সাড়ে ৪ জন আসামি। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ১০ বছরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫ হাজার ১১৭টি। এর মধ্যে রায় ঘোষণা হয়েছে ৮২১টির, শাস্তি হয়েছে ১০১ জনের। মামলার অনুপাতে রায় ঘোষণার হার ৩.৬৬ শতাংশ ও সাজার হার দশমিক ৪৫ শতাংশ।

সারা দেশে বিচারের জন্য ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দেড় লক্ষাধিক মামলা ঝুলে আছে। এসব মামলার বিচার চলছে ঢিলেঢালাভাবে। বছরে নিষ্পত্তি হচ্ছে মাত্র ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ মামলা। আর সাজা পাচ্ছে হাজারে মাত্র চারজন আসামি।

ধর্ষণের বিচার করার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের দুর্বলতা ও দীর্ঘসূত্রতার ফলে সমস্যাটি অত্যন্ত জটিল হয়েছে। আইন প্রয়োগকারীদের একটি অংশ ধর্ষণের শিকার নারীর প্রতি বিরূপ ধারণা প্রকাশ করেন, তাঁরা নারীটির ব্যক্তিগত ‘চরিত্র’ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেন। ফলে ধর্ষণের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে—এটা আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করার জন্য যতটা আন্তরিক তাগিদের সঙ্গে আইন প্রয়োগ করা প্রয়োজন, বাস্তবে তার অভাব রয়েছে। শুধু আইন প্রয়োগকারীদের মধ্যে নয়, আমাদের সাধারণ মানুষেরও একটি অংশের ভেতরে ধর্ষণের শিকার নারীর প্রতি নেতিবাচক ধারণা পোষণ করা হয়। ফলে অত্যন্ত কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও ধর্ষণের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে।

উৎসঃ ‌পূর্বপশ্চিম

আরও পড়ুনঃ অবস্থান সুস্পষ্ট করলেন খালেদা জিয়া , কণ্ঠ-মনোবলে ৯০ দশকের দৃঢ়তা

১৯৯১ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় বেগম খালেদা জিয়া

বেগম খালেদা জিয়া এদেশের অবিসংবাদিত নেত্রী। তিন যুগ আগে গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে হাল ধরেছিলেন বিএনপির; পেয়েছেন দেশনেত্রী খেতাব। ‘স্বৈরশাসক এরশাদ হটাও’ আন্দোলনে রাজপথে আপোষহীন নেতৃত্ব তাকে নিয়ে গেছে রাজনীতির সুউচ্চ শিখরে। নেতৃত্বের গুণেই বাংলাদেশের শহর-বন্দর, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। তাঁর রোগমুক্তি কামনায় এখনো মসজিদে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হয়। গৃহবধূরা মানত করেন। তাঁর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনসহ নানান কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। রাজনৈতিক জীবনে দৃঢ় মনোবলের খালেদা জিয়া প্রায় ১৫ মাস ধরে কারাগারে। ডাক্তারদের মতে নানান রোগে আক্রান্ত বেগম জিয়ার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। মুক্তির দাবির পাশাপাশি বিএনপিসহ সর্বমহল থেকে দাবি উঠেছে বিদেশে নিয়ে গিয়ে তার চিকিৎসা করার। এরই মধ্যে খবর বাতাসেও ভাসছে খালেদা জিয়ার প্যারোলের খবর। এমনকি সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরাও বলেছেন, বেগম জিয়া প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু দেশনেত্রীর আপোষহীন মনোভাব। প্যারোলে মুক্তি নিয়ে তিনি বিদেশ যেতে রাজী নন। এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপির কয়েকজন নেতা। বিএনপির নেতারা জানান, নিজে কারাগারে অসুস্থ; তারপরও কেউ দেখা করতে গেলে দেশের মানুষের খোঁজ খবর নেন। দুঃখ করে বলেন, আমার দেশের মানুষ ভাল নেই।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা করাতে যাবেন এমন গুঞ্জন বেশ কয়েকদিন ধরে বাতাসে ভাসছে। সরকারি দলের এমপি-মন্ত্রী-নেতারাও এবিষয়ে কথা বলেছেন। দলীয় প্রধানের সাক্ষাৎ না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সুষ্পষ্টভাবে কিছুই বলতে পারছিলেন না বিএনপি নেতারা। অন্যদিকে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির ৬ এমপির শপথ নিয়েও দল এবং দলের বাইরে চলছে নানা গুঞ্জন। দলীয় প্রধানের নির্দেশনা না পাওয়ায় এ বিষয়েও আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি দলটি। তবে বেগম জিয়ার সাথে নেতাদের এক সাক্ষাতে সব কিছু সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। প্যারোল ও এমপিদের শপথ গ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। দলের সিনিয়র নেতাদের জানিয়েছেন প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যের অবনতি স্বত্তে¡ও প্যারোলে মুক্তির আবেদন তিনি করবেন না। মুক্তি নিতে হলে আইনি প্রক্রিয়াতেই তিনি মুক্ত হবেন। আর যে সংসদ নির্বাচন দল প্রত্যাখ্যান করেছে সেই সংসদে শপথ না নেয়ার পক্ষেও মত দিয়েছেন তিনি।

কারাগারে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) খালেদা জিয়াকে ভর্তি করা হয়। সেখানে কেবিন বøকের ৬২১ নম্বর কক্ষে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে বিএসএমএমইউতে আনার পর থেকেই প্যারোলে মুক্তি নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। সরকারের মন্ত্রী-এমপি-নেতারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলে খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি চাইলে বিবেচনা করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও আইন মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর নড়েচড়ে বসে সবাই। তবে বিএনপি প্রধান প্যারোলে মুক্তি নিবেন কিনা সেবিষয়টি তার সাথে কথা না বলে কিছুই জানাতে পারেনি দলটির সিনিয়র নেতারা। অবশেষে গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিনে বিএসএমএমইউতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেন। সেখানে তারা এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনায় তার স্বাস্থ্যের সার্বিক বিষয়ে জানতে চান। তবে আলোচনার সময় সরাসরি প্যারোলের বিষয়টি কেউ তোলার সাহস না পেলেও আকারে-ইঙ্গিতে বোঝানো হয়। তবে খালেদা জিয়া দৃঢ়তার সঙ্গে প্যারোলের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি নেতাদের বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে তার প্রত্যেকটিই মিথ্যা। আদালতে সুবিচার পেলে তিনি এতদিনে সব মামলা থেকে রেহাই পেতেন। সরকার সেটা করতে দিচ্ছে না। এখন তাকে প্যারোলে মুক্তির নামে আরেক দফা নির্যাতন করতে চাইছে। বিএনপির এক নেতা জানান, খালেদা জিয়া প্যারোলের বিষয়ে ইঙ্গিত করা হচ্ছে বুঝতে পেরে নেতাদের জানিয়ে দেন তিনি কোন আবেদন করবেন না। যদি মুক্তি পেতে হয়ে তাহলে আইনি প্রক্রিয়াতেই তিনি মুক্ত হবেন। অন্য কোনভাবে নয়। শারীরিক অবস্থা প্রতিনিয়ত অবনতি হলেও তিনি সরকারের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। তিনি তার যে কোনো অবস্থার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্যারোলে মুক্তি নেয়ার বিষয়ে খালেদা জিয়া কোন সিদ্ধান্ত নেননি। এ বিষয়ে যেসব আলোচনা হচ্ছে বা গণমাধ্যমে ছাপানো হচ্ছে তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। আমরা দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি বেশ অসুস্থ, এখনও খেতে পারছেন না। পা বাকা করতে পারেন না। তার বাম হাত ঠিকমতো কাজ করছে না। এ অবস্থার মধ্যে তিনি আছেন। এক কথায় ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) যথেষ্ট অসুস্থ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে মুক্তি চাই। তবে তিনি এখন খুবই অসুস্থ। ওনার বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন। আমরা সেই দাবিই জানাচ্ছি।

অন্য একটি সূত্রে জানা যায়, বিএনপি প্রধানের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ার কারণে সরকারের একটি পক্ষ বিএসএমএমইউতে তার কাছে প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিয়ে প্রস্তাব দেয়। তাদেরকেও খালেদা জিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি প্যারোলে মুক্তি নিবেন না। এধরণের কোন আবেদনও করবেন না। হয় আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত হবেন, নাহলে যে কোন অবস্থার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। সূত্রটি আরও জানায়, খালেদা জিয়া প্যারোলে রাজি না হওয়ায় একই প্রস্তাব তার পরিবারের কাছে দেয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা খালেদা জিয়ার বক্তব্যকেই তাদের বক্তব্য বলে উল্লেখ করে।

এদিকে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন ৬জন এমপি। এদের কেউ কেউ এবারই প্রথম এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আবার কেউ কেউ এর আগে এমপি-মন্ত্রী ছিলেন। যদিও দলটি নির্বাচনের দিনই আগের রাতে ভোট ডাকাতি হয়েছে অভিযোগ করে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। পুনঃনির্বাচনের দাবিতে একাধিক কর্মসূচিও পালন করা হয় দলটির পক্ষ থেকে। ফলাফল প্রত্যাখ্যান করায় এখন পর্যন্ত শপথ নেয়নি বিএনপির প্রার্থীরা। তবে শপথ গ্রহণের সময়সীমা শেষ দিকে এসে গত কয়েকদিন ধরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, বিএনপির নির্বাচিত এমপিরা শপথ গ্রহণ করবেন। এমপিদের দু’একজন এলাকার মানুষের চাপের কথা উল্লেখ করে শপথের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবও ব্যক্ত করেছেন গণমাধ্যমে। এতে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই বিষয়েও খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত করার পর দলের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দলটির নেতারা খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের সময় শপথের বিষয়টি তোলা হয়। তখন খালেদা জিয়া এই বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। তিনি নেতাদের বলেন, এ সংসদে গিয়ে লাভটা কি হবে। সংসদের বাইরেও অনেক ভূমিকা পালন করা যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন নেতা জানান, শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ হলেও মানসিকভাবে এখনো তিনি অনেক দৃঢ় রয়েছেন।

খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতে তার অবস্থান জানার পর গত সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ৫ এমপিকে ডেকে বৈঠক করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে তাদেরকে সতর্ক করে দেয়া হয় এবং বেগম জিয়া ও বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে নির্বাচিত এমপি হারুনুর রশীদ ইনকিলাবকে বলেন, আমাদের ডেকেছিলেন মহাসচিব। কিছুদিন ধরে পত্রপত্রিকায় আমাদের শপথ গ্রহণ নিয়ে নানা খবর প্রকাশ ও প্রচার করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সবাইকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। যাতে আমাদের কেউ বিভ্রান্ত না হন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে না যান। তিনি বলেন, আমাদের কয়েকজন আগে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন আবার কয়েকজন এবারই প্রথম নির্বাচিত হয়েছেন। যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের ওপর এলাকার মানুষের চাপ আছে এটা সত্য। কেউ কেউ তাদের বক্তব্যে সেটা তুলে ধরেছেন। কিন্তু আমরা নির্বাচিত হয়েছি দলীয় প্রতীকে, দলের সমর্থনে। এখানে দলের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রধান। আমরা এখন পর্যন্ত একমত যে, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোন সিদ্ধান্ত নেব না।

শপথ নেয়ার পক্ষে নিজের ওপর চাপ আছে বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে প্রথমবার নির্বাচিত প্রার্থী জাহিদুর রহমান। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি ইনকিলাববে বলেন, আমার এলাকার ৯৯ভাগ মানুষ শপথ নেয়ার পক্ষে। আমরাও জানি সংসদে গিয়ে কিছু হবে না। কিন্তু প্রেসক্লাবের সামনে কথা বলা আর জাতীয় সংসদে কথা বলা দুটির মধ্যে পার্থক্য আছে। সংসদে কথা বললে ১৬ কোটি মানুষ শুনবে। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে এখন পর্যন্ত তিনি সেটি মেনে নেয়ার পক্ষে আছেন জানিয়ে বলেন, ইতোমধ্যে বিএনপির অনেক ক্ষতি হয়েছে। গতবার নির্বাচনে যায়নি। এবার যদি শপথ না নেয়, তাহলে নির্বাচনে গিয়ে ভুল করেছে? তবে তার এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে এ ধরণের কোন চাপ নেই। এমনকি দলের নেতাকর্মীরাও এ বিষয়ে তেমন উৎসাহ বোধ করেন না। কিন্তু জাহিদুল ইসলাম প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হওয়ায় সংসদে যেতে তার নিজেরই আগ্রহ বেশি। এলাকার মানুষের চাপের কথা বলে তিনি তার এই আগ্রহকে বৈধতা দিতে চান। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ গ্রহণ করলে এলাকায় তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলেও অনেকে জানান।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা তো এ সংসদকেই নির্বাচিত বলছি না, আমরা ওই কথিত নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। তাই শপথ গ্রহণের বিষয়টি আসে না। #

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ আপনার ‘নিজের ও দলের স্বার্থে’ ইলিয়াস আলীকে ফেরত দেন: শেখ হাসিনাকে দুদু


দীর্ঘ ৭ বছর ধরে নিখোঁজ বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলীর সন্ধ্যান চেয়ে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দ‌লের আহবায়ক শামসুজ্জাম‌ান দুদু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেছেন, ‘ইলিয়াস আলীকে পাঠিয়ে দেন আমরা কিছু মনে করব না। কারণ তার পরিবার তো তাকে পাবে। আমরা সহকর্মী পাবো। আর যদি না দেন, আপনাকে হুমকি দিচ্ছি না। পরিস্থিতি সবসময় এরকম থাকবে না। ইসলাম য‌দি পৃথিবীর শান্তি প্রিয় ধর্ম হয়ে থাকে, পৃথিবীর মুক্তির সনদ হয়ে থাকে, তাহলে অন্যায়কারী হিসেবে, নির্যাতনকারী হিসাবে, গুমকারী হিসেবে পতন আপনার হবেই। তখন ইলিয়াস আলী জীবিত না মৃত অবস্থায় আমাদের কাছে আসবে সেটা বড় কথা না। আমাদের কাছে বড় কথা হলো আপনার কৈফিয়ত দিতে হবে। সেজন্য বলি আমাদের বা ইলিয়াস আলীর সন্তানদের জন্য না, আপনার নিজের স্বার্থে আপনার দলের স্বার্থে আপনার সহকর্মীদের স্বার্থে ইলিয়াস আলীকে ফেরত দেন। তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।’

বুধবার (১৭ এ‌প্রিল) ঢাকা রি‌পোর্টার্স ইউ‌নি‌টির সাগর-রুনি মিলনায়ত‌নে এম. ই‌লিয়াস আলী মু‌ক্তি ছাত্র সংগ্রাম প‌রিষ‌দের উ‌দ্যোগে বেগম খা‌লেদা জিয়ার নিঃশর্ত মু‌ক্তি ও দলটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নি‌খোঁজ এম. ই‌লিয়াস আলীর সন্ধা‌নের দা‌বি‌তে এক প্র‌তিবাদ সভায় তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি সব সময় দাবিও করি, তাঁর সমালোচনাও করি। আজ কোনো দাবিও করব না আর তার কোনো সমালোচনা করবো না। শুধু একটি অনুরোধ করবো। আপনিতো ভয়ংকর ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারের সদস্য। আপনিতো হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারেন যে, পরিবারে একটি সদস্য না থাকলে বা মৃত্যু হলে পরিবারের অন্য সদস্যদের কত কষ্ট এবং বেদনা হয়।’

‘এটা আর কেউ না জানুক আপনি জানেন। ইলিয়াসকে ফিরে পাবার আশায় তার স্ত্রী-সন্তানরা আপনার কাছে ছুটে গিয়েছিল। তাদের এই যাওয়াটা দেশবাসীর অনেকেই ভালো মনে করেনি। কারণ দেশবাসীর সবাই জানে কোথা থেকে কি হয়েছিল। তারপরেও তারা আপনার কাছে গিয়েছিল এবং আপনি মমতাময়ী মায়ের মতো বলেছিলেন ইলিয়াস আলী শিগগিরই বাসায় ফিরে যাবে। কিন্তু ৭ বছর হয়ে গেল ইলিয়াস আলী ফিরে আসলো না। আপনি কথা দিয়ে কথা রাখলেন না।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। ছাত্ররা ছাত্রদের জায়গা থেকে কাজ করছে। যুবকরা যুবকদের জায়গা থেকে কাজ করছে। কৃষক দল, জাতীয়তাবাদী দল যে যার জায়গা থেকে কাজ করছে। কখন যে কোন জায়গা থেকে গণজাগরণ উঠবে তা বলা মুশকিল। গণজাগরণ উঠ‌লেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে এবং তারেক রহমান দেশে ফিরবেন।’

‌প্র‌তিবাদ সভায় আরও উপস্থিত ছি‌লেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনে আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবুল খায়ের ভূইয়া, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here