নুসরাত হত্যা: আগুন দিয়ে তারা মাদ্রাসার দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়

0
148

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে (১৮) যৌন নিপীড়নের পর কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়োর পর হত্যাকারীরা মাদ্রাসার পূর্ব অথবা দক্ষিণ দিকের দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্রে জানা গেছে, যখন সবাই রাফির শরীরের আগুন নেভাতে ব্যস্ত তখন হত্যাকারীরা বোরকা খুলে মাদ্রাসার পূর্ব অথবা দক্ষিণ দিকের দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়।

এছাড়া সূত্র আরও জানায়, গত ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে রাফিকে পুড়িয়ে মারতে বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার সহযোগীরা অংশ নিয়েছে- এটা এক রকম নিশ্চিত। এমনকি এ ঘটনাটি পুরোপুরি পরিকল্পিত। ঘটনার আগের দিন স্থানীয়রা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি এবং অধ্যক্ষের দুই সহযোগী নুরুদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীমকে মাদ্রাসার আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন।

অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার দুই সহযোগী ছিলেন নুরুদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম। তারা দুইজনই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ইতিমধ্যে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ভিডিওঃ ‘ব্রেকিং নিউজঃ পিবিআই’র তদন্তে বেরিয়ে এলো নুসরাত ঘটনার চাঞ্চল্যকর সব তথ্য! (ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]
এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত যে চারজন বোরকা পরা ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ এবং একজন নারী ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। তাকে প্রত্যাহারের পর তার বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।

গত বুধবার রাতে না ফেরার দেশে চলে যান ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি (১৮)। চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো গেল না। টানা ১০৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানেন এই ছাত্রী।

প্রসঙ্গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকাপরা নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা।

তারা জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে না নেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ তথ্য ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় পুলিশকেও জানিয়েছেন নুসরাত।

তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় এদিন বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ১০২ নম্বর কক্ষে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। তাকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়। এরপর না ফেরার দেশে চলে যান মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আগের রাতেই কেরোসিন ও ম্যাচ রেখেছিল হত্যাকারীরা!


মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে (১৮) যৌন নিপীড়নের পর কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আগের রাতেই কেরোসিন ও ম্যাচ রেখে এসেছিল হত্যাকারীরা।

অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার দুই সহযোগী নুরুদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম আগের রাতে কেরোসিন ও ম্যাচ রেখে এসেছিল।

তারা দুইজনই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ইতিমধ্যে নুরুদ্দিন এবং শামীমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র যুগান্তরকে জানায়, গত ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে রাফিকে পুড়িয়ে মারতে বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার সহযোগীরা অংশ নিয়েছে- এটা এক রকম নিশ্চিত। এমনকি এ ঘটনাটি পুরোপুরি পরিকল্পিত।

ধারণা করা হচ্ছে, তারা দু’জন পরীক্ষার আগের দিন রাতে ঘটনাস্থল ‘শেল্টার হাউস’র ছাদে কেরোসিন এবং ম্যাচ রেখে এসেছিল। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত যে চারজন বোরকা পরা ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ এবং একজন নারী ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভিডিওঃ ‘ব্রেকিং নিউজঃ পিবিআই’র তদন্তে বেরিয়ে এলো নুসরাত ঘটনার চাঞ্চল্যকর সব তথ্য! (ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

যখন সবাই রাফির শরীরের আগুন নেভাতে ব্যস্ত তখন তারা বোরকা খুলে মাদ্রাসার পূর্ব অথবা দক্ষিণ দিকের দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় শুরু থেকে সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। তাকে প্রত্যাহারের পর তার বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।

এদিকে মানবাধিকার কমিশনের সংশ্লিষ্টরা শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছে, আগে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হলে রাফিকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা হয়তো ঘটত না।

এদিকে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় শুক্রবার অধ্যক্ষের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নুরুদ্দিন ও কাউন্সিলর মাকসুদ আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী জেলা পিবিআইর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, এখন এই মামলায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলায় যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই এ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, অগ্নিদগ্ধ শিক্ষার্থী এবং তার পরিবারের অভিযোগ, ৬ আগস্ট সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা দিতে যায় ওই শিক্ষার্থী। দুর্বৃত্তরা কৌশলে তাকে ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর আগে ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন ওই ছাত্রীর মা।

মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ওইদিনই গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বুধবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাফি মারা যান।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ পিবিআইয়ের দাবি জেল থেকে নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ সিরাজ


অধ্যক্ষ সিরাজউদৌলা জেল থেকে নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দেন বলে দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর ধানমণ্ডির ৪ নম্বর রোডে অবস্থিত নিজ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করে পিবিআই।

সংবাদ সম্মেলনে নুসরাত হত্যার ঘটনা তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরেছেন মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইয়ের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার।

সাংবাদিকদের বনজ কুমার বলেন, ‘ঘটনার দিন আনুমানিক সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টায় ঘটনাস্থলে ছিলেন নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আবদুল কাদের এবং আরও কয়েকজন।’

তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম বলেননি পিবিআইপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘যৌন নির্যাতনের মামলা হওয়ায় আলেম সমাজকে হেয় করা হয়েছে- এই ধরনের যুক্তি দিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ জেলে থেকেই তার সাঙ্গপাঙ্গোদের নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দেন।’

বনজ কুমার আরও বলেন, ‘নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার আরও একটি কারণ আমরা জেনেছি। তা হলো- নুসরাতকে মামলার এজহারভুক্ত তৃতীয় আসামি শাহাদাত প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সে প্রস্তাব নুসরাত ফিরিয়ে দেয়। বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি শাহাদাত। মনে মনে প্রচণ্ড ক্ষোভ জন্মে তার। নুরসাতকে পুড়িয়ে মারার পেছনে সেই আক্রোশটাও কাজ করেছে। ’

সংবাদ সম্মেলনে নুসরাত হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত নয় আসামির মধ্যে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তথ্য দেন তিনি।

গ্রেফতারদের মধ্যে নূর উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে বলে জানান বনজ কুমার।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নুসরাতের শোকে ভাই রায়হান হাসপাতালে


কথায় আছে- অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর। আর অধিক শোকে পাথর হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন নুসরাত জাহান রাফির ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান। প্রিয় বোনের অসহ্য মৃত্যু যন্ত্রণা আর অতীত স্মৃতি কোনোভাবেই ভুলতে পারছে না রায়হান।

শুক্রবার রাতে ভাই রায়হানকে ফেনীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরিবার সূত্র জানায়, শুধু বুক চাপড়িয়ে চাপড়িয়ে কান্না করছে রায়হান। চোখের জল শুকিয়ে গেছে। খাওয়া-ধাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। রাফির জানাজার পূর্ব থেকে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলায়। জ্ঞান ফিরলে রাফিকে খুঁজছে। প্রিয় বোন রাফির অতীত স্মৃতিগুলো যেন ভুলতেই পারছে না রায়হান।

নুসরাতের মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি শোকাহত হয়েছে ছোট ভাই রায়হান। মাত্র দুই বছরের বড় নুসরাতের সঙ্গে মাদ্রাসায় যাওয়া-আসা করত। সে ওই মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র। অনেকটা সমবয়সী বলে ভাইবোনের মধ্যে খুনসুটি লেগেই থাকত।

প্রসঙ্গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা।

শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকাপরা নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা।

তারা জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা মামলা তুলে না নেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ তথ্য ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় পুলিশকেও জানিয়েছেন নুসরাত।

তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় এদিন বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ১০২ নম্বর কক্ষে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। তাকে লাইফসাপোর্ট দেয়া হয়। এর পর না ফেরার দেশে চলে যান মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ যেভাবে নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যাকারী সিরাজের উত্থান


ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ ও রাফি হত্যা মামলার প্রধান আসামি সিরাজ উদ্দৌলা একজন জামায়াত নেতা। তবে নিজের সুরক্ষা নিশ্চিতে ২০০১ সাল থেকেই ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে তিনি গড়ে তুলেছিলেন সুসম্পর্ক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি ম্যানেজিং কমিটিতে সোনাগাজী পৌর বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন এবং তার সহযোগী জামায়াত নেতা ও পৌর জামায়াতের সাবেক সভাপতি আবদুল মান্নানকে সদস্য করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সে বিপাকে পড়ে যায়।

পরে ২০১২ সালে আলাউদ্দিন ও আবদুল মান্নানকে বাদ দিয়ে ম্যানেজিং কমিটিতে সদস্য করেন আওয়ামী লীগের উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবদুল হালিম মামুনকে। জামায়াত নেতা আবদুল মান্নানকে ম্যানেজিং কমিটি থেকে সরিয়ে দেয়ার কারণে ব্যাপক ক্ষুব্ধ হন জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা।

তখন শেখ মামুনকে হাতে রেখে অন্যদের ঘায়েল করতে ব্যাপক তৎপর হয়ে ওঠেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা। ২০১৫ সালে মাদ্রাসার অর্থনৈতিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষের সঙ্গে মনোমালিন্য শুরু হয় মামুনের। পরে অধ্যক্ষ তার দলে টেনে নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে।

২০১৮ সালে রুহুল আমিনকে মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি ও তার সহযোগী পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমকে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যপদ থেকে সরিয়ে দিয়ে রুহুল আমিনকে সদস্য করেন।

আর এভাবেই কৌশলে প্রভাবশালীদের কব্জা করে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা শিক্ষার্থীদের বছরের পর বছর যৌন হয়রানিসহ নানা অপকর্ম করে পার পেয়ে গেছেন।

এই অধ্যক্ষ নিজে টিকে থাকতে এবং লুটপাট করতে সব সময় ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের ‘ম্যানেজ’ করে অপকর্ম চালিয়ে যেতেন।

উৎসঃ ‌poriborton

আরও পড়ুনঃ বোরখা পরে ছাদে ছিল শাহাদাতসহ চারজন, পাহারায় নূর উদ্দিনরা


সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার হওয়ার পর গত ৪ এপ্রিল ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেয় একটি মহল।

পরদিন আসামি নুর উদ্দিন, শাহদাতসহ ৫ জন কারাগারে সিরাজের সাথে দেখা করে। সেখান থেকেই মূলত নুসরাতের শরীরে আগুন দেয়ার নির্দেশনা আসে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, শাহাদাত হোসেন শামীম সোনাগাজী ইসলামীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রলীগের সভাপতি। নুসরাত হত্যার প্রধান আসামি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নিজস্ব বলয়ের অন্যতম সদস্য তিনি।

শনিবার দুপুরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ধানমণ্ডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

তিনি বলেন, আসামিদের ক্ষোভ ছিল অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে আলেম সমাজকে হেয় করেছে নুসরাত।

ডিআইজি আরো জানান, আসামিদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন শামীম দফায় দফায় নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু নুসরাত সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করায় তার ভেতরেও একটা চাপা ক্ষোভ ছিল।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার সময় ছাদে শাহাদাতসহ চারজন ছিল। তাদের মধ্যে একজন নারী। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই নারী ৩টা বোরখা ও কেরোসিন এনে শাহাদাতকে দেয়। সেই বোরখাগুলো পরে ঘটনার দিন আসামিরা সাইকোলজি ভবনের টয়লেটে লুকিয়েছিল।

শম্পা নামে আরেক নারী পরিকল্পনা অনুযায়ী পরীক্ষা শুরুর আগে নুসরাতের ক্লাসে গিয়ে তাকে বলে সাইকোলজি ভবনের ছাদে নিশাতকে (নুসরাতের বান্ধবী) মারধর করছে। তখন নুসরাত দৌড়ে সেখানে গেলে আসামিরা তার গায়ে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়।

এ সময় নুর উদ্দিনসহ ৫ জন নিচে পাহারায় ছিল। আলোচিত ওই ঘটনায় আমরা এখন পর্যন্ত ১৩ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে, এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এদের মধ্যে এজাহারভুক্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌poriborton

আরও পড়ুনঃ নুসরাতের কিলিং স্কোয়াড বানানো হয়েছিল কাদের নিয়ে


সবাইকে কাঁদিয়ে গত বুধবার রাত সাড়ে নয়টায় এ জগতের মায়া কাটিয়ে চলে যান মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। এরপর আরো দুইদিন পার হলেও এখনো জানা যায়নি ওই কিলিং স্কোয়াডে ঠিক কারা ছিল। তবে এ ব্যাপারে পিবিআই জানিয়েছে, বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অচিরেই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের ব্যাপারে জানা যাবে।

গত ঘটনার দিন ৬ এপ্রিল আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়েছিলেন নুসরাত জাহান রাফি। এ সময় শুধু প্রবেশপত্র ও কলমসহ একটি ফাইল নিয়ে সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয় তাকে। তার ভাইকে আটকে দেয়া হয় কেন্দ্রের গেটেই। এরপর কাগজপত্র নিয়ে নিজের নির্ধারিত আট নম্বর কক্ষে চলে যান নুসরাত।

এ সময় একজন এসে তাকে জানায়, মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাক্ষী ও নুসরাতের বান্ধবী নিশাতকে ছাদে মারধর করা হচ্ছে। এ কথা শুনে নিজের কাগজপত্র রেখে বান্ধবীকে বাঁচাতে তিনতলার ছাদে চলে যান নুসরাত। সেখানে গিয়ে বোরকা পরা চারজনকে দেখতে পান। এদের মধ্যে দুইজন নুসরাতকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। কিন্তু নুসরাত তাতে রাজি না হওয়ায় এক পর্যায়ে নুসরাতের দুই হাত দড়ি দিয়ে পেছনে বেঁধে ফেলে তারা। পরে কেরোসিন দিয়ে তার শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয় তারা। আগুন লাগানোর পর সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসে অপরাধীরা।

জানা গেছে, পরীক্ষা শুরুর আগে সকাল সাতটা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত ওই মাদরাসায় দাখিল বিভাগের ক্লাস চলে। সাড়ে নয়টার দিকে একদিকে আলীম পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। সে সময় দাখিলের শিক্ষার্থীরা মাদরাসা থেকে বের হয়ে যান। ধারণা করা হচ্ছে, এ সুযোগটিকে কাজে লাগিয়েই অপরাধীরা ওই সময়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করে এবং আগুন লাগিয়ে পালিয়েও যায়। বিশেষ করে বোরকা ও হাতমোজা থাকায় তাদেরকে আর আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়নি।

ওই কিলিং মিশনে অংশ নেয়া বোরকা, হাতমোজা ও চশমা পরা চারজনের কথা উল্লেখ করা আছে মামলার এজাহারে। এদের মধ্যে দুইজনকে নারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আর বাকি দুইজন নারীর ছদ্মবেশে পুরুষ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিন্তু তিনদিন পার হয়ে গেলেও নুসরাতকে হত্যার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তবে এক্ষেত্রে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

এদিকে নুসরাতের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর ধারণা ওই কিলিং স্কোয়াডে দুইজন নারী থাকলেও বাকি দুইজন পুরুষ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষ করে গতকাল গ্রেফতার হওয়া নুরউদ্দিনের শারীরিক গঠন ছোটখাটো হওয়ায় অনেকেই মনে করছেন সে ওই কিলিং স্কোয়াডে ছিল। কারণ ঘটনার পরপরই তাকে মাদরাসা থেকে বের হতে দেখা যায়। এমনকি সে ছাঁদে ম্যাচ ও কেরোসিন দেখার কথাও জানায়। তবে তাকে দাঁড়াতে বললে, সে জানিয়েছিল, এখন দাঁড়ানোর সময় নেই। এরপর থেকেই সে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। পরে গতকাল শুক্রবার ময়মনসিংহ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মাদরাসার শিক্ষক ও স্থানীয়রা ধারণা করছেন অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দোলাহর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত নুর উদ্দিন আগুনের ঘটনায় নেতৃত্ব দিতে পারেন। যৌন হয়রানির মামলায় সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেপ্তারের পর তার মুক্তির দাবিতে সংগ্রাম পরিষদও গড়ে তুলেছিলো নুর উদ্দিন। ২০১৭ সালে প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় নুসরাতকে চুনের পানি দিয়ে ঝলসে দিয়েছিলেন শ্রমিক থেকে অধ্যক্ষের কাছের বনে যাওয়া নুর উদ্দিন।

এছাড়া, মামলার আরেক আসামি শাহাদাত হোসেনও এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে দাবি করেছেন নুসরাতের পরিবার। সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ অনুমোদিত কোন কমিটি না থাকলেও শাহাদাত ছিলেন অধ্যক্ষ সিরাজ ঘোষিত ছাত্রলীগ সভাপতি। শুক্রবার এ দুজনকেই ময়মনসিংহ থেকে গ্রেফতার করা হয়।

স্থানীয়রা আরো বলছেন, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবেই এ হত্যাকা- ঘটানো হয়েছে। নইলে পরীক্ষাকেন্দ্রের মতো একটি স্পর্শকাতর স্থানে এ রকম অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার কথা ছিল না। একই সাথে সে সময় কর্তব্যরত পুলিশের গাফলতির কথাও তারা তুলে ধরছেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই ও জেলা পুলিশও বিষয়গুলো মাথায় রেখে ঘটনার মূল হোতাদের ধরতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দোলাহসহ আটজন ও আরো অজ্ঞাতনামা চারজনকে। এদের মধ্যে একজনকে শম্পা নামে ডাকা হয়েছিল বলে জানিয়ে গিয়েছিল নুসরাত। কিন্তু সেটি তার মূল নাম না কি ছদ্মনাম সে রহস্যের এখনো সমাধান করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে, নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট এগারোজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে মূল কিলিংয়ে অংশ নেয়াদের বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ নুসরাতের হত্যার ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন সেই সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন (ভিডিও সহ)


ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন সেই সময়ের সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে ‘নাটক’ ও পরবর্তীতে অগ্নিদগ্ধের ঘটনাকে ‘আত্মহত্যার’ রূপ দিতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালিয়েছিলেন।

এছাড়া দুটি ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদৌলাসহ তার সহযোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ধরনের আরও অসংখ্য অভিযোগে ১০ এপ্রিল বুধবার সোনাগাজী মডেল থানা থেকে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

ভিডিওঃ  ‘থানার ওসির কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

৬ এপ্রিল শনিবার সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে নুসরাত জাহান রাফি অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনাকে নানাভাবে ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন। ঘটনার পর থেকে প্রকাশ্যে না বললেও আকারে-ইঙ্গিতে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে রূপ দেয়ার চেষ্টা করেছেন বলে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

ওই সময়ে তার রহস্যজনক আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়ে পড়লেও ভয়ে কেউ মুখ খুলেননি। পরে ৯ এপ্রিল এ ঘটনা তদন্তে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইডি খন্দকার গোলাম ফারুক সোনাগাজীর ওই মাদ্রাসায় এলে ওসির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ডিআইজি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাব না দিলেও ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন উত্তেজিত হন। পরদিন দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

ভিডিওঃ  শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবোঃ নুসরাত (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এর আগে ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে অধ্যক্ষ শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠলে দুজনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করতে করতেই নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না। ভিডিওটি প্রকাশ হলে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ওসির সখ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ওসির সামনে অঝোরে কাঁদছিলেন নুসরাত। আর সেই কান্নার ভিডিও করছিলেন সোনাগাজী থানার ওসি। নুসরাত তার মুখ দু’হাতে ঢেকে রেখেছিলেন। তাতেও ওসির আপত্তি। বারবারই ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে এখনও তোমাকে কাঁদতে হবে।’

থানার ভেতরে নুসরাতকে জেরা করে ওসি বলেন, ‘কিসে পড়া? ক্লাস ছিল?’ ঘটনা জানাতে গিয়ে নুসরাত বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। সে সময় তাকে জিজ্ঞেস করা হয়- ‘কারে কারে জানাইসো বিষয়টা?’

নুসরাত যখন জানায়- তাকে অধ্যক্ষ ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। তখন প্রশ্ন করা হয়- ‘ডেকেছিল, নাকি তুমি ওখানে গেছিলা?’ পিয়নের মাধ্যমে ডেকেছিল বলে নুসরাত জানালে প্রশ্ন করা হয়- ‘পিয়নের মাধ্যমে ডেকেছিল? পিয়নের নাম কী?’ নুসরাত সে সময় পিয়নের নাম বলেন- ‘নূর আলম।’

পুরো ভিডিও জুড়েই নুসরাত কাঁদছিলেন। একসময় ভিডিওধারণকারী তাকে ধমকের সুরে বলে- ‘কাঁদলে আমি বুঝবো কী করে, তোমাকে বলতে হবে। এমন কিছু হয়নি যে তোমাকে কাঁদতে হবে।’

ভিডিও’র শেষে নুসরাতের কথা বলা শেষ হলে ধারণকারী বলেন- ‘এইটুকুই?’ আরও কিছু অশালীন উক্তির পাশাপাশি তাকে উদ্দেশ করে বলেন- ‘এটা কিছু না, কেউ লিখবেও না তোমার কথা। আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব। কিছু হয়নি। রাখো। তুমি বসো।’

নুসরাতের জেরা করার সময় ভিডিও করা কতটুকু আইনসম্মত এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সর্বমহলে। এ বিষয়ে আইনজীবীরা বলছেন, যৌন হয়রানির অভিযোগ করার সময় ওসির ভিডিও ধারণের ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করার সুযোগ রয়েছে নুসরাতের পরিবারের।

ওসির এ ধরনের আচরণের বিষয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, আইন না মেনে অভিযোগ করতে যাওয়া কারোর ভিডিও করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে।

এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় না ফেরার দেশে চলে যান ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি (১৮)। চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো গেল না। টানা ১০৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানেন এই ছাত্রী।

ভিডিওঃ  নুসরাতের আগে সিরাজউদ্দৌলার শ্লীলতাহানির শিকার হন আরও এক ছাত্রী বল্লেনঃ প্রভাসক আবুল কাশেম (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

প্রসঙ্গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকাপরা নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা।

তারা জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে না নেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ তথ্য ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় পুলিশকেও জানিয়েছেন নুসরাত। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় এদিন বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ১০২ নম্বর কক্ষে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। তাকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়। এরপর না ফেরার দেশে চলে যান মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here