বহু আগেই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সতর্ক করেন লংকান মুসলমানরা

0
200

উগ্রপন্থী ধর্মীয় নেতা জাহরান হাশেমের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে বহু বছর ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন শ্রীলংকার মুসলমানরা। তারা দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাকেও এ ব্যাপারে বারবার সতর্ক করেছিলেন। এবার সেই হাশেমেই শ্রীলংকার ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলায় মূল ভূমিকা রেখেছেন।-খবর এএফপি

মঙ্গলবার প্রকাশ করা এক ভিডিওতে হামলার দায় নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এতে হাশেমের সেই পরিচিত উগ্রমুখটি দেখা গেছে। হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৫৯ জন নিহত হয়েছেন।

ফুটেজে আইএস নেতা আবুবকর আল বাগদাদির আনুগত্য প্রকাশ করে আটজনকে শপথ নিতে দেখা গেছে। যাদের মধ্যে কেবল হাশেমের গোলাকার মুখটিই খোলা ছিল। বাকিরা মুখ ঢেকে আনুগত্যের শপথ নেন।

মাথা কালো কাপড়ে ঢাকা রাইফেল বহনকারী হাশেম অন্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। বাকিরাও তার মতো কালো পোশাক পরলেও তাদের মুখমণ্ডল ছিল সম্পূর্ণ ঢাকা।

শ্রীলংকার সরকার ইতিমধ্যে হামলার জন্য পরোক্ষভাবে হাশেমকে দায়ী করেছে। স্বল্প পরিচিত ইসলামপন্থী সংগঠন জাতীয় তাওহিদ জামায়াতকে হামলার জন্য প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করেছে।

অবশেষে হাশেমকে শনাক্ত করা হয়েছে। যদিও তার নাম ভুলভাবে হাশমি বলে উচ্চারণ করা হয়েছে। তবে হামলার আগে ভার্চুয়াল জগতে তিনি তেমন কোনো পরিচিত মুখ ছিলেন না। এমনকি শ্রীলংকার ভেতরেও তার পরিচিত ছিল সামান্য।

ইউটিউব ও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কয়েক হাজার ফলোয়ার রয়েছে। এতে তিনি উত্তেজনাপূর্ণ ওয়াজ-নসিহত আপ করেন।

একটি ওয়াজে দেখা গেছে, অমুসলিমদের বিরুদ্ধে ভর্ৎসনাপূর্ণ ওয়াজ করছেন তিনি। তার পেছনে একটি ফটোশপে তৈরি করা আগুনের পতাকা।

শ্রীলংকার মুসলিম কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিলমি আহামেদ বলেন, তিন বছর আগেই হাশেম সম্পর্কে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন তিনি।

হাশেম কোরআন ক্লাসের অজুহাতে তরুণদের উগ্রপন্থার দীক্ষা দিচ্ছিলেন জানিয়ে হিলমি বলেন, কিন্তু তিনি এতবড় হামলা চালাতে সক্ষম হবেন বলে কেউ ভাবেননি। মোহাম্মদ জাহরান ও মৌলভী হাশেম নামে পরিচিত ছিলেন ৪০ বছর বয়সী ওই ধর্মীয় নেতা।

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ব্রিটেন অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে শ্রীলংকায় সন্ত্রাসী হামলা


ইস্টার সানডের প্রার্থনার সময় শ্রীলংকার গির্জা ও হোটেলে সিরিজ বোমা হামলাকারীদের একজন ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করেছেন।

বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রীলংকার উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী রাবন বিজয়াবর্ধন বলেন, আমি মনে করি, আত্মঘাতী হামলাকারী ব্রিটেনে পড়াশোনা করেছেন। পরে স্নাতকোত্তর করেছেন অস্ট্রেলিয়ায়। এর পর ফিরে এসে শ্রীলংকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।

তিনি বলেন, হামলাকারীদের অনেকের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংযোগ রয়েছে। তারা দেশের বাইরে বসবাস ও পড়াশোনা করেছেন।

‘এ হামলাকারীরা সুশিক্ষিত, মধ্য ও উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে তারা এসেছেন। কাজেই অর্থনৈতিকভাবে তারা স্বাবলম্বী ছিলেন। তাদের পরিবারগুলোও অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল। এটিই হচ্ছে হামলার সবচেয়ে হতাশাজনক দিক, বললেন লংকান উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, হামলাকারীদের অনেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পড়াশোনা করেছেন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ১৮ সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। এ নিয়ে আটকের সংখ্যা ষাটের বেশি।

এ হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৫৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পাঁচশতাধিক। বিজয়াবর্ধন বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আসছে দিনগুলোতে আরও সন্দেহভাজন গ্রেফতার হবেন।

তিনি আরও বলেন, আগামী দুদিনের মধ্যে দেশের পরিস্থিতি নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শ্রীলংকায় এবার সিনেমা হলের কাছে বিস্ফোরণ


শ্রীলংকার পুলিশ বুধবার বলেছে, রাজধানীর কলম্বোতে একটি জনপ্রিয় স্যাভয় সিনেমা হলের কাছে পার্ক করা একটি মোটর স্কুটারে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

রাতে পার্ক করা একটি স্কুটারে বিস্ফোরকের সন্ধান পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষ সেখানে ছুটে যান। দেশটির উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী রাবন বিজয়াবর্ধন এই নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, ইস্টার সানডে বিস্ফোরণের ঘটনার পর কয়েকটি যানবাহনকে বিস্ফোরকসহ পার্ক করা অবস্থায় পাওয়া যায়।

এদিকে গির্জা ও বিলাসবহুল হোটেলে একযোগে বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার দেশটির পুলিশ কর্মকর্তারা এমন তথ্য দিয়েছেন।

হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর পরবর্তী সময় এসব লোকজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচশ লোক আহত হয়েছেন।

সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএস হামলার দায় স্বীকার করেছে। এ ছাড়া অল্প পরিচিত স্থানীয় ইসলামপন্থী গোষ্ঠী জাতীয় তাওহিদ জামায়াতের ঘাড়েও দায় চাপাচ্ছে দেশটির সরকার।

শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে বলেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে- হামলায় বিদেশি সংগঠনের যোগসাজশ আছে। আমাদের কাছে এ ক্ষেত্রে প্রমাণও রয়েছে।

রাতে অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত সন্দেহে অন্তত ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। রোববারের বিস্ফোরণে এ নিয়ে ৬০ জনকে আটক করা হয়।

এক দশক আগে তামিল বিদ্রোহের পর এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌হামলার আগে বাগদাদির আনুগত্য প্রকাশ করে শপথ নেন ৮ জঙ্গি


শ্রীলংকায় ইস্টার সানডে প্রার্থনার সময় গির্জা ও হোটেলে হামলা করার আগে আত্মঘাতী হামলাকারীরা আইএস নেতা আবুবকর আল বাগদাদির প্রতি আনুগত্যের শপথ পড়েন।

একটি ভিডিওতে আট হামলাকারী চক্রাকারে দাঁড়িয়ে হাতে হাত রেখে পলাতক আইএস খলিফার আনুগত্য প্রকাশ করেন। গত পাঁচ বছর ধরে বাগদাদিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

পেছনে আইএসের কালো পতাকা রেখে একসঙ্গে আকাশের দিকে হাত ওঠানোর আগে নিজের ঐক্যের কথা প্রকাশ করেন।

রোববারের ওই বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। ২০১৪ সালে খেলাফত ঘোষণার আগে বিদেশের মাটিতে এটিই তাদের সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী হামলা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

আইএসের প্রচারমাধ্যমে আমাকে দেয়া এক বিবৃতিতে তারা বলছেন, শ্রীলংকায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট ও খ্রিস্টানদের লক্ষ্যবস্তু করে যারা হামলা চালিয়েছেন, তারা সবাই আইএস সদস্য।

হামলাকারীদের মধ্যে তিনজনের নাম হচ্ছে, আবু উবাইদাহ, আবু বাররা ও আবু মুখতার। শেংরি লা, সিনামোন গ্রান্ড ও কিংসবুরি হাসপাতালে হামলাকারী ছিলেন তারা।

অন্য তিনজন হচ্ছেন- আবু হামজা, আবু খালিদ ও আবু মুহাম্মদ। তারা কলম্বো, নিগম্বো ও ব্যাটিকালোয়ায় সন্ত্রাসী হামলা চালায়। আর সপ্তমজন কলম্বোতে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করেন।

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শ্রীলংকায় হামলাকারী ৮ আত্মঘাতী জঙ্গির ছবি প্রকাশ


শ্রীলংকায় জঙ্গি হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস। পরে হামলাকারী দলের মূল হোতাসহ আট জঙ্গি সদস্যের ছবিও প্রকাশ করে সংগঠনটি। এএমএকিউ নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে এ ছবি প্রকাশ করে তারা।

শ্রীলংকায় জঙ্গি হামলার নায়কদের নাম প্রকাশ করেই থেমে থাকেনি তারা। ওই আট সদস্যের ছবিও প্রকাশ করেছে। তাদের কমান্ডো ভাই বলে উল্লেখ করেছে আইএস।

শ্রীলংকায় হামলাকারী আইএস জঙ্গিরা হলো- জাহরান হাশিম, আবু হামজা, আবু ওবায়দা, আবু আল মুক্তার, আবু খলিল, আবু আল বাররা, আবু মুহাম্মদ ও আবু আবদুল্লাহ। তারা সবাই আইএসের পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে ফ্রেমবন্দি হয়েছেন।

পরে হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে উগ্রপন্থী ধর্মীয় নেতা জাহরান হাশিমের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।
আইএস বলছে, তিনিই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। তবে তার পাশে থাকা অন্য ছয়জনের মুখ কাপড়ে ঢেকে দেয়া রয়েছে।

তাদের মধ্যে আবু ওবায়দা, আবু আল বাররা ও আবু আল মুক্তার বিলাসবহুল হোটেল- সেংগ্রি লা, সিনামোন গ্র্যান্ড ও কিংসবেরি হোটেলে হামলা চালায়।

এ ছাড়া আইএস জঙ্গি- আবু হামজা, আবু খলিল ও আবু মোহাম্মদ কলম্বো, নেগম্বো ও বেটিকালোয়া শহরে গির্জায় হামলা চালায়।

অপর সহযোগী আবু আব্দুল্লাহ কলম্বোর শহরতলিতে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করে।

প্রসঙ্গত গত রোববার ইস্টার সানডেতে শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোসহ দেশের বিভিন্ন গির্জা ও পাঁচতারকা হোটেলে সিরিজ বোমার হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৫৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচ শতাধিক।

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শ্রীলংকায় প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীর দ্বন্দ্বের সুযোগে হামলা!


শ্রীলংকায় সিরিজ বোমা হামলায় দেশটির সরকারের বিভিন্ন অংশের মধ্যকার সমন্বয়হীনতার বিষয়টি জোরালোভাবে প্রকাশ্যে এসেছে।

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার আগে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

মন্ত্রিপরিষদের এক সদস্য বলেছেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বসতর্কতা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী হামলার ব্যাপারে অন্ধকারে ছিলেন।

সরকারের আরেক মুখপাত্রের বক্তব্যে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অগ্রাহ্য করার অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা হামলার নেপথ্য কারণ হিসেবে সরকারের দুই অংশের এই বিভাজনকে দায়ী করছেন। তারা সতর্ক করেছেন, এই বাস্তবতা বিস্তৃত হলে দেশটির ভবিষ্যৎ শঙ্কার মধ্যে পড়বে।

শ্রীলংকার কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম বলছে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এপ্রিলের শুরুতে আগাম সতর্কতা দিয়েছিলেন।

বলেছিলেন, শ্রীলংকায় হামলা হতে পারে। ১১ এপ্রিল শ্রীলংকার পুলিশপ্রধান পুজুথ জয়াসুনদারা দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত গোয়েন্দা সতর্কতা পাঠান।
এতে বলা হয়, ‘একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, ন্যাশনাল তাওহিদ জামায়াত (এনটিজে) প্রখ্যাত চার্চ এবং কলম্বোয় ভারতীয় হাইকমিশন লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।

গত রোববার খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে উদযাপনকালে শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশের তিনটি গির্জা এবং তিনটি হোটেলসহ আটটি স্থানে বিস্ফোরক দিয়ে হামলা চালানো হয়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৫৯ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহত হয়েছেন ৫০০ জনেরও বেশি। ওই হামলার একদিন পর আবারও বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানী কলম্বো। বোমার আঘাতে আহত হন এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা। ধারণা করা হচ্ছে, এটি রিমোট কন্ট্রোল নিয়ন্ত্রিত বোমা ছিল।

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌হামলার তথ্য গোপন রেখেছিল শ্রীলংকার গোয়েন্দা সংস্থা


ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার সতর্কতামূলক তথ্য গোপন রেখেছিল শ্রীলংকার গোয়েন্দা সংস্থা। এ কারণে আগে থেকেই কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা।

বুধবার চ্যানেল নিউজ এশিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এক ব্রিফিংয়ে সিরিসেনা বলেন, প্রেসিডেন্ট হওয়া সত্ত্বেও তার কাছে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে দেয়া নিরাপত্তাসংক্রান্ত সতর্কতামূলক তথ্য গোপন রাখা হয়। এ জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার সুযোগ ছিল না।

ভয়াবহ এ হামলার জন্য বিক্রমাসিংহের সরকার দায়ী বলে মন্তব্য করেন সিরিসেনা।

প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে এই ভয়াবহতা এড়ানো যেত বলে মনে করেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইস্টার সানডের দিন সিরিজ বোমা হামলার দুই ঘণ্টা আগে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাকে সতর্ক করেছিল ভারত। এ ছাড়া ৪ এপ্রিল ও ২০ এপ্রিল শ্রীলংকার গোয়েন্দা সংস্থাকে সতর্ক করেছে ভারতের গোয়েন্দা বাহিনী।

গত রোববার শ্রীলংকায় তিনটি গির্জা, তিনটি হোটেলসহ আরও কয়েকটি জায়গায় সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়। হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচ শতাধিক মানুষ।

হামলায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ৪০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে শ্রীলংকায় হামলার দুদিন পর দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। সিরিজ বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ আটজনের ছবিও প্রকাশ করেছে জঙ্গিগোষ্ঠীটি।

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শ্রীলংকায় মুসলিমরা আতঙ্কে, কী হচ্ছে জানতে পারছে না জনগণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ


শ্রীলংকায় গির্জা ও হোটেলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে ন্যাশনাল তাওহিদ জামাত (এনটিজে) নামে একটি ইসলামপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠীর নাম আসার পর দেশটির মুসলিমরা নতুন এক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। অনেকেই তাদের ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। দিন কাটাচ্ছেন আতঙ্কে।

২৬ বছর আগে শ্রীলংকার তামিল টাইগাররা মুসলিমদের বিরুদ্ধে এ ধরনের আত্মঘাতী হামলা পরিচালনা করেছিল। ২০০৯ সালের সেই গৃহযুদ্ধ অবসানের এক দশক পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী এ হামলা ঘটল। গত বছরের মার্চেও কয়েকটি মসিজদ ও মুসলিমদের কয়েকটি দোকানে সিংহলি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের হামলায় একজন নিহত হয়েছিলেন।

রাজধানী কলম্বোতে মুসলিম সংগঠন ন্যাশনাল শূরা কাউন্সিলের কর্মকর্তা আজমান আবদুল্লাহ বিবিসিকে বলেন, আতঙ্কের চেয়ে মুসলিমরা ‘ক্ষুব্ধ, ব্যথিত’। আতঙ্ক যে একবারেই নেই তা বলব না। নানা ধরনের গুজবও শোনা যাচ্ছে। তবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের খ্রিস্টান ভাইয়েরা বুঝতে পারছেন যে শ্রীলংকার মুসলিমরা কোনোভাবেই তাদের ক্ষতি চায় না।’ তিনি আরও জানান, ‘শীর্ষ মুসলিম নেতারা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। হামলার তীব্র নিন্দা করে মসজিদে মসজিদে ব্যানার ঝুলানো হয়েছে। আবদুল্লাহ বলেন, ‘মুসলমান হিসেবে নয়, দেশের নাগরিক হিসেবে আমি উদ্বিগ্ন। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।’

গত পাঁচ বছর ধরে ব্যবসার সূত্রে কলম্বোয় থাকেন বাংলাদেশের নাগরিক খালেকুজ্জামান সোহেল। সোমবার দুপুরে শহরের ওয়াল্লাওয়া এলাকায় এক মসজিদে জোহরের নামাজ পড়তে গিয়ে তিনি দেখতে পান ২০-২৫ জন সশস্ত্র পুলিশ মসজিদটি পাহারা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ভেতরে মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে মনে হল তারা যতটা না আতঙ্কগ্রস্ত তার চেয়ে বেশি লজ্জিত এবং দুঃখিত। তারা যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে তাদের সম্প্রদায়ের কেউ দেশের ভেতরে এ ধরনের হামলা করতে পারে।’

শ্রীলংকার জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ বৌদ্ধ এবং প্রায় ১০ শতাংশ মুসলিম। দেশটির বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্কের ইতিহাস এমনিতেই খুব ভালো না। গত বছর ক্যান্ডি এবং আশপাশের বেশ কিছু শহরে মসজিদ এবং মুসলিম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কট্টর বৌদ্ধদের হামলার পর সাময়িক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল। রোববারের হামলার সঙ্গে মুসলিম একটি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহের কথা প্রকাশ হওয়ার পর স্বভাবতই অনেক মুসলিম উৎকণ্ঠায় পড়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই উদ্বেগ প্রকাশিত হচ্ছে। সেখানে শত শত মুসলিম লিখছেন, সন্ত্রাসের সঙ্গে ইসলামের শিক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর গলের সাংবাদিক ফারহান নিজামউদ্দিন বলেন, মুসলিমরা ক্ষুব্ধ এবং তারা হামলাকারীদের ‘সর্বোচ্চ সাজা’র দাবি করছেন। গলের একজন মুসলিম লিখেছেন, ‘আমার জন্ম মুসলিম পরিবারে, কিন্তু পড়াশোনা করেছি খ্রিস্টান মিশনারি স্কুলে। ফলে ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মূর্তি আমার হৃদয়ের খুব কাছের।’ শ্রীলংকার নাগরিকদের মধ্যে ঐক্য তুলে ধরে আরেকজন লিখেছেন, ‘শ্রীলংকায় দুটো গোষ্ঠী- একটি শ্রীলংকান এবং আরেকটি সন্ত্রাসী।’

সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য মুসলিমদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। দেশটির টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হারিন ফার্নান্দো বলেছেন, ‘হামলাকারীরা দেশের সিংহভাগ মুসলিমের প্রতিনিধিত্ব করে না। আমি তাদের মুসলিমই বলব না। এদেশের সাধারণ মুসলিমরা অত্যন্ত সজ্জন এবং অন্য সব সম্প্রদায়ের সঙ্গে তারা সম্প্রীতির সম্পর্ক বজায় রেখে বসবাস করেন।’

এদিকে শ্রীলংকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেয়ায় দেশে কি হচ্ছে না হচ্ছে কিছুই জানতে পারছে না দেশটির জনগণ। রোববার কয়েকটি চার্চ ও হোটেলে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার পর দাঙ্গা ও সহিংসতা রোধে কয়েকটি মাধ্যম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। সহিংসতার আগের অভিজ্ঞতা থেকেই এমন পদক্ষেপ নেয়া হয় বলে জানানো হয়েছে। তবে এ পদক্ষেপে বেশ ভোগান্তিতে পড়েছে জনগণ। গুরুত্বপূর্ণ খবর ও তথ্যের প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছে বলেও মনে করছেন তথ্য অধিকার কর্মীরা। খবর এএফপির।

বর্তমানে সারাবিশ্বেই তথ্য ও খবরাখবর জানার বড় উপায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। এগুলোকে ব্যবহার করে ভুয়া খবর, ঘৃণা-বিদ্বেষ, ভয়-ভীতি ও সহিংসতা ছড়ানোর অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করেই সম্প্রতি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যা, গত বছর শ্রীলংকার দাঙ্গা ও সহিংসতা উসকে দেয়া হয়। সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সামাজিক মাধ্যমগুলোর ভূমিকা নিয়ে দেশে দেশে হতাশা ও অবিশ্বাস বেড়েই চলেছে। সেই অবিশ্বাস থেকেই রোববারের হামলার পর দ্বিতীয়বারের মতো বেশ কয়েকটি মাধ্যম বন্ধ করে দেয় শ্রীলংকা প্রশাসন।

তথ্য অধিকার সংগঠনগুলো নেটব্লকের তথ্য মতে, ইস্টার সানডের হামলার পর ফেসবুক, ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম, ø্যাপচ্যাট, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মাধ্যমগুলোর বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের।

কয়েক বছর আগেও এ মাধ্যমগুলোকে তথ্য প্রাপ্তির গুরুত্বপূর্ণ উৎস মনে করা হতো। কিন্তু ভুয়া খবর, ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে কুখ্যাতি কুড়িয়েছে এ মাধ্যমগুলো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারও এগুলোর ঝুঁকি ও হুমকি সম্পর্কে ওয়াহিবহাল। এ কারণেই সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে গুজব ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে।

হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করেছে আইএস

জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) এক বিবৃতিতে শ্রীলংকায় হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র আমাক নিউজ এজেন্সিতে আটজনের ছবি দিয়ে জানিয়েছে, আমাদের যোদ্ধারা এ হামলা চালিয়েছে এএফপি

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শ্রীলংকায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জন


শ্রীলংকায় ইস্টার সানডের প্রার্থনার সময় গির্জা ও বিলাসবহুল হোটেলে একযোগে বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার দেশটির পুলিশ কর্মকর্তারা এমন তথ্য দিয়েছেন।

হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর পরবর্তী সময় এসব লোকজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচশ লোক আহত হয়েছেন।

সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএস হামলার দায় স্বীকার করেছে। এ ছাড়া অল্প পরিচিত স্থানীয় ইসলামপন্থী গোষ্ঠী জাতীয় তাওহিদ জামায়াতের ঘাড়েও দায় চাপাচ্ছে দেশটির সরকার।

শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে বলেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে- হামলায় বিদেশি সংগঠনের যোগসাজশ আছে। আমাদের কাছে এ ক্ষেত্রে প্রমাণও রয়েছে।

রাতে অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত সন্দেহে অন্তত ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। রোববারের বিস্ফোরণে এ নিয়ে ৬০ জনকে আটক করা হয়।

এক দশক আগে তামিল বিদ্রোহের পর এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শ্রীলংকার ঘটনায় বিশ্লেষকরা রাজনীতিতে ধর্মের কার্ড ব্যবহার বন্ধের আহ্বান


রাজনীতিতে ধর্মের কার্ড ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ধর্ম নিয়ে রাজনীতির খেলা বন্ধ না করলে পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। ঘৃণাকে ভালোবাসা দিয়ে জয় করার যে উদাহরণ নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী দেখিয়েছেন তা থেকে বিশ্বনেতাদের শিক্ষা নেয়ার তাগিদও দেন তারা।

রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করেন, শ্রীলংকায় হামলার পেছনে ভূরাজনৈতিক কারণ, অভ্যন্তরীণ সংকটও থাকতে পারে। ধরন দেখে বোঝা যাচ্ছে, সময় নিয়ে পরিকল্পনা করে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর ছক কষা হয়। এ থেকে অনুমান করা যায়, কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী এ হামলা চালাতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু গির্জা ও পাঁচ তারকা হোটেলে হামলা ধর্মীয় জঙ্গিবাদের দিকেই ইঙ্গিত করছে।

অনুমান করা যায়, বৈশ্বিক সন্ত্রাসের থাবায় এ দ্বীপরাষ্ট্রটি। তারা বলেন, শ্রীলংকায় ভয়াবহ এ হামলার প্রভাব শুধু ওই দেশটিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি আরও নানাদিকে প্রভাব ফেলতে পারে। আশপাশের দেশ এমনকি বিশ্বেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

জঙ্গি নির্মূল হয়ে গেছে এমনটা ভেবে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আত্মতৃপ্তিতে না ভোগার আহ্বান জানান তারা। বিশ্লেষকরা বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদে আছে। এ দেশ থেকে এ ধরনের শক্তি দূর হয়ে গেছে এমন আত্মতুষ্টিতে যেন আমরা না ভুগি। কারণ অতীতে বাংলাদেশে উগ্র ধর্মান্ধগোষ্ঠী ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতায় জঙ্গি তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আমাদের দেশের জনগণের মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী একটা মনোভাব আছে। এ মনোভাবকে আরও কাজে লাগাতে হবে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এমন সময় ঘটনাটি ঘটেছে যার প্রভাব এই উপমহাদেশে কমবেশি পড়তে পারে। হামলার পেছনে ভূরাজনৈতিক কারণ, অভ্যন্তরীণ সংকটও থাকতে পারে। তবে হামলার ব্যাপারে এত তাড়াতাড়ি উপসংহার টানা ঠিক হবে না। যদিও দেখছি, অনেকে উপসংহার টানার চেষ্টা করছে। আমার মনে হয়, এর সময় এখনও আসেনি। বেশ কতগুলো কারণে এ হামলা তাও ঠিক নয়।

তিনি বলেন, ভয়াবহ এ হামলায় বড় ধরনের গোয়েন্দা ব্যর্থতা ফুটে উঠেছে। তিনটি শহরে একই সঙ্গে বোমাগুলো বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এগুলো বড় মাত্রার বিস্ফোরণ। এর অর্থ হল হামলাগুলো যথেষ্ট পরিকল্পিত। এটি এক-দুই দিনের কাজ নয়। অন্তত বেশ কয়েক মাসের। গোয়েন্দা তথ্য থাকার পরও দেশটিতে কোনো তৎপরতা না নেয়াটা অস্বাভাবিক। ব্যবস্থা নিলে ঘটনা ঘটত না সেটা হয়তো বলা যাবে না। তবে এত ব্যাপক আকারে ঘটত না। গোয়েন্দা ব্যর্থতার কারণ নিয়ে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন।

এ বিশ্লেষকের মতে, হামলার ধরন থেকে কয়েকটি বিষয় অনুমান করা যায়। প্রথমত, এমন দিনে হামলা চালানো হয়েছে যখন এ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছিল। যে কেউ ধারণা করবে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীকে টার্গেট করে এ আক্রমণ করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, হামলার পেছনে অর্থনৈতিক কারণও থাকতে পারে। বড় বড় তিনটি পাঁচতারা হোটেলে হামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে কিংসবারি ও সিনামন হোটেল শ্রীলংকার মালিকানায় আছে। আক্রান্ত অপর হোটেল সাংগ্রিলা মালয়েশিয়ার মালিকানাধীন। এতেও বোঝা যাচ্ছে, এক ধরনের অর্থনৈতিক স্বার্থ ছিল। যে পর্যটন খাত নিয়ে শ্রীলংকার অর্থনীতি চালিত হয় সে জায়গায় আঘাত করা হয়েছে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও শ্রীলংকায় বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার শমসের মবিন চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, শ্রীলংকায় গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এ রকম বড় হামলার ঘটনা প্রথম ঘটল। এই বর্বরতম ঘটনা কারা ঘটিয়েছে, এ নিয়ে শ্রীলংকান সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি। তারা সন্দেহ করছে এবং কিছুটা ইঙ্গিত করছে, একটি জঙ্গিগোষ্ঠী ওই হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, যদি কোনো আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী এটি করে থাকে, এটি নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। এর প্রভাব শুধু শ্রীলংকার ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি আরও নানাদিকে প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, কারা কোন উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ধর্মান্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর যোগাযোগ থাকতে পারে নতুবা স্থানীয় জঙ্গিরা আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীকে অনুসরণ করেছে।

শমসের মবিন বলেন, এ ধরনের ঘটনা ভারত, পাকিস্তান এমনকি বাংলাদেশেও ঘটেছে। কিন্তু শ্রীলংকার মতো দেশে এমন ঘটনা বিরল। শ্রীলংকায় হামলার পর আমাদেরও সতর্ক থাকতে হবে। জঙ্গি দমনে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। সরকারও এ ব্যাপারে বেশ আন্তরিক। কিন্তু এতে খুশি হলে চলবে না। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

কারণ জঙ্গি তৎপরতাকে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় কিন্তু পুরোপুরি নির্মূল করা খুবই কঠিন। তিনি বলেন, এ হামলা অবশ্যই মর্মান্তিক এবং নিন্দনীয়। ঘটনার পর শ্রীলংকান সরকার জরুরি অবস্থার ঘোষণা দিয়েছে। সান্ধ্য আইনও জারি করেছে। নিশ্চয় কোনো একটি বিষয় মাথায় রেখেই এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ হামলার কোনো পাল্টা আক্রমণ যাতে না হয় কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর, সরকার এখন সেদিকেই নজর দিচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মহসিনের মতে, ধর্মের অপব্যবহার করে রাজনীতির খেলা বন্ধ না করলে পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে। রাজনীতিতে ধর্মের কার্ড ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

১৯৮৩ সাল থেকে ২৬ বছর গৃহযুদ্ধে জর্জরিত ছিল শ্রীলংকা। ২০০৯ সালের মে মাসে তামিল টাইগারদের পরাজিত করার মধ্য দিয়ে গৃহযুদ্ধ শেষ হয়। গত ১০ বছরে শান্তির পথে হাঁটতে শুরু করে দেশটি। কিন্তু রোববারের হামলা আবারও সংকটে ফেলেছে শ্রীলংকাকে। তিনি বলেন, ঘৃণাকে ভালোবাসা দিয়ে জয় করার যে উদাহরণ নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী দেখিয়েছেন তা থেকে বিশ্বনেতাদের শিক্ষা নেয়ার তাগিদও দেন এ অধ্যাপক।

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌হামলার দুই ঘণ্টা আগে শ্রীলংকাকে সতর্ক ক‌রে ভারত!


শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডের দিনে ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই শ্রীলঙ্কাকে সতর্ক করেছিল ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী।

গতকাল (২৩ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শ্রীলংকার গোয়েন্দা বাহিনীর বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, প্রথম আত্মঘাতী হামলার দুই ঘণ্টা আগেই তাদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারত সরকার সূত্র জানিয়েছে, গত ৪ এবং ২০ এপ্রিল একই ধরনের বার্তা শ্রীলংকা সরকারকে দেয়া হয়েছিল ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর পক্ষ থেকে। কিন্তু তাতে সাড়া প্রদান করেনি শ্রীলংকার সরকার।

রোববার ইস্টার সানডের দিনে গির্জা ও হোটেলে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২১ এ দাঁড়িয়েছে।

রোববার সকাল সাড়ে আটটার দিকে শ্রীলংকার তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে একযোগে বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় ৩২১ জন নিহতসহ আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক।

নিহতদের মধ্যে ৩১ বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। এই প্রাণঘাতী হামলায় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই শ্রীলংকান। দেশটির বহু সংখ্যালঘু খ্রিস্টান এতে হতাহত হয়েছেন।

হতাহতদের মধ্যে ৮ ভারতীয়, ৩ ডেনমার্কের নাগরিক, ২ স্প্যানিশ, ২ অস্ট্রেলিয়ান , ২ চীনা নাগরিক রয়েছেন।

এছাড়াও অন্তত চার আমেরিকান নিহত ও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের দুই নাগরিকও এ হামলায় নিহত হয়েছেন।

এছাড়াও নিহতের তালিকায় নেদারল্যান্ডস, জাপান, পর্তুগালের নাগরিক রয়েছেন।

ওই হামলা ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ৮ বছর বয়সী নাতি জায়ান চৌধুরী।

আহত হয়ে শেখ সেলিমের জামাতা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স কলম্বোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ হামলা ঘটনার তিন পর হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেটস (আইএস)। মঙ্গলবার আইএসের মুখপাত্র আমাক থেকে হামলার দায় স্বীকার করা হয়। তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি আইএস।

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌‘ক্রাইস্টচার্চের ঘটনার সঙ্গে শ্রীলংকায় হামলার সম্পৃক্ততা নেই’


শ্রীলংকার হামলার সঙ্গে গত মাসে ঘটে যাওয়া ক্রাইস্টচার্চে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডানের কার্যালয়। মঙ্গলবার গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় নিউজিল্যান্ড।

এদিকে শ্রীংলকায় রোববার আত্মঘাতী হামলায় ৩২১ জন নিহতের ঘটনায় দেশটির পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মুসলিমদের ওপর হামলার ঘটনায় এ হামলা চালানো হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়।
গত ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ৫০ জন মুসলমান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হামলাকারীরর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।

আরডানের মুখপাত্র বলেন, সরকার শ্রীলংকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি পর্যালোচনা করেছে। ক্রাইস্টচার্চে হামলা ও ইস্টার সানডেতে হামলার ঘটনার বিষয়টি দেখেছে।

আমরা বুঝতে পেরেছি শ্রীলংকা প্রাথমিকভাবে তদন্ত করেছে। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ড এখনো এমন কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেখেনি যার ওপর ভিত্তি করে এর মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

এখন পর্যন্ত হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৪০ জনকে আটক করেছে। নাশকতার তদন্তে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া হলো শ্রীলঙ্কার পুলিশ এবং সেনাকে। এর ফলে আদালতের নির্দেশ ছাড়াই কোনও অভিযুক্তকে গ্রেফতার বা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে তারা।

মঙ্গলবার থেকে হামলার ঘটনায় নিহতদের গণকবর দেওয়া শুরু হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। এদিন সকাল সাড়ে ৮টার সময় সারা দেশজুড়ে নীরবতা পালনের পরপরই শুরু হয় গণকবর।

রোববার ইস্টার সানডেতে শ্রীলংকার তিনটি গির্জা, তিনটি হোটেলসহ অন্তত আটটি স্থানে পরপর বোমা হামলা হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৬ জন বিদেশি নাগরিক। আহত পাঁচ শতাধিক।

ওই দিন ছিল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব ইস্টার সানডে। হামলার সময় তিন গির্জায় ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলছিল।

উৎসঃ ‌এএফপি।

আরও পড়ুনঃ ‌সিরিজ বিস্ফোরণে আন্তর্জাতিক যোগসূত্র রয়েছে: শ্রীলংকা


শ্রীলংকায় ভয়াবহ সিরিজ বিস্ফোরণের ঘটনায় আন্তর্জাতিক যোগসূত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার মুখপাত্র রজিথা সেনারত্ন।

কলম্বোয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি না যে, এমন ভয়াবহ হামলা শুধু দেশের ভেতরে সীমাবদ্ধ একটি গোষ্ঠী চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ছাড়া এসব হামলা সফল হতে পারতো না। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

মর্মান্তিক এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে রজিথা সেনারত্ন বলেন, এ ঘটনার দায় আমাদের। আমরা খুবই মর্মাহত। ক্ষতিগ্রস্ত সবার কাছে ক্ষমা লাভে আমরা আমাদের পক্ষে সম্ভব সবকিছুই করছি।

হামলায় হতাহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন শ্রীলংকার মন্ত্রীসভার এ মুখপাত্র।

তিনি জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। নিহতদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য এক লাখ রুপি করে দেওয়া হবে। আহতদেরও ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। তাছাড়া বোমার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ গির্জাগুলো মেরামতের জন্যও সরকারিভাবে তহবিল দেওয়া হবে।

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় গির্জা উড়িয়ে দেয়ার হুমকি


শ্রীলংকায় ভয়াবহ বোমা হামলার রেশ না কাটতেই যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সানদিয়াগো শহরের একটি গির্জা উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিলেন বন্দুকধারী এক নারী।

তবে পুলিশ ভয়ঙ্কর কিছু ঘটার আগেই ওই নারীকে আটক করেছে। খবর সিএনএনের।

পুলিশ জানায়, রোববার সানদিয়াগো শহরের জিদকিয়ানো চার্চে ইস্টার সানডে উদযাপনের মধ্যে ওই নারী বন্দুক উঁচিয়ে সবাইকে হুমকি দিতে থাকেন।

এ সময় তার কোলে ১০ মাস বয়সী একটি শিশুও ছিল।

সানদিয়াগোর পুলিশ কর্মকর্তা রবার্ট হকিন্স বলেন, জিদকিয়ানো চার্চে ধর্মীয় বক্তব্য চলাকালে ওই নারী হঠাৎ মঞ্চে উঠে পড়েন। এ সময় গির্জার লোকজন এগিয়ে গেলে তিনি কোলের শিশুসহ সবার দিকে বন্দুক তাক করেন এবং কাছে আসতে নিষেধ করেন।

শেষ পর্যন্ত গির্জার লোকেরা ওই নারীকে ধরতে সক্ষম হন এবং বন্দুক কেড়ে নেন। পরে পুলিশ এসে তাকে হেফাজতে নেয়।

পুলিশ জানায়, চার্চ উড়িয়ে দেয়ার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে কোনো বিস্ফোরক খুঁজে পায়নি ডগ-স্কোয়াড।

৩১ বছর বয়সী ওই নারী ও তার মেয়েকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।

বন্দুক নিয়ে হুমকি ও সন্ত্রাসী আচরণের দায়ে ওই নারীর সাজা হতে পারে বলে জানিয়েছে সানদিয়াগো পুলিশ।

এর আগে স্থানীয় পুলিশ ঘোষণা দিয়েছিল যে, শ্রীলংকায় গির্জা ও হোটেলে বোমা হামলায় অন্তত ২৯০ জন নিহত হওয়ায় সানদিয়াগোর গির্জাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নেয়া হবে।

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শ্রীলংকায় এবার মসজিদে বোমা হামলা


গির্জা ও হোটেলে সিরিজ বোমা হামলার পর এবার শ্রীলংকায় মসজিদে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। আগুন দেয়া হয়েছে মুসলিম মালিকানাধীন কয়েকটি দোকানে। নিরাপত্তাকর্মীদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এজেন্সিয়া ইএফই ও বিদেশি সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।

রোববার রাতে দেশটির পুত্তালুম জেলায় একটি মসজিদে পেট্রলবোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া বান্দারাগামা এলাকায় মুসলিম মালিকানাধীন অন্তত দুটি দোকান ভাঙচুরের পর আগুন দেয়া হয়েছে।

রোববার দিনেরবেলায় কলম্বোর গির্জা ও পাঁচতারকা হোটেলসহ আটটি স্থানে সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ২৯০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫০০ জনের বেশি মানুষ। বোমা হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে কারা হামলা চালিয়েছে তা এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি দেশটির সরকার।

সকালে দ্বীপরাষ্ট্রটির রাজধানী কলম্বো এবং শহরতলির তিনটি গির্জা ও দেশের বড় তিনটি হোটেলে এ হামলা হয়। পরে আরও দুটি স্থানে হামলা হয়। গতকাল ছিল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব ইস্টার সানডে। হামলার সময় তিন গির্জায় ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলছিল।গৃহযুদ্ধের পর দেশটিতে এটিই সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা।

নিহত ২৯০ জনের মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ৮ বছর বয়সী নাতি জায়ান চৌধুরী। আহত শেখ সেলিমের জামাতা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স কলম্বোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এর হামলার পর রাতেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন শ্রীলংকার মুসলিমরা। ফরাসি সংবাদমাধ্যম এএফপির হাতে পাওয়া নথি অনুযায়ী, গির্জায় হামলার ব্যাপারে শ্রীলংকার পুলিশকে আগেই সতর্ক করেছিল ‘একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা’।

২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল পুলিশপ্রধান পুজুথ জয়াসুনদারা দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত গোয়েন্দা সতর্কতা পাঠান। এতে বলা হয়, ‘একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে যে, ন্যাশনাল তাওহিদ জামাত (এনটিজে) প্রখ্যাত চার্চ এবং কলম্বোয় ভারতীয় হাইকমিশন লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।’ তবে এখনও পর্যন্ত রোববারের হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনো গোষ্ঠী।

দেশটির প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুয়ান বিজয়বর্ধন জানান, হামলায় নিহতদের মধ্যে ৩০ জন বিদেশিও রয়েছেন। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে ২৪ জনকে।

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here