‘আদালতের বারান্দা এখন আমাদের ঘরবাড়ি’

0
1979

শামসুল হক (৫৫)। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের নন্দোয়ার ইউনিয়নের ভণ্ডগ্রামের বাসিন্দা। রাণীশংকৈল থানায় দায়ের করা নাশকতার একটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিতে আসেন তিনি। গতকাল দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট অ্যানেক্স (বর্ধিত) ভবনের দোতলায় সংশ্লিষ্ট আদালতের বারান্দায় তিনিও লাইনে ছিলেন অন্যদের সঙ্গে। ভগ্ন শরীরের শ্মশ্রুমণ্ডিত শামসুল হকের চোখে মুখে ছিল দিশাহারা ভাব। দুশ্চিন্তার ছাপও স্পষ্ট। পাশেরজনকে কেবলই জিজ্ঞাসা করছেন ‘জামিন হইবো তো? তার পাশে থাকা তারই এলাকার কয়েকজন জানান, সহজ সরল শামসুল হক অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করেন। শারীরিকভাবেও অতটা সবল নন তিনি।

পড়াশুনা যেমন নেই, তেমনি তার উচ্চারণেও রয়েছে সমস্যা।

বিএনপির কোনো পর্যায়ের রাজনীতির সঙ্গেই তিনি নেই। তার সাতটি মেয়ে। ইতিমধ্যে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। আরো ৫ মেয়ের বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তা ও পরিশ্রমে তার শরীর আরো ভেঙে পড়েছে। তিনি এই মামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না। অসুস্থ শরীর নিয়েই তিনি ঢাকায় এসেছেন নাশকতার মামলায় আগাম জামিন নিতে। এমনকি ঢাকায় আসা যাওয়ার ভাড়াও নেই তার কাছে। দেয়ালে ঠেস দিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন শামসুল হক। তার পাশে থাকা কয়েকজন তাকে সান্ত্বনা দেন। শামসুল হক বলেন, কাজকাম কইরা কূল পাই না।

রাজনীতি করমো কহন। ঘরে ৫টা মাইয়া। কয়ডা দিন পালাইয়া ছিলাম। মেয়েগুলার চিন্তায় কিছুই করতে পারি না। এলাকার লোকজন কইলো হাইকোর্টে আইতে, তাই আইলাম। যদি জামিন না পাই তাইলে আমার সংসারডা কেডায় দেখবো? রানীশংকৈলের নন্দোয়ার ইউনিয়ন বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম বলেন, সহজ সরল শামসুল ইসলাম রাজনীতির কিছুই বোঝেন না। আমরা বিএনপির সরাসরি রাজনীতি করলেও তিনি বিএনপির সমর্থক। কিন্তু এরকম একজন অসহায় মানুষের নামেও মামলা দেয়া হবে এটি আমরা ভাবিনি। পরে জানা যায়, দুপুর ২টার পর সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন পান শামসুল হকসহ অন্যরা। আইনজীবী ও আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, পুলিশের ওপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনসহ বিভিন্ন মামলায় বেশকিছুদিন ধরেই আগাম জামিনের জন্য সারা দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা আসছেন সুপ্রিম কোর্টে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে এত বেশি মামলায় আগাম জামিনের আবেদন হাইকোর্টে জমা পড়েনি।

এত বেশি মানুষও হাইকোর্টে আগাম জামিনের জন্য হাজির হননি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন মানবজমিনকে বলেন, ‘সরকার পরিকল্পিতভাবে আগামী নির্বাচনের পূর্বে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার আতঙ্কে রেখে মাঠ খালি করে একতরফাভাবে নির্বাচন করতে চায়। এ জন্যই সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে এসব ভিত্তিহীন গায়েবি ও কাল্পনিক মামলা দেয়া হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘সারা দেশ থেকে প্রতিটি কর্মদিবসেই বিএনপির শত শত লোক আগাম জামিন নিতে আসছেন। আর সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে এত বেশি লোকের আগাম জামিন নিতে আসার নজির অতীতে যেমন নেই তেমনি এত বেশি গায়েবি মামলাও অতীতে হয়নি। এত বেশি লোক জামিন নিতে আদালতে আসেন নি।’ তিনি বলেন, আশার কথা এই যে হাইকোর্ট অনেক উদার হয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন আগাম জামিন দিচ্ছেন। তবে, দুর্ভাগ্য যে, হাইকোর্ট চার সপ্তাহ কিংবা আট সপ্তাহ আগাম জামিন দিলেও জামিন শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিম্ন আদালতে হাজির হলে অনেককেই কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। এতেই বোঝা যায় সরকার নিম্ন আদালতে হস্তক্ষেপ করছে।’ খন্দকার মাহবুব আরো বলেন, ‘যারা আগাম জামিন নিতে আসছেন তাদেরকে আমরা সর্বতোভাবে আইনি সহায়তা দিচ্ছি। কিন্তু এমনও আছেন যাদের ঢাকায় আসা যাওয়ার মতো ভাড়া নেই, খাওয়ার টাকা নেই। ওই সব লোকের নামেও মামলা দেয়া হচ্ছে।

দুপুর ১টা। সুপ্রিম কোর্ট অ্যানেক্স (বর্ধিত) ভবনের সামনে দীর্ঘ লাইন। পাশে দাঁড়িয়ে একজন সিরিয়াল নম্বর ও এলাকার নাম বলছেন। সঙ্গে সঙ্গে হাত তুলে ‘আছি’ বলে জানান দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। কিছুক্ষণ পরই সারিবদ্ধভাবে সবাই গিয়ে হাজির হন ওই ভবনের দোতলার একটি আদালতে। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সবাই ঠাকুরগাঁও জেলা, থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপির নেতাকর্মী। নাশকতা, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ বিভিন্ন মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিতে এসেছেন সর্বমোট ২৪০ জন। তাদের সবাই হাজির কি-না এবং জামিন যাতে হাতছাড়া না হয় তা নিশ্চিত হতেই এ বিশেষ লাইনের ব্যবস্থা।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও একই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম জিয়া আলাপকালে জানান, গত ১লা সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সকাল ১১টার দিকে মিলাদের আয়োজন করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি জানতে পারেন নাশকতার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তিনিসহ ৩৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এতদিন অনেকটাই আত্মগোপেনে ছিলেন। আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে বৃহস্পতিবার আগাম জামিন নিতে এসেছেন তারা। তিনি আরো জানান, বিগত কয়েক মাসের মধ্যে ১৭টি মামলায় ওই জেলার বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ৬শ’ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ২৪০ জন আগাম জামিন নিতে এসেছেন।

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতা বলেন, নেতাকর্মীদের আগাম জামিনের জন্য বেশকয়েকদিন ধরে হাইকোর্টে আসতে হচ্ছে। এর আগেও ধাপে ধাপে ২শ’ জনের বেশি নেতাকর্মীর আগাম জামিন হয়েছে। পুলিশের দায়ের করা মামলায় গতকাল হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিতে এসেছিলেন রানীশংকৈলের ৮ নম্বর নন্দোয়ার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ বিন নূর আলিফ। তিনি বলেন, গত ১লা সেপ্টেম্বর স্থানীয় থানায় আমার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা হয়। সেই থেকে গ্রেপ্তারের ভয়ে এলাকায় নিয়মিত যেতে পারছি না। শুধু আমি নই ওই থানার বিএনপির সকলপর্যায়ের নেতাকর্মীদের একই অবস্থা। অনেকেই এলাকাছাড়া। আবার অনেকেই আগাম জামিন নিতে হাইকোর্টে আসছেন।

সোহেল মৃধা (৩৩)। চাদপুর মতলব (উত্তর) ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। নাশকতার একটি মামলায় গতকাল হাইকোর্টে আগাম জামিন নিতে এসেছেন তিনি। সোহেল মৃধা বলেন, বিগত এক বছরের মধ্যে আমার নামে ৫টি মামলা হয়েছে। সবগুলোতেই জামিনে আছি। আজকে (গতকাল) একটি মামলায় ৮ সপ্তাহের জামিন হয়েছে। তিনি জানান, নারায়নগঞ্জের পঞ্চবটী এলাকায় কফেকশনারীর ব্যবসা রয়েছে তার। পুলিশি ঝামেলার ভয়ে অনেকদিন ধরেই পরিবার থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন তিনি। মতলবের (উত্তর) গ্রামের বাড়িতে না থেকে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটী এলাকায় থাকেন। সোহেল মৃধা বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম। সেখান থেকে একটি মামলায় পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর কারাগার। ১৮ দিন কারাবাস শেষে চাঁদপুরের একটি আদালত থেকে জামিন পাই। এরপর থেকে ভয়ে গ্রামের বাড়িতে নিয়মিত যাই না। তিনি বলেন, ২৫শে নভেম্বর আমার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে সৌশি আক্তারের বার্ষিক পরীক্ষা। মেয়েটার ইচ্ছে ছিল পরীক্ষার সময় আমি তার কাছে থাকবো। কিন্তু মনে হয় তা সম্ভব হবে না। আতঙ্কে থাকি কখন না আবার মামলা হয়, গ্রেপ্তার হয়ে যাই। সোহেল মৃধা আরো বলেন, মামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। প্রতিনিয়ত আদালতে দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে। পারিবারিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। একমাত্র অবলম্বন ব্যবসাটাও হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।

মতলব (উত্তর) উপজেলা যুবদলের সভাপতি রাশেদ হাসান টিপু (৪৩) বলেন, আমার নামে বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফারক আইনের দুটি মামলা রয়েছে। দুটিতেই জামিনে আছি। গত ফেব্রুয়ারিতে একটি মামলায় কারাগারে নেয়া হয় আমাকে। ২৫ দিন কারাগারে থেকে পরে মুক্তি পাই। তিনি বলেন, আজ (গতকাল) এই উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা জামিন নিতে এসেছেন তাদের অনেকেই মামলায় বিপর্যস্ত। কেউবা অসহায়। অনেকের ঢাকায় আসা ও যাওয়ার মতো ভাড়াও নেই। আমরা যারা নেতৃত্বস্থানীয় তারাই তাদের জামিনের জন্য চেষ্টা করছি। তিনি আরো বলেন, আমরা মামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। এলাকায় যেতে পারি না। যদি যেতেও হয় সকালে গিয়ে ওই দিনই ফিরে আসি। সবশেষ গত ২০শে অক্টোবর গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। রাতে থাকতে পারিনি। ওই দিনই চলে আসি। তিনি বলেন, স্থানীয় এলাকায় বালু পাথরের ব্যবসা রয়েছে আমার। কিন্তু সেই ব্যবসাও অনেকটাই স্লথ। গ্রেপ্তার হয়রানির ভয়ে বেশির ভাগ সময় ঢাকাতেই থাকি।

নাশকতার মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিতে এসেছেন মতলবের (উত্তর) ১০ নম্বর পূর্ব ফতেপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সজীব আল ফালাক (২৬)। তিনি জানান, এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে তার নামে বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় তিনি জামিনে আছেন। ওয়েস্ট কোস্ট ম্যানেজমেন্ট টেকনোলজিতে মেকানিক্যাল বিভাগে এমএসসি করছেন তিনি। পাশাপাশি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সজীব আল ফালাক বলেন, রাজনীতি যে এত কঠিন সেটি আগে বুঝিনি। গ্রেপ্তার হয়রানির আতঙ্কে থাকি প্রতিনিয়ত। পড়াশুনাও বিঘ্নিত হচ্ছে। গ্রামের বাড়িতে নিয়মিত যেতে পারি না। এখন থাকি পুরান ঢাকার ফরিদাবাদ এলাকায় এক আত্মীয়র বাসায়। বলা চলে দুঃসহ জীবন পার করছি। আগাম জামিন নিতে আসা চাঁদপুর বিএনপির একজন নেতা বলেন, এভাবে আদালতে দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়ে আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই পরিবারের কাছ থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন।

হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিতে আসা ময়মনসিংহের গৌরিপুরের মইলাকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রিয়াদুজ্জামান (৩৬) বলেন, গত ৭/৮ বছরে আমার নামে ৫২টি মামলা হয়েছে। এর সবগুলোতে জামিনে আছি। একটি মামলায় গত ১৩ই অক্টোবর কারাগারে যাই। প্রায় একমাস পর কারামুক্তি পাই। আজও (গতকাল) তিনটি মামলায় ১০৪ জনের আগাম জামিন হয়েছে। এর মধ্যে আমিও আছি। তিনি বলেন, গত কয়েকবছরে আদালতের বারান্দায় হয়ে গেছে আমাদের বাড়িঘর। আজ এই মামলা তো কাল সেই মামলা। শুধু আমি নই এলাকার আমাদের প্রায় সব নেতকর্মীরই একই অবস্থা। মামলায় হাজিরা দিতে দিতে আমাদের এখন গা-সওয়া হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে এটাই বোধহয় আমাদের নিয়তি। গৌরিপুরের ডৌহাখলার মজিবুর রহমান জানান, এলাকায় তিনি কৃষিকাজ করেন। বিএনপির কোনো পর্যায়ের রাজনীতির সঙ্গেই তিনি জড়িত নন। তবে, ওই রাজনৈতিক দলের সমর্থক হওয়ার কারণেই তাকেও মামলার আসামি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মজিবুর রহমান বলেন, কয়েকদিন ধইরা পালাইয়াছিলাম। আইজ জামিন পাইছি।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয় সুপ্রিম কোর্ট এলাকায়। আলাপকালে জানান বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিতে এসেছেন তিনি। তিনি বলেন, আমিসহ আরো অনেকের নামে গত জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৬টি মামলা দিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ৫টি মামলায় ঘুরেফিরে ৪২ জনকে আসামি করা হয়েছে। হাইকোর্টে এসেছিলাম আগাম জামিন নিতে। তিনি বেলন, আদালত আমাদের ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন। কিন্তু ভয় আর আতঙ্ক আমাদের কাটে না। এই বুঝি নতুন কোনো মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়, সেই দুশ্চিন্তায় থাকি। তিনি বলেন, আমাদের নামে যে হারে মামলা করা হচ্ছে এবং যেভাবে আমরা আদালতের বারান্দায় দৌড়াচ্ছি তাতে এটি আমাদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা। পরিবার পরিজন, কাজকর্ম বাদ দিয়ে আমরা এখন কেবলই মামলা নিয়ে দৌড়াচ্ছি।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে যা বললেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার


নির্বাচনি কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহসহ পুলিশের বেশ কিছু কার্যক্রমের কঠোর সমালোচনা করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।’ বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিন পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে বর্তমান ইসির মেয়াদে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোর উদাহরণ তুলে ধরেন মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা ও রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুনামের সঙ্গে করতে পারলেও বাকি ৫টির ক্ষেত্রে তা ছিল না।’ গাজীপুর ও বরিশাল সিটি নির্বাচনের উদাহরণ দিয়ে তিনি এ দুটি নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তুলে ধরেন ইসির তদন্তে উঠে আসা পুলিশ বিভাগের কর্তাব্যক্তিদের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার কথা। ওই নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে সংসদ নির্বাচন কীভাবে সুন্দর করা যায় সেই পথ বের করার কথাও বলেন তিনি।

গায়েবি মামলা নিয়ে এই কমিশনার বলেন, ‘বর্তমানে বহুল আলোচিত গায়েবি মামলা এখন আর গায়েবি আওয়াজ নয়। হাইকোর্টও বলেছেন, এই ধরনের মামলায় পুলিশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়। ঢাকা পুলিশ কমিশনার গায়েবি মামলা না করতে পুলিশ বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছেন। তারপরও অনেক ক্ষেত্রে এই ধরনের মামলা চালু রয়েছে।’ তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সিডিউল ঘোষণার পূর্বে যে পুলিশ গায়েবি মামলা করেছে, সিডিউল ঘোষণার পর তার পক্ষে রাতারাতি পাল্টে গিয়ে নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা কতটুকু সম্ভব?’

পুলিশ নির্বাচনে সবচেয়ে বড় সহায়ক শক্তি উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।’

গায়েবি মামলা ইস্যুতে ইসিতে দেওয়া বিএনপির আবেদন প্রসঙ্গে মাহবুব তালকুদর বলেন, ‘কিছু সংখ্যক গায়েবি মামলার আসামির তালিকা বিরোধী দল থেকে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। মামলাগুলো পুরনো হলেও এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামির অনেকের আদালত থেকে জামিন নেওয়া হয়তো সম্ভব হবে না। কোনও কোনও সম্ভাব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা থাকার কারণে তারা প্রচারকাজ চালাতে ভয় পাচ্ছেন। এই ভীতি সর্বক্ষেত্রে অমূলক নয়। নির্বাচনি ব্যবস্থাপনাকে স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে প্রার্থীরা যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা যথাযথভাবে প্রতিপালন করা প্রয়োজন।’

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘গ্রেফতারের বিষয়ে উচ্চ আদালতের যে নির্দেশনা রয়েছে, তা কোথাও প্রতিপালন হচ্ছে না। নির্দেশনাটিতে মানবিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা সমুন্নত রাখার যে অভিব্যক্তি রয়েছে, তা প্রতিপালিত হলে পুলিশের আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রবণতা অনেকাংশে কমে যেতে পারতো।’ তিনি বলেন, ‘কমিশন আশ্বাস দিলেও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কার্যকর ছিল না। নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে পুলিশের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। পুলিশ সবার সঙ্গে সমান আচরণ করলে তা সম্ভব হতে পারে।’

নির্বাচনি কর্মকর্তাদের তথ্য যাচাই প্রসঙ্গে এই ইসি বলেন, ‘নির্বাচন কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহে পুলিশ দুই মাস আগেই মাঠে নেমেছে। তারা প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং কর্মকর্তাদের বিষয়ে নানা ধরনের তথ্য সংগ্রহ করছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এ ধরনের তথ্যানুসন্ধানে পুলিশকে কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। কে কী উদ্দেশ্যে এসব কর্মকাণ্ড করছে, তা রহস্যজনক। অতি উৎসাহী কিছু পুলিশ সদস্যদের এই কর্মকাণ্ডে ব্যাপক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যার দায় কমিশনের ওপর এসে পড়ে।’

এবারের সংসদ নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে এই কমিশনার বলেন, ‘শুধু দেশবাসী নয়, বিশ্ববাসী আমাদের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। এই নির্বাচন আমাদের আত্মসম্মান সমুন্নত রাখার নির্বাচন। আমরা কোনোভাবেই এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে দিতে পারি না। আমরা প্রশ্নবিদ্ধ হলে তার দায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর ওপর বর্তাবে। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রশ্নবিদ্ধ হলে আমরাও তার দায় এড়াতে পারবো না।’ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ইসি দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুনঃ ঢালাও অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি না করতে ইসির কাছে পুলিশের দাবি!


অভিযোগ পেলেই যেন পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি করা না হয়, নির্বাচন কমিশনকে সেই অনুরোধ জানিয়েছেন এই বাহিনীর কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তারা বলেছেন, নির্বাচনের দায়িত্বপালনকালে বিভিন্ন মহল তাদের বিরুদ্ধে ইসিতে অভিযোগ আসতে পারে। ওইসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যেন তাদের অহেতুক বদলি না করা হয়। বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তারা এ দাবি জানান। অবশ্য কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, কোনও অভিযোগ উঠলেই তারা বদলি বা প্রত্যাহার করবে না। যাচাই করে সত্যতা পেলেই কেবল ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে এই তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বৈঠকে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা তাদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা বলেন, সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত না থাকলে মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

বৈঠকে কমিশন থেকে বলা হয়, যেসব রাজনৈতিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা রয়েছে, তাদের বিষয়ে কমিশনের কোনও বক্তব্য নেই। তবে বিনা কারণে কোনও ব্যক্তির নামে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া যাবে না। কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না।

তফসিল ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম এই বৈঠকে নির্বাচনের নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণ, মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতিসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো উঠে আসে। এরআগে, রিটার্নি কর্মকর্তাদের ডেকে নির্বাচন বিষয়ে নানা পরামর্শ দিয়েছিল ইসি। প্রতীক বরাদ্দের পর সমন্বিত একটি আইনশৃঙ্খলা বৈঠক করবে কমিশন। ওই বৈঠকে রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ভোটের ১৫দিন আগে নামা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনি এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ (রেকি) করবেন। তাদের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কয়জন সদস্য মাঠে নামবেন, তা নির্ধারণ করা হবে।

ওই সূত্র জানায়, সেনাবাহিনীর সদস্যরা ১৫ ডিসেম্বর মূল কার্যক্রম শুরু করলেও তারা ভোটের আগে ও পরে ১০ দিন মাঠে অবস্থান করবে। এর মধ্যে ভোটের আগে ৭ দিন, ভোটের দিন ও পরে দুই দিন থাকবেন। তাদের বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে না। তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবেন।

জানা গেছে, বৈঠকে পুলিশের আইজি ইসিকে বলেছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আপনারা যে দায়িত্ব দেবেন, তা নিরপেক্ষভাবে পুলিশ পালন করবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব বলেন, নির্বাচনে আমাদের সব বাহিনী তৎপর আছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র‌্যাবের টিমগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি বলেন, ‘নির্বাচনে যেন কোনও অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকবো। তবে নির্বাচন ভণ্ডুল করার জন্য যেন কেউ সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাতে না পারে, সেজন্য পুলিশ কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করবে।’

বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, বেশিরভাগ কর্মকর্তার বক্তব্যে বদলির বিষয়টি উঠে এসেছে। তারা বলেছেন, নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করলে একটি পক্ষ বারবারই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে। এসব অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ছাড়া যেন কাউকে বদলি করা না হয়। বৈঠকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার ওসিকে বদলির ঘটনায় কেউ কেউ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে, বৃস্পতিবার কমিশনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা যখন ঢালাও অভিযোগে বদলি না করার অনুরোধ করছিলেন, ঠিক একইসময় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে এসে ৩১ জেলার এসপিসহ পুলিশের ৭০ কর্মকর্তার বদলির দাবি করে চিঠি দেন। এর মধ্যে অতিরিক্ত আইজি মোখলেসুর রহমান ও র‌্যাবের ডিজি বেনজির আহমেদসহ পুলিশ সুপার বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তা রয়েছেন।

বৈঠকে একজন পুলিশ সুপার বলেছেন, এই নির্বাচনে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি মাঠে নেমেছে। ৫ জানুয়ারির (দশম সংসদ) নির্বাচন যারা বানচাল করতে সহিংসতা করেছিল তাদের অনেকেই প্রার্থী হচ্ছেন। তাদের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ইসির নির্দেশনা চেয়েছেন তিনি। আরেকজন পুলিশ সুপার বলেন, চলমান অভিযান বন্ধ করা হলে বিভিন্ন মহল মাঠে নামবে। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

আরেক পুলিশ সুপার বলেছেন, যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা রয়েছে, তাদের নির্বাচনের নামে ছাড় দেওয়া যাবে না। এ পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়েছে, ফৌজদারি মামলার আসামি গ্রেফতার করা হলে ইসির আপত্তি থাকবে না। এটা আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। তবে রাজনৈতিক বিবেচনায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাদের অযথা হয়রানি করা যাবে না।

বৈঠকে আরেক পুলিশ সুপার বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে বৈধ অস্ত্র থানায় জমা দেওয়া লাগবে না। ভোটের দিন যেন এসব বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন না করে, সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিইসির ১২ দফা নির্দেশনা:

বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তাদের ১২ দফা নির্দেশনা দেন সিইসি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—নির্বাচনি কর্মকর্তাদের তালিকা ধরে তাদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করতে হবে। এতে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের মধ্যে নাশকতাকারী সৃষ্টিকারী রয়েছে কিনা, সেটা দেখতে হবে। বিনা কারণে কোনও ব্যক্তির নামে হয়রানিমূলক মামলা করা বা গ্রেফতার করা যাবে না। প্রত্যেক এলাকার দলমত নির্বিশেষে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাস্তানদের তালিকা তৈরি করে নজরদারি করতে হবে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে বিভিন্ন বাহিনী কোথায় কীভাবে দায়িত্ব পালন করবে, তা নিয়ে একটি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করতে হবে। হাওর-বাওর, চরাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকার ভোটকেন্দ্রের মালামাল পরিবহন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের যাতায়াতের জন্য বিশেষ যানবাহনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুনঃ তরুনদের মাঝে ব্যাপক সারাফেলছে ঐক্যফ্রন্টঃ ইশতেহারে চাকরিতে প্রবেশর বয়স ৩৫ থাকছে


জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রাথমিক খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঘোষিত ভিশন ২০৩০-এর আলোকেই তৈরি হচ্ছে এ ইশতেহার। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রণীত ইশতেহারে সরকার, সংসদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, কৃষি, পররাষ্ট্রনীতিসহ সরকারের প্রতিটি সেক্টরকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। উচ্চ শিক্ষিত যুবসমাজের দীর্ঘদিনের দাবি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার প্রতিশ্রুতিও থাকছে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে।

সুশাসন, স্বচ্ছতা ও স্ব অবস্থান- এ তিন অঙ্গীকারের মধ্যে দিয়ে নবধারার রাজনীতি ও সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি থাকছে ইশতেহারে। থাকছে নতুন নতুন চমক ও অঙ্গীকার। ‘জনগণ এ রাষ্ট্রের মালিক’- এ ধারণা সুপ্রতিষ্ঠিত করার নির্দেশনা সংবলিত ইশতেহারে সব মত ও পথ নিয়ে বাংলাদেশকে একটি রেইনবো ন্যাশন বা রংধনু জাতিতে পরিণত করার বিস্তারিত ঘোষণা থাকবে। গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও। ১ সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এ ইশতেহার চূড়ান্ত হতে পারে।

সূত্র জানায়, ইশতেহার প্রণয়ন কমিটিতে রাজনীতিবিদ ছাড়াও রয়েছেন শিক্ষা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষিসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতের বিশেষজ্ঞ। ইতিমধ্যে ‘দেশের মালিক জনগণ, ধানের শীষে ভোট দিন’; ‘দেশ বাঁচাতে মানুষ বাঁচাতে, আনবে পারিবর্তন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’সহ তিনটি স্লোগানের খসড়া তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম স্লোগানটির পক্ষে অনেকে মত দিয়েছেন। তবে এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এছাড়া শান্তি ও কল্যাণকর সংসদীয় গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ রাষ্ট্র তৈরির জন্য জাতির উদ্দেশে ৫ প্রতিশ্রুতি ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রাথমিক খসড়ায় রয়েছে। যা ইশতেহার প্রণয়ন কমিটিতে যুক্ত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দিয়েছেন। প্রস্তাবিত প্রতিশ্রুতিগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। বাস্তবতা বিবেচনায় কিছুটা পরিবর্তন এলেও এসব প্রতিশ্রুতি প্রাধান্য পাবে ইশতেহারে।

এ বিষয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের জন্য আমাদের ইশতেহারের একটা ড্রাফট করা হয়েছে। ১ সপ্তাহের মধ্যে এটা চূড়ান্ত করা হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি দল। নির্বাচনের জন্য ইশতেহার অবশ্যই দেয়া হবে। ইশতেহার তৈরির কাজ চলছে। শিগগিরই তা দেয়া হবে। আগামী দিনে দেশ ও জনগণের জন্য আমরা কী কী করতে চাই তা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ভিশন ২০৩০-এ তা উল্লেখ করেছেন। ইতিমধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও ১১টি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সবগুলোর সমন্বয় করে ইশতেহার তৈরি করা হবে।

সূত্র জানায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার প্রণয়নে যে কমিটি করা হয়েছে তাতে বিএনপি থেকে সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, গণফোরামের আওম শফিক উল্লাহ, জেএসডির শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ইকবাল সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের ডা. জাহেদ উর রহমান রয়েছেন। আর এ কমিটির মূল দায়িত্বে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

মূলত এ কমিটি গঠনের অনেক আগেই ইশতেহার নিয়ে কাজ করছেন বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতাসহ শিক্ষা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষিসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতের বিশেষজ্ঞরা। নেয়া হয় সুশীল সমাজের মতামতও। তবে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকায় ইশতেহার প্রণয়ন ধীরগতিতে এগোয়।

বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণার পর ইশতেহার প্রণয়নের কাজ প্রায় সম্পূর্ণ করা হয়েছে। পরামর্শ নেয়া হয়েছে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানেরও।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে গঠিত কমিটির কাছে বিএনপির এ খসড়া ইশতেহারই দেয়া হবে। যেখানে সংযোজন-বিয়োজন করে ফ্রন্ট নেতারা ইশতেহার চূড়ান্ত করবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইশতেহার প্রণয়নে যুক্ত বিএনপির এক নেতা বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ইশতেহার দেবে। একই সঙ্গে বিএনপিও আলাদাভাবে নির্বাচনী ইশতেহার দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির মধ্যে সমন্বয় থাকবে।

এ ব্যাপারে মাহফুজ উল্লাহ বলেন, শিগগিরই ইশতেহার দেয়া হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঘোষিত ভিশন ২০৩০-এ একটি ধারণা দেয়া আছে। ইশতেহারে কি কি থাকবে এখনও চূড়ান্ত করিনি। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে চূড়ান্ত হতে পারে। একটা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের, আরেকটি সম্ভবত বিএনপির ইশতেহার হবে। তবে দুটির মধ্যে সমন্বয় থাকবে। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দু-এক দিনের মধ্যে ইশতেহার প্রণয়ন কমিটি বৈঠকে বসবে।

সূত্র জানায়, ৩৭টি বিষয়ে ২৫৬ দফা সংবলিত ‘ভিশন-২০৩০’ তুলে ধরার পর দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উজ্জীবিত হয়েছেন বলে মনে করছে বিএনপি হাইকমান্ড। এটি কাজে লাগিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতি জনআস্থা ও বিশ্বাস আরও কিভাবে সুদৃঢ় করা যায়, সে লক্ষ্য নিয়েই তৈরি হচ্ছে ইশতেহার। এর মূল ভিত্তি হবে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা।

জানা গেছে, রাজনীতিতে অতীতমুখিতা বা প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে নতুন ধারার সৃষ্টি, ক্ষমতায় গেলে জাতীয় সংসদকে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি থাকবে ইশতেহারে। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে প্রশাসনে আমূল পরিবর্তন আনার প্রত্যয় থাকবে ইশতেহারে।

সুশাসন, সুনীতি ও সু-সরকারের (থ্রি-জি) সমন্বয় ও বৃহত্তর জনগণের সম্মিলনের মাধ্যমে ‘ইনক্লুসিভ সোসাইটি’ গড়ার অঙ্গীকার থাকবে এতে। প্রশাসন ও বিচার বিভাগে দলীয়করণের অবসান ঘটিয়ে মেধা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা থাকবে। শিক্ষা ও কৃষি খাতে যুগোপযোগী সংস্কারের মাধ্যমে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা, বাস্তবমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা, ক্রীড়াক্ষেত্রে শুধু স্থাপনা নির্মাণ নয়, গুরুত্ব দেয়া হবে নিয়মিত টানা অনুশীলনের দিকে, খেলায় শতভাগ মনোযোগ দেয়ার লক্ষ্যে খেলোয়াড়দের আর্থিক বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার প্রতিশ্রুতি থাকবে।

তরুণদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এ ইশতেহার তৈরি করছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।নির্বাচনে বিজয়ী হলে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করা হবে; এর সঙ্গে মিল রেখে অবসরের বয়সও বাড়ানো, কোটার যৌক্তিকীকরণ হবে। মুক্তিযোদ্ধাসহ সব কোটা বাস্তবতা অনুযায়ী যৌক্তিক হারে পুনর্বহাল, চাকরিতে মেধাই একমাত্র মানদণ্ড, চাকরিতে আবেদনের ফি বা পে অর্ডার থাকবে না, যানবাহনে বা গণপরিবহনে স্টুডেন্ট হাফভাড়া কার্যকর, সুলভ মূল্যে ইন্টারনেট, তরুণদের সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে প্রত্যেক উপজেলায় সমৃদ্ধ পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপন ইত্যাদি ইশতেহারে থাকছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে কোনো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকবে না। পর্যায়ক্রমে সব সরকারি করা হবে। বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের চাকরি পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ করা হবে। শিক্ষক নিয়োগে শতভাগ মেধা অনুসরণ, শুধু দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতিতে কওমি শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরি মিলবে না। কেননা বেশিরভাগ চাকরিতে øাতক ডিগ্রি চাওয়া হয়। তাই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের চাকরিতে যোগ্য করতে দাওরায়ে হাদিসের নিচের তিন স্তরকে সমমানের স্বীকৃতি দেয়া হবে। স্বাস্থ্য, কৃষি, পররাষ্ট্রনীতিসহ সরকারের প্রতিটি সেক্টর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ইশতেহারে। ‘স্মার্ট শহর’ নামে একটি অঙ্গীকার থাকবে ইশতেহারে। স্মার্ট শহরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা, যাতে করে মানুষ আরও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন।

সূত্র জানায়, এছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের খসড়া ইশতেহারে ৫ প্রতিশ্রুতি এসেছে। খসড়ায় প্রস্তাবিত প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে- স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, বেকারত্ব নিরসন, বিচার ব্যবস্থার সংস্কার, কৃষিতে ভর্তুকি, দ্রব্যমূল্য নির্ধারণ ও শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ।

যার মধ্যে প্রথম প্রতিশ্রুতি হচ্ছে- স্থানীয় সমবায়ের মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের উৎপাদন খরচের সর্বোচ্চ দ্বিগুণ মূল্য স্থির হবে বিক্রয়মূল্য হিসেবে এবং নগরবাসী কৃষিপণ্য পাবেন উৎপাদক সমবায় সমিতির নির্ধারিত মূল্যের সর্বোচ্চ ২-৩ গুণ অধিক মূল্যে।

কৃষকের প্রতি কেজি মুলার স্থানীয় বিক্রয় দর ৫ টাকা হলে তা নগরবাসী পাবেন ১০-১৫ টাকায়। প্রয়োজনমাফিক সব কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য ভর্তুকি দেয়া হবে। যাতে কৃষিতে কর্মসংস্থান বাড়ে এবং পাশের দেশগুলো থেকে কৃষিজাত পণ্যের আমদানি কমে। দ্বিতীয়, বাজার মূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণ হবে এবং সামরিক বাহিনীর দরে সব শ্রমিককে রেশন দেয়া হবে। শ্রমিকরা মাসিক মাত্র ২৫০ টাকা প্রিমিয়ামে সব স্বাস্থ্য সুরক্ষা বীমা সুবিধা পাবেন। শ্রমিকরা শুধু ওষুধের মূল্য দেবেন। তৃতীয়ত, সারা দেশের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দ্রুত উন্নয়নের নিমিত্তে ‘১৯৮২ সালের জাতীয় ওষুধনীতির’ সুষ্ঠু প্রয়োগ হলে ৩ মাসের মধ্যে সব অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য ন্যূনতম অর্ধেক হবে। সব ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার দর কমপক্ষে ৫০ ভাগ কমবে।

হৃদরোগের চিকিৎসা খরচও একই হারে কমবে। প্রাথমিক অবস্থায় ঢাকা শহরে নতুন কোনো হৃদরোগের সরকারি হাসপাতাল তৈরি না করে দেশের ৮টি প্রধান শহরে হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। গ্রামীণ জনসাধারণকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার লক্ষ্যে সব ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ১ বছর ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সার্বক্ষণিকভাবে অবস্থান করে ১ বছর প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হবে।

সব বড় ও জেলা শহরে জেনারেল প্র্যাকটিশনার্স প্রথা চিকিৎসা সৃষ্টি করে দ্রুত যথাযথ চিকিৎসার জন্য রেফারেল ব্যবস্থা শুরু হবে। আইন সংশোধন করে অঙ্গপ্রতিস্থাপন নিয়মাবলী সহজলভ্য করা হবে। বাংলাদেশের সর্বত্র ৬ মাসের মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন হবে দেড় থেকে দুই লাখ টাকায়। চতুর্থ, দুই বছরের মধ্যে দেশে ৫ লাখ গ্র্যাজুয়েটের কর্মসংস্থান হবে। বয়োবৃদ্ধরা বাস ও ট্রেনে ভ্রমণ সুবিধা পাবেন এবং শিক্ষিত বয়োবৃদ্ধদের জন্য অবৈতনিক কর্মসংস্থান হবে। পঞ্চমত, ঢাকা শহরে আর একটিও সরকারি বিল্ডিং এমনকি সরকারি হাসপাতালও নয়।

২ বছরের মধ্যে প্রশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও টেক্সট বই প্রকাশনা, গণপরিবহন, নারী উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ ব্যবস্থাপনা ৮টি প্রদেশ বা ১৭টি স্টেটভিত্তিক বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকবে সুপ্রিমকোর্ট, সেনাবাহিনী, পররাষ্ট্র, বৈদেশিক বাণিজ্য, বিমান ও সমুদ্রবন্দর, আন্তঃজেলা মহাসড়ক এবং ইনকাম ট্যাক্স ও শুল্ক ব্যবস্থাপনা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও নৌবাহিনীর সদর দফতর এবং নৌ ও বন্দর মন্ত্রণালয় চট্টগ্রামে স্থানান্তরিত হবে।

আইন ও বিচার বিভাগের সংস্কার, বিচারকদের স্বচ্ছ নিয়োগ পদ্ধতি ও বিচার কাজে তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, হাইকোর্টের বিচারপতিদের বার্ষিক ছুটি ৪ সপ্তাহে সীমিতকরণ ও সর্বোচ্চ ৫ বছরের মধ্যে মামলার রায় চূড়ান্ত করা হবে।

সব সিভিল ও ক্রিমিনাল মানহানি মামলায় বাধ্যতামূলক কোর্ট ফি নির্ধারণ, পুলিশ বা অন্যভাবে সৃষ্ট মিথ্যা মামলার জন্য ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা এবং শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তির বাসস্থানের শহরের আদালতে মানহানি মামলা করতে হবে, অন্যত্র নয়। অহেতুক মামলা জট কমানোর লক্ষ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ মানহানির মামলা করতে পারবেন না। আইনের অপপ্রয়োগ নয়, সঠিক প্রয়োগই লক্ষ্য।

খুনের মামলা ছাড়া অন্য মামলায় আসামিদের হাইকোর্টে জামিন হলে সরকার সুপ্রিমকোর্টে আপিল করে অহেতুক সময় ও অর্থব্যয় করবে না। গণভোট, ন্যায়পাল নিয়োগ হবে। আলাদা সাংবিধানিক কোর্ট স্থাপন করা হবে প্রত্যেক প্রদেশ বা স্টেটে। সুপ্রিমকোর্ট থাকবে কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীতে।

এ ব্যাপারে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের খসড়া ইশতেহারে ৫টি দফা রয়েছে। এটা এখনও গৃহীত হয়নি। তবে ইশতেহারের ফোকাস পয়েন্ট থাকবে কৃষক শ্রমিকের জীবনযাত্রার উন্নয়ন।

সুত্রঃ বিডিটাইমস

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার মনোনয়ন পত্র কারাগারে পৌঁছেছে!

ফাইল ছবি

নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়পত্র বাহক মারফত কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজকালের মধ্যে তার সই নিয়ে পুনরায় সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানোর কথা রয়েছে।

সুত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয় থেকে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসনের পক্ষে একাধিক আসনে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী কারাবন্দী কোন আসামীর মনোনয়নপত্রে সই নিতে হলে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মাধ্যমে কাগজপত্র কারাগারে পাঠাতে হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর ঢাকার জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্রের যাবতীয় কাগজপত্র ঢাকা কেন্দ্রীয় কারা সংশ্লিষ্ট দফতরে বাহকের মাধ্যমে পাঠানো হয়। কারা কর্তৃপক্ষ সেই কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে দেখবেন। তারপর সই নেয়ার জন্য খালেদা জিয়ার কাছে পাঠানো হবে। তার কাছ থেকে সই নেয়া হলে এরপরই সেটি কারাকর্তৃপক্ষ আবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেবে।

বৃহস্পতিবার কারা সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, খালেদা জিয়ার নামে ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্রের কাগজপত্র আনতে একজন বাহক জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গেছে। এখন আমি অফিসে নেই। বিকেলের মধ্যে কারাগারে চলে আসার কথা রয়েছে। সেটি আসলে আমরা আগে তা যাচাই বাছাই করে দেখবো। নিয়ম মোতাবেক ঠিক থাকলে উনার (খালেদা জিয়া) কাছে সই নিতে যাবো। শুধু কারা কর্মকর্তারা তার স্বাক্ষর নিতে পারবেন। সই হওয়ার পর কারা প্রশাসন থেকে সত্যায়িত সিল, সই দিয়ে আবার আমরা মনোনয়নপত্র ঢাকা জেলা প্রশাসক এর কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেবো। এক প্রশ্নের উত্তরে ওই কর্মকর্তা বলেন, খালেদা জিয়ার কাছ থেকে মনোনয়নপত্রে কাল অথবা পরশু সই নেয়া হতে পারে।

বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ের দায়িত্বশীল এক নেতা এ প্রতিবেদককে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ন সচিব বিজন কান্তি সরকার বুধবার ঢাকা জেলা প্রশাসকের সাথে সাক্ষাত করে ৩টি মনোনয়নপত্র ও আনুষাঙ্গিক কাগজপত্রাদি দিয়ে এসেছেন।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‘ইভিএম ব্যবহার করলে সিইসিকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে’


সংবিধান অনুযায়ী ইভিএম ব্যবহার করা রাষ্ট্রীয় অপরাধ। সংবিধান লঙ্ঘন করে যদি ইভিএম ব্যবহার করেন, তাহলে রাষ্ট্রীয় অপরাধ করবেন। রাষ্ট্রীয় অপরাধ করার দায়ে একদিন আপনাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত ‘ইভিএমকে না বলুন, আপনার ভোটকে সুরক্ষিত করুন’ শীর্ষক সেমিনারে একথা বলেন জেএসডি সভাপতি আসম আব্দুর রব।

সেমিনারে কাদের সিদ্দিকী বলেন, সংবিধান সংশোধন ছাড়া ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না। জনগণের কাছে ইভিএমের কোনো স্বচ্ছতা নেই। সেমিনারে দেখানো হয়েছে, কীভাবে রাজ্জাকের ভোট খালেকের নামে চলে যাবে।

ইভিএমের প্রোগ্রামিং কারা তৈরি করছে তা জাতির কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইভিএমে ভোট জালিয়াতি করে পার পাবেন না, মামলা হবে, একদিন জেলে যেতে হবে। ইভিএম দিয়ে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করবেন না।

পুলিশ, আনসার ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের পরে আপনাদের এদেশেই থাকতে হবে। তাই কোনো দলের হয়ে কাজ করবেন না। জনগণের বিরুদ্ধে যাবেন না, তা না হলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না।

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন। এজন্য জনগণের কোনো কথাই কানে যাচ্ছে না। রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া দল আওয়ামী লীগ নানা কৌশল করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। যখন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তখনই এ ধরনের কৌশল গ্রহণ করা হয়। আমরা নির্বাচনে যাবো, জনগণ ভোট বিপ্লব করবে।

ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশকে যদি শান্তির পথে রাখতে হয়, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন দরকার। সুষ্ঠু নির্বাচনে ইসির ভয় কীসের। কমিশনকে বলেছি, তারা কতটি ইভিএম ব্যবহার করবে, তারা বলেছে, সীমিত আকারে, এটা কোনো সংখ্যা নেই। সহজেই বোঝা যায়, তাদের মতলব খারাপ। জনগণকে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন, তা না হলে লুকিয়ে থেকেও রেহাই পাবেন না।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যারা ৫ জানুয়ারি উড়ে এসে চাপ দিয়ে নির্বাচন করতে বাধ্য করেছে, তারাও বলেছে এবার আর প্রহসনের নির্বাচন মানবে না। আমরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।

তিনি বলেন, বিনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর মতো প্রতিদিন যদি একটা ব্রিফিং করা যেত, তাহলে সরকার যে কতরকম বদমাইশি করছে তা বলা যেত। তারা যে পাপ করেছে, সেটার বোঝা বহন করতে হবে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের উপর আস্থা রাখতে হয়, তাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা থাকতে হয়। সেখানে স্বচ্ছতা নেই বলেই ইসির উপর আস্থা রাখতে পারছি না।

সুব্রত চৌধুরী বলেন, ইভিএম মহা ভোট ডাকাতির পদ্ধতি। মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করে বোকা বানিয়ে ইভিএমের উপর ভর করে আবারো ক্ষমতায় থাকতে চায়।

সেমিনারে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং টেস্টিং ডিভাইসে দেখানো হয় কীভাবে ইভিএমের মূল ভোটিং প্রোগামিং পরিবর্তন করা যায়। এর মাধ্যমে ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করা সম্ভব। সময়ভিত্তিক, সংখ্যা নির্ভর ও চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভরভিত্তিক কারচুপি সবই করা সম্ভব।

সেমিনারে ইভিএম মেশিন তৈরি করে ভোট কারচুপির পদ্ধতি দেখান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, ফয়সাল আলীম, আশরাফ উদ্দিন বকুল, তানবিরুল হাসান তমাল, মিজানুর রহমান ও তাবিথ আউয়াল প্রমুখ।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ পুলিশ-জনপ্রশাসনের ৯২ কর্মকর্তার প্রত্যাহার চেয়ে ইসিকে চিঠি ঐক্যফ্রন্টের


আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে পুলিশের শীর্ষ ৭০ এবং জনপ্রশাসনের ২২ জন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদাকে চিঠি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

প্রত্যাহার চাওয়া ওই ৯২ কর্মকর্তার একটি তালিকাও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট।

বৃহস্পতিবার বিএনপির মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠিটি নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের কাছে দেয়া হয়। ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম প্রধান শরিক বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল চিঠিটি ইসি সচিবের কাজে জমা দেন।

চিঠিতে তালিকায় উল্লেখিত কর্মকর্তাকে বিতর্কিত উল্লেখ করে তাদের প্রত্যাহারসহ নির্বাচনী সব ধরনের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখারও দাবি জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। এই তালিকায় রয়েছেন- পুলিশের ডিআইজি, অ্যাডিশনাল আইজি, অতিরিক্ত কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তা, এসপি এবং ডিসি। সেইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন সচিবের পদত্যাগও দাবি করা হয়েছে।

পুলিশের ৭০ কর্মকর্তার প্রত্যাহার চায় ঐক্যফ্রন্ট:
এই তালিকায় রয়েছেন এডিশনাল আইজিপি (প্রশাসন) মোখলেছুর রহমান, র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, এডিশনাল আইজি (টেলিকম) ইকবাল বাহার, ডিআইজি (নৌ পুলিশ) শেখ মো. মারুফ হাসান, ডিআইজি সিলেট রেঞ্জ মো. কামরুল আহাসান, ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জ খন্দকার গোলাম ফারুক, ডিআইজি খুলনা রেঞ্জ মো. দিদার আহমেদ, ডিআইজি রাজশাহী রেঞ্জ এম খুরশিদ হোসেন, কমিশনার (ডিআইজি কেএমপি) হুমায়ুন কবির, ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, কমিশনার (ডিআইজি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ মাহবুবুর রহমান রিপন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি, ঢাকা) মীর রেজাউল আলম, ডিআইজি (সিটি এসবি ঢাকা) মোহাম্মদ আলী মিয়া, ডিআইজি (রংপুর রেঞ্জ) দেবদাস ভট্টাচার্য, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি ডিএমপি) কৃঞ্চপদ রায়, ডিআইজি (পুলিশ হেডকোয়ার্টাস) হাবিবুর রহমান, ডিআইজি (অপারেশন পুলিশ হেডকোয়ার্টাস) আনোয়ার হোসেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পলিশনের কমিশনার হাফিস আক্তার, ডিআইজি (ট্রেনিং) ড. খ. মহিদ উদ্দিন, অরিরিক্ত কমিশনার (ডিএমপি) আবদুল বাতেন, র‌্যাব-৪ এর এডিশনার ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির, যুগ্ম কমিশনার (ডিএমপি) শেখ নাজমুল আলম, এডিশনার ডিআইজি (খুলনা রেঞ্জ) একে এম নাহিদুল ইসলাম, এডিশনাল ডিআইজি (খুলনা রেঞ্জ) মো. মনিরুজ্জামান, এডিশনার ডিআইজি (সিলেট রেঞ্জ) জয়দেব কুমার ভদ্র, এডিশনাল ডিআইজি (ঢাকা রেঞ্জ) মো. আসাদুজ্জামান, জয়েন কমিশনার (ডিবি) মাহবুব আলম, এসপি মোল্লা নজরুল ইসলাম, এসপি (টুরিস্ট পুলিশ, সিলেট) আলতাফ হোসেন, ডিসি (তেজগাঁও) বিপ্লব কুমার সরকার, ডিসি ডিএমপি হারুন অর রশীদ, ডিসি রমনা মো. মারুফ হোসেন সরকার, ডিসি (সিএমপি) এস এম মেহেদী হাসান, ডিসি (ডিবি, উত্তর) খন্দকার নুরুন নবী, ডিসি (সিএমপি) মো. ফারুকুল হক, ডিসি (কাউন্টার টেররিজম, ডিএমপি) প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, ডিসি (ডিএমপি) এস এম মুরাদ আলী, এডিসি (ডিএমপি) শিবলী নোমান, এসপি (ঢাকা) শাহ মিজান শফি, এসপি (নায়ারণগঞ্জ) মো. আনিসুর রহমান, এসপি (মুঞ্জিগঞ্জ) মো. জায়েদুল আলম, এসপি (নরসিংদী) মিরাজ, এসপি (টাঙ্গাইল) সনজিত কুমার রায়, এসপি (মাদারীপুর) সুব্রত কুমার হাওলাদার, এসপি (ময়মনসিংহ) শাহ আবিদ হোসেন, এসপি (শেরপুর) আশরাফুল আজিম, এসপি (সিলেট) মো. মনিরুজ্জামান, এসপি (বরিশাল) সাইফুল ইসলাম, এসপি (ভোলা) মোক্তার হোসেন, এসপি (খুলনা) এস এম শফিউল্লাহ, এসপি (সাতক্ষীরা) মো. সাজ্জাদুর রহমান, এসপি (বাগেরহাট) পঙ্কজ চন্দ্র রায়, এসপি (যশোর) মঈনুল হক, এসপি (ঝিনাইদহ) হাসানুজ্জামান, এসপি (কুষ্টিয়া) আরাফাত তানভির, এসপি (চট্টগ্রাম) নূর এ আলম মিনা, এসপি (নোয়াখালী) ইলিয়াস শরীফ, এসপি (ফেনী) এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, এসপি (কুমিল্লা) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, এসপি (রংপুর) মিজানুর রহমান, এসপি (দিনাজপুর) সৈয়দ আবু সায়েম, এসপি (ঠাকুরগাঁও) মনিরুজ্জামান, এসপি (রাজশাহী) মো. শহিদুল্লাহ, এসপি (চাপাইনবাবগঞ্জ) মোজাহিদুল ইসলাম, এসপি (নওগাঁ) ইকবাল হোসেন, এসপি (নাটোর) সাইফুল্লাহ, এসপি (বগুড়া) আশরাফ আলী, এসপি (সিরাজগঞ্জ) টুকুল চক্রবর্তী ও এসপি (পাবনা) রফিক ইসলাম।

জনপ্রশাসনের যে ২২ কর্মকর্তার প্রত্যাহার চায় ঐক্যফ্রন্ট:
নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ জনপ্রশাসনের ২২ জন কর্মকর্তার প্রত্যাহার চেয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। তাদের বিতর্কিত উল্লেখ করে তাড়াতাড়ি প্রত্যাহার করে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহিত দেয়ার দাবি জানায় দলটি। কী কারণে তাদের প্রত্যাহার করা দরকার তাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

নির্বাচন কমিশন সচিবের পদত্যাগের কারণ হিসেবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিতর্কিত ও অতিমাত্রায় প্রচারমুখী। বিসিএস ৮২ বিশেষ ব্যাচের এবং ৮৪ পদের শতাধিক কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে তাকে সচিব পদে পদায়ন করা হয়। তিনি নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের ডেকে নিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জেনেছি। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মহীউদ্দীনের একান্ত সচিব ছিলেন। মহীউদ্দীনের ছেলে ব্যারিস্টার নওফেল এখন আওয়ামী লীগের নেতা। যিনি এখন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে কমিশনে নিয়মিত যাতায়াত করেন। সচিবের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ।

অন্য কর্মকর্তারা হলেন- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, ভোলার ডিসি মো মাসুদ আলম সিদ্দিকী, চট্টগ্রামের ডিসি মো. ইলিয়াস হোসাইন, কুমিল্লার ডিসি মো. আবুল ফজল মীর ফেনীর ডিসি ওয়াহেদুজ্জামান, লক্ষ্মীপুরের ডিসি অঞ্জন চন্দ্র পাল, কিশোরগঞ্জের ডিসি সারোয়ার মোর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর ডিসি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, টাঙ্গাইলের ডিসি মো শহিদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের ডিসি সুরজ কুমার নাথ, খুলনার ডিসি হেলাল হোসাইন, কুষ্টিয়ার ডিসি মো. আসলাম হোসাইন, নড়াইলের ডিসি আঞ্জুমান আরা, ময়মনসিংহের ডিসি ড. শুভাস চন্দ্র বিশ্বাস, জয়পুর হাটের ডিসি মো. জাকির হোসাইন, নওগাঁর ডিসি মিজানুর রহমান, রাজশাহীর ডিসি আবদুল কাদের ও সিলেটের ডিসি কাজী ইমদাদুল হক।

তালিকা জমা দেয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘সরকারের এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উনাদের কাছে কিছু দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। প্রমাণাদিসহ নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সরকার কিংবা নির্বাচনী কোনো কর্মকর্তা যে কাজগুলো করতে পারেন না, সেই কাজগুলো অনবরত করা হচ্ছে। তার কয়েকটি উদাহরণ আমরা উনাদের সামনে তুলে ধরেছি এবং এগুলোর প্রতিকার চেয়েছি। ভবিষ্যতে যাতে এসব না ঘটে, আর যারা এসব করেছেন তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেয়া হয় চিঠিতে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সেই দাবিই জানানো হয়েছে।’

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আমরা আশা করি নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এব্যাপারে তড়িত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

উৎসঃ আরটিএনএন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here