আদালতপাড়ায় সক্রিয় জালিয়াতচক্র

0
78

আদালতপাড়ায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে জালিয়াতচক্র। সিন্ডিকেট তৈরি করে জামিন জালিয়াতি থেকে শুরু করে আদালত প্রাঙ্গণে নানা অবৈধ কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে তারা। বার কাউন্সিলের সনদ নেই, এমন ব্যক্তিরাও আইনজীবী সেজে মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীর সাথে প্রতারণা করছেন। ওইসব প্রতারকের সাথে আদালতের প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কেউ কেউ জড়িত রয়েছেন।

গত মাসে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে প্রশাসনিক কর্মচারীকে বরখাস্ত করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এইসব চক্র মামলার প্রকৃত তথ্য গোপন রেখে, ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে জামিন নিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করছে। ফলে খুন, ডাকাতি, মাদক কারবারির সঙ্গে জড়িত অনেক ভয়ঙ্কর আসামি ভুয়া জামিননামার মাধ্যমে জামিন নিয়ে চম্পট দিচ্ছে। উচ্চ আদালত থেকে শুরু করে সারা দেশে আদালতে বেশ কয়েকটি জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনা ধরা পড়েছে।

স¤প্রতি ৭০ লাখ পিস ইয়াবা মামলার আসামি জামিন জালিয়াতির রায়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। অপর একটি বেঞ্চ জালিয়াতির ঘটনায় আসামির জামিন বাতিল করেন। একই সঙ্গে ওই আসামিকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ইনকিলাবকে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন খোঁজখবর নিয়ে এই টাউট-দালাল উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছি। এদের কারণে আদালতের প্রকৃত আইনজীবীদের প্রফেশনে সমস্যা হচ্ছে। জামিন জালিয়াতির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। আদালত প্রাঙ্গণে এ ধরনের কর্মকান্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো আইনজীবী যদি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত দুই মাসে উচ্চ-নিম্ন আদালতে ভুয়া নারী আইনজীবীসহ অন্তত ১২ জন টাউট-দালালকে শনাক্ত করেন আইনজীবীরা। ঢাকা জজকোর্ট থেকে শুরু করে এমনকি সর্বোচ্চ আদালতেও ভুয়া আইনজীবীসহ কয়েকজন দালালকে শনাক্ত করা হয়। এ নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণ থেকে টাউট-দালাল ও তাদের সহকর্মীদের নির্মূলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন আইনজীবীরা। এ অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

হাইকোর্টের প্রশাসনিক ১ কর্মকর্তা বরখাস্ত : গত ৩০ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. গোলাম ফারুককে বরখাস্ত করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। হাইকোর্ট বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. গোলাম ফারুককে দুদকের দায়ের করা বিশেষ মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭ (১) ধারায় দন্ড প্রদান করা হয়।

গণকর্মচারী অধ্যাদেশ ১৯৮৫-এর ৩ (১) ধারার সাজা প্রাপ্তির কারণে বিদ্যমান অন্য যেকোনো আইনে অথবা বিধি, প্রবিধি, উপ-আইন, দলিলপত্র বা চুক্তি বা চাকরির শর্তাবলিতে যা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো কর্মচারী তফসিলে বর্ণিত ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হলে, রায় বা সাজার আদেশ ঘোষণার তারিখ হতে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি হতে বরখাস্ত হিসেবে গণ্য হবেন। প্রধান বিচারপতি এক আদেশে সাজার ৯ মে থেকে কোর্টের চাকরি থেকে তাকে বরখাস্ত করেন।

এর আগে মাসে জাল কাগজপত্র দিয়ে হাইকোর্ট থেকে জামিনের ঘটনায় যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত এক আসামির জামিন বাতিল করেছেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। একইসঙ্গে তাকে গ্রেফতার করার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দেন। মাগুরায় ১৯৯৪ সালে আসাদুজ্জামান ও হান্নান হত্যার ঘটনায় আসামি মোয়াজ্জেম হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়। পরে পলাতক থাকা অবস্থায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তা নামঞ্জুর হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে জাল কাগজপত্র দিয়ে গত ১৭ এপ্রিল জামিন নেন তিনি। বিষয়টি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরোয়ার কাজলের কাছে ধরা পড়লে তিনি আদালতের নজরে আনেন।

সুপ্রিম কোর্টে নারী টাউট আটক : গত মাসে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণাকারী এক নারী টাউট আটক করা হয়েছে। তানজিমা তাসকিন আদুরির বাড়ি রাজশাহী। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মাধ্যমে তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। ওই নারী নিজেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। জানা গেছে, বিভিন্ন নামে একাধিক ফেসবুক প্রোফাইল ব্যবহার করে সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করতেন।

ঢাকার আদালতপাড়ায় নারীসহ আটক ৪ : দীর্ঘদিন ধরে ওকালতনামা, বেলবন্ড, হাজিরা, কোর্ট ফি নকল ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত প্রতারকচক্রের এক নারীসহ তিন সদস্যকে গত ২৮ মে আটক করে ঢাকা আইনজীবী সমিতির টাউট উচ্ছেদ কমিটি। আটককৃতরা হলেন- হীরা ব্যাপারী, আবু ইউসুফ ওরফে সাইফুল, লাভলী আক্তার। এ ছাড়া এই চক্রের ওপর এক সদস্য জসিম পলাতক রয়েছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে নকল ওকালতনামা, হাজিরা, বেলবন্ড, ঢাকা বারের বর্তমান ও সাবেক সেক্রেটারির সিল, ঢাকা বারের লোগো, ওকালতনামায় ব্যবহৃত সিরিয়াল সিলসহ ৫ টাকা মূল্যর ৫৫০টি জাল কোর্ট ফি, ১০ টাকার জাল কোর্ট ফি ৩০টি, ২০ টাকা মূল্যের কোর্ট ফি ২৫০টি ও ২ হাজার জাল জামিননামা কাগজ এবং ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গত ১২ মে মোহাম্মদ ইউনুস নামে ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণাকারী এক টাউটকে আটক করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আইনজীবী না হয়েও আইনজীবী সেজে চেম্বার নিয়ে গাউন পরে শুনানি করে আসছেন মোহাম্মদ ইউনুছ। আজ তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গেছে, ভিজিটিং কার্ডে নিজেকে জজকোর্ট ও হাইকোর্টের আইনজীবী দাবি করা এই টাউট রীতিমতো দু’টি চেম্বারের ঠিকানাও ব্যবহার করেছেন। যেখানে একটি জজকোর্টের এবং অপরটি হাইকোর্টের চেম্বার উল্লেখ করা হয়েছে।

গাজীপুর আদালতে ৪ টাউট আটক : গত ১৬ এপ্রিল গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ৪ জন টাউটকে আটক করা হয়েছে। গাজীপুর আদালতে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক বিচারপ্রার্থী জানান, এভাবে যদি প্রতিটি স্থানে শুদ্ধি অভিযান চালানো হয় তবে নিশ্চিত সম্মানহানির ভয়ে হলেও অনেকে সঠিক পথেই রাখত নিজেদের। সাধারণ বিচারপ্রার্থী হিসেবে আমরা চাই আইনজীবী সমিতি এসব টাউট নিধনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে। এতে করে বিচারপ্রার্থীরা প্রতারণার হাত থেকে রেহাই পাবে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর মোর্শেদ প্রিন্স আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, একটি এজাহার দায়ের করে আটক ৪ জনকে সদর থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। মঞ্জুর মোর্শেদ আরও জানান, এই ৪ টাউট কেউ আইনজীবী পরিচয় দিত আবার কেউ নিকাহ রেজিস্ট্রার পরিচয় দিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে ঘুরে বেড়াত। বিচারপ্রার্থীদের বিভ্রান্ত করে অর্থ আত্মসাৎ করত।

উৎসঃ ‌‌‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‌ঈদের ছুটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৩


পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৫৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গত মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত চার দিনে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ধামরাইয়ে ৭, ফরিদপুরে ৬, কক্সবাজারে ৫, সিরাজগঞ্জে ৫, লালমনিরহাটে ৪, গোপালগঞ্জে ২, নেত্রকোনায় ২, রূপগঞ্জে ৩, ঢাকায় ৩, ঝিনাইদহে ২, টাঙ্গাইলে ২, মোংলায় ১, মাগুরায় ৩, চৌদ্দগ্রামে ১, রহনপুরে ১, কুয়াকাটায় ১, নবীনগরে ১, আশুলিয়ায় ১, পিরোজপুরে ২ ও গাজীপুরে ১ জন রয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরো কয়েক শতাধিক লোক। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর হানিফ উড়ালসড়কে এক ঘণ্টার ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনায় দু’জন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহত দু’জন হলেন মো. ইমন (২০) ও রিয়াজ আহম্মেদ (১৮)। এছাড়া মালিবাগ মোড়ে আরো এক মোটরসাইকেল আরোহীর নিহত হন।

বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে-

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, ঢাকার ধামরাইয়ে গত চারদিনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৭ জন।

আহত হয়েছে কমপক্ষে ৩০ জন। গত সোমবার ধামরাইয়ের কালামপুরে বাসের ধাক্কায় পিকআপ ভ্যান থেকে পড়ে চার যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- রাজবাড়ি সদরের কাচন্দ্র গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে নজরুল ইসলাম ও মাগুরা সদরের মাধবপুর গ্রামের সারোয়ার হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান। এদিকে ঈদের দিন গত বুধবার ও পরের দিন বৃহস্পতিবার পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও আহত হন ২৭ জন। ধামরাইয়ের বাথুলি বাসস্ট্যান্ডে বাস ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাইভেটকারের চালক বান্দু মোল্লা (৪০) ধামরাইয়ের কালামপুর বাসস্ট্যান্ডে মোটরসাইকেল চাপায় আরশেদ আলী (৮০) ও ধামরাই থানা রোড় এলাকায় মোতালেব হোসেন (৫৫) মারা যায়।

ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুর সদর উপজেলায় বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গাছে ধাক্কা দিলে ৬ জন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। ফরিদপুরের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. নুরুল আলম দুলাল জানান, গত বুধবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে ধুলদী রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহতদের মধ্যে ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঈদের দিন ও ২য় দিন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়ায় পৃথক ৩টি দুর্ঘটনায় এক ব্যাংক কর্মকর্তা, ২ চালক ও ২ হেলপারের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জনের পরিচয় পাওয়া গেলেও একজনের পরিচয় মেলেনি। নিহতরা হলেন, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কলেন সরদিয়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে ও অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড ঢাকার ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের এজিএম ইমারত হোসেন (৪২), ফরিদপুর সদরের জালাল মোল্লার ছেলে প্রাইভেটকার চালক রুবেল (৪৫), নেত্রকোনা সদরের বাসিন্দা ট্রাক চালক ও হেলপার চন্দন এবং ফারুক।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, ঈদের সকালে লালমনিরহাটে পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ দুর্ঘটনায় আরো ২০ জন আহত হয়েছেন। সদর উপজেলার বড়বাড়ি বাজারে কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতরা হলেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নিলুরখামার গ্রামের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে হাফিজুর রহমান (২৫), রংপুরের তাজহাট শেখপাড়ার আব্দুর রশিদের ছেলে আশরাফুল আলম (২৮), কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সিতাইঝাড় গ্রামের আবদুল আজিজ (৬০) ও ফারুক হোসেন (২৬)।

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, টেকনাফ বাহারছড়ায় মেরিন ড্রাইভ সড়কে যাত্রীবাহী একটি পিকআপ উল্টে গিয়ে ৩ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরো ১১ রোহিঙ্গা যাত্রী।

জানা যায়, শুক্রবার চট্টমট্রো ১১-৭০৩৭ একটি যাত্রীবাহী পিকআপ ২২ জন রোহিঙ্গা যাত্রী নিয়ে টেকনাফ থেকে বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। তার মধ্যে বেলা ১১টায় টেকনাফ বাহারছড়া কচ্চপিয়া নামক স্থানে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে রাস্তার খাদে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তিন রোহিঙ্গা যাত্রী প্রাণ হারায় ও গুরুতর আহত হয় আরো ১১ যাত্রী। আহতদের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্য ও টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে।

এদিকে শুক্রবার কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- মাইক্রোবাস যাত্রী রওশন আরা ও সনাক পাল।

স্টাফ রিপোর্টার, রূপগঞ্জ থেকে জানান, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে লেগুনার চালক ও ২ মহিলা যাত্রী নিহত হয়। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৩ জন যাত্রী। গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তারাব পৌরসভার তেতলাবো এলাকায় ঘটে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। নিহতদের মধ্যে ভৈরবের শুম্বপুর এলাকার আমিন মিয়ার স্ত্রী রিনা বেগম (৩২), একই জেলার বাজিতপুরের পিরোজপুর এলাকার মিজান মিয়ার স্ত্রী আছমা বেগম (৩৪) ও লেগুনার চালক অজ্ঞাত নামা নিহত হন।

মোংলা প্রতিনিধি জানান, ঈদের আগের দিন রাত সাড়ে ৯টায় বন্ধুর কাছ থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে পশুর নদীর বেড়িবাঁধে ঘুরতে গিয়ে আকাশ নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়। এ সময় আহত হয় পিন্ট নামে আরো ১ জন।

মাগুরা প্রতিনিধি জানান, মাগুরা সদর উপজেলার পাকা কাঞ্চনপুর গ্রামে মোটরসাইকেল ও নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে সোহাগ মোল্যা (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়াও গতকাল মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় কৃষ্ণ বিশ্বাস (৩৫) ও শ্যাম্যা (৫) পিতা-পুত্র নিহত হয়েছেন। নিহত কৃষ্ণ বিশ্বাস পেশায় একজন বেসরকারি ওষুধ কোম্পানি একমি’র বিক্রয় প্রতিনিধি। এ ঘটনায় কৃষ্ণ বিশ্বাসের স্ত্রী নিলীমা বিশ্বাস (৩২) আহত হয়েছেন। নিহত কৃষ্ণ বিশ্বাসের বাড়ি সদরের লক্ষ্মীকান্দর গ্রামে। মাগুরা সদর থানার এসআই গিয়াস উদ্দিন জানান, কৃষ্ণ বিশ্বাস তার স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে সদরের আলমখালী থেকে মাগুরায় আসছিলেন। এ সময় মাগুরা-ঝিনাইদহ সড়কের ইছাখাদা নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই পিতা কৃষ্ণ বিশ্বাস ও পুত্র শ্যামা নিহত হন।

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গত তিন দিনে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মো. তামিম (৭) নামের এক শিশু নিহত ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. কামরুল হুদাসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। নিহত তামিম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের আটগ্রামের প্রবাসী মাসুমের ছেলে।

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, রহনপুর পৌর এলাকার বাগদুয়ার পাড়ায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে সুলতানা (২৮) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে ।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জের গোপিনাথপুরে মোটরসাইকেল-মাইক্রোবাস মুখোমুখী সংঘর্ষে ২ যুবক নিহত ও অন্তত ৩ আহত হয়েছে। নিহত নয়ন ও অলিদের বাড়ি জেলার কাশিয়ানী উপজেলার চাপ্তা ও ঘোনাপাড়া গ্রামে। ঘটনাটি ঘটে ঈদের আগের দিন রাতে।

কুয়াকাটা প্রতিনিধি জানান, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ইউনুচ (১৮) মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছে। গতকাল ভোর ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ঈদের দিনে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ইমন মিয়া (১৪) নামে এক মাদরাসার ছাত্র নিহত হয়েছে। নিহত ইমন ইব্রাহিমপুর শাহ্‌ সুফি সাইয়্যেদ আজমত উল্লাহ্‌ (রাঃ) ফাজিল মাদরাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্র।

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, ঈদুল ফিতরের আগের দিন মঙ্গলবার সদর উপজেলার চল্লিশা রেল গেটের কাছে বাসের ধাক্কায় চল্লিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক মজিবুর রহমান ফসর আলী (৫৫) ও একই ইউনিয়নের বামনমোহা গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে আওয়ামী লীগ কর্মী শফিকুল ইসলাম (২৫) নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে মোটরসাইকেল চালক মহসিন মিয়া(২২)। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহের মহেশপুরে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুই আরোহী নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন আরো একজন। নিহতরা হলেন- চুয়াডাঙ্গার বারান্দী গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে রানা ( ২৪ ) ও ঝিনাইদহের জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে বিপুল হোসেন।

কালিহাতি (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে পিকআপ ভ্যান ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও অন্তত পাঁচজন। বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সল্লা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের একজন হলেন সজীব (১৪)। তাদের বাড়ি টঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার জীবনেশ্বর গ্রামে।

স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে জানান, বুধবার সকালে ঢাকার আশুলিয়ায় ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষে পুলিশের এক কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো চার পুলিশ। আশুলিয়া থানার এসআই মলয় সাহা জানান, নিহত নাদিম হোসেনসহ (২০) আহতরা সবাই আশুলিয়া শিল্প পুলিশের সদস্য।

পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, পিরোজপুর-বাগেরহাট সড়কের বলেশ্বির ব্রিজ সংলগ্ন মহেষপুরা এলাকায় দুই মোটরসাইকেল সংঘর্ষে দুই জন নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন ওই মোটরসাইকেলের আরেক আরোহী। বুধবার রাত ৮টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান মোড়েলগঞ্জ উপজেলার মহেষপুরা পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই রাজেট। নিহতরা হলেন সদর উপজেলার কুমারখালীর আফজাল সরদারের ছেলে সোহান সরদার (২৫) এবং একই এলাকার মহাদেব সাহার ছেলে স্বপন সাহা (২৪)।

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর থেকে জানান, গাজীপুরের মাওনা-গফরগাঁও আঞ্চলিক মহাসড়কের দুলর্ভপুরে চারটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন মোটরসাইকেলের সাত আরোহী। বুধবার বেলা ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহত সজীব হোসেন (২৪) শ্রীপুর উপজেলার গাজিয়ারন গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।

উৎসঃ ‌‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌কাতারে পাসপোর্টবিহীন পাইলট, বরখাস্ত হচ্ছেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা


পাসপোর্টবিহীন পাইলটকে ইমিগ্রেশনে পার হতে অনুমতি দেয়ায় সাময়িক বরখাস্ত হচ্ছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তা। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদকে পাসপোর্ট ছাড়াই দেশের বাইরে যেতে দেয়াসহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের দায়িত্ব অবহেলার ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসিমা বেগমকে কমিটির আহ্বায়ক করে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব(রাজনৈতিক-৪) হেলাল মাহমুদ শরীফ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী।

কমিটির সদস্য সচিব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব (রাজনৈতিক-১) জাহাঙ্গীর আলম।

শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব গাজী তারিক সালমনের সই করা এক আদেশে বলা হয়, পাসপোর্টবিহীন পাইলটের কাতার ভ্রমণের কারণ অনুসন্ধান করবে কমিটি। এছাড়াও বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের ত্রুটিগুলো শনাক্ত করা হবে বলেও এতে জানানো হয়েছে।

কমিটি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে।

সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনায় কয়েকজনকে ইতিমেধ্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়া সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় পাইলট ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করেননি বলে ইমিগ্রেশন পুলিশের অভিযোগ। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের পাইলট হওয়ায় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাও তার বিষয়ে ছিলেন নমনীয়।

ইমিগ্রেশন পুলিশের বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন) মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আজ বিকালের মধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ বলেন, ঈদের দিন বিকেলে রওনা হই। এদিন সবাই উৎসবমুখর ছিলেন। ইমিগ্রেশনে আমার পাসপোর্ট দেখতে চাইলে এ ভুলটি আর হতো না। আমি তখনই পাসপোর্ট এনে ফ্লাইটে যেতাম। আসলে আমি যেমন ভুল করেছি, ইমিগ্রেশনও ভুল করেছে।

জানা গেছে, বিদেশ সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনতে বুধবার রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বোয়িং ৭৮৭ মডেলের একটি ড্রিমলাইনার দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যায়। বিশেষ এই বিমানের পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ।

তিনি পাসপোর্ট ছাড়াই কাতার যান, যেটি ধরা পড়ে সেদেশের ইমিগ্রেশনে। পরে তাকে ইমিগ্রেশনে আটকে রাখা হয়।

আইন অনুযায়ী, পাসপোর্ট ছাড়া কারো দেশত্যাগ কিংবা অন্য দেশে প্রবেশের সুযোগ নেই। ফজল মাহমুদ কাতার ইমিগ্রেশনকে জানান, তার পাসপোর্ট বিমানের ফ্লাইট অপারেশন রুমের লকারে।

পরে বিমানের নিরাপত্তা মহাব্যবস্থাপকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট উদ্ধার করেন বিমানের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ মহাব্যবস্থাপক (জিএম সেন্ট্রাল কন্ট্রোল ) আশরাফ হোসেন।

তিনি জানান, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন জামিল আহমেদের নির্দেশনা মোতাবেক তিনি পাসপোর্ট উদ্ধার করেন এবং এই পাসপোর্ট কাতারে পাঠানোর উদ্যোগ নেন তিনি।

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হক যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের ব্যক্তিগত গাফিলতি। তিনি দেশে ফিরে আসার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে বিমানের পরিচালক (প্রশাসন) জিয়াউদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ভিভিআইপিকে বহন করতে যাওয়া কোনো ফ্লাইটের কোনো ক্রুর পাসপোর্ট ছাড়া যাওয়া ঠিক হয়নি। এটি বড় ধরণের অপরাধ। দেশে আসার পর তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে পাসপোর্ট ছাড়া লন্ডন যাওয়ায় বিমানের একজন পাইলটকে বড় অংকের আর্থিক জরিমানা গুনতে হয়েছে। ফজল মাহমুদ ড্রিমলাইনারের একজন ইনস্ট্রাকটরের দায়িত্বও পালন করছেন।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দেশে সরকারি সফরের অংশ হিসেবে বর্তমানে ফিনল্যান্ডে অবস্থান করছেন। ৮ জুন দোহা বিমানবন্দর হয়ে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তাকে বহন করতে বোয়িং ৭৮৭ মডেলের ড্রিমলাইনার বর্তমানে কাতার অবস্থান করছে।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌রাতের ভোটে কি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়, প্রশ্ন রিজভীর


‘বিএনপি বিদেশে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে’- ফিনল্যান্ডে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এ বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, দেশে মধ্যরাতে নির্বাচন হয়, ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচনে ১৫৩ আসনে ক্ষমতাসীনরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়, তাতে কি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে?

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় রিজভী বলেন, দেশ-বিদেশের সবাই জানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কীভাবে বাংলাদেশের সুষ্ঠু নির্বাচনকে নিরুদ্দেশ করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিংসা-প্রতিহিংসার ছোবলে গণতন্ত্রের শাশ্বত বাণী মত-পথ ও আদর্শের ভিন্নতার মধ্যে ঐক্যের মিলিত সুরকে ক্ষতবিক্ষত করেছেন। তিনি দেশকে চিরস্থায়ী বিভেদ-বিভাজনের সর্বনাশা নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এর একটি ভয়ঙ্কর উদাহরণ- রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ার কারণে দেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রেখেছেন। সত্তোরোর্ধ অসুস্থ একজন নারীকে আজ কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে। ঈদের দিনেও তার মুক্তি মেলেনি।

ঈদের রাতে পুরান ঢাকার জাহাজবাড়ি ভেঙে ফেলার নিন্দা জানিয়ে রিজভী বলেন, ঈদের রাতে ভেঙে ফেলা হলো পুরান ঢাকার জাহাজবাড়ি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেলিম লোকজন দিয়ে ঈদের রাতে হঠাৎ চকবাজারের এই ভবন ভেঙে ফেলেছেন বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। এ বাড়িটি একটি ঐতিহ্য। শতবর্ষী এই ঐতিহ্যবাহী ভবনটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। হাইকোর্টেরও নিষেধাজ্ঞা ছিল। তার পরও আওয়ামী দখলদারির হাত থেকে এই ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি রেহাই পেল না। এ ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো, আওয়ামী লীগ মূলত এখন ‘দখল লীগ’-এ পরিণত হয়েছে।

বিএসএমএমইউ হাসপাতাল থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বোমা উদ্ধারের ঘটনায় সেখানে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসনের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে দলের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। আমি আজকে আবারও বোমা উদ্ধারের ওই রহস্যজনক ঘটনায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সার্বিক নিরাপত্তা ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশঃ ফ্রিডম হাউস-এর প্রতিবেদন


বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় আঘাত বাড়ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ফ্রিডম হাউস। সংস্থাটি তাদের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার এ তালিকায় অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। সংবাদমাধ্যমের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতিবাচক অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।

বিজনেস ইনসাইডার জানায়, গণতন্ত্রের জন্য নেতৃত্বদানকারী দেশগুলোতেও গণমাধ্যম তার মতপ্রকাশে বাধার মুখে পড়ছে।

‘কোনো সমালোচনা দেখা দিলে তাকে থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে’।

ফ্রিডম হাউসের প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের যেখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে থাকার কথা, তারা উল্টো নিজেদের বিরুদ্ধে কিছু প্রকাশে বাধা দিচ্ছেন এবং নিজেদের পক্ষে খবর প্রকাশে সুবিধা দিচ্ছেন।

চীন, রাশিয়া, সৌদি আরবকে রাখা হয়েছে গণমাধ্যমের জন্য সবচেয়ে খারাপ দেশের তালিকায়। ভারত, পাকিস্তানের অবস্থান বাংলাদেশের তুলনায় ভালো বলে দেখানো হয়।

বাংলাদেশের তালিকায় আরো রয়েছে, কঙ্গো, কিউবা, মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ।

উৎসঃ ‌‌‌ফ্রিডম হাউস-এর প্রতিবেদন

আরও পড়ুনঃ ‌হাতীবান্ধা সীমান্ত থেকে বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ


হাতীবান্ধা সীমান্ত থেকে বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ঠাংঝাড়া সীমান্ত থেকে আতাবুল (২৮) নামের এক বাংলাদেশি গরু পারাপারকারীকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঠাংঝাড়া সীমান্তে ৯০৭ নং মেইন পিলারের ১০ নং সাব পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। আতাবুল (২৮) উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের ঠাংঝাড়া গ্রামের খোকা শেখের ছেলে।

বিজিবি জানায়, উপজেলার ঠাংঝাড়া সীমান্ত দিয়ে গরু পারাপার করার সময় ভারতের আরকে বিএসবাড়ী ১৪৩ নং ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ বাহিনীর একটি টহল দল আতাবুল (২৮) কে ধাওয়া করে আটক করেন। এ সময় অন্যরা পালিয়ে আসলেও আতাবুল বিএসএফ’র হাতে আটক হন।

রংপুর ৫১ বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিচালক লে. কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আতাবুল একজন নিয়মিত গরু পারাপারকারী। এ বিষয়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌‌বিডি-প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ‌একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে পর্যাপ্ত অভিযোগ আছে


বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও ‘সংকুচিত গণতান্ত্রিক’ পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটি বলেছে, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে পর্যাপ্ত একাধিক অভিযোগ আছে।’ যুক্তরাজ্য সরকারের ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি রিপোর্ট ২০১৮’-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের বিদেশ ও কমনওয়েলথ কার্যালয় থেকে আজ বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের মানবাধিকারের সুরক্ষা ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হোক—যুক্তরাজ্য দৃঢ় ও স্বচ্ছভাবেই এটা প্রত্যাশা করেছিল। গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তা সহায়তা করবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সব বিরোধী দলের এ নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা উৎসাহব্যঞ্জক ছিল। নির্বাচনের সময় গ্রেপ্তারসহ নানা রকম বাধা তৈরি করা হয়েছিল। যার কারণে বিরোধী দলগুলোর নির্বাচনী প্রচারণা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। নির্বাচনের দিনে নানা রকম অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ আছে। যার ফলে অনেকেই ভোট দিতে পারেননি।’

নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট যত রকমের অভিযোগ রয়েছে, তার সব কটির গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য বাংলাদেশের কাছে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।

গতকাল ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, নির্বাচন ইস্যু ‘ডান অ্যান্ড ডাস্টেড’। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ধুলোয় মিশে গেছে, এ আলোচনা শেষ৷ এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে এখন আর কোনো আলোচনা করার সুযোগ নেই৷

যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গেল বছর বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়ে যায়। এ ছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও কমেছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়েও নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে ৫৪ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবিরগুলোর অবস্থা উন্নত হয়েছে। যদিও আশ্রয়শিবিরে যৌন হয়রানি, মানব পাচার, অপরাধমূলক কাজসহ নারী-পুরুষের মৌলিক সেবাগুলো এখনো ঝুঁকির মুখে রয়ে গেছে।

ওই প্রতিবেদনে জাতিসংঘের সংস্থা ও এনজিওদের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের অতিরিক্ত সাত কোটি মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া মোট অর্থের পরিমাণ ১২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার।।

উৎসঃ ‌‌‌পালাবদল

আরও পড়ুনঃ ‌পদ্মার মা ইলিশ সরিয়ে নিতে ভারতের নতুন ষড়যন্ত্র!


বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশ যেন সাঁতার কেটে ভারতের এলাহবাদ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে সেজন্য ফারাক্কা বাঁধের স্লুইট গেটগুলো খোলা রাখার ব্যাপারে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফারাক্কা বাঁধের স্লুইস গেটগুলো প্রত্যেকদিন চার ঘণ্টা আরো ওপরে তুলে রাখা হবে।

ইলিশ যাতে অবাধে ভারতের এলাহাবাদে ঢুকতে পারে সে লক্ষ্যে নেয়া এ সিদ্ধান্ত চলতি বছরের জুন থেকে কার্যকর হবে। প্রত্যেক বছর ডিম ছাড়ার মৌসুমে (জুন মাসে) সমুদ্রের লোনা পানি থেকে বাংলাদেশের নদীগুলোতে উঠে আসে মা ইলিশ।

ফারাক্কা বাঁধের নেভিগেশন লকের কারণে বাঁধ পার হয়ে ভারতের দিকে যেতে পারতো না ইলিশ। ফলে বাংলাদেশের ভেতরেই ইলিশ অবাধ চলাচল করে।

গঙ্গার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পানি সম্পদ মন্ত্রী নিতীন গাদকরী। ইলিশ যেন সহজেই ফারাক্কা পার হয়ে উজানের দিকে এলাহাবাদে ঢুকতে পারে সেজন্য নেভিগেশন লকের ডিজাইন পরিবর্তন করা হয়েছে।

ভারতীয় নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের ভাইস চেয়ারম্যান প্রবীর পাণ্ডে বলেছেন, প্রত্যেকদিন রাত ১টা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত গেটগুলো খুলে রাখা হবে। কারণ এই সময়েই ইলিশ চলাচল করে।

দেশটির নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে ভারতে ইলিশ বেশি পরিমাণে পাওয়া যাবে।

উৎসঃ ‌‌‌sangbad247

আরও পড়ুনঃ ‌গণতন্ত্রের স্বার্থে নতুন করে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে: মির্জা ফখরুল ইসলাম


দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের স্বার্থে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অবিলম্বে এই নির্বাচন বাতিল করে নতুন নির্বাচন দিতে হবে।

শনিবার বিকালে টঙ্গীর আহসান উল্লাহ সরকার ইসলামিক ফাউন্ডেশন চত্বরে গাজীপুর মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮তম মৃত্যু বার্ষিকী ও ইফতার পূর্ব আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আলমগীর বলেন, নতুন নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সময়ে সহায়ক সরকার অর্থাৎ একটা নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। যারা নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে। আর সেই নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা পাবে।

মির্জা আলমগীর বলেন, আমাদের দেশের ষোলো কোটি মানুষের নেত্রী, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক, গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন কারারুদ্ধ। কারাগারে বসেই তিনি প্রতি মুহূর্তে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তিনি প্রতি সপ্তাহে শুধু একটি ম্যাসেজই পাঠান- দলকে যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ রাখুন। আমরা এ পর্যন্ত যতগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা-পরামর্শ করেই নিয়েছি। এমপিদের শপথ নেয়া এবং আমার শপথ না নেয়া সবই দলীয় সিদ্ধান্ত। আমাদের এমপিগণ সংসদে গিয়ে দেশনেত্রীর মুক্তির কথা বলবে। সারাদেশের মানুষ ও বিশ্বে মানুষ তাদের কথা শুনবে।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তা দূর করেন। যারা অভিমান করে দূরে সরে আছেন, তাদের কাছে টেনে নেন। তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে এক হউন। এটা আমাদের জনগণের দাবি। কোটি কোটি নেতাকর্মীদের দাবি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাবি। খালেদা জিয়াকে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক করে রাখা হচ্ছে। তাকে মুক্ত করতে হবে, গণতন্তকে মুক্ত করতে হবে। আর দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হলে আমাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্যে আসুন আমরা সবার আগে সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলি।

তিনি আরো বলেন, মনের মধ্যে যে ব্যাথা বেদনা আছে তা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। আমাদের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। দেশকে মুক্ত করতে হবে। বিএনপির কোনো সংকট নেই, এই সংকট হচ্ছে জাতির, বাংলাদেশের। আজকে যদি এ সংকট থেকে উত্তরণ করতে না পারি বাংলাদেশ থাকবে না, দেশের গণতন্ত্র থাকবে না। সুতরাং দেশ ও জাতির স্বার্থে গণতন্ত্রের স্বার্থে আজকে নতুন নির্বাচন দেয়া, অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়া এখন একমাত্র কর্তব্য। আর এটাই আমাদের দাবি।

গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি হাসান উদ্দিন সরকারের সভাপতিত্বে ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব উদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, কেন্দ্রীয় সদস্য মো. মজিবুর রহমান, ডা. মাজহারুল ইসলাম, বিএনপি নেতা শাহ মো. রিয়াজুল হান্নান, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আফজাল হোসেন কায়সার, মো. শহীদ উজ্জামান, আহম্মদ আলী রুশদী, আজিজুর রহমান পেরা, বশির আহমেদ বাচ্চু, কাউন্সিলর হাসান আজমল ভূইয়া প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌‌justnewsbd

আরও পড়ুনঃ ‌‘কৃষকদের প্রতি সরকারের দয়া-মায়া নেই, কারণ তারা ভোটে নির্বাচিত হয়নিঃ ড. খন্দকার মোশাররফ


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘কৃষকদের প্রতি সরকারের কোনো দয়া-মায়া নেই। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। আওয়ামী লীগের ভুল পলিসির কারণে কৃষক তাদের মাঠের পাকা ধান পুড়িয়ে দিয়েছে।’

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মোশাররফ বলেন, ‘গণতন্ত্র বন্দী থাকায় আজকে সব জায়গায় এত অনিয়ম। এই বন্দী গণতন্ত্রকে আগে মুক্ত করতে হবে। তার আগে গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এজন্য জনগণের মধ্যে ইস্পাত কঠিন গণঐক্য তৈরি করতে হবে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে এখন মুক্তি দিন। আর তো জেলে রাখার দরকার নেই। আপনাদের কাজ তো আপনারা করেই ফেলেছেন। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীকে বন্দী রেখে একতরফাভাবে ভোট ছাড়াই তো ক্ষমতা দখল করেছেন। এখন ঈদের আগেই তাকে মুক্তি দিন। তা না হলে জনগণ যখন বিক্ষোভ করবে তখন কিন্তু এক মুহূর্তও টিকতে পারবেন না।’

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সংকটকালীন সময়ে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে আরো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাহলেই আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা সম্ভব হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘গণতন্ত্রের জননী খালেদা জিয়া জেলে কষ্ট করছেন। মাত্র দুই কোটি টাকা কেন্দ্র করে এমনটি করা হয়েছে। অথচ প্রধানমন্ত্রীর কাছের লোকজন দুই হাজার কোটি টাকা বা তার চেয়েও বেশি নিয়ে যাচ্ছে তার কোনো শাস্তি হচ্ছে না।’ বর্তমানে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার কোটি টাকা চলে যাচ্ছে এসব টাকার কী হবে তা জানতে চান তিনি।

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, ‘কোনো ষড়যন্ত্র করে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসেননি। ক্ষমতার শূন্যতায় ও জনগণের প্রয়োজনে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দেশে যখন সব দল নিষিদ্ধের মাধ্যমে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল সেখান থেকে আওয়ামী লীগসহ সব দলকে পুনর্জীবিত করেছিলেন জিয়াউর রহমান। বাকশাল গঠন করে মোট ৪৩টি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান এই সকল রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তিনি গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন জন্যই তাকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা বলা হয়।’

সংগঠনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন- কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌‌justnewsbd

আরও পড়ুনঃ ‌‘১৯’ আতঙ্ক ছাত্রলীগকে পিছু ছাড়ছে না !


ছাত্রলীগে এখন বড় আতঙ্কের নাম গাণিতিক সংখ্যা ‘১৯’। সংগঠনটির ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে তুমুল বিতর্কের ফলে কেন্দ্রীয় নেতাদের জন্য সংখ্যাটি এখন ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় কমিটির অর্ধশত বিতর্কিত নেতাকে বাদ দিতে পদবঞ্চিতদের আন্দোলনের মুখে ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা থেকেই এ আতঙ্কের উৎপত্তি। ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ শূন্যের এ সংখ্যা ঘোষণা করলেও পদ বা ব্যক্তির নাম ঘোষণা করেনি। ফলে এই ১৯ জন কারা- সেটাই এখন সংগঠনটির আলোচনার কেন্দ্রে। এ অবস্থায় পদ পেয়েও প্রত্যাশিত উচ্ছ্বাস নেই কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে।

অন্যদিকে বিতর্কিতদের বাদ দিতে রোজার মধ্যে টানা ছয় দিন রাজু ভাস্কর্যে পদবঞ্চিতদের অবস্থান, এ আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। যদিও ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে তার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে শূন্যপদ বাড়তে পারে, কমতেও পারে।

গত ২৮ মে দিবাগত রাত ১টায় এই ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করেন ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এর আগে গত ১৩ মে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়। ৩০১ সদস্যের এ কমিটির শতাধিক নেতার বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে পদ পাওয়া এবং বিভিন্ন অন্যায়, অপকর্ম ও অনুপ্রবেশের অভিযোগ ওঠে। নতুন কমিটির সদস্যদের মধ্যে হত্যা মামলার আসামি থেকে শুরু করে বিবাহিত, বিএনপি-জামায়াত সংশ্লিষ্টতা, মাদক গ্রহণ ও ব্যবসা, চাকরিজীবীর নাম রয়েছে। অন্যদিকে এই কমিটিতে জায়গা হয়নি সর্বশেষ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ ও অবস্থানে থাকা প্রায় অর্ধশত নেতার। এতে ক্ষোভ জানিয়ে কমিটি প্রত্যাখ্যান করলে তাদের ওপর দু’দফায় হামলা করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা।

১৫ মে চাপের মুখে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ১৭ জন বিতর্কিত নেতার একটি তালিকা প্রকাশ করেন। তাদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তথ্য-প্রমাণসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করে পদগুলো শূন্য হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। এরপর ১৬ মে বিভিন্ন অপরাধ অপকর্মে জড়িত এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও রেওয়াজ পরিপন্থী উপায়ে পদপ্রাপ্ত বিতর্কিত ৯৯ নেতার নাম প্রকাশ করেন পদবঞ্চিতরা। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব ও পদবঞ্চিতদের এমন মুখোমুখি অবস্থানের ফলে আওয়ামী লীগের ৪ সিনিয়র নেতার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ১৭টি পদ শূন্য ঘোষণা করেনি।

এদিকে কমিটি গঠনের পর ১৫ মে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে সংগঠনটির নতুন কমিটির শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। তখন অপরাধী ও বিতর্কিতদের কমিটি থেকে বাদ দিতেও নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ সেই নির্দেশনা পালন না করে ২৭ মে মধ্যরাতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন কর্মসূচি ঘোষণা করে ছাত্রলীগ। ফলে ২৬ মে দিবাগত রাত ১টা থেকে ফের আন্দোলনে নামেন পদবঞ্চিতরা। শুক্রবার টানা ষষ্ঠ দিনের মধ্যে অবস্থান অব্যাহত রেখেছেন তারা। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে যোগ্যদের পদায়ন না করা পর্যন্ত তারা এ অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। ১৯টি শূন্য পদের নাম প্রকাশের দাবিও রয়েছে তাদের। দাবি না মানলে তারা বাড়ি যাবেন না, ঢাকায়ই ঈদ করবেন।

ছাত্রলীগের সদ্যবিদায়ী কমিটির প্রচার সম্পাদক (বর্তমান কমিটিতে পদবঞ্চিত) সাইফ উদ্দিন বাবু যুগান্তরকে বলেন, আন্দোলনের মুখে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রথমে ১৭ জনের কথা স্বীকার করলেও ১৪ দিন পর ১৯ জনের পদ শূন্য করার কথা উল্লেখ করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। তাদের এই পদক্ষেপ আজ প্রমাণ করল আমাদের দাবি ও আন্দোলন গুরুত্বহীন ছিল না। ১৯টি পদ শূন্য হলেও এখন পর্যন্ত যে যার মতো স্বপদে বহাল আছে। এটা শুধু সুপরিকল্পিত নয়, অপরাজনীতি ও চাতুরীও বটে। অবিলম্বে শূন্য হওয়া ১৯ জনের নাম ও পদের বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের সব দাবি মেনে কমিটি পুনর্গঠন না করা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

সদ্যবিদায়ী কমিটির কর্মসূচি ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, অভিযুক্ত শতাধিক নেতার নাম আমরা বলেছি। তাদের মধ্যে অকাট্য দলিলসহ ৫০ জনের তালিকা দিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে অসংখ্যবার যোগাযোগ করেও পাইনি। পরে নানক ভাইকে (জাহাঙ্গীর কবির নানক) দিয়েছি। অথচ নতুন নাটক সাজিয়ে ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করে একটি প্রেস রিলিজ দেয়া হয়েছে। যা একেবারেই অস্পষ্ট। সেখানে কারও নাম নেই, কোনো কিছু সুস্পষ্টভাবে বলা হয়নি। আমরা এই ছল-চাতুরীর প্রতিবাদ জানাই। ১৯টি শূন্যপদের নাম ঘোষণা করতে আমরা ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলাম। তা-ও মানা হয়নি। এভাবে সংগঠন চলতে পারে না। আমাদের দাবি, সব বিতর্কিতকে সংগঠন থেকে বাদ দিতে হবে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তা না করা পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন চলবে।

এ ছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির অন্তত ১০ জন নেতা যুগান্তরকে বলেছেন, এই ১৯টি শূন্যপদের নাম ঘোষণা করা উচিত। কারণ তারা পদ পেয়েও এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তৃণমূলে সেভাবে কাজ করতে পারছেন না। অনেকেই জিজ্ঞেস করছেন, ‘ভাই, উনিশ জনের মধ্যে আছেন নাকি?।’ তারা বলছেন, সামনে ঈদ। পদপ্রাপ্তদের প্রায় সবাই গ্রামের বাড়িতে যাবেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অথচ পদ নিয়ে ধোঁয়াশা অবস্থার কারণে তারা কর্মসূচি সাজাতে পারছেন না। তাই ঈদের আগেই শূন্যপদের বিষয়টি স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শূন্যপদের নাম ঘোষণা না করার বিষয়ে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী যুগান্তরকে বলেন, যেসব পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে তাদেরকে কিন্তু সংগঠন থেকে অব্যাহতিও দেয়া হয়নি বহিষ্কারও করা হয়নি। যেহেতু অভিযোগ এসেছে তাই ১৯টি পদ শুধু শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এই ১৯ জনের বিষয়ে আমরা কিছু জায়গায় সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। যেমন, এদের একজন বিয়ে করেছে কিন্তু বউ মারা গেছে। আরেকটা মেয়ের ডিভোর্স হয়েছে তিন বছর আগে। আরেকজন তিন বছর আগে চাকরি করত। আমরা এদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না বলে আমাদের একমাত্র অভিভাবক জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য অপেক্ষা করছি। তিনি দেশে ফিরলে তার সঙ্গে কথা বলে শূন্যপদের নাম ঘোষণা করা হবে।

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, আমাদের যে বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে অনীহা নেই, সেটা বোঝানোর জন্যই পদগুলো শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। আপা (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) দেশে এলে তার কাছে অভিযুক্তদের নাম, পদ ও অভিযোগ উত্থাপন করা হবে। পরে তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করব। এ ক্ষেত্রে শূন্যপদ বাড়তেও পারে, কমতেও পারে। গঠনতন্ত্রের বয়সের নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের প্রথম গঠনতন্ত্র শেখ হাসিনা। আমরা যদি তাকে বোঝাতে পারি যে দলের বৃহত্তর স্বার্থে একটা ছেলে তার বয়স যদি দুই মাস বেশি হয়, আপা যদি তাকে রাখতে বলেন, তাহলে সে থাকবে। তবে সিদ্ধান্ত অবশ্যই আপার।

আন্দোলনকারীদের কাছে বিতর্কিত অর্ধশত নেতার অকাট্য দলিল আছে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে গোলাম রাব্বানী বলেন, অকাট্য দলিল একজনেরও নেই। এটা যদি তারা বলে থাকে ভুল বলেছে। অকাট্য দলিল থাকলে তো আমদেরই দিত। ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বা দফতর সেলে অভিযোগ না দিয়ে মিডিয়াকে বা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের দেয়ার সুযোগ নেই।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌হতাশ হবেন না, আওয়ামীলীগও ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল : খন্দকার মাহবুব হোসেন


সরকার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি রেখেছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, যেসব মিথ্যা মামলায় বেগম জিয়াকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে তার একটিতে জামিন পেলে আরেকটি মামলা দিয়ে তাকে আটকে রাখা হচ্ছে। আশা করি এই বাংলাদেশের মানুষ এই জালিম সরকারের বিরুদ্ধে একদিন জেগে উঠবেই। বাংলাদেশের মানুষ যেদিন বিস্ফোরিত হবে সেইদিন এদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গনে জাতীয়তাবাদি আইনজীবী ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দোয়া ও দরিদ্রদের মধ্যে ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন এসব কথা বলেন।

নেতা কর্মীদের হতাশ না হওয়া আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগও ২১ বছর ক্ষমতার ছিল। বাইরে তাদের উপর অনেকেই অত্যাচার অনাচার করেছিলো। তারপরেও তারা ক্ষমতায় এসেছে। বর্তমান সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের উপরে নির্যাতিত করে যে অবস্থায় রেখেছেন একদিন ইনশাল্লাহ একদিন তারা মুক্ত হবে, দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে, খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে, গরীব দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটবে।

মাহবুব হোসেন আরো বলেন, জিয়াউর রহমান সব সময় দুঃখী মানুষের কল্যাণে কাজ করে গিয়েছিলেন। বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছে। যেসব মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে আমরা বারবার চেষ্টা করেও এক মামলায় জামিন করালে তারা আরেক মামলায় গ্রেফতার দেখায়। বাংলাদেশের মানুষ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল বারি ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম তালুকদার রাজা, অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, অ্যাডভোকেট আজিজ আল মামুন, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু প্রমুখ। অনুষ্ঠানে তিনশ দরিদ্রকে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here