কথিত দুর্নীতির একটি মামলায় হাজিরা দিতে খালেদা জিয়া আদালতে এক ঘণ্টা

0
163

কথিত দুর্নীতির একটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে এক বছর আগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যান। আরেকটি কথিত দুর্নীতি মামলায় আজ বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। ঘণ্টাখানেক তিনি ছিলেন আদালতে। বেশির ভাগ সময়ই ছিলেন চুপচাপ।

এক বছর আগে দণ্ডিত হওয়ার পর পুলিশের গাড়িতে করে খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালত থেকে কারাগারে নেওয়া হয়। আজও খালেদা জিয়াকে পুলিশের গাড়িতে করে আদালতে নেওয়া হয়। আদালতকক্ষে হুইলচেয়ারে বসে ছিলেন খালেদা জিয়া।

এক বছরের ব্যবধানে খালেদা জিয়া কথিত দুর্নীতির দুটি মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। ইতিমধ্যে একটি মামলায় (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা) হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার দণ্ড বহাল রেখেছেন। আরেকটি মামলায় (জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা) বিচারিক আদালত রায়ও প্রকাশ করেছেন। কথিত নাইকো দুর্নীতি মামলায় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে নিয়মিত শুনানি চলছে। চলতি বছরে সেখানে খালেদা জিয়াকে হুইলচেয়ারে করে তিনটি শুনানির তারিখে হাজির করা হয়েছে।

তিন নেতার সঙ্গে খালেদার আলাপ
সকাল থেকে পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে স্থাপিত আদালত ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক প্রহরা। আশপাশের রাস্তায় অবস্থান নেন পুলিশ বাহিনীর সদস্য, মোড়ে মোড়ে রাখা হয় পুলিশের বিশেষ গাড়ি।

কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে খালেদা জিয়াকে বহনকারী পুলিশের গাড়ি আদালতের সামনে পৌঁছায়। গাড়ি থেকে নামানোর পর আদালতে হুইলচেয়ারে বসে ছিলেন খালেদা জিয়া। গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার আসামি খালেদা জিয়া আসার পর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন এজলাসে আসেন। শুরু হয় শুনানি। তখন আদালতে হাজির বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী অ্যানি এগিয়ে যান খালেদা জিয়ার কাছে। দুজন কথা বলেন দুই থেকে তিন মিনিট।

কী বললেন খালেদা জিয়া, জানতে চাইলাম শহীদ উদ্দীন চৌধুরী অ্যানির কাছে। অ্যানি বললেন, ‘ম্যাডাম জানালেন, তাঁর শরীর বেশি ভালো যাচ্ছে না।’ রাজনীতিকেন্দ্রিক কোনো আলোচনা খালেদা জিয়ার সঙ্গে হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

শুনানির শুরুতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতকে বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমরা এই মামলার জব্দ তালিকার কাগজপত্র এখনো হাতে পাইনি। আদালতে আবেদন করেছি। ওই কাগজপত্র ছাড়া আমরা কীভাবে শুনানি করব।’ আদালত তখন খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের জানিয়ে দেন, শিগগিরই তাঁরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেয়ে যাবেন। শুনানির এই পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদিন এগিয়ে যান খালেদা জিয়ার কাছে। এক থেকে দেড় মিনিট তাঁদের কথা হয়।

দুদকের আইনজীবী (পিপি) মোশাররফ হোসেন কাজলকে অভিযোগ গঠনের শুনানির পক্ষে বক্তব্য দিতে বলেন আদালত। আদালতের অনুমতি নিয়ে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন মোশাররফ হোসেন। আদালতকে তিনি জানান, মামলার এজাহার হওয়ার পর দুদকের তদন্তে উঠে আসে, কীভাবে খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য আসামি গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় জড়িত। মামলার এজাহারে নাম ছিল ১৩ জনের, তদন্তে উঠে আসে ২৪ জনের। এর মধ্যে কয়েকজন (ছয়জন) মারাও গেছেন।

মোশাররফ হোসেন আদালতকে বলেন, গ্লোবাল এগ্রো ট্রেড কোম্পানি বা গ্যাটকো তুলার ব্যবসা করে। কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করার কোনো অভিজ্ঞতা তাঁদের ছিল না। কারিগরি মূল্যায়ন কমিটিও একই কথা বলে যে গ্যাটকো কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করার অভিজ্ঞতা নেই। মন্ত্রিসভার ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিও গ্যাটকোকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করে। এমন পরিস্থিতিতে তৎকালীন প্রধান খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন সাবেক নৌমন্ত্রী আকবর হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন সাইমন।

দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের কাজে অনভিজ্ঞ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ক্ষতি করেছেন।

শুনানি চলার একপর্যায়ে খালেদা জিয়ার কাছে যান এ মামলার আসামি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দু-এক মিনিট খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলার পর আবার তিনি তাঁর আসনে গিয়ে বসেন। এরপর খালেদা জিয়ার কাছে যান স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ও মামলার আসামি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

খালেদা জিয়া আজ যাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁদের মধ্যে সব থেকে বেশি সময় ধরে (৯ মিনিট) কথা বলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে। এক ঘণ্টার বেশি সময় আদালতে অবস্থান করা খালেদা জিয়া বেশির ভাগ সময় চুপচাপ ছিলেন। তিন কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়াও কথা বলেছেন পাঁচজন আইনজীবীর সঙ্গে।

বিএনপির নির্বাচিত সাংসদেরা শপথ নেবেন কি না, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আদালত চত্বরে খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে চান না।’

খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন এমন কয়েকজন নেতার ভাষ্য, বিএনপির নির্বাচিত সাংসদেরা শপথ নিক, তা চান না খালেদা। দল গোছানোর দিকে মনোযোগ দিতে বলেছেন নেতাদের।

বেলা দুইটার কিছুক্ষণ পর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি ঠিক করে এজলাস ত্যাগ করেন। এরপর খালেদা জিয়াকে ঘিরে রাখেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। কালো রঙের পুলিশের একটি গাড়িতে করে খালেদা জিয়াকে কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া গাড়িতে থেকে আদালতের সামনে দাঁড়ানো বিএনপির নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরীসহ অন্যদের হাত নেড়ে বিদায় জানান।

আদালতে ফাতেমা
খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডাদেশের পর থেকে তাঁর গৃহকর্মী ফাতেমা খাতুন আছেন তাঁর সঙ্গে। প্রতিবারের মতো আজও খালেদা জিয়ার সঙ্গে আদালতে আসেন ফাতেমা। হুইল চেয়ারে বসে থাকা খালেদা জিয়ার পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ফাতেমা। ৪২ মিনিট খালেদার পাশে দাঁড়িয়ে থাকার পর খানিকটা দূরে গিয়ে তিনি একটি চেয়ারে বসেন। মিনিট দশেক পর ফাতেমা চেয়ার থেকে উঠে আবার খালেদা জিয়ার কাছে আসেন। শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফাতেমা খালেদা জিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

গ্যাটকো মামলা
২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়াসহ ১৩ জনকে আসামি করে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা করে দুদক। ২০০৮ সালের ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২৪ আসামির মধ্যে ৬ জন মারা গেছেন। তাঁরা হলেন: খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো, সাবেক মন্ত্রী বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, সাবেক মন্ত্রী এম কে আনোয়ার, এম সাইফুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী (মানবতাবিরোধী মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর), চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান অর্থ এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আহমেদ আবুল কাশেম।

অভিযোগপত্র দেওয়ার পর গ্যাটকো মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই হাইকোর্ট এই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন ও রুল দেন। ওই সময় থেকে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত ছিল। আর ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট জারি করা রুল খারিজ করে রায় দেন বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ও বিচারপতি আবদুর রবের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

উৎসঃ ‌প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ আবারও ছাত্রকে জিম্মি করে চাঁদা নিল ছাত্রলীগের ৪ নেতা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে শিবির আখ্যা দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের ঘটনা তিনমাস আগের। এবার এক শিক্ষার্থীকে মাদক ব্যবসায়ী ও ছাত্রদল কর্মী আখ্যা দিয়ে দশ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের সেই নেতা শাফিউর শাফিসহ ছাত্রলীগের তিন নেতার বিরুদ্ধে।

গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি চাওর হয়।

ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে অভিযুক্তরা হলেন, শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুরঞ্জিত প্রসাদ বৃত্ত, সহ-সম্পাদক আরমান কায়সার আবির, শফিউর সাফি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আল ওয়াসী জীম।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্য, সোমবার সন্ধ্যায় আবির, জীম ও সফি ইমরানকে বৃত্তের সঙ্গে দেখা করতে ডেকে নিয়ে আসে। এরপর তাকে মাদক ব্যবসায়ী ও ছাত্রদল কর্মী আখ্যা দিয়ে বিশ হাজার টাকা দাবি করে বৃত্ত। টাকা না দিলে তাকে মারধর ও পুলিশে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়।

পরে সেখান থেকে ইমরান চলে আসার পর সফি, আবির ও জীম বৃত্তকে টাকা দেয়ার জন্য বারবার চাপ দেয়। একপর্যায়ে সে দুই হাজার টাকা বিকাশ করে পাঠায় এবং বাকি টাকা দিতে পারবে না বলে জানালে বৃত্ত তাকে মারধর করেন। পরে ইমরান তার কয়েকজন বন্ধুর কাছ থেকে ধার নিয়ে দশ হাজার টাকা বৃত্তের হাতে দেন।

তবে অভিযুক্তরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি-ইমরানের সঙ্গে তার এক বন্ধুর ঝামেলা হয়েছিল। সেই ঝামেলা মিমাংসা করার জন্য ইমরানকে ডেকে কথা বলা হয়েছে কিন্তু মারধর ও চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে শাফিউর শাফির বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর হস্তক্ষেপে টাকা ফিরে পায় ওই শিক্ষার্থী।

আবারও একই ঘটনার জন্ম দেয়ার বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। রাতে আমরা ওই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়: ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ


বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়টি এখন সরকারের ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে মন্তব্য করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। যেহেতু আদালতের মাধ্যমে সম্ভব নয়। তাই আন্দোলন।’

বৃহস্পতিবার(৭ ফেব্রয়ারি) বিকেলে সুপ্রিমকোর্ট অডিটোরিয়ামে ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে মওদুদ বলেন, ‘আন্দোলন বললেই আন্দোলন হবে না। আমাদের নেতাকর্মীরা যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, যাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়েছে, যাদের হত্যা করেছে। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’

আন্দোলন বিষয়ে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘আন্দোলন কাকে নিয়ে করবেন? যারা আন্দোলন করবে তারা তো দাঁড়াতে পারে না। আন্দোলন যাদেরকে নিয়ে করবেন তাদেরকে পুনর্বাসন করতে হবে। তাদের মধ্যে আস্থা, বিশ্বাস ফিরিয়ে আনেন। তাদেরকে আমাদের সঙ্গে একত্রিত করেন। তাহলে তারা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য আন্দোলন করবে। এই দুঃসময়ে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদেরকে এবং তরুণদের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে হবে। এই পুনর্বাসন যদি আমরা করতে পারি তাহলে সম্ভব। এই সরকার যে শূণ্যতা সৃষ্টি করেছে তা আর তখন থাকবে না। সরকার বেশিদিন আনন্দে থাকতে পারবে না। কোনো না কোনো সময়ে আন্দোলন হবে, সরকারের পতন হবে।’

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে দেখা হয়েছে নেত্রীর সঙ্গে। তার শরীর খুবই নরম হয়ে গেছে। কিন্তু মনোবল শক্ত। দুই হাতে ব্যথা। ফুলে গেছে। পা’টা মাটিতে রাখা সম্ভব হয় না। আজকে এক বছর হয়ে গেছে তাঁর কারাবন্দির।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের তিন বারের প্রধানমন্ত্রীকে একটি ছোট্ট, ভিত্তিহীন কারণে সাজা দেয়া হয়েছে। এই মামলায় ৭ দিনের বেশি জেলে থাকার কথা নয়। অথচ হাইকোর্টে জামিনের পরও তাকে দুই মাস জেল খানায় থাকতে হলো। তাকে এরপর ছোট ছোট মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। কুমিল্লা, নড়াইল আর ঢাকার তিনটি মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো। এরপর চলে গেলো নিম্ন আদালতে। নিম্ন আদালত তো পুরোপুরি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। সুপ্রিমকোর্টের কোনো এখতিয়ার নাই বললেই চলে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আমরা এমন অবস্থায় আছি, আইনের মধ্য দিয়েও খালেদা জিয়া মুক্ত করা যাবে না, বেআইনি ভাবেও না। তাই আমাদেরকে মাঝামাঝি কিছু একটা করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নীর্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘আন্দোলন সংগ্রাম ছাড়া কোনো মুক্তি নাই, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নাই। ১৬ কোটি মানুষের মুক্তি নাই। এ লক্ষ্যে প্রতিদিন আন্দোলন হবে প্রতি সপ্তাহে আন্দোলন হবে। আর সেই আন্দোলন করেই আমাদের বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশন ও জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বিএনপি শক্তিশালী না হলে আইনজীবী সংঘঠনও শক্তিশালী হয় না। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, অনেকবার দেখেছি আইনিভাবে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। এখন আমাদের উচিৎ ঐক্যবদ্ধ হওয়া, ঐক্যবদ্ধ না হলে যতোই আন্দোলন কর্মসূচি দেন কোনো লাভ হবে না। আমরা আমি না হয়ে আমরা সকলে আমরা হতে হবে।’

সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশন ও জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন- ব্যারিস্টার আমিনুল হক, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাড. মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আজাদ মাহবুব, শাহ আহমেদ বাদল, অলিউর রহমান খান, খোরশেদ মিয়া আলম, মনির হোসেন, সাইদুর রহমান প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ময়মনসিংহে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের কথা স্বীকার করল ছাত্রলীগ নেতা হামিদুল ইসলাম আকাশ


ময়মনসিংহে এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ছাত্রলীগ নেতা হামিদুল ইসলাম আকাশ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর মাসকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি গণধর্ষণের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) উজ্জ্বল কান্তি সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হামিদুল ইসলাম আকাশ ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা। গত ২৩ জানুয়ারী শহরের মাসকান্দা এলাকার সেবা মাদক নিরাময় কেন্দ্রের ২য় তলার একটি কক্ষে ওই ছাত্রীকে দুই বন্ধু মিলে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের শিকার মেয়েটি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী।

কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) উজ্জ্বল কান্তি সরকার জানান, ময়মনসিংহ নগরীর বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর সঙ্গে স্থানীয় এক ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক সময় তাদের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। এরপরও ছেলেটি মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করতে থাকায় এলাকার বড় ভাই হিসেবে ওই ছাত্রলীগ নেতার কাছে বিচার প্রার্থী হয় মেয়েটি। পরে ওই ছাত্রলীগ নেতা মীমাংসা করার কথা বলে গত ২৩ জানুয়ারি শহরের মাসকান্দা এলাকার সেবা মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র নিয়ে যায় মেয়েটিকে। সেখানে হামিদুর রহমান আকাশ ও ওই নিরাময় কেন্দ্রের কর্মকর্তা (মালিক) রাজিব তাকে গণধর্ষণ করে। এ ঘটনায় বুধবার মেয়েটির বড় ভাই থানায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় গ্রেফতার হামিদুর রহমান আকাশ পুলিশের কাছে তার অপরাধ স্বীকার করেছেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের জড়িত থাকাসহ অপর সহযোগীর নাম প্রকাশ করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

উৎসঃ ‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ মুক্ত গণতন্ত্রের তালিকায় নেই বাংলাদেশ


নাগরিক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকারের বিচারে তৈরি মুক্ত গণতান্ত্রিক দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই। সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশকে ‘আংশিক মুক্ত’ গণতন্ত্রের দেশহিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা ফ্রিডম হাউস। সংস্থাটির ‘ফ্রিডম ইন দ্য ওয়ার্ল্ড-২০১৯’ শীর্ষক রিপোর্টে দেখা যায়, গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ১০০ পয়েন্টের মধ্যে ৪১ পয়েন্ট লাভ করেছে।

সুনির্দিষ্টভাবে রাজনৈতিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ৭ স্তরবিশিষ্ট নিম্নমুখী সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম স্তরে। একই ভাবে নাগরিক স্বাধীনতার সূচকেও বাংলাদেশ পঞ্চম অবস্থানে। আর সামগ্রিকভাগে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার ৭ স্তর বিশিষ্ট নিম্নমুখী সূচকেও বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম স্তরে। আর ১০০ স্তরবিশিষ্ট সূচকে বাংলাদেশ পেয়েছে ৪১ পয়েন্ট। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা বাহিনী বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক দমনপীড়ন চালিয়েছে।

তারা নন্দিত ব্যক্তিদেরকে গ্রেপ্তার ও ভীতি প্রদর্শন করেছে। আর ব্যাপক অনিয়মের কারণে ওই নির্বাচন চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে সহিংসতা ঘটেছে। যাতে এক ডজনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

শুধু বাংলাদেশই না, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলেও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি ঘটছে। ফ্রিডম হাউসের গবেষণা রিপোর্ট বলছে, টানা ১৩ বছর ধরে গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির অবনতি দেখছে বিশ্ব। সুপ্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক দেশ থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অধীনে থাকা দেশ পর্যন্ত, সব খানেই গণতন্ত্রের স্বাধীনতাসূচক নিম্নমুখী। এর কারণ হিসেবে সংস্থাটি মনে করে, বিশ্ব রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন মেরূকরণের কারণেই পূর্বের তুলনায় অধিক দেশ এখন কর্তৃত্ববাদের প্রতি ঝুঁকছে। আর এতে গণতন্ত্র পিছু হটছে।

রিপোর্টে গণতান্ত্রিক অবস্থার ভিত্তিতে বিশ্বের দেশগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলো মুক্ত, আংশিক মুক্ত ও মুক্ত না। পূর্ববর্তী কয়েক বছরের মতো এবারো বাংলাদেশের ঠাঁই হয়েছে আংশিক মুক্ত ক্যাটাগরিতে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও মিয়ানমারও আংশিক মুক্ত গণতন্ত্রের তালিকায় রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসেবে ভারত মুক্ত গণতন্ত্রের তালিকায় রয়েছে। দেশটির স্কোর ৭৫। বৈশ্বিক পর্যায়ে গণতান্ত্রিক সূচকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সুইডেন, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড। ইউরোপের এই দেশগুলো ১০০ পয়েন্টের মধ্যে পুরো পয়েন্ট অর্জন করেছে। মুক্ত গণতন্ত্রের তালিকায় স্থান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশটির গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে ফ্রিডম হাউস।

উৎসঃ ‌ফ্রিডম হাউসের রিপোর্ট

আরও পড়ুনঃ রাষ্ট্রের হাজার কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে, দুদক যাচ্ছে প্রাইমারি স্কুলে!


সরকারের অনুগত দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দিন দিন ব্যাপক সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছেন। দুর্নীতির অনুসন্ধানে তিনি সারাদেশ চষে বেড়াচ্ছেন। ছুটে চলছেন এক জেলা থেকে আরেক জেলা। তিনি এখন এমন ব্যক্তিদের পেছনে লাগছেন যাদের কাজে ফাঁকি দেয়ার কিছু সুযোগ আছে, কিন্তু দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক চাইলেও কোনো টাকা-পয়সা আত্মসাত করতে পারবেন না। কারণ, বেতন ছাড়াতো তাদের কাছে আর কোনো টাকা আসে না। তবে ক্লাস ফাঁকি দেয়ার একটা সুযোগ তাদের আছে। কিন্তু দুদক চেয়ারম্যান বিষয়টিকে এমনভাবে তুলে ধরছেন যেন রাষ্ট্রের সকল অনিয়ম-দুর্নীতি শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই হচ্ছে।

রোববার চট্টগ্রামের ৩টি স্কুলে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। একটি স্কুলে ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ৭ জনই অনুপস্থিত ছিল। এটা অবশ্যই বড় ধরণের অন্যায় ও শিক্ষার জন্য খুবই ভয়ঙ্কর বিষয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসলে শিক্ষার নামে কি হচ্ছে সেটা বেরিয়ে এসেছে।

এখন প্রশ্ন হলো-শুধু প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের পেছনে দৌড়ানোই কি দুদকের মূল কাজ?

বিগত কয়েক বছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের লাখ লাখ কোটি টাকা লোপাট হয়ে গেছে। শেয়ারবাজার থেকে এক লাখ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া দরবেশ নামে খ্যাত সেই সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ লুটকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সরকারের সর্বোচ্চ ব্যক্তির নির্দেশেই ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে। ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান সরাসরি এই রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত। অথচ এনিয়ে দুদক নীরব ভুমিকা পালন করছে।

রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় দুর্নীতির আখড়া হিসেবে খ্যাত। টিআইবির পক্ষ থেকে কয়েক মাস পর পরই রাষ্ট্রের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিভিন্ন অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজদের নিয়ে সিরিজ প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটি মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি দুদককে।

এছাড়া, প্রতিবছর দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইন্টেগ্রিটির মতে, শুধু ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ২০১৬ সালেও সংস্থাটি এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তারপর পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতেও বাংলাদেশের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদের নাম এসেছিল। কিন্তু এসব বিষয়েও দুদকের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেলেও এসবের তদন্ত করার কোনো প্রয়োজনীয়তা মনে করছে না দুদক।

তবে, বিরোধীদলের কোনো নেতার বিরুদ্ধে কোনো তথ্য পেলে সেটা নিয়ে আবার ডাকঢোল পিটিয়ে মাঠে নামে।

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ মনে করছে, সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতি চাপা দিতেই দুদক চেয়ারম্যান এখন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের পেছনে লেগেছেন। প্রাইমারি স্কুলের তদারকির জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসই যথেষ্ট। দুর্নীতিবাজদের ধরার নামে দুদক চেয়ারম্যান আইওয়াশ করছেন।

কেউ কেউ বলছেন, দুদক চেয়ারম্যান এখন সরকারের দাসে পরিণত হয়েছেন। দাস যেমন মনিবের অন্যায়-অপকর্মের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারে না, ইকবাল মাহমুদও ঠিক দাসের মতো সরকারের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারছে না।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‘রাতের ভোট নিয়ে জাসদের বক্তব্যের কী জবাব দেবেন কাদের’


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্সভর্তিসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার কথা স্বীকার করে জাসদ যে বক্তব্য দিয়েছে তার কী জবাব দেবেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) বলেছে, ২৯ তারিখ রাতেই ব্যালটবক্স ভরা হয়। এখন আওয়ামী লীগের ‘ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি’ ওবায়দুল কাদের কী জবাব দেবেন।

প্রসঙ্গত, জাসদের জাতীয় কমিটির সাধারণ সভায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এতে বলা হয়, ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্সভর্তিসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার কথা কবুল করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)।

গত ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাসদের জাতীয় কমিটির সাধারণ সভা হয়। এতে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে এভাবে মূল্যায়ন করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত সভার মূল বিষয় নিয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জাসদ তাদের সভার মূল্যায়ন তুলে ধরেছে। এতে বলা হয়েছে দেশের সব রাজনৈতিক দল ও জনগণ উদ্দীপনা ও আশা নিয়ে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনের পরে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়েছে গোটা জাতি।

এর মূল কারণ হিসেবে প্রশাসনের একটি অংশকে দায়ী করে বলা হয়, প্রশাসনের একশ্রেণির অতি উৎসাহী অংশ ভোটের আগের রাতেই ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ব্যালট বাক্সভর্তি করে রাখাসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত করেছে।

উৎসঃ ‌jugantor

আরও পড়ুনঃ কাদেরকে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার ডাক রুহুল কবির রিজভীর


বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘ওবায়দুল কাদের এখন স্বেচ্ছায় বিএনপির উপদেষ্টা হতে চলেছেন। খামাখা আওয়ামী লীগে থেকে তাঁর লাভ কী? বরং ওবায়দুল কাদেরকে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, বিএনপির দরজা খোলা আছে।’ আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রতিনিয়ত বিএনপিকে উপদেশ দিচ্ছেন। সভা-সমিতি, মঞ্চ, গণমাধ্যম ও ব্রিফিংয়ে বিএনপির কী করা উচিত, বিএনপির পরিণতি কী হবে, বিএনপি নির্বাচনভীতিতে ভুগছে, বিএনপি সংসদে যোগ দেবে ইত্যাদি নানা কথার ‘খই ফুটাচ্ছেন’ প্রতিদিন। তিনি বলেন, সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী হিসেবে ওবায়দুল কাদের ‘শালীনতা’, ‘ভব্যতার গুণমান’ বিবেচনা না করে বিএনপির বিরুদ্ধে ক্রমাগত উপদেশের ভাঙা টেপ রেকর্ড বাজিয়েই চলেছেন।

রিজভী অভিযোগ করেন, ‘অনাচারের’ পাহাড়সমান স্তূপে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ভীতসন্ত্রস্ত, কখন কী হয় আতঙ্কে তাঁদের সারা দিন কাটে। বিভিন্ন এলাকায় তাঁরা তলেতলে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা শুরু করেছেন। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আওয়ামী নেতা-কর্মীরা আসলেই উদ্বিগ্ন। ক্ষমতার বৃক্ষ ‘উপড়ে’ যাওয়ার পর অনাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা গভীর দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সে জন্য স্বেচ্ছায় বিএনপির উপদেষ্টার আসনে বসতে চাইছেন ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য নেতারা।

এ সময় রিজভী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি সংসদে না গেলেও প্রতিনিয়ত বিএনপি ও জিয়া পরিবারকে নিয়ে সংসদে বিষোদ্‌গার করছেন প্রধানমন্ত্রী। সবার বাক্‌স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে একাই লাগামহীন কথাবার্তা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বিরোধী দলকে কারাগারে ঢুকিয়ে নির্বাচনী ময়দান শূন্য করার পর বিজয় তো প্রত্যাশিত হবেই।’

খালেদা জিয়ার বিষয়ে রিজভী বলেন, পথের কাঁটা সরানোর জন্য খালেদা জিয়ার মতো বিপুল জনপ্রিয় একজন জাতীয় নেত্রীকে এক বছর ধরে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। দাগি খুনিদের মুক্তি দিয়ে নির্দোষ ব্যক্তি জাহালমকে তারা জেল খাটায়। বাহুবলে বিরোধী শক্তিকে তারা নির্মূল করার চেষ্টায় লিপ্ত। জাতীয় থেকে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত দুর্নীতির বিস্তার, নারী-শিশু নির্যাতনের ভয়ংকর প্রকোপ, সড়কে মৃত্যুর মিছিল, গুম ও খুনের ভয়াবহ আধিপত্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণসহ দেশব্যাপী গণতন্ত্র এখন হাহাকার করছে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার নীতির প্রতি যারা অবাধ্য, তাদের ঠিকানা হচ্ছে কারাগার।

বিএনপি নেতা রিজভী আরও বলেন, ‘আজ বিএনপির চেয়ারপারসন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, গণমানুষের নেত্রী, গণতন্ত্রের প্রতীক ও গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়াকে প্রতিহিংসা পূরণের সাজা দেওয়ার এক বছর পূর্ণ হলো। চরম অবিচার আর অন্যায়ের আঘাতে খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করা হয়েছে। এটি ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সাজা।’ তিনি খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চান।

এ ছাড়া খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সারা দেশে বিএনপির বন্দী নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে আগামীকাল শুক্রবার বেলা আড়াইটায় ঢাকার রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে। ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর বাদে দেশব্যাপী একই দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে বলেও জানান রিজভী।

উৎসঃ ‌prothomalo

আরও পড়ুনঃ রাষ্ট্রের হাজার কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে, দুদক যাচ্ছে প্রাইমারি স্কুলে!


সরকারের অনুগত দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দিন দিন ব্যাপক সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছেন। দুর্নীতির অনুসন্ধানে তিনি সারাদেশ চষে বেড়াচ্ছেন। ছুটে চলছেন এক জেলা থেকে আরেক জেলা। তিনি এখন এমন ব্যক্তিদের পেছনে লাগছেন যাদের কাজে ফাঁকি দেয়ার কিছু সুযোগ আছে, কিন্তু দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক চাইলেও কোনো টাকা-পয়সা আত্মসাত করতে পারবেন না। কারণ, বেতন ছাড়াতো তাদের কাছে আর কোনো টাকা আসে না। তবে ক্লাস ফাঁকি দেয়ার একটা সুযোগ তাদের আছে। কিন্তু দুদক চেয়ারম্যান বিষয়টিকে এমনভাবে তুলে ধরছেন যেন রাষ্ট্রের সকল অনিয়ম-দুর্নীতি শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই হচ্ছে।

রোববার চট্টগ্রামের ৩টি স্কুলে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। একটি স্কুলে ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ৭ জনই অনুপস্থিত ছিল। এটা অবশ্যই বড় ধরণের অন্যায় ও শিক্ষার জন্য খুবই ভয়ঙ্কর বিষয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসলে শিক্ষার নামে কি হচ্ছে সেটা বেরিয়ে এসেছে।

এখন প্রশ্ন হলো-শুধু প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের পেছনে দৌড়ানোই কি দুদকের মূল কাজ?

বিগত কয়েক বছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের লাখ লাখ কোটি টাকা লোপাট হয়ে গেছে। শেয়ারবাজার থেকে এক লাখ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া দরবেশ নামে খ্যাত সেই সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ লুটকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সরকারের সর্বোচ্চ ব্যক্তির নির্দেশেই ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে। ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান সরাসরি এই রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত। অথচ এনিয়ে দুদক নীরব ভুমিকা পালন করছে।

রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় দুর্নীতির আখড়া হিসেবে খ্যাত। টিআইবির পক্ষ থেকে কয়েক মাস পর পরই রাষ্ট্রের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিভিন্ন অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজদের নিয়ে সিরিজ প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটি মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি দুদককে।

এছাড়া, প্রতিবছর দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইন্টেগ্রিটির মতে, শুধু ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ২০১৬ সালেও সংস্থাটি এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তারপর পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতেও বাংলাদেশের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদের নাম এসেছিল। কিন্তু এসব বিষয়েও দুদকের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেলেও এসবের তদন্ত করার কোনো প্রয়োজনীয়তা মনে করছে না দুদক।

তবে, বিরোধীদলের কোনো নেতার বিরুদ্ধে কোনো তথ্য পেলে সেটা নিয়ে আবার ডাকঢোল পিটিয়ে মাঠে নামে।

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ মনে করছে, সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতি চাপা দিতেই দুদক চেয়ারম্যান এখন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের পেছনে লেগেছেন। প্রাইমারি স্কুলের তদারকির জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসই যথেষ্ট। দুর্নীতিবাজদের ধরার নামে দুদক চেয়ারম্যান আইওয়াশ করছেন।

কেউ কেউ বলছেন, দুদক চেয়ারম্যান এখন সরকারের দাসে পরিণত হয়েছেন। দাস যেমন মনিবের অন্যায়-অপকর্মের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারে না, ইকবাল মাহমুদও ঠিক দাসের মতো সরকারের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারছে না।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে আর দুদক ব্যস্ত শিক্ষকদের নিয়ে: হাইকোর্ট


দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যকলাপে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলেছেন, ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে আর শিক্ষকদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দুদক।

বৃহস্পতিবার কোচিং সেন্টার নিয়ে শুনানিকালে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ এ কথা বলেন।

আদালত বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বড় বড় রাঘববোয়ালদের ধরে এনে ছেড়ে দিয়ে স্কুলশিক্ষকদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দুদক।

যেখানে ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়ে যাচ্ছে, সেখানে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা স্কুলে যাচ্ছেন কি যাচ্ছেন না তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তারা।

দুদক দুর্নীতিবাজ রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না উল্লেখ করে আদালত বলেন, ছোট দুর্নীতির আগে বড় বড় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। তবেই দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব হবে।

উৎসঃ ‌juganto

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here