উচ্চ আদালত তাহলে হাসিনার নির্দেশেই চলছে!

0
346

জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের কথিত ২ কোটি টাকা দুর্নীতির নামে শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বান্দি করে রাখছেন এটা এখন প্রমাণিত হয়ে গেছে। কাগজে-পত্রে বিচার বিভাগ স্বাধীন হলেও আসলে এটা যে এখন আওয়ামী লীগেরই একটা শাখা শেখ হাসিনার ফোনালাপ থেকে সেটাও প্রমাণ হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছে হোটেলে যাওয়ার পথে সেন্ট্রাল লন্ডনের তাজ হোটেলের সামনে অবস্থানরত যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সাথে টেলিফোনে কথা বলার সময় শেখ হাসিনা বলেছেন, ঐ বিএনপিরে জানাই দিয়েন যে তারেক জিয়া যদি আমার সাথে বেশি বাড়াবাড়ি করে, তার মা জীবনেও জেল থেকে বের হবে না। কারণ শেখ হাসিনাকে চাপ দিয়ে কোন কিছু আদায় করা যায় না, তার বুঝা উচিত। তাদের এমপিরা জয়েন করছে। তাদের একটি ডিমান্ড ছিলো তার চিকিৎসার। আমরা কনসিডার করতে রাজি। আমার সাথে অনেকে দেখা করছে। কিন্তু আমি এখানে আসার পর যদি তারা বেশি বাড়াবাড়ি করে, আমি তাদের বলবো সরি। তোমাদের লোকরা আমার সাথে বেয়াদবি করছে। আমি দিবো না সরি।

জানা গেছে, তিনি টেলিফোনে যখন কথা বলছিলেন, তখন মোবাইলটি লাউড স্পিকারে ছিলো।

উপস্থিত অনেকেই তখন শেখ হাসিনার এই টেলিফোন আলাপটি রেকর্ড করেন। যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

শেখ হাসিনার এই ফোনালাপ ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই এনিয়ে রজনৈতিক অঙ্গনসহ সবমহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এনিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। সবাই বলছেন-খালেদা জিয়া জামিন পাবেন কি পাবেন না সেটা নির্ধারণ করবে আদালত। কিন্তু শেখ হাসিনা বলছেন-খালেদা জিয়া জীবনেও মুক্তি পাবে না। এরমানে-শেখ হাসিনার নির্দেশ ছাড়া যে বিচারপতিরা কিছুই করতে পারেন না সেটা আজ প্রমাণ হলো। সুপ্রিম কোর্ট এখন কার্যত আওয়ামী লীগের আদালত শাখা।

এদিকে, রাজনীতিক বিশ্লেষকরাও প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে বিস্মিত হয়েছেন। তারা বলছেন- রাষ্ট্রের একজন শেখ হাসিনার মুখ দিয়ে এমন কথা কোনোভাবেই বের হতে পারে না। এর মাধ্যমে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। কারণ, শপথ নেয়ার সময় তিনি বলেছেন-আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনুরাগ-বিরাগের ঊর্ধ্বে থাকিব। অথচ খালেদা জিয়ার জামিন ও মুক্তি নিয়ে তিনি যা বলেছেন তা সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে। দেশে যদি আজ আইনের শাসন থাকতো তাহলে শেখ হাসিনার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসা আর সম্ভব হতো না। শপথ ভঙ্গের দায়ে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতো।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌কী বিকল্প ছিল বিএনপির সামনে


রাজনীতিতে ইউটার্ন নিয়ে সংসদে গেছে বিএনপি। বিশেষ একটি পরিস্থিতিতে শেষ মুহূর্তে এসে সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিন্তু কৌশলগত কারণে শপথ নেননি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ নেয়ার ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের চাপ থাকলেও যুক্তি দেখিয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকেছেন তিনি। শীর্ষ নেতৃত্বের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে দলের নেতাকর্মীসহ শুভাকাঙ্ক্ষী মহলে। পুরো বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিরাজ করছে কৌতূহল। গুঞ্জনের ডালপালা ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে। কিন্তু সংসদে না গিয়ে কি করতে পারতো বিএনপি? দলটির সামনে কার্যকর বিকল্পই বা কী ছিল? শপথ না নিলে কি ধরনের সঙ্কটে পড়তে পারতো, এখন কি ধরনের সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে বিএনপির নীতির্নিধারক ফোরামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও দলটির শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে পরিচিতদের অনেকেই তাদের মতামত জানিয়েছেন। সংসদে যাওয়া ছাড়া বিএনপির সামনে কী বিকল্প ছিল? এমন প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর কারো কাছে নেই। মুখ খুলতে চান না বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেতারা। সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও দলের ভাঙন রক্ষায় এ সিদ্ধান্তটি এসেছে বলে মনে করেন প্রায় সবাই এবং তারা প্রশংসা করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দূরদর্শিতার। তবে বিএনপির সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্তে কিছুটা হলেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে ২০ দলীয় জোটে। ইতিমধ্যে এই ইস্যুতে জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ।

বিএনপি নেতাসহ শুভাকাঙ্ক্ষীদের কেউ কেউ বলছেন, সংসদে যাওয়ার কোন বিকল্প ছিল না। সংসদে না গিয়ে দাবি আদায় বা রাজনীতির মাঠে তেমন কিছু করার সক্ষমতা নেই বলেই কি বিএনপিকে এমন ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হলো। কেউ বলছেন, একমাত্র বিকল্প ছিল আন্দোলন। বিএনপি রাজপথে থাকলেই ভাল হতো। যদিও রাজপথে থাকলে ক্ষতির আশঙ্কাও কম ছিল না। কোন অবৈধ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত না হয়ে জোর গলায় একে ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যানোর মাধ্যমেই কেবলমাত্র এই রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তনের পথ নিশ্চিত করা সম্ভব। অনেকেই বলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির লুকোনোর কিছু নেই। যদি রাজনৈতিক কারণে সমঝোতার প্রশ্ন আসে, সেটা প্রকাশ করলে নেতাকর্মীদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হতো না। বিএনপি ও অঙ্গদলের নেতাদের অনেকেই সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্তের চেয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, বিএনপি যেভাবে সংসদে গেছে সেটা উচিত হয়নি। এখানে সংসদে যাওয়ার প্রক্রিয়া সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তবে সংসদে যাওয়া উচিত ছিল এবং সেটা কৌশলী অবস্থান তৈরির মাধ্যমে আরো আগে গেলেই ভালো হতো। কারণ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদে না যাওয়া গণতান্ত্রিক চরিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেউ বলছেন, একজনের বিদ্রোহ, চারজনের শপথ গ্রহণ এবং মহাসচিবের শপথ না নেয়ার পুরো বিষয়টিই সম্পন্ন হয়েছে একধরনের গোঁজামিলের মধ্যদিয়ে। গত এক দশকে বিএনপির সামনে একেকটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি এসেছে। আর বিএনপি সে পরিস্থিতির শিকারে পরিণত হয়ে হাবুডুবু খেয়ে অসহায়ের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবারের সংসদে যোগদানের বিষয়টাও তারই ধারাবাহিকতা।

ঢাকা মহানগর বিএনপির এক নেতা বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মাধ্যমেই একাদশ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। তারপরও সে জোটের কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। কিন্তু সংসদে অংশগ্রহণ প্রশ্নে জোটগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে সিদ্ধান্তটিকে সার্বজনীন করে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। বিএনপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতার যায়গা হচ্ছে সিদ্ধান্তগ্রহণে দ্বিধা, অহেতুক বিলম্ব এবং শেষ মুহুর্তে তড়িঘড়ি। এটি শপথগ্রহণের সিদ্ধান্তের মধ্যদিয়ে আরো প্রকটভাবে প্রত্যক্ষ করলো দেশবাসী। প্রবীণ এক নেতা বলেন, সংসদে না গিয়ে বিএনপি কিছু করতে না পারলেও আওয়ামী লীগকে লিগ্যাসির সংকট নিয়েই চলতে হতো। বিএনপি সংসদে না যাওয়া মানে আওয়ামী লীগের অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার দাবি টিকে থাকা। অবৈধ তো অবৈধ। তাই আওয়ামী লীগের অবৈধ বা বিতর্কিতভাবে ক্ষমতায় থাকাটা সবসময় তাদের জন্য শঙ্কার বিষয় থাকতো। আওয়ামী লীগ এখন সেই সংকট থেকে মুক্ত। সংসদে গিয়ে মূলত বিএনপি ২০১৮ সালের নির্বাচনকে বৈধতা দিল। আবার খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন জেলা বিএনপির এক নেতা। তিনি বলেন, কি কৌশল নিয়ে আমরা নির্বাচনে গেলাম? যদি সংসদে যেতেই হতো কেন সংসদে যাওয়ার জন্য তখন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিরোধী দল হওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়ে কৌশল নির্ধারণ করা হলো না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির কয়েকজন অ্যাক্টিভিস্টের মতে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যথাসময়েই নিতে হয়। গ্রীষ্মের সিদ্ধান্ত বর্ষায় নিলে প্রশ্ন যেমন উঠে, কার্যকারিতাও পড়ে প্রশ্নের মুখে।

সংসদে না গেলে বিএনপি কি কি অসুবিধায় পড়তো- এমন প্রশ্নের উত্তরে সম্ভাব্য নানা আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। বিএনপি দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতার মতে, সংসদে যাওয়া আর না যাওয়া বিষয় নয়। যে প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত এলো তা অস্পষ্ট। এতে ফ্যাসিস্ট সরকারকে আস্কারা দেয়া হলো। এ সিদ্ধান্ত শুরুতেই নিতে হতো। তারা বলছেন, সংসদে না গেলে বিএনপি নিধনে অত্যাচারের মাত্রা দীর্ঘায়িত হতো। দলে ভাঙন ধরানোর জোরালো অপচেষ্টার মুখে পড়তে হতো। অন্য একজন নেতা বলেন, সংসদে না গেলে বিএনপি গণমানুষের আস্থায় থাকতে পারতো, এখন সেই আস্থায় কিছুটা হলেও চিড় ধরেছে। সংসদে না গেলে বিএনপি দাবি আদায়ে কোনো স্পেস পেতো না, তবে এখনো পাবে বলে বিদ্যমান ব্যবস্থা স্বীকৃত করে না।

বিএনপির একজন প্রবাসী নেতা বলেছেন, বিএনপি না গেলেও সংসদকে জায়েজ বানানোর জন্য এখন যারা শপথ নিয়েছেন তাদেরকে জোরপূর্বক নেয়া হতো। কেউ কেউ বলছেন, এমপিরা সংসদে না গেলে নতুন করে বড় কোনো অসুবিধায় পড়তো না বিএনপি। বরং বহিষ্কৃৃত এমপিদের সদস্যপদ বাতিল করার জন্য রিট করে রাখলে সেটা ভবিষ্যতে সকল দলের জন্য রেফারেন্স হয়ে থাকতো। সংসদ বিষয়ে অভিজ্ঞ এক নেতা বলেন, বিএনপি সংসদে না থাকলে দলীয় কোন এমপির বিরুদ্ধে সদস্যপদ খারিজের আবেদন করলেও সেটা কার্যকর করতে পারতো না। সংসদীয় বিধির অস্পষ্টতার পুরো সুযোগ নিতো সরকার। বিএনপির বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা বলেছেন, দলগতভাবে বিএনপির সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি। এটা সত্য যে, দলীয়গতভাবে সিদ্ধান্ত না নিলেও বিএনপির বেশিরভাগ এমপি ঠিকই শপথ নিতো। এই বিষয়টি মাথায় রেখে দলীয় চেইন অফ কমান্ড ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে দলের ইমেজ রক্ষা করতে শীর্ষ নেতৃত্ব শেষ মুহূর্তে এসে শপথ নেয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে এটা পরিষ্কার। জেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, সংসদে না গেলে দলীয়ভাবে দলের কোনো ক্ষতি হতো না। বরং বিএনপি সংসদে না গেলে এই ভোটারবিহীন নির্বাচনে গঠিত অবৈধ সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দেশে-বিদেশে প্রচার প্রচারণা আরো ব্যাপকতা লাভ করতো।

সংসদে যাওয়ায় বিএনপি কি কি সুবিধা পাবে এবং অসুবিধাই বা কি হতে পারে- এমন জিজ্ঞাসার জবাবে কিছু প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। তারা বলছেন, এ সিদ্ধান্তের লাভ-লোকসানের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, কিভাবে সিদ্ধান্তটি নেয়া হলো। তবে সংসদে প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলো হৈ চৈ করার বাইরে কোন ভূমিকা রাখতে পারে না। এটা সত্য যে, সংসদে গিয়ে সীমিত আকারে হলেও কথা বলার একটা জায়গা তৈরি হলো। আপাতত ঠেকানো গেলো দলের ভাঙন। ঢাকা মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, বিএনপির এই শপথ নেয়া এমপিরা যদি বাধ্য হয়ে সংসদে যোগ দিয়ে থাকেন তাহলে তাদের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দলের জন্য আর কিছু আশা করা ঠিক হবে না। প্রবীণ এক নেতা বলেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে- রাজনীতির মাঠে অনেক পিছিয়ে পড়ে গেছে বিএনপি। ভূরাজনীতি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং দলীয় কাঠমো সবকিছুতেই এলোমেলা অবস্থায় এখন। তাই বিএনপির পক্ষে বাংলাদেশে বড় কিছু করা অসম্ভব।

আশার দিক আছে একটাই, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনো আওয়ামী লীগের বিকল্প হিসেবে বিএনপিই আছে। তাই নাগরিক আন্দোলনের মাধ্যমে বা অন্য কোনোভাবে সময় পরিবর্তন হলে তাতে বিকল্প এবং জনপ্রিয় দল হিসেবে বিএনপি যেকোনো মুহুর্তে ঘুরে দাঁড়াতো পারবে। কিছু নেতা মনে করেন, রাজনীতিতে প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ কোন সমঝোতার অংশ হিসেবেই সংসদে গেছে বিএনপি। বিনিময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জামিনে বা প্যারোলে মুক্তি দেয়া হতে পারে। খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর দিন গ্রেপ্তার হওয়া তার বিশেষ সহকারী জামিনে মুক্তি পাওয়ায় সে বিশ্বাসটি দৃঢ় হয়েছে অনেকের। বিএনপির কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী বলেন, নবম সংসদে খোদ খালেদা জিয়াই ৩০জন এমপির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তখন বিএনপি সংসদে গিয়ে কিছুই করতে পারেনি। বরং তৎকালীন চীফ হুইপকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ছিল যে পুলিশ কর্মকর্তা তাদের পুরস্কৃত করেছিল সরকার। যা বিএনপি নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে দেয়ার একটি উপলক্ষ্য হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক বিএনপির একটি শুভাকাঙ্ক্ষি গ্রুপের যৌথ বিবেচনায়- সংসদে গিয়ে কোনো কিছুই অর্জিত হবে না। বরং এই অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা দেয়া হলো। অসৎ প্রক্রিয়ায় কোনো সৎ পরিণতি অর্জন সম্ভব নয়। গণপ্রতিনিধিত্বহীন একটি সংসদে ঢুকে সেখানে সে সিস্টেমের ভেতরে থেকে মানুষের মৌলিক ভোটাধিকার নিশ্চিত করা যায় না। এতে বরং একটি অবৈধ ও স্বৈরাচারি রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে শক্তিশালীই করা হয়। মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, একদলীয় ভাবধারায় বিশ্বাসী সরকার বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয় ও সংসদের ভিতর ও বাইরে কোথাও কথা বলার সুযোগ নেই। বরং সংসদে গিয়ে গায়ের জোরে সংখ্যাগরিষ্ঠদের উচ্চ শব্দে হাতেগোনা ঐক্যফ্রন্টের সংখ্যালঘুদের দাবি হারিয়ে যাবে। সংসদে গিয়ে কেবল জয়ীরাই ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন। সুতরাং সংসদে যোগদান করাটা দাবি আদায়ের ব্যাপারে রাজনীতির মাঠে তেমন কোনো গুরুত্ব বহন করবে না।

রাজনীতিতে ইউটার্ন নিয়ে সংসদে যাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দূরদর্শীতা নিয়ে প্রশ্ন নেই নেতাকর্মীদের। এ সিদ্ধান্ত তৃণমূলে তার ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত ও আস্থায় চিড় ধরবে বলেও তারা মনে করেন না। কয়েকটি জেলা বিএনপির একাধিক নেতা মনে করেন, সংসদে যোগদানের সিদ্ধান্ত তারেক রহমানের বিপুল জনপ্রিয়তা ও দল চালানোর প্রজ্ঞায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক শুভাকাঙ্ক্ষি গ্রুপটির যৌথ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারেক রহমান রাজনৈতিকভাবে দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। বরং এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বের বিষয়টিই ছিল অদূরদর্শীতা। তবে নির্বাচন পূর্ববর্তী, নির্বাচন কেন্দ্রিক এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়গুলোতে বিএনপির অবস্থান ও নীতিনির্ধারণে তারা অদূরদর্শীতার স্পষ্ট ছাপ দেখছেন। তখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় সিদ্ধান্ত হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রেই নীতিনির্ধারক ফোরামের ভূমিকা ছিল ব্যর্থতা ভরপুর। তারা বিদেশে অবস্থানরত তারেক রহমানকে কার্যকর সিদ্ধান্তগ্রহণে সঠিক মতামত দিতে পারেননি। দলের একজন প্রবাসী নেতা বলেন, সংসদে যাওয়ার পুরো দায়টি নিয়েছেন তারেক রহমান। কিন্তু বাস্তবে তিনি এজন্য দায়ী নন। দলের নির্বাচিতরা যখন চাপের মুখে শপথ নিতে আগ্রহী হয়ে উঠলেন তখন তিনি দেখলেন সরকার তাদের সংসদে নেবেই। আর প্রধানমন্ত্রী তখন সারা বিশ্বকে দেখাবেন বিএনপি সংসদে আছে। সেটা ঠেকাতে গিয়ে এই ঝুঁকি নিয়েছেন তারেক রহমান। সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা বুঝতে পেরেছেন দলের প্রতীকে নির্বাচিতরা সরকারি চাপের অজুহাতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বাধ্য করেছেন। দলীয় মহলে এটা এক ধরণের বিদ্রোহ হিসেবেই বিবেচিত হবে।

বিএনপি মহাসচিবের শপথ না নেয়ার বিষয়টিকে নানাভাবে দেখছেন দলটির নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, মহাসচিব শপথ নিলে ব্যক্তি মহাসচিবের ইমেজ সংকট হতো, বিএনপির অন্য সিনিয়র নেতারা উনাকে মহাসচিব হিসাবে মেনে নিতে চাইতেন না। কয়েকজন জেলা পর্যায়ের নেতা বলেন, মহাসচিব সংসদে যোগ দিলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা হতাশায় নিমজ্জিত হতেন। তিনি যোগ না দেয়ায় তার ব্যক্তিগত ভাবমুর্তি নেতাকর্মীদের কাছে অনেকাংশে বেড়ে গেছে। বিএনপির কয়েকজন নেতা মনে করেন, দলীয় সিদ্ধান্তের দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই মহাসচিব শপথ নেননি। রোববার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ‘শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল’ মন্তব্য করে তিনি সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। রাজনীতিতে ভুল স্বীকার করা অপরাধ নয়। বরং ভুল স্বীকার না করলে দীর্ঘমেয়াদী খেসারত দিতে হয়। বিএনপির কয়েকজন নেতা মনে করেন, বিএনপির অন্য এমপিদের সাথে মহাসচিব শপথ নিয়ে সংসদে স্পেসটা আরো বাড়তো। মহাসচিব শপথ না নিয়ে নিজেকে দলের চেয়েও ব্যক্তি ইমেজে বড় করে তুলেছেন, এবং দলের বাইরে নিজেকে আপসহীন হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। আবার কারও কারও মতে, মহাসচিব শপথ না নিয়ে তার ইমেজ ও দলের ইমেজ কিছুটা হলেও রক্ষা করেছেন। বিএনপির একজন প্রবীণ নেতা বলেন, বিএনপিকে নিয়ে সরকারের ষড়যন্ত্রমূলক ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য থাকলে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ না নেয়ায় আপাতত সেটা অকার্যকর হয়ে গেছে।

উৎসঃ ‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌আ’লীগ নেতার ‘উৎসব একাত্তর’ হোটেলে স্কুলছাত্রীকে ওষুধ খাইয়ে গণধর্ষণ শেষে হত্যা!


মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার একটি আবাসিক হোটেল থেকে ইন্নি আক্তার নামের এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল রোববার রাতে শিবচর পৌরসভার ৭১ উৎসব চাইনিজ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি হাউজে ওই ঘটনা ঘটে।

নিহত ইন্নি শিবচরের শেখ ফজিলাতুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ত। তার বাবা শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পশ্চিম নাওডোবা মুন্সীকান্দি গ্রামের মৃত ইলিয়াস মুন্সী। মা শিবচর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের কর্মচারী। মায়ের সঙ্গে ইন্নি শিবচর পৌরসভার স্বাস্থ্য কলোনিতে ভাড়া বাসায় থাকত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে চাইনিজ খাওয়ার কথা বলে ইন্নিকে ৭১ উৎসব হোটেলে নিয়ে যান শিবচরের কাঁঠালবাড়ীর রুবেল খান। এ সময় তিনি খাবারের সঙ্গে যৌন উত্তেজক ওষুধ মিশিয়ে দেন। পরে ইন্নিকে হোটেলের তিনতলার একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন রুবেল। সে সময় ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হোটেলে রেখেই পালিয়ে যান রুবেল।

এদিকে ওই সুযোগে অসুস্থ ইন্নিকে ধর্ষণ করেন হোটেলের ব্যবস্থাপক রোনাল্ড ও হোটেল বয় খাইরুল। পরবর্তীতে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেলে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে ইন্নির লাশ উদ্ধার করে।

নিহত ছাত্রীর মামা বলেন, ‘আমার ভাগনিকে ফুসলিয়ে নিয়ে তিনজন গণধর্ষণ শেষে হত্যা করেছে। একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি এর বিচার চাই।’

৭১ উৎসব চাইনিজ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি হাউজের মালিক ১৬ জন। এঁদের বেশির ভাগই স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন শিবচর পৌরসভার মেয়র, শিবচর পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আওলাদ হোসেন খান।


এই ঘটনায় মাদারীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আজ সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার জানান, রোববার স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ৭১ উৎসব হোটেলের কক্ষ ভাড়া নেন রুবেল খান। এ সময় স্কুলছাত্রীর সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হন তিনি। একপর্যায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় স্কুলছাত্রীকে ফেলে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ হোটেল কক্ষ থেকে যৌন উত্তেজক ওষুধ, কনডম ও স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবন করিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে আটক হোটেল কর্মচারী রোনাল্ড ও খাইরুল জানান, এই হোটেলে দীর্ঘ দিন থেকেই দেহ ব্যবসাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজ চলতো। হোটেলের মালিক শিবচর পৌরসভার মেয়র আওলাদ হোসেন খান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা।

আটক রুবেল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানান, কয়েক মাস আগে ইন্নির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় রুবেলের। এই সম্পর্কের ভিত্তিতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলের কক্ষ ভাড়া নেন তিনি। পরে ইন্নির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। এ সময় ইন্নি রক্তাক্ত হয়ে অসুস্থ হলে তাকে ফেলে পালিয়ে যান।

নিহতের স্বজনদের দাবি, এরপরে হোটেলের কর্মচারীরা ইন্নিকে একাধিকবার ধর্ষণ করে হত্যা করে।

নিহত স্কুলছাত্রীর মা ডলি বেগম বলেন, আমার মেয়েকে হোটেলে খাওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে নিয়ে তিনজন গণধর্ষণ শেষে হত্যা করেছে। একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি এর বিচার চাই।

উৎসঃ ‌‌এনটিভি

আরও পড়ুনঃ ‌এইচএসসি পাস করে ওকালতি, ধারা খেয়ে কারাগারে


পাঁচ বছর শিক্ষানবীশ আইনজীবী এবং দুই বছর আইনজীবী হিসেবে কাজ করা উচ্চ মাধ্যমিক পাস এক নারীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম দেব দাস চন্দ্র অধিকারী কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করেন কোতয়ালী থানার এসআই মোহাম্মাদ মোবারক হুসেন ভূঞা।

জানা যায়, সাত বছর আগে এলএলবি পাস করে বার কাউন্সিলে সদস্যভুক্তির জন্য আবেদন করেছেন জানিয়ে শিক্ষানবীশ আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১৮ সালে বার কাউন্সিল থেকে আইনজীবী হিসেবে সনদ পেয়েছেন মর্মে প্রচার করে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে আইনজীবী হিসেবে আইন পেশা শুরু করেন। পাসের সংবাদ পেয়ে খুশিতে মহিলা আইনজীবী কমনরুমে পাঁচ কেজি মিষ্টিও খাওয়ান। এইচএসসি ওই নারী এভাবেই নারী-পুরুষ সকল আইনজীবীকে ফাঁকি দিয়ে আইন পেশা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

গত রবিবার তিনি ঢাকা আইনজীবী সমিতির টাউট উচ্ছেদ কমিটির হাতে ধারা পড়েন। আইনজীবী হিসেবে মিথ্যা পরিচন দান এবং জাল জালিয়াতির অভিযোগে সমিতির পক্ষ থেকে সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান জুয়েল কোতয়ালী থানায় মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজধানী ঢাকার ধানমণ্ডি থানাধীন ১২/এ, ধানমণ্ডি-৩২ এর বাসিন্দা জহিরুল হকের মেয়ে রিমি জাহান (২৯)। তিনি সুফিয়া খানম রিমি (মৌ) নাম ধারণ করে অন্য আইনজীবীর সদস্য নম্বর ব্যবহার করে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে আইনজীবীর পরিচয়পত্র তৈরি করেন। ওই পরিচয়ে তিনি দীর্ঘদিন বিচারপ্রার্থী নিরীহ জনগণের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন।

জানা গেছে, রিমি গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি কয়েক বছর ধরে প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণাও করে আসছিলেন। তিনি আইনজীবী হিসেবে কোট-গাউন পরে মামলার শুনানিও করতেন।

এ সম্পর্কে মামলার বাদী মেহেদী হাসান জুয়েল জানান, এইচএসসি পাস করেই তিনি নিজেকে এলএলবি পাস বলে বেশ কয়েক বছর আগে আইন অঙ্গনে আছেন। ২০১৮ সালে বার কাউন্সিল থেকে পাস করেছেন মর্মে প্রচার করে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে পরিচয়পত্র তৈরি করেন। তিনি পরিচয়পত্রে ঢাকা বারের আইনজীবী সদস্য সোফিয়া খামনের সদস্য নম্বর ২২৭৯০ ব্যবহার করে পরিচয়পত্র তৈরি করেন।

উৎসঃ ‌‌ঢাকাটাইমস

আরও পড়ুনঃ ‌শরণখোলায় বৃদ্ধকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন আওয়ামী লীগ নেতা কামাল বয়াতীর নেতৃত্বে

বাগেরহাটের শরণখোলায় পাওনা টাকা আদায় করতে এক বৃদ্ধকে পায়ে শিকলে বেঁধে নির্যাতন চালিয়েছেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা।

নির্যাতনের শিকার ওই বৃদ্ধের নাম ইসমাইল হোসেন খান। ওই বৃদ্ধকে গত দুদিন ধরে নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ওই বৃদ্ধার দাঁড়ির কিছু অংশ টেনে উপড়ে ফেলা হয়েছে।

রোববার দুপুর থেকে বাগেরহাটের শরণখোলার পশ্চিম খাদা গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা কামাল বয়াতীর নেতৃত্বে এ অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে।

সরেজমিনে উপজেলার পশ্চিম খাদা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল বয়াতীর বাড়িতে পায়ে শিকল বেঁধে আটকে রাখা হয়েছে দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত গনি খাঁনের ছেলে ইসমাইল খানকে (৬০)।

কামাল বয়াতী বলেন, ইসমাইল হোসেনের কাছে তার ব্যবসা সংক্রান্ত ২০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। টাকা না দেয়ায় ইসমাইল হোসেনকে পায়ে শিকল বেঁধে আটক করা হয়েছে। টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তার পায়ে শিকল থাকবে।

ইসমাইল হোসেন জানান, টাকা আদায়ের জন্য বৈঠকের কথা বলে কৌশলে তাকে বাড়ি থেকে বাংলাবাজার এলাকায় ডেকে আনা হয়। সাত হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও এক পর্যায়ে ওই বাজারে জনসমক্ষে কামালের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা বেধড়ক মারপিট করেন এবং তার দাঁড়ির কিছু অংশ তুলে দেন।

এ সময় ঘটনাস্থলের অদূরে অনেকেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য দেখলেও ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি। পরে ইসমাইল হোসেনের পায়ে শিকল দিয়ে দোকান ঘরের খুঁটির সঙ্গে শনিবার দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সাত ঘণ্টা বেঁধে রাখেন।

রোববার বিকাল ৫টার সময়ও কামাল বয়াতীর বসতবাড়ির একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল।

বন্দি ইসমাইল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সাদা কাগজে তার জোরপূর্বক একাধিক স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। তাকে উদ্ধারের জন্য তিনি সাংবাদিকদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।

শরণখোলা থানার আফিসার ইনচার্জ দিলীপ কুমার সরকারকে বিষয়টি অবহিত করার পর ইসমাইল হোসেনকে উদ্ধারের জন্য দ্রুত পুলিশের একটি টিম তিনি পাঠিয়েছেন।

তিনি জানান, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হবে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌বিএনপি জোট ছাড়ল আন্দালিভ রহমান পার্থের বিজেপি


বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ২০ বছর পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০–দলীয় জোট ছেড়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় দলটির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ প্রথম আলোকে ফোন করে জোট ছাড়ার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘এইমাত্র আমার দল ২০–দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেল।’ জোট ছাড়া নিয়ে বিজেপি একটি বিবৃতিও পাঠিয়েছে।

চার দলীয় জোটের সঙ্গে ১৯৯৯ সাল থেকে এবং পরে ২০–দলীয় জোটভুক্ত হয়ে রাজনীতি করে আসছিল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)। জোট ছাড়ার কারণ হিসেবে বিবৃতিতে বিজেপি বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে পার্থ বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ার পর ২০–দলীয় জোট স্থবির হয়ে যায় এবং রাজনীতি ঐক্যফ্রন্টমুখী হয়ে পড়ে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারের সঙ্গে সংলাপে বিএনপি বাদে ২০ দলের অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল না। বিজেপির অভিযোগ, সংহতি ও সহমত পোষণের জন্যই ২০ দলের সভা ডাকা হতো।

ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে সংসদে যাবে না বলেছিল। কিন্তু তারা শেষ মুহূর্তে গিয়ে শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দেয়। এ বিষয় উল্লেখ করে আন্দালিভ রহমান পার্থের দল বিজেপি জানায়, এতে তারা অবাক হয়েছে এবং এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে ২০ দলের অন্য কোনো দলের সম্পৃক্ততা নেই।

এ ছাড়া বিজেপি মনে করে, শপথ গ্রহণের মাধ্যমে ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি ৩০ ডিসেম্বরের ‘প্রহসনের’ নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে। এ কারণগুলো দেখিয়েই তারা ২০ দলের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসেছে।

উৎসঃ ‌‌প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ ‌‘আইন-আদালতের কারণে নয়, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই বেগম জিয়া কারাগারে’


আইন, আদালতের কারণে নয় প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই বেগম জিয়া কারাগারে আছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

সোমবার(৬ মে) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি ও তারেক রহমানের সকল রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে নাগরিক প্রতিবাদ সভাটির আয়োজন করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যুক্তরাজ্য সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফোনালাপের কথিত অডিওতে শোনা যায়, ‘তারেককে বলো বেশি বাড়াবাড়ি না করতে। তাহলে কিন্তু তার মা জেল থেকে বের হতে পারবে না। লন্ডনে আমাদের এখন কোনো হোটেল ভাড়া দেয় না। প্লিজ, হোটেলের আশপাশে ঝামেলা করো না।’ এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই কথার মানে আইনের কারণে নয়, আদালতের কারণে নয়, শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই বেগম জিয়া কারাগারে আছেন এবং সারা জীবন কারাগারে থাকতে হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হুমকি দিয়ে বলেছেন, সব কথাই বলা দরকার কোনো কথায় বলা যাবে না। এ অবস্থার মধ্যে আমরা এ দেশে বসবাস করছি। এখন আমি যদি বলি আদালতের হাত-পা বাঁধা, তাহলে বলা হবে আপনি আদালত অবমাননা করেছেন। আমি বিচার বিভাগের উপর, বিচারপতিদের সবিনয় নিবেদন করবো, একজন কারাবন্দিকে আজীবন কারাগারে থাকতে হবে এ হুমকি যদি প্রধানমন্ত্রী দেয়

তবে আপনারা কি জিজ্ঞেস করতে পারেন, তিনি কে? আপনি কে এ সিদ্ধান্ত দেয়ার? পারবেন না?

গয়েশ্বর বলেন, ‘একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে হোটেল বুকিং দিতে পারে না, এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে গাড়ি নিয়ে ছোটাছুটি করতে হয় এটা স্বাভাবিক বিষয় না। লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর বোনের বাসা আছে। উনি হোটেল বুকিং না পেলে সেখানে উঠতে পারতেন।’

দলীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সমালোচনা দলের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস কমায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে ব্লেইম গেম থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমি কি পারলাম সেটা ভেবে দেখতে হবে। আরেকজনকে কেন দোষারোপ করব? আমরা সবাইতো একই দোষে দুষি। একজন আরেকজনকে দোষারোপ করলে প্রতিপক্ষ সুযোগ পায়। আমরা দুর্বল হয়ে যাই। আমাদের সংগ্রাম ঐক্যের জন্য, ঐক্য হল লক্ষ্যার্জনের।’

এসময় গয়েশ্বর বলেন, ‘আসুন আমরা অন্যের সমালোচনা করা বাদ দিয়ে আত্মসমালোচনা করি এবং নিজেকে সংশোধনের মাধ্যমে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলবো। এতে দল শক্তিশালী হবে, দলের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে।’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘যেখানে ব্যর্থতা সেখানেই সফলতার যাত্রা শুরু, এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। অর্থাৎ যেখানে আমাদের পারা দরকার। সেখানে আমাদের পারার জন্য চেষ্টা করা দরকার। চেষ্টা করলে কখনো সফল কখনো বিফল হতে পারে। আর বিফল হওয়ার মানে এই না আমি সেখানে ইশতফা দেব ‘

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়েছে সংসদে যাওয়ার। এখন দেখার ব্যাপার যে তারা কতটা ভূমিকা রাখতে পারে। এখন এসব নিয়ে কথা বলার নয়। দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ভিন্ন থাকে। আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এরপর সময়ই বলে দিব সিদ্ধান্তটা সঠিক, নাকি বেঠিক ছিল।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে আশা করেছিলাম সংসদে যাওয়াটা, পরে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে। কিন্তু শেখ হাসিনার কথার পর তা আর মনে হচ্ছে না। তবু আমরা আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করবো।’

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ, ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, তাঁতী দলের যুগ্ম আহবায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জান মনির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌ব্যারিস্টার মওদুদকে দেখতে হাসপাতালে মির্জা ফখরুল


বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে দেখতে গেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার রাতে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে যান তিনি।

মির্জা ফখরুল এ সময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। মওদুদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মওদুদ আহমদের ব্যক্তিগত এপিএস সুজন। তিনি জানান, আদালতে মামলার হাজিরা দিতে গেলে সেখানে সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন। সেখান থেকে তাকে অ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসকরা তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন।

তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী হাসনা মওদুদ। তার পরিবার মওদুদ আহমদের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন।

ব্যারিস্টার মওদুদের অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা খোঁজখবর নিচ্ছেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শপথ নিয়ে তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই সঠিক: মির্জা ফখরুল


বিএনপির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ ও সংসদে যাওয়া নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্মিলিত ছাত্র ফোরাম আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহোদয় শপথ নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যখন আমরা বলেছিলাম- সংসদে যাব না, ওই মুহূর্তে আমাদের সিদ্ধান্তটা ছিল ভুল। কারণ আমাদের পার্লামেন্টেও লড়াই করতে হবে। বাইরেও লড়াই করতে হবে। আপনাকে সব জায়গা থেকে লড়াই করতে হবে। সংগ্রাম করতে হবে। এ জন্য পথ তৈরি করে দিতে হবে।

স্লোগাননির্ভর রাজনীতি থেকে দলের নেতাকর্মীদের বের হয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সস্তা স্লোগান দিলে চলবে না। আমাদের পথ খুঁজে বের করতে হবে। ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। আমরা বসে থাকব না। পথ খুঁজব।

দেশের নয়, আওয়ামী লীগের উন্নতি হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। অর্থনীতির অবস্থা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর।

বিএনপি ঐক্যবদ্ধ আছে জানিয়ে মহাসচিব বলেন, দলে এতটুকুও সমস্যা নেই। দল ঐক্যবদ্ধ আছে।এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কিছুই নেই।

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার তার জামিন দিতে ভয় পায়। কারণ দেশনেত্রীকে মুক্তি দিলে হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালার মতো তার ডাকে মানুষ ছুটে আসবে।

আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক শক্তি নয় দাবি করে ফখরুল বলেন, দেশে আজ গণতন্ত্র নেই। আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক শক্তি নয়। আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু তার উল্টোটা বিশ্বাস করে। আওয়ামী লীগ একমাত্র দল, যারা ৭৫ সালে সব দল নিষিদ্ধ করে দিয়ে এবং পত্রিকাগুলো বন্ধ করে দিয়ে একদলীয় শাসন বাকশাল প্রতিষ্ঠিত করেছিল। আজ আবারও সেই দলটিই দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের অধিকারগুলো হরণ করে নিয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

নাসির উদ্দিন পিন্টুর স্মৃতিচারণ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, পিন্টু এমনি মারা যাননি, তাকে হত্যা করা হয়েছে।রাজনৈতিক কারণে তাকে জেলের ভেতরে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতাবে বিনা চিকিৎসায় হত্যা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, মির্জা ফখরুল যদি নেতাকর্মীদের সঠিক নেতৃত্ব দেন, তাহলে পিন্টুর মতো অনেক নেতা তৈরি হবে।’

তার এই বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, নেতাদের বলবো— এসব কথা দলীয় ফোরামে বলবেন। বাইরে দলের বিষয়ে যত কম কথা বলবেন, তত মঙ্গলজনক হবে। তবে আমাদের দল ঐক্যবদ্ধ আছে। কোনও সমস্যা নেই।

সংগঠনের আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইয়াসিন আলী, আক্তারুজ্জামান বাচ্চু প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌বাংলাদেশের সম্পাদকরা অনেক রিপোর্ট সরকারের ভয়ে প্রকাশ করেন না


আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ক্যাম্পেইনার সাদ হাম্মাদি বলেছেন, সংবাদ ও সম্পাদকীয় প্রকাশের ক্ষেত্রে চরম মাত্রায় সতর্ক হয়েছেন বাংলাদেশে সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদকরা। এমনকি প্রতেশোধ নেয়ার আতঙ্কে তারা অনেক কলাম ও সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে বিরত থাকেন। প্রথমবারের মতো ঢাকায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ক্যাম্পেইন ইভেন্টে তিনি এ কথা বলেন।

ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন কমেডিয়ান, কার্টুনিস্ট, সাংবাদিক, বøগার, সঙ্গীতজ্ঞ, কবি, অধিকারকর্মী ও সরাসরি পারফরম্যান্স করা শিল্পীরা। তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অগ্রসরমান করার বিষয়কে ফুটিয়ে তোলেন। একই সঙ্গে এসব অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে সরকার ও জনগণ কী ভূমিকা পালন করতে পারে তার প্রতিফলন ঘটানো হয়।

গত শনিবার ঢাকায় ইএমকে সেন্টারে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এডওয়ার্ড এম কেনেডি সেন্টার। ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিড ডে উপলক্ষে এই ইভেন্ট আয়োজন করা হয়। এতে সাদ হাম্মাদি বলেন, যখন মানুষ জানতে পারেন না যে, তারা যা বলেন বা লেখেন তা অপরাধ (অফেন্স) হিসেবে গণ্য হবে; তখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে গিয়ে তারা ভীতশঙ্কিত হয়ে পড়েন। তার মতে, এমন অনুভূতি থেকে অসন্তোষের জন্ম হয়। একটি সামাজিক উন্নয়নশীল দেশের জন্য তা স্বাস্থ্যকর বা উপযোগীও নয়।

অ্যামনেস্টির ক্যামেইন ইভেন্টে স্বাক্ষর করেন কারামুক্ত ফটো সাংবাদিক শহিদুল আলম, কমেডিয়ান ইয়ামিন খান ও আহমদ আশিক, কার্টুনিস্ট সৈয়দ রাশাদ ইমাম তন্ময়, সাংবাদিক শুপ্রভা তাসনিম, আইরিন খান, সৈয়দ তাশফিন চৌধুরী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ইরেশ যাকের, বøগার ও অধিকারকর্মী ফাহমিদুল হক, আর্টিস্ট লিজা হাসান, ঋতু সাত্তার, সাইফ মাহমুদ ও আবীর খালিদ।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিশ্বজুড়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান সম্পর্কে সমর্থন করেন বিভিন্ন স্তরের বিশ্ববরেণ্য আর্টিস্টরা। এর মধ্যে রয়েছে কোল্ডপ্লে, রাসেল ব্রান্ড, জিমি কার, জন স্টিওয়ার্ট, জন অলিভার, স্টিফেন কোলবার্ট।

অনুষ্ঠানে সাদ হাম্মাদি বলেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এই ইভেন্ট হলো স্বাধীনতা বা ফ্রিডমের প্রতি অব্যাহত প্রচারণার অংশ। এর অংশ হলো ওইসব দেশের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যেখানে শান্তিপূর্ণভাবে মতামত শেয়ার করার কারণে মানুষকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুরক্ষা ছাড়া মানুষ অবাধে নিজেকে প্রকাশ ঘটাতে পারে না। তথ্যের ওপর সেন্সরশিপ ও প্রতিশোধের আশঙ্কা জীবনধারণের গুণগত মান হ্রাস পায়। হ্রাস পায় সততা ও জনগণের কাছে জবাবদিহিতার বিষয়।

উৎসঃ ‌‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‌বরিশালে প্রথম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জিলাপি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে


জিলাপি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল গ্রামে প্রথম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে ওই ছাত্রীর মা গৌরনদী থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় একই গ্রামের মৃত আকফাত বেপারীর ছেলে গাছ ব্যবসায়ী আলী বেপারীকে (৪৫) আসমি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ওই স্কুলছাত্রীর বাবা কিছুদিন আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে তিনি প্রথম স্ত্রী ও তিন সন্তানকে ছেড়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে অন্যখানে বসবাস করছেন। তখনই থেকেই গৃহকর্মীর কাজ করে তিন সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন প্রথম স্ত্রী। কাজের জন্য দিনের বেশিরভাগ সময় তাকে বাইরে থাকতে হয়। এ সুযোগে প্রতিবেশী দুই সন্তানের জনক আলী বেপারীর নজর পড়ে তার ৯ বছর বয়সী মেয়ের ওপর। এরপর থেকে আলী বেপারী সুযোগ খুঁজতে থাকেন।

ঘটনার দিন গত ২৫ এপ্রিল মেয়েটিকে একা পেয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে জিলাপি খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। ঘটনাটি কাউকে না বলতে মেয়েটিকে হুমকি দিয়ে চলে যান তিনি। ভয়ে মেয়েটি এ ঘটনা কাউকে না জানিয়ে গোপন করে। পরদিন জামা-কাপড়ে রক্তের দাগ দেখে তার চাচি এর কারণ জানতে চান। এক পর্যায়ে সব কিছু বলে মেয়েটি। পরে তিনি বিষয়টি তার মাকে জানান। তবে লোকলজ্জার ভয়ে তার মা বেশ কিছুদিন ঘটনাটি গোপন করে রাখেন। এরই মধ্যে বিষয়টি প্রতিবেশীরা জেনে যান।

স্থানীয়রা আরও জানান, মঙ্গলবার ওই স্কুলছাত্রীর মা কয়েকজন স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে বিচার চাইতে আলী বেপারীর বাড়িতে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আলী বেপারী। ধর্ষণের ঘটনা সাজানো বলে উল্টো স্কুলছাত্রীর মাকে হুমকি দেন। বিষয়টি নিয়ে বুধবার সকালে এলাকার গণমান্য লোক নিয়ে বসবেন বলে আলী বেপারী স্কুলছাত্রীর মাকে জানান। তবে তিনি মঙ্গলবার রাতেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় গৌরনদী থানা পুলিশের ওসি গোলাম ছরোয়ার জানান, বুধবার বিকেলে ওই স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন। আসামি আলী বেপারীকে গ্রেফতারে জোর প্রচেষ্টা চলছে।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌‘শেখ হাসিনার শাসনামল খুন-ধর্ষণ, ব্যাংক ডাকাতি-ভোট ডাকাতির স্বর্ণযুগ’


বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার এই শাসন আমল হলো ধর্ষণ, খুন, ভোট ডাকাতি, ব্যাংক ডাকাতির স্বর্ণযুগ। ইতিহাসবিদরা যদি কখনো এই শাসন আমলের পর্যালোচনা করেন তাহলে এই শাসনামলকে খুন-ধর্ষণের স্বর্ণযুগ বলে অভিহিত করবেন।’

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে প্রয়াত সুনীল গুপ্ত স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে সুনীল গুপ্তের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করতে না পারলে স্বৈরশাসকের পতন হবে না, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না, দেশের মানুষের অধিকার ফিরে পাবে না।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান ক্ষমতা দখলকারী সরকারের নেতারা বলেন- বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। তাদের এ কথা শুনলে হাসি পায়। যে দেশের রাজধানীতে জনগণ বিশুদ্ধ পানি পায় না। একটু বৃষ্টি হলে নৌকা চলাচলের ব্যবস্থা হয়। যে দেশের প্রতিটি ব্যাংক ডাকাতি হয়েছে। যে দেশের প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই শিশু, নারী ধর্ষণ, খুন এর খবর পাওয়া যায় সেই দেশ নাকি উন্নয়নের রোল মডেল?’

এ সময় তিনি যুবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘১৯৭১ সালে কোনও রাজনীতি দল বাংলাদেশ স্বাধীন করে নাই। দেশ স্বাধীন করেছিল ছাত্র, যুবকরা। আজ বাংলাদেশের স্বৈরাশাসকের হাত থেকে মুক্ত করতে হলে যুবকদের কে এগিয়ে আসতে হবে। ছাত্রদেরকে এগিয়ে আসতে হবে, তাহলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়ুয়া, কবি আব্দুল হাই শিকদার, মাওলানা ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কামরুল ইসলাম সজল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here