ঈদ টার্গেটে হঠাৎ অস্থির বাজার, মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে ক্ষোভ

0
94

একমাস পরেই ঈদুল আজহা। ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের কোরবানির এই উৎসবকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই নানা কূটকৌশল করছেন ব্যবসায়ীরা। হঠাৎ করে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনসহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাপক হারে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১১জুলাই) নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি বিশেষ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় জরুরি বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য সচিবের নেতৃত্বে ওই বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পেঁয়াজ, আদা ও রসুন ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন।

সপ্তাহখানেক আগেও যেখানে পেঁয়াজ ২৫-৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। ফলে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না- তা যাচাইয়ে বাজার মনিটরিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কোরবানি ঈদ সামনে রেখে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ এ বছর দেশে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ ছাড় পেঁয়াজের আরেক উৎস ভারতে দাম বাড়ার তেমন কোনো খবর নেই। এ কারণে অভ্যন্তরীর বাজারে পেঁয়াজের সঙ্কট হওয়ার কোনো কারণ নেই।

এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘নিত্যপণ্য বিশেষ করে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। পেঁয়াজের দাম বাড়ার বিষয়টি ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কেন পেঁয়াজের দাম বাড়ছে সে বিষয়টি যাচাইয়ে বাজার মনিটরিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।’

হঠাৎ এই দাম বৃদ্ধিতে বিষ্ময় প্রকাশ করে মন্ত্রাণলয়। সচিব বলেন, ‘পেঁয়াজ আমদানি হয় ভারত থেকে। সেখানে কেজিতে ১-২ টাকা দাম বেড়েছে। ওই হিসাবে দেশেও এক থেকে দুই টাকা দাম বাড়ার কথা। কিন্তু ২৫ টাকার পেঁয়াজ ৫০ টাকা হয় কীভাবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘কারসাজি করে দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ভোক্তা স্বার্থে দেশে আইন-কানুন ও বিধিবিধান রয়েছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেবে সরকার।’

ক্রেতাদের অভিযোগ, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কারসাজি করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে। প্রতিবছর কোরবানির সময় কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে দাম বাড়ানো হয়ে থাকে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে ২৪ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। কোরবানির ঈদে বাড়তি আরও প্রায় দুই লাখ টনের চাহিদা তৈরি হয়। মোট চাহিদার প্রায় ১৭ লাখ টন দেশে উৎপাদিত হয়। বাকি সাত লাখ টন ভারতসহ অন্যান্য উৎস থেকে আমদানি করে থাকে ব্যবসায়ীরা।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here