বেড়াতে গেছে নির্বাচনের আচরণবিধিঃ ড. শাহদীন মালিক

0
256

ড. শাহদীন মালিক

হাইকোর্টে দু-তিনজন নিয়মিত বই বিক্রেতা আছেন। প্রায় সপ্তাহে একবার আইনের নতুন বই নিয়ে আইনজীবীদের রুমে রুমে যান। ‘স্যার, বইটা গতকালই বেরিয়েছে। দাম ছয় শ টাকা, কিন্তু আপনার জন্য চার শ টাকা।’ দুই শ টাকা বাঁচানোর আনন্দে কিনে ফেলি। তাঁদের বদৌলতে আইনি বইয়ের খোঁজে দোকানে যাওয়ার বিশেষ প্রয়োজন পড়ে না। দু-চার শ টাকার বই হলে সহজেই কিনে ফেলি। আর দাম যদি হাঁকে দশ হাজার টাকা, তখন ঢোঁক গিলে আমতা-আমতা করে বলি, দুই সপ্তাহ পরে এসো। বলা তো যায় না, এই দুই সপ্তাহে বড় মক্কেল পেয়েও যেতে পারি।

নির্বাচন কমিশনের ছাপানো ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়েল’-এর দুইটা কপি কিনে ফেলেছি গত সপ্তাহে। বইটিতে দাম লেখা নেই। ধরে নিচ্ছি, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট হরেক ধরনের কর্মচারী, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, এজেন্টসহ সবারই কাজে লাগবে। কিছু কপি নিশ্চয়ই বিলি করা হবে বিনে পয়সায়। এই সময়ের জন্য ম্যানুয়েলের ২৭৮-২৮৮ পৃষ্ঠায় ছাপানো ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮’ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ আইন। এক অর্থে সাদামাটা বিধিমালা। নির্বাচনের আগে অর্থাৎ নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের আগের দিন। অর্থাৎ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক দল, মনোনয়নপ্রত্যাশী, প্রার্থী, সমর্থক এবং অন্যান্য ব্যক্তি কে কী করতে পারবেন বা পারবেন না, তার বেশ বিস্তারিত বৃত্তান্ত আছে এই বিধিমালার মোট ১৯টি বিধিতে। কিছু ফিরিস্তি অনেকেরই জানা হয়ে গেছে।

উক্ত বিধিমালার ৮ বিধি অনুযায়ী কোনো প্রকার ট্রাক, বাস কিংবা মোটরসাইকেল নিয়ে কোনোরূপ শোডাউন করা যাবে না এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ও সকল প্রকার মিছিল বা শোডাউন করা নিষেধ। বিধি ১২তে বলা আছে, ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের শুধু তিন সপ্তাহ আগে থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করা যাবে। অর্থাৎ আজ ১ থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সকল প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা চালানো নিষেধ। কিন্তু পত্রপত্রিকায় খবর দেখছি, কিছু কিছু জায়গায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে শোডাউন করা হয়েছে, কোথাও কোথাও জোরেশেরে নির্বাচনী প্রচারণামূলক কাজ শুরু হয়ে গেছে। যেমন প্রথম আলো ৩০ নভেম্বরের কাগজে ৫ পৃষ্ঠায় একটা খবরের শিরোনাম হলো ‘সাংসদ এনামুলের আচরণে বিধি মানার লক্ষণ নেই’।

অন্যদিকে এই খবরও দেখলাম যে বিধিমালার কোনো লঙ্ঘনই সিইসির নজরে আসেনি। তাই ভাবছি, নির্বাচনী আচরণ বিধিমালাটা দেশের বাইরে বেড়াতে চলে গেছে কি না। বিধিমালা বেড়াতে গেলে সুষ্ঠু নির্বাচন লাটে উঠতে পারে। এখন থেকেই এই আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন কঠিনভাবে দমন না করলে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বাড়তে থাকবে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন। নির্বাচন কমিশন এখন থেকেই কঠোর না হলে ১০ দিন পরে অনেক দেরি হয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে, নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা এবং বহু মানুষ নিহত ও আহত হওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন অনেক বড় বড় নেতা অনেকবার।

এই বিধিমালা লঙ্ঘনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিধি ১৭(৪) এ ‘নির্বাচনী তদন্ত কমিটি’ গঠন করার কথা বলা হয়েছে। ভালো ব্যাপার হলো, নির্বাচন কমিশন ২৫ নভেম্বর একটা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সারা দেশে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, সহকারী জজ ইত্যাদি) সমন্বয়ে মোট ১২২টি নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রতিটি কমিটির এখতিয়ারভুক্ত এলাকাও এই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই নির্বাচনী তদন্ত কমিটির তালিকা শুধু ওয়েবসাইটে প্রকাশ মোটেও যথেষ্ট নয়। নির্বাচন কমিশনকে পত্রপত্রিকায় ফলাও করে বিজ্ঞাপন দিয়ে সবাইকে জানাতে হবে। দরকার হলে কুমিল্লা জেলার নির্বাচন তদন্ত কমিটির নাম-ঠিকানা কুমিল্লার সংবাদপত্রেও বিজ্ঞাপন দিতে হবে। অর্থাৎ জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রের মাধ্যমে সবাইকে জানাতে হবে, যাতে আচরণবিধির লঙ্ঘন ঘটলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি জানতে পারেন, তিনি অভিযোগ নিয়ে কোথায় যাবেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৯১ক ধারায় বলা আছে যে নির্বাচনী তদন্ত কমিটিকে তদন্ত শেষ করতে হবে তিন দিনের মধ্যে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত নির্বাচন ম্যানুয়েলটি ভালো হয়েছে। অবিলম্বে অন্তত ১০টি কপি দেশের ৬৪টি জেলার বার লাইব্রেরিতে পাঠাতে হবে।

মোদ্দাকথা, নির্বাচন কমিশন চোখ-কান বন্ধ রেখে আচরণ বিধিমালাকে এখন বেড়াতে পাঠিয়ে দিলে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব হয়ে পড়বে। বিধিমালা, নির্বাচনী তদন্ত কমিটি আনুষঙ্গিক ব্যাপারে প্রচার ও প্রচারণার মাধ্যমে বিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা আজ থেকেই নিতে হবে। এর দায়িত্ব শুধু এবং একমাত্র নির্বাচন কমিশনের ওপর।

লেখক ড. শাহদীন মালিক: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের আইনের শিক্ষক।

উৎসঃ প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ টঙ্গীর তাবলীগ ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের বর্বর হামলাঃ সংঘর্ষে নিহত ১

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে তাবলীগ জামাতের সাদপন্থীদের বর্বর হামলার পর দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ২ শতাধিক মুসল্লি আহত হয়েছেন।

শনিবার সকাল ৮টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

জানা গেছে, সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত একজন মারা গেছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মাঠের বাটা গেট ও টিনশেট মসজিদসহ মাঠের প্রবেশ পথগুলোতে পাহারা বসিয়েছে তারা। মাঠে সাধারণ সাথী বা অন্য কারো প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। মাঠের ভেতরে থেকে সাথীদেরও খুঁজে খুঁজে বের করে দেয়া হচ্ছে সেখান থেকে।

মাঠের ভেতরে অনেক আহত সাথী আটকা পড়ে আছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আকস্মিক হামলায় কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন অনেকে।

সাদপন্থীদের শনিবারের হামলায় শতাধিক সাধারণ সাথী ও মাদরাসা শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদেরকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় রক্তাক্ত হয়ে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে অনেককে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার ফজরের পর থেকে ইজতেমা মাঠের গেটগুলো জড়ো হতে থাকে সাদপন্থীরা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাদের ভীড় বাড়তে থাকে।

বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে তারা বাটা গেট ও টিনশেট মসজিদ গেঠ ভাঙ্গতে শুরু করে একই সময় একযোগে সবগুলো গেটে হামলা করে সাদপন্থীরা।

এ সময় পুলিশ রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করে। সকাল থেকে পুলিশ পাহারা থাকলেও তারা গেট ভাঙ্গতে বা মাঠে প্রবেশ করতে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিস্থিতি সংঘর্ষের দিকে যাচ্ছে দেখেও পুলিশ কেন তাদের সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দিলো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে অনেকেই।

এখন অবশ্য পুলিশ প্রশাসন উভয় পক্ষকে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন। শনিবার বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক আহবান করা হয়েছে।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ইসি সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়ন করে চলছেঃ মির্জা ফখরুল ইসলাম

ফাইল ছবি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। তারা সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়ন করেই চলছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এই অবস্থায় কতটুকু নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব? গতকাল বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ফখরুল বলেন, উনার কথার প্রতিক্রিয়া আমি দিতে চাই না কখনো। কারণ উনি অধিকাংশ অবান্তর কথা বলেন। ফখরুল বলেন, নির্বাচনটা দিন না সুষ্ঠুভাবে। দেখেন কে কতটা আসন পান। আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি। ৩০টার বেশি আসন পাবেন না।

তিনি বলেন, এত দুশ্চিন্তা কেন? এর আগে বলেছেন আমরা নাকি নির্বাচনে প্রার্থী খুঁজে পাব না। পরে দেখা গেল প্রতিটা আসনে দুইজন তিনজন করে প্রার্থী দিয়েছি। এখন বলছেন নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকবো কিনা সন্দেহ আছে। ফখরুল বলেন, আমরা নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকবো বলেই নির্বাচনে এসেছি। এত লড়াই সংগ্রাম করছি। তিনি বলেন, সারা দেশে আমাদের যারা প্রার্থী হয়েছেন প্রত্যেকের নামে একাধিক মামলা আছে। আমার মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় মামলার বিবরণ দিতে ৪ পৃষ্ঠা লেগেছে। ফখরুল বলেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে কিনা তা নির্ভর করবে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ওপর।

আমরা বিগত ৭ বছর সংবিধান সংশোধনসহ নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছি। আমরা আলোচনা করেছি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও। কিন্তু কিছুই করেনি। সরকার এসবে কোনো কর্ণপাত না করে একতরফা নির্বাচন করতে ও তাদের নিলনকশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। আমরা বারবার অভিযোগ করার পরও আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করেই চলেছে। কোনো ধরনের লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড হয়নি। বর্তমানে যে অবস্থা তাতে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়। ফখরুল বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ করেছিলাম। সেখানে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তফসিলের পর কোনো গ্রেপ্তার হবে না। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন সরকারের নির্দেশে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেই চলেছে।

এভাবে নির্বাচনের মাঠে খারাপ পরিবেশ তৈরি হলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সরকারকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, ৮ তারিখে তফসিল ঘোষণার পর নারায়ণগঞ্জে ২৫ জন, ঢাকা মহানগরে ৩৯৪ সহ, মানিকগঞ্জ ও বগুড়ায় ৫৩৭ জন। ২৬ তারিখে ৩ জনসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে এখনও বলছি এসব বন্ধ করতে হবে। তা না হলে নির্বাচনের পরিবেশ কি হবে তা আমরা বলতে পারছি না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিচার বিভাগকে সরকার পুরোপুরিভাবে করায়ত্ত করে ফেলেছে। বৃহস্পতিবারও আমাদের সিনিয়র নেতা খায়রুল কবির খোকনকে আদালত জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন। আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অন্যদিকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। এই সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। পুরো জাতিকে তারা সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাই কোনো ধরনের সংঘাত হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটা জিনিসকেই ভয় পান।

সেটি হলো সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচনকে তিনি ভয় পান বলেই নিলনকশা বাস্তবায়নে সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। আর বর্তমান নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এগুলো করছে। এ সময় তিনি বলেন, শনিবার বা রোববার আমরা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিতে যাব। ইতিপূর্বে আমরা বহু চিঠি দিয়েছি। তাতে কোনো কাজ হয়নি। তারপরও আমরা যাব। জামায়াতকে কত আসন ছাড়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ জামায়াত নেই। এখন সব ধানের শীষ। জামায়াতের কোনো প্রার্থী নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী কোন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেয়ার সময় শোডাউন বা মিছিল করতে পারবেন না। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে পারবেন না। কিন্তু আমার আসনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মনোনয়ন জমা দেয়ার সময় শোডাউন করেছেন। মোটরসাইকেল শোডাউন করেছেন। এ সময় বেশ কয়েকটি ছবি দেখিয়ে বলেন, ওবায়দুল কাদের শোডাউন করেছেন, সমাবেশ করেছেন। সেখানে বক্তব্য দিয়েছেন। এসবের ছবিসহ ভিডিও আছে আমার কাছে।

তিনি বলেন, এই আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে আমি নির্বাচন কমিশনে একটি চিঠি দিয়েছিলাম ২০ তারিখে। কিন্তু তার কোনো প্রতিকার পাইনি। পরে ২৮ তারিখ আমি মোবাইলে সিইসির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, বিষয়টা আমি দেখি না। আমাকে এখনো এই ধরনের কিছু জানানো হয়নি। তারপরও আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। কিন্তু কোনো ধরনের পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত তিনি নেননি। এ সময় মওদুদ আহমদ বলেন, এই নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারা বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু ইসি মূলত বর্তমান সরকারের তল্পিবাহক হিসেবে কাজ করছে। তাদের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। তিনি আরো বলেন, আমি ৫ বার নির্বাচিত হয়েছি। প্রায় ৬০-৭০ ভাগ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছি। ২০০৮ সালের পরিকল্পিত নির্বাচনে ওবায়দুল কাদের মাত্র ১৩ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন। অথচ আমি এর আগে ৮৬ হাজার ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছি। যাক এসব নিয়ে কথা বলতে চাই না। গত ৫ বছরে আমার ২১ হাজার নেতাকর্মীকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

ঘরবাড়ি, দোকানপাট লুট করে নেয়া হয়েছে। গত রমজানের ঈদে আমার নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ৭ দিন ঘর থেকে বের হতে দেয়া হয়নি। পুলিশ পিকআপ বাড়ির রাস্তার মাঝখানে এলোপাথাড়ি করে রাখা হয়েছিল। কোরবানির ঈদেও আমাদের ঘর থেকে বের হতে দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, আশা করেছিলাম তফসিল ঘোষণার পর থেকে এসব বন্ধ হবে। কিন্তু হয়নি। আমার নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। বিনা দ্বিধায় বলতে পারি সুষ্ঠু ভোট হলে ধানের শীষ বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিতবে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ সংসদ নির্বাচনের আগে প্রশাসনে রদবদলে আগ্রহী নয় নির্বাচন কমিশনঃ রফিকুল ইসলাম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রশাসনে রদবদলে আগ্রহী নয় নির্বাচন কমিশন। তবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে মাঠ পর্যায়ের এসব কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের ওপর নজর রাখবে কমিশন। গতকাল শুক্রবার নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রশাসনে রদবদলের আপাতত কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। আমরা কর্মকর্তাদের পেশাদারির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। প্রশাসনের কোন পদে কে কাজ করলো, সে বিষয়টিকে আমরা বড় করে দেখছি না। ব্যক্তি আমাদের কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নন। যেকোনো ব্যক্তিই যদি পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করেন, তাহলে কোন লোকটা কাজ করলেন, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) যিনি আছেন, নাম যা-ই হোক, ব্যক্তি যে-ই হোক না কেন উনার পেশাদারি যদি ঠিক রাখেন, তাহলে নির্বাচনে তার ওপর প্রভাবটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। যার যার জায়গা থেকে পেশাদারিত্ব নিয়েই কাজ করবেন- সেটাই আমরা দেখবো, আমরা ওই পেশাদারির পেশাদারিত্বের জায়গাটাকে ঠিক করতে চাই। পুরো প্রশাসনকে উলট-পালট করে পেশাদারিত্ব ঠিক করা যাবে না বলেও মনে করেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় বাজেট, সময় ও অন্যান্য বিষয় মাথায় রেখেই নির্বাচনের আগে ব্যাপক রদবদলে গুরুত্ব দিচ্ছে না কমিশন। তবে কোনো কর্মকর্তা পেশাদারির পরিচয় দিতে ব্যর্থ হলে ব্যক্তিগতভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কমিশন। কোনো প্রার্থী বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে কমিশন সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, কমিশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দলের অভিযোগ রয়েছে। তাই বলে কি প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে কমিশনের দৌড়াতে হবে? ‘যেমন দাবি আছে সব ওসিকে পরিবর্তন করা, ইউএনও, ডিসিকে পরিবর্তন করা। এদের পরিবর্তন করতে যে বিশাল বাজেট লাগবে, সরকারের অন্যান্য কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়ে যাবে। আমরা কী এত সব কিছু করতে পারি! আমরা সরকার নই, নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকালে হোক আর যা-ই হোক, একটা সরকার বলবৎ আছে। সংবিধান অনুযায়ী সে সরকারের কাছে নির্বাহী ক্ষমতা ন্যস্ত আছে। উনাদের দায়িত্ব তো আমাদের পালন করার কথা নয়। তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যদি কেউ প্রভাব বিস্তার করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। সে যদি সেক্রেটারিও হয়, আমরা ব্যবস্থা নেব, আইজিপি হলেও ব্যবস্থা নেব। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে, এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলেই কেবল কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

সম্প্রতি গণভবনে সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠান আয়োজন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নে রফিকুল ইসলাম বলেন, এতে আচরণবিধির লঙ্ঘন হয়েছে বলে আমি মনে করি না। কারণ, তিনি এখনো দেশের প্রধানমন্ত্রী। গণভবন উনার বাসভবন, নিজের বাসভবনে বসে তিনি যে কারো সঙ্গে দেখা করতেই পারেন। তবে, সরকারি বাসভবনে দলের নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যবহার করলে কমিশন তা দেখবে বলেও জানান রফিকুল ইসলাম।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিশন কোনো চাপে নেই উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসনের শেষ স্তর পর্যন্ত সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করাই এখন কমিশনের মূল চ্যালেঞ্জ। এমনকি এই ব্যবস্থাপনায় ভোটার, প্রার্থী ও পোলিং এজেন্টরাও রয়েছেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে এত বিশাল জনগোষ্ঠী জড়িত, পুরো জনবলকে এক জায়গায় এনে একই সুরে, একইভাবে কাজ করানোটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয় নয় বরং প্রতিটি ছোটখাট বিষয়কেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে কমিশন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগের বিষয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, উনারা যে চিঠিপত্র দিয়েছেন, আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করেছি। যেগুলোতে আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি, সেগুলো আমলে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছি। হুট করে আমাকে একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বলা হলো ব্যবস্থা নিতে, প্রক্রিয়া ছাড়া তো এটা করা সম্ভব নয়।

দুজন প্রার্থীর মনোনয়ন জমা না নেয়ার বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই প্রার্থীদের সঙ্গে যদি কোনো ধরনের অনিয়ম করা হয়ে থাকে আইন অনুযায়ী কমিশনের হস্তক্ষেপে তারা প্রয়োজনে নির্বাচনের আগের দিনও প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে নির্বাচন করতে পারবেন। কমিশন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে বলেও জানান রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী এক শতাংশ ভোটার ভেরিফিকেশনের বিষয়টি আমলে নিয়েই তাদের মনোনয়ন জমা নেয়া হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট দেয়ার সুবিধায়, আগ্রহী ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যবস্থায় ব্যালট পাঠানো হবে বলেও জানান রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রক্রিয়াটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ। তবে ভবিষ্যতে প্রবাসীদের ভোট দেয়ার প্রক্রিয়া আরো সহজ ও দ্রুততর করতে কমিশন কাজ করবে।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ফিরে দেখাঃ আওয়ামী লীগ এমপি-মন্ত্রীদের যত অপকর্ম

টানা ১০ বছরের ক্ষমতার শেষ মুহুর্ত অতিক্রম করছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। এই সময়ে দুর্নীতি, লুটপাট আর অপকর্মে বিগত সব সরকারকে হার মানিয়েছে তারা। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে আলোচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অসংখ্য শীর্ষস্থানীয় নেতা। দলের একজন এমপি বা মন্ত্রীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের রেশ না কাটতেই অন্য একজন একই ধরনের ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। এরকম আলোচিত কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হল অ্যানালাইসিস বিডির পাঠকদের জন্য।

শাজাহান খান:
নৌ পরিবহন সেক্টরে দুর্নীতি, পরিবহন শ্রমিকদের দিয়ে নৈরাজ্য, চাঁদাবাজি, ষড়যন্ত্রমূলক পরিবহন ধর্মঘট, একাধিকবার ধর্ম অবমাননা ও তার উপর মুসল্লিদের জুতা নিক্ষেপের ঘটনায় আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়েই আলোচিত ছিলেন তিনি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিতর্কিত মন্তব্যসহ নানা অপকর্মে আলোচিত এই মন্ত্রী।

আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী:
ধর্ম ও তাবলিগ জামায়াত নিয়ে করা মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর মন্তব্য গত দুই বছরে সরকারকে সব থেকে বেশি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। ওই ঘটনার জের ধরে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়। পরে দল ও মন্ত্রিসভা থেকে তাকে বহিষ্কারের পাশাপাশি তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জন্য স্পিকারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। পরে অবশ্য তিনি নিজেই সংসদ সদস্য পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। ঘটনার জের ধরে লতিফ সিদ্দিকীকে জেলেও যেতে হয়।

মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন:
গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। কথা না শোনায় পিস্তল দিয়ে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রের পায়ে গুলি করেন। বিষয়টি নিয়ে সারাদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনার পর এই সংসদ সদস্যের নামে মামলা দায়ের করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই সংসদ সদস্য গ্রেফতারও হন। পরে অধিবেশনে যোগ দেওয়ার শর্তে মাস খানেক পর মুক্তি পান তিনি। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে তার নিজ বাসভবনে অজ্ঞাত বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন। পরে হত্যা ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় স্থানীয় জাপা নেতা আব্দুল কাদিরকে।

এমপি আবদুল লতিফ:
চট্টগ্রাম বন্দর-পতেঙ্গার এমপি আবদুল লতিফ কম্পিউটার প্রোগ্রামের ফটোশপের মাধ্যমে ‘নিজের শরীরের অংশের’ সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর মুখমণ্ডল লাগিয়ে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এহেন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সরব হয়েছিল খোদ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাই।

আমানুর রহমান খান রানা:

জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ফারুক আহমেদকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে টাঙ্গাইল ৩ আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার বিরুদ্ধে। নিজ দলের নেতাকে হত্যার দায়ে তার বিরুদ্ধে মামলাও চলছে।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া:
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনায় নেপথ্যে ভূমিকা পালনের অভিযোগ ওঠে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এমপির বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় তার মেয়ের জামাই লে. কর্নেল (বরখাস্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর এই সেভেন মার্ডারের ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ঘটনা সারাদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াও এ ঘটনায় দলের ভেতরে এবং সরকারে বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েন।

এছাড়া জরুরি অবস্থার সরকারের সময়কালে দুর্নীতি মামলায় উচ্চ আদালতে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার ১৩ বছরের সাজা বহাল থাকে। পরে অবশ্য আপিল বিভাগ থেকে ওই রায় স্থগিত করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি তার ছেলে রনি চৌধুরীর তিনটি ইয়াবা কারখানার সন্ধান পাওয়া গেলে আবারও আলোচনায় উঠে আসেন মায়া।

ওবায়দুল কাদের:
সড়ক পরিবহন সেক্টরের অনিয়ম দেখতে রাস্তাঘাটে নেমে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় আসা ওবায়দুল কাদের সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছেন তার ‘কাউয়া’ তত্ত্বের কারণে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে চুমু প্রসঙ্গ, বিরোধীদল প্রসঙ্গে নানা বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে আলোচনার তুঙ্গে থাকেন ওবায়দুল কাদের।

হাছান মাহমুদ:
জলবায়ু তহবিল লোপাটের ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হাছান মাহমুদ। যেকোনো ঘটনায় জামায়াত বিএনপি জামায়াতকে হাস্যকরভাবে জড়িয়ে বরাবরই খ্যাতিলাভ করেছেন আওয়ামী লীগের অঘোষিত মুখপাত্রখ্যাত হাছান মাহমুদ। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার জন্যও বিএনপি জামায়াতকে অভিযুক্ত করে পুরো দেশবাসীর হাসির পাত্র হন তিনি।

মাহবুবুল আলম হানিফ:
কথায় কথায় জামায়াত বিএনপিকে দোষারোপ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও নির্বাচনী হলফনামায় অভাবনীয় আয়ের উৎস মাছ চাষ দেখিয়ে আলোচনায় এসেছেন আঙুল ফুলে কলা গাছ বনে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম:
বিরোধী দলকে হুমকি ধামকি দিয়ে বিখ্যাত নাসিম তার রাগের কারণে পাগলা নাসিম বলেও পরিচিত। স্বাস্থখাতে দুর্নীতি অনিয়ম ও সম্প্রতি তার ছেলের আমেরিকায় বাড়ি বানানোর খবরে আলোড়ন তুলেছে।

ম খা আলমগীর:
রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনায় “বিএনপি জামায়াত নেতাকর্মীরা পিলার ধরে নাড়াচাড়া করেছে” কথা বলে ভাইরাল হন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর। সম্প্রতি ফার্মার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় আবারও আলোচনায় আসেন তিনি।

নুরুল ইসলাম নাহিদ:
সৃজনশীল পরীক্ষা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভয়াবহ দুর্নীতি, প্রশ্নফাঁস ও সহনীয় মাত্রায় ঘুষ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে আলোচিত হয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ ম‌তিউর রহমান:
হজ্জ ব্যবস্থাপনায় নানা দুর্নীতি, অনিয়ম, ছেলে ও আত্মীয়দের খুনখারাবিসহ বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সমালোচিত হন ধর্মমন্ত্রী ম‌তিউর রহমান।

সাহারা খাতুন:
বেপরোয়া মন্তব্যসহ নানা কাজের জন্য আলোচিত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। ২০১২ সালে সাগর রুনী হত্যার পর ৪৮ ঘন্টায় আসামিকে ধরার কথা বললে আজও শেষ হয়নি সেই তদন্ত প্রতিবেদন।

আবুল মাল আবদুল মুহিত:
বর্তমান সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কথায় কথায় রাবিশ, বোগাশ, ননসেন্সসহ বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে সরকারকে কয়েক দফায় বিব্রত হতে হয়েছে। এছাড়াও শেয়ারবাজার ধস, ফটকাতত্ত্ব ও জাতীয় বেতন স্কেল নিয়ে টালবাহানা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন ও সেশন ফি’র ওপরে ভ্যাট আরোপ করেও তুমুল সমালোচিত হন তিনি।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন:
ভয়ভীতি দেখিয়ে হিন্দুদের সম্পত্তি কম দামে কেনার অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামে। এছাড়াও পারিবারিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে রাজাকার হিসেবেও তার কুখ্যাতি রয়েছে।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত:
রেলের দুর্নীতি, টাকার বস্তাসহ তার পিএস আটকের ঘটনাসহ নানা বিতর্কিত ও ব্যাঙাত্মক মন্তব্যের কারণে আলোচনায় থাকতেন প্রয়াত মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

ডা. দীপু মনি:
হাসিনা সরকারের প্রথম মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন কারণে অকারণে রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশ সফরের রেকর্ড ও দেশের তুলনায় বিদেশে বেশি থাকায় খবরের শিরোনাম হন দীপু মনি।

মতিয়া চৌধুরী:
শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে ডুগডুগি বাজানোর মন্তব্যের কারণে বিখ্যাত ছিলেন মতিয়া চৌধুরী। সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদেরকে রাজাকারের বাচ্চা বলে ব্যাপক সমালোচিত হন তিনি।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম:
খাদ্র ও বিভিন্ন পণ্যদ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, আমদানিতে অনিয়ম ও পঁচা গম ক্রয়ের ঘটনায় ব্যপকভাবে সমালোচিত হন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়:
সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি ও অস্ত্রসহ উত্তরার একটি বাড়িতে হামলা চালাতে গিয়ে সমালোচিত হন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়।

ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু:
ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর স্ত্রী ও সন্তানদের অন্যের জমি দখল ও লাগামছাড়া অপকর্মের জন্য মন্ত্রী নিজ এলাকার দলের লোকদের থেকেও এখন বিচ্ছিন্ন। স্কুল বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘক্ষণ রাজপথে দাঁড়িয়ে রেখে ভূমিমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর শাহরিয়ার আলম আলোচনায় আসেন।

জাহাঙ্গীর কবির নানক:
দুর্নীতি, পিলখানা হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গুন্ডাবাহিনী নিয়ে ভিসির বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগসহ নানা অভিযোগ রয়েছে নানকের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সমর্থকদের ও নানক সমর্থকদের সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়। এসব কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাননি বলেও বলা হচ্ছে।

জুনায়েদ আহমদে পলক:
নিজের ও স্ত্রীর নামে বিপুল সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ রয়েছে সর্বকনিষ্ট এমপি বলে পরিচিত জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে।

তারানা হালিম:
অকারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বন্ধ করে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেন তারানা হালিম।

এমপি বদি:
ইয়াবা কারবারের অভিযোগে বহুল বিতর্কিত কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া আসনের এমপি আবদুর রহমান বদি। দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসার মামলায় সাজাও খেটেছেন।

নিজাম উদ্দিন হাজারী:
এক সময়কার ‘কেউটে সন্ত্রাসী’ থেকে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য হন নিজাম উদ্দিন হাজারী। অস্ত্র মামলায় জেল খেটে বের হয়ে রাতারাতি বদলে নেন নিজেকে। ফেনীর এক সময়কার দোর্দণ্ড প্রতাপশালী জয়নাল হাজারীর হাত ধরে রাজনীতির মাঠে আসেন। এরপর ফেনীর নিয়ন্ত্রণ নেন নিজের হাতে।

চিফ হুইপ আসম ফিরোজ:
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও পটুয়াখালী-২ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ আ স ম ফিরোজ সরকারিভাবে তাঁর নামে একটি বাংলো ও একটি অফিস থাকার পরও সংসদ সদস্য ভবনে তিনি আরও সাতটি বাসা নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।

এছাড়াও পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মোস্তফা কামাল, মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল, আসাদুজ্জামান খান কামাল, পটুয়াখালী-৪ আসনের মাহবুবুর রহমান, পিরোজপুর-১ আসনের একেএমএ আউয়াল, ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, সিলেট-৩ আসনের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, ঢাকা-১৬ আসনের ইলিয়াস মোল্লা, দিনাজপুর-২ আসনের তাহজিব আলম সিদ্দিকী, নীলফামারী-৩ আসনের গোলাম মোস্তফা, খুলনা-৬ আসনের অ্যাডভোকেট নুরুল হকসহ বেশ কয়েকজন এমপি বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি ও অপকর্মের মাধ্যমে বিতর্কিত হন।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ সংসদ নির্বাচন: যে রায়ের পর নড়েচেড়ে বসেছে আওয়ামী লীগের সরকার

বিরোধীদল বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা সে বিষয়ে যখন পাল্টাপাল্টি যুক্তি দেয়া হচ্ছে তখন হাইকোর্টের নতুন একটি রায়ে সরকার নড়েচড়ে বসেছে।

হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার বিএনপির একজন প্রার্থী সাবিরা সুলতানার সাজা স্থগিত করার পর সরকারের পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে আগামীকালই আপিল করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। খবর বিবিসির।

সরকারের এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, আদালত বন্ধ থাকার পরেও শনিবার চেম্বার জজ আদালতে এই আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, ২রা ডিসেম্বর, রবিবার মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই-এর জন্যে দিন নির্ধারিত থাকার কারণে তারা আর দেরি করতে চান না।‘যদি এই আদেশের সুযোগ নিয়ে তিনি নির্বাচন করেন তাহলে সেটা সংবিধানের পরিপন্থী হবে,’ বলেন মাহবুবে আলম।

খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন। বিএনপির নেতারা আশা করছেন, তাদের নেত্রী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন এবং সেজন্যে তাকে পাঁচটি আসনে মনোনয়নও দেয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোন সুযোগ নেই।

সাবিরা সুলতানার ব্যাপারে হাইকোর্টে দেয়া সবশেষ রায়ের পর অনেকে মনে করছেন, নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশ নেয়ার ব্যাপারে এই রায়টি নতুন পথ খুলে দিতে পারে। কিন্তু এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলছেন, ‘সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে নৈতিক স্খলনের কারণে কেউ যদি দুই বছর কিম্বা তারও বেশি সাজাপ্রাপ্ত হন তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না।’

‘এমনকি মুক্তিলাভের পরেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্যে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আরো পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে,’ বলেন আলম।

সাবিরা সুলতানার মামলা

সম্পদের তথ্য গোপন করা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা এক মামলায় নিম্ন আদালত বিএনপির নেত্রী সাবিরা সুলতানাকে তিন বছর করে মোট ছয় বছরের কারাদণ্ড দেয়। সাবিরা সুলতানা তখন এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন।

এরপর জামিনে থাকা অবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্যে তিনি বিরোধীদল বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। দলটি তাকে যশোর ২ আসনে মনোনয়নও দিয়েছে। তার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, তখন প্রথম আলো পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয় যাতে বলা হয় যে দণ্ডিত ব্যক্তিরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

সংবাদটি দেখার পর তার মক্কেল দণ্ড স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়ে হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একক একটি বেঞ্চ বৃহস্পতিবার তার সাজা স্থগিত করেছেন। আমিনুল ইসলাম বলেন, হাইকোর্টের এই আদেশের কারণে তার মক্কেল এখন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলে তারা আশা করছেন।

এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বর্তমান সংসদের কয়েকজন সদস্য সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর তারাও একইভাবে আবেদন জানালে হাইকোর্ট তাদের সাজা স্থগিত করেছিল এবং তারা পরে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিতও হয়েছেন। তারা মন্ত্রীও হয়েছেন।’

সাবিরা সুলতানার আইনজীবীরা আদালতের সামনে এরকম কিছু উদাহরণ তুলে ধরে বলেছেন, ‘তার সাজা স্থগিত হলে তিনিও নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন।’ আমিনুল ইসলাম জানান, আদালত তাদের এই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

বিএনপির পাঁচ নেতার ব্যাপারে রায়

কিন্তু কয়েকদিন আগে বিএনপির পাঁচজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে তাদের সাজা ও দণ্ড স্থগিত করার জন্যে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। তখন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ তাদের আবেদন খারিজ করে রায় দিয়েছিল যে কারো দু’বছরের বেশি দণ্ড বা সাজা হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

তাদের একজন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে গিয়েছিলেন হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করার জন্যে। এবং আপিল বিভাগ সেটা গ্রহণ করেনি।

সরকারের এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘আপিল কোর্টে শুধু সাজা স্থগিত করা যায়। কিন্তু দোষী সাব্যস্ত হওয়াটাকে মামলার শুনানি করে, খালাস কিম্বা মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা যায় না।’

তাহলে কোন রায়টি প্রযোজ্য হবে- এই প্রশ্নের জবাবে সাবিরা সুলতানার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এর আগে হাইকোর্টে এমন রায়ও হয়েছে যেখানে সাজা স্থগিত করার পর তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। ফলে নির্বাচন করতে পারবে না বলে যে রায় দেওয়া হয়েছে সেটিও প্রশ্নাতীত নয়।’

আমিনুল ইসলাম বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অধস্তন আদালত মানতে বাধ্য হলেও হাইকোর্টের একটি আদালতের আদেশ আরেকটি আদালত মানতে বাধ্য নন।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও এবিষয়ে হাইকোর্টের আরেকটি আদালত এরকম রায় দিতে পারে কিনা সেনিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এটর্নি জেনারেল।

তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক আইন দেশের সর্বোচ্চ আইন। এই আইন অন্যান্য আইনের উপরে থাকবে।’

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‘নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্বের বিচারে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে দিতে যাচ্ছে’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) বলেছেন যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে সারাদেশে কোথাও কোনো প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

যদিও সারাদেশে ক্ষমতাসীন এবং বিরোধীদলের প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বেশ কিছু দৃষ্টান্ত দ্য ডেইলি স্টারের নজরে এসেছে।

নির্বাচন উপলক্ষে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণদানের ওই অনুষ্ঠানে সিইসি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশন একটি প্রতিযোগিতামূলক এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।”

এ বিষয়ে আজ (৩০ নভেম্বর) ডেইলি স্টার অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী এবং টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “আমরা দেখেছি, মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে প্রার্থীরা প্রকাশ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। সিলেটে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গাড়িবহর ও মিছিল নিয়ে তার ভাইয়ের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এসব দেখেও, নির্বাচন কমিশনকে তার দায়িত্ব পালনে অনীহা প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে।”

“এখনই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের শক্ত হাতে ধরা উচিত। নির্বাচন কমিশন তাদের তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা দিতে পারে, শাস্তি দিতে পারে। এতে প্রার্থীরা ভয় পেয়ে কিছুটা হলেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, নির্বাচন কমিশন এসব দেখেও না দেখার ভান করে আছে। এটাই হচ্ছে তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব অবহেলা,” মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক এই সচিব বলেন, “এখনও বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তল্লাশি করছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তার করছে। এমতাবস্থায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যতোই বলা হোক না কেনো, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি তো হয়নি, সম্ভাবনাও নেই।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাজ-কারবার এতোটাই বিরক্তিকর হয়ে গেছে যে, আমি এগুলো নিয়ে এখন আর কথা বলি না এবং বলা পছন্দও করি না।”

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “কয়েকদিন আগে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মূর্তির ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখন তারা নিজেই যেন বোবা-অন্ধ হয়ে গেছে। শোভাযাত্রা করে মনোনয়নপত্র জমাদানে যে আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে কমিশন নিজের নির্দেশিত পথেই হাঁটছে।”

তিনি বলেন, “পুলিশ এবং প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা সত্ত্বেও সংস্থাটি ভুয়া মামলা ও গ্রেপ্তার ঠেকাতে পারছে না। এর মধ্য দিয়ে শুধু যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতেই ব্যর্থ হয়েছে তা নয়, কমিশন তার ক্ষমতারও অপব্যবহার করছে।”

এবারের নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্বের বিচারে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে দিতে যাচ্ছে বলে মনে করেন ইফতেখারুজ্জামান। তার মতে, “আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হওয়ার জন্য যদি কাউকে দায়ী করা হয়, সেটি হবে নির্বাচন কমিশন।”

উৎসঃ thedailystar

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here