খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনায় হুইপের স্ট্যাটাস ভাইরাল

0
194

টাঙ্গাইলে নিজের ধানি জমিতে কৃষকের আগুন দেয়ার ঘটনার বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ।

তার ওই স্ট্যাটাস ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। গতকাল দুপুরে দেয়া স্ট্যটাসটি শেয়ার হয়েছে অনেক।

টাঙ্গাইলে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ টাকায়। আর একজন শ্রমিকের দিন মজুরি ৮৫০ টাকা। এতে প্রতি মণ ধানে কৃষককে গুনতে হচ্ছে লোকসান।

গত রোববার (১২ মে) ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া গ্রামের আবদুল মালেক সিকদার নামের এক কৃষক নিজের পাকা ধানে আগুন দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানান।

পরে বুধবার (১৫ মে) এক অনুষ্ঠানে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত মন্তব্য করে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ঘটনাটি এমনই পরিকল্পিত যে সকাল থেকে সেখানে সাংবাদিকেরা গিয়ে বসে ছিলেন। ধানের দাম কম, এ জন্য একজন কৃষক হিসেবে সেই দুঃখ আমারও আছে। কিন্তু তাই বলে কৃষক তার উৎপাদিত ধানে আগুন দেবেন, এটা হতে পারে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

খাদ্যমন্ত্রীর এমস বক্তব্যের সমালোচনা করে জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ তার ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘আপনি কৃষকের সঙ্গে মশকরা করতে পারেন না। একজন অসহায় কৃষকের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকেও সহ্য করতে পারবেন না? আপনি তো সামরিক স্বৈরাচারের মন্ত্রী নন। আপনাকে স্মরণ রাখতে হবে, আপনি আমলা বা ব্যবসায়ী কোটার মন্ত্রী নন। তৃণমূল থেকে কাদামাটি গায়ে মাখা রাজনীতিবিদ। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান থেকে ধাপে ধাপে ধান আবাদি মানুষের সহযোগিতা–সমর্থনে আজকের পর্যায়ে এসেছেন। অন্তত আপনি কৃষকের সঙ্গে মশকরা করতে পারেন না।’

তিনি আরও লেখেন, আপনি, আমি কৃষকের ভোটে, কৃষকের দয়ায় সংসদে এসেছি। কৃষককে ধানের মূল্য দিতে পারবেন না, বিনয়ের সঙ্গে সম্মানিত কৃষকদের সীমাবদ্ধতার কথা অবহিত করুন। সমস্যা কোথায়? অসীম সমস্যার এই দেশে সবকিছু রাতারাতি ঠিক হবে না, এ কথা বিনয়ের সঙ্গে বললে মানুষ গ্রহণ করবে।’

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌রংপুরে সড়কে ধান ছিটিয়ে কৃষকের প্রতিবাদ


ধানের ন্যায্যমূল্য দাবিতে এবার রংপুরে মহাসড়কে ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ করেছেন কৃষকরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রংপুর নগরের মাহীগঞ্জ সাতমাথা এলাকায় রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।এসময় তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সরকারি উদ্যোগে হাটে হাটে ক্রয়কেন্দ্র খুলে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে নেয়ার দাবি জানান। কৃষক সংগ্রাম পরিষদ নামে একটি সংগঠন এই প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করে।
এ সময় কৃষকরা মহাসড়কে ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশে আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুস সাত্তার সভাপতিত্ব করেন।

কৃষকরা দু:খ করে বলেন, এক বিঘা ধান উৎপাদনে খরচ পড়ছে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। আর ধানের দাম করে যাওয়া বিঘাপ্রতি উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬-৭ হাজার টাকা। এতে করে প্রতি বিঘায় ধান উৎপাদনে লোকসান প্রায় তিন হাজার টাকা। এতে করে কৃষকদের দুর্ষিসহ অবস্থায় পড়তে হচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, এক মণ ধানের দামে ধান কাটার একজন শ্রমিককে কাজে নিতে হয়। শ্রমিকের চড়া মজুরির কারণে জমি থেকে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষক। ধার-দেনা করে কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলতে হচ্ছে।

এর আগে ব্যুরো ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় ধানক্ষেতে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ জানান কৃষকরা। টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই প্রতিবাদ জানান চাষীরা।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌গণতন্ত্র এখন মাইনকার চিপায়: মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল


দেশের গণতন্ত্র মাইনকার চিপায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেছেন, আমাদের দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান যে অবস্থা, তাতে ঢাকার ভাষায় বলতে হয়, গণতন্ত্র এখন মাইনকার চিপায় পড়ছে। আমরা এই মাইনকা চিপা থেকে বের হতে পারছি না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ। ব্যাংকিংব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আমি আশঙ্কা করছি, এবার ঈদে ব্যাংকে গিয়ে গ্রাহক বড় ধরনের কোনো চেক জমা দিলে টাকা পাবেন না। তাদের দু-তিন দিন অপেক্ষা করতে বলা হবে। আর সেই দু-তিন দিনে হয়তো ঈদও পার হয়ে যাবে। শুনতে খারাপ লাগলেও আমাদের ব্যাংকিংব্যবস্থা এখন এই স্থানে গিয়ে পৌঁছেছে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আপনি আওয়ামী লীগের একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। আপনি বলছেন, টাকা হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেনা যায়। আইন-আদালত সব কেনা যায়। তা হলে আমার প্রশ্ন- আপনারা সরকারে আছেন কেন? ব্যর্থতার দায় নিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান।

মন্ত্রী ও সাবেক মন্ত্রীদের সমালোচনা করে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, এই সরকারের মন্ত্রীরা সবসময় উল্টোপাল্টা বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিনোদন দেন। রানা প্লাজা ধসেপড়ার পর এই সরকারের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (মহীউদ্দীন খান আলমগীর) বলেছিলেন- বিএনপির নেতাকর্মীরা রানা প্লাজার পিলার ধরে ধাক্কা দেয়ায় রানা প্লাজা ধসে পড়েছে। এখন নাসিম সাহেব বলছেন- টাকায় সব কেনা যায়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌মন্ত্রীদের উদ্ভট-কাণ্ডজ্ঞানহীন কথাবার্তায় মানুষ হাসাহাসি করে: রিজভী


ক্ষমতাসীন সরকারের মন্ত্রীদের উদ্দেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, চাপাবাজি দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে পারবেন না। আপনাদের উদ্ভট-অবাস্তব ও কাণ্ডজ্ঞানহীন কথাবার্তায় মানুষ হাসাহাসি করে, আমোদিত হয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, দেশে কর্মসংস্থানের অভাবে চাকরির জন্য জীবনবাজি রেখে ইতালি পাড়ি দিতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছেন আমাদের ৩৭ হতভাগ্য ভাই। এর আগেও মালেয়শিয়াসহ ইউরোপীয় দেশগুলোতে অবৈধ পন্থায় প্রবেশ করতে গিয়ে প্রাণহানি ঘটেছে অনেক বাংলাদেশি যুবকের।

তিনি বলেন, মিডনাইট সরকারের বিনাভোটের মন্ত্রীরা কেউ বাংলাদেশকে কানাডা-স্পেনের সঙ্গে তুলনা করছেন, কেউ প্যারিস-লসঅ্যাঞ্জেলেস-সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা বলছেন।

‘আবার নির্লজ্জের মতো এই সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, সুইজারল্যান্ডের মন্ত্রী নাকি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এক টুকরো বাংলাদেশ চায়, আবার বেলজিয়াম নাকি বাংলাদেশ মডেলে চলতে চায়!’

বিএনপির এ নেতা বলেন, জনগণের ভোট ছাড়াই জোর করে জনগণের ঘাড়ে চড়ে বসা এই মিডনাইট ভোটের সরকার দেশকে লুটপাট করে অর্থনীতিকে ফাঁপাফোকলা করে দিচ্ছে। বাড়ছে বেকারত্ব।

ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডার, অনুগত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের জুলুম ও অব্যবস্থাপনায় দিনকে দিন বাংলাদেশ বসবাসের অযোগ্য হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

তিনি বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবেই ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার কর্মক্ষম মানুষ বেকার। যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো বাস্তবসম্মত সরকারি পদক্ষেপ নেই। যুবশক্তি আজ পথহারা। তাই হতাশায় নিমজ্জিত তরুণদের মধ্যে মাদকাশক্তির প্রবণতা বাড়ছে। নিরাপত্তা আর কাজের অভাবে দেশ ছেড়ে গিয়ে সাগরে সলিল সমাধি ঘটছে টগবগে তরুণদের।

রিজভী আরও বলেন, দেশ ছাড়তে গিয়ে সাগরে মৃত্যুর খবর প্রায়ই আসছে, কিন্তু সরকার নির্বিকার। মিথ্যা প্রপাগান্ডার জোয়ারে ভাসছে এ অন্ধকারের সরকার।

তিনি বলেন, এক দশক আগে আওয়ামী লীগ সরকার বলেছিল, ঘরে ঘরে চাকরি দেবে। ১০ টাকা সের চাল খাওয়াবে। কিন্তু চাকরি না হোক, মানুষ তো চায় কাজ। সরকার দেশে কর্মসংস্থান করতে পারে না, কিন্তু বেসামাল মন্ত্রীরা উন্নয়নের কল্পিত গল্প শোনায়, কৃত্রিম জিডিপি ও প্রবৃদ্ধির গল্প বানায়।

‘তাদের তথাকথিত উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে ভূমধ্যসাগরে ডুবে মরল হতভাগ্য ৩৭ বাংলাদেশি। তাদের স্বজনদের শোকের মাতম কে দেখবে?’ প্রশ্ন রাখেন রিজভী।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগ সভাপতির বাবার আম বাগানের ভেতরে গাঁজার চাষ


দিনাজপুরের বিরামপুরে ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের বাবা বিরামপুর উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন ওরফে টিটুর ইজারা নেয়া জমিতে শতাধিক গাঁজার গাছসহ কেয়ারটেকার মংলুকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে পৌর শহরের মিরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

বিরামপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা জানান, পৌর শহরের মিরপুর মহল্লায় একটি আম বাগানে গাঁজা চাষের খবর পান অফিসার্স ইনচার্জ মনিরুজ্জামান। পরে পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা অফিসার্স ইনচার্জের নির্দেশে কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে ওই বাগানে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান আম বাগানের ভেতরে গাঁজা চাষ করা হচ্ছে। সেখানে ১৫ দিন থেকে ১ বছরের অধিক বয়সের শতাধিক গাঁজার গাছ জব্দ করা হয়। বাগান থেকে কেয়ারটেকার মংলু আটক করা হয়েছে।

মংলু পুলিশকে জানিয়েছে যে, গত ছয়মাস থেকে ওই বাগানে কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। টিটু মেটালের স্বত্ত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন তাকে কাজে লাগায়।

পুলিশ জানায়, আনোয়ার হোসেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আঃ রাজ্জাকের বাবা।

ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বাগানটি জনৈক আফাজ উদ্দিনের। আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন থেকে ইজারা নিয়ে চাষাবাদ করছেন। গাঁজা চাষের ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিঃ ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে সহসম্পাদক পদ!


দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সদ্যই ঘোষণা করা হয়েছে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। ৬১ জন সহসভাপতি, ১১ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ১১ জন সাংগঠনিক সম্পাদকসহ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন ৩০১ জন। তবে ঘোষণার পরপরই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একাংশ বিক্ষোভ করেছেন এই কমিটির বিরোধিতা করে। তারা বলছেন, কমিটিতে স্থান পাওয়া অনেকেই যোগ্যতা অনুযায়ী পদ পাননি। আর পদবঞ্চিত হওয়ার অভিযোগও করেছেন অনেকেই। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই কমিটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সদস্য, অর্থাৎ প্রায় একশ জনই পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন।

সোমবার (১৩ মে) বিকেলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানির সই করা পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশিত হয়।

এর পরপরই বিক্ষোভে নামেন ছাত্রলীগের একাংশ। সেখানেই নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া একাধিক ছাত্রলীগ নেতা জানান, তারা এই কমিটি থেকে পদত্যাগ করবেন। কেউ কেউ এরই মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে পোস্টও দিয়েছেন। সোমবার সংবাদ সম্মেলন করেই তারা পদত্যাগের ঘোষণা দিতে চেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন। তবে মধুর ক্যান্টিনে মারধরের শিকার হওয়ায় তারা আগামীকাল মঙ্গলবার (১৪ মে) সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের গত কমিটির সভাপতি বি এম লিপি আক্তার বলেন, কাউকে অভিনন্দন জানানোর অধিকার যেমন আমার আছে, ঠিক একইভাবে অযোগ্য কাউকে কমিটিতে স্থান দিলে সেটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর অধিকারও আছে। অথচ সেই অধিকার আদায় করতে গিয়েই আমাদের ওপরে হামলা করা হলো।

লিপি বলেন, ঘোষিত কমিটিতে অযোগ্যদের স্থান করে দেওয়াতে এই কমিটির প্রায় একশ নেতা প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। অনেকের সঙ্গেই আমার কথা হয়েছে। তাদের মধ্যে আজকেই ৪০ জন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

নিজের অবস্থান জানিয়ে লিপি বলেন, আমি পদত্যাগ করার ঘোষণা এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের অভিভাবক। আমি তার কাছে আকুল আবেদন জানাই, যেন তদন্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। আমরা এই কমিটি মানি না। আমি রোকেয়া হলের প্রথম সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম। এরপর আমি রোকেয়া হলের সভাপতির দায়িত্বও পালন করি। আমি ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটারিয়া বিষয়ক সম্পাদক। অথচ আমাকে দেওয়া হয়েছে উপসম্পাদকের পদ। এটা একটা বড় প্রশ্ন আমার কাছে। শুধু আমিই না, আমাদের সঙ্গে যারা আজ হাকিম চত্বর ও মধুর ক্যান্টিনের প্রতিবাদে ছিলেন, তাদের অবস্থাও আমার মতো। তাদেরও আমার পদের মতো পদ দিয়ে নিগৃহীত করা হয়েছে। কাউকে কাউকে তো যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কমিটিতে জায়গাই দেওয়া হয়নি।

সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তিলোত্তমা শিকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত। অথচ আমাদের বঞ্চিত করে যারা আগে কোনো কমিটিতে ছিল না, তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আমরা মিছিল করেছি। মিছিলের সময়ই আমার ও লিপির ওপর হামলা করা হয়। এরপর আমরা সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করি। সেই সংবাদ সম্মেলনে আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়। আমি পদত্যাগ করতে চাচ্ছি। শুধু আমি না, অযোগ্যদের এভাবে কমিটিতে ঠাঁই দেওয়ার প্রতিবাদে আমাদের অনেকেই পদত্যাগ করতে চাচ্ছে।

বর্তমান কমিটিতে উপসম্পাদকের পদ পেয়েছেন বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হলের সভাপতি ফরিদা পারভীনও। তিনি বলেন, আমরা আজ অযোগ্যদের কমিটিতে স্থান দেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের ওপর হামলা করে সেটা বানচাল করা হয়েছে। আমরা আগামীকাল (মঙ্গলবার) আবার সংবাদ সম্মেলন ডাকব। সেখানে আমরা পদত্যাগ করার ঘোষণা দেবো।

এদিকে, ছাত্রলীগের এই কমিটিতে পদ দিতে টাকার লেনদেনের অভিযোগও করছেন বিক্ষোভকারীরা। লিপি বলেন, আমাদের কাছে এমন মেসেজও রয়েছে যে কক্সবাজারের একজনকে সহসম্পাদক দেওয়া হয়েছে ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে। এছাড়াও বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত অনেককেই এই কমিটিতে স্থান করে দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের আদর্শিক ও সাংগঠনিক অবস্থার সঙ্গে যায় না— এমন অনেক ব্যক্তিকেও কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।

লিপি আরও বলেন, আমরা যখন হাকিম চত্বর থেকে মধুর ক্যান্টিনে যাই, তখন সাদিক খান, রাকিব, ফাহিম, আল ইমরান, জহুরুল হক হলের সোহানরা সেখানে ছিল। বিভিন্ন হলের পদপ্রত্যাশী অনেকেই আমাদের ওপর হামলায় জড়িত ছিল। তারা ‘ভাই’দের তুষ্ট করতে এই হামলা চালায়। তারা আমাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং চেয়ার উঠিয়ে আমাদের মারধর করে। ন্যায্য অধিকারে দাবি চাইতে গিয়ে আজ আমাদের ওপর হামলা করা হলো।

দক্ষ ও যোগ্য কমিটির দাবি জানিয়ে লিপি বলেন, নির্দিষ্ট কারও বিপক্ষে আমাদের কোনো অবস্থান নেই। আমরা চাই একটা দক্ষ ও যোগ্য কমিটি। যতক্ষণ সেটা না হবে, ততক্ষণ আমরা আন্দোলন চালাতে থাকব। মধুর ক্যান্টিনে অবস্থান নেবো। আমরা আগামীকাল (মঙ্গলবার) গণভবনে যাব আপার (প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা) সঙ্গে দেখা করতে। তিনি আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল, আমাদের ভরসা। তিনি নিশ্চয় আমাদের দাবি শুনবেন।

নতুন কমিটির সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ সংগঠন। এখানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সবাই রাজনীতি করেন। রাজনীতি করলে অনেকেই পদ-পদবী নিয়ে ভাবেন, এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবতা হলো— সবাইকে তো আর পদ দিয়ে খুশি রাখা যাবে না। অনেকেই নিজের পছন্দের পদ পাবেন না, এটাও স্বাভাবিক। আর সেক্ষেত্রে যারা প্রতিবাদ করছেন, তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলতে চাই— আশা করি তারা খুব দ্রুতই বুঝবেন যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভরসার স্থান হলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার অনুমোদিত কমিটি আজ (সোমবার) ঘোষণা করা হয়েছে। আশা করি, সবাই তার প্রতি সম্মান রেখেই দ্রুত নিজেদের ভুল বুঝতে পারবেন। যদি কমিটিতে কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে সেটা নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করবেন।’

বিক্ষোভকারীদের মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে নাহিয়ান বলেন, ‘যেহেতু আমি সেখানে ছিলাম না, তাই এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাইছি না।’

এদিকে, পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিরোধিতাকারীরা সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মধুর ক্যান্টিন এলাকায় গেলে মারধরের শিকার হন। আহত অবস্থায় তাদের কমপক্ষে সাত জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে শ্রাবণী দিশা চোখে আঘাত পেয়েছেন, মাথার পেছনে আঘাত পেয়েছেন তানজির শাকিল। এছাড়া লিপি আক্তার, ফরিদা পারভীন, তিলোত্তমা শিকদার, জেরিন জিয়া ও শ্রাবণী শায়লা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছেন বলে জানান ঢামেক জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

উৎসঃ ‌‌সারাবাংলা

আরও পড়ুনঃ ‌বিবাহিত হয়েও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেয়েছেন তারা

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫-এর গ ধারা অনুযায়ী বিবাহিত ব্যক্তি ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পাবেন না।

এর পরেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বেশ কয়েকজন বিবাহিত নেতাকর্মী যে কারণে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

পদবঞ্চিতদের অভিযোগ, বিবাহিত হয়েও অনেককে পদ দিয়েছেন শোভন-রাব্বানী।

এজন্য পদ পাওয়া ওইসব নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ।

প্রমাণ হিসাবে পদবঞ্চিত যাদের নাম জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহসভাপতি পদ পাওয়া সোহানী তিথি, সাংস্কৃতিকবিষয়ক উপসম্পাদক পদ পাওয়া আফরিন সুলতানা লাবণী, উপসাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদ পাওয়া রুশী চৌধুরী, সহসম্পাদক পদ পাওয়া আনজুমান আরা আনু ও সামিহা সরকার সুইটি।

এরা সবাই বিবাহিত বলে জানান তারা।

এছাড়াও সহসভাপতি ইশাত কাসফিয়া ইরাও বিবাহিত বলে অভিযোগ করছেন কেউ কেউ।

গঠনতন্ত্রের ৫-এর গ ধারাকে লঙ্ঘন করে এসব নেতাকর্মীদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিবাদ করেছেন পদবঞ্চিতরা।

এ বিষয়ে শামসুন্নাহার হলের সাধারণ সম্পাদক জেয়াসমিন শান্তা ফেসবুকে লেখেছেন, নারীদের বিবাহিত হওয়া ও আন্ডারগ্রাউন্ড প্রটোকল দেয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে বড় পোস্ট পাওয়ার মূলমন্ত্র।

সোমবার বিকালে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়।

সংগঠনটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহসভাপতি হয়েছেন ৬১ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ১১ জন, সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পেয়েছেন ১১ জন। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক সব সম্পাদক এবং সহ সম্পাদক ও উপসম্পাদকের নামও ঘোষণা করা হয়।

এর আগে, ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগ ২৯ তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিজেরা কমিটি করতে ব্যর্থ হলে ৩১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংগঠনিক অর্পিত ক্ষমতাবলে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন।

তবে কমিটির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় দু দফায় দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ডাকসুর তিন নেতাসহ অন্তত ৮জন আহত হয়েছেন।

হামলায় আহতরা হলেন- ছাত্রলীগের বিগত কমিটির সদস্য ও ডাকসুর বর্তমান সদস্য তানভীর হাসান সৈকত, কবি সুফিয়া কামাল হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা শিকদার, ডাকসুর আরেক সদস্য ফরিদা পারভীন, ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বি এম লিপি আক্তারসহ কয়েকজন।

উৎসঃ ‌‌যুগাতর

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শোভন-রাব্বানীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করল ছাত্রলীগের নারী নেত্রীরা


ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (১৩ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটি ঘোষণা করেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

এদিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ ঝাঁড়ছেন ছাত্রলীগের অনেকে। এ তালিকায় বাদ যাচ্ছেন না নারী নেত্রীরাও। বর্তমান সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।

এক নেত্রী লিখেছেন, সাজুগুজু করে প্রোগ্রামে যেতে পারেননি বলে শোভন তাকে পদ দেননি। আরেকজন লিখেছেন, ‘নারীদের বিবাহিত হওয়া ও আন্ডারগ্রাউন্ড প্রটোকল দেয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে বড় পোস্ট পাওয়ার মূলমন্ত্র।’

কমিটি ঘোষণার কিছুক্ষণ পর জেরিন দিয়া নামে কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক এক সদস্য ফেসবুকে লেখেন, ‘রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রাব্বানী ভাই আপনাদের মধুভর্তি মেয়ে লাগে। বড় বড় প্রোগ্রামে মেয়েদের মুখ না দেখলে তো আপনাদের মন ভরতো না। শোভন ভাই আপনি একদিন আমাকে সবার সামনে বলছিলেন কী রে চেহারা সুন্দর আছে; তো সেজেগুজে আসতে পারো না!
আমি সেজেগুজে আসতে পারি নাই দেখে আমাকে কমিটিতে রাখলেন না??
আপনারা যেসব মেয়েকে কমিটিতে রেখেছেন তারা কয়দিন থেকে রাজনীতি করে! আপা কি জানেন?? আর নিজে বিবাহিত বলে কমিটিতে দুনিয়ার বিবাহিত মেয়েদের রেখেছেন!!!
আর গোলাম রাব্বানী ভাই আমাকে সবার সামনে বলছিলেন দুইদিনের মেয়ে কেমনে পোস্ট পাইছো বুঝি নাই! কয়জনের বেডে গেছো এনএসআই রিপোর্ট করলেই জানা যাবে। মনে আছে গোলাম রাব্বানী ভাই?????? আমি তখন আপনার যোগ্য কথার জবাব দিয়েছিলাম। আজ তার শোধ নিলেন?????
অনেক তথ্য অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্য।
এই বিবাহিত বিতর্কিত কমিটি মানি না; মানবো না…
আমার শ্রমের মূল্য দিতে হবে আপনাদের।’

শামসুন্নাহার হলের সাধারণ সম্পাদক জেয়াসমিন শান্তা লেখেন, ‘নারীদের বিবাহিত হওয়া ও আন্ডারগ্রাউন্ড প্রটোকল দেয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে বড় পোস্ট পাওয়ার মূলমন্ত্র।
অভিনন্দন গোলাম রাব্বানী ভাই ও শোভন ভাই, হিসাব আছে, অনেক হিসাব, চলেন মিলাই।’


উৎসঃ ‌‌সংবাদ ২৪৭

আরও পড়ুনঃ ‌‘সেজে গুজে আসিনি বলে ছাত্রলীগের কমিটিতে রাখলেন না?’: সাবেক কার্যকরী সদস্য জেরিন দিয়া

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শোভনের সাথে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে সাবেক কার্যকরী সদস্য জেরিন দিয়া

সেজে গুজে আসেনি বলে কমিটিতে রাখেননি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কার্যকরী সদস্য জেরিন দিয়া। নতুন কমিটিতে পদ না পেয়ে অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারির চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই নেত্রী।

তিনি লিখেছেন, রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রব্বানী ভাই আপনাদের মধু ভর্তি মেয়ে লাগে । বড় বড় প্রোগ্রামে মেয়েদের মুখ না দেখলে তো আপনাদের মন ভরতো না। শোভন ভাই আপনি একদিন আমাকে সবার সামনে বলছিলেন কি রে চেহারা সুন্দর আছে ; তো সেজে গুজে আসতে পারো না!

সংবাদ প্রকাশের কিছুক্ষন আগে তার এই পোস্টটি সরানো হয়েছে

নতুন কমিটিতে স্থান না পেয়ে আজ সন্ধ্যায় তার নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেয় জেরিন দিয়া। সংবাদের পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রব্বানী ভাই আপনাদের মধু ভর্তি মেয়ে লাগে । বড় বড় প্রোগ্রামে মেয়েদের মুখ না দেখলে তো আপনাদের মন ভরতো না। শোভন ভাই আপনি একদিন আমাকে সবার সামনে বলছিলেন কি রে চেহারা সুন্দর আছে ; তো সেজে গুজে আসতে পারো না!

আমি সেজে গুজে আসতে পারি নাই দেখে আমাকে কমিটি তে রাখলেন না?

আপনারা যেসব মেয়েদের কমিটিতে রেখেছেন তারা কয়দিন থেকে রাজনীতি করে! আপা কি জানেন? আর নিজে বিবাহিত বলে কমিটিতে দুনিয়ার বিবাহিত মেয়েদের রেখেছেন!

আর গোলাম রাব্বানি ভাই আমাকে সবার সামনে বলছিলেন দুইদিনের মেয়ে কেমনে পোস্ট পাইছো বুঝি নাই! কয়জনের বেডে গেছো NSI রিপোর্ট করলেই জানা যাবে। মনে আছে গোলাম রাব্বানী ভাই ??? আমি তখন আপনার যোগ্য কথার জবাব দিয়েছিলাম। আজ তার শোধ নিলেন???

অনেক তথ্য অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্যে ।

এই বিবাহিত বিতর্কিত কমিটি মানি না ; মানবো ন…

আমার শ্রমের মূল্য দিতে হবে আপনাদের।

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here