অবরুদ্ধ কাশ্মীরিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান চরমোনাই পীরের

0
233

অবরুদ্ধ কাশ্মীরিদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

তিনি বলেছেন, বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের উপর জুলুম নির্যাতন চলছে। নির্যাতনের মাধ্যমে কাশ্মীরিদের ঈমান ও স্বাধীনতার চেতনাকে ছিনিয়ে নেয়া যাবে না। বাংলাদেশের মানুষ নির্যাতিত কাশ্মীরিদের পক্ষে। অবরুদ্ধ কাশ্মীরিদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান থাকবে।

রোববার (২৬ আগস্ট) গভীররাতে পবিত্র হজ্জব্রত পালন শেষে হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে গেলে দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় মুসলমান হত্যাযজ্ঞ বন্ধে জাতিসংঘের কোন কার্যকর উদ্যোগ নেই বলেও হতাশা প্রকাশ করেন চরমোনাই পীর।

এছাড়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিক যাবতীয় অধিকার নিশ্চিত না করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো থেকে বিরত থাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. মুখতার হুসাইন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মুফতী এছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের, মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ ফজলে বারী মাসউদ, অধ্যাপক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন, হুমায়ন কবির, জাহাঙ্গীর আলমসহ প্রমুখ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ আওযার ইসলাম

আরও পড়ুনঃ জালিম মোদিকে সম্মাননা দিয়ে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম কাজ করেছে আমিরাত: বাবুনগরী


সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন কর্তৃক উগ্র হিন্দুত্ববাদী ও মুসলিম বিদ্বেষী জালিম মোদিকে সর্বোচ্চ সম্মাননা দেয়ার কঠোর সমালোচনা করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

সোমবার দুপুরে সংবাদমাধ্যমে মহাসচিবের ব্যক্তিগত সহকারী ইন’আমুল হাসান ফারুকীর পাঠানো এক বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, নরেন্দ্র মোদি উগ্রবাদী ও কট্টর ইসলাম বিদ্বেষী। ভারতের মুসলমানদের ওপর রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। গো-হত্যার মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সময়ে মুসলমানদের ওপর যে অত্যাচার, নির্যাতন চালিয়েছে বা চালাচ্ছে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলুপ্তির মাধ্যমে কাশ্মীরের বিশেষ স্বাতন্ত্র্ ও মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে এই মোদি- এমনটা দাবি করে তিনি আরও বলেন, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ এবং সাংবাদিকদের বের করে দিয়ে পুরো কাশ্মীরকে বিশ্ব থেকে আলাদা করে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম বর্বরতা চালাচ্ছে এই মোদি সরকার। যখন-তখন যাকে-তাকে হত্যা, গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হচ্ছে। এই মোদি সরকার বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় দজ্জাল ও বড় জঙ্গি।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, মোদির নির্যাতনে যখন কাশ্মীরে মুসলমানদের রক্তের বন্যা বইছে, মজলুম মুসলমানদের রক্তে যখন এই জালিম মোদির হাত রঞ্জিত করছে, আকাশে-বাতাসে যখন কাশ্মীরের মজলুম মুসলমানের আর্তনাদ আর বুকফাটা কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে ঠিক সেই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের এমন ঘৃণ্য কাজ মুসলিম উম্মাহর কলিজায় আঘাত করেছে।

তিনি বলেন, কাশ্মীরের মজলুম মুসলমানদের পক্ষ না নিয়ে উল্টো এ নির্যাতনের মূল হোতা জালিম মোদিকে এ সম্মাননা দিয়ে আরব আমিরাত কাশ্মীরী মজলুম মুসলমানের ওপর মোদির অমানবিক নির্যাতনকে সমর্থন দিয়েছে। জুলুমকারী আর জুলুমের পক্ষাবলম্বনকারী উভয়েই সমান অপরাধী।

জালিমদের পক্ষ অবলম্বন, তাদের কাজে সন্তুষ্টি জ্ঞাপন এবং তাদের সহযোগিতা করতে পবিত্র আল কোরআনে নিষেধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জালিম এবং তার কাজে সহযোগিতা প্রদানকারী একই পরিণতি ভোগ করবে মর্মে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন, ‘যারা জালিম তাদের প্রতি তোমরা ঝুঁকে পড়ো না। অর্থাৎ তাদের সহযোগিতা করো না। তাহলে তোমাদেরও অগ্নি স্পর্শ করবে।’

তিনি বলেন, আরবের ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠী তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য আমেরিকা-রাশিয়ার পাচাটা গোলামী করছে, মুসলিম বিদ্বেষী জালিম মোদিকে সম্মাননা দিয়ে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম, ঘৃণ্য কাজ করেছে আরব আমিরাত ও বাহরাইন। অন্য আরব দেশগুলো নীরব থাকার কোনো রহস্য আমাদের বুঝে আসছে না।

পৃথিবীর ইতিহাসে যুগের পর যুগ এই নীরবতা কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। ক্ষণস্থায়ী এ ক্ষমতার জন্য আরবের শাসকগোষ্ঠী যা মন চায় তাই করছে বলে তিনি বিবৃতিতে প্রকাশ করেন।

এ ক্ষমতা একদিন থাকবে না, কিন্তু তাদের এ ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের দরুণ যুগ যুগ ধরে মানুষ তাদের ঘৃণা করবে এবং ইতিহাস কখনও তাদের ক্ষমা করবে না। কোনো মুসলিম দেশ থেকে সম্মাননা নয় বরং ভারতে ও কাশ্মীরে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের দায়ে আরব বিশ্বের নেতৃত্বে সমগ্র মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে মোদিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা এবং তার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করা সময়ের অপরিহার্য দাবি বলে আল্লামা বাবুনগরী মনে করেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মোদিকে আমিরাতের সম্মাননা নিয়ে সাবেক বিচারপতি মুফতি তাকি উসমানীর টুইটারে আক্ষেপ


মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ও সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো যখন কাশ্মীরে গণহত্যার আশংকা করছেন, ঠিক সে সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সর্বোচ্চ সম্মাননা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

কাশ্মীরি মুসলমানদের ওপর চরম নির্যাতনের এ মুহূর্তে মোদিকে এ সম্মাননা দেয়ায় বিশ্ববিখ্যাত আলেম, পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্টের শরীয়া বেঞ্চের সাবেক বিচারপতি মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি টুইটারে আক্ষেপ ও দু:খ প্রকাশ করেছেন।

রোববার আল্লামা তাকি উসমানি আরবি ভাষায় এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘হায় আফেসোস! লক্ষ লক্ষ মুসলমানের রক্তে লাল হল যার হাত, মুসলমানদের ভূখণ্ড ছিনিয়ে নিয়ে গোটা কাশ্মীরকে কারাগারে পরিণত করল যে ব্যক্তি, যার কারণে কাশ্মীরে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় গণহত্যা ঘটতে যাচ্ছে, সেই ব্যক্তিই কিনা এক আরব মুসলিম দেশ থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদা পেয়েছেন। সেদেশের জন্যে এর চেয়ে বড় লজ্জা ও লাঞ্ছনা আর কী হতে পারে!’

লোকসভা নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো আরব আমিরাত সফরে গেলে রাজধানীর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে পুরস্কৃত করা হয়েছে নরেন্দ্র মোদিকে।

তাকে দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে।

কাশ্মীরে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ভারতীয় সরকারের নিপীড়নে এই চূড়ান্ত সময়েও মোদিকে তুষ্ট করতে আরব আমিরাতের ভূমিকার নিন্দা জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

মোদিকে অর্ডার অব জায়েদ মেডেল দিয়েছেন আমিরাতের সিংহাসনের উত্তরসূরি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জোরদার করাতে শনিবার আরব আমিরাত সফরে গিয়েছিলেন মোদি।

এসময় শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ নিজেই মোদির গলায় মেডেল পরিয়ে দেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ভারতের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধের ডাক হুররিয়ত নেতার


ভারতীয় জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনগণকে সর্বাত্মক প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হুররিয়ত কনফারেন্সের নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানি।

রোববার গৃহবন্দি অবস্থা থেকে কাশ্মীরি জনগণের প্রতি লেখা এক চিঠিতে ভারতের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধের ডাক দেন তিনি। স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানেরও সহায়তা চান এ হুররিয়ত নেতা। খবর ডন উর্দূর।

ওই চিঠিতে সৈয়দ আলী গিলানি বলেন, কাশ্মীরকে ভারত সরকার অবরুদ্ধ করে একটি জেলখানায় পরিনত করেছে। সবধরণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরও কাশ্মীরের জনসাধারণ ভারতীয় জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে, ভারতীয় বাহিনীর গুলির মুখেও কাশ্মীরি জনগণ প্রতিবাদ করছে।

কাশ্মীরের খবর প্রচারে গণমাধ্যমকর্মীদের বাধা দেয়ার বিষয়টিকে ভারত সরকারের কাপুরুষোচিত আচরণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

৮৯ বছরের এ রাজনীতিক বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের জনগণের কাছে আমাদের আন্তরিক আবেদন, এই সংকটময় মুহুর্তে আমাদের অবশ্যই প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে হবে। সাধ্য অনুযায়ী, আমাদের সবারই এই প্রতিরোধে অংশ নেয়া উচিত।

নিজ নিজ এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন ও শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ চালিয়ে নিতে কাশ্মীরি জনগণের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে অঞ্চলটিকে দুই ভাগ করে ফেলার পর থেকেই গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন হুররিয়ত নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ উপত্যকায় রাজনীতি ও দেশপ্রেমের নামে গনতন্ত্র কে হত্যা করা হচ্ছে, কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য প্রিয়াঙ্কার


৩৭০ ধারা রদ হওয়ার পর জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা বিরোধীদের। কাশ্মীরের মানুষ কেমন রয়েছে তার কোনো খবর পাওয়া যায় না বললেই চলে। বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিসেবা, স‍্যোশাল মিডিয়া। আটক করা হয়েছে কাশ্মীরের দুই প্রাক্তন মুখ‍্যমন্ত্রী সহ একাধিক নেতাদের। শনিবার কাশ্মীরের পরিস্থিতি দেখতে গিয়েছিলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী সহ বিরোধীরা। কিন্তু তাদেরকে কাশ্মীরে ঢুকতো না দিয়েই শ্রীনগর বিমান বন্দর থেকে দিল্লিতে ফেরত পাঠানো হয়। শনিবার এই ঘটনার প্রতিবাদ করেন রাহুল। এবার এই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার ট্যুইটারে লাগাতার আক্রমণের ঝড় তুললেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। তিনি বলেন, দেশপ্রেম ও রাজনীতির নামে কাশ্মীরে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। জাতীয়তাবাদ, রাজনীতিকে ছাপিয়ে প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে কাশ্মীরিদের গণতন্ত্র অপহরণের মতো বিষয়৷ উপত্যকাবাসীদের গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কংগ্রেস আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে স্পষ্ট জানান তিনি।

উল্লেখ্য, প্রশাসনের তরফে আগেই নিষেধ করা হয়েছিল জম্মু-কাশ্মীরের। কারণ রাহুলরা আসলে আরও অশান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ছিল প্রশাসনের। কিন্তু শনিবার কাশ্মীরের পরিস্থিতি চাক্ষুষ দেখতে গিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সহ ৮ দলের ১১ জন নেতৃত্ব। কিন্তু এদিন তাদেরকে কাশ্মীরে যেতে দেওয়া হয়নি। শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানো হয় তাঁদের। এটা স্পষ্ট, জম্মু-কাশ্মীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি নেই, দিল্লিতে ফিরে এসে এমনটাই মন্তব্য করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

শনিবার জম্মু-কাশ্মীরের উদ্দেশে রওনা দেয় বিরোধীদের প্রতিনিধি দল। ওই দলে ছিলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী, কংগ্রেসের গুলাম নবি আজাদ, আনন্দ শর্মা, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, সিপিআইয়ের ডি রাজা, আরজেডি-র মনোজ ঝা, শরদ যাদব, এনসিপি-র মজিদ মেনন, ডিএমকের তিরুচি সিবা এবং তৃণমূলের দীনেশ ত্রিবেদী। দিল্লি বিমানবন্দর থেকে সকালের উড়ানে শ্রীনগরে পৌঁছয় বিরোধীরা। কিন্তু তাঁদের শহরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। গতকালই প্রশাসন অনুরোধ করেছিল, উপত্যকায় শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে না। আপনারা আসবেন না।

রাহুল গান্ধী সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেছিলেন, ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্য নেই আমাদের। সরকারের বিরোধিতা করতেও যাচ্ছি না। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সরকারকে যাতে পরামর্শ দিতে পারি, সে জন্যই যেতে চাইছি।’ আরজেডি নেতা মনোজ ঝায়ের প্রশ্ন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কেন আমাদের আটকানো হচ্ছে?’ শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসার আগে প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছে বিরোধীরা। ওই চিঠির বক্তব্য, আমাদের আটকের তীব্র বিরোধিতা করছি। এটা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও অসংবিধানিক।

উৎসঃ টিডিএন বাংলা

আরও পড়ুনঃ মােদি জমানায় দেশের বিবর্ণ ছবি, ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ভারতের অর্থনীতি


ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চরম সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে এগুচ্ছে। মন্দা এমন পর্যায়ে গেছে যে এরকম সঙ্কট বিগত ৭০ বছরে আসেনি বলে মন্তব্য করে বড়সড় আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন ভারতের অর্থনীতিবিষয়ক সংস্থা নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান রাজীব কুমার।

বস্তুত অর্থনীতির সঙ্কটের আভাস অনেক আগে থেকেই পাওয়া যাচ্ছিল। জিডিপি বৃদ্ধির হার ক্রমাগত কমেছে বিগত কয়েক বছরে। উৎপাদন শিল্প থেকে কৃষি এবং অর্থনীতির কোর সেক্টরের বৃদ্ধিহারের লাগাতার মন্দা একেবারে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। মন্দা এতটাই প্রভাব ফেলেছে ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ শিল্পে যে, দেশজুড়ে কর্মসংস্থানের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। একের পর এক সংস্থা ঘোষণা করছে কর্মী ছাঁটাইয়ের। অটোমোবাইল থেকে বিস্কুট প্রতিটি শিল্প এতটাই ধাক্কা খেয়েছে যে বহু ইউনিট বন্ধ হয় যাচ্ছে। পার্লে জি কোম্পানি জানিয়েছে, তারা ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে যাবে। ব্রিটানিয়া সংস্থা জানিয়েছে পরিস্থিতি সত্যিই উদ্বেগজনক। হিরো, মারুতি, টাটা মোটরস, হন্ডা প্রতিটি সংস্থারই গাড়ি বিক্রি বিপুলভাবে কমে গেছে এবং উৎপাদন ইউনিট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে কর্মীদের ছুটিতে যেতে বলা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেও এতদিন সরকার স্বীকার করেনি অর্থনীতির মন্দার কথা। কিন্তু এবার কখনো রিজার্ভ ব্যাংক, কখনো নীতি আয়োগ সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছে যে অর্থনীতির বেহাল দশা উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছেছে। আর তাই শুক্রবার মোদি সরকারের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন তড়িঘড়ি অসংখ্য নতুন ঘোষণা করে ড্যামেজ কন্ট্রোলের মরিয়া চেষ্টা করেছেন। ঘোষণা করেছেন, ব্যাংক ও আর্থিক সংস্থাগুলোকে ৭০ হাজার কোটি রুপি দেয়া হবে অবিলম্বে।

সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস মানিটারি পলিসি কমিটির বৈঠকে বলেছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার মার্কেট তলানিতে এসে ঠেকেছে। এই মন্দা দেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। খোদ রিজার্ভ ব্যাংক কর্মকর্তার ওই মন্তব্য নিয়ে আলোড়নের রেশ মেটার আগেই বৃহস্পতিবার রাতে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান বলেছেন, মরিয়া কোনো ব্যবস্থা না নেয়া হলে এই আর্থিক মন্দা ঠেকানো যাবে না। কেউ কাউকে বিশ্বাস করছে না। নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যানের এই মন্তব্যে অস্বস্তিতে পড়ে সরকার দ্রুত ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে পড়ে। ফলস্বরূপ শুক্রবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের ঘোষণা। যদিও শুক্রবার দৃশ্যতই নার্ভাস অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা থেকে স্পষ্ট, রাজনীতিতে অবিরত জয়ী হওয়া মোদি সরকার অর্থনীতিতে যথেষ্ট ব্যাকফুটে।

প্রচারের ঢাক পেটাচ্ছে নরেন্দ্র মােদি সরকার। মূলস্রোতের কর্পোরেট পরিচালিত সংবাদ মাধ্যম মােদি সরকারের সাফল্য প্রচারে আনছে। কিন্তু ওদের প্রচারে উঠে আসছে না দেশের বর্তমান পরিস্থিতি। মোদি সরকারের নীতি দেশবাসীর জন্য কিভাবে বিপর্যয় ডেকে এনেছে তা তথ্যে চোখ রাখলেই স্পষ্ট হবে। যে খবরগুলি মূল স্রোতের সংবাদ মাধ্যম কার্যত চেপে যাওয়ার চেষ্টা করে আসছে, তার কয়েকটি এখানে তুলে ধরা হলো-ঃ

১ ) জেট এয়ারলাইন্স বন্ধ হয়ে গেছে।

২ ) এয়ার ইন্ডিয়া ৭৬০০ কোটি টাকা ক্ষতিতে চলছে তাই এখন বিলগ্নিকরণের পথে। কেউ কিনতে এগিয়ে আসছে না।

৩ ) হিন্দুস্তান আনেটিকেল লিমিটেড ( HAL ) বিমান তৈরি কারখানায় কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না। কিন্তু বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে বিমান কেনা হচ্ছে। দেশের কারখানা ধুকছে। মেক ইন ইন্ডিয়া কাজ করছে না।

৪ ) বি এস এন এলের ৫৪, ০০০ কর্মচারী চাকুরিচ্যুতির বিপদে দিন কাটাচ্ছেন।

৫ ) ডাকঘর দপ্তর ১৫ ,০০০ কোটি টাকার ক্ষতিতে চলছে। বেসরকারি হাতে দিয়ে দেওয়া হতে পারে।

৬ ) অত্যন্ত লাভজনক সংস্থা ও এন জি সি এখন ক্ষতির সম্মুখীন।

৭ ) সর্ববৃহৎ গাড়ি তৈরির কারখানা মারুতি নতুন গাড়ি তৈরির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছে। চাহিদা কমে গেছে।

৮ ) ৫৫ ,০০০কোট টাকার নতুন গাড়ি বহুকারাখানিতে পড়ে আছে।

৯ ) গাড়ি তৈরির কারখানা শিল্পে ১০ লক্ষ শ্রমিক – কর্মচারী ছাঁটাইয়ের পথে।

১০ ) ৩০টি বড়ো বড়াে শহরে ১২.৭৬ লক্ষ তৈরি বাড়ি বিক্রি করা যাচ্ছে না।

১১ ) বাড়ি তৈরির মালিকরা বিপদে। অনেকে আত্মহত্যা করেছেন।

১২ ) এয়ারসেল এখন মৃত।

১৩ ) জে পি গ্রুপ ধ্বংস হয়ে গেছে।

১৪ ) পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক ক্রমান্বয়ে ক্ষতিতে চলছে।

১৫ ) সমস্ত ব্যাংক প্রচুর ক্ষতিতে চলছে।

১৬ ) বৈদেশিক ঋণের বোঝা ৫০ বিলিয়ন ডলার (৩৬ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে)।

১৭ ) অল্প সংখ্যক কর্পোরেটদের ২.৪ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ মকুব হয়েছে।

১৮ ) ৩৬ জন বড় অঙ্কের টাকার খণগ্রহিতা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

১৯ ) রেলওয়ে বিক্রির পথে।

২০ ) লালকেল্লাসহ ঐতিহ্য বহনকারী স্থাপত্যগুলি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেওয়া হয়ে গেছে।

২১ ) ৫টি বড় বিমানবন্দর আদানির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আরও অনেক বিমানবন্দর বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার অপেক্ষায়।

২২ ) ভিডিওকন কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গেছে।

২৩ ) টাটা ডোকোমে কোম্পানি শেষ হয়ে গেছে।

২৪ ) ৪২টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিক্রি করে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।

২৫ ) নােটবন্দির ফলে লক্ষ লক্ষ লােক কাজ হারিয়েছে ২৬) দেশের অভ্যন্তরীণ তর্থনীতিতে স্থবিরতা এসে গেছে।

২৭ ) তাই ৪৫ বছরে সর্বোচ্চ বেকারত্ব।

১৮ ) মুদ্রণ ও বৈদ্যুতিক মাধ্যমের বৃহৎ অংশ কর্পোরেটদের হাতে চলে গেছে। তাই প্রকৃত খবর দেশবাসী জানতে পারে না।

২৯ ) কাশ্মীরে নানাভাবে গণতন্ত্র হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে স্বৈরশাসন শুরু হয়েছে।

৩০) যে কোনও ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবাদী তকমা লাগিয়ে গ্রেপ্তার করার আইন পাশ হয়েছে। সরকারের কোনও কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে গ্রেপ্তারের ভয় প্রস্তুত আছে।

৩১) কর্মহানি ( JCBLESS ) উন্নয়নের ( ! ) পথে হাঁটছে দেশ। দেশবাসীর চরম সর্বনাশ ঘটিয়ে ছাড়বে। (সৌজন্যে: ডেইলি দেশের কথা)/

উৎসঃ টিডিএন বাংলা

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরে ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতির সহায়তা চাচ্ছে ভারত সরকার


অধিকৃত কাশ্মীরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে রাজ্যটির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতির সহযোগিতা চাচ্ছে ভারত।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, গত দুই দিনে কয়েকজন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শনিবার সূত্র জানায়, মুক্তি দেয়ার পর তারা যেনো কাশ্মীরের স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়তা করেন, তাদের কাছ থেকে সেই প্রতিশ্রুতি চাওয়া হচ্ছে। তবে কর্মকর্তারা এই বৈঠকের কথা অস্বীকার করেছেন।

ওমর আবদুল্লাহর দল ন্যাশনাল কনফারেন্স এমন খবর উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, এই খবরের কোনো ভিত্তি নেই।

কাশ্মীরের পিপল ডেমোক্রেটিক পার্টির(পিডিপি) সূত্র জানায়, কারাগারে এই দুই নেতার সঙ্গে কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা দেখা করেছেন। যদি তারা ছাড়া পান, তবে জম্মু ও কাশ্মীরে স্বাভাবিকতা ফেরাতে তাদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

এক জ্যেষ্ঠ পিডিপি কর্মকর্তা বলেন, কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের বাতিলের মোদি সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা থেকে তারা একটুও সরে আসবেন না।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ বাতিলের ঘোষণা সামনে রেখে গত ৫ আগস্ট ওমর ও মেহবুবাকে গ্রেফতার করে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী।

ওমর আবদুল্লাহকে গুপখার সড়কের হারি নিওয়াস প্রাসাদে ও মেহবুবাকে শ্রীনগরের চেসমাসাহির জেকে পর্যটন উন্নয়ন হাটে আটকে রাখা হয়েছে।

মুসলমান অধ্যুষিত রাজ্যটিতে কোনো জনসমাবেশ করবেন না কিংবা নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কোনো বিবৃতি না দেয়ার শর্তেই তাদের মুক্তি দেয়া হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাজিদ হাইদারি বলেন, ওমর ও মেহবুবা মুক্তি পেল কিনা; কাশ্মীরের লোকজনের কাছে তা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না। তারা এখন অনেক ক্ষুব্ধ। মূল ধারার রাজনীতির প্রতি কাশ্মীরিরা আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন।

‘এই দুই নেতা যদি কারাগার থেকে ছাড়াও পান, তবে লোকজন তাদের কথায় কান দেবেন না,’ বললেন হায়দারি।

তিনি বলেন, কাশ্মীরিরা এসব নেতাদের ওপর আস্থা রাখছে না। কারণ ক্ষমতা আঁকড়ে ধরা কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুজনেই বিজেপির সমর্থন পেয়েছেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে ভারতীয় কর্মকর্তার পদত্যাগ


সংবিধান থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ তুলে দেয়ার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন ভারতের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

গত ৫ আগস্ট ভারতের পার্লামেন্টে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে মোদি সরকার। এতে বিশেষ মর্যাদা হারায় ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর।

এ অনুচ্ছেদ বহাল রাখতে বিক্ষোভ ফেটে পড়ে কাশ্মীর ও লাদাখজুড়ে। বিক্ষোভ বানচাল করতে ১৪৪ ধারা জারিসহ ভারতনিয়ন্ত্রিত গোটা কাশ্মীরকে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় ভারত প্রশাসন। টেলিফোন, ইন্টারনেট সংযোগসহ যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয় কাশ্মীরি জনতার জন্য।

তাই এবারের ঈদুল আজহার নামাজ পড়তে পারেননি অনেক কাশ্মীরি। ঈদ উৎসব একেবারেই নামমাত্রভাবে পালিত হয় সেখানে।

টানা দেড় সপ্তাহ অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে সম্প্রতি পরিস্থিতিতে শিথিল হয়ে উঠছে কাশ্মীর। মসজিদ ও স্কুল খুলে দেয়া হয়েছে। ল্যান্ডলাইনের সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।

তবে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জম্মু-কাশ্মীরে দমন-নিপীড়নের প্রতিবাদে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের (আইএএস) কর্মকর্তা কান্নান গোপীনাথ।

নরেন্দ্র মোদি সরকার ভারতীয় সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা তুলে দেয়ার পর এই প্রথম কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করে প্রতিবাদ জানালেন।

বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন কান্নান। বর্তমানে দাদ্রা নগর হাভেলি পোস্টিং ছিলেন তিনি।

আইএএস অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন কান্নান।

পদত্যাগের কারণ জানিয়ে টুইটও করেছেন কান্নান।

জম্মু-কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করে তিনি লেখেন- ‘ভেবেছিলাম সিভিল সার্ভিসে যোগদান করে মানুষের বক্তব্য তুলে ধরতে পারব। মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করব। কথা বলতে পারব। কিন্তু এখন দেখছি আমার কণ্ঠই রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।’

পদত্যাগের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন- ‘আমি স্বরাষ্ট্র সচিব বা অর্থসচিব নই। আমার পদত্যাগে পরিস্থিতির বদল হবে না। কিন্তু আমার বিবেক স্বচ্ছ।’

কান্নানের এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে তার এক সহকর্মী বলেছেন, ‘কাশ্মীরের সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন ও অস্বস্তিতে থাকতেন কান্নান। তিনি বরাবরই বলতেন, মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ার অর্থ জরুরি অবস্থা জারি হওয়া। কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি আমি মেনে নিতে পারছি না।’

এদিকে ৩৭০ ধারা বাতিল ও কাশ্মীরে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর চলা দমন-পীড়নের প্রতিবাদে কান্নানের পদত্যাগের সিদ্ধান্তে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন অনেক ভারতীয়।

কান্নানকে ‘দেশবিরোধী’ আখ্যায়িত করে টুইটারে সমালোচনা করছেন কেউ কেউ।

ইতিবাচক টুইটও জমা পড়ছে অনেক। কান্নানের পাশে দাঁড়িয়েছেন কেউ কেউ।

সাবেক আইএএস অনিল স্বরূপ বলেন, ‘কান্নানের মতো অফিসারদের নিয়ে আমরা গর্বিত।’

তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে কী বলা হচ্ছে, তাতে নজর দিচ্ছেন না কান্নান।

তিনি বলেন, ‘দেশের স্বার্থে আমি দেশবিরোধী তকমা সহ্য করতে রাজি আছি। আমি সবসময় ন্যায়ের পক্ষে। মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব যেখানে হবে, সেখানে আমার অবস্থান বিপরীতই থাকবে।’

উৎসঃ এনডিটিভি, বোলতা হিন্দুস্তান

আরও পড়ুনঃ ‘সরকারের সঙ্গে মতের বিরোধিতা হলেই তা হয়ে যায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা’


নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন সরকারের সঙ্গে মতের বিরোধিতা হলেই তা হয়ে যায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা। তিনি ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন। তার মতে, গণতন্ত্র ছাড়া কোনোভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এছাড়াও, একজন ভারতীয় হিসেবে তিনি গর্বিত নন বলেও মন্তব্য করেছেন বিশ্বখ্যাত এই অর্থনীতিবিদ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

অমর্ত্য সেনের কাছে প্রশ্ন ছিলো, আপনি এমন এক সময়ে ভারতে এলেন যখন দেশটি কঠিন সময় পার করছে। কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আপনি সারাজীবন সাম্যের কথা বলেছেন, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সাম্যের কথা। কিন্তু, সাম্য বলতে আমরা সবক্ষেত্রেই সাম্যকে বুঝে থাকি। আপনি কি মনে করেন- কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা সেই অঞ্চলে শান্তি এবং সেখানকার মানুষদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারবে?

উত্তরে অমর্ত্য বলেন, “না, আমি তা মনে করি না। আমি মনে করি, কাশ্মীর একটি বিশেষ সমস্যা প্রবণ অঞ্চল। কাশ্মীরের কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আমি মনে করি না যে, কাশ্মীরের জননেতাদের কথা না শুনেই আপনি সেখানে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। সেখানে হাজার হাজার জননেতাকে আটকে রাখা হয়েছে। এমনকী, বড় বড় নেতারাও কারাগারে।”

তিনি আরো বলেন, “কাশ্মীরে যেভাবে যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এর মাধ্যমে গণতন্ত্রের সাফল্য আসতে পারে না। গণতান্ত্রিক সরকার সবসময়ই আলোচনার মাধ্যমে এগোয়। এখন সরকার যখন বলে তারা শুধু পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা করবে তখন আমি মনে করি না যে সরকার সত্যিই গণতন্ত্রের জন্যে কোনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে চায়। আমি মনে করি না যে, গণতন্ত্র ছাড়া কাশ্মীর সমস্যার কোনো সমাধান হতে পারে। এ নিয়ে তো অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করা হচ্ছে।”

সরকার বলছে তারা কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যে অভিযান চালাচ্ছে। আপনি কী মনে করেন?

অমর্ত্য সেন বলেন, “এটি হচ্ছে পুরনো উপনিবেশিক মানসিকতার অজুহাতমূলক বক্তব্য। ব্রিটিশরা যখন এখানে শাসন করেছে… আমি আমার শৈশবের কথা বলছি, আমি মাঝে মাঝেই আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যেতাম। তিনি কারাবন্দি হয়েছিলেন। তখন ব্রিটিশরা বলতো তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যে তাকে কারাগারে রেখেছে। এসব ধরপাকড়ের মাধ্যমে সেই উপনিবেশিক যুগে ফিরে যাওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ আমলে আমার অনেক আত্মীয়স্বজনকে জেলে পোড়া হয়েছিলো।”

“এটি বলা সহজ যে আমরা এই মানুষগুলোকে কারাবন্দি করেছি, কারণ তারা সমস্যা তৈরি করছে। এই যে সেদিন মানুষের অধিকার আন্দোলন নিয়ে কাজ করা কানাইয়া কুমারকে জেলে পাঠানো হলো। যুক্তি কী ছিলো? যুক্তি ছিলো যে সে রাষ্ট্রদ্রোহী। সরকারের সঙ্গে মতের বিরোধিতা হলেই তা হয়ে যায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা।”

সরকার বলছে সাধারণ কাশ্মীরিরা ৩৭০ ধারা থেকে কোনো উপকার পাচ্ছিলো না।… আর দিল্লিতে একটি গণতান্ত্রিক সরকার বিপুল ভোটের মাধ্যমে সেই ধারাটি বিলোপ করেছে। এ বিষয়টি নিয়ে আপনি কী বলবেন?

এমন প্রশ্নের উত্তরে অমর্ত্য সেনের বক্তব্য, “ব্রিটিশরা যখন ভারত শাসন করছিলো তখন আমি মনে করি, বিষয়টি ব্রিটেনে অনেক জনপ্রিয় ছিলো। একই বিষয় ভারতের ক্ষেত্রেও হতে পারে। তারা কাশ্মীরে কতোটুকু জনপ্রিয়? বলা হচ্ছে কাশ্মীর ভারতের অংশ। কিন্তু, এ বিষয়ে কাশ্মীরের জনগণ কী ভাবছেন? এ বিষয়ে কাশ্মীরের জনগণের মত নিতে হবে তো। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও সংখ্যাগরিষ্ঠরা সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার করে যাচ্ছে। এই সে বিপুল জনসমর্থন আসলে তা কী, আমাদের ভাবতে হবে। এই জনসমর্থন এবং মানুষের অধিকারের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে।”

সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন কাশ্মীর নিয়ে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি যে শুধুমাত্র সব মানুষের অধিকার বজায় রাখার বিরোধিতা করেছে তা নয়, এই পদক্ষেপে সংখ্যাগরিষ্ঠের কথাও ভাবা হয়নি।”

৮৫ বছর বয়সী নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, “গোটা বিশ্বে গণতান্ত্রিক আদর্শ অর্জনের জন্য এতো কিছু করেছে ভারত। তবে এখন আর আমি একজন ভারতীয় হিসেবে এই সত্য নিয়ে গর্বিত নই যে ভারতই গণতন্ত্রের পক্ষে প্রথম প্রাচ্যের দেশ ছিলো। কাশ্মীরের ক্ষেত্রে যা করা হচ্ছে, তাতে আমরা সেই খ্যাতি হারিয়ে ফেলেছি।”

উৎসঃ দ্য ডেইলি স্টার

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here