সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন : কারা থাকছেন বিএনপির প্যানেলে?

0
187

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০১৯-২০ সালের নির্বাচন আগামী ১৩ ও ১৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। আইনজীবীদের এই শীর্ষ সংগঠনে কারা নেতৃত্ব দেবেন তা নিয়ে আদালত অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট বার পরিচালনা করছেন। তবে এবারের নির্বাচনকে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার সমর্থকেরা। গত ১১ ফেব্রুয়ারি প্যানেল ঘোষণা করে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। অন্য দিকে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের ‘নীল’ প্যানেল চূড়ান্ত হয়নি। সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলীকে সভাপতি ও ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকনকে নীল প্যানেল থেকে সম্পাদক করা হয়েছে বলে বেশ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী জানিয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো প্যানেল ঘোষণা করা হয়নি।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বলেন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্যানেল চূড়ান্ত হয়নি। এখনো প্যানেল ও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।

অপর দিকে সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, তাকে সম্পাদক পদে প্রার্থী করা হয়েছে বলে এ বিষয়ে গঠিত আহ্বয়াক কমিটির প্রধান ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার জানিয়েছেন। আর সভাপতি পদে সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলীকে প্রার্থী করা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্ট বারের প্রার্থী ঠিক করতে জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট বারের প্রার্থী ঠিক করতে সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে আলোচনা করেছেন।

এ নিয়ে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। আইনজীবীদের দাবি যোগ্য, জনপ্রিয়, দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা ও খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে যারা মাঠে-ময়দানে সক্রিয় তাদের প্রার্থী করা সময়ের দাবি। আইনজীবীদের দাবি গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আইনজীবীদের আন্দোলন যারা এগিয়ে নিতে পারবেন তাদের যেন প্রার্থী করা হয়।

সরকার সমর্থকদের প্যানেল : নির্বাচনকে সামনে রেখে প্যানেল ঘোষণা করেছে সরকার সমর্থক সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ (সাদা প্যানেল)। গত ১১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্যসচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এই প্যানেল ঘোষণা করেন। সাদা প্যানেলের সভাপতি পদে সমিতির সাবেক সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন ও সম্পাদক পদে বাংলাদেশ আইন সমিতির সাবেক সম্পাদক আইনজীবী আবদুন নুর দুলালের নাম ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া সহসভাপতি (দু’টি) পদে বিভাষ চন্দ্র বিশ্বাস ও মো: জসিম উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ পদে সৈয়দ আলম টিপু, সহ-সম্পাদক (দু’টি) পদে মোহাম্মদ বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া ও কাজি শামসুল হাসান শুভ, কার্যনির্বাহী সদস্য পদে মোহাম্মদ জগলুল কবির, মশিউর রহমান, শামীম সরদার, আফিয়া আফরোজি রানী, আওলাদ হোসেন ও হুমায়ূন কবিরের নাম ঘোষণা করা হয়।

১৩ ও ১৪ মার্চ ভোট : আগামী ১৩ ও ১৪ মার্চ দুই দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনে ভোট গ্রহণ হবে। ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল এবং ৬ মার্চ মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখ ধার্য করা রয়েছে। এবার সুপ্রিম কোর্ট বারের সদস্যসংখ্যা হচ্ছে আট হাজার ৮৮ জন।

সিনিয়র আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি নির্বাচন সাব কমিটি গঠন করা হয়েছে। কার্যনির্বাহী কমিটির মোট ১৪টি পদে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ২০১৮-১৯ সালের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থক জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য ‘নীল’ প্যানেল নিরঙ্কুশ জয় পায়। এ প্যানেল থেকে সভাপতি, সম্পাদক, দু’টি সহসভাপতি, একটি সহ-সম্পাদকসহ ১০টি পদে জয়ী হয়। আর সরকার সমর্থক সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের ‘সাদা’ প্যানেল একটি সহ-সম্পাদক ও তিনটি সদস্যসহ চারটি পদে জয়ী হয়। নীল প্যানেল থেকে সভাপতি নির্বাচিত হন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন। আর সম্পাদক নির্বাচিত হন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুবউদ্দিন খোকন।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়াকে নিয়ে নেতা-কর্মীদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা


রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে কঙ্কাল ৬৭ প্রাণ। চকবাজারের ওই ঘটনায় পুড়েছে প্রায় দু-তিনটি ভবন, ৫-৭ দোকান। এছাড়াও আগুনের ভয়াবহ লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের সড়কেও। সবার মাঝেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

এঘটনায় বাড়তি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ছিলেন বিএনপি নেতাকর্মীরাও। দলের প্রধান প্রায় এক বছরের অধিক সময় ধরে বন্দি রয়েছেন চকবাজারের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে এই কারাগারের পুকুর থেকেই পানি ব্যবহার করেন। পরিত্যক্ত এই কারাগারে একমাত্র বন্দি খালেদা জিয়া। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা জানার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীরা নানা মাধ্যমে তারা খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করেন।

শরীরটা ইদানীং ভালো যাচ্ছে না সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর। নানা শারীরিক জটিলতায় কাবু। দুটি মামলায় দণ্ডও হয়েছে। একাধিক মামলায় বিচার চলছে। এজন্য কারাগারের ভেতরেই স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ আদালত।

গত বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নাইকো মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে অংশ নিতে পারেননি খালেদ জিয়া। দুপুরে শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ‘খালেদা জিয়া ঘুমিয়ে আছে, তাই হাজির করা হয়নি।’ তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, ‘তিনি শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ, তাই তাকে হাজির করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।’

এদিন সন্ধ্যায় বিএনপির একটি আলোচনা সভায় দলটির একদল কর্মী দলীয় প্রধানের মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণার দাবি জানান কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি। দলের প্রধানকে নিয়ে তারা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা জানিয়ে সভায় হট্টগোলও করেন। বলেন, প্রয়োজনে কমিটি ভেঙে দেন। ওই দিন সকালে আদালতে খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তিনি অসুস্থ অবস্থায় হুইলচেয়ারে করে আদালতে এসেছেন। এখন গুরুতর অসুস্থ তাই আসতে পারছেন না।

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় খালেদা জিয়া কোনো ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ছিলেন কি-না জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে একজন কারা কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ চকবাজার ট্রাজেডি: তড়িগড়ি তদন্ত প্রতিবেদন কার স্বার্থে?


ভাষা দিবসের শোকাহত দিনে আরেক শোকের ছায়া নেমেছে বাংলাদেশে। চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো জাতি শোকে স্তব্ধ। পুরান ঢাকার চকবাজারে এখন বইছে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। আর যন্ত্রণায় দগ্ধদের আর্ত-চিৎকার ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে ঢাকা মেডিকেলের বাতাস।

ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের পর সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের একটাই প্রশ্ন- পুরান ঢাকায় কেন বার বার এই আগুন? লাশের এই মিছিল আর কত দিন চলবে? সরকার এবং প্রশাসন কি নির্মম এই ট্রাজেডির দায় এড়াতে পারে?

মানুষের এসব প্রশ্নের পেছনে অবশ্য যুক্তি সংগত কারণ রয়েছে। কারণ, নির্মম এই হতাহতের পর সরকারের মন্ত্রী, প্রশাসন ও বিভিন্ন অধিদপ্তরের বক্তব্যে চরম ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার রাতে আগুন লাগার পরই সবগুলো চ্যানেল লাইভ সম্প্রচার করেছে। ওই সময় মাঝে মধ্যেই বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। আর গণমাধ্যমকর্মীসহ স্থানীয়রাও বলছেন কেমিক্যালের গোডাউন থাকার কারণে আগুন দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। মূলত রাসায়নিক দ্রব্য থাকার কারণেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা শত চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের কর্মকর্তাও বলেছেন-ঘটনাস্থলে অবৈধ কেমিক্যালের মজুদ ছিল। এমনকি আইজিপিও বলেছেন কেমিক্যালের কারণে আগুন বেশি ভয়াবহ হয়েছে।

কিন্তু, সরকারের শিল্পমন্ত্রণায় এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিয়ে তড়িগড়ি একটি প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে, আগুনের সঙ্গে কেমিক্যালের কোনো সম্পর্ক নেই। এখানে কেমিক্যালের কোনো গোডাউন ছিল না। শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুনও বলেছেন, ঘটনাস্থলে কোনো কেমিক্যালের গোডাউন ছিল না।

ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ড ও মর্মান্তিক এই ট্রাজেডির পর শিল্পমন্ত্রণালয়ের তড়িগড়ি তদন্ত প্রতিবেদন ও মন্ত্রীর বক্তব্যে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এত বড় ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন কীভাবে দিল শিল্প মন্ত্রণালয়? কেমিক্যাল চাপা দিতেই কি শিল্প মন্ত্রণালয়ের এই তড়িগড়ি তদন্ত প্রতিবেদন?

কারণ, ২০১০ সালে পুরান ঢাকার নিমতলীতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে নিহত হয়েছিল কমপক্ষে ১২৪ জন। ওই আগুনের মূল উৎস ছিল কেমিক্যালের গোডাউন। জানা গেছে, ওই সময় শিল্প মন্ত্রণালয়কে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার কথা ছিল। সেই তদন্ত প্রতিবেদন তারা এখনো দেয়নি। কথা ছিল পুরান ঢাকা থেকে সব কেমিক্যালের গোডাউন সরানো হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এনিয়ে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি ঢাকা সিটি করপোরেশন। মেয়র সাঈদ খোকন বললেন- কেমিক্যালের গোডাউনের জন্য আর কাউকে লাইসেন্স দেয়া হবে না।

এখন প্রশ্ন হলো-নিমতলীর ঘটনার ৮ বছর পার হয়ে গেল। আজ পর্যন্ত কেমিক্যালের গোডাউনগুলো সরানো হলো না কেন? কি কারণে এগুলো এখনো রাখা হয়েছে? এর পেছনে কাদের স্বার্থ জড়িত?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব অবৈধ কেমিক্যালের গোডাউন থেকে মেয়র সাঈদ খোকন ও তার ঘনিষ্ঠরা প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা বখশিস নিচ্ছে। এসব চাঁদার ভাগ পাচ্ছে পুলিশ প্রশাসনের লোকজনও। এছাড়া এর সঙ্গে জড়িত আছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের লোকজনও। যার কারণে কেমিক্যালের বিষয়টি চাপা দিতেই শিল্পমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তড়িগড়ি প্রতিবেদন দিয়ে বলা হচ্ছে যে এখানে কোনো কেমিক্যালের গোডাউন ছিল না।

বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতেই এখন সরকারের লোকজন ভুল তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এ হত্যাকাণ্ডের দায় সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ দায় নিয়ে কর্তা ব্যক্তিদের পদত্যাগ করা উচিত


চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা নির্বাক করে দিয়েছে আমাদের। এত মানুষের মৃত্যু! এ দায় কাউকে না কাউকে নিতে হবে। ব্যর্থতার জন্য পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে সংশ্নিষ্টদের। অন্য কোনো দেশ হলে এত মানুষের মৃত্যুর পর মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করতেন। অবহেলাজনিত মৃত্যুর দায় নিয়ে কর্তাব্যক্তিদের তাই পদত্যাগ করা উচিত। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হওয়া পরিবারকে শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, দেশের মানুষের জীবনের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে সবার আগে।

অগ্নিকাণ্ডের এ ধরনের ঘটনা দেশে এবারই প্রথম নয়। প্রতিদিনই জাহাজ ভাঙা শিল্পে বিস্ম্ফোরণ, স্টিল মিল শিল্পে বিস্ম্ফোরণ, বিভিন্ন কারখানায় বয়লার বিস্ম্ফোরণে মানুষ মরছে। সংবাদপত্রে এসব খবর আসছে প্রতিদিনই। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবারের স্বজনরাও প্রায় মৃত জীবনযাপন করেন। পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তাদের কেমন দশা হয়, আমরা ভাবতে পারি না তা। ২০১০ সালে নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার পর ৮০০ রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা পুরান ঢাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। কেরানীগঞ্জে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল রাসায়নিকের গুদামগুলো। কিন্তু হয়নি। ফলে আবার অগ্নিকাণ্ড ঘটল। এর পেছনে কী ছিল? যাদের গাফিলতির জন্য এই কাজটি করা যায়নি, তাদের আইনের আত্ততায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। শাস্তি দেওয়া হোক লোভী ব্যবসায়ীদের। তাদের জন্য নিরীহ মানুষ মরবে কেন! অগ্নিকাে র ঘটনা হত্যাকাণ্ডের শামিল।

আমাদের দেশে দায়িত্বে থাকাদের টনক নড়ে না কোনো কিছুতেই। মানুষের নিরাপত্তার ও সেবার জন্য ক্ষমতায় আসেন না তারা। দায়িত্ব নেন ক্ষমতা উপভোগের জন্য। কোনো জবাবদিহি নেই তাদের। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কোনো ব্যাখ্যার দরকার নেই। খোলা চোখেই দেখা যায়- এর জন্য দায়ী কারা। কখনোই শিক্ষা গ্রহণ করি না আমরা। তদন্ত কমিটির সুপারিশ আমলে নিই না কখনোই। তদন্ত কমিটি গঠন করলেই হবে না। তদন্ত কমিটির কার্যপরিধি শুধু অগ্নিকাণ্ডের কারণ খুঁজে বের করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। কারা সত্যিকারের দায়ী তাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং দায়ীদের শাস্তির সুপারিশ করতে হবে।

অবহেলাজনিত এ অগ্নিকাণ্ডের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্টরা দায় এড়াতে পারবে না। এ ঘটনায় কেউ শাস্তি পাবে না, তা হবে না। অনতিবিলম্বে পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যালের গুদামগুলো সরাতে হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র অনেকদিন ধরে কেমিক্যাল কারখানা সরানোর কথা বলছেন। তার পরও এত বছরে কেন সরানো হয়নি, তদন্ত কমিটি গঠন করা দরকার তার জন্য। এ জন্য কারা দায়ী, শাস্তি দিতে হবে তাদের। শোনা যাচ্ছে, পুরনো বিল্ডিং থেকে কেমিক্যালের গুদাম নতুন বিল্ডিংয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এটা কোনো সমাধান নয়। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রত্যাশা করে নগরবাসী।

অগ্নিনিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। চকবাজারের এই এলাকাটি মূলত প্রসাধনী ও প্লাস্টিক পণ্য তৈরির কাঁচামাল বেচাকেনার কেন্দ্র। সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, শিল্প মন্ত্রণালয়, বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল, স্থানীয় মানুষ ও ফায়ার সার্ভিস নিয়ে যৌথ কমিটি করে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে একটি সুপারিশমালা তৈরি করতে হবে এবং সে অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। কেমিক্যাল কারখানা সরানো হবে বলে বছর পার করা যাবে না। দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায় মানুষ।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান :প্রধান নির্বাহী, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)

উৎসঃ ‌সমকাল

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here