চলতি বছরের গত ৯ মাসে দেশে ধর্ষণের শিকার ৬৪৬ জন

0
63

চলতি বছর জানুয়ারি থেকে অক্টোবর ২০১৮ পর্যন্ত গত ৯ মাসে দেশে ধর্ষণের শিকার ৬৪৬ জন। এছাড়া গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৬৫ জন, ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হন ৫৩ জন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে উদ্যোগে এক মতবিনিময়ে এতথ্য তুলে ধরা হয়। এতে জানান হয় তাদের সংরক্ষিত ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এ রিপোর্টটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে জানান হয় মহিলা পরিষদ এ বছর “ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস’১৮ (২৫ নভেম্বর- ১০ ডিসেম্বর) পালন করছে। বহুমূখী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জ ‘নারী ও কন্যা নির্যাতন এবং সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ’ বিষয়ে জাতীয় কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন মহিলা পরিষদের সভাপতি নারীনেত্রী আয়শা খানম। সভায় লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম।

উপস্থাপিত তথ্যে আরো বলা হয় চলতি বছর জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১১৫ জনকে, শ্লীলতাহানির শিকার ৫৫ জন, যৌন নির্যাতনের শিকার ১৪১ জন, উত্ত্যক্তকরণের শিকার ১৪০ জন, উত্ত্যক্তের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ১৪ জন, এছাড়া বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়ে মোট ৩৫০২ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এতে বলা হয় দেশের অর্থনৈতিক বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক বিকাশ সমভাবে না হওয়ায় নারীর প্রতি প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সেভাবে হয়নি। নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার, নারী ও মানবাধিকার সংগঠন, উন্নয়ন সংস্থা পূর্বের তুলনায় আরও সংগঠিতভাবে বহুমাত্রিক পদ্ধতিতে কাজ করলেও বিগত বেশ কয়েক বছর যাবৎ নারী ও কন্যার প্রতি বর্বর, লোমহর্ষক নির্যাতনের ধরন ও মাত্রা উদ্বেগজনক।

মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহনকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বলেন, নারী নির্যাতন বন্ধ হতেই হবে। পরিবার হতে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সহিংসতা, নির্যাতনের ঘটনার দ্রুত বিচার হতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি হতে বেরিয়ে আসতে হবে। সুপ্রীম কোর্টের ইতিবাচক রায়গুলো প্রচার করতে হবে। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পাঠ্যসূচিতে নারী অধিকার ও শিশু অধিকারের বিষয় অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।

উপস্থিত জাতীয় কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিচারপতি নিজামুল হক, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব, ডা. সামন্ত লাল সেন, বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, অ্যাড. জেয়াদ-আল-মালুম, অ্যাড. এস.এম.এ সবুর, অ্যাড. রানা দাশগুপ্ত, সাংবাদিক বাসুদেব ধর, শিশু বিশেষঞ্জ ডা. নাজমুন নাহার, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আনোয়ারা সৈয়দ হক ও ডা. মেখলা সরকার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ডা. শাহানা আক্তার রহমান, আদিবাসী নেতা সঞ্জীব দ্রং, চঞ্চনা চাকমা, প্রযুক্তিবিদ মাহবুব জামান, শিক্ষক অধ্যাপক ফারহানা হেলাল, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের নাসিমুন আরা হক প্রমুখ।

উৎসঃ দৈনিক নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারে যা থাকছে

নতুন নতুন উদ্যোগের স্বপ্ন ও বিদ্যমান নানা ব্যবস্থার সংস্কারকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সরকার গঠন করতে পারলে নাগরিকদের নিরাপদ জীবন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে।

গণতন্ত্র ও মানবিকতার স্বার্থে সে সরকারের চরিত্র হবে সহনশীল। মানসম্মত কর্মমুখী শিক্ষাকে প্রধান্য দেয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হবে দক্ষ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। দ্রুততম সময়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ছাড়া কোনো সরকারি চাকরিতে থাকবে না বয়সসীমা। ক্ষমতার ভারসাম্য ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে দেয়া হবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ।

কৃষক, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে দ্রুত কমিয়ে আনা হবে দারিদ্র্য। বৃহৎ প্রকল্প, সরকারি সেবা সংস্থা ও আর্থিক খাতে দুর্নীতি দমনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে সুশাসন।

দুর্নীতির বিচার হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে। ন্যায়পাল নিয়োগ, সিটি গভর্মেন্ট চালু ও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সংশোধন করা হবে। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের নায্যমূল্য ও ভোক্তাদের ন্যায্য ক্রয়মূল্য নিশ্চিত করা হবে। চিকিৎসা সেবার বিকেন্দ্রীকরণসহ স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার ও উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হবে। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত ও নারীর ক্ষমতায়নে জোর দেয়া হবে। সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় স্থাপন ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে। বিচার ব্যবস্থাকে প্রভাবমুক্ত রাখার পাশাপাশি সংস্কারসাধন ও মামলাজট কমানোর বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গুমের সংস্কৃতি বন্ধ করা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, পিএসসি- জেএসসি পরীক্ষা বাতিল, জেন্ডার বৈষম্য দূরীকরণ, পরিবেশবান্ধব সবুজ বাংলা ধারণা, ক্রিয়েটিভ শিল্পায়ন, আয় বৈষম্য দূরীকরণ, জনগণের করের টাকার সদ্ব্যবহার, পাচারকৃত দুর্নীতির টাকা ফেরত আনা, উন্নয়ন ব্যয় জনগণের উপকারে লাগানো, বিনিয়োগের উপর রিটার্ন ফল পুরোপুরি সদ্ব্যবহার বিষয়গুলো নির্বাচনী ইশতেহারে থাকবে। নির্বাচিত হতে পারলে তাদের পাঁচ বছর মেয়াদি ক্ষমতায় যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারবেন সেসব বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন কমিটি সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তারা জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশবাসীর প্রতি যে ‘ভিশন ২০১৩’ উত্থাপন করেছিলেন সেটার সমন্বয়ে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিটি দলের প্রস্তাব ও পরামর্শ বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে এই ইশতেহার। ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটি তৈরিকৃত ইশতেহার চূড়ান্ত করে এর টুকিটাকি সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজন করে চূড়ান্ত করা হচ্ছে। আগামী ১৭ই ডিসেম্বর ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। গতকাল সন্ধ্যায় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে ইশতেহার প্রকাশের এ তারিখ ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফ্রন্ট সরকার গঠন করতে পারলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করা হবে। সরকারি পদক্ষেপ ও সরকারের পদধারীদের বিরুদ্ধে সমালোচনা, এমনকি ব্যঙ্গ-বিদ্রুপেরও অধিকার থাকবে। সামাজিক গণমাধ্যমসহ সব গণমাধ্যমের ওপর কোনো রকম প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। সূত্র জানায়, নিরাপদ জীবনের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি পাবে সর্বাধিক গুরুত্ব। ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গুম (এনফর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারান্স) পুরোপুরি বন্ধ হবে। রিমান্ডের নামে পুলিশি হেফাজতে যেকোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করা হবে। সাদা পোশাকে কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না। বিপথগামী রাজনৈতিককর্মীদের হাত থেকেও নাগরিকরা সুরক্ষিত থাকবে। মামলাজট কমানোর জন্য নানা পদক্ষেপ নেয়া হবে। সেই সঙ্গে উচ্চ আদালতের বাৎসরিক ছুটি ছয় সপ্তাহে সীমিত করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ছাড়া সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য কোনো বয়সসীমা থাকবে না। সরকারি চাকরিতে শুধু অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা ছাড়া আর কোনো কোটা থাকবে না। ত্রিশোর্ধ্ব শিক্ষিত বেকারের জন্য বেকার ভাতা চালু করা হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে সব সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।

ইশতেহারে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিম্ন আদালতকে পুরোপুরি সুপ্রিম কোর্টের অধীনস্থ করা হবে। সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুধু অনাস্থা ভোট ও অর্থবিল ছাড়া অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে দলীয় এমপি দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলেও তাদের সদস্য পদ শূন্য হবে না এমন সংশোধনী ৭০ অনুচ্ছেদে আনা হবে। সংসদের উচ্চকক্ষ সৃষ্টি করে বিভিন্ন দলের প্রাপ্য সদস্য সংখ্যা নির্ধারণে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনায় নেয়া হতে পারে। পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকা যাবে না। ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে বিবেচনায় রাখা হবে সব সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের অর্ধেক সদস্য রাখার বিষয়টি। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হবে। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবে। প্রতিটি সাংবিধানিক কমিটিতে বিরোধী দল ও নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। পৌর এলাকাগুলোতে সকল সেবা সংস্থাকে মেয়রের অধীনে রেখে সিটি গভর্নমেন্ট চালু করা হবে। জনকল্যাণে প্রশাসনিক কাঠামো বিভাগীয় পর্যায়ে বিন্যস্ত করার লক্ষ্যে কমিশন গঠন করা হবে।

ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার প্রণয়ন কমিটি সূত্র জানায়, সারা দেশে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পর্যায়ক্রমে ৫০ শয্যা, প্রতি জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। সকল জেলায় ২০ শয্যাবিশিষ্ট সিসিইউ, ২০ শয্যার আইসিইউ ও ১০ শয্যার এনআইসিইউ স্থাপন করা হবে। পুরনো ২১ জেলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিক একটি করে ২০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ও একটি করে ক্যানসার কেমোথেরাপি সেন্টার গড়ে তোলা হবে। পর্যায়ক্রমে তা সব জেলায় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে। সকল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের এক বছর ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রে সার্বক্ষণিকভাবে অবস্থান করে এক বছর প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হবে। তিন মাসের মধ্যে ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার খরচ কমানো হবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষা ব্যবস্থায় কিছু যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা হবে। কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের জন্য কমিশন গঠন করা হবে। পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হবে। সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। প্রথম বছর থেকেই ডাকসুসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করা হবে। পুরোপুরি ভ্যাটমুক্ত থাকবে বেসরকারি শিক্ষা। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষা দিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থান করা হবে।

সূত্র জানায়, দায়িত্ব পেলে দুই বছরের মধ্যেই গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার টাকা করা হবে। সকল খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে। গার্মেন্টসহ অন্য সব শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। কৃষি ভর্তুকি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়িয়ে সার বীজ এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা হবে। কৃষি উৎপাদনকে লাভজনক পেশায় পরিণত করার লক্ষ্যে উৎপাদন খরচের সঙ্গে যৌক্তিক মুনাফা নিশ্চিত করে স্থানীয় সমবায় সমিতির মাধ্যমে সব কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারিত হবে। নগরবাসী কৃষিপণ্য পাবেন উৎপাদক সমবায় সমিতি নির্ধারিত মূল্যের সর্বোচ্চ ৩ গুণ মূল্যে। জলমহাল এবং হাওরের ইজারা সম্পূর্ণ বাতিল করে মৎসজীবী ও দরিদ্র জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

সূত্র জানায়, অতি দরিদ্র ও দুস্থদের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করা হবে। বয়স্ক ভাতা, দুস্থ মহিলা ভাতাস বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তাদের ভাতার পরিমাণ ও আওতা বাড়ানো হবে। শ্রমিক ও ক্ষেতমজুরসহ গ্রাম ও শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সুলভ মূল্যে রেশনিং চালু করা হবে। পুনর্বাসন ছাড়া শহরের বস্তিবাসী ও হকারদের উচ্ছেদ করা হবে না। হতদরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দুর্নীতির তদন্ত করে তার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে। ন্যায়পাল নিয়োগ করা হবে। সংবিধান নির্দেশিত সব দায়িত্ব পালনে ন্যায়পালকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হবে। দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা গ্রেপ্তারে সরকারের অনুমতির বিধান (সরকারি চাকুরী আইন-২০১৮) বাতিল করা হবে। অর্থ পাচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার ব্যবস্থা নেয়া হবে। ব্যাংকিং সেক্টরে লুটপাটে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ব্যাংকগুলোকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সর্বময় ক্ষমতা দেয়া হবে। সরকারি মদতে শেয়ার বাজারে লুটপাটে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। সঠিক ব্যবস্থা ও প্রণোদনার মাধ্যমে শেয়ার বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষা করে শেয়ারবাজারকে তার সঠিক গতিপথে নিয়ে যাওয়ার সব ব্যবস্থা খুব দ্রুত নেয়া হবে।

সূত্র জানায়, নারীর জন্য সংরক্ষিত আসনের প্রথার পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারীর জন্য বাধ্যতামূলক ২০% মনোনয়নের বিধান করা হবে। এই বিধানের সঙ্গে আগামী পরের দুটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ৩০০ আসনের অতিরিক্ত ১০% সংরক্ষিত নারী সদস্যের বিধান থাকবে। সরকারি পর্যায়ে কর্মজীবী নারীদের সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে। বেসরকারি ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন করার ক্ষেত্রে খুব সহজ শর্তে ঋণ দেয়া হবে। সূত্র জানায়, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে। ইউরোপ, জাপানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শ্রমশক্তি রপ্তানির জন্য নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী কর্মীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে মরদেহ সম্পূর্ণ সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে আনা হবে এবং বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হবে।

সূত্র জানায়, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপরে নৃশংস হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। বড় শহরগুলোতে ট্রাফিক জ্যাম নিরসনকল্পে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া হবে। শহরে গণপরিবহনকে প্রাধান্য দিয়ে পরিবহন নীতি প্রণয়ন করা হবে। মানুষের জন্য আরামদায়ক গণপরিবহনের ব্যবস্থা করা হবে। রেলখাতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে সমপ্রসারণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঐক্যফ্রন্ট সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম বছরে সব গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়বে না। সর্বোচ্চ ১০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের বিদ্যুতের মূল্য আগামী পাঁচ বছরে বাড়বে না। গ্রামীণ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং দেশের সব সরকারি বেসরকারি হাসপাতালকে বাণিজ্যিক দামের পরিবর্তে হ্রাসকৃত বাসস্থানের দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার প্রণয়ন সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান তৈরিসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে মানুষের মুক্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। দায়িত্বপ্রাপ্তির এক বছরের মধ্যে মানুষকে ভেজাল ও রাসায়নিক মুক্ত নিরাপদ খাদ্য পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়া হবে। মোবাইল ইন্টারনেটের খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনা হবে। দেশের বিভিন্ন গণজমায়েতের স্থানে ফ্রি ওয়াফাইয়ের ব্যবস্থা করা হবে। সূত্র জানায়, সংখ্যালঘুদের মানবিক মর্যাদা, অধিকার, নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠা করা হবে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়। সংখ্যালঘুদের ওপর যেকোনো রকম হামলার বিচার হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে। তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, রোহিঙ্গা সমস্যাসহ অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা হবে। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর ও শ্রমঘন শিল্পে বিশেষ প্রণোদনা দেয়া হবে।

দেশের দারিদ্র্য প্রবণ জেলাগুলোতেও শিল্পায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র এবং অন্যান্য সব সরঞ্জাম অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কেনা হবে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য কল্যাণমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধকল্পে বাংলাদেশ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন ও এর ক্ষতিকর প্রভাব রোধ করার জন্য বাংলাদেশে আরো অনেক বেশি আন্তর্জাতিক সাহায্য নিশ্চিত করার চেষ্টা এবং সেটা সদ্ব্যবহার করা হবে।

উৎসঃ মানব জমিন

আরও পড়ুনঃ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বের কাছেই কি হাসিনার পতন আসন্ন?: আল জাজিরার প্রতিবেদন

শেখ হাসিনার মতই ধর্মনিরপেক্ষ মতাদর্শে বিশ্বাসী একজন নেতা ড. কামাল হোসেন, যিনি বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করেছিলেন, তিনি আজ হাসিনাকে কর্তৃত্বপরায়ন এবং একনায়ক হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার সরকারের পতন ঘটানোর জন্য বিরোধী সকল দলকে নিয়ে একটি জোট গঠন করেছেন- যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরনের সূচনা করেছে।

চলতি মাসের শেষেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে আর এই নির্বাচনে শেখ হাসিনার মুখোমুখি অবস্থানে অক্সফোর্ড ফেরত আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন- যাকে শেখ হাসিনা একটা সময় খুব আদর করে কাকা বলে ডাকতেন। ডা. কামাল এখন ৮২ বছরের এক প্রাজ্ঞ। তিনি বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং আরো দুই দলকে নিয়ে গত অক্টোবরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন।

বিএনপি আশা করছে যে নতুন এই জোটটি তার জনসমর্থন আরো বাড়াবে যার উপর ভিত্তি করে তারা চলমান সংকটগুলোকে মোকাবেলা করতে পারবে। বিশেষ করে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে সক্ষম হবে- যিনি গত ফেব্রুয়ারী থেকে কথিত দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত হয়ে কারাগারে আটক আছেন।ড. কামাল ছিলেন শেখ হাসিনার পিতা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর। তাহলে তিনি কেন বিএনপির সাথে ঐক্য করতে গেলেন? ড. কামালের মতে তিনি বিএনপিকে নিয়ে ঐক্য করেছেন কেননা এছাড়া দেশে গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনার বিকল্প আর কোন রাস্তা নেই।

শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে সকল বিরোধী দলের বয়কটের মুখে একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মত ক্ষমতায় আসেন। সেই নির্বাচনে ১৫১টি আসনেই আওয়ামী সংসদ সদস্যরা বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ড. কামাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের দু:শাসন প্রসংগে বলেন, বিগত ৫ বছর ধরে দেশে একটি অনির্বাচিত সরকার আছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনো এমনটি দেখা যায়নি। ড. কামাল আরো বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হলে তারা এটা নিশ্চিত করবেন যাতে একজন ব্যক্তি পর পর দুই মেয়াদের পর আর প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারে।

আওয়ামী লীগ মনে করছে, বিএনপি একা কিছু করতে পারছেনা বলে তারা কামাল হোসেনের উপর ভর করে আওয়ামী লীগকে নামাতে চাইছে, তবে এবারও তারা ব্যর্থই হবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ বলেন, গন ফোরাম একটি ছোট দল। তারা আজ অবধি জাতীয় সংসদে একটি আসনেও জিততে পারেনি। ড. কামাল কোন গনসম্পৃক্ত নেতা নন। জনগন থেকে তিনি ও তার দল গনফোরাম পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।

তবে ড. কামাল এরই মধ্যে বলে দিয়েছেন যে তিনি কোন পদ পদবীর জন্য এই লড়াই করছেন না। এমনকি ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচিত হলেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ নেবেন না বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি।শেখ হাসিনা সম্প্রতি এমন আইন প্রনয়ন করেছেন যার মাধ্যমে যে কোন ভিন্নমতের বা বিরোধী মতের মিডিয়াকে তিনি দমন করতে পারেন। ড. কামাল মনে করছেন এর মাধ্যমে সরকার শুধু এক দলীয় রাষ্ট্র নয় বরং এক ব্যক্তির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

তিনি বলেন, কর্তৃত্বপরায়ন এই সরকার যদি ছলে বলে কৌশলে আগামীতেও ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে আমার মত অনেকেই আর দেশে থাকতে পারবেনা। কেননা সরকার তার কোন সমালোচককেই আর সহ্য করবেনা।

ড. কামালের পিতা একজন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর সাথে জেলে ছিলেন দীর্ঘদিন। বঙ্গবন্ধুর অধীনে তিনি আইনমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি জাতিসংঘের বেশ কিছু প্রকল্পে কাজ করেছেন। তার ব্যপারে সুশীল সমাজে ব্যপক গ্রহনযোগ্যতাও আছে। তবে তার মত ব্যক্তি বাংলাদেশের এই নোংরা রাজনীতির জন্য কতটুকু ফিট তা নিয়ে অবশ্য অনেকের মনেই সন্দেহ আছে।

সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি ড. শাহদীন মালিক ড. কামাল প্রসংগে বলেন, তিনি খুব বিদ্রোহী মানসিকতার নেতা নন। তিনি একজন চমৎকার সংবিধান বিশ্লেষক ও আইনজীবি। তিনি একজন পুস্তকপ্রেমী মানুষ। তত্ব দিয়ে অনেক কিছু বিবেচনা করেন যা আমাদের প্রচলিত রাজনীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ন নয়।

অন্যদিকে শিক্ষাবীদ ও কলামিস্ট আফসান চৌধুরী মনে করছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কতক্ষন নিজেদের ঐক্য ধরে রাখবে তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। তবে ঐক্যফ্রন্ট করায় বিএনপির ভাবমুর্তি অনেকটাই বেড়েছে। আর খালেদা জিয়া অন্তরীন হওয়ার পর বিএনপি যে অভিভাবকশূন্যতায় পড়ে গিয়েছিল সেক্ষেত্রেও দলটি যেন কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে পৌছেছে।

উৎসঃ আল জাজিরা

আরও পড়ুনঃ নির্বাচন কমিশনে আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যারা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের আপিলের শুনানি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের আপিলের শুনানি শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের দশম তলায় স্থাপিত এজলাসে আপিল শুনানি চলছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের নবাব মো. শামছুল হুদার আপিল শুনানি দিয়ে শুরু হয়। আপিলেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এরপর দুই নম্বরেই ছিল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বগুড়া-৭ আসনে দলের মনোনীত বিকল্প প্রার্থী মোরশেদ মিল্টনের আপিলের শুনানি। শুনানি শেষে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ সময় ঢাকা-২০ আসনের তমিজ উদ্দিনও প্রার্থিতা ফিরে পান।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান রঞ্জন ও পটুয়াখালী-৩ আসনে মো. গোলাম মাওলা রনির মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য রনি সদ্যই আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপির মনোনয়নপত্র নেন। ঝিনাইদহ-২ আসনে মো. আবদুল মজিদ ও ঢাকা-১ আসনে খন্দকার আবু আশফাকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে জামালপুর-৪ আসনে মো. ফরিদুল কবির তালুকদার (শামীম) ও পটুয়াখালী-৩ আসনে মোহাম্মদ শাহজাহানের। প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন পটুয়াখালী-১ আসনের মো. সুমন সন্যামতও।

মাদারীপুর-১ আসনের জহিরুল ইসলাম মিন্টু এবং সিলেট-৩ আসনের আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীও আপিল করে ভোটের ময়দানে লড়াইয়ের যোগ্য হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের পুনঃতফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৯ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এরপর গত রবিবার মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। এদিন নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য জমা দেওয়া তিন হাজার ৬৫ মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৭৮৬টি বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। যাদের মধ্যে বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীও রয়েছেন।

গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত আপিল গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। তিন দিনে ৫৪৩ জন আপিল করেছেন। প্রথম দিনে ৮৪, দ্বিতীয় দিনে ২৩৭ ও তৃতীয় দিনে ২২২টি আবেদন নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা পড়ে।

আজ ১ থেকে ১৬০ পর্যন্ত ক্রমিক নম্বরের আবেদন শুনানি হবে। শুক্রবার ১৬১ থেকে ৩১০ পর্যন্ত এবং শনিবার ৩১১ ক্রমিক নম্বর থেকে ৫৪৩ পর্যন্ত আবেদনের আপিল শুনানি গ্রহণ করবে কমিশন।

প্রতিটি আবেদনের আপিল শুনানি শেষে সঙ্গে সঙ্গেই রায় জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যদি উচ্চ আদালতে কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান, তাহলে তাকে রায়ের নকল কপি দিয়ে দেওয়া হবে।

একনজরে যাদের মনোনয়ন বৈধ : বিএনপি প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি (পটুয়াখালী-৩), খন্দকার আবু আশফাক (ঢাকা-১), তমিজ উদ্দিন (ঢাকা-২০), মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান (কিশোরগঞ্জ-২), বগুড়া-৭ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোরশেদ মিল্টন, সুমন সন্যামত (পটুয়াখালী-১), মোহাম্মদ শাহজাহান (পটুয়াখালী-৩), ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম (জামালপুর-৪), আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী (সিলেট-৩); মনোনয়ন বাতিল : গোলাম রব্বানী (২০ দলীয় জোট, রংপুর-৫), জহিরুল মিন্টু (মাদারীপুর-১), পারভেজ (দিনাজপুর-১), মিজানুর রহমান (ফেনী-১), মিজানুল হক (কিশোরগঞ্জ), মো. আইয়ুব খান (ঢাকা-১) মো. এমদাদুল হক (ময়মনসিংহ-২) আবু সাইদ মহিউদ্দিন (ময়মনসিংহ-৪), এস এম এরশাদুজ্জামান (খুলনা-২), মো. ফজলুর রহমান (জয়পুরহাট-১), মো. আবিদুর রহমান খান (মানিকগঞ্জ-২), মো. জয়নাল আবেদিন (গাজীপুর-২), জেসমিন নূর বেবী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), এস এম শফিকুল আলম (খুলনা-৬), মো. আবদুল মজিদ (ঝিনাইদহ-২) মোস্তফা সেলিম (রংপুর-৪)।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনে লড়তে ৩৭ দিন ছুটি নিলেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালকঃ ডা. আব্দুল আজিজ

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে প্রার্থী হিসেবে লড়তে ৩৭ দিন ছুটি পেয়েছেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি নির্বাচনে লড়ছেন।

সম্প্রতি ঢাকা শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক শাহলা খাতুন ডা. আব্দুল আজিজকে দেওয়া ছুটির আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

আদেশে বলা হয়েছে, ডা. আব্দুল আজিজকে ব্যক্তিগত কারণে আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৭ দিন ছুটি মঞ্জুর করা হলো। এ সময়ে অধ্যাপক শফি আহমেদ নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন এবং শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এ আর খান প্যাডিয়েট্রিক ইউরোলজি বিভাগের রোগী দেখাশোনা করবেন।

জানা যায়, শিশু হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও সাধারণ আচরণ অনুযায়ী, এ প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেন না। যদিও এ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে।

ছুটি প্রসঙ্গে হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বাংলানিউজকে বলেন, নির্বাচনে হেরে গেলে তিনি আবার পরিচালকের পদে অধিষ্ট হতে পারবেন। সংসদ সদস্য পদে জয়ী হলে তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন।

অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ শিশু হাসপাতালের পরিচালকের পাশাপাশি শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এসব পদে বহাল থেকেই তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। যদিও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিধান সম্পর্কে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) এ উল্লেখ রয়েছে, প্রজাতন্ত্রের বা কোন সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, ‘লাভজনক পদ’ অর্থ প্রজাতন্ত্র কিংবা সরকারি সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ কিংবা সরকারের ৫০% এর অধিক অংশীদারিত্ব সম্পন্ন কোম্পানিতে সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত কোন পদ বা অবস্থান। এছাড়া, প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের বা প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগের কোন চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন বা অবসর গমন করেছেন এবং উক্ত পদত্যাগ বা অবসর গমনের ৩ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে তাহলে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

এদিকে ঢাকা শিশু হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটি ১৯৭৫ সালে জারি করা একটি অধ্যাদেশ দিয়ে গঠিত। এ হাসপাতালের বেতন-ভাতা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দিয়ে থাকে। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপ-সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বাৎসরিক অনুদানের প্রথম কিস্তি ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা গত ১৭ সেপ্টম্বর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই টাকা হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন হিসাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ হাসপাতালের বেতন খাতে চলতি অর্থবছরের মোট ৩০ কোটি টাকা বাজেট রয়েছে।

আরও জানা গেছে, নির্বাচনে দেওয়া ডা. আব্দুল আজিজ তার হলফনামায় বেতনভাতা থেকে আয় দেখিয়েছেন। হলফনামায় চাকুরি থেকে বাৎসরিক ১২ লাখ ৩০ হাজার ৭৪২ টাকা আয় হয় বলে উল্লেখ করেন।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের সূত্রে আরো জানা যায়, যেহেতু রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ঢাকা শিশু হাসপাতাল সরকারি সাহায্যপুষ্ট হলেও এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। তাই এটি পরিচালনায় একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ব্যবস্থাপনা বোর্ড গঠন করা হয়। বর্তমানে যে ব্যবস্থাপনা বোর্ড দ্বারা হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে সেই বোর্ডটি আইনত বৈধ নয়। কারণ এ বোর্ডটি বাতিল একটি অধ্যাদেশ দিয়ে গঠন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চিকিৎসক বাংলানিউজকে জানান, ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার হাসপাতাল পরিচালনায় একটি অধ্যাদেশ জারি করে। যদিও পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকার সেই অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বাতিল করে দেয়। ২০১৬ সালে গঠিত হাসপাতালের বর্তমান ব্যবস্থাপনা বোর্ড ওই বাতিলকৃত অধ্যাদেশ অনুযায়ী গঠন করা হয়েছে।

সর্বোপরি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিধান অনুসারে তিনি (অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজীজ) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অযোগ্য প্রার্থী। কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন নিয়ে সিরাজগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। বর্তমানে নির্বাচনী গণসংযোগের কাজেরায়গঞ্জ-তাড়াশ ও সলঙ্গা এলাকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উৎসঃ banglanews24

আরও পড়ুনঃ নির্বাচন কমিশনে আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যারা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের আপিলের শুনানি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের আপিলের শুনানি শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের দশম তলায় স্থাপিত এজলাসে আপিল শুনানি চলছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের নবাব মো. শামছুল হুদার আপিল শুনানি দিয়ে শুরু হয়। আপিলেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এরপর দুই নম্বরেই ছিল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বগুড়া-৭ আসনে দলের মনোনীত বিকল্প প্রার্থী মোরশেদ মিল্টনের আপিলের শুনানি। শুনানি শেষে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ সময় ঢাকা-২০ আসনের তমিজ উদ্দিনও প্রার্থিতা ফিরে পান।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান রঞ্জন ও পটুয়াখালী-৩ আসনে মো. গোলাম মাওলা রনির মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য রনি সদ্যই আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপির মনোনয়নপত্র নেন। ঝিনাইদহ-২ আসনে মো. আবদুল মজিদ ও ঢাকা-১ আসনে খন্দকার আবু আশফাকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে জামালপুর-৪ আসনে মো. ফরিদুল কবির তালুকদার (শামীম) ও পটুয়াখালী-৩ আসনে মোহাম্মদ শাহজাহানের। প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন পটুয়াখালী-১ আসনের মো. সুমন সন্যামতও।

মাদারীপুর-১ আসনের জহিরুল ইসলাম মিন্টু এবং সিলেট-৩ আসনের আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীও আপিল করে ভোটের ময়দানে লড়াইয়ের যোগ্য হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের পুনঃতফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৯ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এরপর গত রবিবার মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। এদিন নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য জমা দেওয়া তিন হাজার ৬৫ মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৭৮৬টি বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। যাদের মধ্যে বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীও রয়েছেন।

গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত আপিল গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। তিন দিনে ৫৪৩ জন আপিল করেছেন। প্রথম দিনে ৮৪, দ্বিতীয় দিনে ২৩৭ ও তৃতীয় দিনে ২২২টি আবেদন নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা পড়ে।

আজ ১ থেকে ১৬০ পর্যন্ত ক্রমিক নম্বরের আবেদন শুনানি হবে। শুক্রবার ১৬১ থেকে ৩১০ পর্যন্ত এবং শনিবার ৩১১ ক্রমিক নম্বর থেকে ৫৪৩ পর্যন্ত আবেদনের আপিল শুনানি গ্রহণ করবে কমিশন।

প্রতিটি আবেদনের আপিল শুনানি শেষে সঙ্গে সঙ্গেই রায় জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যদি উচ্চ আদালতে কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান, তাহলে তাকে রায়ের নকল কপি দিয়ে দেওয়া হবে।

একনজরে যাদের মনোনয়ন বৈধ : বিএনপি প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি (পটুয়াখালী-৩), খন্দকার আবু আশফাক (ঢাকা-১), তমিজ উদ্দিন (ঢাকা-২০), মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান (কিশোরগঞ্জ-২), বগুড়া-৭ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোরশেদ মিল্টন, সুমন সন্যামত (পটুয়াখালী-১), মোহাম্মদ শাহজাহান (পটুয়াখালী-৩), ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম (জামালপুর-৪), আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী (সিলেট-৩); মনোনয়ন বাতিল : গোলাম রব্বানী (২০ দলীয় জোট, রংপুর-৫), জহিরুল মিন্টু (মাদারীপুর-১), পারভেজ (দিনাজপুর-১), মিজানুর রহমান (ফেনী-১), মিজানুল হক (কিশোরগঞ্জ), মো. আইয়ুব খান (ঢাকা-১) মো. এমদাদুল হক (ময়মনসিংহ-২) আবু সাইদ মহিউদ্দিন (ময়মনসিংহ-৪), এস এম এরশাদুজ্জামান (খুলনা-২), মো. ফজলুর রহমান (জয়পুরহাট-১), মো. আবিদুর রহমান খান (মানিকগঞ্জ-২), মো. জয়নাল আবেদিন (গাজীপুর-২), জেসমিন নূর বেবী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), এস এম শফিকুল আলম (খুলনা-৬), মো. আবদুল মজিদ (ঝিনাইদহ-২) মোস্তফা সেলিম (রংপুর-৪)।

উৎসঃ আরটিএনএন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here