অসদাচরণের অভিযোগে বিচার কাজ থেকে বিরত থাকবেন ৩ বিচারপতি

0
235

অসদাচরণের অভিযোগের তদন্ত শুরুর পর হাইকোর্ট বিভাগের তিন বিচারপতিকে বিচার কাজ থেকে সাময়িকভাবে বিরত থাকতে বলেছেন সুপ্রিমকোর্ট।

এ সিদ্ধান্ত ওই তিন বিচারপতিকে অবহিত করার পর তারা ছুটি চেয়েছেন।

এই তিন বিচারপতি হলেন- বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, বিচারপতি একেএম জহিরুল হক এবং বিচারপতি কাজী রেজাউল হক।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত কার্যতালিকায় নির্ধারিত বেঞ্চে তাদের নাম ছিল না। আদালতের বিচারিক কার্যক্রমেও তারা অংশ নেননি।

তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নানা গুঞ্জন চললেও সুপ্রিমকোর্ট বা আইন মন্ত্রণালয়ের কেউ মুখ খুলছিলেন না।

এদিন সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর আসছিল। শেষ পর্যন্ত বিকালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের সামনে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘মাননীয় তিনজন বিচারপতির বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপটে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে তাদের বিচারকার্য থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করা হয় এবং পরবর্তীতে তারা ছুটির প্রার্থনা করেন।’

এ সময় সাংবাদিকরা তিন বিচারপতির নাম জানতে চাইলে সাইফুর রহমান প্রথমে নিরুত্তর থাকেন। সাংবাদিকরা তখন তিন বিচারপতির নাম বলে জানতে চান- এই তিন বিচারপতির ক্ষেত্রেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কি না।

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র সাইফুর রহমান তখন বলেন, ‘আপনারা তো লিখেছেনই।’ তবে তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের এ কর্মকর্তা।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘তিন বিচারপতিকে বিচার কাজ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে আমি অবগত নই। আর এই কারণে অবগত নই যে, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন এবং এটা রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির বিষয়। আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে আমাকে আগে অবগত হতে হবে। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগের অনুসন্ধান বিচার বিভাগের অন্যদের জন্য একটি বার্তা বলে মন্তব্য করেন।

এ ছাড়া সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত এবং ব্যবস্থা নিতে পারে।’

অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের বিচারকদের ভেতরে যদি কোনো অসদাচরণের অভিযোগ আসে সেটা কোন্ প্রতিষ্ঠান নিষ্পত্তি করবে সে ব্যাপারে আমরা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নই।’

সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি এবং মাহামান্য রাষ্ট্রপতি এই দু’জনের মধ্যে যে অতি গোপনীয় বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে আমার কোনো ব্যক্তিগত ধারণা নেই।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘হাইকোর্টের তিনজন বিচারপতির বিরুদ্ধে প্রধান বিচারপতি পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই পদক্ষেপকে আমি স্বাগত জানাই।’

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এ কার্যতালিকা করে বিচারপতিদের এখতিয়ার ও অধিক্ষেত্র ভাগ করে দেন।

আগের দিন বুধবার ওই তিন বিচারপতির বেঞ্চ ও এখতিয়ার ছিল। তারা দেওয়ানি মামলার রুল ও আবেদন শুনতেন। মূল ভবনের ১০ নম্বর এজলাসে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ দ্বৈত বেঞ্চে বসতেন। বিচারপতি কাজী রেজাউল হক মূল ভবনের ৬ নম্বর এজলাসে এবং বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক একই ভবনের ৩০ নম্বর এজলাসে বসতেন। বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ২০০২ সালের ২৯ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি নিযুক্ত হন। দুই বছর পর স্থায়ী বিচারপতির শপথ নেন তিনি।

বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল অতিরিক্ত বিচারপতি নিযুক্ত হন এবং ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল স্থায়ী বিচারপতি হন তারা।

এর আগে গত ১৬ মে নিম্ন আদালতের মামলায় ডিক্রি বাতিলের অভিযোগ উঠে হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহুরুল হকের বেঞ্চের বিরুদ্ধে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের শুনানিতে রায় বাতিলের এ অভিযোগ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

জানা যায়, ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ৩৬ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিল এম আর ট্রেডিং। সেই ঋণখেলাপি হওয়ায় ন্যাশনাল ব্যাংক অর্থঋণ আদালতে এম আর ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে। সে মামলার কার্যক্রম চালু থাকাকালীন দুই পক্ষের মধ্যে আপসনামা হয় এবং সে অনুসারে টাকা মিলমিশ করে নিয়ে যাবে। এরপর তারা ওই আপসনামা অর্থঋণ আদালতে দাখিল করে সে অনুযায়ী ডিক্রি চান।

কিন্তু অর্থঋণ আদালত সে আপসনামার ভিত্তিতে ডিক্রি জারি করেননি। এরপর ওই ডিক্রির বিরুদ্ধে এম আর ট্রেডিং হাইকোর্টে আবেদন জানায়। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহুরুল হকের বেঞ্চ রুল জারি করেন এবং আপসনামার ভিত্তিতে অর্থঋণ আদালতকে ডিক্রি জারির নির্দেশ দেন। এরপর পুনরায় অর্থঋণ আদালত ডিক্রি দেন এবং এম আর ট্রেডিং হাইকোর্ট থেকে জারি করা রুল উইথড্র করে নেন। পরে ন্যাশনাল ব্যাংক আপিল বিভাগে আসে।

গণমাধ্যমে তখন বিষয়টি প্রকাশ হলে হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. গোলাম রব্বানী বিচারধীন বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। পরে গণমাধ্যমের দাবির প্রেক্ষিতে বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. মো. জাকির হোসেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ একুশে আগস্টের জন্য বিএনপিকে দায়ী করা হলে পিলখানার দায় আ’লীগের: রিজভী


একুশে আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে জড়িয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেছেন, যেকোনো সরকারের আমলে কখনও কখনও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটে যায়। এর জন্য সে সরকার দায়ী হতে পারে না।

তিনি বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার জন্য যদি বিএনপি দায়ী হয়, তা হলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের জন্য কেন আওয়ামী লীগ সরকার দায়ী হবে না?

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বিএনপি সরকারকে জড়িত করে বলেছেন- ‘সেই সময় ক্ষমতায় থাকা বিএনপি-জামায়াত জোটের মদদ ছাড়া দিনে-দুপুরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে না। ২১ আগস্টের ঘটনায় খালেদা জিয়ার সহযোগিতা থাকলেও তাকে আসামি করা হয়নি। তিনি তো প্রধানমন্ত্রী ছিলেন-তার সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব ছিল।’

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন- ‘একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। এ জন্য উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে।’ কেবল প্রধানমন্ত্রী বা ক্ষমতাসীন দলের নেতারাই নন, আমরা বিস্মিত হয়েছি যখন দেখেছি দুই-একটি পত্রিকা এবং সরকারি নেতাদের মালিকানাধীন টেলিভিশনে ইনিয়ে-বিনিয়ে বেসামাল ভাষায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের ওপর দোষ চাপাতে অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য- প্রকৃত ঘটনা এভাবে মিথ্যাচার আর অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করা যাবে না।

রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী নেতাদের বিরুদ্ধে এহেন অলীক অপপ্রচার অতীতেও হয়েছে। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্য নিয়ে সাম্রাজ্যবাদীরা ‘অন্ধকুপ হত্যা’র কাহিনি রচনা করেছিল। সমসাময়িক ইতিহাসে এ ঘটনার কোনো উল্লেখ দেখা যায়নি। পরে গবেষণামূলক গ্রন্থেও এই কাহিনির অসত্যতা ও অবাস্তবতা বেরিয়ে এসেছে। এটি তৎকালীন সাম্রাজ্যবাদী শাসকগোষ্ঠীর মিথ্যা প্রচার বলে প্রমাণিত হয়েছে। দেশে দেশে দখলদার সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী ও তাদের স্থানীয় অনুচররা সবকালে প্রহসন, মিথ্যাচার ও অন্তর্ঘাতকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা প্রথম থেকেই দেখছি-আওয়ামী লীগ একুশে আগস্ট বোমা হামলা মামলা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনীতি করছে। মূলত ২১ আগস্টের ঘটনা ছিল গভীর নীলনকশার অংশ, যে নীলনকশার সঙ্গে ক্ষমতাসীনরা জড়িত কিনা তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এ মামলার সামগ্রিক সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসত। কিন্তু তা না করে সুপরিকল্পিত নীলনকশা অনুয়ায়ী এ ঘটনাকে ন্যক্কারজনক কায়দায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করে আসছে আওয়ামী লীগ। তার বড় প্রমাণ হলো- কথিত সম্পূরক চার্জশিটের নামে এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়িয়ে ফরমায়েশি রায়ে সাজা দেয়া, যা ছিল সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, গভীর ষড়যন্ত্রমূলক ও দীর্ঘদিনের মাস্টারপ্ল্যানের ফসল।

রিজভী বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় হতাহতের ঘটনা মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। মিসেস আইভি রহমানসহ অনেক নারী-পুরুষের জীবননাশ ও আহত হওয়ার নৃশংস ঘটনায় আমরা তখনও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি-এখনও জানাই।

তিনি বলেন, তারেক রহমানসহ বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা যে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সেটির প্রমাণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্দোলনের ফসল মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের সময়ও এ মামলার চার্জশিটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ছিল না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাদের একান্ত অনুগত, বিশ্বস্ত ও দলীয় লোক আবদুল কাহার আকন্দকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয় শুধু বিএনপি নেতাদের বিপদাপন্ন করার জন্য। তার আগেই কাহার আকন্দ পুলিশ বিভাগ থেকে অবসরে গিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন, এমনকি ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও প্রতিহিংসা পূরণের জন্য তাকে পুলিশ বিভাগে ফের নিয়োগ দিয়ে এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা করা হয় ২০০৯ সালে। দলীয় চেতনার তদন্ত কর্মকর্তা কাহার আকন্দকে নিয়োগ দেয়ার উদ্দেশ্যই ছিল এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো। পরে ২০১১ সালে তারেক রহমানের নাম সম্পূরক চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে শেখ হাসিনার মনোবাসনা পূরণ করা হয়। পূর্বপরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। উদ্দেশ্য একটিই- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এ মামলায় ফরমায়েশি রায়ে তাকে সাজা দেয়া। তারেক রহমানসহ বিএনপি সরকারকে জড়িত করার ক্ষমতাসীনদের সুস্পষ্ট নীলনকশা নিয়ে পত্রিকাগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই, যা দুঃখজনক।

তিনি বলেন, ১/১১-এর পর ১৬৪ ধারায় মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে তারেক রহমানের নাম ছিল না। শুধু এ মামলায় তারেক রহমানের নাম বলানোর জন্য অন্য মামলায় ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানসিক ও নির্মম নির্যাতন করা হয় মুফতি হান্নানকে। তার হাত-পায়ের নখ পর্যন্ত উৎপাটন করে ফেলা হয়। পৃথিবীর কোনো দেশেই এ ধরনের নজির নেই। ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানসিক নির্যাতন করে মুফতি হান্নানকে দিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের নাম বলতে ও তথাকথিত স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেন কাহার আকন্দ, যার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। একই ব্যক্তির একই মামলায় দুবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির নজিরও নেই।

পরবর্তী সময়ে আদালতে আবেদন করে মুফতি হান্নান তার তথাকথিত স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যও প্রত্যাহার করে নেন এবং তার ওপর বর্বোরচিত নির্যাতনের বিবরণ দেয়। মুফতি হান্নানের ওপর নির্যাতন চালিয়ে তারেক রহমানকে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসানোর জন্য পুরস্কারস্বরূপ কাহার আকন্দের বারবার পদোন্নতিসহ চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়।

একুশে আগস্ট জড়িত থাকলে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দেশ ছেড়ে পালাতেন এমন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, যখন প্রধানমন্ত্রী বলছেন- খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জড়িত তা হলে এত বড় ঘটনার পর তাদের তো দেশ থেকে সরে যাওয়ার কথা। অপরাধ করলে তারেক রহমান দেশ থেকে সরে যেতেন। কিন্তু তিনি তো দেশ থেকে কোথাও যাননি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। তার যে সংগ্রাম এ সংগ্রাম হচ্ছে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম। আজ দেশনেত্রীর পর্বতসম জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে শুধু প্রতিহিংসাপরায়ণতায় ৫৬১ দিন কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের কতিপয় নেতা নির্জলা মিথ্যাচার প্রপাগান্ডায় জনগণকে বিভ্রান্ত করার নিস্ফল চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে সত্য চেপে রাখা যায় না।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার চার্জ শুনানি ফের পেছালো


গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন পিছিয়ে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেনের আদালতে মামলাটি চার্জ শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এদিন তাকে আদালতে হাজির করেনি কারা কর্তৃপক্ষ।

শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ অবস্থায় আসামির অনুপস্থিতিতে চার্জ শুনানি করা আইনসম্মত হবে না। এজন্য চার্জ শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করা হচ্ছে।

এসময় দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

সবশেষ গত ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। ওইদিন খালেদা আদালতে তাকে বসানোর স্থান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত হয়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি খালেদা জিয়া। হাঁটুর সমস্যাসহ বেশ কয়েকটি জটিল রোগে খালেদা জিয়া বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন। এর আগে কয়েকবার শুনানির তারিখ থাকলেও অসুস্থতার কারণে তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে গ্যাটকো মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী মামলার বাদী।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ গ্লোবাল অ্যাগ্রো ট্রেড কোম্পানিকে (গ্যাটকো) পাইয়ে দেয়া হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ২০০৮ সালের ১৩ মে তদন্ত শেষে দুদকের উপপরিচালক জহিরুল হুদা খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। তাদের মধ্যে ছয় আসামি মারা গেছেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সব অনিয়মে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে: টিআইবি


আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘দেশে সব অনিয়মের সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।’

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বলতে দ্বিধা নেই যে, এমন কোনো অপরাধ নেই যার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায় না। আইনের রক্ষকরাই এর ভক্ষক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে দেশে।’

তবে তাই বলে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সৎ কর্মকর্তার অভাব নেইও বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি যোগ করেন, ‘এ কথা আমরা কখনোই বলি না যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সৎ কর্মকর্তা নেই। অনেকেই আছেন যারা ইতিমধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত হচ্ছেন।’

এ ধারা অব্যাহত থাকলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নাম পরিবর্তন করে আইন লঙ্ঘনকারী সংস্থা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের অনেকেই আইন ভঙ্গ করে নানা অপরাধে জড়িত হচ্ছেন বলে রিপোর্ট পাচ্ছি আমরা।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমরা দেখছি, সব ধরনের অনিয়মের সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্টতা, যোগসাজশ, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কার্যকরভাবে বিষয়টি প্রতিহত না করা হলে আমরা আশঙ্কা করছি যে, একটা সময় চলে আসবে তখন সংস্থাটির নামটা পরিবর্তন করতে হবে।’

তবে সেই অবস্থা দেখতে চান না জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমরা চাই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো কর্মকর্তা অপরাধে যুক্ত রয়েছেন প্রমাণ মিললে তার বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’

কিন্তু সে তদন্তে ঘাটতি আছে জানিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা দেখি বিভাগীয় তদন্ত হয়। তাতে সর্বোচ্চ যে সাজা দেয়া হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ক্লোজড করা হয় অথবা বদলি করা হয়। বড়জোর রিটায়ার্ড করে দেয়া হয়।’ -এমন শাস্তিতে অভিযুক্তকে পুরস্কৃত করা হয় বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এমন বিচারে তো সমাধান হল না। সমাধানের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত হতে হবে।’

জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটির সুপারিশের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিতের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী সদস্য আইনজীবী জেড আই খান পান্নার সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিনা হক, নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামছুল হুদা, হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশের সমন্বয়ক তামান্না হক রিতি প্রমুখ।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আরও অনেক বিচারপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আছে: ব্যারিস্টার খোকন


দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা তিন বিচারপতি ছাড়াও হাইকোর্টের আরও অনেক বিচারপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

প্রসঙ্গত অনিয়মের অভিযোগে হাইকোর্টের তিন বিচারপতিকে বিচারিক দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকায় অন্য বিচারপতিদের নাম ও বেঞ্চ নম্বর উল্লেখ থাকলেও এই তিন বিচারপতির নাম রাখা হয়নি। তারা হলেন-বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজাউল হক এবং বিচারপতি একেএম জহুরুল হক।

তবে কোন ধরনের অনিয়মের অভিযোগে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনে শেখ হাসিনা জোর করে জিততে চান না, ভোট ডাকাতি করে!


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনা জোর করে নির্বাচনে জিততে চান না। জনগণকে খুশি করেই নির্বাচনে জিতেন। রাজধানীতে এক সমাবেশে দলের নেতাকর্মীদেরকে সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ দিয়ে এসব কথা বলেন।

কিন্তু, বিগত দিনের সিটি নির্বাচনের দিকে তাকালে দেখা যায়-শেখ হাসিনা শুধু জোর করেননি, নজিরবিহীন ভোটডাকাতির মাধ্যমে সিটি নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে দলের প্রার্থীদেরকে বিজয়ী করেছেন।

২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন হানিফের ছেলে সাঈদ খোকন এবং উত্তর সিটিতে প্রার্থী ছিলেন ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক। আর বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দক্ষিণে মির্জা আব্বাস ও উত্তরে তাবিথ আওয়াল।

সেই নির্বাচনের ভোটের দৃশ্যটা কেমন ছিল? এদেশের জনগণ নিশ্চয় সেদিনের ভয়াবহ ভোট ডাকাতির কথা ভুলে যাননি। সেদিন দলীয় প্রার্থীদেরকে জেতানোর জন্য শেখ হাসিনার গুন্ডা-পান্ডারা শুধু ভোট কেন্দ্রই দখল করেনি, বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীদের এজেন্টদেরকেও কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়নি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়া সাধারণ ভোটাররাতো সেদিন ভোট কেন্দ্রের কাছেই যেতে পারেনি।

ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাই, সাংবাদিকসহ বিএনপি-জামায়াতের এজেন্টদেরকে মারধর করাসহ এমন নজিরবিহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল যে, বেলা ১১ টার পরই বিএনপির দুই প্রার্থী ভোট বর্জন করতে বাধ্য হন। এরপরও ওবায়দুল কাদের বললেন-তার নেত্রী শেখ হাসিনা নাকি নির্বাচনে জোর করে জিততে চান না। এর চেয়ে নির্লজ্জতা আর কী হতে পারে?

এরপর অনুষ্ঠিত হলো বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, গাজীপুর, রংপুর ও সিলেট সিটি নির্বাচন। এসব নির্বাচনে শেখ হাসিনার গুন্ডা-পান্ডারা প্রায় সব কেন্দ্রই দখল করে নিয়েছিল। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে শুধু বিএনপি নয়, মেয়র পদের প্রায় সব প্রার্থীই ভোট বর্জন করতে বাধ্য হয়েছিল।

এসব ভোট ডাকাতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বিদেশিরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। আর ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের কথাতো না বললেই চলে।

তাই ওবাইদুল কাদেরের এমন উক্তিতে সচেতন মহল বলছেন, ওবায়দুল কাদের নির্লজ্জের মতো অবলিলায় বলে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা নাকি জনগণকে খুশি করে নির্বাচনে জিতে। ওই যে কথায় বলে-চুরের মায়ের বড় গলা। ভোট চুরি করে এখন তারা বড় গলায় কথা বলছেন।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ আগস্টেই পানিশূন্য তিস্তা,বর্ষা শেষ না হতেই বাংলাদেশ অংশে মরুভূমিতে পরিণত!


খরস্রোত তিস্তা মধ্য আগস্টেই পানির অভাবে শুকিয়ে হাঁটুজলে পরিণত হয়েছে। ভারতের একতরফা পানি নিয়ন্ত্রণ করায় বাংলাদেশ অংশে তিস্তা এখন ছোট খালে পরিণত হয়েছে। ফলে তিস্তা অববাহিকায় জীববৈচিত্য হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা গেছে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর নীলফামারীর কালীগঞ্জ সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ঐতিহাসিক এ তিস্তা নদী। যা লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী বন্দর হয়ে ব্রক্ষপুত্র নদে মিশে যায়। তিস্তা নদী দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার হলেও বাংলাদেশ অংশে রয়েছে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার।

তিস্তার পানি প্রবাহ এককভাবে ব্যবহার করতে প্রতিবেশী দেশ ভারত গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ করে। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পরেই বাংলাদেশে পানি দেয় ভারত। প্রয়োজন ছাড়াই বর্ষাকালে বন্যার অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে বন্যার সৃষ্টি করে। পক্ষান্তরে শুষ্ক মৌসুমে পানির ব্যাপক প্রয়োজন দেখা দিলেও মিলে না এক কিউসেক পানি। এভাবে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার পানির কাঙ্ক্ষিত ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত। তিস্তার পানির নিয়ে দীর্ঘদিনের ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিটি এখনও পূরণ হয়নি তিস্তাপাড়ে।

ফলে বর্ষা শেষ না হতেই বাংলাদেশ অংশে তিস্তা মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারীর ১২৫ কিলোমিটার তিস্তার অববাহিকায় জীবনযাত্রা, জীববৈচিত্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। দেশের অন্যতম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার তিস্তা ব্যারেজ অকার্যকর হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিস্তা নদীতে দিনভর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা জেলে ও খেয়াঘাটের মাঝিরা বর্তমানে কর্মহীন হতে বসেছে। সবমিলে চিরচেনা হিংস্রো তিস্তা এখন পানির ন্যায্য হিস্যা বঞ্চিত হয়ে ঢেউহীন শান্ত কবিতার ছোট নদীতে পরিণত হয়েছে। পানির অভাবে তিস্তা ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত তিস্তা রেলসেতু, তিস্তা সড়ক সেতু ও গংগাচওড়া শেখ হাসিনা সেতুটি যেন প্রহসনমূলকভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে ধু-ধু বালুচরের তিস্তার ওপর। ব্রিজ থাকলেও পায়ে হেঁটেই পাড় হচ্ছে অনেকেই। ঢেউহীন তিস্তায় রয়েছে শুধু বালু কনা। তিস্তার বুকে জেগে উঠা চরের বালু কনায় ভুট্টা, আলুসহ বিভিন্ন সবজি চাষাবাদের প্রস্তুতি নিলেও শরৎকালেই পানিশূন্য তিস্তায় সেচ নিয়ে চিন্তিত কৃষকরা।

তিস্তাপাড়ের কৃষক তাহাজুল ইসলাম, আবুল মিয়া ও খালেক জানান, বর্ষাকালে প্রচুর পানি ছেড়ে দেওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় ফসলহানীসহ ঘরবাড়ি হারা হয় এ অঞ্চলের মানুষ। আবার শুষ্ক মৌসুমে ফসল রক্ষায় পানির প্রয়োজন হলেও তিস্তায় পানি দেয় না ভারত। এবার মধ্য আগস্টেই পানিশূন্য তিস্তাপাড়ের চরাঞ্চলে চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদী শাসন ও তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা না থাকায় তিস্তা নদী কৃষকের জন্য অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বেশ কিছুদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আগস্টেই কমেছে তিস্তার পানি। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকাল ধরা হয়। সেই অনুযায়ী এ অঞ্চলে বা ভারতের সিকিমে বৃষ্টিপাত হলে তিস্তায় পানি বাড়তে পারে। তবে বৃষ্টিপাত না হলে সেচ প্রকল্প সচল রাখা সমস্যা হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

উৎসঃ বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ মন্ত্রী-মেয়রের বক্তৃতার সময়টা ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলেন সচিব হেলালুদ্দীন


সারাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সরকার, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনেকটা দৌড়ের ওপর রয়েছেন। সমস্যা সমাধানে চলছে নানা কর্মসূচি ও সভা সেমিনার। এমনই এক সভায় বক্তৃতা রাখছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম ও ঢাকা উত্তরের মেয়র। আর পাশে বসেই ঘুমোচ্ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

ভিডিওঃ  ‘মন্ত্রী-মেয়রের বক্তৃতার সময়টা ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলেন সচিব ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

বুধবার (২১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে মশক নিধন এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক পর্যালোচনা সভার শুরু থেকে তিনি দফায় দফায় ঘুম দিচ্ছেন। কখনও ঘুমে দুলুনি খাচ্ছেন, কখনও আবার হঠাৎ চমকে উঠছেন। কোনো কোনো সময় মুখ হা করে বিরাট হাই তুলছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। মেয়র আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাইসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা।

মন্ত্রীর কারণে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শুরু হয় আরও দেরিতে। এরপর মন্ত্রীর ডান পাশের চেয়ারে বসেন সচিব হেলালুদ্দীন আর বাম পাশে বসেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

সভার শুরুতে মেয়র কথা বলার পর বক্তব্য শুরু করেন মন্ত্রী। তার বক্তৃতার পুরো সময় সচিব কখনো হাই তুলেছেন, আবার কখনো দুই হাত বুকের ওপর রেখে ভঙ্গিতে ঘুম দিয়েছেন। মাঝে মাঝে দুই চোখ খুললেও আবার চোখ বন্ধ করে ফেলেন। মন্ত্রী যখন বক্তৃতা করছিলেন তখন মাঝে মাঝেই সচিব চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন।

চলতি মৌসুমে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের। আগে থেকেই যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়া নানান কথা শুনতে হচ্ছে সরকার, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্টদের। এর মধ্যে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে সরকারের একজন আমলার এভাবে ঘুমানোকে বেমানান বলছেন সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা।

উৎসঃ পূর্বপশ্চিমবিডি

আরও পড়ুনঃ ‘ভারত জানে আ.লীগ যে কোন ভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারলেই খুশি’


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ভারত জানে আওয়ামীলীগ যে কোন ভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারলেই খুশি। দেশের মানুষ কি পেলো তা নিয়ে কিছু আসে যায় না বর্তমান সরকারের।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে আজ সন্ধ্যায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি লিখেছেন, গত দশটা বছর ভারতের চাহিদা মতো সবকিছু দিয়েছে ক্ষমতাসীন সরকার। এতবছর ধরে তিস্তার বিষয়ে শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে ভারত। তাতেই সরকার খুশি।

তিনি আরও লিখেছেন, দেশের মানুষ কি পেলো তা নিয়ে কিছু আসে যায় না বর্তমান সরকারের। নেপাল, শ্রীলংকা মালদ্বীপ থেকে কিছু শিখে না কেন তারা?

সংবাদের পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

গত দশটা বছর ভারতের চাহিদা মতো সবকিছু দিয়েছে সরকার, সবকিছু করেছেও। তারপরও এতবছর ধরে তিস্তার বিষয়ে শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে ভারত। এবারও শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়েছে ভারত। তাতেই সরকার খুশি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী উৎফুল্ল!

এদেরকে বাড়তি কিছু আর দেয়ার দরকার কি তাহলে ভারতের? ভারত জানে এরা আসলে যে কোন ভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারলেই খুশী। বাংলাদেশ বা দেশের মানুষ কি পেলো তা নিয়ে কিছু আসে যায় না বর্তমান সরকারের।

ভারত এ সুযোগটা নিচ্ছে অনেক বছর ধরে। তবে আমি এটা বুঝি না, পরাশক্তি হতে চাওয়া একটা দেশ কেন ভাবে না বাংলাদেশের সাধারন মানুষের মনোভাবের কথা? নেপাল, শ্রীলংকা মালদ্বীপ থেকে কিছু শিখে না কেন তারা?

নাকি তারা নিশ্চিত যে কোনদিন এদেশের মানুষ পাবেনা নিজেদের ভোটের নিজেদের সরকার? কোনদিন পাবে না ভারতের প্রতি তাদের ক্ষোভ দেখানোর স্বাধীনতা?

উৎসঃ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে

আরও পড়ুনঃ গরিবের চামড়ায়ও কামড় দিলেন সেই দরবেশ খ্যাত সালমান এফ রহমান!


কুরবানির পশুর চামড়ার ব্যাপক দরপতন নিয়ে সারাদেশে এখনো তোলপাড় চলছে। মুসলমানরা তাদের কুরবানির পশুর চামড়া গরিব, মিসকিন ও এতিমদের মধ্যে বিতরণ করে দিয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। এটা আল্লাহ ও তার নবীর নির্দেশ। প্রতিবছর কুরবানির পশুর চামড়ার টাকা গরিব, মিসকিন ও এতিমদের আয়ের একটি উৎস। আর দেশের হাজার হাজার এতিমখানার আয়ের প্রধান উৎস হলো কুরবানির পশুর এই চামড়ার টাকা।

এ বছর চামড়ার সঠিক দাম না পাওয়ায় দেশের বহু মাদরাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চামড়া নিয়ে এবার যা হয়েছে তা নজিরবিহীন। এর আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। এবার শুধু কম দামই নয়, অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে না পেরে গর্ত করে মাটির নিচে চামড়া চাপা দিয়েছে। কেউ কেউ চামড়া কিনে বিক্রি করতে না পেরে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চলছে তোলপাড়। গণমাধ্যমগুলোতেও চামড়া পানিতে ফেলে দেয়ার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

চামড়ার এই তুঘলকি কাণ্ড নিয়ে সবাই বলছে এর পেছনে একটি সিন্ডিকেট জড়িত। কিন্তু এই সিন্ডিকেটে কারা জড়িত? গরিবের চামড়ায় কারা কামড় দিয়েছে? এ প্রশ্নের জবাব আসছে না। আর বিএনপি বলছে আওয়ামী লীগের এক বড় নেতা এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্ত, কে এই ব্যক্তি তার নাম বলেনি বিএনপি।

তবে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে গরিবের চামড়ার পেছনে সেই সেন্ডিকেটের পরিচয়। অনুসন্ধান বলছে, এই সেন্ডিকেটের মুল হোতা শেখ হাসিনার শিল্প ও বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা দরবেশ খ্যাত সালমান এফ রহমান। যিনি এর আগে দেশের শেয়ারবাজারসহ আরও বিভিন্ন খাতে কালো থাবা দিয়েছেন। যার কালো থাবায় ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে শেয়ারবাজারের হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর স্বপ্ন। সহায় সম্বল সব হারিয়ে যারা এখন পথে পথে ঘুরছেন। সেই দরবেশই আবারও উঠেপড়ে লেগেছে দেশের গরিব, মিসকিন ও এতিমদের চামড়া ছিনতাইয়ের কাজে।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এমন একাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ট্যানারী ব্যবসায়ী বলেছেন, দরবেশই হলেন নাটেরগুরু। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর শক্তিশালী উপদেষ্টা হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্টরা মুখে তার নাম উচ্চারণ করতে পারছেন না। এদিকে গরমের কারণে ১০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছে সালমান এফ রহমানের এমন মন্তব্যে হাস্যকর বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগ এখন পাগলের কারখানাঃ অধিকাংশ মন্ত্রী, এমপি, নেতারা মানসিকভাবে অসুস্থ

রাজনৈতিক মহলে একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে ‘আওয়ামী লীগে কোনো বিবেক সম্পন্ন ও সুস্থ মানুষ নেই’। অথবা, ‘যারা বিবেক সম্পন্ন ও মানসিকভাবে সুস্থ তারা আওয়ামী লীগ করে না’। বিভিন্ন সময় অওয়ামী লীগ নেতাদের অহেতুক কর্মকাণ্ডে প্রচলিত এ প্রবাদের সত্যতা আংশিক খুঁজে পেলেও এখন শতভাগ সত্যতা দেখা যাচ্ছে।

বিবেকবান, বোধশক্তি সম্পন্ন ও সুস্থ মানসিকতার লোক এখন আওয়ামী লীগে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। দেখা যাচ্ছে, দিন যত যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগে এখন মেন্টাল তথা পাগলের সংখ্যা ততই বাড়ছে। তাই অনেকেই হাস্যরস করে বলছেন এ যেন এক পাগলের কারখানা।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে রাজধানীতে ডেঙ্গু মশার উৎপাত শুরু হয়। দুই সিটিতে মশা নিধনের ওষুধ না ছিটানোর কারণে এ মশা দিন দিন বাড়তে থাকে। দুই মেয়রের দুর্নীতি, আত্মসাত, খামখেয়ালি আর নাগরিকদের প্রতি চরম অবহেলার কারণে ডেঙ্গু এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন ২ হাজারেরও বেশি নারী-পুরুষ ও শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আর এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষ ডেঙ্গুতে মারা গেছে। যদিও সরকার এসব মৃত্যুর সংখ্যা অস্বীকার করছে।

আর সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো-ডেঙ্গু মহামারি নিয়ে দেশের মানুষ যখন আতঙ্কিত ও উৎকণ্ঠিত তখন সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা এ নিয়ে জনগণের সঙ্গে চরম তামাশা ও মশকরা করে যাচ্ছে। গত জুলাই মাসের ২৫ তারিখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালিক বলেছিলেন-রোহিঙ্গাদের মতো এডিস মশার প্রজনন ক্ষমতা বেশি। রোহিঙ্গারা যেমন বেশি বাচ্চা জন্ম দিচ্ছে তেমনি এডিস মশাও বেশি জন্ম দিচ্ছে। তাই এই মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। একই দিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, ডেঙ্গু একটা গুজব। গণমাধ্যমগুলো ডেঙ্গু নিয়ে যা প্রচার করছে বাস্তবে এমন ধরণের কিছু নেই।

এরপর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও খোকনের বক্তব্য নিয়ে সারাদেশে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে সর্বস্তরের মানুষ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে লন্ডন থেকে শেখ হাসিনা তাদেরকে কথা কম বলার পরামর্শ দেন। ওবায়দুল কাদেরও সংবাদ সম্মেলন ডেকে মন্ত্রী ও মেয়রকে সতর্ক করে দেন।

কিন্তু, মানুষের সেই ক্ষোভের রেশ কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার আওয়ামী এমপি কণ্ঠশিল্পি মমতাজ পুনরায় বললেন-ডেঙ্গু একটা গুজব। ডেঙ্গুতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই। মমতাজের এই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এনিয়ে আবার বইছে সমালোচনার ঝড়।

এরপর দুই দিন পর বৃহস্পতিবার ডেঙ্গু নিয়ে মন্তব্য করে আগের তিনজনকেই ছাপিয়ে গেলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। এই ডেঙ্গু মহামারিকে তিনি উন্নয়নের অংশ বলেই দাবি করছেন।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় এক সেমিনারে তিনি বলেছেন, দেশ যত উন্নত হবে মানুষের সমস্যা তত বাড়বে। যে দেশ যত উন্নত হচ্ছে সে দেশে তত রোগের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গু এলিট শ্রেণির একটি মশা। এ মশা সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, কলকাতা শহরে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন উন্নত দেশ হতে যাচ্ছে। তাই এখন দেশে ডেঙ্গু এসেছে। মানুষের যত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে তত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য শুনে দেশের সাধারন মানুষ নির্বাক হয়ে গেছে। উন্নয়ন হলে দেশে রোগবালাই বাড়ে! দেশ উন্নত হওয়ার কারণেই ডেঙ্গু মশা আসছে! সরকারের এমন গুরুত্বপূর্ণ একজন মুখ থেকে এসব কথা কিভাবে আসতে পারে? তাহলে সরকার কি জনসংখ্যা কমানোর জন্য দেশ উন্নত করছে?

সচেতন মহল বলছেন, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধস নিয়ে জামায়াত শিবিরকে জড়িয়ে হাইস্যকর মন্তব্য করে পাগলের সূচনা করেছিলেন মহিউদ্দিন খান আলমগীর। এরপর থেকে যেন সেই সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ডেঙ্গুকে একজন রোঙ্গিহাদের সাথে তুলনা করছেন, আর দুইজন বলছেন গুজব। এবং সর্বশেষ একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী বললেন এটা উন্নয়নের অংশ। এতে বুঝাে যাচ্ছে-আওয়ামী লীগে দিন দিন পাগলের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ডেঙ্গু মূলত ইহুদীবাদীদের প্রয়োগকৃত একটি ভয়াবহ জীবানু অস্ত্র! – অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

কিছুদিন আগে একজন প্রাজ্ঞ অ্যানালিষ্ট একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন সচেতন বোদ্ধা মহলের দিকে। এবং তা হলো শুধুমাত্র আমেরিকার সাথে বৈরী সম্পর্কযুক্ত অর্থচ রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্কসম্পন্ন দেশগুলিতেই ডেঙ্গু ভাই*রাস মহা*মারী আকারে ছড়ায় কেন?

একটু মাথা ঠান্ডা করে চিন্তা করুন। উত্তরটা বেরিয়ে আসবে। জীবানু অস্ত্রের সাহায্যে আবালবৃদ্ধাবণিতাকে হ*ত্যা করা এমন নিষ্ঠু*র অমানবিক নির্দয় আচরণ শুধুমাত্র ইহুদীবাদিদের পক্ষেই সম্ভব। আর সবাই জানে যে আমেরিকা চালায় ইহুদীরা।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের সুত্র সহ বিস্তারিত বর্ণনা করা হলঃ

এবার আসুন তো আরেকটু ভিতরে ঢুকি। গত শতকের আশির দশকে ব্যাপক ডেঙ্গু ভাই*রাস এর আক্র*মনে আক্রা*ন্ত হয়েছিলো কিউবা। যা ছিলো আমেরিকার পক্ষ থেকে ঘৃণিত এক জীবাণু অস্ত্রের আক্র*মণ। শুধুমাত্র একজন মানুষকে গদিচ্যুত করার জন্য সেদিন হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করতে বাধেনি বিশ্ব সন্ত্রা*সী ইহুদীবাদী আমেরিকার। সেদিন ফিদেল ক্যাস্ট্রোর কি বক্তব্য ছিলো তা খতিয়ে দেখা যাক।

“We share the people’s convictions and strongly suspect that the plagues that have been punishing our country, especially the hemorrhagic dengue, could have been introduced into Cuba, into our country, by the C.I.A.”

ক্যাস্ত্রো নিশ্চয়ই চব্বিশ ঘন্টা জেগে জেগে উন্নয়নের দিবা স্বপ্ন দেখতেন না। এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বালখিল্য মিথ্যা বলার প্রশ্নই আসে না। কাজেই আমেরিকা যে রুশ ব্লকের দেশগুলোতে প্রতিহিংসা বশত ডেঙ্গু ভাই*রাস ছড়িয়ে দিয়ে থাকে তা একেবারে প্রমাণিত সত্য।

ফিলিপাইন থেকে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, মায়ানমার হয়ে বাংলাদশে এসে পৌছেছে ভ*য়ঙ্কর মাত্রার ডেঙ্গু

এ জীবানু অস্ত্রের প্রয়োগ মানবাধিকারের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও, অদ্যবধি এই ডেঙ্গু ভাই*রাস আমেরিকা রাশিয়ার মিত্র দেশগুলোর উপর প্রয়োগ করে থাকে। আজকে থেকে দুই বছর আগে যখন চিকনগুনিয়া ভাই*রাস মহা*মারী আকারে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল তখনো কিন্তু গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে জানা গিয়েছিল যে চিকুনগুনিয়া আমেরিকার বায়োলজিক্যাল অস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসুত্রঃ How Chikungunya got its name, and was a potential biological weapon – The News Minute

আমার কাছে কেন জানো শুরু থেকেই অথর্ব মেয়র সাঈদ খোকনের কথাগুলি সন্দেহজনক মনে হয়েছিল। সাঈদ খোকন বলেছে যে, এই ডেঙ্গু মহা*মারী নাকি গুজব। বর্তমানে সচেতন নেটিজেন সূত্রে জানা যায় যে, এই সাঈদ খোকন আজকের থেকে ৪ বছর আগে ঢাকা শহরকে পরোক্ষভাবে বিশ্বব্যাংকের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।

অর্থাৎ, সে বিশ্বব্যাংকের কাছে নতজানু সাম্রাজ্যবাদী গোলাম। অতএব ডেঙ্গু মহা*মারী আকারে ছড়িয়ে পড়লেও শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত সাঈদ খোকনের অপচেষ্টা খুবই সন্দেহজনক, বরং এরূপ হলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নাই যে প্রথম দিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে সারাদেশে তা ছড়িয়ে দেওয়া তার প্লানেরই একটি অংশ।

ভালোভাবে ইনভেস্টিগেশন করলে বের হয়ে আসবে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে প্রয়োগকৃত আমেরিকান বায়োলজিক্যাল ওয়ার ফেয়ার এর এই দেশীয় ক্রীড়ানক হলেন মেয়র সাঈদ খোকন মশা।

সরকারের উচিৎ সিআইএপন্থী এই মেয়রকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা, এতে অনেক গোপন তথ্য বেরিয়ে আসবে আমি শিউর।

৫০ এর দশকে ফোর্ট ডেরিক সিআইএ’র প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মাল্টি মিলিয়ন ডলার রিসার্চ প্রোগ্রাম চালু করেন। না মানব সম্পদ রক্ষার মত মহৎ উদ্যোগে তার এই গবেষণাকর্ম পরিচালিত হয় নি। বরং কিভাবে নিরীহ নারী-পুরুষ-শিশু আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা কে ডেঙ্গু ভাই*রাস এবং আরও ভয়া*বহ মরণ*ঘাতী রোগ অসুখ-বিসুখ এর ধারা তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে মারা যায়, হত্যা করা যায়, তার রাগমোচন উপভোগ করার জন্য মানবতার ধ্বজাধারীরা এই প্রজেক্ট চালু করেছিল। এমনকি ফ্লোরিডা, কী ওয়েস্ট, পানামা সিটি, এভন পার্ক অঞ্চলগুলিতে মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বর এবং অন্যান্য জীবাণু অস্ত্র সমূহের এক্সপেরিমেন্ট চালানো হয়েছিল। আমেরিকার স্বল্পআয়ের আফ্রো আমেরিকান নাগরিকদের উপর এই বায়োলজিক্যাল উইপন এর প্রয়োগ ঘটিয়েছিল ইহুদি কিংপিনরা।

সিআইএ’র ডকুমেন্ট থেকে জানা যায় টপ সিক্রেট প্রজেক্ট এমকে/নাওমী নামে পরিচালিত এই অপারেশনে বিশেষভাবে সজ্জিত বিমান থেকে ডেঙ্গুর জীবাণু বাহী ৬ লক্ষ মশা একেক দফায় ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।

এই অপারেশন গুলির ব্যায়ভার কে বহন করেছিল জানেন? সেই বিশ্বকুখ্যাত রকফেলার পরিবার যারা সারা বিশ্বে ইহুদি সাম্রাজ্যবাদ বিস্তারের জন্য মূল ভূমিকা পালন করছে। শুধুমাত্র তাই নয় ১৯৮২ সালের মিডিয়ার রিপোর্ট আরো বের হয়ে আসে যে সিআইএ পাকিস্তান মারফত আফগানিস্তানেও ডেঙ্গু মহা*মারীর জীবাণু অস্ত্র পাঠিয়েছিল। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৬ সালে নিকারাগুয়ার কতৃপক্ষ অভিযোগ তুলেছিল জেসিআই ডেঙ্গু ভাই*রাস জীবাণু অস্ত্র তাদের দেশেও প্রয়োগ করেছে।

ভাগ্যের পরিহাস এটাই ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট নিক্সন জীবাণু অস্ত্র নিরোধ চুক্তিতে সই করে এবং জীবাণু অস্ত্রকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।

এই আগলি আমেরিকানরা ১৯৬০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত মানুষ তো বটেই শস্য সামগ্রির উপরেও জীবাণু অস্ত্র প্রয়োগ করেছিল কিউবাতে।

বর্তমানে চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রতিরোধ করার জন্য আমেরিকা বিজেপি সরকারকে নিয়ে বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রাথমিক সূচনা পর্ব হলো এই জীবাণু অস্ত্র ডেঙ্গুর মহা*মারী।

সামনে বিস্তারিত তালিকা নিয়ে আসব আমেরিকা আজ পর্যন্ত কোথায় কোথায় আশরাফুল মাখলুকাত কে বানিয়েছে তাদের এক্সপেরিমেন্টের বিষয়বস্তু। ইনশাআল্লাহ।

তথ্যসূত্রঃ

(১) Dengue Mosquitoes are being used as a biological weapon!

(২) EPIDEMIC IN CUBA SETS OFF DISPUTE WITH U.S.

(৩) Florida Dengue Fever Outbreak Leads Back to CIA and Army Experiments

(৪) Bio-War against Cuba – AfroCubaWeb

যাইহোক, নিচের এই ছবি দেখে কেউ চীনের ‘স্ট্রিং অব পালর্স’ বা মুক্তার মালা ভেবে ভুল করবেন না। এটা এ বছর যে সব দেশে ডেঙ্গু জ্বর মহা*মারি আকারে ছড়িয়েছে তাদের চিহ্নিত করণ। এবার আপনারাই হিসাব মেলান চীন, অ্যামেরিকা, রাশিয়া ও মোড়ল ইহিদীবাদী ইসরাঈলের কার্যক্রমে কোথায় কে বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে এবং কাকে কাকে টাইট দেওয়া হচ্ছে।

যে সব দেশে ডেঙ্গু জ্বর মহা*মারি আকারে ছড়িয়েছে তাদের চিহ্নিতকরণ ছবি

আসুন, এইবার ডেঙ্গুর একমাত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ভ্যাক্সিন এবং প্রস্তুতকারক কোম্পানির মালিককে নিয়ে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য জানি।

১) নিচের ছবিতে যাকে দেখতে পাচ্ছেন, তার নাম সার্জ ওয়েইনবার্গ। সে ফেঞ্চ ইহুদী ব্যবসায়ী। তার অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। তবে সে বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি সানোফি (SANOFI)’র চেয়ারম্যান। বাংলাদেশেও সানোফি’র শাখা আছে। ডেঙ্গুর একমাত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ভ্যাক্সিন ডেঙ্গভ্যাকসিয়া (Dengvaxia) এই কোম্পানির ঔষধ।

সার্জ ওয়েইনবার্গ: ফেঞ্চ ইহুদী ব্যবসায়ী। বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি সানোফি (SANOFI)’র চেয়ারম্যান।

২) ২০১৬ সালে ১১টি দেশ সানোফি’র ডেঙ্গভ্যাকসিয়াকে অনুমোদন দেয় বলে খবর বের হয়। দেশগুলো হলো- মেক্সিকো, ফিলিপাইন, ব্রাজিল, এল সালভাদোর, কোস্টারিকা, প্যারাগুয়ে, গুয়াতেমালা, পেরু, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড এবং সিঙ্গাপুর।
তথ্যসূত্রঃ ১১ দেশে সানোফির ডেঙ্গুর টিকার অনুমোদন – জাগো নিউজ ২৪

৩) সমস্যা বাধে ২০১৭ সালে। ডেংভেক্সিয়া নিয়ে তোলপাড় ঘটে যায় ফিলিপাইনে। ৮ লাখেরও বেশি স্কুল শিশুকে দেয়া হয় এই ভ্যাকসিন। কিন্তু রোগ প্রতিরোধের বদলে, গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেকে। এরইমধ্যে মারা যায় ১৬ জন। এ ঘটনায় ভ্যাকসিনটির উৎপাদক, ফরাসি কোম্পানি- সানোফিকে জরিমানা করে ফিলিপাইন সরকার। বন্ধ করে দেয়া হয় ডেংভেক্সিয়ার কার্যক্রমও।

সানোফি কর্তৃপক্ষ জানায়, যাদের ডেঙ্গু নেই তাদের শরীরে ডেংভ্যাক্সিয়া দেয়া হলে, গুরুতর অসুস্থ হতে পারে, ঐ ব্যাক্তি। এরপরই তোলপাড় শুরু হয়, ফিলিপাইনজুড়ে। টিকা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়, দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। টিকা দেয়ার পর দেশটিতে মারা যাওয়া ১৪ শিশুর মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয়, ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটিও। শেষমেষ ঐ কমিটি জানায়, এই ওষুধ প্রয়োগে রোগ প্রতিরোধের বদলে, উল্টো গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেক শিশু। পন্যের নিবন্ধন ও বিপননজনিত কারনে, ফরাসি কোম্পানি সানোফিকে, ২ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করে, ফিলিপাইন সরকার।
তথ্যসূত্রঃ ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন নিয়ে তোলপাড়, ফিলিপাইনে ১৬ শিশুর মৃত্যু – চ্যানেল ২৪

ডেঙ্গুর একমাত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ভ্যাক্সিন ডেঙ্গভ্যাকসিয়া (Dengvaxia)

৪) তবে ২০১৯ সালে ফিলিপাইনে যখন আবার ডেঙ্গু মহা*মারি আকার ধারণ করে প্রায় ৪৫০ জন মারা যায়, তখন সানোফি’র ডেংভ্যাক্সিয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে তার ফের ব্যবহার করার অনুমতি দেয় দেশটির সরকার। সানোফি’র বক্তব্য- ফিলিপাইন সরকারের উচিত হু’ এর নির্দেশনা মেনে চলা।
তথ্যসূত্রঃ বিতর্কিত ডেঙ্গু টিকা পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনা ফিলিপাইনের – বাংলা ট্রিবিউন

৫) সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা দিয়েছে তারা সানোফির ডেঙ্গু ভ্যাক্সিন ‘ডেঙ্গভ্যাকসিয়া’ আমদানি করার কথা ভাবছে। তারা ইতিমধ্যে সানোফির পরিচালকদের সাথে মিটিং করেছে। ওষুধটির দাম পড়বে জনপ্রতি ৫-৬ হাজার টাকা। তবে ওষুধটি তাদের উপর প্রয়োগ করা যাবে, যাদের দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হয়েছে। প্রথম বার ডেঙ্গু হয়েছে, এমন লোকের উপর প্রয়োগ করলে ঐ ওষুধ রিয়্যাকশন তৈরী করে তাকে অসুস্থ করে দিতে পারে।
তথ্যসূত্রঃ Bangladesh Govt mulls import of dengue vaccine – Daily Sun

আমি এসকোল খবর পড়ে আমি এতটুকু বুঝেছি-এবার ডেঙ্গুর পর বাংলাদেশে সানোফির ব্যয়বহুল ডেঙ্গু ভ্যাক্সিন ‘ডেঙ্গভ্যাকসিয়া’ আসতেছে।

বাংলাদেশের অনেক ডাক্তার ও মিডিয়া বলতেছে: এবার নতুন ধরনের ডেঙ্গু আসছে এবং এই ডেঙ্গুটিতে আগে থেকে ভয়*ঙ্কর।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, কেউ বলতেছে না, এই নতুন ডেঙ্গু জন্ম নিলো কিভাবে ? কিংবা এই নতুন ডেঙ্গু জন্ম নেয়ার পেছনে কে দায়ী ?

অথচ এই বিষয়টি আজ থেকে প্রায় দেড় বছর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমস, এবিএস-সিবিএন সহ অনেক আন্তর্জাতিক পত্রিকায় এসেছে।

খবর বলছে, ২০১৭ সালের শেষ দিকে ফিলিপাইনে ৮ লক্ষ শিশুর উপর পরীক্ষামূলকভাবে ডেঙ্গু ভ্যাক্সিন ‘ডেংভেক্সিয়া’ প্রয়োগ করে ফ্রেঞ্চ বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানি স্যানোফি।

স্যানোফির ডেঙ্গু ভ্যাক্সিন টেস্টের বিরুদ্ধ ফিলিপাইনে গণমানুষের বিক্ষোভ

২০১৭ সালের ১৭ই ডিসেম্বরের নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, “If people who never had dengue are vaccinated and later become infected, the vaccine may provoke a much more severe form of the illness.”
অর্থাৎ যাদের আগে ডেঙ্গু হয় নাই, তাদের শরীরের যখন ডেংভেক্সিয়া’ ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করা হয়, তখন সেই ভ্যাক্সিন উৎসাহিত করে আরো কঠিন মাত্রার অসুস্থতা।
তথ্যসূত্রঃ Drug Company Under Fire After Revealing Dengue Vaccine May Harm Some -NY Times

২০১৮ সালের ১০ই জানুয়ারীর এবিএস সিবিএন নিউজ বলছে-
The Philippines late last year halted the vaccination of public school students with the vaccine Dengvaxia after French drug maker Sanofi disclosed that it might increase the risk of severe dengue in recipients not previously infected by the mosquito-borne virus.
অর্থাৎ যাদের শরীরে ডেঙ্গু আগে হয় নাই, এ ডেঙ্গু ভ্যাক্নিন দেয়ার ফলে আরো মারাত্মক ধরনের ডেঙ্গু আক্রা*ন্ত হওয়ার সম্ভবনা দেখা দেয়।

আরো বলা হচ্ছে:
Dr. Antonio Dans, an epidemiologist from the University of the Philippines, earlier warned that Dengvaxia could act like a primary infection for those who had never had dengue.
If they were bitten by a mosquito carrying the virus after the vaccination, it could allegedly be akin to getting dengue a second time, which often leads to far more severe symptoms and potentially death if bad cases are not treated quickly, he said.
অর্থাৎ Dr. Antonio Dans (epidemiologist) বলছে- যাদের শরীরে ডেঙ্গু হয় নাই তাদের জন্য এই ভ্যাক্সিনটি প্রাইমারী ইনফেকশন হিসেবে কাজ করবে। এরপর যদি তাকে ডেঙ্গু জীবানু বাহিত মশা কামড় দেয়, তখন তার মধ্যে মারা*ত্মক ধরনের ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এমনকি দ্রুত চিকিৎসা না করালে মৃত্যু হতে পারে।

এরপর ভ্যাকসিন দেয়ার পরবর্তী কি ঘটছে, সেখানে বলা হচ্ছে:
Dr. Erwin Erfe, head of the PAO Forensic Laboratory, said the 4 children they examined contracted dengue 6 months after receiving the vaccine.
The fatalities had internal bleeding, enlarged organs and petechial rashes. One of them died within 24 hours after experiencing dengue symptoms, he told radio DZMM.
ভ্যাক্সিন দেয়ার ৬ মাস ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া ৪ জন শিশুকে Dr. Erwin Erfeপরীক্ষা করেছে। মৃত্যুর কারণ অভ্যন্তরীণ রক্তপাত, অর্গানগুলো বড় হয়ে যাচ্ছে এবং লাল বর্ণের র‌্যাশ হচ্ছে।
তথ্যসূত্রঃ Did Sanofi, WHO ignore warning signals on dengue vaccine?-ABC CBN News

আমার ধারণা- নতুন ধরনের ডেঙ্গু তৈরী হওয়ার কারণ।ফিলিপাইনে ৮ লক্ষ বাচ্চার উপর স্যানোফি’র ভ্যাক্সিন টেস্ট, যার দরুণ এক বছরের মাথায় দেশটিতে ভয়ঙ্কর রকমের ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে, সরকারী হিসেবে আক্রা*ন্ত হয় ১ লক্ষ এবং মারা গেছে প্রায় ৫শ’।

স্যানোফি’র ভ্যাক্সিনেশনের ফলে নতুন মাত্রায় জন্ম নেয়া ডেঙ্গুটি ভিয়েতনাম, কলোম্বিয়া, লাওস, থাইল্যান্ড, মায়ানমার হয়ে খুব কম সময়ের মধ্যে (এক থেকে দেড় বছর) বাংলাদেশে এসে পৌছেছে। খুব শিঘ্রই এটি বাংলাদেশকে অতিক্রম করে আরো পশ্চিমে যাবে।

A worker shows used anti-dengue vaccine Dengvaxia inside a vaccine storage room

এদিকে, ফিলিপাইনে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে ৬২২ জন মানুষ মারা যাওয়ার পর গতকাল এটিকে ‘জাতীয় মহামারী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত অন্তত এক লাখ ৪৬ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রা*ন্ত হয়েছেন। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় যা ৯৮ শতাংশ বেশি। আর এই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৬২২ জন।

তথ্যসূত্রঃ ডেঙ্গুকে মহামারী ঘোষণা ফিলিপাইনে – যুগান্তর

আমার কথা হলো, এই নতুন মাত্রার ডেঙ্গুটি যে এসেছে বা আসছে তা তো আজ থেকে দেড় বছর আগেই বিভিন্ন সংবাদে প্রকাশ হয় এবং সেই নতুন জ্বরের লক্ষণগুলো কি হবে তাও প্রকাশ হয়ে যায়। এবং এই ঘটনার সাথে যে ফ্রেঞ্চ বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানি স্যানোফি জড়িত সেটাও তো মোটামুটি প্রকাশ্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিষয়টি বাংলাদেশে কোন ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট বা সরকার-বিরোধীদল প্রকাশ করতেছে না কেন ?

আমি একটা জিনিস দেখেছি, কোন অপকর্মে যদি কোন বহুজাতিক কোম্পানি বা ইহুদীরা জড়িত থাকে (স্যানোফির প্রধান এক ইহুদী), তখন কেন যেন সবাই সেটা এড়িয়ে যায়, প্রকাশ করতে চায় না। আজ থেকে দেড় বছর আগেই যদি আমরা জানতাম, বহুজাতিক ওষধ কোম্পানি স্যানোফি টেস্টের ফলে এক নতুন ধরনের ডেঙ্গু জন্ম নিয়েছে এবং সেই ডেঙ্গুতে রোগির মধ্যে বিশেষ কিছু লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে, তবে কি বাংলাদেশের মানুষ আগে থেকেই সচেতন হতে পারতো না?

সুতরাং, পরিশেষে বলা যায় যে, ডেঙ্গু মূলত ইহুদীবাদীদের প্রয়োগকৃত একটি ভয়া*বহ জীবানু অস্ত্র। মোসাদ তাদের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র আমেরিকার সাথে বৈরী সম্পর্কযুক্ত অথচ, রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্ক সম্পন্ন দেশগুলিতেই ডেঙ্গু ভাই*রাস মহা*মারী আকারে ছড়াচ্ছে।

উৎসঃ নয়ন চ্যাটার্জির (Noyon Chatterjee)’র অনুসন্ধানী একাধিক ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংকলিত

নয়ন চ্যাটার্জির ফেসবুক পেইজ

আরও পড়ুনঃ ​‘শেখ হাসিনা মিথ্যা বলেছেন, বিরোধী মতাবলম্বীদের ওপর বেশি নির্যাতন হচ্ছে’

বিরোধী মত, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পুলিশের হেফাজতে ‍নির্যাতন-মৃত্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সঠিক নয় তো বটেই, এটা সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছুই না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নিয়ে বুধবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিজের চেম্বারে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা তো আমার কাছে পরিস্কার যে, এখানে প্রধানমন্ত্রী সত্য কথা বলেননি। আমাদের পত্র-পত্রিকাগুলোতে মানবাধিকারের যে গ্রুপগুলো রয়েছে তাদের যে রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। এমনকি অ্যামিনেস্টি ইন্টান্যাশনাল, হিউম্যান রাইট ওয়াচ’র রিপোর্টে আমরা দেখেছি- প্রতিবছরে এখানে জুডিশিয়াল কাস্টিডিওতে মৃত্যু হয়েছে ৪শ’ থেকে ৭শ’। গতবছর বিশেষ করে ৪শ’ উপরে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে জডিশিয়াল কাস্টিডিও হত্যা হয়েছে।’

‘আর পুলিশ হেফাজতে যে টর্চার-এটা তো কমন ব্যাপার। পত্র-পত্রিকায় ছবিতে এসেছে- ফ্যান সিলিংয়ের সাথে ঝু্লিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের অনেক নেত-কর্মী আছেন যাদের পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করা হয়েছে। এটা ছবিতে চলে এসেছে। এগুলোতে আপনারা সবাই জানেন, পত্র-পত্রিকায় এসেছে। সুতরাং উনি (প্রধানমন্ত্রী) অবলীলায় অস্বীকার করলেন- এটা( হেফাজতে মৃত্যু) হয় না। আমরা মনে হয় এটা সঠিক নয় তো বটেই, এটা সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছুই না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রকৃত যে চিত্র নির্যাতন বাংলাদেশে নির্যাতন সরকারিভাবেই চলছে এবং সরকার বিরোধী মত ও যারা ভিন্নমত পোষন করে তাদের উপরে অত্যাচার-নির্যাতন আরও বেশি করে চালাচ্ছে। আপনারা দেখেছেন যে, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলোকচিত্রী শিল্পী শহিদুল আলমকে গ্রেফতার করে অত্যাচার করা হয়েছে এবং কাস্টিডিওতে নেয়ার পরে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার সাথে নির্মম আচরণ করা হয়েছে।’

সরকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার মতো বিএনপি চাপ সৃষ্টি করতে পারছে না- এরকম প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার যখন মনে করে চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া তারা কোনো ন্যায়ের কাজ করবে না। তখন তো ওইটা ডিফিকাল্ট হয়ে যায়। ইট ইজ এ রেসপনসিবিলিটিজ দ্যা গর্ভমেন্ট, তাকে ডেঙ্গুর কাজ করতে হবে, বন্যা পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে, কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি করতে হবে। আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

সর্বক্ষেত্রে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, তাহলে আপনার সরকারই উস্কানি দিচ্ছে ভিন্নপথে যাওয়ার। যেটা আমরা মনে করি একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য কখনোই ভালো নয় বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।

সরকারি দল বলছে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার মতো আন্দোলন বিএনপি পারছে না- এরকম প্রশ্নের মহাসচিব বলেন, ‘বিষয়গুলো আপেক্ষিক না। ফ্যাসিস্ট সরকার যখন থাকে তখন সেই মুক্ত হওয়ার জন্য আন্দোলন কী জ্বালাও-পোঁড়াও করে সব পুঁড়িয়ে দিতে হবে নাকি? এই ধরনের চিন্তা-ভাবনা আওয়ামী লীগের মধ্যে আছে যা এটা তারা চাচ্ছে।’

আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিয়মের মধ্য দিয়ে চেষ্টা করছি। জনগণ যদি মনে করে যে, তারা অন্যভাবে দেখবেন- সেটা জনগণের ব্যাপার বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here