নির্বাচনের আগে হঠাৎ ভারত সফরে সেনাবাহিনীর ২৫ সদস্যের প্রতিনিধি ও তাদের স্ত্রীরা!

0
1733
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল সোমবার (২৬ নভেম্বর) ভারত সফরে গেছেন। সেনাবাহিনীর তরুণ ২৫ জন কর্মকর্তার সঙ্গে এ সফরে সঙ্গী হয়েছেন তাদের স্ত্রীরা। তবে ঠিক নির্বাচনের আগে হঠাৎ তাদের ভারত সফরে নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে!

সোমবার (২৬ নভেম্বর) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আগামী ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সফর করবেন।

ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের সামরিক বাহিনীর মধ্যে চলমান সহযোগিতা বিস্তৃত করতেই এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর দু’টি এয়ারক্রাফটে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঢাকা থেকে দিল্লি গেছেন।

বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াতের সঙ্গে এক বৈঠকে এই সফরের বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী ভারতের সেনাপ্রধান এই সফর বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন।

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দিল্লি, আগ্রা, কলকাতার বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান চুরুলিয়া পরিদর্শন করবেন। বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক বিনিময় এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।

উৎসঃ বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আ.লীগের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নাটকীয় মোড় নিয়েছে পাবনা-১ আসনের নির্বাচনী মাঠ। এ আসন থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এবার অনেকটা নাটকীয়ভাবে নিজামীর আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন নেন আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ।

সোমবার গণফোরামে যোগ দিয়ে দুপুরে গণফোরামের আরামবাগ অফিস থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি। নিজামীর আসনে অধ্যাপক আবু সাইয়িদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

পাবনা-১ (সাঁথিয়া উপজেলা ও বেড়া উপজেলার আংশিক) আসনেও সারাদেশের মতো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী হাওয়া বইছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থী নেতাকর্মীরা ব্যাপক জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে পাবনা-১ আসনে জনসংযোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং ভোটারদের মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ নাকি শামসুল হক টুকু মনোনয়ন পাচ্ছেন সেদিকে নজর ছিল সবার। এর মধ্যে রোববার আওয়ামী লীগের নৌকার টিকিট পান শামসুল হক টুকু। আওয়ামী লীগের টিকিট না পেয়ে সোমবার গণফোরামে যোগ দিয়ে ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন নেন আবু সাইয়িদ।

পাবনা-১ আসনটিকে বরাবরই ভিআইপি আসন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কারণ স্বাধীনতার পর থেকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত এ আসন থেকে যিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন; পরে তিনিই মন্ত্রী হয়েছেন।

এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রী হন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের (পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী), মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী (শিল্পমন্ত্রী) ও শামসুল হক টুকু (স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী)।

এছাড়া মেজর জিয়াউর রহমানের আমলে মির্জা আব্দুল হালিম মন্ত্রী হন। এসব কারণে বরাবরই পাবনা-১ আসনের দিকে নজর থাকে সবার।

জানা যায়, এ আসনে বরাবরই দাপুটে অবস্থানে রয়েছেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ। এ আসন থেকে তিনি ১৯৭০ ও ১৯৯৬ সালে বিজয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পেয়ে ছিটকে পড়েন সাইয়িদ। এই নির্বাচনে মনোনয়ন পান অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু।

সেই সময় আবু সাইয়িদ সংস্কারবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শামসুল হক টুকু আওয়ামী লীগের পক্ষে মনোনয়ন পেয়ে যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীকে পরাজিত করে বিজয়ী এবং প্রতিমন্ত্রী হন।

এরপর তিনি ২০১৪ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে মনোনয়ন পান। নির্বাচনে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। নির্বাচনে আবু সাইয়িদকে পরাজিত করে বিজয়ী হন টুকু।

এর আগে ১৯৯১ সালে এ আসনে জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী আওয়ামী লীগের অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে পরাজিত করে জয়ী হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আবু সাইয়িদ নিজামীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন।

২০০১ সালের নির্বাচনে আবার নিজামী বিজয়ী হন আবু সাইয়িদকে পরাজিত করে। অবশ্য আবু সাইয়িদ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে জয়ী হয়েছিলেন।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে ছিটকে পড়া এই বর্ষিয়ান নেতা এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং তার ঘনিষ্ঠজনরা বলেছিলেন বরফ গলেছে; কিন্তু এরপরও মনোনয়ন পাননি তিনি।

ইতোমধ্যে এবার আবু সাইয়িদ মনোনয়ন পাচ্ছেন এমন খবরে আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের বার্তা নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় অর্ধশতাধিক সভা-সমাবেশ করেন। সেইসঙ্গে জেলাজুড়ে লাগিয়েছেন আওয়ামী লীগের ব্যানার ফেস্টুন পোস্টার।

কিন্তু শামসুল হক টুকু আওয়ামী লীগের মনোয়নয়ন পাওয়ায় ভেঙে পড়েন সাইয়িদের সমর্থকরা। সোমবার ঐক্যফ্রন্ট থেকে চির বিরোধী নিজামীর আসন থেকে মনোনয়ন নেন তিনি।

উৎসঃ জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ভোলায় বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি সভায় ছাত্রলীগের হামলা-ভাঙচুর

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের আয়শাবাদ গ্রামে সোমবার সকালে বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি সভায় হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ।

এতে বিএনপির অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এসময় ৩টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলমগীর মালতিয়া অভিযোগ করেন, বিএনপির সাবেক এমপি ও ভোলা-৪ আসনের সম্ভব্য প্রার্থী নাজিম উদ্দিন আলমের আগমন উপলক্ষে আয়শাবাদ গ্রামে জামাল মেম্বারের বাড়ি বিএনপির একটি প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়।

সভা চলাকালে হঠাৎ করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীদের হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের মারধর করে এবং তিনটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে।

অপরদিকে চরফ্যাশন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্থানীয় বিএনপির দুটি গ্রুপ জামাল ও রফিক গ্রুপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরধরে হামলার ঘটনা ঘটে। এঘটনার সাথে আওয়ামী লীগের কেউ জড়িত নয় বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক জানান, হামলা খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের আলোচিত সাবেক সংসদ গোলাম মওলা রনি!

আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি যদি নমিনেশন না দিলেও মৃত্যু পর্যন্ত দলটির সঙ্গে থাক‍ার অঙ্গীকার করেছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুল দিয়ে যোগদান করেন তিনি।

এসময় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে গোলাম মাওলা রনিকে স্বাগত জানিয়ে বরণ করে নেন।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, যে কোন দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করার আশা-আকাঙ্ক্ষা সবারই থাকে, আমারো আছে। আমি আজ এখানে উপস্থিত হয়ে আনন্দিত। কিন্তু যদি বলি, নির্বাচন করার লক্ষে আমি এখানে আসিনি, তাহলে সেটা ডাহা মিথ্যা কথা হবে। আবার যদি বলি, মনোনয়ন না পেলে আমি এখানে থাকবো না, সেটাও সঠিক নয়। বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেলেও আমি মৃত্যু পর্যন্ত বিএনপির সংঙ্গেই থাকবো।

এর আগে সোমবার দুপুরে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

এই আসন থেকে নানা আলোচনার জন্ম দিয়ে আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার ভাগ্নে এসএম শাহজাদা সাজু।

গোলাম মাওলা রনি তার ফেসবুকে লেখেন, ‘পুরুষের কান্নায় গলাচিপা দশমিনার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে গিয়েছে। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।’

তিনি লেখেন, ‘উপরোক্ত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মহান আল্লাহর ওপর নির্ভর করে নির্বাচনের মাঠে নামবো। দেখা হবে সবার সঙ্গে এবং দেখা হবে বিজয়ে’।

তবে স্বতন্ত্র নাকি কোনো দলের ব্যানারে নির্বাচন করবেন সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেননি রনি। কেন না বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট পটুয়াখালী-৩ আসনে কে প্রার্থী হচ্ছেন, তা এখনও চূড়ান্ত করেনি।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গোলাম মওলা রনি। পরে দলকে নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্যের কারণে দলের ভেতরেই চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হন রনি। বিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ থেকে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করলেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেন নি।

এ বিষয়ে গোলাম মওলা রনি সোমবার দুপুরে পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমি নির্বাচন করব। বিএনপি একটি বড় দল যদি তারা মনোনয়ন দেয়, তাহলে বিএনপি থেকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করতে চাই। না হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন অংশ নেব’।

উৎসঃ পরিবর্তন

আরও পড়ুনঃ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে ৬ আসনের সব কেন্দ্রে (ইভিএম)এ ভোট গ্রহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি

দেশের যে ছয়টি আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে তা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার বিকেল ৫টায় নির্বাচন কমিশন লটারির মাধ্যমে এ আসনগুলো বেছে নেয়া হয়।

ইভিএম ব্যবহার করা আসনগুলো হলো, ঢাকা-৬, ১৩, চট্টগ্রাম-৯, রংপুর-৩, খুলনা-২ ও সাতক্ষীরা-২ আসনে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনের সব কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এর আগে রবিবার কোন ছয়টি আসনে ইভিএম’এ ভোট হবে তা নির্ধারণ করা হবে সোমবার বলে জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক যুগ্মসচিব এস এম আসাদুজ্জামান। এজন্য জেলা সদর ও সিটি করপোরেশনের ৪৮ আসন থেকে লটারি করে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৬টি আসন নির্ধারণ করা হয়।

এসময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা শহরাঞ্চলের ৪৮টি আসন ইভিএমের জন্য উপযুক্ত হিসেবে বাছাই করেছেন। এর মধ্য থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৬টি আসন চূড়ান্ত করে কমিশন।

‘লটারি’ হবে যে ৪৮ আসনের মধ্যে সেগুলো হলো- ঠাকুরগাঁও-১, দিনাজপুর-৩, নীলফামারী-২, লালমনিরহাট-৩, রংপুর-৩, গাইবান্ধা-২, বগুড়া-৬, চাপাইনবাবগঞ্জ-৩, নওগাঁ-৫, রাজশাহী-২, পাবনা-৫, কুষ্টিয়া-৩, খুলনা-২ ও ৩, সাতক্ষীরা-২, ভোলা-১, বরিশাল-৫, টাঙ্গাইল-৫, জামালপুর-৫, শেরপুর-১, ময়মনসিংহ-৪, ঢাকা-৪ থেকে ঢাকা ১৩, ঢাকা-১৫ থেকে ঢাকা-১৮, গাজীপুর-২, নরসিংদী-১ ও ২, নারায়ণগঞ্জ ৪ ও ৫, ফরিদপুর-৩, মাদারীপুর-১, সিলেট-১, কুমিল্লা-৬, ফেনী-২, চট্টগ্রাম ৯ থেকে ১১।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে ৬ মাসের জামিন!

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় তিন বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে ছয় মাসের জামিন দিয়ে জরিমানা স্থগিত করেছেন আদালত।

রফিকুল ইসলাম মিয়ার পক্ষে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের একক বেঞ্চ আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে এই আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন এজে মোহাম্মদ আলী। তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার ফজলুল করিম মন্ডল জুয়েল ও রাগিব রউফ চৌধুরী। অন্যদিকে, দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান।

আইনজীবী রাগিব রউফ জানান, আদালত আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে জরিমান স্থগিত করে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন। রবিবার বিএনপির এ আইনজীবীর পক্ষে আপিল দায়ের করেন রাগিব রউফ।

সম্পদের তথ্য বিবরণী দাখিল না করার মামলায় গত ২০ নভেম্বর রফিকুল ইসলাম মিয়াকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. শেখ গোলাম মাহাবুব এ রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।

আদেশে ১৯৫৭ সালের দুর্নীতি দমন আইনের ৪ (২) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তিন বছরের কারাদণ্ডসহ পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এছাড়া রফিকুল ইসলাম মিয়া আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করার আদেশ দেওয়া হয়। তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ কিংবা গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে কারাদণ্ডের মেয়াদ শুরু হবে। রায় ঘোষণার পরপরই আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

ওইদিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে ইস্কাটনের বাসায় ফেরার পর রফিকুল ইসলাম মিয়াকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে ২১ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদা আক্তারের আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০০১ সালের ৭ এপ্রিল সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সমস্যা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে তার যাবতীয় সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করার জন্য ৪৫ দিনের সময় দিয়ে একটি নোটিশ দেয় দুদক। ২০০১ সালের ১০ জুন তিনি দুদকের নোটিশটি গ্রহণ করেন। দুদকের নোটিশ ওই বছরের জুনের ১০ তারিখে রফিকুল ইসলাম মিয়া গ্রহণ করলেও কোনো জবাব দেননি।

নোটিশ গ্রহণ করার পরও তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ২০০১ সালের ২৫ জুলাই পর্যন্ত কোনো সম্পদের হিসাব দাখিল করেননি। হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় ২০০৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দুদকের অফিসার লিয়াকত হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর উত্তরা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর রফিকুল ইসলাম মিয়ার বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত শেষ করে ১৯৫৭ সালের দুর্নীতি দমন আইনের ৪ (২) অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। বিভিন্ন সময় ৬ জন এই মামলায় সাক্ষ্য দেন।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ পুলিশের পাঠানো ই-মেইলের তথ্যঃ ৪০ হাজার নির্বাচনী কর্মকর্তাদের তালিকায় ছাত্রলীগ- যুবলীগ

সম্ভাব্য নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। বেশ কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এমন অভিযোগ পাওয়ার মধ্যেই এবার এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া গেল। খুলনায় ৭৪ জন সম্ভাব্য নির্বাচনী কর্মকর্তার নামসহ তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি তালিকা ‘ভুলবশত’ স্থানীয় সাংবাদিকের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিয়েছে পুলিশ। তথ্য- ডেইলি স্টার

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৪০ হাজার ১৯৯ টি ভোট কেন্দ্র গত ৬ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশনের মাঠ প্রশাসন। সেই তালিকা এখন ইসি সচিবালয়ে। অঞ্চলভিত্তিক ঔই ভোটকেন্দ্রের তালিকাও আইনশৃঙ্খল বাহিনীর হাতেও দেয়া হয়েছে। যদিও এই ভোটকেন্দ্রের তালিকা ভোটগ্রহনের আগে গেজেট আকারে প্রকাশ করবে ইসি।

ভোট কেন্দ্রের তালিকা অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য একজন প্রিজাইডিং অফিসারদের তালিকা প্রস্তুত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পুলিশের। সংশ্লিষ্ঠ প্রিজাইডিং অফিসার ও তাদের পরিবারের বিষয়ে ভেটিং চলছে। আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তালিকা চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে পুলিশের। ইসি ও পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নির্বাচনের তফসিলের পর সাধারনত ভোটগ্রহন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর প্রশিক্ষনের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ওই ভোটগ্রহন কর্মকর্তাদের তালিকা নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার আগেই প্রস্তুত করে রাখছে পুলিশ। তফসিল ঘোষনার পর রিটার্নিং, সহকারি রিটার্নিং বা জেলা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে ওই তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য পাঠানো ফ্যাসিষ্ট হবে।

এদিকে ১৮ নভেম্বর নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে খুলনার হরিণটানা থানা পুলিশের কাছ থেকে সাংবাদিকদের কাছে ওই ই-মেইলটি আসে।

প্রিজাইডিং/সহ. প্রিজাইডিং/পোলিং অফিসারদের নামের তালিকা

এতে দেখা যায়, ৭৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ১১ জনকে বিএনপি ও জামায়াত সংশ্লিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া, একজনকে নিরপেক্ষ এবং বাকি সবাইকে আওয়ামী লীগের মতাদর্শী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব সম্ভাব্য নির্বাচনী কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াও তাদের আরও নানা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে পুলিশ, তালিকার বিবরণী থেকেই তা স্পষ্ট হওয়া গেছে।

ওই তালিকায় বিএনপি-জামায়াত সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত চার জন শিক্ষকের সঙ্গে কথা হয়। তারা প্রত্যেকেই হতাশ এবং বিব্রত বলে জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় ভাবমূর্তি সঙ্কটে পড়েছেন উল্লেখ করে তারা কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলেও জানান।

পুলিশের তালিকায় রায়েরমহল হামিদনগর হাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোল্লা তাজউদ্দিনকে বিএনপি সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘২৫ বছর ধরে আমি শিক্ষকতায় যুক্ত, কিন্তু এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হইনি কখনও। আমি সরকারি কর্মকর্তা এবং কখনই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না।’

কেন্দ্র ভিত্তিক ভোটধহন কর্মকর্তা:

৪০১৯৯টি ভোট কেন্দ্রে ৪০ হাজার ১৯৯জন প্রিজাইডিং অফিসার, ২ লাখ ৬ হাজার ভোটকক্ষ প্রতিটি কক্ষে একজন করে সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার, এই হিসাবে ২ লাখ ৬ জন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার।

২ লাখ ৬ হাজার ভোটকক্ষ প্রতিটি কক্ষের প্রতিটিতে দুইজন করে পোলিং অফিসার, এই হিসাবে ৪ লাখ ১২ হাজার জন পোলিং অফিসার লাগবে। মোট ৬ লাখ ৫৮ হাজার ১৯৯ জন ভোটগ্রহন কর্মকর্তার প্রয়োজন হবে। এসব কর্মকর্তাদের আগেই নিজেদের বলে নিশ্চিত করা হচ্ছে। এর বাইরে আছে রিটার্নিং অফিসার। যদিও এবার আরপিও সংশোধনীতে আসন ভিত্তিক রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের প্রস্তাবণা দিয়েছে ইসি।

বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য দৃশ্যমান সুষ্ঠু নির্বাচন দেখিয়ে ওইসব ভোটগ্রহন কর্মকর্তাদের সহায়তায় পুনরায় অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই ছক বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে পুলিশের ( আওয়ামী বিরোধী) নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের বদলি বা প্রত্যাহার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৫ সালের সাব-ইনস্টপেক্টর ব্যাচদের বদলি বা প্রত্যাহার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একইভাবে নির্বাচন কমিশনের ২০০৫ সালে ব্যাচের কর্মকর্তাদের যতটা সম্ভব নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা যায় সেটিও করা হচ্ছে। এজন্য ঔই সকল কর্মকর্তাদের এবং তাদের পরিবারের বিষয়ে ভেটিং চলছে।

এর আগে নির্বাচনী কর্মকর্তা হচ্ছেন সরকারদলীয় সর্মথকরা -এমন অীভযোগ করলেও নির্বাচন কমিশণ বা পুলিশ প্রশসান কোন প্রকিবাদ জানাতে পারেনি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী সমর্থিতদের নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা রিজভী।

গত সপ্তাহে মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী জানান, দেশব্যাপী স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষকদের তালিকা করা হচ্ছে। যারা বিএনপি বা বিএনপি পরিবারের সঙ্গে যুক্ত তাদের বাদ দিয়ে আওয়ামী সমর্থিত লোকদের নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কার্যক্রম চলছে।

রিজভী বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচন একতরফা করতে অবৈধ ভোটারবিহীন সরকার নানা নীলনকশা করেই যাচ্ছে। দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় থানায় গায়েবি মামলা অব্যাহত রয়েছে। সরকারের নীলনকশার অংশ হিসেবে আগামী নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ও সক্রিয় নেতা-কর্মী এবং সমর্থকদের বিরুদ্ধেও ঢালাওভাবে মামলা দেয়া হচ্ছে।’

‘মানুষের সকল অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। প্রশাসনকে দলীয়করণ করে ধ্বংস করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বানানো হয়েছে সরকারের দলীয় বাহিনীতে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে, নিম্ন আদালতে এখন ন্যায়বিচার উধাও হয়ে গেছে।’

বর্তমান সরকারকে অত্যাচারী আখ্যা দিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, গতকাল জাতিসংঘের পক্ষ থেকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহবান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এটা অপরিহার্য। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মানহানির অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। সেজন্য এই সরকার দেশ-বিদেশের কারও দৃষ্টিকেই আর ফাঁকি দিতে পারবে না।

উৎসঃ দেশ জনতা

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here