আওয়ামীলীগের গত ১০ বছর শাসনামলে ব্যাংক থেকে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা লোপাটঃ সিপিডি

0
353

আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদে তথা গত ১০ বছরে দেশের ব্যাংক খাত থেকে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। আজ শনিবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে আমাদের করণীয় কী?’ শীর্ষক সংলাপে এই তথ্য তুলে ধরে সিপিডি।

ব্যাংক খাত রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ করে জরুরি ভিত্তিতে এ খাত রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে সিপিডি।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনী ইশতেহারে ব্যাংক খাতের বিষয় উল্লেখ করাসহ সরকার গঠনের পর ব্যাংকিং খাতের ব্যাপারে তারা (রাজনৈতিক দলগুলো) কী ভূমিকা রাখবে তা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরারও আহ্বান জানানো হয়।

সিপিডির সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে আমাদের করণীয় কী?’ শীর্ষক সিডিপির সংলাপ

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে গত এক দশকে ব্যাংক থেকে সাড়ে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারি-বেসরকারি ১৪টি ব্যাংকের মাধ্যমে এসব অর্থ খোয়া গেছে।

লাগামহীন খেলাপি ঋণ, যাচাই-বাছাই ছাড়া ঋণ অনুমোদন, ঋণ দেওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, ব্যাংকারদের পেশাদারিত্বের অভাবে চরম সংকটাপন্ন দেশের ব্যাংক খাত। এর মূল কারণ রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকের অনুমোদন, পরিচালনা পর্ষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের যুক্ত করা, পরিচালকদের দুর্বৃত্তায়ন, দুর্বল ব্যাংক ব্যবস্থাপনা এবং সবশেষে ঋণ দেওয়ায় সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।

এসব অনিয়ম ঠেকাতে ও ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শক্তিশালীকরণ, নতুন ব্যাংক অনুমোদন না দেওয়া, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিচারিক ব্যবস্থাসহ জরুরি ভিত্তিতে পাঁচটি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি।

এ সময় ব্যাংক খাতকে ঠিক করার জন্য সরকারকে ব্যাংকিং কমিশন গঠন করার আহ্বান জানিয়ে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, যদি ব্যাংকিং কমিশন গঠন না করা হয় তাহলে সিপিডি আগামী বছরের শুরুতে নাগরিক ব্যাংকিং কমিশন গঠন করবে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, প্রাক্তন ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ প্রমুখ।

উৎসঃ রাইজিংবিডি, বাংলানিউজ২৪, জাগোনিউজ২৪, বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুনঃ মহাজোটের সকল এমপি-মন্ত্রীর আয় বেড়েছেঃ লোকসানি ব্যবসাও এখন লাভে!

• ১০ মন্ত্রীর নির্বাচনী হলফনামা

• কারও আছে দোকানে বাকি, কারও স্ত্রীর গয়না অজানা

• আবার কারও স্ত্রীর আয় বেড়েছে বেশি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দেওয়া মন্ত্রিসভার আরও ১০ জন সদস্যের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাঁদেরও আয় ও সম্পদ বেড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁরা দিয়েছেন আগ্রহোদ্দীপক তথ্য।

হলফনামা অনুযায়ী মন্ত্রীদের মধ্যে সম্পদে শীর্ষস্থানীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তাঁর লোকসানি ব্যবসা লাভে এসেছে। শ্রম প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু জানেন না, তাঁর স্ত্রীর গয়না কতটুকু, তার মূল্যই-বা কী। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক ভাতার কোনো তথ্য উল্লেখ করেননি হলফনামায়। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী বাড়ি করার সময় মালামাল কিনে দোকানে বাকি রেখেছেন ২৬ লাখ টাকা।

ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিকের ভাতার তথ্যই নেই হলফনামায়
২০০৮ সালে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিকের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ টাকার। যা এখন বেড়ে ৬৫ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। এবারের হলফনামায় দেখা যায়, কৃষি খাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় আসে ১ লাখ ৯ হাজার টাকা। এ ছাড়া আমেরিকাপ্রবাসী এক পুত্র, এক কন্যা ও জামাতার কাছ থেকে কিছু টাকা পান বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। তবে কোনো হলফনামাতেই মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে পাওয়া সম্মানীর কথা উল্লেখ করেননি। প্রামাণিকের হাতে নগদ ১০ লাখ টাকা, ব্যাংকে ৩৭ লাখ টাকা, সঞ্চয়পত্রে ও স্থায়ী আমানতে ১৫ লাখ টাকা এবং ৬ একর ৪২ শতক কৃষি ও ৭২ শতক অকৃষিজমি রয়েছে।

আনিসুল ইসলামের ২৬ কোটি
পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের অস্থাবর সম্পদমূল্য প্রায় ২৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, যা ২০০৮ সালে সাড়ে ১২ কোটি টাকার মতো ছিল। এখনকার সম্পদের মধ্যে বন্ড, ঋণপত্র, তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয়-এমন কোম্পানিতে বিনিয়োগ আছে ১৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। তাঁর স্ত্রীর আছে ১১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

আনিসুলের বার্ষিক আয় ১০ বছরের ব্যবধানে প্রায় ১২ গুণ বেড়েছে। এখন তাঁর আয় ৪ কোটি টাকা। ২০০৮ সালে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৩৩ লাখ টাকা।

আ স ম ফিরোজের আয়ের উৎস বেড়েছে
পটুয়াখালী-২ আসনের সাংসদ ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের আয়ের উৎস বেড়েছে। নবম সংসদ নির্বাচনের আগে দেওয়া হলফনামায় তিনি শুধু বাড়িভাড়া বাবদ ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছিলেন। এবার নতুন করে যোগ হয়েছে ব্যাংকে জমা টাকার সুদ, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও সাংসদ হিসেবে ভাতা। ফলে তাঁর আয় বেড়ে প্রায় সাড়ে চার গুণ হয়েছে। সর্বশেষ ফিরোজের বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যার প্রায় ৯৭ লাখ টাকা আসছে ভাড়া থেকে। ফিরোজের ওপর নির্ভরশীলদের আয় সাড়ে ৬ লাখ টাকার মতো।

মন্ত্রী পদমর্যাদা পাওয়া ফিরোজের নিজের অস্থাবর সম্পদ আছে ২ কোটি ১৭ লাখ টাকার, যা ১০ বছর আগে ২৮ লাখ টাকা ছিল। এখন তাঁর স্ত্রীর আছে ৬৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ।

মুজিবুল হক চুন্নুর স্ত্রীর গয়না কত, জানেন না মুজিবুল
স্ত্রীর গয়না কতটুকু এবং তার মূল্য কত, জানা নেই শ্রম প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নুর। জাতীয় পার্টির এই নেতা এবারের হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত তালিকা দিলেও সোনা ও মূল্যবান ধাতুর ঘরে নিজের ক্ষেত্রে লিখেছেন, মূল্য জানা নেই। স্ত্রীর ক্ষেত্রে লিখেছেন পরিমাণ ও মূল্য জানা নেই। গতবারও তিনি একই কথা লিখেছিলেন।

এবারের হলফনামায় শ্রম প্রতিমন্ত্রী নিজের মোট আয় দেখিয়েছেন বার্ষিক প্রায় ৩৮ লাখ টাকা, যার বেশির ভাগ মন্ত্রী ও সাংসদ হিসেবে ভাতা। তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের আয় প্রায় ১৮ লাখ টাকা, যা সিংহভাগ বেতন-ভাতা থেকে। দশম সংসদ নির্বাচনে মুজিবুল হক নিজের আয় দেখিয়েছিলেন ১ কোটি ৯ লাখ টাকা, যার ৯৬ লাখ টাকা আসত ব্যবসা থেকে।

মুজিবুল হকের নিজ নামে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে, যার বেশির ভাগ নগদ টাকা, ব্যাংকে জমা টাকা, কোম্পানির শেয়ার অথবা সঞ্চয়পত্রে রয়েছে। পাঁচ বছর আগে তাঁর মোট অস্থাবর সম্পদ ছিল ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকার মতো।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের সম্পদ কমেছে, স্ত্রীর বেড়েছে
ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের আয় এবং অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ গত পাঁচ বছরে কমেছে। বেড়েছে স্থাবর সম্পদের পরিমাণ। তবে একই সময়ে তাঁর স্ত্রীর সম্পদ ও আয় বেড়ে গেছে। লাভজনক পদ ছেড়ে দেওয়ায় আয় কমেছে বলে উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী।

সাইফুজ্জামানের বার্ষিক আয় পাঁচ বছরে কমেছে ৯৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি ছিল সাড়ে ১২ কোটি টাকা। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ১২ লাখ টাকার। তবে স্থাবর সম্পদ ৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বেড়েছে। আগে স্থাবর সম্পদ ছিল ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ আগে ছিল ৬৯ লাখ টাকার, এখন হয়েছে ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদ ২০ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

শাহরিয়ার আলমের ৬৬ কোটি
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের ৬৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। ফলে হলফনামা অনুযায়ী সম্পদশালী মন্ত্রীদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে রয়েছেন তিনি। ২০১৪ সালে তাঁর অস্থাবর সম্পদ ছিল ৩ কোটি ১২ লাখ টাকার মতো। তাঁর স্ত্রীরও বেশ সম্পদ রয়েছে, যার পরিমাণ ৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ২০১৪ সালে তাঁর স্ত্রীর সম্পদ ছিল ১ কোটি ৪ লাখ টাকার মধ্যে।

শাহরিয়ার আলমের আয় ও সম্পদের বড় অংশ ব্যবসা থেকে আসছে। ২০১৪ সাল ব্যবসায় লোকসান উল্লেখ করেছিলেন তিনি। এবার সেখান থেকে লভ্যাংশ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ৫৮ কোটি টাকাই বিভিন্ন কোম্পানিতে শেয়ারের মাধ্যমে বিনিয়োগ। ৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকার নগদ ও ব্যাংক জমার অর্থ আছে তাঁর। স্ত্রীর সম্পদের মধ্যে নগদ ও ব্যাংকে আছে ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকার মতো। শেয়ারবাজারে (সেকেন্ডারি বাজার) তাঁর স্ত্রীর বিনিয়োগ ১ কোটি ৩৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

শাহরিয়ার আলমের বার্ষিক আয় ৩ কোটি ৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে লভ্যাংশের পরিমাণ ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার মতো। ২০১৪ সালের হলফনামায় তিনি ব্যবসায় বছরে ২৫ লাখ টাকার মতো লোকসান হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছিলেন।

টাকা বেড়েছে নুরুজ্জামানের
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের সবচেয়ে বেশি আয় আসে মাছ চাষ থেকে, পাঁচ বছরে যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। হলফনামায় ৩৫ বিঘার একটি মৎস্য খামারের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর সম্পদ বেশির ভাগ বেড়েছে নগদ ও ব্যাংকে জমা টাকায়। ২০১৪ সালে এ খাতে তাঁর মোট ৮৬ হাজার টাকা ছিল, এখন যা ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকায় উঠেছে। নুরুজ্জামান আহমেদের বার্ষিক মোট আয় প্রায় ৩৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা আসে মাছ চাষ থেকে, যা ২০১৪ সালে দেড় লাখ টাকা ছিল। তামাক ব্যবসা ও ব্যাংকে জমা টাকার সুদ থেকে আসে সাড়ে ৭ লাখ টাকার মতো।

কাজী কেরামত আলীর বাকি ২৬ লাখ টাকা
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীর বাড়ি করার সময় মালামাল কিনে প্রায় ২৬ লাখ টাকা বাকি রেখেছেন, যা উল্লেখ করেছেন হলফনামায়। উত্তরায় তিনি একটি সাততলা বাড়ি করেছেন, এ জন্য ৩৫ লাখ টাকার গৃহঋণও আছে তাঁর।

কেরামত আলীর আয় ও সম্পদ অন্যদের তুলনায় কম। মন্ত্রী হওয়ার পর অবশ্য তা বেড়েছে তাঁর। দশম সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, কেরামত আলীর বার্ষিক আয় ছিল সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো, যা এখন ৫৩ লাখ ৪৫ হাজারে উন্নীত হয়েছে। এর সাড়ে ৩৭ লাখ টাকাই মন্ত্রী ও সাংসদ হিসেবে পাওয়া ভাতা।

প্রতিমন্ত্রীর ব্যাংকে জমা টাকার পরিমাণ সাড়ে ২১ লাখ, সঞ্চয়পত্র বা আমানতে আছে ২ লাখ ৭২ হাজার ও একটি গাড়ির মূল্য বাবদ আছে সাড়ে ৩৮ লাখ টাকার সম্পদ।

উৎসঃ প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ ‘বিএন‌পি-জামায়াত ক্ষমতায় এলে না‌রীরা বোরকা ছাড়া বের হ‌তে পার‌বে না’: ওবায়দুল কা‌দের

আওয়ামীলীগপন্থী অভিনেত্রী ও নর্তকীর সাথে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ওবায়দুল কাদের (সাম্প্রতিক ছবি)

বিএন‌পি-জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশের না‌রীরা বোরকা ছাড়া ঘ‌রের বাইরে বের হ‌তে পার‌বে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কা‌দের।

তিনি ব‌লেন, ‘এটা কি আমা‌দের দে‌শের নারীরা মে‌নে নে‌বে? কখনই মে‌নে নে‌বে না।’

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের যৌথ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের ব‌লেন, এবারের নির্বাচনে আমাদের বিজয়ের বিকল্প নেই। আমাদের পরাজয় মানে ২০০১ সালের অন্ধকার, আমাদের পরাজয় মানে বাংলাদেশে রক্তের নদী বয়ে যাওয়া। ২০০১ ও ২০১৪ সালে যে বিভীষিকা, রক্তপাত, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, আমরা কি সে অমানিশার অন্ধকারে ফিরে যেতে চাই? চাই না। তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বিএন‌পি কেন্দ্র পাহারা দিতে এলে আওয়ামী লীগকেও কেন্দ্র রক্ষা করতে হবে মন্তব্য করে কাদের ব‌লেন, আওয়ামী লীগ বিরোধী শক্তির কাছে রাজনীতির একটি বড় অস্ত্র আছে। সেটা হলো ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার। এই হাতিয়ার আবার ভাঙতে পারে, সতর্ক থাকতে হবে। তারা আবার নাশকতা করতে পারে, সহিংসতা করতে পারে। শুরুটা তারাই করেছে। তফসিলের পর পল্টনের নারকীয় তাণ্ডব। তারা দেশ-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্রের পাঁয়তারা করছে।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের যৌথ সভায়

ড. কামাল হোসেন বিএনপির রাজনীতির কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তিনি এখন নেতা নন, নির্বাচনও করছেন না। তাহলে তাদের নেতা হচ্ছে পলাতক, দণ্ডিত আসামি তারেক রহমান। তার নির্দেশে কামাল হোসেন সাহেব এখন কথাও বলেন না। তারেক রহমানের নির্দেশে কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্না, মোস্তফা মহসিন মন্টু পরিচালিত হচ্ছেন। কী লজ্জা! বাংলাদেশের জনগণ কি এত বোকা? এই মানুষগুলোর অসহায় আত্মসমর্পণ খুনির কাছে, দুর্নীতির কাছে। তারা নাকি পাহারা দিতে আসবে। আসুক, আমরাও কেন্দ্র রক্ষা করব।

আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে— বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে কাদের বলেন, তিনি আওয়ামী লীগকে ৩০ আসনের বেশি দিতে চান না। ২০০৮ সালে পেয়েছিলেন ২৯ সিট। আমরা কিন্তু ক্ষমতায় থেকে প্রতিপক্ষকে এত সিট দেবো— এমন অহংকারী উচ্চারণ একবারও করিনি। কারণ ক্ষমতার মালিক আল্লাহ, তারপর দেশের জনগণ। জনগণই ঠিক করবে কাকে কত সিট দেবে। ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আপনি কি জ্যোতিষবিদ্যা শিখলেন? বারবার শুধু সংখ্যাতত্ত্ব, ১০টি সিট, ২০টি সিট। আপনার নেত্রী বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ১০০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। এবারও তো ১০ বছর ছুঁই ছুঁই। যতই আস্ফালন করবেন, ততই পতন ঘটবে।

মির্জা ফখরুলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের ১০ বছরের কাজ বিএনপি ক্ষমতায় এলে পরিত্যক্ত হবে। কারণ তারা নাকি পদ্মা সেতুতে উঠবে না। সেটা নাকি জোড়াতালি দিয়ে তৈরি হচ্ছে এবং জনগণকে উঠতে মানা করে দিয়েছে। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি মির্জা ফখরুলকে, আপনাদের এমন কোনো কাজ আছে যে কাজ স্মরণ করে এ দেশের মানুষ আপনাদের ভোট দেবে?

আছে হাওয়া ভবন, আছে গ্রেনেড হামলা, উত্তরবঙ্গে বাংলা ভাই আর বিদ্যুতের নামে খাম্বা। বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, যারা আন্দোলনে ব্যর্থ তারা নির্বাচনেও বিজয়ী হতে পারে না।

আওয়ামীলীগপন্থী অভিনেতা-অভিনেত্রী, নর্তক-নর্তকী ও শিল্পীদের মাঝে ওবায়দুল কাদের (ফাইল ছবি)

ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন রাখেন, ১০ বছরে জনগণ কি তাদের আন্দোলনে সাড়া দিয়েছে? জোয়ার কি এসেছে মরা গাঙে?

যৌথ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহে আলম মুরাদসহ অন্যরা।

উৎসঃ সারাবাংলা ডট নেট

বোনাস ভিডিওঃ মেয়েটি পায়জামা খুলে যা দেখালো তাতে আমি শিহরিতঃ ওবায়দুল কাদের

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here