১০ তারিখের পর দেশে গণজোয়ার সৃষ্টি হবেঃ আ স ম আবদুর রব

0
109

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আবদুর রব আওয়ামী লীগকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘দেশ ছেড়ে যাবেন না। ভোটের মাঠে থাকবেন। আমরা নির্বাচনে যাব। এতদিন তো মনোনয়ন নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। ১০ তারিখের পর দেশে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে তখন আপনারা পালাতে চাইলেও পালানোর রাস্তা পাবেন না।’

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জেএসডি’র নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করার আগে আ স ম রব এসব কথা বলেন।

রব বলেন, ‘আমরা যাতে নির্বাচনে না আসি তার জন্য সরকার বহু চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা মনে করেছে তড়িঘড়ি করে নির্বাচন দিলে চৌদ্দ’র নির্বাচনের মতো আমরা নির্বাচনে যাব না। কিন্তু আমরা নির্বাচনে ঘোষণা দেয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।’

‘ভোট কেন্দ্র আওয়ামী লীগ পাহারা দেবে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্য সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে চাচ্ছেন, পরে দেশ থেকে পালাবেন না তো। আশা ক‌রি ভোট কে‌ন্দ্রে থাক‌বেন আমরাও নির্বাচ‌নে যা‌বো।’

তিনি বলেন, ‘সামান্য দু’কোটি টাকার মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে আটক করে রেখেছেন, তাকে মুক্তি দিতে হবে যেমন ভাবে বঙ্গবন্ধুকে আটক করে রাখতে পারেনি, জাতীয় নেতাদের আটক করে রাখতে পারেনি, রবকে আটক করে রাখতে পারেনি, তেমনি বেগম খালেদা জিয়াকে আটক করে রাখতে পারবেন না।’

এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদের ভাই, আপনারা দেশের জন্য কাজ করুন, জনগণের জন্য কাজ করুন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করুন, আর যদি তা না পারেন তাহলে নিরপেক্ষ থাকুন।

সংবাদ স‌ম্মেল‌নে জেএস‌ডির ইশ‌তেহার ঘোষণাপত্র পাঠ ক‌রেন দ‌লের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মা‌লেক রতন।

উৎসঃ ‌ব্রে‌কিং‌নিউজ

আরও পড়ুনঃ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বের কাছেই কি হাসিনার পতন আসন্ন?: আল জাজিরার প্রতিবেদন

শেখ হাসিনার মতই ধর্মনিরপেক্ষ মতাদর্শে বিশ্বাসী একজন নেতা ড. কামাল হোসেন, যিনি বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করেছিলেন, তিনি আজ হাসিনাকে কর্তৃত্বপরায়ন এবং একনায়ক হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার সরকারের পতন ঘটানোর জন্য বিরোধী সকল দলকে নিয়ে একটি জোট গঠন করেছেন- যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরনের সূচনা করেছে।

চলতি মাসের শেষেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে আর এই নির্বাচনে শেখ হাসিনার মুখোমুখি অবস্থানে অক্সফোর্ড ফেরত আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন- যাকে শেখ হাসিনা একটা সময় খুব আদর করে কাকা বলে ডাকতেন। ডা. কামাল এখন ৮২ বছরের এক প্রাজ্ঞ। তিনি বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং আরো দুই দলকে নিয়ে গত অক্টোবরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন।

বিএনপি আশা করছে যে নতুন এই জোটটি তার জনসমর্থন আরো বাড়াবে যার উপর ভিত্তি করে তারা চলমান সংকটগুলোকে মোকাবেলা করতে পারবে। বিশেষ করে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে সক্ষম হবে- যিনি গত ফেব্রুয়ারী থেকে কথিত দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত হয়ে কারাগারে আটক আছেন।ড. কামাল ছিলেন শেখ হাসিনার পিতা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর। তাহলে তিনি কেন বিএনপির সাথে ঐক্য করতে গেলেন? ড. কামালের মতে তিনি বিএনপিকে নিয়ে ঐক্য করেছেন কেননা এছাড়া দেশে গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনার বিকল্প আর কোন রাস্তা নেই।

শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে সকল বিরোধী দলের বয়কটের মুখে একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মত ক্ষমতায় আসেন। সেই নির্বাচনে ১৫১টি আসনেই আওয়ামী সংসদ সদস্যরা বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ড. কামাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের দু:শাসন প্রসংগে বলেন, বিগত ৫ বছর ধরে দেশে একটি অনির্বাচিত সরকার আছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনো এমনটি দেখা যায়নি। ড. কামাল আরো বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হলে তারা এটা নিশ্চিত করবেন যাতে একজন ব্যক্তি পর পর দুই মেয়াদের পর আর প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারে।

আওয়ামী লীগ মনে করছে, বিএনপি একা কিছু করতে পারছেনা বলে তারা কামাল হোসেনের উপর ভর করে আওয়ামী লীগকে নামাতে চাইছে, তবে এবারও তারা ব্যর্থই হবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ বলেন, গন ফোরাম একটি ছোট দল। তারা আজ অবধি জাতীয় সংসদে একটি আসনেও জিততে পারেনি। ড. কামাল কোন গনসম্পৃক্ত নেতা নন। জনগন থেকে তিনি ও তার দল গনফোরাম পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।

তবে ড. কামাল এরই মধ্যে বলে দিয়েছেন যে তিনি কোন পদ পদবীর জন্য এই লড়াই করছেন না। এমনকি ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচিত হলেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ নেবেন না বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি।শেখ হাসিনা সম্প্রতি এমন আইন প্রনয়ন করেছেন যার মাধ্যমে যে কোন ভিন্নমতের বা বিরোধী মতের মিডিয়াকে তিনি দমন করতে পারেন। ড. কামাল মনে করছেন এর মাধ্যমে সরকার শুধু এক দলীয় রাষ্ট্র নয় বরং এক ব্যক্তির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

তিনি বলেন, কর্তৃত্বপরায়ন এই সরকার যদি ছলে বলে কৌশলে আগামীতেও ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে আমার মত অনেকেই আর দেশে থাকতে পারবেনা। কেননা সরকার তার কোন সমালোচককেই আর সহ্য করবেনা।

ড. কামালের পিতা একজন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর সাথে জেলে ছিলেন দীর্ঘদিন। বঙ্গবন্ধুর অধীনে তিনি আইনমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি জাতিসংঘের বেশ কিছু প্রকল্পে কাজ করেছেন। তার ব্যপারে সুশীল সমাজে ব্যপক গ্রহনযোগ্যতাও আছে। তবে তার মত ব্যক্তি বাংলাদেশের এই নোংরা রাজনীতির জন্য কতটুকু ফিট তা নিয়ে অবশ্য অনেকের মনেই সন্দেহ আছে।

সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি ড. শাহদীন মালিক ড. কামাল প্রসংগে বলেন, তিনি খুব বিদ্রোহী মানসিকতার নেতা নন। তিনি একজন চমৎকার সংবিধান বিশ্লেষক ও আইনজীবি। তিনি একজন পুস্তকপ্রেমী মানুষ। তত্ব দিয়ে অনেক কিছু বিবেচনা করেন যা আমাদের প্রচলিত রাজনীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ন নয়।

অন্যদিকে শিক্ষাবীদ ও কলামিস্ট আফসান চৌধুরী মনে করছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কতক্ষন নিজেদের ঐক্য ধরে রাখবে তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। তবে ঐক্যফ্রন্ট করায় বিএনপির ভাবমুর্তি অনেকটাই বেড়েছে। আর খালেদা জিয়া অন্তরীন হওয়ার পর বিএনপি যে অভিভাবকশূন্যতায় পড়ে গিয়েছিল সেক্ষেত্রেও দলটি যেন কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে পৌছেছে।

উৎসঃ আল জাজিরা

আরও পড়ুনঃ নির্বাচন কমিশনে আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যারা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের আপিলের শুনানি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের আপিলের শুনানি শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের দশম তলায় স্থাপিত এজলাসে আপিল শুনানি চলছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের নবাব মো. শামছুল হুদার আপিল শুনানি দিয়ে শুরু হয়। আপিলেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এরপর দুই নম্বরেই ছিল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বগুড়া-৭ আসনে দলের মনোনীত বিকল্প প্রার্থী মোরশেদ মিল্টনের আপিলের শুনানি। শুনানি শেষে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ সময় ঢাকা-২০ আসনের তমিজ উদ্দিনও প্রার্থিতা ফিরে পান।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান রঞ্জন ও পটুয়াখালী-৩ আসনে মো. গোলাম মাওলা রনির মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য রনি সদ্যই আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপির মনোনয়নপত্র নেন। ঝিনাইদহ-২ আসনে মো. আবদুল মজিদ ও ঢাকা-১ আসনে খন্দকার আবু আশফাকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে জামালপুর-৪ আসনে মো. ফরিদুল কবির তালুকদার (শামীম) ও পটুয়াখালী-৩ আসনে মোহাম্মদ শাহজাহানের। প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন পটুয়াখালী-১ আসনের মো. সুমন সন্যামতও।

মাদারীপুর-১ আসনের জহিরুল ইসলাম মিন্টু এবং সিলেট-৩ আসনের আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীও আপিল করে ভোটের ময়দানে লড়াইয়ের যোগ্য হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের পুনঃতফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৯ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এরপর গত রবিবার মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। এদিন নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য জমা দেওয়া তিন হাজার ৬৫ মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৭৮৬টি বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। যাদের মধ্যে বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীও রয়েছেন।

গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত আপিল গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। তিন দিনে ৫৪৩ জন আপিল করেছেন। প্রথম দিনে ৮৪, দ্বিতীয় দিনে ২৩৭ ও তৃতীয় দিনে ২২২টি আবেদন নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা পড়ে।

আজ ১ থেকে ১৬০ পর্যন্ত ক্রমিক নম্বরের আবেদন শুনানি হবে। শুক্রবার ১৬১ থেকে ৩১০ পর্যন্ত এবং শনিবার ৩১১ ক্রমিক নম্বর থেকে ৫৪৩ পর্যন্ত আবেদনের আপিল শুনানি গ্রহণ করবে কমিশন।

প্রতিটি আবেদনের আপিল শুনানি শেষে সঙ্গে সঙ্গেই রায় জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যদি উচ্চ আদালতে কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান, তাহলে তাকে রায়ের নকল কপি দিয়ে দেওয়া হবে।

একনজরে যাদের মনোনয়ন বৈধ : বিএনপি প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি (পটুয়াখালী-৩), খন্দকার আবু আশফাক (ঢাকা-১), তমিজ উদ্দিন (ঢাকা-২০), মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান (কিশোরগঞ্জ-২), বগুড়া-৭ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোরশেদ মিল্টন, সুমন সন্যামত (পটুয়াখালী-১), মোহাম্মদ শাহজাহান (পটুয়াখালী-৩), ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম (জামালপুর-৪), আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী (সিলেট-৩); মনোনয়ন বাতিল : গোলাম রব্বানী (২০ দলীয় জোট, রংপুর-৫), জহিরুল মিন্টু (মাদারীপুর-১), পারভেজ (দিনাজপুর-১), মিজানুর রহমান (ফেনী-১), মিজানুল হক (কিশোরগঞ্জ), মো. আইয়ুব খান (ঢাকা-১) মো. এমদাদুল হক (ময়মনসিংহ-২) আবু সাইদ মহিউদ্দিন (ময়মনসিংহ-৪), এস এম এরশাদুজ্জামান (খুলনা-২), মো. ফজলুর রহমান (জয়পুরহাট-১), মো. আবিদুর রহমান খান (মানিকগঞ্জ-২), মো. জয়নাল আবেদিন (গাজীপুর-২), জেসমিন নূর বেবী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), এস এম শফিকুল আলম (খুলনা-৬), মো. আবদুল মজিদ (ঝিনাইদহ-২) মোস্তফা সেলিম (রংপুর-৪)।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনে লড়তে ৩৭ দিন ছুটি নিলেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালকঃ ডা. আব্দুল আজিজ

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে প্রার্থী হিসেবে লড়তে ৩৭ দিন ছুটি পেয়েছেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি নির্বাচনে লড়ছেন।

সম্প্রতি ঢাকা শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক শাহলা খাতুন ডা. আব্দুল আজিজকে দেওয়া ছুটির আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

আদেশে বলা হয়েছে, ডা. আব্দুল আজিজকে ব্যক্তিগত কারণে আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৭ দিন ছুটি মঞ্জুর করা হলো। এ সময়ে অধ্যাপক শফি আহমেদ নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন এবং শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এ আর খান প্যাডিয়েট্রিক ইউরোলজি বিভাগের রোগী দেখাশোনা করবেন।

জানা যায়, শিশু হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও সাধারণ আচরণ অনুযায়ী, এ প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেন না। যদিও এ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে।

ছুটি প্রসঙ্গে হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বাংলানিউজকে বলেন, নির্বাচনে হেরে গেলে তিনি আবার পরিচালকের পদে অধিষ্ট হতে পারবেন। সংসদ সদস্য পদে জয়ী হলে তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন।

অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ শিশু হাসপাতালের পরিচালকের পাশাপাশি শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এসব পদে বহাল থেকেই তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। যদিও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিধান সম্পর্কে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) এ উল্লেখ রয়েছে, প্রজাতন্ত্রের বা কোন সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, ‘লাভজনক পদ’ অর্থ প্রজাতন্ত্র কিংবা সরকারি সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ কিংবা সরকারের ৫০% এর অধিক অংশীদারিত্ব সম্পন্ন কোম্পানিতে সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত কোন পদ বা অবস্থান। এছাড়া, প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের বা প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগের কোন চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন বা অবসর গমন করেছেন এবং উক্ত পদত্যাগ বা অবসর গমনের ৩ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে তাহলে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

এদিকে ঢাকা শিশু হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটি ১৯৭৫ সালে জারি করা একটি অধ্যাদেশ দিয়ে গঠিত। এ হাসপাতালের বেতন-ভাতা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দিয়ে থাকে। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপ-সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বাৎসরিক অনুদানের প্রথম কিস্তি ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা গত ১৭ সেপ্টম্বর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই টাকা হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন হিসাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ হাসপাতালের বেতন খাতে চলতি অর্থবছরের মোট ৩০ কোটি টাকা বাজেট রয়েছে।

আরও জানা গেছে, নির্বাচনে দেওয়া ডা. আব্দুল আজিজ তার হলফনামায় বেতনভাতা থেকে আয় দেখিয়েছেন। হলফনামায় চাকুরি থেকে বাৎসরিক ১২ লাখ ৩০ হাজার ৭৪২ টাকা আয় হয় বলে উল্লেখ করেন।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের সূত্রে আরো জানা যায়, যেহেতু রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ঢাকা শিশু হাসপাতাল সরকারি সাহায্যপুষ্ট হলেও এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। তাই এটি পরিচালনায় একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ব্যবস্থাপনা বোর্ড গঠন করা হয়। বর্তমানে যে ব্যবস্থাপনা বোর্ড দ্বারা হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে সেই বোর্ডটি আইনত বৈধ নয়। কারণ এ বোর্ডটি বাতিল একটি অধ্যাদেশ দিয়ে গঠন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চিকিৎসক বাংলানিউজকে জানান, ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার হাসপাতাল পরিচালনায় একটি অধ্যাদেশ জারি করে। যদিও পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকার সেই অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বাতিল করে দেয়। ২০১৬ সালে গঠিত হাসপাতালের বর্তমান ব্যবস্থাপনা বোর্ড ওই বাতিলকৃত অধ্যাদেশ অনুযায়ী গঠন করা হয়েছে।

সর্বোপরি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিধান অনুসারে তিনি (অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজীজ) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অযোগ্য প্রার্থী। কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন নিয়ে সিরাজগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। বর্তমানে নির্বাচনী গণসংযোগের কাজেরায়গঞ্জ-তাড়াশ ও সলঙ্গা এলাকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উৎসঃ banglanews24

আরও পড়ুনঃ নির্বাচন কমিশনে আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যারা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের আপিলের শুনানি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের আপিলের শুনানি শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের দশম তলায় স্থাপিত এজলাসে আপিল শুনানি চলছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের নবাব মো. শামছুল হুদার আপিল শুনানি দিয়ে শুরু হয়। আপিলেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এরপর দুই নম্বরেই ছিল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বগুড়া-৭ আসনে দলের মনোনীত বিকল্প প্রার্থী মোরশেদ মিল্টনের আপিলের শুনানি। শুনানি শেষে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ সময় ঢাকা-২০ আসনের তমিজ উদ্দিনও প্রার্থিতা ফিরে পান।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান রঞ্জন ও পটুয়াখালী-৩ আসনে মো. গোলাম মাওলা রনির মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য রনি সদ্যই আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপির মনোনয়নপত্র নেন। ঝিনাইদহ-২ আসনে মো. আবদুল মজিদ ও ঢাকা-১ আসনে খন্দকার আবু আশফাকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে জামালপুর-৪ আসনে মো. ফরিদুল কবির তালুকদার (শামীম) ও পটুয়াখালী-৩ আসনে মোহাম্মদ শাহজাহানের। প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন পটুয়াখালী-১ আসনের মো. সুমন সন্যামতও।

মাদারীপুর-১ আসনের জহিরুল ইসলাম মিন্টু এবং সিলেট-৩ আসনের আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীও আপিল করে ভোটের ময়দানে লড়াইয়ের যোগ্য হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের পুনঃতফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৯ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এরপর গত রবিবার মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। এদিন নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য জমা দেওয়া তিন হাজার ৬৫ মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৭৮৬টি বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। যাদের মধ্যে বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীও রয়েছেন।

গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত আপিল গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। তিন দিনে ৫৪৩ জন আপিল করেছেন। প্রথম দিনে ৮৪, দ্বিতীয় দিনে ২৩৭ ও তৃতীয় দিনে ২২২টি আবেদন নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা পড়ে।

আজ ১ থেকে ১৬০ পর্যন্ত ক্রমিক নম্বরের আবেদন শুনানি হবে। শুক্রবার ১৬১ থেকে ৩১০ পর্যন্ত এবং শনিবার ৩১১ ক্রমিক নম্বর থেকে ৫৪৩ পর্যন্ত আবেদনের আপিল শুনানি গ্রহণ করবে কমিশন।

প্রতিটি আবেদনের আপিল শুনানি শেষে সঙ্গে সঙ্গেই রায় জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যদি উচ্চ আদালতে কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান, তাহলে তাকে রায়ের নকল কপি দিয়ে দেওয়া হবে।

একনজরে যাদের মনোনয়ন বৈধ : বিএনপি প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি (পটুয়াখালী-৩), খন্দকার আবু আশফাক (ঢাকা-১), তমিজ উদ্দিন (ঢাকা-২০), মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান (কিশোরগঞ্জ-২), বগুড়া-৭ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোরশেদ মিল্টন, সুমন সন্যামত (পটুয়াখালী-১), মোহাম্মদ শাহজাহান (পটুয়াখালী-৩), ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম (জামালপুর-৪), আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী (সিলেট-৩); মনোনয়ন বাতিল : গোলাম রব্বানী (২০ দলীয় জোট, রংপুর-৫), জহিরুল মিন্টু (মাদারীপুর-১), পারভেজ (দিনাজপুর-১), মিজানুর রহমান (ফেনী-১), মিজানুল হক (কিশোরগঞ্জ), মো. আইয়ুব খান (ঢাকা-১) মো. এমদাদুল হক (ময়মনসিংহ-২) আবু সাইদ মহিউদ্দিন (ময়মনসিংহ-৪), এস এম এরশাদুজ্জামান (খুলনা-২), মো. ফজলুর রহমান (জয়পুরহাট-১), মো. আবিদুর রহমান খান (মানিকগঞ্জ-২), মো. জয়নাল আবেদিন (গাজীপুর-২), জেসমিন নূর বেবী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), এস এম শফিকুল আলম (খুলনা-৬), মো. আবদুল মজিদ (ঝিনাইদহ-২) মোস্তফা সেলিম (রংপুর-৪)।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনে লড়তে ৩৭ দিন ছুটি নিলেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালকঃ ডা. আব্দুল আজিজ

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে প্রার্থী হিসেবে লড়তে ৩৭ দিন ছুটি পেয়েছেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি নির্বাচনে লড়ছেন।

সম্প্রতি ঢাকা শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক শাহলা খাতুন ডা. আব্দুল আজিজকে দেওয়া ছুটির আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

আদেশে বলা হয়েছে, ডা. আব্দুল আজিজকে ব্যক্তিগত কারণে আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৭ দিন ছুটি মঞ্জুর করা হলো। এ সময়ে অধ্যাপক শফি আহমেদ নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন এবং শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এ আর খান প্যাডিয়েট্রিক ইউরোলজি বিভাগের রোগী দেখাশোনা করবেন।

জানা যায়, শিশু হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও সাধারণ আচরণ অনুযায়ী, এ প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেন না। যদিও এ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে।

ছুটি প্রসঙ্গে হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বাংলানিউজকে বলেন, নির্বাচনে হেরে গেলে তিনি আবার পরিচালকের পদে অধিষ্ট হতে পারবেন। সংসদ সদস্য পদে জয়ী হলে তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন।

অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ শিশু হাসপাতালের পরিচালকের পাশাপাশি শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এসব পদে বহাল থেকেই তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। যদিও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিধান সম্পর্কে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) এ উল্লেখ রয়েছে, প্রজাতন্ত্রের বা কোন সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, ‘লাভজনক পদ’ অর্থ প্রজাতন্ত্র কিংবা সরকারি সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ কিংবা সরকারের ৫০% এর অধিক অংশীদারিত্ব সম্পন্ন কোম্পানিতে সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত কোন পদ বা অবস্থান। এছাড়া, প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের বা প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগের কোন চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন বা অবসর গমন করেছেন এবং উক্ত পদত্যাগ বা অবসর গমনের ৩ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে তাহলে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

এদিকে ঢাকা শিশু হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটি ১৯৭৫ সালে জারি করা একটি অধ্যাদেশ দিয়ে গঠিত। এ হাসপাতালের বেতন-ভাতা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দিয়ে থাকে। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপ-সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বাৎসরিক অনুদানের প্রথম কিস্তি ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা গত ১৭ সেপ্টম্বর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই টাকা হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন হিসাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ হাসপাতালের বেতন খাতে চলতি অর্থবছরের মোট ৩০ কোটি টাকা বাজেট রয়েছে।

আরও জানা গেছে, নির্বাচনে দেওয়া ডা. আব্দুল আজিজ তার হলফনামায় বেতনভাতা থেকে আয় দেখিয়েছেন। হলফনামায় চাকুরি থেকে বাৎসরিক ১২ লাখ ৩০ হাজার ৭৪২ টাকা আয় হয় বলে উল্লেখ করেন।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের সূত্রে আরো জানা যায়, যেহেতু রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ঢাকা শিশু হাসপাতাল সরকারি সাহায্যপুষ্ট হলেও এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। তাই এটি পরিচালনায় একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ব্যবস্থাপনা বোর্ড গঠন করা হয়। বর্তমানে যে ব্যবস্থাপনা বোর্ড দ্বারা হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে সেই বোর্ডটি আইনত বৈধ নয়। কারণ এ বোর্ডটি বাতিল একটি অধ্যাদেশ দিয়ে গঠন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চিকিৎসক বাংলানিউজকে জানান, ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার হাসপাতাল পরিচালনায় একটি অধ্যাদেশ জারি করে। যদিও পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকার সেই অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বাতিল করে দেয়। ২০১৬ সালে গঠিত হাসপাতালের বর্তমান ব্যবস্থাপনা বোর্ড ওই বাতিলকৃত অধ্যাদেশ অনুযায়ী গঠন করা হয়েছে।

সর্বোপরি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিধান অনুসারে তিনি (অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজীজ) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অযোগ্য প্রার্থী। কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন নিয়ে সিরাজগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। বর্তমানে নির্বাচনী গণসংযোগের কাজেরায়গঞ্জ-তাড়াশ ও সলঙ্গা এলাকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উৎসঃ banglanews24

আরও পড়ুনঃ সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল হাবীব!

রংপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল হাবীব

মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় হট্টগোলের ভিডিওধারণ করার সময় সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে আবারো বির্তকের জন্ম দিয়েছে রংপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল হাবীব।

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনের বিএনপি সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর নেতা গোলাম রব্বানীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কালে এ ঘটনা ঘটে। পরে সাংবাদিক নেতাদের হস্তক্ষেপে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীব।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটায় জামায়াত নেতা গোলাম রব্বানীর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শুরু হলে মিঠাপুকুরের বর্তমান এমপি এইচ এন আশিকুর রহমানের পক্ষে উপস্থিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের সাথে বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।

এসময় গোলাম রব্বানীর আইনজীবীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং অশালীন ভাষায় গালাগালের পরিবেশ উত্তপ্ত হলে মোবাইল ফোনে এটি ভিডিও ধারণ করেন একুশে টিভির সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাদল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভিডিও ধারণ করা মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন রিটার্নিং কর্তকর্তা এনামুল হাবীব।

এ ঘটনা জানা জানি হলে সাংবাদিকরা ছুটে যান রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে। পওে উপস্থিত সাংবাদিক নেতাদের হস্তক্ষেপে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল হাবীব।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ কারচুপি ছাড়া সমর্থকশূন্য আওয়ামীলীগের নির্বাচনে বিজয়ের অন্য কোনো উপায় নেই!

একাদশ সংসদ নির্বাচন আসন্ন। ৩০ ডিসেম্বর এ নির্বাচনের দিন চূড়ান্তভাবে ধার্য করা হয়েছে। এ নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল দেশের দুই প্রধান দলের অন্যতম বিএনপির বয়কটের মধ্যদিয়ে। দেশের দুই প্রধান দলের অন্যতম বিএনপি কর্তৃক বর্জিত হওয়ায় সে নির্বাচন তার সকল গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছিল। বিরোধী দল তো দূরের কথা, শাসক দলের বহু নেতা কর্মীও সে নির্বাচনে ভোট দানের উদ্দেশ্যে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার গরজ অনুভব করেননি। কারণ তারা জানতেন, তারা ভোট দানের উদ্দেশ্য ভোট কেন্দ্রে না গেলেও তাদের ভোট দানের ব্যবস্থা ঠিকই করা হবে দলের পক্ষ থেকে।

বাস্তবে হয়ও সেটাই। বিরোধী দলের ভোট বর্জনের কারণে ভোট কেন্দ্রে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের অনুপস্থিতির সুযোগে শাসক দলের অল্পসংখ্যক নেতা কর্মী তাদের ইচ্ছামত সরকারী দলের প্রার্থীদের ব্যালটপত্রে সীলম শাসক দলের প্রার্থীদের বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়া নিশ্চিত করতে সক্ষম হন। এর ফলে দশম জাতীয় সংসদে বিএনপির কোন প্রতিনিধি ছিল না। দেশের দুই প্রধান দলের অন্যতম বিএনপির পরিবর্তে দশম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টী। আর সংসদে বিরোধী দলের নেত্রীর ভূমিকা পালন করেন জেনারেল এরশাদের স্ত্রী বেগম রওশন এরশাদ, যিনি জাতীয় সংসদে তাঁর প্রথম ভাষণেই সরকারী দলের সকল কাজে সমর্থন দানের প্রতিশ্রæতি দান করে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে এক কলংকজনক অধ্যায় সংযোজন করেন। দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন বর্জনের কারণে দেশের প্রকৃত বিরোধী দল বিএনপির পক্ষে বিরোধী দলের নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

সেসব সুযোগ সুবিধা পাওয়ার আশায় একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের স্বপক্ষে বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে জনমত প্রচল হয়ে উঠতে থাকে। এছাড়া শাসক দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের একাংশের মধ্যেও একাদশ সংসদ নির্বাচন যাতে বিএনপিসহ সকল দলের অংশগ্রহণে ধন্য হয় তার পক্ষে দলীয় সমর্থকদের মধ্যে জনমত জোরদার হয়ে উঠতে থাকে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের অনেকেই আশা প্রকাশ করেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনকে যে কোন মূল্যে অর্থবহ করার চেষ্টা করা হবে। এসব আশা ও আশ্বাসে বিএনপির অনেকের মধ্যেই এ বিশ্বাস জোরদার হয়ে উঠতে থাকে যে, একাদশ সংসদ নির্বাচন দশম সংসদ নির্বাচনের মত একতরফা ও প্রশ্নবিদ্ধ হবে না।

কিন্তু বিএনপি নেতৃত্বের একাংশের মধ্যকার এ আশা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের পক্ষে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মোহ বর্জন করে দেশকে একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়া সম্ভবপর হচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে তাদের বাস্তব ক্রিয়াকর্মে। ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের এ ব্যর্থতার লক্ষণ প্রধান বিরোধী দল বিএনপি তো বটেই, দেশবাসীর কাছেও সুস্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে। প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাখিল করা যে তিনটি আসনের মনোনয়ন পত্রই বাতিল ঘোষণা করেছে সরকারের নিয়োগকৃত নির্বাচন কমিশন।

আওয়ামী লীগের নেতা জনাব ওবায়দুল কাদের যদিও দাবী করেছেন, বিএনপির কোন নেতা নেত্রীর মনোনয়নপত্র বাতিলে সরকারের কোন হাত ছিল না, এটা ছিল সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে, তাঁর এই বক্তব্য কেউ বিশ্বাস করছে না। কারণ বেগম খালেদা জিয়া এবং অন্যান্য বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা ইসি (নির্বাচন কমিশন) করলেও খোদ নির্বাচন কমিশনই গঠিত হয়েছিল আওয়ামী সরকার কর্তৃক। আর আওয়ামী লীগের তো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করার সুদীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে।

সংবাদপত্র পাঠকদের স্মরণ থাকার কথা, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের আমলেই সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা একটি মাত্র সরকারী দল রেখে দেশে একদলীয় বাকশালী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে কিছু দু:খজনক ঘটনার মধ্যদিয়ে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থার স্থানে বহু দলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুন:প্রতিষ্ঠিত হলেও এক পর্যায়ে একটি নির্বাচিত সরকারকে সামরিক ক্যুর মাধ্যমে উৎখাত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে বসেন তদানীন্তন সেনা প্রধান জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সে সময় সারা দুনিয়াকে অবাক করে দিয়ে ঐ সামরিক ক্যুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বসেন দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। এই অকল্পনীয় ঘটনা সম্ভবপর হয়েছিল হয়তো এই বিবেচনায় যে, সামরিক ক্যুর মাধ্যমে উৎখাত হওয়া ঐ নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে ছিল নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি। এর অর্থ এই যে, নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সামরিক ক্যুর প্রতি সমর্থন দিতেও আওয়ামী নেতৃত্বের বিবেকে বাধেনি।

সংবাদপত্রের পাঠকদের স্মরণ থাকার কথা, এরপর শুরু হয় জেনালের এরশাদের দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পালা। পাশাপাশি চলতে থাকে বিএনপির ও অন্যান্য দলের এরশাদ বিরোধী আন্দোলন। আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা প্রথম দিকে অনেক দিন এসব স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলন থেকে দূরে সরে থাকলেও পরবর্তীকালে এক পর্যায়ে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। কিন্তু ততদিনে রাজনীতিতে অপেক্ষাকৃত নবাগতা বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে একটানা নেতৃত্ব দিয়ে আপোষহীন নেত্রী হিসাবে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন, যার প্রমাণ পাওয়া যায় পরবর্তী নির্বাচনে। এ দিকে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যোগদানের পর দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রশ্নে একমত হয় এবং এই নির্বাচন যাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় সে লক্ষ্যে দুই প্রধান নেত্রী এ প্রশ্নেও একমত হন যে, ঐ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দেশের সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে।

যেমনটা আশা করা গিয়েছিল, নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। নির্বাচন চলাকালে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সাথে আলাপচারিতাকালে এক পর্যায়ে বলেন, আমি সকল জেলার খবর নিয়েছি। নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু হয়েছে। আপনারা লক্ষ্য রাখবেন, ভোটে হেরে গিয়ে কেউ যেন এর মধ্যে আবার কারচুপি আবিষ্কার না করে। ভোট গণনা শেষে যখন জানা গেল, আওয়ামী লীগ নয়, নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি, শেখ হাসিনা অবলীলাক্রমে বলে ফেললেন, নির্বাচনে সু² কারচুপি হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কেউ তাঁর এ স্ববিরোধী অবাস্তব বক্তব্যে গুরুত্ব না দেয়ায় স্বাভাবিক নিয়ম মোতাবেক বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলো এবং সংসদে বিরোধী দলের নেত্রী হলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। বেগম খালেদা জিয়ার প্রধান নেতৃত্বের মেয়াদ শেষে নতুন নির্বাচনের প্রশ্ন উঠলে প্রধানত: বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার দাবীর মুখে দেশের সকল জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে এই মর্মে সংবিধানে সংশোধন করে প্রস্তাব গৃহীত হয়।

বাংলাদেশের বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এটাই যে ছিল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য সব চাইতে উপযোগী, তা বাস্তবে প্রমাণিত হয়। এ ব্যবস্থাধীনে দেশে বেশ কয়েকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং তাতে দেশের দুই প্রধান দল পালাক্রমে পর পর নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনার সুযোগ লাভ করে। কিন্তু এই সুন্দর ব্যবস্থাও এক শ্রেণীর রাজনীতিকের অতিরিক্ত ক্ষমতাক্ষুধা পচিয়ে ফেলে। ফলে এক পর্যায়ে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্বের আমলে নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবর্তে নির্বাচিত দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের পরিবর্তে দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিলে দুই প্রধান দলের মধ্যকার অতীত সমঝোতার সুস্পষ্ট লংঘনের অভিযোগ এনে বিএনপি সে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেয়। দেশের দুই প্রধান দলের একটি (বিএনপি) নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলে সে নির্বাচন বাস্তবে হয়ে পড়ে নির্বাচনী প্রহসনে। জনগণও সে নির্বাচনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। বিরোধী দল তো দূরের কথা, শাসক দলের অনেক নেতাকর্মীও সে নির্বাচনে ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার গরজ হারিয়ে ফেলেন। কারণ তারা জানতেন, তারা ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে না গেলেও তাদের ভোট দানের ব্যবস্থা ঠিকই করা হবে দলের পক্ষ থেকে।

বাস্তবে হয়ও সেটাই। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বয়কটজনিত অনুপস্থিতির সুযোগে শাসক দলের অল্পসংখ্যক নেতাকর্মীই ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাদের ইচ্ছামত সরকারী দলের প্রার্থীদের ব্যালটপত্রে সীলমেরে তাদের বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়া নিশ্চিত করেন, যদিও ভোটদানের নির্ধারিত সময়ে অধিকাংশ ভোট কেন্দ্র ছিল ফাঁকা, জনশূণ্য। এভাবে ভোটারদের অনুপস্থিতিতে “বিপুল ভোটে শাসকদলের” বিজয়ের কারণে জনগণ এ নির্বাচনের নাম দেয় ভোটারবিহীন নির্বাচন। বর্তমানে যে সরকার দেশ শাসন করছে সে সরকার এই ভোটারবিহীন নির্বাচনেরই ফসল।

একটি ভোটারবিহীন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতা কব্জা করতে পারায় আওয়ামী লীগের যেন তেন প্রকারে ক্ষমতায় যাওয়ার লোভ যেন বেড়ে গেছে একটি বেশি মাত্রায়ই। তিন তিনটি অবাধ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া বেগম খালেদা জিয়ার সকল মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষিত হওয়া ছাড়াও অসংখ্য বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ইতোমধ্যেই বাতিল ঘোষিত হয়েছে। এতসব মনোনয়নপত্র বাতিলে আওয়ামী লীগে সরকারের কোন হাত ছিল না বলে আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের দাবী করলেও এবং এসব মনোনয়নপত্র বাতিলের জন্য দায়ী ইসি তথা নির্বাচন কমিশন এটা বলা হলেও এ কমিশন যে আওয়ামী সরকারের ইচ্ছাতেই গঠিত হয় এ সত্য অস্বীকার করা আর বাস্তবকে অস্বীকার করা একই কথা। কারণ এ ধরনের ইচ্ছামত নির্বাচন কর্তৃপক্ষ (ইসি) গঠনের আশায়ই তারা নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবর্তন নির্বাচিত দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছেন ইচ্ছাকৃত ও সুপরিকল্পিতভাবে।

অতীতে দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপির সাথে নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে সকল জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে বলে বিএনপির সাথে আওয়ামী লীগ যে সমঝোতায় পৌঁছেছিল, সে সমঝোতা থেকে সরে গিয়ে নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে সকল জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবর্তে যেদিন আওয়ামী লীগ নির্বাচিত দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত ঘোষণা দেয় সেই দিনই সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছিল কোন অবাধ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ বিশ্বাস ও আশা হারিয়ে ফেলেছে। তাই অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবর্তেন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে যে কোন মূল্যে নির্বাচনে জয়ী হয়ে পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়া ছাড়া জনসমর্থনশূণ্য আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফিরে যাওয়ার আর কোন ভরসা নেই। তাই বিরোধী দলের মনোনয়ন পত্র অবৈধ অন্যায় পন্থায় ব্যাপকভাবে বাতিল করে পুনরায় ক্ষমতায় যেতে উন্মত্ত হয়ে উঠেছে ভোটারবিহীন নির্বাচনে বিজয়ী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর ফলে এমন এক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হতে চায়, যে নির্বাচনে বিজয়ী হতে অবৈধ অন্যায় পন্থায় ছাড়া বিজয়ী হওয়ার অন্য কোন উপায় নেই।

উৎসঃ ইনকিলাবের সম্পাদকীয় থেকে নেওয়া

আরও পড়ুনঃ আর্টিক্যাল ৬৬ অনুযায়ী নির্বাচনে সুযোগ পাবেন খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়ন পত্র আইনবহির্ভূতভাবে বাতিল হয়েছে দাবি করে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার তিন মনোনয়নপত্রের বৈধতা চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন তার পক্ষের তিন আইনজীবী।

গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে বারটার দিকে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নেতৃত্বে তিনজন আইনজীবী আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রার্থীতা বৈধতার জন্য এই আপিল করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে খালেদা জিয়া বগুড়া-৬ ও ৭ এবং ফেনী-১ আসন থেকে নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু সাজাপ্রাপ্ত দেখিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তার তিনটি মনোনয়নপত্রই বাতিল করেন গত ২ ডিসেম্বর।

আপিল আবেদন জমা দিয়ে আইনজীবি কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, রিটার্নিং অফিসার আইন বহির্ভূতভাবে, অন্যায়ভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের তিনটি মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। এটা সরকারের ষড়যন্ত্রেরই অংশ। আমাদের কাছে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে তিনটি আসনে প্রার্থীর পক্ষে আপিল দায়ের করলাম। ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিল করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বগুড়া-৬ আসনে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ও বগুড়া-৭ আসনের মনোনয়নপত্র বৈধতা চেয়ে আপিল করেন দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও দলের আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধনের আর্টিকেল ৬৬ অনুযায়ী খালেদা জিয়া নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন। আপিল দায়েরের পর ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা আছে। আপিলের বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। যেহেতু অতীতে এই অবস্থাতেও অনেককে নির্বাচন করার সুযোগ দেয়ার রেকর্ড রয়েছে। তাই তার মনোনয়নপত্র বৈধ করে তাকে নির্বাচন করার সুযোগ দেয়া উচিত। তাছাড়া একই আইনে হাজী সেলিমকে নির্বাচনের সুযোগ দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কায়সার কামাল।

আইন নিজস্ব গতিতে চললে খালেদা জিয়া প্রার্থিতা ফিরে পাবেন বলে দাবি করেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ফেয়ারলি ডিসিশন নিলে ইসি থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে রায় পাব আশা করি। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য জাতি অপেক্ষা করছে। খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন হলে তা প্রহসনের নির্বাচন হবে। দেশ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্যে খালেদা জিয়ার সুবিচার চাই আমরা।

রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র বাতিল করলেও আপিলে তা ফিরে পাবে বলে আশা করেন খালেদার আইনজীবি কায়সার কামাল। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে। খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র যে গ্রাউন্ডে বাতিল হয়েছে তা এখানে প্রযোজ্য নয়। ইসি সংবিধান ও আইন অনুসরণ করলে এবং বিতর্কের উর্ধ্বে উঠে বিশ্বাসযোগ্য সিদ্ধান্ত নিলে খালেদা জিয়া প্রার্থিতা ফিরে পাবেন।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট হবে। নির্ধারিত সময়ে ৩০০ আসনে ৩০৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। বাছাইয়ে ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন জমা দেয়া গতকাল শেষ হয়েছে। ৬-৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুনানি করে তা নিষ্পত্তি করবে ইসি। ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় রয়েছে।

উৎসঃ ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন পক্ষপাতিত্বের এক কালো অধ্যায়!

ঢাকার হাইকোর্ট অঙ্গন থেকে শুরু করে পুরান ঢাকার জজ কোর্ট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টসহ সারাদেশের জেলা পর্যায়ের আদালতগুলোর আঙ্গিনায় ‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই’ অবস্থা। কোথাও ধানের শীষের প্রার্থীরা জামিনের আবেদন নিয়ে হাজির হচ্ছেন; কোথাও কর্মীরা জামিন চেয়ে আবেদন করছেন; কোথাও গ্রেফতার ঠেকাতে আগাম জামিনের আবেদন, কোথাও স্বামী-স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে পুলিশি গ্রেফতার ঠেকাতে আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। কোর্ট-কাচারীগুলোয় হাজার হাজার বিচারপ্রার্থীর উপস্থিতির নজিরবিহীন এমন দৃশ্য অতীতে কোনো ভোটের সময় দেখা যায়নি।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ এখন জাতীয় দাবি। জনগণের ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের গন্ডি পেরিয়ে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মহল থেকেও এই দাবি উঠেছে। প্রভাবশালী দেশ, সংস্থা এবং ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকরাও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দাবিতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। বিশ্বরাজনীতি-অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করেন এমন প্রভাবশালী কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক-অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং আগামীতে বন্ধুত্ব থাকবে কি না তা নির্ভর করছে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ওপর। অথচ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি দূরের কথা কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন নিজেরাই পক্ষপাতিত্বের দোষে অভিযুক্ত। নির্বাচনকালীন সময়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব ক্ষমতা ব্যবহারের বদলে ক্রমান্বয়ে তারা ইসিকে ক্ষমতাসীন দলের আজ্ঞাবহ করে তুলছেন।

সারাদেশে যারা ভোট গ্রহণ করবেন সেই ডিসি, এসপি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গঠনের নির্দেশনা তো দেনইনি; উল্টো তাদের পক্ষপাতিত্বের দিকেই উস্কে দিয়েছে ইসি। নির্বাচন কমিশনে দফায় দফায় ডেকে এনে সেমিনার, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, সংলাপের নামে এটা করা হয়। এতে জেলায় জেলায় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে নজিরবিহীন তুঘলঘি কান্ড করেছে রিটার্নিং অফিসাররা।

সামান্য ত্রুটির জন্য কারো কারো প্রার্থিতা বাতিল করা হলেও গুরুতর অভিযোগের পরও অনেকের মনোনয়ন বৈঠক করা হয়। একই অপরাধ তথা ঋণখেলাপি হওয়ায় কিছু মনোনয়ন বাতিল করা হয়; আবার একই অপরাধে অভিযুক্ত অনেকের মনোনয়ন বৈধ করা হয়। সামান্য বিদ্যুৎ বিল খেলাপি বাতিল আর ঋণখেলাপি বৈধ! এমনকি একই ব্যক্তি ঢাকায় এবং ফেনীতে মনোনয়নপত্র দাখিল করলে ঢাকার মনোনয়ন বাতিল করা হয়; কিন্তু ফেনীতে গ্রহণ করা হয়। নির্বাচন কমিশনের এই দ্বিমুখী নীতিতে কি আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সম্ভব? নির্বাচনী পরিবেশ এমন পর্যায়ে গেছে যে, নির্বাচন কমিশন ভোটের রেফারিংয়ের নামে নিজেই একটি পক্ষে হেলে পড়েছে। রেফারি পক্ষ নিলে কি মাঠের খেলা নিরপেক্ষ হয়?

‘সিইসি’ শব্দটি উচ্চারণ করলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সাবেক সিইসি কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদের নাম। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে তার ভূমিকা দেশ-বিদেশে নিন্দিত। ক্ষমতাসীনদের ‘নাচের পুতুল’ ওই কাজী রকিব এখন ইতিহাসের পাতায় ১৭৫৭ সালের বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর আলী খাঁর সঙ্গে তালিকাভুক্ত। জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে কাজী রকিব যে পথে হেঁটেছেন বর্তমান সিইসি কে এম নূরুল হুদাও যেন সে পথেই চলতে শুরু করেছেন। শুধু তাই নয়, সেটাকে এক ডিগ্রি বৃদ্ধি করে নৈতিকতার মাথা খেয়ে নিজের ভাগিনাকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী করেছেন।

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রশাসনের সচিব-বিভাগীয় কমিশনার-ডিসি-এসপি এমন ৯২ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাদের বদলি ও প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচিতি, কর্মকান্ডের তথ্যও দেয়া হয় নির্বাচন কমিশনে। এদের মধ্যে মাত্র একজন এসপি (নারায়ণগঞ্জ) বদলি করে সেখানে আরো কট্টর আওয়ামীপন্থী ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে পদায়ন করা হয়। গত কয়েক দিন থেকে সারাদেশে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্ট অঙ্গন থেকে শুরু করে রাজধানীর ঢাকা জজ কোর্ট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, সারাদেশের জেলা পর্যায়ের আদালতগুলোর আঙ্গিনায় ‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই’ অবস্থা।

কোথাও ধানের শীষের প্রার্থীরা জামিনের আবেদন নিয়ে হাজির হচ্ছেন; কোথাও বিএনপি কর্মীরা জামিন চেয়ে আবেদন করছেন; কোথাও গ্রেফতার ঠেকাতে আগাম আবেদন করছেন, কোথাও স্বামী-স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে পুলিশি গ্রেফতার থেকে রক্ষা করতে আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। দেশের কোর্ট-কাচারীগুলোতে এমন হাজার হাজার বিচারপ্রার্থীর উপস্থিতির নজিরবিহীন দৃশ্য অতীতে কোনো ভোটের সময় দেখা যায়নি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আদালতপাড়া বিচারপ্রার্থীর পদচারণায় গম গম করে। অসহায় বিচারপ্রার্থীদের বেদনা-যন্ত্রণার ছাপ দেখে অনেক পেশাদার আইনজীবীকে চোখের পানি ফেলার দৃশ্যও দেখা গেছে। অথচ তফসিল ঘোষণার পর নতুন করে গ্রেফতার, গায়েবি মামলায় গ্রেফতারসহ প্রার্থীসহ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের হয়রানি না করা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অন্যতম।

রাজধানী ঢাকা থেকে তৃণমূল গ্রাম পর্যন্ত এখনো আতঙ্ক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ভোটার ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে। ভোট হবে কি না সেটা নিয়েই সংশয়ে মানুষ। অন্যদিকে তফসিল ঘোষণার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সারাদেশে ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যারা দলীয় কর্মীদের হত্যা করেছেন তাদের কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে শোনা যায়নি। মনোনয়ন দাখিলের আগে ঢাকার মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও নৌকা প্রার্থী সাদেক খানের গ্রুপের সংঘর্ষে ২ জন প্রাণ হারায়। এ ঘটনা মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হওয়ায় খুনিকে গ্রেফতার করা হয় বটে; তবে ৪ ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

মাঠপর্যায়ে ভোটের লাগাম যাদের হাতে সেই রিটার্নিং অফিসারদের (ডিসি) নৌকার প্রার্থীর অনুক‚লে নজিরবিহীন পক্ষপাতিত্ব নির্বাচনের আগেই ভোট প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। অধিকাংশ রিটার্নিং অফিসার মূলত আইনের অধীনে থেকে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের বদলে দলবাজি ও খেয়ালখুশি মতো প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ-বাতিল করেন। দেখা যায় সারাদেশে ১৪১ জন ধানের শীষ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। আর নৌকা প্রতীকের মাত্র ৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তাছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হন তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় ব্যাপকভাবে।

জাসদের শহীদ উদ্দিন মাহমুদ ঢাকা-১৮ ও ফেনী-১ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। একই কাগজ ও তথ্যে দাখিল করা মনোনয়নপত্র ফেনী-১ এ রিটার্নিং অফিসার গ্রহণ করেন; অথচ ঢাকায় রিটার্নিং অফিসার ঢাকা-১৮ মনোনয়ন বাতিল করে দেন। ঋণখেলাপির অভিযোগে পটুয়াখালী-১ থেকে জাতীয় পার্টির বরখাস্ত মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলদারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। অথচ দলটির নতুন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন করলেও রংপুর-১ এ তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। ৫ হাজার টাকা ক্রেডিট কার্ডে বাকি থাকায় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী হবিগঞ্জের ড. রেজা কিবরিয়ার মনোনয়ন বাতিল হয়। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় চট্টগ্রামে মোর্শেদ খানের মনোনয়ন বাতিল হয়। অথচ বিকল্পধারার মেজর (অব:) আবদুল মান্নান, মাহী বি চৌধুরী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয় কোটি কোটি টাকা ঋণখেলাপি হওয়ার পরও।

আদালতে সাজা এবং ঋণখেলাপি হওয়ায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, মির্জা আব্বাস, রুহুল কবির তালুদকার দুলু, আমান উল্লাহ আমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুল করিম আব্বাসী, বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, শাহ মজিবুল হক, আসলাম চৌধুরী, গিয়াস কাদের চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, সামির কাদের চৌধুরী, ওয়াদুদ ভূইয়া, আফরোজা আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। হলফনামায় সই না দেয়ায় মনোনয়ন বাতিল হয় গোলাম মাওলা রনির।

অথচ সাজাপ্রাপ্ত ঢাকার হাজী মোহাম্মদ সেলিম, চাঁদপুরের ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। ১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বরিশাল-৪ আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়। খুলনায় নৌকা মার্কার একাধিক প্রার্থীর হলফনামা অসম্পূর্ণ থাকায় ডিসি অফিসে ডেকে এনে তা পূরণ করা হয়।

উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের পরও ধানের শীষের প্রার্থী সরকার বাদল, মোর্শেদ মিলটন, আশফাক হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। মানিকগঞ্জে ঘটেছে নজিরবিহীন ঘটনা। জেলার তিনটি আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের জমা দেয়া মনোনয়নে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘সই ভুয়া’ অভিযোগ তুলে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

ওই মনোনয়ন বাতিলের আগে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিসি একবারও মির্জা ফখরুলকে ফোন করে তার সই আসল-নকল জানার প্রয়োজন মনে করেনি। এ নিয়ে মির্জা ফখরুল নির্বাচন কমিশনে তীব্র প্রতিবাদ করে সেগুলো গ্রহণের দাবি জানান। অবশ্য বাতিল হওয়া প্রার্থিতা ফেরত পেতে আবেদনকারীদের আবেদনের শুনানি আজ থেকে ইসিতে শুরু হচ্ছে।

ভোটের আগেই বিতর্কিত ইসি সেখানে কতটুকু নিরপেক্ষ থাকবে তা দেখার জন্য দেশবাসী অপেক্ষা করছে। নির্বাচনে প্রতিদ্ব›দ্বী এক পক্ষ নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছে। অপর পক্ষ ধানের শীষের প্রার্থীরা পুলিশের হয়রানি থেকে বাঁচতে আদালত পাড়ায় জামিনের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। প্রার্থীদের কেউ কেউ এখনো কারাগারে রয়েছেন। ভোটযুদ্ধে নামা প্রার্থীদের এই বিপরীতমুখী দৃশ্যে কি ইসির নিরপেক্ষতার প্রমাণ দেয়?

তবে দেশের বিশিষ্টজন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন মিডিয়ায় লেখালেখি, সাক্ষাৎকার ও টিভির টকশোতে ইসির বিতর্কিত ভ‚মিকাকে নজিরবিহীন এবং পক্ষপাতমূলক হিসেবে অবিহিত করছেন। তাদের বক্তব্য এখন পর্যন্ত ইসির যে দুর্বল ভূমিকা তা কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদের মতোই। তবে ইসি ক্ষমতাসীনদের তল্পিবাহকের অবস্থান থেকে সরে এসে নিজেদের ক্ষমতা কঠোরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ভ‚মিকায় অবতীর্ণ হবেন সবাই সে প্রত্যাশা করছে।

উৎসঃ ইনকিলাব

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here